× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
The high price of daily products is increasing the sweat of the consumer Dozen 160 eggs
google_news print-icon
বাজার দর

নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যে ভোক্তার ঘাম বাড়ছে, ডিমের ডজন ১৬০

নিত্যপণ্যের-উচ্চ-মূল্যে-ভোক্তার-ঘাম-বাড়ছে-ডিমের-ডজন-১৬০
বেসরকারি চাকুরে আবুল হোসেন বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৮৪ থেকে ১১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ভোক্তদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি জ্বালানির দামও বেড়েছে, বেড়েছে সুদ হার। এসবের প্রভাব পড়েছে ভোক্তা বাজারে।

উচ্চ সুদ হারের মধ্যে দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতির প্রভাবে হিমশিম খাচ্ছেন রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা।

গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বেড়েছে মাছ, ডিম, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে ডিমের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা। ডজনে দাম বেড়েছে ২৫ টাকা।

শাকসবজি, মাংস, মুরগি ও মাছের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও চড়া দাম রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার একাধিক ক্রেতা।

ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, প্রায় সব ধরনের শাকসবজি, মাছ, মুরগি, মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে।

একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৮৪ থেকে ১১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ভোক্তদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি জ্বালানির দামও বেড়েছে, বেড়েছে সুদ হার। এসবের প্রভাব পড়েছে ভোক্তা বাজারে।

আবুল হোসেনের মতো একই কথা জানালেন আরও অনেকে।

গত ১০ দিন ধরে ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। শুক্রবার রাজধানীতে প্রতি ডজন ডিম ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সে হিসাবে গত দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ২৫ টাকা।

কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, মালিবাগসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

ব্রয়লার মুরগি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সোনালি মুরগির দাম গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আকার ও মান ভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩৫ টাকায়। সোনালি মুরগি আকার ও মান ভেদে কেজিপ্রতি ৩৪৫ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি কেজি কক মুরগি ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ও দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৬৭০ থেকে ৭৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, মুরগির খাবার ও ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

শুক্রবার মান ভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, যা সপ্তাহের অন্যান্য দিনের চেয়ে কেজিতে ৩০ টাকা বেশি।

মান ভেদে খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকায়। সে হিসাবে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার কারওয়ান বাজার মাছের বাজারে ৪৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়।

রুই ও কার্প জাতীয় মাছ কেজি হিসেবে ও মান অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নদীর ছোট মাছসহ অন্যান্য মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় সবজির দাম এখনও চড়াই রয়েছে। অন্যদিকে দাম বাড়ার জন্য মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার প্রতি কেজি বেগুন, ঢেঁড়স, সজনে, শিম, করলাসহ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে মৌসুম শেষ হওয়ায় বেড়েছে টমেটোর দাম। ভালো মানের টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।

অন্যান্য সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাউ, চালকুমড়া ও ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, রসুন ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা ও আদা ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাল, গম, আটা, দুধ, সয়াবিন, সুগন্ধি চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেহেরপুরে গরুর মাংস ৭৩০, পেঁয়াজের সেঞ্চুরি
পেঁয়াজ: রোববার কোন জেলায় কত ছিল দাম
দেশজুড়ে পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য চলছে
আলু পেঁয়াজ ডিমের দাম কঠোরভাবে তদারকি হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাজারে আগুন, ডিম-সবজি-মাছের দাম বাড়ছেই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Artdars aim to collect three and a half lakh hides in Chittagong

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য আড়ৎদারদের

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য আড়ৎদারদের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কেনা চামড়া আড়তে নিয়ে যাচ্ছেন। ফাইল ছবি
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদে প্রায় তিন লাখ ৪৫ হাজার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম আমরা। এবার সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট আছে আমাদের। এখন লবণ ক্রয়, লোকবল ও গুদাম ঠিক করাসহ সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।’

চট্টগ্রামে এবার কোরবানির ঈদে সাড়ে তিন লাখ গবাদি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন স্থানীয় আড়ৎদাররা।

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে স্থানীয়ভাবে এক থেকে দুই সপ্তাহ সংরক্ষণ করারও প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। সূত্র: ইউএনবি

বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে সোমবার। রেওয়াজ অনুযায়ী পরের দুদিনও কিছু পশু কোরবানি করা হবে। মৌসুমি ক্রেতারা ওই সময় পাড়া-মহল্লা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করবেন আড়তে। আড়ৎ সেই চামড়া কিছুটা প্রক্রিয়াজাত করে ট্যানারিগুলোর কাছে বিক্রি করবে।

কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ কেনা, চামড়াজাত করার জন্য গুদাম ভাড়া এবং শ্রমিক ঠিক করে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে কাঁচা চামড়া আড়ৎদার সমিতি।

প্রতিবার বর্গফুট হিসেবে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হলেও এবার পিস হিসেবে আলাদা দাম প্রকাশ করায় মৌসুমি-ফড়িয়া ও আড়ৎদারদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা করছেন ট্যানারি মালিকরা।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান রাতারাতি চামড়া ঢাকায় না নেয়ারও অনুরোধ করেছেন আড়ৎদারদের।

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩ টাকা বেড়েছে।

ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনতে হবে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়; গত বছর যা ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম হবে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, গতবছর যা ৪৭ থেকে ৫২ টাকা ছিল।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আতুরার ডিপোর আড়ৎপাড়া থেকে প্রতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লবণজাত চামড়া যায় ঢাকার ট্যানারিগুলোতে।

এ বছরও একই পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন আড়ৎদাররা। কিন্তু প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা বুঝে পাননি আড়ৎদাররা। গেলবারের চেয়ে সরকার নির্ধারিত বাড়তি দামে চামড়া কেনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আড়ৎদার সমিতি।

কয়েক বছর আগেও ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দেড়শ’ আড়ৎদার চামড়া সংগ্রহ করতেন চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো আড়ৎপাড়া থেকে। এখন এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জনে।

বকেয়া টাকা বুঝে না পাওয়ার পাশাপাশি লবণ, লেবার ও পরিবহন খরচ যোগাড় করতে না পেরে ব্যবসা ছেড়েছেন অনেকে।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, বর্গফুট হিসেবে চামড়ার দাম এক পিস হিসেবে ভিন্ন। লবণযুক্ত, লবণ ছাড়া, ঢাকার ভেতরে ও ঢাকার বাইরে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এতসব জটিল হিসেব-নিকেশ না বোঝায় মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া কিংবা আড়ৎদারদের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ার শঙ্কা আছে এবার।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদে প্রায় তিন লাখ ৪৫ হাজার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম আমরা। এর মধ্যে আড়াই লাখের বেশি ছিল গরুর চামড়া।

‘এবার গরু, ছাগল, মহিষ মিলে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট আছে আমাদের। এখন আমাদের লবণ ক্রয়, লোকবল ঠিক করা, গুদাম ঠিক করাসহ সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর গরমের তীব্রতা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি, যা চামড়া সংগ্রহের জন্য অনূকূল নয়। চামড়া রেখে দিলে খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ থাকবে চামড়া সংগ্রহ করার পর যাতে দ্রুত আড়তে নিয়ে আসে অথবা লবণ দিয়ে স্থানীয়ভাবে মজুদ করে রাখে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘কোরবানির চামড়া স্থানীয়ভাবে ৭ থেকে ১০ দিন সংরক্ষণ করতে হবে। চামড়া যেন বর্ডার ক্রস না করে সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সংরক্ষণ করতে গিয়ে চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

‘চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কোরবানির পশুর চামড়া ঢাকায় ৫৫-৬০ ও সারা দেশে ৫০-৫৫ টাকা
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চামড়া প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্ব দিতে হবে
ঈদ-পরবর্তী সাতদিন বাইরের চামড়া ঢাকায় ঢুকতে পারবে না

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
At the last minute the animal market of the capital has gathered satisfied buyers

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা কোরবানির জন্য বিক্রি হয়ে যাওয়া গরুটিকে শেষবারের জন্য আদর করে দিচ্ছেন এক বিক্রেতা। রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি হাট থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট থাকলেও এখন আর ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ঘুরেফিরে দর-দামে মিলে গেলেই নিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি।

