সদ্য সমাপ্ত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৪০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই রপ্তানি আয় আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে গত বছরের মে মাসের তুলনায় এই আয় ৭ শতাংশ কম, কারণ গত বছর একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৪ কোটি ডলারের পণ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, মে মাসে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং শিপিং প্রক্রিয়ায় ধীরগতির ফলে বার্ষিক ভিত্তিতে রপ্তানি আয় কিছুটা নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতে মে মাসে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ইপিবির তথ্য বলছে, গত মাসে পোশাক খাত থেকে মোট আয় এসেছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশেরও বেশি কম। এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে। পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কৃষিপণ্য রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে কিছু প্রচলিত ও অপ্রচলিত খাতে রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মে মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। এই আয়ের অর্ধেকের বেশি এসেছে পাট সুতা রপ্তানি থেকে। হোম টেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানিও ৪ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি করে ২ কোটি ৯২ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের (জুলাই-মে) চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোট রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য। এটি গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কম, যেখানে গত বছর আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ে ২৫ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে টানা কয়েক মাস মন্দা ভাব বজায় ছিল। গত এপ্রিলে আয় আবার ৩৩ শতাংশ বাড়লেও মে মাসের এই সাময়িক ধীরগতি সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে বছর শেষে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিএনআইসি) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। গত সোমবার রাজধানীর প্রধান কার্যালয়সহ দেশের ৩৬টি শাখা কার্যালয়ে একযোগে কেক কাটার মাধ্যমে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়। তিন দশকের এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের বীমা খাতে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনআইসি-এর পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ প্রতিষ্ঠানের অর্জন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিগত তিন দশকে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্য সেবার মাধ্যমেই বিএনআইসি গ্রাহকদের গভীর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। তিনি আরও জানান, আগামী দিনে গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের বীমা খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সানা উল্লাহ অনুষ্ঠানে সরকারি বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করে সেবা প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনআইসি সবসময় সরকারি নির্দেশনা মেনে গ্রাহকদের মানসম্মত বীমাসেবা নিশ্চিত করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই সেবার গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বীমা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৯৯৬ সালের মে মাসে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং একই বছরের ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে সাধারণ বীমা ব্যবসার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অগ্নি, মোটর, মেরিন, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অল রিস্ক এবং কন্ট্রাক্টরস অল রিস্কসহ সব ধরনের সাধারণ বীমাসেবা দিয়ে আসছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে বিস্তৃত ৩৬টি শাখার মাধ্যমে বিএনআইসি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল ব্যবসাই নয়, বরং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ঝুঁকি হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানের এই মাইলফলক উদযাপনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী দিনে আরও নিষ্ঠার সাথে সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন তাদের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অফিসার (সিএসটিও) হিসেবে অভিজ্ঞ টেলিকম বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস হগবার্গকে নিয়োগ প্রদান করেছে। গত সোমবার (১ জুন) থেকে তাঁর এই নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আন্দ্রেয়াস এর আগে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টেলিনর পাকিস্তানের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কর্মকর্তার অন্তর্ভুক্তি গ্রামীণফোনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই দায়িত্বে আন্দ্রেয়াস হগবার্গ মূলত কোম্পানির কৌশলগত রূপান্তরে নেতৃত্ব দেবেন এবং গ্রামীণফোনের আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করবেন। উদ্ভাবন পরিচালনা, কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবেন। বিশেষ করে ডিজিটালভাবে আরও সক্ষম একটি প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোনের বর্তমান রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান এই নিয়োগের বিষয়ে তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের টেলিকম বাজার একই সঙ্গে অত্যন্ত জটিল এবং বিপুল সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে ডেটা, আইওটি এবং বিটুবি সেবার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় আন্দ্রেয়াসের দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, আন্দ্রেয়াসের অভিজ্ঞতা গ্রামীণফোনকে একটি তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান আরও সংহত করতে এবং ইন্ডাস্ট্রিকে নেতৃত্ব দিতে বিশেষ সহায়তা করবে।
