আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যা সাধারণ নাগরিকদের ওপর তীব্র আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় মেটাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের পারিবারিক সঞ্চয় গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তার ফলে এপ্রিল মাসে ফেডারেল রিজার্ভের বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মূল্যসূচক ‘পিসিই’ ৩ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত মার্চ মাসে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মাসিক ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। তবে অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশ যে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, সেই ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি মার্চের তুলনায় কিছুটা শ্লথ হয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে দেখা যায়, প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির হার মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। অনেক পরিবার সাময়িকভাবে কর ফেরতের অর্থ দিয়ে তেলের উচ্চমূল্যের ধাক্কা সামাল দিলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, আয়ের তুলনায় ব্যয় এভাবে বাড়তে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয় ডেকে আনবে। নেশনওয়াইড মিউচুয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যাথি বোস্টজ্যানসিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিবারগুলো এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ স্পষ্টভাবে অনুভব করছে।’ তাঁর মতে, গত এক মাসে ভোক্তাদের কর-পরবর্তী প্রকৃত আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা এখন তাদের জমানো টাকা ভেঙে জীবনধারণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এপ্রিলে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন রেকর্ড। অথচ চলতি বছরের শুরুতেও এই হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘আমেরিকানরা এখন আর্থিকভাবে চাপে আছে। মূল্যস্ফীতি ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং ব্যক্তিগত সঞ্চয় গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অনেকেই এখন আয় থেকে বেশি ব্যয় করছেন—বিষয়টি টেকসই নয়, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য।’
মূল্যস্ফীতির এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে মূলত ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট কাজ করছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি অচল থাকায় তেল, গ্যাস ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ এলিজাবেথ রেন্টার মনে করেন, তেলের ধাক্কা ও সরকারের কঠোর শুল্কনীতির ফলে ভোক্তারা এক ধরণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন জুনোর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত শুল্কনীতি এই মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। একই সাথে চীনের পাইকারি বাজারে দাম বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী এই মূল্যস্ফীতির চাপ ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের অধীনে সুদের হার অদূর ভবিষ্যতে কমার কোনো সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না। বোস্টজ্যানসিকের ধারণা অনুযায়ী, যেহেতু মূল্যস্ফীতি এখনও তাদের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এদিকে বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংশোধিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বড় ধরণের বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয়ের কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে। তবে বর্তমানের এই সঞ্চয় সংকট ও মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন জনজীবনে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের কার্যদিবসে তেলের দাম কমে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছালেও বুধবার (১০ জুন) বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার তথ্য বাজারে এই উর্ধ্বমুখী প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার লেনদেন শুরুর পর লন্ডন বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.২৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬৮ সেন্ট বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতির নতুন তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো হ্রাস পেয়েছে। গত ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে তেলের মজুত ৯১.২ লাখ ব্যারেল এবং পেট্রোলের মজুত ১১.৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানি পণ্যের রফতানি বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ মজুত কমে আসায় সেই সক্ষমতা এখন হুমকির মুখে। রফতানি ব্যাহত হওয়ার এই আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের (তেজাবী স্বর্ণ) মূল্য হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। এর আগে এ মানের স্বর্ণ ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি স্বর্ণের মূল্যে তৃতীয় দফা পতন। গত ২ জুন ও ৬ জুন দুই দফায় দাম কমানোর পর আজ আবারও মূল্য হ্রাস পাওয়ায় তিন দফায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম মোট ১৫ হাজার ৩৩৯ টাকা কমেছে।
স্বর্ণের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রূপার দামও কমিয়েছে বাজুস। সবচেয়ে ভালো মানের রূপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের সমন্বয় এবং তেজাবী স্বর্ণের দাম হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন দাম বুধবার সকাল থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
ফাইল ছবি
চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। এর ফলে টাকার সংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এখনো টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানায়, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এরপর গত দুই দিনে আমানতের পরিমাণ আরও কমেছে।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর থেকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে একদল গ্রাহক। গ্রাহকদের ‘যৌক্তিক’ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কয়েক দিনের টানা আন্দোলনে ব্যাংকটির গ্রাাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আতঙ্কিত অনেক গ্রাহক টাকা তুলে নেন। গতকাল নবম দিনের মতো এই আন্দোলন চলে। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীরা বলেন, আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তারা তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ হোসেনের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল সোমবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৩২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। গত বছরের জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে সাত দশমিক ৯২ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৮ জুন পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে তিন হাজার ৩৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮৪১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে নতুন অর্থবছরে বিড়ির দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