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে স্থায়ী দুটিসহ মোট ২০টি পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। পশুর হাটগুলোতে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী দুই সিটিতে পশুর হাট বসেছে। চলবে ১৭ জুন অর্থাৎ ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত মোট ৫ দিন। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক হাট বসলেও হাটগুলোতে মূলত কয়েক দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করে পশুর পিকআপ ও ট্রাক। খবর বাসস

ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট থাকলেও এখন আর ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ঘুরেফিরে দর-দামে মিলে গেলেই নিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি।

রোববার রাত পোহালেই পরের দিন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীজুড়ে মানুষ ও কোরবানির পশুতে একাকার। উত্তরার দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গায় বসেছে বড় দুটি পশুর হাট। এই পশুর হাটগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া। শুক্রবার পর্যন্ত পশুর দাম একটু কম থাকলেও আজ দাম কিছুটা চড়া। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মতে দাম এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবার উত্তরার গরুর হাট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটভর্তি বিভিন্ন জাতের দেশীয় ছোট, মাঝারি ও বড় জাতের অসংখ্য গরু উঠেছে, হাটে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে পশুর হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই স্থানীয়ভাবে খামারে লালন-পালন করা দেশি গরুই পছন্দ করছেন। অনেক ক্রেতা মনে করছেন শেষ দিনে দাম কমে যাবে। তখন কোরবানির পশু তারা সস্তায় কিনবেন। তবে বেশির ভাগ ক্রেতাই আজকের মধ্যেই পশু কিনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু নিয়ে উত্তরার হাটে এসেছেন মোস্তফা মাতাব্বর, মো. রাসেল ও রফিক নামে তিন গরু ব্যবসায়ী। তারা জানান, এ বছর পশুর হাটে ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে। হাটে যেসব ক্রেতা আসছেন তারা দেশীয় জাতের গরু এবং স্বাভাবিক খাবার দিয়ে খামারে লালন-পালন করা গরুই বেশি পছন্দ করছেন। উত্তরার হাটে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হাটে এলেও দর-দাম করেই তাদের পছন্দের গরু কিংবা ছাগল কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বাজারে বড় গরুরও কমতি নেই। তবে ছোট ও মাঝারি জাতের গরুর চাহিদাই বেশি।

হাটে পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসা সালাম বেপারী বলেন, পরিবহনে করে গরুর নিয়ে আসা, হাটে তোলা, খাওয়ানো ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা- এই পুরো সময়টাজুড়ে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। এ ছাড়া সব সময় গরুর দড়ি ধরে থাকা, গরুকে সামলানো এবং গরুর গোবর তোলাসহ নানান কারণে হাতও পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম শিশির হাটে এসেছেন গরু কিনতে। তিনি বলেন, ‘যতটুক ঘুরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে এবার গরুর দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু কমই আছে।’

গরুর পাশাপাশি হাটে প্রচুর ছাগল, ভেড়াও উঠেছে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে কোরবানির একটি ছাগল ক্রয় করা সম্ভব। বগুড়ার নবাব, লাট বাহাদুর, কালো মানিক ও লাল বাদশা নামে ৪টি বড় জাতের বিশাল গরু উত্তরার হাটে আনা হয়েছে। এগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ১২-১৫ লাখ টাকা।

উত্তরার শ্রমিক নেতা রুবেল জানান, ‘গতকাল রাতে আমার বন্ধু উত্তরার গরুর হাট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি বেশ বড় আকৃতির গরু কিনেছেন। আমার কাছে মনে হলো হাটে হঠাৎ গরুর দাম কমে গেছে। এতে আমি বেশ খুশি এ কারণে যে, এ বছর অনেকেই তার সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিতে পারবেন।’

রাজধানীর গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন শুধু ছোট সাইজের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া বাজারে প্রচুর পরিমাণ ছাগলও উঠেছে। বেচাকেনাও বেশ জমে উঠেছে। ছোট খাসির দাম ১০-১৫ হাজার টাকা। মাঝারি খাসি ২০-২৫ হাজার এবং বড় জাতের খাসি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

