× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Bank clarified the issue of journalist entry
google_news print-icon

সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট করল বাংলাদেশ ব্যাংক

সাংবাদিক-প্রবেশের-বিষয়টি-স্পষ্ট-করল-বাংলাদেশ-ব্যাংক
জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বলে এক স্পষ্টীকরণ বার্তায় জানায় সংস্থাটি।

সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বুধবার সংস্থাটি এক স্পষ্টীকরণ বার্তায় জানায়, সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা মর্মে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে।

জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বলে ওই বার্তায় জানায় তারা। খবর বাসস

ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে দেশের জনসাধারণের নিকট সকল প্রদানযোগ্য তথ্য প্রদানে বদ্ধপরিকর। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রদানযোগ্য সকল তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশেনে কতিপয় পদ্ধতি অনুসরণ করছে তারা। যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কিত গণমাধ্যমে প্রদানযোগ্য তথ্য প্রদান, তার ব্যাখ্যা ও সম্পূরক তথ্যাদি প্রদানে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা মুখপাত্র হিসেবে ও পরিচালক পর্যায়ের দুইজন কর্মকর্তা সহকারী মুখপাত্র হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। যেকোনো সংবাদকর্মী অফিস চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনে প্রবেশ করে এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য গ্রহণ করতে পারেন।

এছাড়া কোনো বিশেষ প্রয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রবেশ পাস গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট সংবাদকর্মীরা প্রয়োজনীয় তথ্যাদির ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে পারেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞিপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে প্রেস কনফারেন্স, প্রেস রিলিজ ও অন্যান্য মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করছে।

এ ছাড়াও অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সংরক্ষিত সকল অর্থনৈতিক তথ্য ও উপাত্ত ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে আসছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংক মেরুদণ্ড সোজা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না: সিপিডি
পঞ্চগড়ে যা বললেন ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলম
সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি ইস্যুতে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের দাবি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
This time with the price of sacrificial skin disappointment

কোরবানির চামড়ার দাম নিয়ে এবারও হতাশা!

কোরবানির চামড়ার দাম নিয়ে এবারও হতাশা! আড়তে কাঁচা চামড়ায় লবণ দেয়ার তৎপরতা চলছে। ফাইল ছবি
নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় মাঝারি আকারের ২৫ বর্গফুটের চামড়ার দাম হওয়ার কথা এক হাজার ৩৭৫ থেকে দেড় হাজার টাকা। লবণ, মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও চামড়ার দাম দাঁড়ায় ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। অথচ পোস্তার আড়তগুলোয় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। সায়েন্সল্যাব মোড় কিংবা হাজারীবাগে দাম আরও কম, ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

বছরের সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহের মৌসুমে এবারও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ঢের কম দামেই চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাদ্রাসা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও অন্যান্য খাতের চামড়ার মালিকদের।

কোরবানির ঈদের তৃতীয় দিন বুধবারও কিছু চামড়া বেচা-বিক্রি চোখে পড়েছে পুরান ঢাকার পোস্তাসহ কয়েকটি জায়গায়।

কাঁচা চামড়ার পাইকারি বাজারখ্যাত লালবাগের পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চামড়া কেনায় এবার তাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা পূরণ হয়েছে। ঈদের দিন সন্ধ্যা ও পরদিন বেশিরভাগ চামড়া কেনার কাজটি সেরেছেন তারা। বুধবার চলে তা সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজ।

তবে এবারও গরমসহ নানা কারণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, পোস্তায় এ বছর ঈদের ১ লাখের ওপরে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানকার পুরোনো ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর আগের বছরের তুলনায় ব্যবসায়ীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে তারপরও তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করেছেন তারা। সেখানকার একজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদের দিন বিকাল ৫টার পর থেকে চামড়া কেনা শুরু করেন তারা। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ হয়। এখন পর্যন্ত যা চলমান। কেন চামড়ার দাম এবারও কম জানতে চাইলে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার গরমের কারণে অনেকে চামড়া কিনতে ভয় পাচ্ছে।’

