× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Eastern Bank signed MoU with Excid Corporation
google_news print-icon

একসিড করপোরেশনের সঙ্গে ইস্টার্ন ব্যাংকের সমঝোতা স্মারক সই

একসিড-করপোরেশনের-সঙ্গে-ইস্টার্ন-ব্যাংকের-সমঝোতা-স্মারক-সই
একসিড করপোরেশন লিমিটেড ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) মধ্যে মঙ্গলবার বিজনেস টু বিজনেস পেমেন্ট সল্যুশন সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি: সংগৃহীত
ইবিএলের প্রধান কার্যালয়ে একসিড করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাউদ আনাম ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রধান আহসান উল্লাহ চৌধুরী এমওইউতে সই করেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কনস্ট্রাকশন ও কনস্ট্রাকশন কেমিক্যাল কোম্পানি একসিড করপোরেশন লিমিটেড ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) মধ্যে মঙ্গলবার বিজনেস টু বিজনেস পেমেন্ট সল্যুশন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

ইবিএলের প্রধান কার্যালয়ে একসিড করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাউদ আনাম ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রধান আহসান উল্লাহ চৌধুরী এমওইউতে সই করেন।

আরও পড়ুন:
অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে এসআইবিএলের মতবিনিময়
নীলফামারীর ডোমারে এসআইবিএলের শাখা
ইবিএলের ৫০০ কোটির বন্ড অনুমোদন
এসআইবিএলের ২৮ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট
ইস্টার্ন ব্যাংকের এএমডি হলেন আহমেদ শাহীন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Startup Bangladesh cancels investment proposal in Ten Minute School in Ayman

আয়মানের টেন মিনিট স্কুলে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল স্টার্টআপ বাংলাদেশের

আয়মানের টেন মিনিট স্কুলে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল স্টার্টআপ বাংলাদেশের টেন মিনিট স্কুলের লোগো ও তার প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। কোলাজ: নিউজবাংলা
ফেসবুকে স্টার্টআপ বাংলাদেশের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘টেন মিনিট স্কুল- এর জন্য ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব স্টার্টআপ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাতিল করা হলো।’

শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও লেখক আয়মান সাদিক প্রতিষ্ঠিত অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুলে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে তোলা একমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।

কোটা সংস্কার আন্দোলন সমর্থন করে আয়মান সাদিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্টের পর তার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বানের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সিদ্ধান্তের কথা জানায় ফান্ডটি।

ফেসবুকে স্টার্টআপ বাংলাদেশের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘টেন মিনিট স্কুল- এর জন্য ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব স্টার্টআপ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাতিল করা হলো।’

আজ বেলা ১১টা ১ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টার্টআপ বাংলাদেশের পোস্টটি শেয়ার করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে শনিবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট দেন আয়মান সাদিক। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় পোস্ট করেন তিনি।

তা ছাড়া তার প্রতিষ্ঠান টেন মিনিট স্কুল কালো ছবি দিয়ে সোমবার রাতে ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজের প্রোফাইল ছবি আপডেট করে।

আরও পড়ুন:
বিয়ের পিঁড়িতে আয়মান আর মুনজেরিন
দর্শকরা তাকে বলছে ‘ফুলের মতো’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Imrans party PTI is being banned in Pakistan

পাকিস্তানে ইমরানের দল পিটিআই নিষিদ্ধ হচ্ছে

পাকিস্তানে ইমরানের দল পিটিআই নিষিদ্ধ হচ্ছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। ফাইল ছবি
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সংবাদ বলেছেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পিটিআই’র অস্তিত্ব রাখা যাবে না। আমরা পিটিআইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি।’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) নিষিদ্ধ করতে চলেছে দেশটির সরকার। তাদের দাবি, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

সোমবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পিটিআই’র অস্তিত্ব রাখা যাবে না।’

তারার বলেন, ‘বিদেশি তহবিল মামলা, ৯ মে দাঙ্গা এবং সাইফার মামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পাস করা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বাস করি, পিটিআই-কে নিষিদ্ধ করার মতো যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে।

‘আমরা পিটিআইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করার অধিকার দিয়েছে।’

বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী। ইমরান খানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করতে গিয়েছিলেন।’

এদিকে এই ঘটনাকে পিটিআই’র বিরুদ্ধে নতুন দমন-পীড়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন। তারা লিখেছে, এই পদক্ষেপ কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলকে জাতীয় পরিষদে একক বৃহত্তম দল হতে বাধা দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।

কী আছে ১৭ অনুচ্ছেদে

পাকিস্তানের সংবিধানের ১৭ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সরকারি চাকরিতে না থাকা পাকিস্তানের প্রত্যেক নাগরিকের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার বা সদস্য হওয়ার অধিকার থাকবে। তবে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে সেই দলের ওপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে।

