নতুন অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে দরপতন হলেও দ্বিতীয় দিনেই বড় ধরনের উত্থানের দেখা মিলেছে দেশের পুঁজিবাজারে। মূলত জ্বালানি, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর ওপর ভর করে রোববার (৫ জুলাই) এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় উল্লম্ফনের পাশাপাশি লেনদেনও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), যেখানে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ও জ্বালানি খাতের দাপটে সূচক ঘুরে দাঁড়ায়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ১৫৩টির কমেছে। আর্থিক ও জ্বালানি খাতের ১৮টি করে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায়। এছাড়া বস্ত্র খাতের ৩২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৯ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৯১ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মালেক স্পিনিং, যার ৫৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপরই রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেড। এছাড়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় আইপিডিসি ফাইন্যান্স, বিএসসি এবং সামিট এলায়েন্স পোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক চিত্রও ছিল চাঙ্গা। সিএসইর সার্বিক সূচক ৯৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সেখানে লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়া বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বাড়লেও বড় কোম্পানিগুলোই মূলত সূচককে টেনে তোলার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। নতুন অর্থবছরের শুরুতে বাজারের এই প্রাণচাঞ্চল্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে ক্যশলেস লেনদেন এবং বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিতকরণে প্রচারাভিযান শুরু করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। রোববার, ০৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে মতিঝিল এলাকায় একটি র্যালি বের করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ। এসময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিওও মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. শাহীন হাওলাদারসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা অংশ নেন। র্যালি শেষে স্থানীয় দোকানদের বিল গ্রহণের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ প্রদান করা হয়।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ বলেন, ‘এক দেশ, এক কিউআর’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে। সম্পূর্ণ ক্যাশলেন এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা পেমেন্ট সিস্টেমকে আরও সহজ ও নিরাপদ করেছে। এনআরবিসি ব্যাংকের প্লানেট অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজেই বাংলা কিউআরে পেমেন্ট করতে পারছেন। ফুটপাতের ক্ষুদ্র দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকান ও শপিংমলে এনআরবিসি ব্যাংক বাংলা কিউআর সরবারহ করছে যাতে দোকানীরা সহজেই পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে কার্যরত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওসিএআইবি)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় এমটিবি’র কর্পোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং ওসিএআইবি-এর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স ওয়াই. সি. চ্যাং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতার আওতায় এমটিবির বিশেষায়িত চায়না ডেস্ক-এর মাধ্যমে ওসিএআইবি-এর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবেদিত ও পরামর্শভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেড ফাইন্যান্স, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, ট্রেজারি সেবা, হিসাব পরিচালনা এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) সংক্রান্ত বিশেষায়িত পরামর্শসহ প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন ব্যাংকিং সমাধান।
অনুষ্ঠানে এমটিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান, মোহাম্মদ মামুন ফারুক, এমএনসি ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান, ইন্তেখাব আলম জিলানী, হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের ক্লাস্টার প্রধান, মাসরু হোসেন, কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান,মোঃ রজার ইবনে আজাদ, সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার, কাজী সাবরীম হোসেন, রিলেশনশিপ ম্যানেজার, মোহাম্মদ জুনায়েদ এমরান এবং চায়না ডেস্কের রিলেশনশিপ ম্যানেজার, কামরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ওসিএআইবি-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ওসিএআইবি-এর প্রেসিডেন্ট, ফেলিক্স ওয়াই. সি. চ্যাং, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি জেনারেল, ভিভিয়ান হুয়াং, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, লি তাই পেং (ইভান), ভাইস প্রেসিডেন্ট, লিসা লু এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, স্টিভেন ঝ্যাং। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দেশে অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের আকাশচুম্বী চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সকন। তাইওয়ানের এই প্রযুক্তি জায়ান্টটি রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের আয় ৩৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের দেওয়া সব ধরনের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এনভিডিয়ার শীর্ষ সার্ভার নির্মাতা এবং অ্যাপলের আইফোনের প্রধান সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ফক্সকনের এই প্রান্তিকে মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৫১৩ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ৭৮.