× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
UK inflation was unchanged at 28 percent beating economists forecasts
google_news print-icon

অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস পেরিয়ে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ২.৮ শতাংশে অপরিবর্তিত

অর্থনীতিবিদদের-পূর্বাভাস-পেরিয়ে-যুক্তরাজ্যের-মূল্যস্ফীতি-২৮-শতাংশে-অপরিবর্তিত

যুক্তরাজ্যের বাজারে গত মে মাসে বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে স্থিতিশীল ও অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ওএনএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসের মতো মে মাসেও বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। বিশ্বখ্যাত তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই অর্থনৈতিক তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

মে মাসের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত এই পরিসংখ্যানটি অর্থনীতিবিদদের পূর্বের ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে। অধিকাংশ বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ধারণা করেছিলেন যে, মে মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের চেয়ে কিছুটা বেড়ে ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে ওএনএস-এর তথ্য অনুযায়ী, বাজারে খাদ্যপণ্য এবং অ্যালকোহলমুক্ত বিভিন্ন পানীয়ের দাম প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতাও এই দর নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মূল্যস্ফীতির এই স্থিতিশীল অবস্থানের মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ইংল্যান্ড’ (BoE) তাদের পরবর্তী মূল সুদহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। দেশটির অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, বর্তমান মুদ্রানীতি ও স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মূল সুদহার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখতে পারে। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলে তা ঋণগ্রহীতা ও দেশীয় ব্যবসা খাতে সাময়িক স্বস্তি ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতির যে চাপ ছিল, তা গত কয়েক মাস ধরে ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে খাদ্য ও পানীয়ের বাইরে জ্বালানি ও সেবা খাতের ব্যয়ের ওপর মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি আগামীতে কেমন থাকবে, তা এখনও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন নীতিনির্ধারকেরা। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আজকের সুদহার সংক্রান্ত ঘোষণাটি আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি ও পাউন্ডের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The number of brokerages that have received DSEs FIX certificate stands at 61

ডিএসইর ফিক্স সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্রোকারেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১-তে

ডিএসইর ফিক্স সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্রোকারেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১-তে

দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালুর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন করে আরও তিনটি ব্রোকারেজ হাউজকে সফলভাবে ফিক্স (FIX) সার্টিফিকেশন প্রদান করেছে দেশের প্রধান এই পুঁজিবাজার। নতুন করে এই সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—জিএমএফ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ইউনিক্যাপ সিকিউরিটিজ লিমিটেড। গত বুধবার ডিএসই ভবনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে প্রশংসাপত্র ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

ডিএসই ভবনে আয়োজিত সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রশংসাপত্র হস্তান্তর করেন ডিএসইর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আবিদ হোসেন খান। এ সময় জিএমএফ সিকিউরিটিজের পক্ষে হেড অব আইটি লুবনা মাহমুদ, প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাজিব হাসান এবং ইউনিক্যাপ সিকিউরিটিজের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়ালিউল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই সনদ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক জিসান বিন মুবারক ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুন নাহারসহ সংস্থাটির আইটি ও পরিচালনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুঁজিবাজারে আন্তর্জাতিক মানের লেনদেন অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালে বিশ্বখ্যাত নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিনের সঙ্গে এপিআইভিত্তিক (API) সংযোগ স্থাপন করে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে ডিএসই। এর ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলো ডিএসইর মূল সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলে স্বাধীনভাবে তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। এই ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির আওতায় নিজস্ব ওএমএসের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত দেশের মোট ৮৫টি ব্রোকারেজ হাউজ আবেদন করেছে।

নতুন তিনটি ব্রোকারেজ হাউজ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ফিক্স সার্টিফিকেশন পাওয়া মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১-তে। সনদপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৩টি ব্রোকারেজ হাউজ ইতিমধ্যেই নিজস্ব ওএমএসের মাধ্যমে বাজারে নিয়মিতভাবে দৈনন্দিন লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করে খুব দ্রুত নিজস্ব ব্যবস্থায় লেনদেনে যুক্ত হবে বলে আশা করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগটি পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকেরা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Positive impact of US Iran peace deal on global energy and capital markets