আরও বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে বা এ ধরনের কাজ করছে, কেন্দ্রীয় সরকার এমন ঘোষণা দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন:
শেষ মামলায় ইমরান দম্পতি খালাস, কারামুক্তিতে বাধা নেই
বাংলাদেশের উন্নতি দেখে আমাদের লজ্জা হয়: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানে মাজারে যাাওয়ার পথে ট্রাক উল্টে নিহত ১৩

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Walton won the gold medal in the National Export Trophy

জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেল ওয়ালটন

জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেল ওয়ালটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’র স্বর্ণপদক গ্রহণ করছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী। ছবি: ওয়ালটন
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী বলেন, ‘একসময়ের সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছে। নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত গর্বের। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ালটনকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

২০২১-২০২২ অর্থবছরে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

আগের অর্থবছরেও জাতীয় রপ্তানি ট্রফি অর্জন করেছিল বহুজাতিক এ ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৩২টি পণ্য খাতের মোট ৭৭টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতে স্বর্ণ পদক অর্জন করে ওয়ালটন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি।

পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী বলেন, ‘একসময়ের সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছে। নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত গর্বের। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ালটনকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

তিনি জানান, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন শিল্পের টেকসই বিকাশে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করছে ওয়ালটন। বর্তমানে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার ৪০টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন রপ্তানি করছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য।

আরও পড়ুন:
বিশ্বমানের হাইটেক পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের ভবিষ্যত তৈরি করেছে ওয়ালটন: জার্মান রাষ্ট্রদূত
ওয়ালটনের স্মার্ট ফ্রিজে যুক্ত হলো ‘এআই ডক্টর’ ফিচার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওয়ালটন এক্সক্লুসিভ শোরুম ‘রিলায়েন্স এন্টারপ্রাইজ’ উদ্বোধন
ঈদের আগে ওয়ালটনের নতুন মডেলের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্য বাজারে
ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল শুরু মঙ্গলবার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Order to dismiss Sonali Lifes five executives stayed in High Court

সোনালী লাইফের পাঁচ নির্বাহীকে বরখাস্তের নির্দেশ হাইকোর্টে স্থগিত

সোনালী লাইফের পাঁচ নির্বাহীকে বরখাস্তের নির্দেশ হাইকোর্টে স্থগিত
অনিয়ম, দুর্নীতি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ করে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। ভেঙে দেয়া হয় পরিচালনা পর্ষদ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ৭ জুলাই নতুন প্রশাসক কোম্পানির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই পাঁচ কর্মকর্তা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ শীর্ষ নির্বাহীকে বরখাস্তের নির্দেশনা স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে কোম্পানির বর্তমান প্রশাসক, আইডিআরএ চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে তাদের বরখাস্তের আদেশ বাতিল কেন স্থায়ীভাবে হবে না তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের ডিভিশন বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল অনিয়ম, দুর্নীতি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ এনে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ করে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। একইসঙ্গে ভেঙে দেয়া হয় তখনকার পরিচালনা পর্ষদ। প্রশাসক হিসেবে সে সময় নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস।

তবে তারপরও সোনালী লাইফে সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন প্রশাসকের বিরুদ্ধে একের পর অভিযোগ আনেন সোনালী ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ৭ জুলাই নতুন প্রশাসক কোম্পানির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার নির্দেশনা দেন। সেই তালিকায় ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আজিম ও সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ।

তবে তাদের বরখাস্তের প্রক্রিয়াটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সোনালী লাইফের এই পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা। রোববার ওই নির্দেশনা স্থগিত করে আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।

এদিকে সোনালী লাইফে টানা পঞ্চম দিনের মতো চলছে আন্দোলন ও কর্মবিরতি। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগসহ আটটি দাবি নিয়ে কঠোর আন্দোলন চলছে রাজধানীর মালিবাগে কোম্পানিটির প্রধান অফিসে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, অনিয়ম বন্ধের কথা বলে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি নিজেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।

সোনালী লাইফের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক সাহিল অভিযোগ করেন, নতুন করে আরও বহিষ্কারের তালিকা তৈরি করেছেন প্রশাসক। তিনি জানান, শীর্ষ ওই পাঁচ কর্মকর্তার পর আরও ১৩ জনকে ছাঁটাই করেছেন প্রশাসক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির প্রশাসক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌসের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।’

এদিকে এমন কর্মবিরতি আর নানা সংবাদ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সোনালী ইন্স্যুরেন্সের অনেক গ্রাহক। অনেকেই প্রধান শাখায় এসে কর্মীদের কাছে জানতে চাচ্ছেন তাদের ইন্স্যুরেন্স পলিসির পরিস্থিতি নিয়ে।