ট্যানারি মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী তাদের অর্থ সরবরাহ করেননি বলেও জানান তিনি।

ঈদের আগে একাধিক বাণিজ্য সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয় ৫৫-৬০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০-৫৫ টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ৪৫-৪৮ টাকা। এ ছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০-২৫ টাকা বর্গফুট ও বকরির চামড়া ১৮-২০ টাকা বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়।

নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় মাঝারি আকারের ২৫ বর্গফুটের চামড়ার দাম হওয়ার কথা এক হাজার ৩৭৫ থেকে দেড় হাজার টাকা। সেখানে লবণ, মজুরি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও চামড়ার দাম দাঁড়ায় ১১শ থেকে ১২শ টাকায়। তবে ঈদ ও পরদিন পোস্তার আড়তগুলোয় বড় ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। সাইন্সল্যাব মোড় কিংবা হাজারীবাগে চামড়া বিক্রি হয়েছে আরও কম দামে, ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, ‘পোস্তায় এ মৌসুমে ১ লাখ ৬০ হাজার চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। এখনো কোথাও চামড়া অবিক্রিত থাকলে আমাদের ব্যবসায়ীরা তা কিনবেন। তবে চামড়াটা সঠিক উপায়ে সংগ্রহ করতে হবে। সময়মতো লবণ না দিলে সেই চামড়া কেউ কিনবে না।’

চামড়ার দাম কম কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আফতাব খান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কেনা হচ্ছে। তবে কেউ যখন লবণ না দিয়ে চামড়া নিয়ে আসবে তখন প্রতি বর্গফুটে ৫ থেকে ৭ টাকা কম হতেই পারে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর বিপুলসংখ্যক কোরবানির গরু গুটি পক্সে আক্রান্ত থাকায় চামড়া নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়াও সঠিকভাবে মাংস ছাড়াতে না পারা, সময়মতো লবণ না দেয়া আর অতিরিক্ত গরমের কারণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আলম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক হাজার চামড়া কিনেছে তার আড়ত। তবে সংরক্ষণ আর সঠিক সময়ে ট্যানারিতে পাঠানো নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গরম থেকে চামড়া বাঁচাতে চাইলে জবাই করার ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দেয়া প্রয়োজন। তা করতে না পারলে দ্রুত এনে তাদের কাছে বিক্রি করে দেয়ার পরামর্শ দেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

চামড়া জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে তারা বলেন, এটা নষ্ট হোক তা কারও জন্যই প্রত্যাশিত নয়। এ ছাড়া অনেক গরুর খামারে এখন মোটাতাজা করার জন্য গরুকে নানা ধরনের কেমিক্যাল মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়। এর ফলে চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা চলছে
চট্টগ্রামে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য আড়ৎদারদের
কোরবানির পশুর চামড়া ঢাকায় ৫৫-৬০ ও সারা দেশে ৫০-৫৫ টাকা
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চামড়া প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্ব দিতে হবে
ঈদ-পরবর্তী সাতদিন বাইরের চামড়া ঢাকায় ঢুকতে পারবে না

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
1 04 08 918 animals were sacrificed on Eid ul Azha this year

ঈদুল আজহায় এবার ১,০৪,০৮,৯১৮টি পশু কোরবানি হয়েছে

ঈদুল আজহায় এবার ১,০৪,০৮,৯১৮টি পশু কোরবানি হয়েছে হাটে তোলার জন্য রাজধানীতে আনা হচ্ছে কোরবানির পশু। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
এ বছর ঈদুল আজহায় সারাদেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। সে হিসাবে ২৫ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৯টি পশু উদ্বৃত্ত থেকে গেছে।

চলতি বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে মোট এক কোটি চার লাখ আট হাজার ৯১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর সারাদেশে কোরবানিকৃত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি। তার আগের বছর ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি। গত বছরের তুলনায় এবার তিন লাখ ৬৭ হাজার ১০৬টি গবাদিপশু বেশি কোরবানি হয়েছে।

