× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
55 billion deficit in transaction balance in 5 months
hear-news
player
google_news print-icon

৫ মাসে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার

৫-মাসে-লেনদেন-ভারসাম্যে-ঘাটতি-সাড়ে-৫-বিলিয়ন-ডলার
আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে পণ্য আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ঠিক। কিন্তু সামগ্রিক হিসাবে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি ব্যয় এখনও বেশি। সে কারণে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে। মনে হচ্ছে, গত অর্থবছরের মতো এবারও বড় ঘাটতি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে।’

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয় কমেছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারপরও বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তি আসছে না। উল্টো দিন যত যাচ্ছে, অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ঘাটতির মুখে পড়ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন (৫৬৭ কোটি টাকা) ডলার। গত বছরের একই সময়ে অবশ্য এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল এর চেয়ে বেশি, ৬ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো অর্থবছরে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে এত ঘাটতি দেখা যায়নি।

তার আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সূচকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।

৫ মাসে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার

অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে পণ্য আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ কমেছে ঠিক। কিন্তু সামগ্রিক হিসাবে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি ব্যয় এখনও বেশি। সে কারণে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে। মনে হচ্ছে, গত অর্থবছরের মতো এবারও বড় ঘাটতি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। পুরো অর্থবছর জুড়ে সেই উল্লম্ফন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়েও উল্লম্ফন হয়েছিল; ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। সে কারণেই ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি চূড়ায় উঠেছিল।

এবার আমদানি ব্যয়ে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আমদানিতে প্রবৃদ্ধির চেয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের চেয়ে অনেক কম, ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৫ শতাংশের মতো।

গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সে এই পাঁচ মাসে ২১ শতাংশের মতো নেগেটিভ (ঋণাত্মক) প্রবৃদ্ধি হলেও এবার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সব মিলিয়ে লেনদেন ভারসাম্যে ৫ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

‘গত অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যে পাহাড়সম ঘাটতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল’ মন্তব্য করে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানিতে এখনও যে গতি রয়েছে, সেটা যদি অব্যাহত থাকে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সে যদি ভালো প্রবৃদ্ধি না হয়, তাহলে এবারও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শেষ হবে।’

বেশ কয়েক বছর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে পড়ে বাংলাদেশ। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই বছর।

তার আগে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত ছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি ৭ দশমিক বিলিয়ন ডলার

নানা পদক্ষেপের পরও আমদানি ব্যয় খুব একটা কমছে না। এখনও প্রতি মাসে পণ্য আমদানিতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এ কারণে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েই চলেছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই পাঁচ মাসে বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে ১১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করেছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ অবশ্য এর চেয়ে বেশি ছিল, ১২ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে ৩১ দশমিক ১৬বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-নভেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ২০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৮ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

এ হিসাবেই অর্থবছরের প্রথম পাঁচ পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

রেমিট্যান্স বেড়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম। তবে এবার এই সূচকে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

৫ মাসে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার

কিন্তু সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই দুই মাসেই দেড় বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অথচ প্রথম দুই মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি করে পাঠিয়েছিলেন।

তবে, নভেম্বর মাস থেকে রেমিট্যান্স ফের বাড়তে শুরু করেছে। নভেম্বর মাসে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ডিসেম্বর মাসে আরও বেড়েছে, ১৭০ কোটি ডলার এসেছে।

সব মিলিয়ে অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সেবা বাণিজ্যেও ঘাটতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি ৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালেন্স) বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ২ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ছিল। অর্থবছর শেষ হয়েছিল গত ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

তার আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ওভারঅল ব্যালেন্সে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। জুলাই-নভেম্বর সময়ে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে ৪ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত ছিল। ১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনা মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণসহায়তা পাওয়ায় গত আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত ছিল বলে জানান আহসান মনসুর।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শুরু
লেনদেন ভারসাম্যে ১৮.৭০ বিলিয়নের রেকর্ড ঘাটতি
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে বাংলাদেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh received the first installment of the IMF loan

আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ

আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ
বিশ্ব আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান মোড়ল এই সংস্থার কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছিল, সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত সোমবার সংস্থাটি তার চেয়েও বেশি ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় আইএমএফ। প্রথম কিস্তির ঋণ যেকোনো মুহূর্তে ছাড় করা হবে বলে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই ঋণের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে জমা হলো, বেড়ে গেলো বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক রিজার্ভ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বহুল প্রতিক্ষিত ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথম কিস্তির এই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে যোগ হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক। এর ফলে রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে বলে জানান তিনি।