উপরন্তু নতুন করে যারা ইন্স্যুরেন্স করতে আসছেন তারা সেবা পাচ্ছেন না বলেও জানান আন্দোলনকারী কর্মীরা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dhaka Chamber calls for reforming the tax system

কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান ঢাকা চেম্বারের রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই ভবনে রোববার আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন আশরাফ আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেছেন, ‘বাজেটে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে পুরো কর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেও কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।’

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বড় অংকের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেটে শুধু রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান বাস্তবতায় এনবিআরকে দেয়া রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রাকে অনেক বিশেষজ্ঞ অবাস্তব বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ঢাকা চেম্বার মনে করে বাজেটে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে পুরো কর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু বর্তমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা তৈরির পরামর্শও দিয়েছে এই ব্যবসায়ী সংগঠন।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেছেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেও কর ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত হলে পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।’

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই ভবনে রোববার ‘শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর এবং আয়কর ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব ব্যবস্থাপনা মেনে চলবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে হবে। তাহলে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো করদানে উৎসাহিত হবে, কর ফাঁকির প্রবণতা কমে আসবে।’

রাজস্ব আহরণের সব ক্ষেত্রে অটোমেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশনের মাধ্যমেই বিদ্যমান বৈষম্য ও ঘাটতি নিরসন করা সম্ভব। রাজস্ব আদায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হলে করের জাল সম্প্রসারণ হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার সভাপতি করপ্রদানকারীরা যেন হয়রানির শিকার না হন সেদিকে নজর দেয়ার জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। মেশিন দিয়ে কর আদায় বাড়ানো গেলে হয়রানি বন্ধ হবে বলেও মত দেন তিনি।

বিদ্যমান ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক আইনে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে উল্লেখ ডিসিসিআইয়ের মেম্বার ব্যবসায়ীদের তিনি সেগুলো মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এনবিআর কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বিদ্যমান ভ্যাট আইন সম্পর্কে অনেক ব্যবসায়ী এখনও ভালো জানেন না। এখানে কিভাবে রেয়াত পাওয়া যাবে তা জানলে তাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ হবে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন যে সার্বিকভাবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। ফলে করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
আইএমএফের ঋণ অনুমোদন স্বস্তির: ঢাকা চেম্বার
‘কর্মী ছাঁটাই না করে টিকে থাকাটা হবে বড় সাফল্য’
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি বেসরকারি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জিং: ডিসিসিআই
মেয়র তাপসের সঙ্গে ডিসিসিআই নেতাদের সাক্ষাৎ
ঢাকা চেম্বারের নতুন সভাপতি সামির সাত্তার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
New exportable products and markets to be found PM

রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বিটিভি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার কূটনীতি হবে বাণিজ্যিক। অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোন দেশে কোন পণ্য রপ্তানি করা যায়, সেগুলোর বাজার খুঁজে বের করতে হবে ব্যবসায়ীদেরই। বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করা হয়েছে।’

রপ্তানি পণ্য বহুমুখী করার আহ্বান জানিয়ে রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজে বের করতে রোববার সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার কূটনীতি হবে বাণিজ্যিক। অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোন দেশে কোন পণ্য রপ্তানি করা যায়, সেগুলোর বাজার খুঁজে বের করতে হবে ব্যবসায়ীদেরই। বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়ায় দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করেছে বলেই দেশের অর্থনীতি এগিয়েছে।

‘দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়ল, সেটা খেয়াল রাখতে হবে তাদের। শুধু বিদেশে রপ্তানি নয়, পণ্য দেশের বাজারেও বাজারজাত করতে হবে ব্যবসায়ীদের।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা কেন শুধু গার্মেন্ট সেক্টরের ওপর নির্ভর থাকব? আমরা পণ্য যখন উৎপাদন করব, যখন ডিজাইন, রং এবং একেকটা সময় একেকটা জিনিসের চল আসে। সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে।

‘আমরা কোন দেশের কোন বাজারে ঢুকতে পারব, সেটা সরকার থেকে করে দেব, তবে ব্যবসায়ীদেরও নিজেদের পার্টনার নিজেদের খুঁজে নিতে হবে। সেদিকে আপনাদের নিজেদের দৃষ্টি দিতে হবে। নিজেদের উৎপাদক যেমন বাড়াব, রপ্তানি বাড়াব। আবার নিজের দেশের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান আমরা রেখে যাব। শুধু সীমিত কয়েকটা পণ্যের ওপর আমরা আর নির্ভরশীল থাকতে চাই না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৩তম অর্থনীতির দেশ এখন বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করার জন্যই শক্তিশালী অর্থনীতি গড়া সম্ভব হয়েছে।