এবার সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবার ঢাকা বিভাগে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮২, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৫২০, রাজশাহী বিভাগে ২৪ লাখ ২৬ হাজার ১১১, খুলনা বিভাগে ১০ লাখ ৮ হাজার ৮৫৫, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৮, সিলেট বিভাগে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৪২, রংপুর বিভাগে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৫১৭টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

কোরবানি হওয়া গবাদিপশুর মধ্যে ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫৯টি গরু, ১ লাখ ১২ হাজার ৯১৮টি মহিষ, ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৯টি ছাগল, ৪ লাখ ৭১ হাজার ১৪৯টি ভেড়া এবং ১ হাজার ২৭৩টি অন্যান্য পশু রয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫৪টি গরু, ৬ হাজার ৪৬৫টি মহিষ, ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭২টি ছাগল, ৮৯ হাজার ৯১টি ভেড়া ও অন্যান্য ৮০০টি পশু।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৭টি গরু, ৯১ হাজার ৮১০টি মহিষ, ৬ লাখ ৫২ হাজার ১৩০টি ছাগল, ৯৫ হাজার ৪৮৩টি ভেড়া ও অন্যান্য ৩৫০টি পশু কোরবানি হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৪৭২টি গরু, ৯ হাজার ৫৬৮টি মহিষ, ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৬টি ছাগল, ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৭টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু ৮টি।

এছাড়া খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৭টি গরু, ১ হাজার ৫০৬টি মহিষ, ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩৫টি ছাগল, ৫৭ হাজার ৫৫৯টি ভেড়া ও অন্যান্য ৮৮টি পশু; বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৮০ হাজার ৩৭৭টি গরু, ১ হাজার ১টি মহিষ, ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৩টি ছাগল ও ২০ হাজার ১৯০টি ভেড়া, অন্যান্য পশু ৭টি এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ১ হাজার ১৪৩টি গরু, ১ হাজার ৩৫৮টি মহিষ, ১ লাখ ৭৩ হাজার ২২৩টি ছাগল, ১৮ হাজার ১৪টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু ৪টি। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রংপুরে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯৪টি গরু, ৩০৪টি মহিষ, ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি ছাগল, ৬০ হাজার ২২৮টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু ১১টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮০৫টি গরু, ৯০৬টি মহিষ, ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৪টি ছাগল ও ১৮ হাজার ৭টি ভেড়া এবং অন্যান্য পশু ৫টি কোরবানি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এ বছর সারাদেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। সে হিসাবে ২৫ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৯টি পশু উদ্বৃত্ত থেকে গেছে।

আরও পড়ুন:
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
পবিত্র ঈদুল আজহা আজ
ডিএনসিসিতে ঈদের প্রধান জামাত মিরপুর গোলারটেক মাঠে
মাদারীপুরে ২৫ গ্রামে ঈদ উদযাপন
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে শব্দমুখর কামার পল্লী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The skins of sacrificial animals are being sold at Posta

পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা চলছে

পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা চলছে
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘চামড়া আসতে শুরু করেছে। আড়তের মালিকদের চামড়া কিনতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবেন তত ভালো।’

রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় চলছে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকেই রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্রাক-ভ্যানে করে চামড়া নিয়ে আসছেন লালবাগের পোস্তায়।

লালবাগের শায়েস্তা খান, রাজনারায়ণ ধর ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। রাতে পুরোদমে চামড়া বেচাকেনা শুরু হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়ার সংগ্রহ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন আড়ত-সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছর গরুর কাঁচা চামড়া প্রতি পিস সর্বোচ্চ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর তুলনামূলক ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকা পিস। এ ছাড়া খাসির কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় মাঝারি আকারের ২৫ বর্গফুটের লবণযুক্ত চামড়ার দাম হওয়ার কথা এক হাজার ৩৭৫ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এই হিসাব থেকে লবণ, মজুরি ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২৫০ টাকা বাদ দিলে ওই চামড়ার আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ১২৫ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা।

ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে চামড়ার দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, গত বছর যা ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ টাকা। এ ছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘চামড়া আসতে শুরু করেছে। আড়তের মালিকদের চামড়া কিনতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবেন তত ভালো।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে কোরবানি করতে গিয়ে আহত হয়ে ঢামেকে ১৫০

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Artdars aim to collect three and a half lakh hides in Chittagong

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য আড়ৎদারদের

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য আড়ৎদারদের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কেনা চামড়া আড়তে নিয়ে যাচ্ছেন। ফাইল ছবি
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদে প্রায় তিন লাখ ৪৫ হাজার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম আমরা। এবার সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট আছে আমাদের। এখন লবণ ক্রয়, লোকবল ও গুদাম ঠিক করাসহ সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।’

চট্টগ্রামে এবার কোরবানির ঈদে সাড়ে তিন লাখ গবাদি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন স্থানীয় আড়ৎদাররা।

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে স্থানীয়ভাবে এক থেকে দুই সপ্তাহ সংরক্ষণ করারও প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। সূত্র: ইউএনবি

বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে সোমবার। রেওয়াজ অনুযায়ী পরের দুদিনও কিছু পশু কোরবানি করা হবে। মৌসুমি ক্রেতারা ওই সময় পাড়া-মহল্লা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করবেন আড়তে। আড়ৎ সেই চামড়া কিছুটা প্রক্রিয়াজাত করে ট্যানারিগুলোর কাছে বিক্রি করবে।

কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ কেনা, চামড়াজাত করার জন্য গুদাম ভাড়া এবং শ্রমিক ঠিক করে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে কাঁচা চামড়া আড়ৎদার সমিতি।

প্রতিবার বর্গফুট হিসেবে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হলেও এবার পিস হিসেবে আলাদা দাম প্রকাশ করায় মৌসুমি-ফড়িয়া ও আড়ৎদারদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা করছেন ট্যানারি মালিকরা।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান রাতারাতি চামড়া ঢাকায় না নেয়ারও অনুরোধ করেছেন আড়ৎদারদের।

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩ টাকা বেড়েছে।

ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনতে হবে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়; গত বছর যা ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম হবে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, গতবছর যা ৪৭ থেকে ৫২ টাকা ছিল।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আতুরার ডিপোর আড়ৎপাড়া থেকে প্রতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লবণজাত চামড়া যায় ঢাকার ট্যানারিগুলোতে।

এ বছরও একই পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন আড়ৎদাররা। কিন্তু প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা বুঝে পাননি আড়ৎদাররা। গেলবারের চেয়ে সরকার নির্ধারিত বাড়তি দামে চামড়া কেনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আড়ৎদার সমিতি।

কয়েক বছর আগেও ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দেড়শ’ আড়ৎদার চামড়া সংগ্রহ করতেন চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো আড়ৎপাড়া থেকে। এখন এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জনে।

বকেয়া টাকা বুঝে না পাওয়ার পাশাপাশি লবণ, লেবার ও পরিবহন খরচ যোগাড় করতে না পেরে ব্যবসা ছেড়েছেন অনেকে।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, বর্গফুট হিসেবে চামড়ার দাম এক পিস হিসেবে ভিন্ন। লবণযুক্ত, লবণ ছাড়া, ঢাকার ভেতরে ও ঢাকার বাইরে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এতসব জটিল হিসেব-নিকেশ না বোঝায় মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া কিংবা আড়ৎদারদের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ার শঙ্কা আছে এবার।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদে প্রায় তিন লাখ ৪৫ হাজার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম আমরা। এর মধ্যে আড়াই লাখের বেশি ছিল গরুর চামড়া।