মেজবাউল হক বলেন, ‘আমরা আইএমএফ ঋণের প্রথম কিস্তি পেয়েছি। প্রথম বারে আমরা ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছি। এর পরের বাকি ৪২২ কোটি ৪০ লাখ ডলার আমরা সমান ছয়টি কিস্তিতে পাবো। প্রতি কিস্তিতে আসবে ৭০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, তবে পরের কিস্তি কবে আসবে এখন সেটা বলা যাচ্ছে না।’

বিশ্ব আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান মোড়ল এই সংস্থার কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছিল, সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত সোমবার সংস্থাটি তার চেয়েও বেশি ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় আইএমএফ। প্রথম কিস্তির ঋণ যেকোনো মুহূর্তে ছাড় করা হবে বলে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই ঋণের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে জমা হলো, বেড়ে গেলো বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক রিজার্ভ।

দুই বছরের করোনা মহামারি ও এক বছরের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কার বড় চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বাংলাদেশ গত বছরের জুলাই মাসে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ চেয়েছিল, আইএমএম তার চেয়েও ২০ কোটি ডলার বেশি অর্থাৎ ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলার দেয়। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তরে এই ঋণ অনুমোদন করে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ।

গত মঙ্গলবার আইএমএফের ওয়েবসাইটে এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার তাৎক্ষণিকভাবে ছাড় করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএমএফ। ২ দশমিক ২ শতাংশ সুদে নেয়া এই ঋণ আসবে সাত কিস্তিতে। শেষ কিস্তি আসবে ২০২৬ সালে।

৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ পেতে ও চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার কয়েক মাস ধরেই সংস্কার কর্মসূচি পরিচালনা করছে। চলতি জানুয়ারিতে যখন আইএমএফের ডিএমডি অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ বাংলাদেশ সফরে আসেন, তখন এসব সংস্কারে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মৌলিক এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিও আইএমএফের ডিএমডি গুরুত্বারোপ করেন তখন।

আইএমএফও তাদের বিবৃতিতে বলেছে, করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল বাংলাদেশ, কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাতে বৈদেশিক বাণিজ্যে চলতি হিসাব ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, টাকার মান কমে গেছে এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। সাম্প্রতিক এই অর্থনৈতিক জটিলতাগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একগুচ্ছ সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে, প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি করতে হলে তাতৎক্ষণিক এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলোকেও আমলে নিতে হবে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Eastern Housing Youth Welfare Associations Fun Trip

ইস্টার্ন হাউজিং যুব কল্যাণ সমিতির আনন্দ ভ্রমণ

ইস্টার্ন হাউজিং যুব কল্যাণ সমিতির আনন্দ ভ্রমণ গত ২৬ থেকে ২৯ জানুয়ারি কক্সবাজার ভ্রমণ করেন ইস্টার্ন হাউজিং যুব কল্যাণ সমিতির সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
আনন্দ ভ্রমণের আহ্বায়ক ছিলেন জহির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (জেডএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলহাজ মো. হুমায়ুন কবির।

কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণ করেছে ইস্টার্ন হাউজিং যুব কল্যাণ সমিতি।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়ে গত ২৬ থেকে ২৯ জানুয়ারি এ ভ্রমণ করেন সমিতির সদস্যরা।

আনন্দ ভ্রমণের আহ্বায়ক ছিলেন জহির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (জেডএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলহাজ মো. হুমায়ুন কবির।

আনন্দ ভ্রমণের সদস্য সচিব ছিলেন ইস্টার্ন হাউজিং যুব কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল সরকার।

আরও পড়ুন:
ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সব প্রকল্প বন্ধ চান মেয়র আতিক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Remittances of 195 million 89 million dollars in January

জানুয়ারিতে ১৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স

জানুয়ারিতে ১৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স
বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার হালনাগাদ তথ্যে জানায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ১ হাজার ২৪৫ কোটি ২১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের পালে জোর হাওয়া লেগেছে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। এটা এক বছর আগে একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ বলছে, সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ১ হাজার ২৪৫ কোটি ২১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ১৯৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ১৭০ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এসেছিল যথাক্রমে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ও ১৫৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে অবশ্য ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে।

জানুয়ারিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪ কোটি ২২ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৬৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আর ৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৭০ লাখ ৮০ লাখ ডলার।