গাবতলী পশুর হাটে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা উট তোলা হয়েছে। উট দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও ইউটিউবাররা। মো. মাহফুজুর রহমান অপু দুটি উট এক মাস আগেই কিনেছেন। এরপর সড়কপথে উট দুটি বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উটের মালিক মো. মাহফুজুর রহমান অপু বলেন, ‘প্রতি উটে ১৪-১৫ মণ মাংস হবে। আমার পরিবার উটের ব্যবসার সঙ্গে ২০-৩০ বছর ধরে জড়িত। আমার বাবাও এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিচর্যা হিসেবে ঘাস, কুড়া ও ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে উট দুটিকে। রাজস্থান থেকে দুটি উট নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কোরবানির সময় বিক্রি করা। আমরা দুটি উটের দাম চাচ্ছি ৬০ লাখ টাকা। তবে কিছু কমে হলেও বিক্রি করব।’

উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর বৃন্দাবন পশুর হাটের ইজারাদার মো. কফিল উদ্দিন মেম্বার বলেন, ‘হাটে এবার দেশি গরুর প্রাধান্যই বেশি। হাটে গরুতে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রচুর পরিমাণ গরু উঠেছে। তবে পশুর হাটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আশা করছি, আজ রোববার আবহাওয়া ভালো থাকলে বিকেল থেকে হাটে পশুর বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে বাড়বে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু আসা অব্যাহত রয়েছে। এই হাটে শতকরা ৫ টাকা হারে হাসিল নেওয়া হচ্ছে। হাটে নিরাপত্তার কোনো অভাব নেই।’

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ৯টি হাট এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটসহ ১১টি হাট বসেছে। তবে এ বছর আদালতের নির্দেশনার কারণে আফতাবনগরে হাট বসেনি।

ঢাকা উত্তরে অস্থায়ী ৮টি হাটের মধ্যে রয়েছে- উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ভাটারার সুতিভোলা খালের কাছের খোলা জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে রানাভোলা স্লুইচগেট পর্যন্ত খালি জায়গা ও দক্ষিণখানের জামুন এলাকার খালি জায়গা।

ঢাকা দক্ষিণে অস্থায়ী ১০টি হাটের মধ্যে রয়েছে- খিলগাঁও রেলগেট মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগে রহমতগঞ্জ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক
পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত
পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Farmers of Sherpur are in trouble with big cows

বড় গরু নিয়ে বিপাকে শেরপুরের খামারিরা

বড় গরু নিয়ে বিপাকে শেরপুরের খামারিরা শেরপুরের ২৮টি পশুর হাটে বিপুল সংখ্যাক পশু উঠছে। ছবি: নিউজবাংলা
শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বড় গরুগুলো বিক্রি করতে আমরাও খামারিদের সহযোগিতা করছি। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।’

কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে শেরপুরের খামারি ও মালিকরা। জেলার হাটগুলোতে বড় গরুর কিনতে চাইছে না প্রায় কেউই।

জেলায় কোরবানির পশুর হাট জমে ওঠেছে। জেলার ২৮টি পশুর হাটে বিপুল সংখ্যাক পশু উঠছে, কিন্তু বেচাকেনা হচ্ছে কম। চাহিদামতো দামও পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। পশুর দাম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

আর সুলতান, রুজু, রাজা বাহাদুর, কালু লালুর মতো বাহারি নামের পশুসহ বড় বড় গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে না। জেলার সবচেয়ে বড় গরু সুলতানকে নিয়ে গেছে ঢাকায়। রজুসহ হাজারো বৃহৎ আকারে গরু বাজারে তোলা হলেও বিক্রি হচ্ছে না। বাজেট কম থাকায় ক্রেতারা বড় ষাড় গরু কিনছে। সবার নজর ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে। অনেক খামারি শেষ পর্যন্ত বড় গরু বিক্রি করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আছেন শঙ্কায়। জেলায় গত বছরও ৩২ হাজার কোরবানির পশু অবিক্রিত ছিল।

জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোটবড় প্রায় ১৩ হাজার ৭৩১ জন খামারি রয়েছেন। এ ছাড়াও অনেক পরিবার ব্যক্তিগতভাবে গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের সঙ্গে জড়িত। এবার কোরবানির জন্য শেরপুর জেলায় ৫১ হাজার ২২৫টি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০২টি পশু, যা চাহিদার তুলনায় ৩২ হাজারের বেশি।

পশুগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৪০ হাজার ২৭০টি ষাঁড়, ২ হাজার ৮৬৫টি বলদ, ১৩ হাজার ৭৯৪টি গাভি, ১ হাজার ৩৮৬টি মহিষ, ২২ হাজার ৩৯টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৪৪৮টি ভেড়া। প্রস্তুত করা এসব পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি হওয়ার কথা।

নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের বালুরঘাটার আকবর আলী তিন বছর ধরে লালনপালন করেছেন সুলতান নামের ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড়। ৩৩ মন ওজনের ষাঁড়টির দাম হাঁকাচ্ছিলেন ১৫ লাখ টাকা, কিন্তু শেরপুরের হাটে কেউ দাম না করায় নিয়ে গেছেন ঢাকায়।

আকবর আলী বলেন, ‘এত কষ্ট করে গরু বড় করলাম। এখন এলাকার হাটে বিক্রি করতে পারতাছি না। তাই ঢাকায় নিয়ে বিক্রির করার জন্য নিয়ে আসছি। গরুটার পেছনে যা খরচ হয়েছে, তা দিয়ে হলেও বিক্রি করে দেব; বড় গরু যতদিন রাখব, তত খরচ বাড়বে।’

শেরপুর গরুর হাটিতে শেরপুর পৌর এলাকার কান্দা পাড়ার কলেজছাত্র তাহমিদ ইশরাদ অলিদ বলেন, ‘আমি প্রতি বছর কোরবানির জন্য গরু পালন করি। এবারও রুজু, কালু ও লালু নামের তিনটি গরু বড় করেছি। এর মধ্যে রুজু সবার বড়। দাম চাচ্ছি সাত লাখ টাকা, কিন্তু কেউ দামই করছে না। এ অবস্থা হলে তো গরু পালন করা যাবে না।’

মাঝারি আকারের গরুর মালিক খলিল বলেন, ‘আমি মাঝারি আকারের গরু তুলেছিলাম, শুরুতেই বিক্রি করতে পেরেছি। লাভ একটু কম হয়েছে। যা বিক্রি করতে চেয়েছিলাম তা বিক্রি না করতে পারলেও বিক্রি হয়েছে- এটাই অনেক।’

আরেক গরুর মালিক খাইরুল বলেন, ‘গরুর দাম এবার একটু কম। তবে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা আছে। আমার গরুটা ৯৫ হাজার দিয়া বিক্রি করে দিছি, কিন্তু দেখতাছি বড় গরুর বাজার একদম নাই।’

ক্রেতা চান মিয়া বলেন, ‘ব্যবসা-বানিজ্য ভালো না। তাই এবার এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে একটা গরু কিনব।’

ক্র‍েতা সোহেল মিয়া বলেন, ‘মানুষের কাছে টাকাপয়সা কম থাকায় ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি সবাই ঝুঁকেছে। আমরা তিনজনে মিলে ১ লাখের মধ্যে একটা কিনলাম।’

শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শেরপুরের প্রতিটি হাটে আমাদের ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। হাটে যেন কেউ প্রতারিত না হয় এবং অসুস্থ গরুর কেনাবেচা না হয়, এটা আমরা দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘এবার বড় গরুর বাজার একটু কম। তবে ছোট ও মাঝারি গরুর বাজার রয়েছে। প্রতিটি হাটে প্রচুর পরিমাণে গরু উঠছে। এতে সহজেই গরু কিনতে পেরে ক্র‍েতারা অনেক খুশি। আবার খামারিরা ভালো গরুর দাম পাচ্ছেন।

‘বড় গরুগুলো বিক্রি করতে আমরাও খামারিদের সহযোগিতা করছি। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব
এক হাটের পশু অন্য হাটে নেয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কোরবানির হাট, বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ঢাদসিকের
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Syndicate not tolerated with skins of sacrificial animals RAB

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর প্রতিটি মহল্লা ও রাস্তাঘাটে আমাদের টহল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম আছে। কোরবানির পশু নিয়ে অথবা পশু কিনতে হাটে যাওয়ার সময় রাস্তায় যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি।’