‘এবার গরু, ছাগল, মহিষ মিলে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট আছে আমাদের। এখন আমাদের লবণ ক্রয়, লোকবল ঠিক করা, গুদাম ঠিক করাসহ সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর গরমের তীব্রতা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি, যা চামড়া সংগ্রহের জন্য অনূকূল নয়। চামড়া রেখে দিলে খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ থাকবে চামড়া সংগ্রহ করার পর যাতে দ্রুত আড়তে নিয়ে আসে অথবা লবণ দিয়ে স্থানীয়ভাবে মজুদ করে রাখে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘কোরবানির চামড়া স্থানীয়ভাবে ৭ থেকে ১০ দিন সংরক্ষণ করতে হবে। চামড়া যেন বর্ডার ক্রস না করে সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সংরক্ষণ করতে গিয়ে চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

‘চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কোরবানির পশুর চামড়া ঢাকায় ৫৫-৬০ ও সারা দেশে ৫০-৫৫ টাকা
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চামড়া প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্ব দিতে হবে
ঈদ-পরবর্তী সাতদিন বাইরের চামড়া ঢাকায় ঢুকতে পারবে না

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
At the last minute the animal market of the capital has gathered satisfied buyers

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা কোরবানির জন্য বিক্রি হয়ে যাওয়া গরুটিকে শেষবারের জন্য আদর করে দিচ্ছেন এক বিক্রেতা। রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি হাট থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট থাকলেও এখন আর ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ঘুরেফিরে দর-দামে মিলে গেলেই নিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি।

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে স্থায়ী দুটিসহ মোট ২০টি পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। পশুর হাটগুলোতে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী দুই সিটিতে পশুর হাট বসেছে। চলবে ১৭ জুন অর্থাৎ ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত মোট ৫ দিন। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক হাট বসলেও হাটগুলোতে মূলত কয়েক দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করে পশুর পিকআপ ও ট্রাক। খবর বাসস

ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট থাকলেও এখন আর ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ঘুরেফিরে দর-দামে মিলে গেলেই নিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি।

রোববার রাত পোহালেই পরের দিন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীজুড়ে মানুষ ও কোরবানির পশুতে একাকার। উত্তরার দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গায় বসেছে বড় দুটি পশুর হাট। এই পশুর হাটগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া। শুক্রবার পর্যন্ত পশুর দাম একটু কম থাকলেও আজ দাম কিছুটা চড়া। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মতে দাম এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবার উত্তরার গরুর হাট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটভর্তি বিভিন্ন জাতের দেশীয় ছোট, মাঝারি ও বড় জাতের অসংখ্য গরু উঠেছে, হাটে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে পশুর হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই স্থানীয়ভাবে খামারে লালন-পালন করা দেশি গরুই পছন্দ করছেন। অনেক ক্রেতা মনে করছেন শেষ দিনে দাম কমে যাবে। তখন কোরবানির পশু তারা সস্তায় কিনবেন। তবে বেশির ভাগ ক্রেতাই আজকের মধ্যেই পশু কিনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু নিয়ে উত্তরার হাটে এসেছেন মোস্তফা মাতাব্বর, মো. রাসেল ও রফিক নামে তিন গরু ব্যবসায়ী। তারা জানান, এ বছর পশুর হাটে ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে। হাটে যেসব ক্রেতা আসছেন তারা দেশীয় জাতের গরু এবং স্বাভাবিক খাবার দিয়ে খামারে লালন-পালন করা গরুই বেশি পছন্দ করছেন। উত্তরার হাটে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হাটে এলেও দর-দাম করেই তাদের পছন্দের গরু কিংবা ছাগল কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বাজারে বড় গরুরও কমতি নেই। তবে ছোট ও মাঝারি জাতের গরুর চাহিদাই বেশি।

হাটে পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসা সালাম বেপারী বলেন, পরিবহনে করে গরুর নিয়ে আসা, হাটে তোলা, খাওয়ানো ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা- এই পুরো সময়টাজুড়ে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। এ ছাড়া সব সময় গরুর দড়ি ধরে থাকা, গরুকে সামলানো এবং গরুর গোবর তোলাসহ নানান কারণে হাতও পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম শিশির হাটে এসেছেন গরু কিনতে। তিনি বলেন, ‘যতটুক ঘুরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে এবার গরুর দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু কমই আছে।’