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশেষ করে এআই সার্ভারের ব্যাপক চাহিদার কারণে তাদের ক্লাউড ও নেটওয়ার্কিং পণ্য বিভাগ থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এসেছে এবং আইফোনসহ স্মার্ট কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিভাগেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। এমনকি শুধু জুন মাসেই তাদের আয় আগের বছরের তুলনায় ৫২.১ শতাংশ বেড়েছে, যা জুনের আয়ের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগামী জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের বিষয়েও ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে ফক্সকন। কোম্পানিটি মনে করছে, এআই র্যাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তবে আয়ের ক্ষেত্রে আশাবাদী হলেও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে এই টেক জায়ান্ট। বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতার ওপর কড়া নজরদারি রাখা জরুরি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে শেয়ার বাজারে ফক্সকনের শেয়ারের দাম এ বছর ৪.৩ শতাংশ বাড়লেও তাইওয়ানের সামগ্রিক শেয়ার বাজারের উচ্চ গতির তুলনায় তা কিছুটা ধীর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার আয়ের তথ্য প্রকাশের আগেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সামান্য বেড়েছে। প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-এর ক্রমবর্ধমান বিপ্লব যে হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের জন্য বিশাল আয়ের সুযোগ তৈরি করছে, ফক্সকনের এই রেকর্ড আয় তারই একটি বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কাগাওয়া প্রিফেকচারের জেন্তসুজি শহরে গ্রীষ্মের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিখ্যাত চারকোনা বা বর্গাকৃতি তরমুজ বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে এই অনন্য আকৃতির ফলের প্রথম চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। চাষীদের লক্ষ্য, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০০টি বর্গাকৃতি তরমুজ বাজারে সরবরাহ করা। আন্তর্জাতিক বাজারে নজরকাড়া এই তরমুজ প্রতি পিস প্রায় ১০ হাজার জাপানি ইয়েন বা ৬২ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭ হাজার টাকার বেশি) বিক্রি হচ্ছে। জ্যামিতিক এই তরমুজগুলো প্রতি বছরই জাপানের বিলাসবহুল ফলের দোকান ও শপিং মলগুলোতে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দেখতে হুবহু সাধারণ তরমুজের মতো হলেও এই বর্গাকৃতি তরমুজগুলো মূলত খাওয়ার জন্য নয়। ফলটি পাকার আগেই গাছ থেকে কেটে নেওয়া হয় বলে এতে মিষ্টির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং এটি রসালো হয় না। তবে এর ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যের কারণে জাপানে শোপিস বা ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বড় বড় অভিজাত দোকান ও বসতবাড়ির ড্রয়িংরুমে প্রদর্শনের জন্য শৌখিন মানুষেরা এই তরমুজ কিনে থাকেন। প্রায় ৫০ বছর আগে স্থানীয় কৃষকেরা রেফ্রিজারেটরে জায়গা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এই বর্গাকৃতি তরমুজের চাষ শুরু করলেও বর্তমানে এটি একটি আভিজাত্যপূর্ণ উপহারে পরিণত হয়েছে।
এই বিশেষ আকৃতি পেতে চাষীদের অত্যন্ত ধৈর্য ও নিপুণতার সাথে কাজ করতে হয়। তরমুজ যখন ছোট অবস্থায় থাকে, তখন সেগুলোকে ধাতব ফ্রেমযুক্ত স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতরেই বেড়ে ওঠার ফলে ফলটি বাক্সের চারকোনা আকৃতি ধারণ করে এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটারের একটি নিখুঁত ঘনকে পরিণত হয়। বর্তমানে এই বিশেষায়িত চাষ পদ্ধতিটি মাত্র সাতটি খামারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ফলের গুণগত মান কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।
শিপমেন্টের প্রথম দিনে কৃষিকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি তরমুজের আকৃতি ও বাহ্যিক সৌন্দর্য যাচাই করেন। প্রবীণ চাষী তোশিইউকি ইয়ামাশিতা এবারের ফলন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, "এ বছর তরমুজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আমি আশা করি, মানুষ যখন এ চারকোনা তরমুজগুলো দেখবে, তখন তারা গ্রীষ্মের সতেজতা অনুভব করতে পারবে।" কেবল জাপান নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এই বিশেষ তরমুজের প্রতি মানুষের কৌতূহল ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই তরমুজগুলো জাপানি কৃষিজাত পণ্যের সৃজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ।