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সর্বক্ষণ হাটে উপস্থিত রয়েছেন। কোনো অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত কিংবা মোটা-তাজাকরণের ওষুধ প্রয়োগ করা কোনো পশু যেন কেউ বিক্রি করতে না পারে। এ ধরনের কার্যক্রম দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিসম্পদ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

গাবতলীসহ প্রতিটি হাটে র‌্যাব ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘র‍্যাব ব্যাটেলিয়নে কন্ট্রোল রুম পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা ভোগান্তি বা সমস্যায় পড়লে আমাদের কন্ট্রোল রুমে অথবা র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা আপনাদের সব ধরনের সহায়তা করব।’

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেটের বিষয়ে সতর্ক করে আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের আমরা সতর্ক করতে চাই। পশুর চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট বরদাশত করা হবে না। চামড়ার ব্যবসা নিয়ে যেন কোনো এলাকার মধ্যে গোলমালের সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর প্রতিটি মহল্লা ও রাস্তাঘাটে আমাদের টহল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম আছে। কোরবানির পশু নিয়ে অথবা পশু কিনতে হাটে যাওয়ার সময় রাস্তায় যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। তবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

অনেক হাট আবাসিক এলাকার মধ্যে হয়- এ বিষয় জানতে চাইলে কমান্ডার আরাফাত বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানাব, আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই বিষয়টি দেখবেন।’

এক হাটের গরু অন্য হাটে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন এবং কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান। কেউ যদি এরকম আইনবিরোধী কাজ করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে, কেউ এক হাটের গরু অন্য হাটে নিতে পারবে না। এ ব্যাপারে গরু বিক্রেতারা অভিযোগ জানালে আমরা অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেব।’

আরও পড়ুন:
কোরবানির হাট, বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ঢাদসিকের
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট
গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারিরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
One and a half million mobile handsets in one IMEI number

এক আইএমইআই নম্বরে দেড় লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট!

এক আইএমইআই নম্বরে দেড় লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট! বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সেমিনারে আমন্ত্রিরা। ছবি: সংগৃহীত
টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদী বলেন, ‘ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমাদের অস্তিত্ব কেবল একটি ডিভাইস। এটা নিজের পরিচিতি ও আবাস। অপারেটর ও ম্যানুফ্যাকচারের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক সমঝোতা হলে আমরা অনেক দামি সেটও কম দামে পেতে পারি। এ সমন্বয় না থাকায় দেশে গ্রে মার্কেট বাড়ছে।’

মোবাইল ফোনের পরিচয় বহন করে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টি তথা আইএমইআই নম্বর। একটি মোবাইল হ্যান্ডসেটে একটি আইএমইআই নম্বর এবং দুটি সিম সংযুক্ত হয়- এমন মোবাইলে দুটি আইএমইআই নম্বর থাকে। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে শুধু একটি আইএমইআই নম্বরের নিবন্ধন দিয়ে অন্তত দেড় লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে গ্রাহকের হাতে চলে গেছে এসব অবৈধ মোবাইল ফোন। এমন অভিযোগ করেছেন দেশের মোবাইল উৎপাদকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সেমিনারে মোবাইল ডেটাবেজের উপাত্ত তুলে ধরে এ তথ্য জানান টেলিকম অপারেটর রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম।

টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির আয়োজনে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় শাহেদ আলম বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পাঁচটি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়। এ ফোনগুলোর বিপরীতে একটি আইএমইআই নম্বরে রেজিস্ট্রেশন করা আছে ১ লাখ ৫০ হাজারের ওপরে হ্যান্ডসেট। দেড় লাখ হ্যান্ডসেটে আছে একটিমাত্র আইএমইআই নম্বর; সব কপি।

‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকর না হওয়া এবং গ্রে-মার্কেটের কারণে আমাদের জন্য একটি মোবাইল ডিভাইস লকিং গাইডলাইন দেয়া হয়েছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই গাইডলাইন কোনো কাজে আসছে না; কেননা এর শর্তগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সাংঘর্ষিক। সেটে থাকা দুটি সিম স্লটের মধ্যে একটি বন্ধ রেখে আরেকটা চালু রাখার ক্ষেত্রে এটা কাজ করছে না।’

এ তথ্য জেনে চমকে ওঠেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ‘কী বলেন! এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