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি ও পুঁজিবাজারে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি ও পুঁজিবাজারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। কয়েক দিনের ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এশিয়ার লেনদেন শুরু হতেই অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। গ্রিনউইচ মান সময় রাত ২টা পর্যন্ত আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলার, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মূল্যের চেয়ে মাত্র ৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সতর্কবার্তার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি আচরণ ঠিক না করে তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেখানে বোমা হামলা শুরু করতে পারে। তবে পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অস্থায়ী চুক্তি কার্যকর হওয়া এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। শরীর ও মনের স্বস্তির পাশাপাশি বিশ্ব পুঁজিবাজারেও এর সরাসরি প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

বিরতির পর মার্কিন ও এশীয় শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়াম বা আন্তর্জাতিক সূচকগুলোতে এই ইতিবাচক ধারার হাওয়া লেগেছে। আমেরিকার মূল আর্থিক এক্সচেঞ্জগুলোর নেতৃত্বে থাকা নারীদের পাশাপাশি জাপানের পুঁজিবাজারেও বড় উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক এবং ইতালির এফটিএসই এমআইবি সূচকেও এই ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত বুধবার ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে ইরান অবিলম্বে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে। তবে এই ঘোষণার পরও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে নৌ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমানে অন্তত ৫০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং নিরাপদ রুট সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় জাহাজমালিক সংগঠন ‘বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিল’ (বিমকো) অবশ্য এখনই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। বিমকোর প্রধান নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকব লারসেন এক বিবৃতিতে জানান, সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও নিরাপদ নৌপথের বিস্তারিত তথ্যের অভাব থাকায় এই জলপথ এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তিনি জাহাজমালিকদের পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন। সার্বিকভাবে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের এই খবর বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
DSE identified 42 companies as risky

৪২ কোম্পানিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত করল ডিএসই

৪২ কোম্পানিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত করল ডিএসই

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানিকে চরম ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা, তাঁদের কষ্টার্জিত বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে যেকোনো ধরনের কৃত্রিম কারসাজি কঠোরভাবে প্রতিহত করার লক্ষ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন গভীরভাবে পর্যালোচনা, নিরীক্ষকদের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক আর্থিক দুরবস্থার ওপর ভিত্তি করে গতকাল বুধবার ডিএসইর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এই ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় স্থান পাওয়া ৪২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকট, বছরের পর বছর লোকসান, কারখানায় স্থায়ীভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকা, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের চাপ এবং অত্যন্ত দুর্বল নগদ প্রবাহের (ক্যাশ ফ্লো) মতো নানাবিধ সংকটে ভুগছে। এই তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জুট স্পিনার্স, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, তাল্লু স্পিনিং মিলস এবং শ্যামপুর সুগার মিলস। নিরীক্ষকদের মতে, কোনো কোম্পানির আগামী ১২ মাস স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা থাকলে তাকে এই স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যা মূলত বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আগাম সতর্কবার্তা।

এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ৪২টি কোম্পানির ব্যবসায় টিকে থাকা নিয়ে নিরীক্ষকদের শঙ্কা প্রকাশ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বার্তা। এটি শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তারা যদি দ্রুত দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ না করেন, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ডিএসই জানিয়েছে, এই তালিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যেন যেকোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার আগেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও বাস্তব ঝুঁকি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম এ বিষয়ে ডিএসইর ভূমিকাকে সমর্থন করে বলেন, একটি প্রথম সারির নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফ্রন্টলাইন রেগুলেটর) হিসেবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা ডিএসইর নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে যদি ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিয়ে কোনো ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি লোকসান বা নিরীক্ষকের বিরূপ পর্যবেক্ষণ থাকে, তবে তা বিনিয়োগকারীদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সামগ্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতেরই অংশ। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে আরও বেশি সচেতন ও তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজারের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Buyers in trouble in the rice market