গরুর পাশাপাশি হাটে প্রচুর ছাগল, ভেড়াও উঠেছে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে কোরবানির একটি ছাগল ক্রয় করা সম্ভব। বগুড়ার নবাব, লাট বাহাদুর, কালো মানিক ও লাল বাদশা নামে ৪টি বড় জাতের বিশাল গরু উত্তরার হাটে আনা হয়েছে। এগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ১২-১৫ লাখ টাকা।

উত্তরার শ্রমিক নেতা রুবেল জানান, ‘গতকাল রাতে আমার বন্ধু উত্তরার গরুর হাট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি বেশ বড় আকৃতির গরু কিনেছেন। আমার কাছে মনে হলো হাটে হঠাৎ গরুর দাম কমে গেছে। এতে আমি বেশ খুশি এ কারণে যে, এ বছর অনেকেই তার সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিতে পারবেন।’

রাজধানীর গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন শুধু ছোট সাইজের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া বাজারে প্রচুর পরিমাণ ছাগলও উঠেছে। বেচাকেনাও বেশ জমে উঠেছে। ছোট খাসির দাম ১০-১৫ হাজার টাকা। মাঝারি খাসি ২০-২৫ হাজার এবং বড় জাতের খাসি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

গাবতলী পশুর হাটে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা উট তোলা হয়েছে। উট দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও ইউটিউবাররা। মো. মাহফুজুর রহমান অপু দুটি উট এক মাস আগেই কিনেছেন। এরপর সড়কপথে উট দুটি বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উটের মালিক মো. মাহফুজুর রহমান অপু বলেন, ‘প্রতি উটে ১৪-১৫ মণ মাংস হবে। আমার পরিবার উটের ব্যবসার সঙ্গে ২০-৩০ বছর ধরে জড়িত। আমার বাবাও এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিচর্যা হিসেবে ঘাস, কুড়া ও ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে উট দুটিকে। রাজস্থান থেকে দুটি উট নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কোরবানির সময় বিক্রি করা। আমরা দুটি উটের দাম চাচ্ছি ৬০ লাখ টাকা। তবে কিছু কমে হলেও বিক্রি করব।’

উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর বৃন্দাবন পশুর হাটের ইজারাদার মো. কফিল উদ্দিন মেম্বার বলেন, ‘হাটে এবার দেশি গরুর প্রাধান্যই বেশি। হাটে গরুতে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রচুর পরিমাণ গরু উঠেছে। তবে পশুর হাটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আশা করছি, আজ রোববার আবহাওয়া ভালো থাকলে বিকেল থেকে হাটে পশুর বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে বাড়বে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু আসা অব্যাহত রয়েছে। এই হাটে শতকরা ৫ টাকা হারে হাসিল নেওয়া হচ্ছে। হাটে নিরাপত্তার কোনো অভাব নেই।’

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ৯টি হাট এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটসহ ১১টি হাট বসেছে। তবে এ বছর আদালতের নির্দেশনার কারণে আফতাবনগরে হাট বসেনি।

ঢাকা উত্তরে অস্থায়ী ৮টি হাটের মধ্যে রয়েছে- উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ভাটারার সুতিভোলা খালের কাছের খোলা জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে রানাভোলা স্লুইচগেট পর্যন্ত খালি জায়গা ও দক্ষিণখানের জামুন এলাকার খালি জায়গা।

ঢাকা দক্ষিণে অস্থায়ী ১০টি হাটের মধ্যে রয়েছে- খিলগাঁও রেলগেট মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগে রহমতগঞ্জ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক
পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত
পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Farmers of Sherpur are in trouble with big cows

