বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৪৫)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি গতানুগতিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মতো নয়, বরং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে অক্ষুন্ন রেখে কীভাবে টেকসই পর্যটন বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন করা যায়, তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করা হয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানটি বন বিভাগ অনুমোদন দিলে ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউএসএআইডির আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশ বন বিভাগ ও সোলিমার ইন্টারন্যাশনাল এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। ইউএসএআইডি ইকোট্যুরিজম অ্যাক্টিভিটি পাইলট প্রকল্পের অধীনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে তিন বছর মেয়াদে এ মাস্টারপ্ল্যানের বড় একটি অংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে এ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।
তিনি জানান, এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এটি মূলত সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটবে, স্থানীয়দের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত হবে এবং এর মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’
ড. মো. ওয়াসিউল বলেন, ‘সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও খুলবে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি পর্যটকরা সুন্দরবনের কোলাহলমুক্ত, শান্ত, সুনিবিড় পরিবেশ এবং রাতের জ্যোৎস্না বিশেষভাবে উপভোগ করে থাকেন। এই চাহিদা কাজে লাগাতে পারলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।’
মাস্টারপ্ল্যানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কমিউনিটিভিত্তিক ইকোট্যুরিজম মডেল। বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ও আঞ্চলিক ট্যুর অপারেটর এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
ড. ওয়াসিউল বলেন, ‘স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পনাটি তৈরি হওয়ায় বিরোধের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। স্থানীয়রা সরাসরি ইকোট্যুরিজমে অংশ নেবে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে উপকৃত হবে।’
পরিকল্পনায় বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। পর্যটনের মাধ্যমে বিকল্প ও টেকসই জীবিকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই পদ্ধতি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ওপর চাপ কমাবে এবং ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ার-ভাটার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে এর সহনশীলতা বাড়াবে।’
এই প্রকল্পের অধীনে ২০০ জনের বেশি ইকো-গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা পর্যটকদের গাইড করবে এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমিয়ে আনবে। তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিশ্চিত হবে, যা পরিবেশের ক্ষতি কমাবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক জানান, দাকোপ এলাকায় যে সকল ইকো-কটেজ স্থাপন করা হয়েছে, সেসব কটেজে কর্মরত স্থানীয় কর্মচারীদেরও গেস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং পর্যটক সেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটকদের সাথে কোনো ধরনের সংঘাত বা ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সুযোগ কম থাকে।
পর্যটকদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য মাস্টারপ্ল্যানে প্রধান তিনটি প্রবেশপথ মোংলা, মুন্সীগঞ্জ ও শরণখোলায় তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের নৌকা ভাড়া করা, ইকো-গাইড নিয়োগ করা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সুবিধা পেতে সাহায্য করবে।
বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বাসসকে জানান, প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে আসেন।
তিনি বলেন, ‘এ বিপুল সংখ্যক পর্যটককে নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এই মাস্টারপ্ল্যানটি বনের ক্ষতি না করে দায়িত্বশীল ইকো-ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করছে। এটি একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
ইমরান আহমেদ জানান, পরিকল্পনাটি বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনভিত্তিক ইকোট্যুরিজম খুলনাকে জাতীয় রাজস্বের একটি বড় উৎসে পরিণত করবে।’
সুন্দরবনের আশপাশের গ্রামবাসীরাও পরিকল্পনাটি নিয়ে আশাবাদী। তারা জানান, আগে কিছু ব্যক্তিগত কটেজে অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় সরকারি তত্ত্বাবধান থাকায় একসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণ নিশ্চিত হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০ বছর মেয়াদি এই মাস্টারপ্ল্যান সুন্দরবনকে টেকসই পর্যটনের আদর্শ রূপে গড়ে তুলবে, যা বন সংরক্ষণকে উৎসাহিত করবে, স্থানীয়দের শক্তিশালী করবে এবং বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে।
সূত্র: বাসস
ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ক্যাশলেস ডিজিটাল সেবা চালু করেছে গ্রামীণ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ টেলিকমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রোববার (২৬ জুলাই) গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘জিপে (GPay)’ এক্সপেরিয়েন্স বুথ উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নাজনীন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরদার আকতার হামিদ, সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আহমদ আরমান সিদ্দিকী, গ্রামীণ ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মতিয়র রহমান, এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন ও মো. রেজাউল করিম চৌধুরীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায়ে নগদ অর্থের লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল লেনদেনের বিকল্প নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫০ বছরের পথচলার অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে আগামী দিনের বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর অপরিহার্য।
গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান জানান, ক্ষুদ্রঋণ খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা ঘরে বসেই নিরাপদে কিস্তি ও সঞ্চয়ের অর্থ লেনদেন করতে পারবেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নাজনীন সুলতানা মন্তব্য করেন, অতীতে গ্রামীণ ব্যাংককে ডিজিটাল করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকৃত অর্থে ক্যাশলেস সেবা এবারই প্রথম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরদার আকতার হামিদ জানান, সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ‘জিপে’ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংকের কিস্তি ও আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম ক্যাশলেস করা হচ্ছে। অ্যাপটি ইতোমধ্যে প্লে স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন ও যাচাই করতে পারবেন।
সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আহমদ আরমান সিদ্দিকী জানান, ব্যবহারকারীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট ও হেল্পলাইন চালু রয়েছে। বাংলা কিউআর কোডসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে ‘জিপে’ একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে কাজ করবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত সর্বজনীন কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর (Bangla QR)’ সম্পর্কে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচি আয়োজন করেছে।
সারাদেশে প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, সাইন্সল্যাব, নিউ মার্কেট, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, শামলী, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় লিফলেট বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
প্রচারণা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, “বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। একটিমাত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে ও নিরাপদে অর্থ পরিশোধ করা যায়। এর ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজনীয়তা কমে, লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়। ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার যত বাড়বে, ক্যাশলেস লেনদেন তত সম্প্রসারিত হবে। এ বিষয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারে রূপালী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
প্রচারণা কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তানভীর, মহাব্যবস্থাপক শেখ মুনজুর করিম ও তানভীর হাসনাইন মইন, চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার মো. অহিদুল ইসলাম সরকারসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও কর্মসূচিতে ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, জোনাল অফিস ঢাকা সেন্ট্রাল এবং ধানমন্ডি কর্পোরেট, হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, সাইন্সল্যাবরেটরী, ঢাকা লেডিস, নিউ মার্কেট, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, মিরপুর ও পল্লবী শাখার ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোকানদার, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’-এর সুবিধা, ব্যবহারবিধি ও গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
রূপালী ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
এসিআই হাইজিন প্রোডাক্টস বিজনেস এর ফিমেল হাইজিন ব্র্যান্ড ‘ফ্রিডম’ আয়োজিত “স্কুটি নাকি গোল্ড?” ক্যাম্পেইনে এখন পর্যন্ত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘ফ্রিডম ফিয়েস্তা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের স্কুটি ও গোল্ড কয়েন হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি, ভোক্তাদের ব্যাপক সাড়ার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পেইনটির মেয়াদ আগামী আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে “স্কুটি নাকি গোল্ড?” ক্যাম্পেইনের বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, স্থপতি ও শিক্ষাবিদ অপি করিম। তিনি হাইজিন সেক্টরে ফ্রিডমের উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে এসিআই কনজ্যুমার বিজনেস-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, বিজনেস ডিরেক্টর খন্দকার ইশতিয়াক আহমদ, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মো. নাহিদ নেওয়াজ, জিএম সেলস মিজানুর রহমান, জিএম অপারেশন্স দীপঙ্কর বিশ্বাস, ডিজিএম শেহরিন কামাল, পিজিএম আসির আওসাফসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিজনেস ডিরেক্টর খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “‘স্কুটি নাকি গোল্ড?’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা কেবল পুরস্কারই দিচ্ছি না, বরং ভোক্তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের আস্থাকে উদযাপন করছি। বাংলাদেশের নারীদের নিরাপদ হাইজিন ও সুস্থতা নিশ্চিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতেও নারীদের দৈনন্দিন জীবনে সহায়ক এমন আরও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে আসবে ফ্রিডম।”
অনুষ্ঠানের শেষাংশে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতমের লাইভ পরিবেশনা, ম্যাজিক শো এবং স্ট্যান্ড-আপ কমেডি উপভোগ করেন অতিথিরা।
ছবি: সংগৃহীত
কমিউনিটি ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক হেড অফিসে ‘এ-চালান বিজনেস এক্যুইজিশন অ্যান্ড অপারেশন’ (A-Challan Business Acquisition & Operation) শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জনাব সামসুল হক সুফিয়ানী। তিনি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের (এ-চালান) মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আহরণে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা এবং ডিজিটাল সেবা আরও গতিশীল ও সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা মূল সেশনসমূহ পরিচালনা করেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব এ. কে. এম. মুখলেছুর রহমান (সিনিয়র ফাংশনাল কনসালট্যান্ট), জনাব শরিফুর রহমান (সিনিয়র আইটি কনসালট্যান্ট) এবং জনাব মো: জোবায়ের আহাম্মদ (জুনিয়র কনসালট্যান্ট)। তাঁরা এ-চালানের বাস্তবায়ন কাঠামো, কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের (ঈইঝ) সাথে কারিগরি সংহতি, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং সরাসরি এ-চালান ইস্যুর সার্বিক প্রক্রিয়া বিশদভাবে তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চীফ বিজনেস অফিসার (সিবিও), চীফ ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি অফিসার (সিআইটিও), হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং, চীফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং হেড অব ট্রেজারিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন ও ফিডব্যাক গ্রহণের মাধ্যমে সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি সমাপ্ত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যতম সেরা গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডের তালিকায় স্থান করে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বজুড়ে একশটি দেশের বাজারে ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ওয়ালটনের গ্লোবাল ব্র্যান্ড বিজনেস নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া।
এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি রাজধানীতে ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসে লিবিয়ার ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আসর আল টেকনিয়া’ এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্টিজ পিএলসি’র মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় লিবিয়ায় ওয়ালটন ব্র্যান্ডের পরিবেশক হিসেবে কাজ করবে আসর আল টেকনিয়া। প্রতিষ্ঠানটি লিবিয়ার বাজারে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি প্রযুক্তিপণ্য বিক্রয় ও বিপণন করবে।
ওয়ালটন হাই-টেকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম এফসিএ, এসিএ (আইসিএইডব্লিউ) এবং আসর আল টেকনিয়া’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল সাদিক আল তাহির আল সগীর কারাহ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ওয়ালটন গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের প্রধান আব্দুর রউফ বলেন, পণ্যের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, আধুনিক ডিজাইন, টেকসই ও উচ্চ গুণগতমান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব এবং মূল্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওয়ালটন। ফলে বৈশ্বিক বাজারে ওয়ালটন ব্র্যান্ড অতি অল্প সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে নিতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে ওয়ালটনের গ্লোবাল বিজনেস নেটওয়ার্কে প্রতিনিয়ত যুক্ত নতুন নতুন দেশের বাজার। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৫৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওয়ালটনের ব্র্যান্ড বিজনেস। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে উত্তর আফিকার দেশ লিবিয়া।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে চলতি বছরে লিবিয়ার বাজারে দুই শিপমেন্টে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ, এসি, টিভি এবং ওয়াশিং মেশিন রপ্তানি করা হয়েছে। লিবিয়ায় গ্লোবাল বিজনেস সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোর বাজারে প্রবেশ পথ আরো সুগম হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ওয়ালটন গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের ডেপুটি হেড সাইয়েদ আল ইমরান, লিবিয়ার কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুল লতিফ প্রামাণিক প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ‘ব্রাঞ্চ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (BAMLCO) কনফারেন্স-২০২৬’ । শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ আয়োজিত এ কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (AML) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (CFT) বিষয়ে জ্ঞান, সচেতনতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ব্যাংকের শাখা-উপশাখা পর্যায়ে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, কার্যকর গ্রাহক যাচাই এবং কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের জনাব মো: মনিতুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এন্ড চিফ ইনফরমেশন অফিসার (CIO) ও চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (CAMLCO)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনাব হেলাল আহমেদ, চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশন্স, জনাব আবুল কাশেম মোঃ ফজলুল কাদের, হেড অব সার্ভিস এন্ড এস্টেট, জনাব মোঃ আবদুল্লাহ আল মাসুম, হেড অব করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং, জয়েন্ট ভেঞ্চার অপারেশনস এন্ড রেমিট্যান্স ডিপার্টমেন্ট, জনাব এবিএম মহসীন কামাল মোল্লা, ডেপুটি ক্যামেলকো এন্ড হেড অব এএমএল ও সিএফটি সহ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শাখার বামেলকো-রা কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কনফারেন্সে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউর নির্দেশনা, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ ও প্রতিবেদন, ঝুঁকিভিত্তিক গ্রাহক যাচাই (CDD/EDD), লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং শাখা পর্যায়ে AML/CFT কমপ্লায়েন্স আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আইএফআইসি ব্যাংক বিশ্বাস করে, এ ধরনের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সম্মেলন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যাংকের AML/CFT কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নে সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এর এটিএম বুথ শুভ উদ্বোধন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর সম্মানিত মহাপরিচালক ও সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ওএসপি, বিএসপি, এসইউপি, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি, এমফিল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ নুরুল আজীম এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নে এটিএম বুথ স্থাপনের ফলে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা স্থানীয় অধিবাসী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর সদস্যদের নাগালে এলো। গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটিএম বুথ স্থাপন করছে সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি।
মন্তব্য