চালের বাজারে অশনিসংকেত, বিপাকে ক্রেতারা

চালের বাজারে অশনিসংকেত, বিপাকে ক্রেতারা

সারাদেশে বোরো মৌসুমের নতুন ধানের চালের ভরপুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও মিলগেট ও পাইকারি মোকামগুলোতে চালের দর কমছে না। ভরা মৌসুমেও বাজারচিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চলতি মাসের শুরুতে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দরে চাল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম নওগাঁ ও কুষ্টিয়ায় ধানের পর্যাপ্ত ফলন সত্ত্বেও পুঁজিপতি, বড় মিলার ও মৌসুমি মজুদদারদের অবৈধ মজুদ গড়ে তোলার কারণে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নওগাঁর পাইকারি আড়ত ও মিলগেটে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দেড় থেকে ২ টাকা এবং সরু চালের দাম ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাটারি নাজির ৭০ থেকে ৭২ টাকা, জিরা শাইল ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাইস মিলার গোলাম মোস্তফা জানান, নওগাঁ, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়াসহ বিভিন্ন মোকামে বড় মিলাররা কম দরে বিপুল পরিমাণ ধান কিনে অবৈধভাবে মজুদ করায় চালের বাজার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। তবে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার দাবি করেন, দেশে ধান-চালের কোনো সংকট নেই; সরকারি গুদামে মোটা জাতের চাল সরবরাহের কারণে বাজারে ধানের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা বেড়েছে, যার প্রভাব চালের বাজারে পড়েছে।

ঈদুল আজহার ছুটির পর দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের আড়ত কুষ্টিয়ায় কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। কুষ্টিয়া পৌর বাজারের খুচরা বিক্রেতা মাহমুদ মনজু জানান, বর্তমানে ২৫ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট (ব্র্যান্ড) ১ হাজার ৮০০ টাকা (কেজি ৭২ টাকা), নন-ব্র্যান্ড ১ হাজার billiard থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা (কেজি ৬৪-৬৬ টাকা) এবং কাজললতা ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আটাশ চালের বস্তা ১ হাজার ৩০০ টাকা (কেজি ৫২ টাকা), বাসমতী ব্র্যান্ডের বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকা এবং মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সামির এগ্রোর পরিচালক সামির খালেক জানান, মণপ্রতি ধানের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বৃদ্ধি এবং সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ায় মিল মালিকদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চালের এই অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। নওগাঁ ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের সদস্য নাইস পারভীন অভিযোগ করেছেন যে, ধানের হাট, আড়ত ও মিলগেটে সঠিক তদারকি না থাকায় চালের বাজারে অস্থিরতা স্থায়ী হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার বলেন, বাজারে নতুন ধানের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের অজুহাতে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। আড়তদারি এবং মিল পর্যায়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে শিগগিরই পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান শুরু করা হবে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The market value of Elon Musks SpaceX is now and289 trillion

ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের বাজারমূল্য এখন ২.৮৯ ট্রিলিয়ন ডলার

ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের বাজারমূল্য এখন ২.৮৯ ট্রিলিয়ন ডলার

বিশ্ববাজারের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনকে টপকে শীর্ষ পাঁচটি দামি কোম্পানির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। গত মঙ্গলবার বিশ্ব পুঁজিবাজারে স্পেসএক্সের শেয়ারদর একলাফে ১৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেয়ারের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পর বর্তমানে স্পেসএক্সের মোট বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের বর্তমান বাজারমূল্য ২ দশমিক ৬৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর ফলে বাজারমূল্যের দিক থেকে অ্যামাজনকে ষষ্ঠ স্থানে ঠেলে দিয়ে পঞ্চম স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে স্পেসএক্স। এমনকি লেনদেনের একপর্যায়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটকেও (২.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল মাস্কের এই সফল কসমিক প্রতিষ্ঠানের।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি ও বড় বড় জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর তালিকায় তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্পেসএক্সের ঠিক ওপরে থাকা প্রথম চারটি প্রতিষ্ঠান হলো যথাক্রমে এনভিডিয়া, অ্যালফাবেট, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট। বিশ্বের শীর্ষ ১০ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ৫ দশমিক ০৯ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে সবার ওপরে অবস্থানে রয়েছে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। এরপর যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে সার্চ জায়ান্ট গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (৪.৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং আইফোন নির্মাতা অ্যাপল (৪.৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার)।