বড় গরু নিয়ে বিপাকে শেরপুরের খামারিরা

বড় গরু নিয়ে বিপাকে শেরপুরের খামারিরা শেরপুরের ২৮টি পশুর হাটে বিপুল সংখ্যাক পশু উঠছে। ছবি: নিউজবাংলা
শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বড় গরুগুলো বিক্রি করতে আমরাও খামারিদের সহযোগিতা করছি। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।’

কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে শেরপুরের খামারি ও মালিকরা। জেলার হাটগুলোতে বড় গরুর কিনতে চাইছে না প্রায় কেউই।

জেলায় কোরবানির পশুর হাট জমে ওঠেছে। জেলার ২৮টি পশুর হাটে বিপুল সংখ্যাক পশু উঠছে, কিন্তু বেচাকেনা হচ্ছে কম। চাহিদামতো দামও পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। পশুর দাম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

আর সুলতান, রুজু, রাজা বাহাদুর, কালু লালুর মতো বাহারি নামের পশুসহ বড় বড় গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে না। জেলার সবচেয়ে বড় গরু সুলতানকে নিয়ে গেছে ঢাকায়। রজুসহ হাজারো বৃহৎ আকারে গরু বাজারে তোলা হলেও বিক্রি হচ্ছে না। বাজেট কম থাকায় ক্রেতারা বড় ষাড় গরু কিনছে। সবার নজর ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে। অনেক খামারি শেষ পর্যন্ত বড় গরু বিক্রি করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আছেন শঙ্কায়। জেলায় গত বছরও ৩২ হাজার কোরবানির পশু অবিক্রিত ছিল।

জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোটবড় প্রায় ১৩ হাজার ৭৩১ জন খামারি রয়েছেন। এ ছাড়াও অনেক পরিবার ব্যক্তিগতভাবে গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের সঙ্গে জড়িত। এবার কোরবানির জন্য শেরপুর জেলায় ৫১ হাজার ২২৫টি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০২টি পশু, যা চাহিদার তুলনায় ৩২ হাজারের বেশি।

পশুগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৪০ হাজার ২৭০টি ষাঁড়, ২ হাজার ৮৬৫টি বলদ, ১৩ হাজার ৭৯৪টি গাভি, ১ হাজার ৩৮৬টি মহিষ, ২২ হাজার ৩৯টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৪৪৮টি ভেড়া। প্রস্তুত করা এসব পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি হওয়ার কথা।

নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের বালুরঘাটার আকবর আলী তিন বছর ধরে লালনপালন করেছেন সুলতান নামের ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড়। ৩৩ মন ওজনের ষাঁড়টির দাম হাঁকাচ্ছিলেন ১৫ লাখ টাকা, কিন্তু শেরপুরের হাটে কেউ দাম না করায় নিয়ে গেছেন ঢাকায়।

আকবর আলী বলেন, ‘এত কষ্ট করে গরু বড় করলাম। এখন এলাকার হাটে বিক্রি করতে পারতাছি না। তাই ঢাকায় নিয়ে বিক্রির করার জন্য নিয়ে আসছি। গরুটার পেছনে যা খরচ হয়েছে, তা দিয়ে হলেও বিক্রি করে দেব; বড় গরু যতদিন রাখব, তত খরচ বাড়বে।’

শেরপুর গরুর হাটিতে শেরপুর পৌর এলাকার কান্দা পাড়ার কলেজছাত্র তাহমিদ ইশরাদ অলিদ বলেন, ‘আমি প্রতি বছর কোরবানির জন্য গরু পালন করি। এবারও রুজু, কালু ও লালু নামের তিনটি গরু বড় করেছি। এর মধ্যে রুজু সবার বড়। দাম চাচ্ছি সাত লাখ টাকা, কিন্তু কেউ দামই করছে না। এ অবস্থা হলে তো গরু পালন করা যাবে না।’

