জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কাগাওয়া প্রিফেকচারের জেন্তসুজি শহরে গ্রীষ্মের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিখ্যাত চারকোনা বা বর্গাকৃতি তরমুজ বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে এই অনন্য আকৃতির ফলের প্রথম চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। চাষীদের লক্ষ্য, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০০টি বর্গাকৃতি তরমুজ বাজারে সরবরাহ করা। আন্তর্জাতিক বাজারে নজরকাড়া এই তরমুজ প্রতি পিস প্রায় ১০ হাজার জাপানি ইয়েন বা ৬২ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭ হাজার টাকার বেশি) বিক্রি হচ্ছে। জ্যামিতিক এই তরমুজগুলো প্রতি বছরই জাপানের বিলাসবহুল ফলের দোকান ও শপিং মলগুলোতে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দেখতে হুবহু সাধারণ তরমুজের মতো হলেও এই বর্গাকৃতি তরমুজগুলো মূলত খাওয়ার জন্য নয়। ফলটি পাকার আগেই গাছ থেকে কেটে নেওয়া হয় বলে এতে মিষ্টির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং এটি রসালো হয় না। তবে এর ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যের কারণে জাপানে শোপিস বা ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বড় বড় অভিজাত দোকান ও বসতবাড়ির ড্রয়িংরুমে প্রদর্শনের জন্য শৌখিন মানুষেরা এই তরমুজ কিনে থাকেন। প্রায় ৫০ বছর আগে স্থানীয় কৃষকেরা রেফ্রিজারেটরে জায়গা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এই বর্গাকৃতি তরমুজের চাষ শুরু করলেও বর্তমানে এটি একটি আভিজাত্যপূর্ণ উপহারে পরিণত হয়েছে।
এই বিশেষ আকৃতি পেতে চাষীদের অত্যন্ত ধৈর্য ও নিপুণতার সাথে কাজ করতে হয়। তরমুজ যখন ছোট অবস্থায় থাকে, তখন সেগুলোকে ধাতব ফ্রেমযুক্ত স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতরেই বেড়ে ওঠার ফলে ফলটি বাক্সের চারকোনা আকৃতি ধারণ করে এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটারের একটি নিখুঁত ঘনকে পরিণত হয়। বর্তমানে এই বিশেষায়িত চাষ পদ্ধতিটি মাত্র সাতটি খামারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ফলের গুণগত মান কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।
শিপমেন্টের প্রথম দিনে কৃষিকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি তরমুজের আকৃতি ও বাহ্যিক সৌন্দর্য যাচাই করেন। প্রবীণ চাষী তোশিইউকি ইয়ামাশিতা এবারের ফলন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, "এ বছর তরমুজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আমি আশা করি, মানুষ যখন এ চারকোনা তরমুজগুলো দেখবে, তখন তারা গ্রীষ্মের সতেজতা অনুভব করতে পারবে।" কেবল জাপান নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এই বিশেষ তরমুজের প্রতি মানুষের কৌতূহল ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই তরমুজগুলো জাপানি কৃষিজাত পণ্যের সৃজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ।
ছবি: সংগৃহীত
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড সম্প্রতি ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড এবং বার্জার ফসরক লিমিটেড ৪৫ তলা উচ্চতার বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ভবন টিএ টাওয়ার এবং কোম্পানির আসন্ন ও চলমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলোর জন্য সম্পূর্ণ কোটিং ও রঙ সম্পর্কিত সমাধান প্রদান করবে, যা বিশ্বমানের গুণমান, স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। । এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ও ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেড দেশের রিয়েল এস্টেট শিল্পের একটি আইকনিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে যাচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর এবং ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রবিউল হক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর। চুক্তিটি ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের কর্পোরেট অফিসে স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন টিএ টাওয়ারের মতো একটি আইকনিক প্রকল্পে ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত। বার্জার সবসময় আধুনিক নির্মাণ শিল্পের চাহিদা পূরণে বিশ্বমানের কোটিং সল্যুশন প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সমাধান ভবনের সৌন্দর্য, সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করবে।"
অনুষ্ঠানে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন একেএম সাদেক নেওয়াজ- চিফ বিজনেস অফিসার; শাব্বীর আহমাদ- জেনারেল সেলস ম্যানেজার – কর্পোরেট সেলস অ্যান্ড সার্ভিস; আসাদুর রহমান- হেড – কর্পোরেট সেলস; মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির- এরিয়া ম্যানেজার – কর্পোরেট সেলস; এবং রাবাত হোসেন- টেরিটরি ম্যানেজার – কর্পোরেট সেলস, । ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, তানভীর রেজা- চেয়ারম্যান; মো: নূরুল হুদা- ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: অহিদুল ইসলাম তালুকদার (অব:)- এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর; ফাহাদ আল রহমান সুহাস- ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (পারচেজ, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস); এবং মো. রাজিব খন্দকার- অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (কনস্ট্রাকশন)।
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন পেমেন্টকে আরও নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করতে বাংলাদেশে ‘ভিসা পেমেন্ট পাসকি’ চালু করেছে বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভিসা। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে অনলাইন লেনদেনের সময় প্রচলিত ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ছাড়াই পরিচয় যাচাই করা যাবে।
নতুন এই প্রযুক্তিতে গ্রাহকরা মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইসে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি অথবা পিন ব্যবহার করে সহজেই লেনদেনের অনুমোদন দিতে পারবেন। ফাস্ট আইডেন্টিটি অনলাইন (FIDO) মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ব্যবস্থা অনলাইন পেমেন্টকে আরও দ্রুত ও নিরাপদ করবে বলে জানিয়েছে ভিসা।
ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু অনলাইন লেনদেনের সময় পরিচয় যাচাইয়ের ধাপটি অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও জটিল হয়ে ওঠে। ভিসা পেমেন্ট পাসকি সেই অভিজ্ঞতাকে সহজ করবে। এতে গ্রাহকরা দ্রুত ও নিরাপদভাবে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন, মাঝপথে লেনদেন বাতিল হওয়ার ঘটনাও কমে আসবে, পাশাপাশি সফল পেমেন্টের হারও বাড়বে।”
ভিসার তথ্য অনুযায়ী, ওটিপিভিত্তিক প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় পেমেন্ট পাসকি ব্যবহারে অনলাইন লেনদেন সম্পন্ন করতে কম ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এর ফলে লেনদেন মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
একবার নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই গ্রাহকরা অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মার্চেন্ট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের অথেনটিকেশন সুবিধা পাবেন। প্রযুক্তিটি প্রধান অপারেটিং সিস্টেম ও ওয়েব ব্রাউজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশ্বজুড়ে ফাস্ট আইডেন্টিটি অনলাইন (FIDO) সমর্থিত বিলিয়ন সংখ্যক ডিভাইসে ব্যবহার করা যাবে।
ভিসা জানিয়েছে, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপদ, সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব পেমেন্ট প্রযুক্তি বাজারে আনতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে এমন উদ্ভাবনী সমাধান চালুর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন ভিন্নধর্মী ফটোগ্রাফির স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান তালহাকে ১০ হাজার টাকার গিফট প্রদান করেছে।
ঢাকার ডেমরার বাসিন্দা তালহা সম্প্রতি স্বপ্ন লোগোকে কেন্দ্র করে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ছবি তোলেন। তার এই ছবিতে অন্ধকার ও প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বপ্ন ব্র্যান্ডের মূল দর্শন—স্বপ্ন দেখা, আশা, অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তার এই ব্যতিক্রমী সৃজনশীল উদ্যোগ এবং স্বপ্ন ব্র্যান্ডকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ১০ হাজার টাকা সমপরিমান গিফট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে স্বপ্নের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "যে কোনো ইতিবাচক ও সৃজনশীল উদ্যোগকে আমরা সবসময় উৎসাহিত করি। তালহার কাজটি শুধু একটি আলোকচিত্র নয়, এটি স্বপ্ন, আশা এবং প্রতিকূলতা জয় করার অনুপ্রেরণার প্রতীক। তরুণদের এমন সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।"
তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং ইতিবাচক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে সমাজে অনুপ্রেরণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে স্বপ্ন ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগের পাশে থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে ক্যশলেস লেনদেন এবং বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিতকরণে প্রচারাভিযান শুরু করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। রোববার, ০৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে মতিঝিল এলাকায় একটি র্যালি বের করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ। এসময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিওও মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. শাহীন হাওলাদারসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা অংশ নেন। র্যালি শেষে স্থানীয় দোকানদের বিল গ্রহণের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ প্রদান করা হয়।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ বলেন, ‘এক দেশ, এক কিউআর’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে। সম্পূর্ণ ক্যাশলেন এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা পেমেন্ট সিস্টেমকে আরও সহজ ও নিরাপদ করেছে। এনআরবিসি ব্যাংকের প্লানেট অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজেই বাংলা কিউআরে পেমেন্ট করতে পারছেন। ফুটপাতের ক্ষুদ্র দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকান ও শপিংমলে এনআরবিসি ব্যাংক বাংলা কিউআর সরবারহ করছে যাতে দোকানীরা সহজেই পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে কার্যরত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওসিএআইবি)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় এমটিবি’র কর্পোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং ওসিএআইবি-এর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স ওয়াই. সি. চ্যাং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতার আওতায় এমটিবির বিশেষায়িত চায়না ডেস্ক-এর মাধ্যমে ওসিএআইবি-এর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবেদিত ও পরামর্শভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেড ফাইন্যান্স, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, ট্রেজারি সেবা, হিসাব পরিচালনা এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) সংক্রান্ত বিশেষায়িত পরামর্শসহ প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন ব্যাংকিং সমাধান।
অনুষ্ঠানে এমটিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান, মোহাম্মদ মামুন ফারুক, এমএনসি ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান, ইন্তেখাব আলম জিলানী, হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের ক্লাস্টার প্রধান, মাসরু হোসেন, কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান,মোঃ রজার ইবনে আজাদ, সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার, কাজী সাবরীম হোসেন, রিলেশনশিপ ম্যানেজার, মোহাম্মদ জুনায়েদ এমরান এবং চায়না ডেস্কের রিলেশনশিপ ম্যানেজার, কামরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ওসিএআইবি-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ওসিএআইবি-এর প্রেসিডেন্ট, ফেলিক্স ওয়াই. সি. চ্যাং, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি জেনারেল, ভিভিয়ান হুয়াং, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, লি তাই পেং (ইভান), ভাইস প্রেসিডেন্ট, লিসা লু এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, স্টিভেন ঝ্যাং। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দেশে অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের আকাশচুম্বী চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সকন। তাইওয়ানের এই প্রযুক্তি জায়ান্টটি রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের আয় ৩৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের দেওয়া সব ধরনের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এনভিডিয়ার শীর্ষ সার্ভার নির্মাতা এবং অ্যাপলের আইফোনের প্রধান সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ফক্সকনের এই প্রান্তিকে মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৫১৩ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ৭৮.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশেষ করে এআই সার্ভারের ব্যাপক চাহিদার কারণে তাদের ক্লাউড ও নেটওয়ার্কিং পণ্য বিভাগ থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এসেছে এবং আইফোনসহ স্মার্ট কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিভাগেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। এমনকি শুধু জুন মাসেই তাদের আয় আগের বছরের তুলনায় ৫২.১ শতাংশ বেড়েছে, যা জুনের আয়ের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগামী জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের বিষয়েও ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে ফক্সকন। কোম্পানিটি মনে করছে, এআই র্যাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তবে আয়ের ক্ষেত্রে আশাবাদী হলেও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে এই টেক জায়ান্ট। বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতার ওপর কড়া নজরদারি রাখা জরুরি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে শেয়ার বাজারে ফক্সকনের শেয়ারের দাম এ বছর ৪.৩ শতাংশ বাড়লেও তাইওয়ানের সামগ্রিক শেয়ার বাজারের উচ্চ গতির তুলনায় তা কিছুটা ধীর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার আয়ের তথ্য প্রকাশের আগেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সামান্য বেড়েছে। প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-এর ক্রমবর্ধমান বিপ্লব যে হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের জন্য বিশাল আয়ের সুযোগ তৈরি করছে, ফক্সকনের এই রেকর্ড আয় তারই একটি বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরের গভীরে টুনাসহ উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও আধুনিক জাহাজ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অভাবে সেই সম্পদ এখনো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে প্রতিবছর সম্ভাব্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক গভীর সমুদ্রগামী লংলাইনার জাহাজ এবং আন্তর্জাতিক মানের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শুধু টুনা মাছ রপ্তানি থেকেই বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় সম্ভব। একই সঙ্গে দেশে ক্যানজাত টুনা মাছের ক্রমবর্ধমান চাহিদার একটি বড় অংশ বর্তমানে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। দেশীয় উৎপাদন শুরু হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় শিল্পও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি বিশেষায়িত লংলাইনার জাহাজ সংগ্রহ, সম্ভাব্য মৎস্যক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে জাহাজ পরিচালনা, মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকা লাভ করলেও সেই সম্পদের বড় অংশ এখনো অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (এসএসটি), ক্লোরোফিলের ঘনত্ব এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং আন্দামান সাগরসংলগ্ন গভীর সমুদ্রকে টুনা আহরণের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইয়েলোফিন, স্কিপজ্যাক, বিগআই ও লংটেইলসহ টুনা ও টুনাসদৃশ একাধিক প্রজাতির মাছের উপস্থিতি রয়েছে। অথচ ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে শ্রীলঙ্কা বছরে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৯৪ মেট্রিক টন এবং ভারত ৫২ হাজার ২২ মেট্রিক টন টুনা ও বিলফিশ আহরণ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আহরণ মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যার অধিকাংশই মূলত ট্রলারের পার্শ্ব-আহরণ (বাইক্যাচ)।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অপ্রয়োগিত ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো গভীর সমুদ্রে টুনা আহরণ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৫০টি আধুনিক লংলাইনার জাহাজের বহর গড়ে তোলা গেলে বছরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন টুনা আহরণ সম্ভব হবে, যা থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হতে পারে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ১০টি জাহাজের একটি বাণিজ্যিক বহর গড়ে তুললেও পাঁচ বছরের মধ্যে সেই বিনিয়োগ উঠে আসতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন খাত হওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষায়িত জাহাজ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এ কারণে জাপানসহ কয়েকটি দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইতোমধ্যে দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপযোগী জাহাজ নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুনা আহরণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু মাছ ধরার জাহাজই যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড চেইন, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, ক্যানিং কারখানা, মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি ও রপ্তানি অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী-সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ এবং খুলনা-সাতক্ষীরা উপকূলকে সামুদ্রিক মাছ চাষ, সামুদ্রিক শৈবাল, ঝিনুক ও কাঁকড়া চাষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও বড় সুযোগ রয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে গভীর সমুদ্রের এই ‘রূপালি সোনা’ বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে এবং রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য