মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর শরিয়াহভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ ইসলামিক’-এর বিশেষ ক্যাম্পেইনে উমরাহ প্যাকেজ বিজয়ী পাঁচজন সৌভাগ্যবান গ্রাহক পবিত্র উমরাহ পালন করতে গিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তারা জেদ্দায় অবতরণ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তারা জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই পাঁচ বিজয়ীর উমরাহ পালনের যাবতীয় ব্যয়ভার ‘নগদ ইসলামিক’-এর পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে।
উমরাহ যাত্রার এই বিশেষ ক্যাম্পেইনটিতে গ্রাহকদের সম্পৃক্ততা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। গোটা রমজান জুড়ে চলা ক্যাম্পেইনের নিয়ম অনুযায়ী, নগদ ইসলামিক ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন বাদে অন্যান্য মাধ্যমে ন্যূনতম তিন হাজার টাকা লেনদেন করেই এই উমরাহ প্যাকেজ জেতার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশজুড়ে লাখো গ্রাহকের মধ্য থেকে স্বতঃস্ফূর্ত লেনদেনের শর্ত পূরণ করে এই পাঁচজন ভাগ্যবান বিজয়ী নির্বাচিত হন।
বিজয়ীরা হলেন – ঢাকার অটোরিকশাচালক মো. জুবায়ের হোসেন, ঢাকার কাফরুল এলাকার রাজমিস্ত্রি মো. শাহজাহান, লালমনিরহাটের কৃষক মো. মানিক, খুলনার চা বিক্রেতা আলী আকবর শেখ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঠিকাদার মো. রেদোয়ান হোসেন।
ওমরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালানোই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে উমরাহ করার স্বপ্ন দেখাটা আমার জন্য বিলাসিতার মতোই ছিল। নগদের এই উদ্যোগের কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। আল্লাহ এই অযোগ্য বান্দাকে কবুল করেছেন – নগদের কারণে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়াটা পূরণ হচ্ছে। তাদের জন্য আমার হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়া রইল।”
আরেক বিজয়ী লালমনিরহাটের মো. মানিক বলেন, “দিনভর রোদ-বৃষ্টিতে মাঠে কাজ করি, কখনো ভাবিনি এই পরিশ্রমে অর্জিত আয় দিয়ে নগদে লেনদেন করে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সুযোগ পাব। পরিবারের সামর্থ্য ছিল না এত খরচ করার। নগদ আমার মতো সাধারণ মানুষের সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে দিয়েছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই।”
এর আগে এই পাঁচজন বিজয়ীর ওমরা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর সোমবার নগদ অফিসে ছোট্ট একটি আয়োজনের মাধ্যমে তাদের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মোতাসেম বিল্লাহ বলেন, “সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পবিত্র উমরাহর এমন সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। গ্রাহকদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বপ্ন পূরণে অংশীদার হতে পারা অবশ্যই গৌরবের।”
তিনি বলেন, “নগদ ইসলামিক শুধু একটি লেনদেনের মাধ্যম নয়, বরং গ্রাহকদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি প্ল্যাটফর্ম। এই পাঁচজন ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন, সেই আনন্দের অংশীদার পুরো নগদ পরিবার। আগামীতেও আমাদের গ্রাহকদের জন্য এই ধরণের আধ্যাত্মিক ও কল্যাণকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
সম্পূর্ণ ইসলামিক শরিয়াহ বোর্ডের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘নগদ ইসলামিক’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গ্রাহকেরা কোনো প্রকার সুদ ছাড়াই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ডিজিটালি লেনদেন করতে পারছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল বাংলাদেশ পেরিয়ে দেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের মহাসড়কে। পকেটে মানিব্যাগ না থাকলেও স্মার্টফোন দিয়ে নিমেষেই কেনাকাটা বা বিল পরিশোধের গল্প এখন আর রূপকথা নয়। তবে এই ঝকঝকে বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ধূসর চিত্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী প্রচারণা আর ‘বাংলা কিউআর’ বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের পরও এ দেশের মানুষের পকেট থেকে এখনো কাগজের নোট বিদায় নেয়নি। দেশের সিংহভাগ মানুষ এখনো নগদ টাকার ওপরেই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালেও দেশের মোট লেনদেনের দুই-তৃতীয়াংশ—অর্থাৎ ৬৭.২ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে নগদ অর্থে। অবশ্য ইতিবাচক দিক হলো, ২০২৪ সালে নগদে লেনদেনের এই হার ছিল ৭২ শতাংশ। সেই তুলনায় ২০২৫ সালে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার কিছুটা বেড়ে ৩২.৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গতি ধীর হলেও রূপান্তর যে ঘটছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শত কোটি টাকার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরও কেন দেশের দুই-তৃতীয়াংশ লেনদেন এখনো নগদের বৃত্তেই আটকে আছে?