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরের গভীরে টুনাসহ উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও আধুনিক জাহাজ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অভাবে সেই সম্পদ এখনো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে প্রতিবছর সম্ভাব্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক গভীর সমুদ্রগামী লংলাইনার জাহাজ এবং আন্তর্জাতিক মানের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শুধু টুনা মাছ রপ্তানি থেকেই বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় সম্ভব। একই সঙ্গে দেশে ক্যানজাত টুনা মাছের ক্রমবর্ধমান চাহিদার একটি বড় অংশ বর্তমানে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। দেশীয় উৎপাদন শুরু হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় শিল্পও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি বিশেষায়িত লংলাইনার জাহাজ সংগ্রহ, সম্ভাব্য মৎস্যক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে জাহাজ পরিচালনা, মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকা লাভ করলেও সেই সম্পদের বড় অংশ এখনো অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (এসএসটি), ক্লোরোফিলের ঘনত্ব এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং আন্দামান সাগরসংলগ্ন গভীর সমুদ্রকে টুনা আহরণের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইয়েলোফিন, স্কিপজ্যাক, বিগআই ও লংটেইলসহ টুনা ও টুনাসদৃশ একাধিক প্রজাতির মাছের উপস্থিতি রয়েছে। অথচ ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে শ্রীলঙ্কা বছরে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৯৪ মেট্রিক টন এবং ভারত ৫২ হাজার ২২ মেট্রিক টন টুনা ও বিলফিশ আহরণ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আহরণ মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যার অধিকাংশই মূলত ট্রলারের পার্শ্ব-আহরণ (বাইক্যাচ)।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অপ্রয়োগিত ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো গভীর সমুদ্রে টুনা আহরণ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৫০টি আধুনিক লংলাইনার জাহাজের বহর গড়ে তোলা গেলে বছরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন টুনা আহরণ সম্ভব হবে, যা থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হতে পারে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ১০টি জাহাজের একটি বাণিজ্যিক বহর গড়ে তুললেও পাঁচ বছরের মধ্যে সেই বিনিয়োগ উঠে আসতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন খাত হওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষায়িত জাহাজ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এ কারণে জাপানসহ কয়েকটি দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইতোমধ্যে দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপযোগী জাহাজ নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুনা আহরণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু মাছ ধরার জাহাজই যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড চেইন, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, ক্যানিং কারখানা, মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি ও রপ্তানি অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী-সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ এবং খুলনা-সাতক্ষীরা উপকূলকে সামুদ্রিক মাছ চাষ, সামুদ্রিক শৈবাল, ঝিনুক ও কাঁকড়া চাষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও বড় সুযোগ রয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে গভীর সমুদ্রের এই ‘রূপালি সোনা’ বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে এবং রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারদরে আবারও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) ইনডেক্সের সর্বশেষ নিলামে মূল্যসূচক ২ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা পূর্বের সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে স্থবির করে দিয়েছে। চলতি নতুন বাণিজ্য মৌসুমের শুরুতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই দরপতন বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এগ্রিল্যান্ড ও দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪০৬তম অনলাইন নিলামে ১৫১ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতা অংশ নিলেও মোট ১২ হাজার ৯২২ টন দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে, যা আগের নিলামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।
পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে প্রভাব বিস্তারকারী ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের (ডব্লিউএমপি) দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৫৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল ব্যবহৃত ননিমুক্ত গুঁড়া দুধের (এসএমপি) দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে এসেছে। চিজ বা পনিরের বাজারেও বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে; বিশেষ করে মোজারেলা চিজের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ এবং চেডার চিজের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া মাখন বা বাটারের গড় মূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে এবং অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বির দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি টন ৬ হাজার ৬০১ ডলারে অবস্থান করছে।
তবে সামগ্রিক নেতিবাচক পরিস্থিতির মাঝে ল্যাকটোজের বাজারে কিছুটা ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে; পণ্যটির দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টন ১ হাজার ৭০২ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ডেইরি সমবায় সংস্থা অরনুয়ার সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে দুধের সরবরাহ ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বড় আকারে বাড়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। টানা এই দরপতন অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারি ও রপ্তানিকারকদের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য