রাশেদা বেগম হীরা জানতে চেয়েছিলেন, তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি, বিশেষ করে বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রেখে অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে কিনা।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার আগের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিনা প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি বাংলাদেশের বাজারে তাদের নতুন ট্যাবলেট 'রেডমি প্যাড টু' আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ডিভাইসটি মূলত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, কন্টেন্ট স্ট্রিমার এবং গেমারদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর লক্ষে তৈরি করা হয়েছে। হালকা ও সহজে বহনযোগ্য এই প্যাডটি উন্নত কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। গত ৮ জুন থেকে সারা দেশে শাওমির অনুমোদিত স্টোরগুলোতে এটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ডিভাইসটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ৯.৭ ইঞ্চির টু-কে (2K) ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ডিসপ্লে। এতে ১২০ হার্জ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভিডিও স্ট্রিমিং ও স্ক্রলিংকে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে। দিনের আলোতেও স্ক্রিনের দৃশ্যমানতা স্পষ্ট রাখতে এতে রয়েছে ৬০০ নিটস পর্যন্ত ব্রাইটনেস। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে চোখের ওপর চাপ কমানোর জন্য এতে টিইউভি রেইনল্যান্ড-সার্টিফায়েড আই কমফোর্ট প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি আরামদায়ক ও নিরাপদ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।
শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য রেডমি প্যাড টুতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন সিক্সএস ফোরজি সেকেন্ড জেনারেশন প্রসেসর। নতুন এই প্যাডটি শাওমির নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হাইপারওএস ৩’-এ পরিচালিত হয়, যা মাল্টিটাস্কিংকে অনেক সহজ ও দ্রুত করে তোলে। বড় ডিসপ্লে ও শক্তিশালী ফিচারের পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে এতে ৭ হাজার ৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। শাওমির ইন্টারকানেক্টিভিটি ফিচারের মাধ্যমে অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের সাথে এটি সহজেই যুক্ত করে নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, অনবদ্য ডিসপ্লে ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফের কারণে পড়াশোনা, কাজ কিংবা বিনোদনের ক্ষেত্রে রেডমি প্যাড টু একটি আদর্শ ডিভাইসে পরিণত হবে। ট্যাবলেটটি বর্তমানে গ্রাফাইট গ্রে এবং সিলভার—এই দুটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকদের ভিন্ন ভিন্ন কানেক্টিভিটির চাহিদা মেটাতে এটি ওয়াইফাই এবং ওয়াইফাই + সেলুলার (ফোরজি)—এই দুটি আলাদা সংস্করণে আনা হয়েছে। উভয় মডেলেই ৪ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।
দেশের বাজারে রেডমি প্যাড টু-এর ফোরজি সংস্করণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ওয়াইফাই সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ২১ হাজার ৯৯৯ টাকা। সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ট্যাবলেটটিকে বাজারে বেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা। মানসম্মত হার্ডওয়্যার ও নতুন সফটওয়্যারের মেলবন্ধনে রেডমি প্যাড টু গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শাওমি কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে ‘গোল্ডেন গোল অফার’ শীর্ষক একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সনির আনুষ্ঠানিক পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিস্ (বিডি) লিমিটেড। সোমবার রাজধানীর স্মার্ট টেকনোলজিসের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের পছন্দের গৃহস্থালি ও প্রযুক্তি পণ্য ক্রয়ে বিশেষ আর্থিক সুবিধা এবং আকর্ষণীয় উপহার লাভের সুযোগ পাবেন। মূলত বিশ্বকাপের আমেজ সাধারণ মানুষের কেনাকাটায় ছড়িয়ে দিতেই এই বিশাল আয়োজন করা হয়েছে।
এই বিশেষ অফারের আওতায় গ্রাহকরা সনি, স্মার্ট, হায়ার, শার্প এবং শাওমির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের টেলিভিশন, সাউন্ড সিস্টেম, হেডফোন, এয়ার কন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর কেনার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ‘বিশেষ মূল্য সুবিধা’ পাবেন। বিশেষ করে ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয় করলে গ্রাহকদের একটি করে স্ক্র্যাচ কার্ড দেওয়া হবে। ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে প্রদান করা এই কার্ডটি ঘষলেই মিলবে ফিফা বিশ্বকাপের প্রিয় দলের জার্সি, ফুটবল, সনি হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও এয়ার কুলারের মতো নিশ্চিত সব পুরস্কার।
টেলিভিশন ক্রেতাদের জন্য সনি ব্রাভিয়া মডেলে রাখা হয়েছে আরও বড় চমক। ৫০ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় সাইজের সনি ব্রাভিয়া টিভি কিনলে ক্রেতারা স্টকের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিকভাবে একটি আকর্ষণীয় জার্সি উপহার পাবেন। এছাড়া ৬৫ ইঞ্চি বা তার বেশি বড় সাইজের প্রিমিয়াম মডেলের টিভি কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করলে রয়েছে প্রতি সপ্তাহে একটি বিশেষ লাকি ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ। এই ড্রয়ের বিজয়ীদের জন্য উপহার হিসেবে থাকবে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের অফিশিয়াল জার্সি, কাস্টম ক্যাপ এবং বক্সসহ বিশেষ ফিফা বিশ্বকাপ ট্রেনিং বল। সনি-স্মার্ট ইতোমধ্যেই তাদের আউটলেটগুলোতে এই ডিজিটাল নিবন্ধনের জন্য কিউআর-কোড হাব স্থাপন করেছে।
ক্যাম্পেইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সনি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বাংলাদেশ শাখার প্রধান যশুয়া কুয়েক। অনুষ্ঠানে তিনিসহ স্মার্ট টেকনোলজিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, গ্রাহকদের জন্য উচ্চমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও রঙিন করতে এই ক্যাম্পেইনটি ডিজাইন করা হয়েছে। সনি বাংলাদেশের এই বিশেষ উদ্যোগটি ফুটবল প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে সনি হোম এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান মাশচাভালিত কেমনুজ মিং এবং স্মার্ট টেকনোলজিসের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ফুটবল প্রেমীদের জন্য সনি-স্মার্টের এই সময়োপযোগী আয়োজন কেনাকাটায় নতুন এক উদ্দীপনা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সাথে ফুটবল বিশ্বকাপের স্মারক উপহার গ্রাহকদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে। দেশজুড়ে বিস্তৃত সনি-স্মার্টের শোরুমগুলোতে বর্তমানে এই অফারটি পুরোদমে কার্যকর রয়েছে এবং গ্রাহকরা আগ্রহের সাথে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে স্মার্ট টেকনোলজিস দেশীয় বাজারে তাদের শক্তিশালী অবস্থান আরও সংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য