টাকার অঙ্ক যখন ৩১১ লাখ কোটি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে সর্বমোট লেনদেন হয়েছে ৩১১ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০৯ লাখ কোটি টাকাই হাতবদল হয়েছে নগদ কাগজের নোটে। আর ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে লেনদেন হয়েছে ১০২ লাখ কোটি টাকা।
তবে ব্যাংকাররা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট বলতে আমরা যা ভাবছি, তার সবটা কিন্তু প্রকৃত ‘ক্যাশলেস’ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ) কিংবা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে যখনই কোনো গ্রাহক টাকা ক্যাশ-আউট করছেন বা জমা দিচ্ছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটিকে ‘নন-ডিজিটাল’ বা নগদ লেনদেন হিসেবেই গণ্য করছে। লেনদেন যখন পুরোপুরি অ্যাপ বা ব্যাংকিং চ্যানেলের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে (যেমন এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার বা সরাসরি মার্চেন্ট পেমেন্ট), কেবল তখনই তা প্রকৃত ডিজিটাল ট্রানজেকশন।
ক্যাশলেস সমাজ না হওয়ার ৩টি মূল অন্তরায়: অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্তাদের মতে, এই ধীরগতির পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল পরিধি: দেশের অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের অবদান বিশাল। পরিবহন খাত, কৃষি, কাঁচাবাজার, ক্ষুদ্র খুচরা ও পাইকারি বাজারের একটি বিশাল অংশ এখনো প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দেশের অনানুষ্ঠানিক খাত ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রয়েছে। অর্থনীতির অনেক বড় অংশে এখনো নগদে লেনদেন হয়। তাদের এখনো ব্যাংকিং চ্যানেলের মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি।’
কর এড়ানোর মানসিকতা: ডিজিটাল লেনদেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বচ্ছতা। এখানে প্রতিটি আদান-প্রদানের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা হিসাব থেকে যায়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী ব্যাংকিং চ্যানেলে আসতে চান না কেবল করের আওতা থেকে দূরে থাকার জন্য। নগদে লেনদেন করলে প্রকৃত আয় গোপন করা সহজ হয়, যা ডিজিটাল মাধ্যমে অসম্ভব।
অবকাঠামোর অভাব ও আস্থার সংকট: শহরাঞ্চলে কিউআর কোড বা ডিজিটাল পেমেন্টের চল বাড়লেও গ্রামীণ হাট-বাজার বা প্রান্তিক পর্যায়ে এর পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। সবার কাছে স্মার্টফোন বা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধাও নেই। এর বাইরে বড় একটি সমস্যা হলো গ্রাহকের আস্থার অভাব। এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান সতর্ক করে বলেন, সাইবার জালিয়াতির ঘটনা, মাঝেমধ্যে লেনদেন ব্যর্থ হওয়া (Failed transaction) এবং ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর জটিল ইন্টারফেসের কারণে সাধারণ মানুষের মনে ডিজিটাল অনীহা তৈরি হয়। ফলে তারা সুরক্ষার স্বার্থে আবার নগদ লেনদেনের দিকেই ঝুঁকে পড়েন।
নোট ছাপানোর চড়া মূল্য দিচ্ছে অর্থনীতি: নগদ টাকার ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিকে এক বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের হিসাব অনুযায়ী, বাজারে কাগজের নোটের সরবরাহ ঠিক রাখতে, ছেঁড়া-ফাটা নোট বাতিল করে নতুন নোট ছাপাতে এবং এই মুদ্রা ব্যবস্থাপনার পেছনে সরকারকে বছরে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। দেশ যদি দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারত, তবে এই বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।