মাঝারি আকারের গরুর মালিক খলিল বলেন, ‘আমি মাঝারি আকারের গরু তুলেছিলাম, শুরুতেই বিক্রি করতে পেরেছি। লাভ একটু কম হয়েছে। যা বিক্রি করতে চেয়েছিলাম তা বিক্রি না করতে পারলেও বিক্রি হয়েছে- এটাই অনেক।’

আরেক গরুর মালিক খাইরুল বলেন, ‘গরুর দাম এবার একটু কম। তবে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা আছে। আমার গরুটা ৯৫ হাজার দিয়া বিক্রি করে দিছি, কিন্তু দেখতাছি বড় গরুর বাজার একদম নাই।’

ক্রেতা চান মিয়া বলেন, ‘ব্যবসা-বানিজ্য ভালো না। তাই এবার এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে একটা গরু কিনব।’

ক্র‍েতা সোহেল মিয়া বলেন, ‘মানুষের কাছে টাকাপয়সা কম থাকায় ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি সবাই ঝুঁকেছে। আমরা তিনজনে মিলে ১ লাখের মধ্যে একটা কিনলাম।’

শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শেরপুরের প্রতিটি হাটে আমাদের ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। হাটে যেন কেউ প্রতারিত না হয় এবং অসুস্থ গরুর কেনাবেচা না হয়, এটা আমরা দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘এবার বড় গরুর বাজার একটু কম। তবে ছোট ও মাঝারি গরুর বাজার রয়েছে। প্রতিটি হাটে প্রচুর পরিমাণে গরু উঠছে। এতে সহজেই গরু কিনতে পেরে ক্র‍েতারা অনেক খুশি। আবার খামারিরা ভালো গরুর দাম পাচ্ছেন।

‘বড় গরুগুলো বিক্রি করতে আমরাও খামারিদের সহযোগিতা করছি। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব
এক হাটের পশু অন্য হাটে নেয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কোরবানির হাট, বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ঢাদসিকের
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Syndicate not tolerated with skins of sacrificial animals RAB

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর প্রতিটি মহল্লা ও রাস্তাঘাটে আমাদের টহল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম আছে। কোরবানির পশু নিয়ে অথবা পশু কিনতে হাটে যাওয়ার সময় রাস্তায় যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি।’

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সর্বক্ষণ হাটে উপস্থিত রয়েছেন। কোনো অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত কিংবা মোটা-তাজাকরণের ওষুধ প্রয়োগ করা কোনো পশু যেন কেউ বিক্রি করতে না পারে। এ ধরনের কার্যক্রম দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিসম্পদ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

গাবতলীসহ প্রতিটি হাটে র‌্যাব ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘র‍্যাব ব্যাটেলিয়নে কন্ট্রোল রুম পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা ভোগান্তি বা সমস্যায় পড়লে আমাদের কন্ট্রোল রুমে অথবা র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা আপনাদের সব ধরনের সহায়তা করব।’

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেটের বিষয়ে সতর্ক করে আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের আমরা সতর্ক করতে চাই। পশুর চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট বরদাশত করা হবে না। চামড়ার ব্যবসা নিয়ে যেন কোনো এলাকার মধ্যে গোলমালের সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর প্রতিটি মহল্লা ও রাস্তাঘাটে আমাদের টহল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম আছে। কোরবানির পশু নিয়ে অথবা পশু কিনতে হাটে যাওয়ার সময় রাস্তায় যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। তবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

অনেক হাট আবাসিক এলাকার মধ্যে হয়- এ বিষয় জানতে চাইলে কমান্ডার আরাফাত বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানাব, আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই বিষয়টি দেখবেন।’

এক হাটের গরু অন্য হাটে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন এবং কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান। কেউ যদি এরকম আইনবিরোধী কাজ করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে, কেউ এক হাটের গরু অন্য হাটে নিতে পারবে না। এ ব্যাপারে গরু বিক্রেতারা অভিযোগ জানালে আমরা অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেব।’

আরও পড়ুন:
কোরবানির হাট, বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ঢাদসিকের
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট
গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারিরা

মন্তব্য

p
উপরে