এর আগে পণ্য রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় রফতানি ট্রফি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্রফি তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি পায় একটি প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
চীন সফর শেষে দেশে প্রধানমন্ত্রী
দেশের উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী আজই দেশে ফিরছেন
শি-হাসিনা বৈঠক: বাংলাদেশকে অনুদান ও ঋণ সহায়তা দেবে চীন
২১ সহযোগিতা নথিতে সই ঢাকা-বেইজিংয়ের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Increasing reserves by borrowing is not sustainable Ahsan Mansoor

ধার করে নিয়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি টেকসই হয় না: আহসান মনসুর

ধার করে নিয়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি টেকসই হয় না: আহসান মনসুর পল্টনে শনিবার ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: নিউজবাংলা
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচার বন্ধের মতো টেকসই পথে হেঁটে রিজার্ভ বাড়াতে হবে। প্রবাসী আয়ে যে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে তা বন্ধ করে দেয়া দরকার। কারণ ডলারের দাম বাজারভিত্তিক হয়ে গেছে। এসব প্রণোদনা খাচ্ছে দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে যুক্ত স্বার্থান্বেষী মহল।’

দেশের ব্যাংক খাতে নানামুখী সংস্কারের প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

নির্বাচনের আগে আর্থিক খাত সংস্কারে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ। জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতে এখন ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজনটা দেশের স্বার্থেই।

রাজধানীর পল্টনে শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ড. আহসান এইচ মনসুর এসব কথা বলেন।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রসঙ্গে ড. মনসুর বলেন, ‘অন্য দেশ বা সংস্থা থেকে ধার করে এনে রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে, যা কখনোই টেকসই হবে না। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচার বন্ধের মতো টেকসই পথে হেঁটে রিজার্ভ বাড়াতে হবে।’

প্রবাসী আয়ে যে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে তা বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে মত দেন ড. মনসুর। ‘ডলারের দাম বাজারভিত্তিক হয়ে গেছে। এসব প্রণোদনা খাচ্ছে দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে যুক্ত স্বার্থান্বেষী মহল’, মন্তব্য করেন তিনি।

আহসান মনসুর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কার আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও কিছুই হয়নি। এটা খুবই হতাশাজনক।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে সেটা ভালো। তবে তাদের দেয়া সংস্কার শর্তগুলো নিজেদের স্বার্থেই পূরণ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমানত খেয়ে ফেলেছি। এভাবে কতদিন ব্যাংক চলবে? ব্যাংক খাত নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার। সেটা বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়ে নয়, করতে হবে সরকারকে। ব্যাংক খাতে আজ কেন এই অবস্থা তা খুঁজে বের করতে হবে।’

‘দেশের অর্থ বাইরে যাওয়া বন্ধ না হলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বর্তমানে ব্যাংকের আমানত ফেরত দেয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানুষের ব্যাংকের প্রতি আস্থা কমে গেছে, যা ফেরাতে হবে। দেশের আর্থিক খাতের এই সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই, অভিমত দেন এই অর্থনীতিবিদ।

ড. মনসুর বলেন, ‘বর্তমানে টাকা ছাপিয়ে অচল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে রক্ষার নামে টাকা ছাপানো অব্যাহত রাখা হলেও মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

‘শুধু তাই নয়, টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে টাকা ছাপানো বন্ধের বিকল্প নেই।’

তথ্য লুকানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ বলা হলেও তা আসলে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এই খাতের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না করে কার্পেটের নিচে রেখে দিলে একসময় গন্ধ বের হবে। এভাবে সমস্যা জিইয়ে রাখলে কোনো সমাধান আসবে না।

‘ঋণ আদায় না করে ঋণের সুদকে আয় দেখিয়ে মুনাফা দেখাচ্ছে অনেক ব্যাংক। সেই মুনাফার অর্থ থেকে দেয়া হচ্ছে লভ্যাংশ। সরকারকে ট্যাক্সও দিচ্ছে তারা। আসলে কোনো আয়ই হয়নি, উল্টো আমানতের অর্থ লুটে খাচ্ছে। ঘরের থালাবাটি বেচে ব্যাংকগুলো কোরমা-পোলাও খাচ্ছে।’

এভাবে চললে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে পারবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’: ড. দেবপ্রিয়
মানবসম্পদ উন্নয়ন না হলে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়ার শঙ্কা
‘এনবিআরের মূল সমস্যা লিডারশিপ’
প্রবৃদ্ধিতে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে

মন্তব্য

p
উপরে