পথ কোন দিকে: ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্য এই নয় যে রাতারাতি বাজার থেকে সব নগদ টাকা তুলে নেওয়া হবে। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো নগদ ও ডিজিটাল—দুই মাধ্যমেই যেন মানুষ সমান সুযোগ পায় এবং ধীরে ধীরে ডিজিটাল মাধ্যমে অভ্যস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনে মানুষকে আকৃষ্ট করতে হলে শুধু কঠোর নীতি বা আইন চাপিয়ে দিলে হবে না; বরং এই প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে হবে। একই সাথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা গেলেই কেবল ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন সত্যি হবে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্নিকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। নুরুননাহার নিম্নি পূবালী ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। গত সোমবার পূবালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁকে এই উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘শিখর জয়ী’ শিরোনামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইছা, মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, আহমেদ এনায়েত মনজুর, মো. শাহনেওয়াজ খান ও মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রিন্সিপাল শাখার প্রধান সুলতানা সরিফুন নাহারও এই আয়োজনে যোগ দিয়ে এভারেস্টজয়ীকে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে এভারেস্টজয়ী এই নারী কর্মকর্তার অনন্য সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁর হাতে একটি বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় অংশ হিসেবে নুরুননাহার নিম্নির এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের রোমাঞ্চকর ও কষ্টসাধ্য অভিযাত্রা নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে। উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে আরোহণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরেন নুরুননাহার নিম্নি।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি তাঁদের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত প্রতিভা, সাহসিকতা এবং বৈশ্বিক যেকোনো ইতিবাচক অবদানকে মূল্যায়ন করে থাকে। নিম্নির এই অভূতপূর্ব বৈশ্বিক অর্জন ব্যাংকের অন্যান্য কর্মীদের কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করতে নতুন এক অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার রিয়াদ মাহমুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার ব্যাংকটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নিয়োগের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সুদীর্ঘ ২৬ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পেশাদার ব্যাংকটির সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দেবেন।
রিয়াদ মাহমুদ চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয় ২০০০ সালে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-তে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি এবি ব্যাংক পিএলসি-তে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। এরপর ২০০৪ সালে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি-তে (ইবিএল) যোগ দেন। ইস্টার্ন ব্যাংকে সুদীর্ঘ ও সফল কর্মজীবনে তিনি উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ সময়ের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে করপোরেট পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন) ব্যবস্থাপনা, বিশেষায়িত ইসলামী ব্যাংকিং কাঠামো গঠন এবং আধুনিক ডিজিটাল ট্রেড সলিউশন প্রণয়নে তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। কর্মক্ষেত্রে চমৎকার অবদানের জন্য তিনি ইবিএল-সিইও ও চেয়ারম্যান পুরস্কারসহ একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিতে ভূষিত হয়েছেন।
পেশাগত যোগ্যতার অংশ হিসেবে রিয়াদ মাহমুদ চৌধুরী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুডিস ও ওমেগা করপোরেশন থেকে কমার্শিয়াল ক্রেডিট অ্যানালাইসিসে উচ্চতর সনদ অর্জন করেছেন। তাঁর এই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, কারিগরি জ্ঞান ও নেতৃত্ব স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের আধুনিকায়ন এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত করতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতি সপ্তাহে বিকাশ-এ সর্বোচ্চ সংখ্যক পেমেন্ট করে ৫০ জন গ্রাহক পাচ্ছেন টিভি, স্মার্টফোন, স্মার্ট ওয়াচসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ। আগামী ১৮ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই ‘পেমেন্ট চ্যাম্পিয়ন’ ক্যাম্পেইনে যেকোনো গ্রাহক দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে বেশিবার বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা করে প্রতি সপ্তাহে জিতে নিতে পারছেন এইসব পুরস্কার।
এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে গ্রাহককে প্রতি সপ্তাহের রবিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ন্যূনতম ৭টি লেনদেন করতে হবে ও প্রতিটি লেনদেনের পরিমাণ হতে হবে ন্যূনতম ২০০ টাকা। একজন গ্রাহক অফার চলাকালীন একবারই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন।
প্রতি সপ্তাহে প্রথম ৫ জন সর্বোচ্চ সংখ্যক পেমেন্টকারী গ্রাহক পাবেন ৫৫’’ স্যামসাং এলইডি টিভি, পরের ১০ জন স্মার্টফোন, পরবর্তী ১০ জন স্মার্চ ওয়াচ এবং পরবর্তী সর্বোচ্চ ২৫ জন পেমেন্টকারী গ্রাহক পাবেন ইয়ারবাডস। ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত জানা যাবে এই লিংকে- https://offer-finder.com/campaign/exciting-prize-on-most-number-of-payment
এর পাশাপাশি, নির্দিষ্ট মার্চেন্টে বিকাশ পেমেন্ট করে ‘HAMZA’ কোড ব্যবহার করে যেকোনো গ্রাহক পেতে পারেন ২০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট।
প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিকাশ। গলির ছোট মুদি দোকান হোক বা সুপরিচিত ব্র্যান্ডশপ– দেশজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্টে বিকাশ কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সুযোগ ডিজিটাল পেমেন্টকে সবার কাছেই সহজলভ্য করে তুলেছে। এমনকি টাকা না থাকলেও বিকাশ অ্যাপে ‘পে-লেটার’ নামের বিশেষ জামানতবিহীন লোন নিয়ে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে কেনাকাটার সুবিধা। এছাড়াও অ্যাপ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে সংযুক্ত ভিসা কার্ডের মাধ্যমেও পেমেন্ট করতে পারছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি, সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যাংক থেকে অ্যাড মানি করে টাকা আনার সুবিধা তো রয়েছেই।
অ্যাপার্টমেন্ট ক্রেতাদের জন্য সহজ ও আকর্ষণীয় হোম লোন সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি এবং সিএ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (সিপিডিএল)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ অংশীদারিত্বের আওতায় আরও থাকছে যৌথ বিপণন কার্যক্রম, গ্রাহক সম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ।
১১ জুন ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিপিডিএল-এর প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন-এর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম জোনাল হেড জনাব কায়েস চৌধুরী এবং সিপিডিএল-এর চিফ রিলেশনশিপ অফিসার জনাব জি. এম. ফারহাদ সারওয়ার ।
ব্যাংক এশিয়ার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব অ্যাসেটস-রিটেইল ব্যাংকিং ডিভিশন জনাব মো. জাহেদ চৌধুরী এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম জোনাল অফিস জনাব এ. এইচ. এম. শহীদুল্লাহ এবং সিপিডিএল-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জনাব মো. খায়রুজ্জামান জোয়ার্দার এবং হেড অব সেলস, প্রপার্টি সল্যুশন মি. রঞ্জিত ভট্টাচার্য, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রাহকদের আবাসন ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে এবং মানসম্মত আবাসনের স্বপ্নপূরণে আগ্রহী ব্যক্তি ও পরিবারগুলো উপকৃত হবে। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে, যা দেশের আবাসন ও আর্থিক সেবা খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশনাল র্যাংকিং’য়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১ম স্থান অর্জন করেছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই বিখ্যাত বৈশ্বিক র্যাংকিং তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এবারের মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সেক্টরে একটি স্বীকৃত ও স্বাধীন মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