আন্দ্রেয়াস হগবার্গ নিজেও এই নতুন যাত্রার অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে কোম্পানির সুনির্দিষ্ট কৌশলগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন নতুন সমাধান তৈরি করা। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মুনাফা ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দিকেও তিনি বিশেষ নজর দেবেন। আন্দ্রেয়াস তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নরডিকস, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে টেলিনরের ফিন্যান্স ও প্রযুক্তি বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
শিক্ষাগত জীবনে আন্দ্রেয়াস নরওয়েজিয়ান স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইনসিয়াড (INSEAD) এবং স্টকহোম স্কুল অব ইকোনমিক্সের মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এক্সিকিউটিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন। প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কৌশলের ওপর তাঁর এই গভীর পাণ্ডিত্য এবং টেলিনর প্রকিউরমেন্ট কোম্পানির বোর্ড সদস্য হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা গ্রামীণফোনকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর নেতৃত্বে গ্রামীণফোন নতুন কোনো মাইলফলক স্পর্শ করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ গ্রুপ প্রতি বছরের ন্যায় এবারের মৌসুমেও দেশজুড়ে ব্যাপক আকারে আম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবস্থিত প্রাণের বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে (বিআইপি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি। তিনি কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং আমের পাল্পিং ও প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল এবং কারখানার জেনারেল ম্যানেজার হযরত আলী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান।
প্রাণ গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাঙ্গো ড্রিংক, জুস, ম্যাঙ্গো বারসহ বিভিন্ন সুস্বাদু ও মানসম্মত খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের লক্ষ্যেই এই বিশাল পরিমাণ আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। মূলত আমের জন্য বিখ্যাত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলো থেকেই এই সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে আসায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।
গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল আম সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান, ক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ মানের ফ্রুট ড্রিংকস ও জুস নিশ্চিত করতে কাঁচামালের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ অঞ্চলগুলোতে প্রাণ গ্রুপ তাদের অত্যাধুনিক সংগ্রহ ও ‘পাল্পিং’ কারখানা স্থাপন করেছে। কারখানায় আম আসার পর আধুনিক ল্যাবে এর মান পরীক্ষা করা হয় এবং অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাল্প তৈরি করে তা সংরক্ষণ করা হয়। আমের সতেজতা ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখাই এই প্রক্রিয়ার প্রধান লক্ষ্য।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আম চাষিরা সহজেই তাদের উৎপাদিত আম কারখানায় সরবরাহ করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাণের এই উদ্যোগ কেবল শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমের মৌসুমে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতেও কাজ করছে প্রাণ। সঠিক বাজারজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার ফলে পচনশীল এই ফলের অপচয় রোধ হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রাণের বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পরিবেশ ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে প্রাণের এই অগ্রগতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমানে প্রাণের উৎপাদিত আমের বিভিন্ন পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আম সংগ্রহ করে তারা ভোক্তাদের হাতে বিশ্বমানের পণ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। কৃষকদের সাথে সরাসরি কাজ করার এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহারের উপস্থিতিতে ওয়ান ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জিয়াউল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্র বিনিময় করেন।