ক্যালেন্ডার বছরের হিসাবে ২০২২ সালে ২ হাজার ১২৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। প্রবাসীরা ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন।

মার্চের শেষ দিকে রমজান মাস শুরু হবে। রোজা ও ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারক, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় এবং বেশি টাকা পাওয়ায় মাঝে কয়েক মাস প্রবাসীরা অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠানোয় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক হুন্ডির বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে।

অর্থনীতিতে চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছিল। অবশ্য আইএমএফ তার চেয়েও ২০ কোটি ডলার বেশি দেবে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তরে এই ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ। প্রথম কিস্তির ঋণ যেকোনো মুহূর্তে জমা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে।

আরও পড়ুন:
২০ দিনে ১৪ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
রেমিট্যান্সে ফের সুবাতাস, ১৩ দিনেই ৯৩ কোটি ডলার
নতুন বছরেও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা
রেমিট্যান্সে সৌদিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র
কঠিন সময়ে রপ্তানির চমক, রেকর্ড গড়ল ডিসেম্বর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trade fair Walton won the best innovation and stall award

বাণিজ্য মেলা: সেরা ইনোভেশন ও স্টলের পুরস্কার পেল ওয়ালটন

বাণিজ্য মেলা: সেরা ইনোভেশন ও স্টলের পুরস্কার পেল ওয়ালটন বাণিজ্য মেলায় সেরা ইনোভেশন পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইভা রিজওয়ানা নিলু। ছবি: সংগৃহীত
মেলায় অত্যাধুনিক ও উদ্ভাবনী ফিচারের পরিবেশবান্ধব টেকসই স্মার্ট প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করে সেরা ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে ওয়ালটন। একই সঙ্গে এবারের বাণিজ্য মেলাতে ইলেকট্রনিক্স ক্যাটাগরিতে সেরা প্রিমিয়ার স্টলের পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন। 

শেষ হলো মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘ডিআইটিএফ’-এর ২৭তম আসর। বরাবরের মতো মেলার এই আসরেও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল ওয়ালটনের দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক ডিজাইনের স্টল।

মেলায় অত্যাধুনিক ও উদ্ভাবনী ফিচারের পরিবেশবান্ধব টেকসই স্মার্ট প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করে সেরা ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে ওয়ালটন। একই সঙ্গে এবারের বাণিজ্য মেলাতে ইলেকট্রনিক্স ক্যাটাগরিতে সেরা প্রিমিয়ার স্টলের পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশি সুপার ব্র্যান্ড ওয়ালটন।

২৭তম বাণিজ্য মেলায় ১৪টি ক্যাটাগরিতে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথমবারের মতো এ বছর বাণিজ্য মেলায় ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড চালু করে আয়োজক সংস্থা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এ ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন।

বাণিজ্য মেলা: সেরা ইনোভেশন ও স্টলের পুরস্কার পেল ওয়ালটন
ইলেকট্রনিক্স ক্যাটাগরিতে সেরা প্রিমিয়ার স্টল পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হুমায়ুন কবীর। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ডিআইটিএফ-২৩ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সেরা ইনোভেশন ও সেরা ইলেকট্রনিক্স স্টল ক্যাটাগরিতে ওয়ালটনকে প্রথম পুরস্কার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইপিবি’র ভাইস-চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান।

অতিথিদের কাছ থেকে সেরা ইনোভেশন এবং সেরা ইলেকট্রনিক্স স্টলের পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইভা রিজওয়ানা নিলু ও মো. হুমায়ুন কবীর।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trade Fair 2nd Best Bengal Polymers at Premier Pavilion

বাণিজ্য মেলা: প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নে দ্বিতীয় সেরা ‘বেঙ্গল পলিমার’

বাণিজ্য মেলা: প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নে দ্বিতীয় সেরা ‘বেঙ্গল পলিমার’ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছ থেকে বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন হেড অফ মার্কেটিং জোহেব আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মঙ্গলবার ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বেঙ্গল পলিমার কর্তৃপক্ষের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় সেরার পুরস্কার পেয়েছে বেঙ্গল পলিমার ওয়্যারস্ লিমিটেড। প্যাভিলিয়ন ডিজাইনে আধুনিকতা ও নতুনত্বের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হয়।

রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মঙ্গলবার ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৩ এর সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বেঙ্গল পলিমার কর্তৃপক্ষের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর পক্ষ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন হেড অফ মার্কেটিং জোহেব আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ প্যাভিলিয়নগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
IMF loan approval eased Dhaka Chamber