এই র্যাংকিং’য়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ক্যাটাগরিতে সামগ্রিকভাবে দেশের সব গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউআইইউ অবস্থান দশম। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউআইইউ অষ্টম স্থান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করেছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছে ইউআইইউ।
ইউআইইউ শুরু থেকেই গবেষণাকেন্দ্রিক শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। ইউআইইউ’র স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সেস এবং বিশেষ করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (ইডিএস) বিভাগের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূ-বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা গবেষক দলের নিরলস পরিশ্রম এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। ইউআইইউ প্রতিনিয়ত গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানসম্পন্ন প্রকাশনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইউআইইউ’র এই অর্জন মানসম্মত গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় নতুন এক মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে। এছাড়াও, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের ক্রমবর্ধমান উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব সাদিয়া রাইয়ান আহমেদ এর সভাপতিত্বে ১৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে সকাল ১১:০০ ঘটিকায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক সাধারণ সভার শুরুতে চেয়ারম্যান মহোদয় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান।
ব্যাংকের ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ইং তারিখে সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সভায় উপস্থাপন করা হয়। শেয়ারহোল্ডারগণ ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী এবং ৩০% ডিভিডেন্ড (শেয়ার প্রতি ২৫% ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ৫% স্টক ডিভিডেন্ড) অনুমোদন করেন। এছাড়াও, শেয়ারহোল্ডারগণ ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন ও নানাবিধ বিষয়ে প্রস্তাবনা পেশ করেন।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১৭,৭৯৭.৬ মিলিয়ন টাকা যা ২০২৪ সালে ছিল ৬৭৯,৮৭৫.৫ মিলিয়ন টাকা যার প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ২০.৩%। ২০২৫ সালে ব্যাংক কর্তৃক প্রদানকৃত ঋণের পরিমান ৪৫০,৫০৩.৮ মিলিয়ন টাকা যা ২০২৪ সালে ছিল ৪২৮,৬৮৯.৪ মিলিয়ন টাকা যার প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৫.১%। ২০২৫ সালে ব্যাংকের ডিপোজিট ১০০,১৮৫.৫ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬২২,০৫৭.৮ মিলিয়ন টাকা হয়েছে যা ২০২৪ সালে ছিল ৫২১,৮৭২.৫ মিলিয়ন টাকা যার প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ১৯.২%।
ব্যাংক ২০২৫ সালে ট্যাক্স পূর্ববর্তী নীট মুনাফা অর্জন করে ১৫,৯১১.৬ মিলিয়ন টাকা এবং ট্যাক্স পরবর্তী নীট মুনাফা অর্জন করে ৯,৬৪৭.৭ মিলিয়ন টাকা। চলতি বছরে শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯.৯৮ টাকা। ইধংবষ ওওও অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের হার দাঁড়িয়েছে ১৭.১% যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১২.৫০% থাকা বাঞ্ছনীয়।
সভা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে জনাব সাদিয়া রাইয়ান আহমেদ এবং জনাব মো: ফখরুল ইসলাম এর পুনঃনিয়োগ অনুমোদন করেন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে জনাব মনজুর আহমেদ ও জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর নিয়োগ অনুমোদন করেন।
সভা ২০২৬ সালের জন্য কোম্পানীর বহিঃনিরীক্ষক হিসেবে আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী, চাটার্ড একাউন্ট্যান্টস এবং কর্পোরেট গভর্নেন্স নিরীক্ষক হিসেবে হোদা ভাসি চৌধুরী এন্ড কোং, চাটার্ড একাউন্ট্যান্টস-এর নিয়োগ অনুমোদন করেন।
মন্তব্য