এই চুক্তির আওতায় ওয়ান ব্যাংক মূলত দুটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করবে। এর মধ্যে একটি হলো ৩ হাজার কোটি টাকার ‘ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং স্কিম’ এবং অন্যটি হলো ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর ফান্ড ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস’ (এফএসএফডিএমএসএমই)। এই তহবিলের আওতায় যোগ্য উদ্যোক্তারা বার্ষিক মাত্র ৭ শতাংশ সুদহারে ঋণ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। স্বল্প সুদের এই ঋণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক বোঝা লাঘব করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যবসাকে আরও টেকসই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিশেষ অর্থায়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পগুলোর বিকাশ ত্বরান্বিত করা। এর ফলে স্বল্প খরচে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিএমএসএমই খাতের এই উন্নয়ন জাতীয় পর্যায়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ওয়ান ব্যাংক এই চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে আরও জোরালোভাবে সহায়তা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা এবং ওয়ান ব্যাংকের হেড অব কমার্শিয়াল অ্যান্ড এসএমই বিজনেস নেওয়াজ খালিদ আহমেদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে দেশের সিএমএসএমই খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসবে। বর্তমানে প্রচলিত উচ্চ সুদহারের বাজারে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে।
বিশ্ব ঋতুস্রাব স্বাস্থ্যবিধি দিবস ২০২৬ যথাযথ মর্যাদা পালনের লক্ষ্যে, এমটিবি ফাউন্ডেশন সম্প্রতি আবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন স্কুলের সহযোগিতায় এবছরের প্রতিপাদ্য “ঋতুস্রাব বান্ধব বিশ্ব গড়ে তুলি” উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের মাঝে পুষ্টি প্যাক বিতরণ করা হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমটিবি ফাউন্ডেশন কিশোরী মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণ এবং তাদের মর্যাদা রক্ষায় নিজেদের ধারাবাহিক অঙ্গীকার বজায় রেখেছে। এমটিবি ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, সচেতনতা বৃদ্ধি, ঋতুস্রাব সংক্রান্ত পণ্যের সহজলভ্যতা, ঋতুস্রাব-বান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং মৌলিক পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে মেয়েরা ঋতুস্রাবকালীন সময়ে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখতে পারবে এবং স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা সহজ হবে। এই উদ্যোগটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩, ৪ এবং ১০ অর্জনে এমটিবি ফাউন্ডেশনের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।
অনুষ্ঠানে আবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন স্কুলের এডুকেশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার মালিহা আহসানের হাতে পুষ্টি সামগ্রী তুলে দেন এমটিবি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সামিয়া চৌধুরী। এ সময় আবিন্তা কবির ফাউন্ডেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ফারখুন্দা আহমেদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ-এর নতুন কনজ্যুমার শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ শাখার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কনজ্যুমার শাখার উদ্বোধন করেন হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ-এর চিফ মোতাওয়াল্লী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবায় ইতোমধ্যে বিশ্বস্ততা প্রমাণ করেছে হামদর্দ। এখন কনজ্যুমার পণ্য দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ আমরা।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড.
আবদুল লতিফ মাসুম, হামদর্দ বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ এর সদস্য মাওলানা আবদুল মুনায়েম, পরিচালক হামদর্দ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আনোয়ার, পরিচালক উৎপাদন বশির আহম্মদ , পরিচালক ক্রয় মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, পরিচালক প্রশাসন মোঃ আব্দুল মজিদ, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানবসম্পদ উন্নয়ন মো. মিজানুর রহমান, উপ-পরিচালক বিপণন ডা. আবুল তৈমুর চৌধুরী , উপ-পরিচালক বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরী অ্যাফেয়ার্স আবু জাফর মো. সাদেক, কনজ্যুমার ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন পরিচালক তথ্য ও গণসংযোগ আমিরুল মোমেনীন মানিক।
হামদর্দের উল্লেখযোগ্য কনজ্যুমার পণ্যের মধ্যে রয়েছে আমরুপালি, রুহআফজা, ইনস্ট্যান্ট ড্রিংক পাউডার (ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ), আমরুপালি ম্যাঙ্গো বার, আমরুপালি ম্যাঙ্গো বার (কালোজিরা) ,ইহরাম নিম বাথিং বার, ইহরাম সোপ ,মেলোরা, ক্লোভগার্ড, চ্যবনপ্রাশ, হামদর্দ আমলা তেল, ইসপাগুল, এলোফ্রেশ, হামদর্দ মধু, হজমিট্যাব, ওআরএস, হামদর্দ বাম ও জশিনা হারবাল চা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটি উল্লেখ করে যে, তার এই অনন্য অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বলিষ্ঠ অবস্থানের একটি যুগান্তকারী স্বীকৃতি।
বিজিএমইএ তাদের বার্তায় বিশ্বাস প্রকাশ করেছে যে, ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বহুপাক্ষিক দক্ষতা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিজিএমইএ আরও মনে করে যে, জাতিসংঘের এই প্রভাবশালী পদের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকালীন বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো জাতীয় ও কৌশলগত অর্থনৈতিক দাবিগুলো বিশ্বমঞ্চে জোরালোভাবে উপস্থাপন ও সফলভাবে আদায় করতে সক্ষম হবেন।
পোশাক শিল্পের প্রধান এই সংগঠনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মেয়াদে সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার এই নেতৃত্ব বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরও সুউচ্চ করবে।
মন্তব্য