এ সময় সেমিনারে উপস্থিত পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হারুন অর রশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

জবাবে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে যখন অভিযান করি, তখন দেখি আপনাদের মতো এমন অফিস বানিয়ে তারা ব্যবসা করছে এবং হ্যান্ডসেট বানাচ্ছে। এক অভিযানে ৭০০ মোবাইল জব্দ করি। চীনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এনে তারা এ মোবাইলগুলো বানাচ্ছে; দুই-তিন মাস চালানোর পর তা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু মোবাইল নয়, গাড়ির ক্ষেত্রেও এমনটা দেখেছি। এক নম্বর দিয়ে ২৯টা গাড়ি চলছে।’

সেমিনারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোর নতুন সংগঠন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ, সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল হক, এমটব মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এনইআইআর বাস্তবায়ন করে উজবেকিস্তানে ৭০০ শতাংশ রাজস্ব বেড়েছে। আজারবাইজানের ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডসেট এখন নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধন জটিলতার কারণে বাংলাদেশে এনইআইআর বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ মোবাইল অ্যাডাপশন ৪০ শতাংশ বাড়লে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয় ৪.৮ শতাংশ। ৬৭ শতাংশ মোবাইল ব্রডব্যান্ড অ্যাডাপশন হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১২ শতাংশ।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রবিন।

সংগঠনের সভাপতি রাশেদ মেহেদী বলেন, ‘ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমাদের অস্তিত্ব কেবল একটি ডিভাইস। এটা নিজের পরিচিতি ও আবাস। অপারেটর ও ম্যানুফ্যাকচারের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক সমঝোতা হলে আমরা অনেক দামি সেটও কম দামে পেতে পারি। এ সমন্বয় না থাকায় দেশে গ্রে মার্কেট বাড়ছে।’

সেমিনারে মোবাইল উৎপাদকরা দাবি করেন, লাগেজে আনা কর ফাঁকি দেয়া মোবাইল ফোন দেশের মার্কেটগুলোতে বাজারজাত বন্ধে সরকারের মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

তারা বলেন, এসব অবৈধ ফোন বাজারজাতকরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলো ব্যবস্থা না নিলে ফোন কারখানাগুলো থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হবেন হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা।

হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা জানান, হ্যান্ডসেট সংযোজনে বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ১৭টি প্রতিষ্ঠান। ১৬ হাজার কোটি টাকার হ্যান্ডসেটের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ লাগেজ-ব্যাগেজে আনা অবৈধ মোবাইল ফোনের দখলে। এতে বছরে ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। টিকতে না পেরে স্মার্ট ও ফিচারফোন মিলিয়ে ৪০ লাখ উৎপাদন সক্ষমতার ৩০ শতাংশ অব্যবহৃত থাকছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান জোরদারের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেটকারের ভেতর ২৯৭টি স্মার্টফোন
দেশের বাজারে এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৩০

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Big Boss King Tiger Bullet and Rock are coming to shake the market

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজার ধরতে নানা বাহারি নামে গরু মোটাতাজা করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন মৌলভীবাজারের খামারিরা। এরই মধ্যে অনেক খামারে শুরু হয়ে গেছে আগাম বেচাবিক্রি। খামারিরা জানিয়েছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো দামে গরু বিক্রির আশা করছেন তারা।

লাভজনক হওয়ায় দেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গরুর খামার। প্রতি বছরই নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে খামার ব্যবসায়। সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। এমনই এক সফল খামারি হচ্ছেন জুড়ী উপজেলার মেসার্স সিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম ছেনু।

বাবা মৃত বজলু মিয়ার হাতে গড়া খামারটির বয়স এখন শত বছরের ওপরে। ছেনুর বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা খামারের হাল ধরেন। এ খামারে বর্তমানে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৬৫টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে ক্রেতাদের মন জয় করতে এ খামারে গড়ে তোলা হয়েছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক নামের পাঁচটি গরু। এসব গরু দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সাইফুল ইসলাম ছেনু জানান, মূলত কোরবানির বাজার ধরতে অনেক আগে থেকেই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন তিনি। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ না করলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদে ভালো মুনাফা পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছোটবড় মিলিয়ে ৬৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। এগুলো দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে চাচ্ছি আমরা।’

জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় দিনকে দিন বাড়ছে কোরবানির পশুর চাহিদা। সেইসঙ্গে বেড়েছে খামারের সংখ্যা। উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক খামার রয়েছে।

ঈদের আগে খামারগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যাতে অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা না করতে পারে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
ডিএনসিসির পশুর হাটে নিরাপদ ‘ক্যাশলেস’ লেনদেনের আশা মেয়রের
নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
‘সাদা পাহাড়ের’ ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৬ লাখ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Career and Networking Day held at IUB

আইইউবিতে ক্যারিয়ার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ডে অনুষ্ঠিত

আইইউবিতে ক্যারিয়ার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ডে অনুষ্ঠিত আইইউবির ক্যারিয়ার গাইডেন্স প্লেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশন্স (সিজিপিঅ্যান্ডএআর) অফিস আয়োজিত অনুষ্ঠানে শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ছবি: আইইউবি
উপাচার্য অধ্যাপক তানভীর হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে থাকি, যাকে ইংরেজিতে বলে এমপ্লয়েবিলিটি। তার জন্য অ্যাকাডেমিক শিক্ষার চেয়ে বাড়তি অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। যেমন: পেশাদারত্ব, কাজের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার এবং নেটওয়ার্কিং।’

শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বুধবার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ তথা আইইউবিতে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্যারিয়ার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ডে-২০২৪।

আইইউবির ক্যারিয়ার গাইডেন্স প্লেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশন্স (সিজিপিঅ্যান্ডএআর) অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিকম অপারেটর, ফার্মাসিউটিকাল, প্রযুক্তি, খাদ্য ও কোমল পানীয়, এনজিও, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, স্টার্টআপ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের প্রায় সব খাতের প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ছিল আইইউবির ক্যারিয়ার ডেতে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিলো রবি, স্কয়ার, হা-মীম গ্রুপ, এবিসি গ্রুপ, পূর্বানী গ্রুপ, এসিআই, বসুন্ধরা, ডোরীন গ্রুপ, ডানকান, রেনাটা, ম্যারিকো, নিটল-নিয়ল গ্রুপ, ব্র্যাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলন, আইডিএলসি, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, জিজিকন টেকনোলজিস, প্রথম আলো, ডিবিসি নিউজ, ম্যাগনিটো ডিজিটাল, ইত্যাদি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত স্টলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দিনভর শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করেন।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মন থেকে ভালোবেসে কাজ করা যায় এমন ক্যারিয়ার বেছে নিতে হবে। বেতন বা সুযোগ-সুবিধার কথা ভেবে প্রলুব্ধ হলে চলবে না। যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছো, সেই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কেমন সেটা আগে দেখতে হবে এবং বুঝতে হবে তুমি সেই পরিবেশে ভালো করতে পারবে কি না।’

উপাচার্য অধ্যাপক তানভীর হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে থাকি, যাকে ইংরেজিতে বলে এমপ্লয়েবিলিটি। তার জন্য অ্যাকাডেমিক শিক্ষার চেয়ে বাড়তি অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। যেমন: পেশাদারত্ব, কাজের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার এবং নেটওয়ার্কিং।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘বিভিন্ন খাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসা যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার ব্যক্তিরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আরও বেশি বেশি প্রতিষ্ঠান আমাদের এখানে আসছেন।

‘এ জন্য আমরা সম্মানিত বোধ করছি। এতে প্রমাণ হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আইইউবির ওপর আস্থা বাড়ছে।’

অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল একাত্তর টেলিভিশন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও দেশ রূপান্তর।

আরও পড়ুন:
আন্তবিশ্ববিদ্যালয় স্কোয়াশ টুর্নামেন্টে আইইউবির তিন পদক
আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন দিদার এ হোসেইন
আইইউবি-তে মৌলিক পাইথন প্রোগ্রামিং কোর্স করলেন ১০ শিক্ষক
অনলাইন সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে এআইইউবিতে সেমিনার
আইইউবিতে পালা নাটক ‘দেওয়ানা মদিনা’ মঞ্চস্থ

মন্তব্য

p
উপরে