স্পেসএক্স ও মাইক্রোসফটের পেছনে থাকা ষষ্ঠ অবস্থানের অ্যামাজনের পর শীর্ষ দশে জায়গা করে নেওয়া অন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হলো সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট ব্রডকম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটা, ইলোন মাস্কের আরেকটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থাই মূলত স্পেসএক্সের এই অর্থনৈতিক উত্থানের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Derivatives exchange CME overtakes Nasdaq and NYSE to lead women

নাসডাক ও এনওয়াইএসই পেরিয়ে এবার ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ সিএমই-র শীর্ষ পদে নারী

নাসডাক ও এনওয়াইএসই পেরিয়ে এবার ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ সিএমই-র শীর্ষ পদে নারী

আমেরিকার মূল আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা ও শেয়ারবাজারগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে একচেটিয়াভাবে নারীদের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ ‘সিএমই গ্রুপ’ তাদের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে লিন ফিটজপ্যাট্রিকের নাম ঘোষণা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক এক্সচেঞ্জগুলোর নীতি-নির্ধারণী পদে আরেকজন সফল নারীনেত্রীর পথচলা শুরু হলো। সিএমই-র বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সিএফও হিসেবে দায়িত্বরত লিন ফিটজপ্যাট্রিক মূলত দীর্ঘদিনের সিইও টেরি ডাফির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ডাফি আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সিইও পদ থেকে অবসর নিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

হালনাগাদ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আমেরিকার প্রভাবশালী প্রায় সব বড় স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বোচ্চ পদে এখন নারীরাই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই তালিকার প্রথম অগ্রদূত হলেন অ্যাদেনা ফ্রিডম্যান, যিনি ২০১৭ সালে নাসডাক (Nasdaq)-এর প্রথম নারী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন এবং ২০২৩ সাল থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পাশাপাশি ২০২২ সাল থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ‘নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ’ (NYSE)-এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন লিন মার্টিন। এছাড়া রেটিং জায়ান্ট এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল (S&P Global)-এর সিইও হিসেবে মার্টিনা চেং এবং ২০২৩ সাল থেকে ইনডেক্স জায়ান্ট এফটিএসই রাসেল (FTSE Russell)-এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফিউনা বাসেট।

তবে আমেরিকার মূল আর্থিক এক্সচেঞ্জগুলোর নিয়ন্ত্রণ নারীদের হাতে এলেও এর বাইরে কিছু বড় অপশনস এক্সচেঞ্জ ও আর্থিক সূচক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরুষদের অধীনে রয়েছে। যেমন—এমএসসিআই ১৯৯৮ সাল থেকে হেনরি ফার্নান্দেজের নেতৃত্বে, বড় অপশনস এক্সচেঞ্জ সিবিওই ক্রেগ ডনোহুর নেতৃত্বে এবং নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের মূল মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আইসিই পরিচালনা করছেন জেফ স্প্রেচার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নারীরা বাজারের সামগ্রিক পরিচালনাগত দায়িত্বে বেশ শক্ত অবস্থান গড়ে তুললেও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং, বড় চুক্তি সম্পাদন ও সক্রিয় ট্রেডিংয়ের মতো অত্যন্ত লাভজনক ক্ষেত্রগুলোর শীর্ষ পদে এখনও মূলত পুরুষদেরই একক আধিপত্য বজায় রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৩৩৫টি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বড় বড় ফান্ডসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারীদের অবদানের হার ১৯ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানটি ধীরগতির অগ্রগতি নির্দেশ করলেও সিএমই গ্রুপের নতুন সিইও হিসেবে লিন ফিটজপ্যাট্রিকের এই আগমন বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীদের ক্ষমতায়নে আরও একটি বড় মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো।

মন্তব্য

p
উপরে