আইএমএফের ঋণ অনুমোদন স্বস্তির: ঢাকা চেম্বার

আইএমএফের ঋণ অনুমোদন স্বস্তির: ঢাকা চেম্বার আইএমএফের ভবনে সংস্থাটির লোগো। ফাইল ছবি
ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, ‘আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও পলিসি সংস্কারের শর্তারোপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আর্থিক খাত, নীতি কাঠামো, জ্বালানি খাত, সরকারি অর্থব্যবস্থা, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি, জলবায়ু স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।’

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সুবিধা অনুমোদনের বিষয়টিকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তিকর হিসেবে দেখছে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তারকে উদ্ধৃত করে বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আইএমএফের পক্ষ থেকে ঋণপ্রাপ্তির অনুমোদন বাংলাদেশের ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও পলিসি সংস্কারের শর্তারোপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আর্থিক খাত, নীতি কাঠামো, জ্বালানি খাত, সরকারি অর্থব্যবস্থা, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি, জলবায়ু স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।’

আইএমএফের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কারণ এই ঋণ সুবিধা বাংলাদেশকে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

‘এই ঋণপ্রাপ্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে, যা আমাদের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এমনকি সরকার আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার কঠোর শর্তাবলী প্রত্যাহারের বিষয়ে বিবেচনা করার সুযোগ পাবে। আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে ঋণটি অবশ্যই ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে।’

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করেছে। আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকঘোষিত সাম্প্রতিক মুদ্রানীতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদহারের সীমা শিথিল করা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা আনতে ক্রমান্বয়ে বাজারভিত্তিক এবং একক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার চালু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি নতুন আয়কর আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে, যার অন্যতম লক্ষ্য হলো করজাল বাড়ানো, যাতে করে দেশীয় রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি করা যায়। পাশাপাশি নতুন আয়কর আইন অটোমেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়াগ আকৃষ্ট হবে।

বৈশ্বিক কারণে অর্থনীতিতে চাপ সামলাতে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছিল সংস্থাটি তার চেয়েও বেশি ঋণ দিচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার চেয়েছিল, আইএমএম তার চেয়ে ২০ কোটি ডলার বেশি অর্থাৎ ৪৭০ কোটি ডলার দেবে।

স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদরদপ্তরে সংকটকালে বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত এই ঋণের প্রস্তাব অনুমোদন করে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ। মঙ্গলবার দুপুরে আইএমএফের ওয়েবসাইটে ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
আইএমএফের ‍ঋণ চূড়ান্ত ৩১ জানুয়ারি, আশা বাংলাদেশ ব্যাংকের
ঋণ-আলোচনা চূড়ান্ত করতে আইএমএফ ডিএমডি ঢাকায়
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি বেসরকারি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জিং: ডিসিসিআই
মেয়র তাপসের সঙ্গে ডিসিসিআই নেতাদের সাক্ষাৎ
বিশ্বের ৩৫তম বড় অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
IMF loan is evidence of solid macroeconomic base Finance Minister

‘সামষ্টিক অর্থনীতির শক্ত ভিত্তির প্রমাণ আইএমএফের ঋণ’

‘সামষ্টিক অর্থনীতির শক্ত ভিত্তির প্রমাণ আইএমএফের ঋণ’ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থাটি বাংলাদেশকে এ ধরনের ঋণ সুবিধা দেবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইএমএফ ঋণ অনুমোদন করে সে আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে।’

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদনই প্রমাণ করে যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক ক্ষেত্রগুলো শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো।’

আইএমএফ বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের পর বুধবার অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থাটি বাংলাদেশকে এ ধরনের ঋণ সুবিধা দেবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইএমএফ ঋণ অনুমোদন করে সে আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে।’

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ)-এর আওতায় প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)-এর আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার পাবে।

আইএমএফ ইসিএফ বা ইএফএফ অনুমোদনের ফলে ৪২ মাসের মধ্যে নির্ধারিত সাতটি কিস্তির মধ্যে প্রথম হিসাবে প্রায় ৪৭৬ মিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ছয়টি সমান কিস্তিতে দেয়া হবে, প্রতিটি কিস্তি হবে ৭০৪ মিলিয়ন ডলার। ৪২ মাসের এই কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, দুর্বলদের সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে।

সংস্কারগুলো বৃহত্তর সামাজিক ও উন্নয়নমূলক ব্যয় সক্ষম করার জন্য বাজেট সক্ষমতা তৈরি করবে, আর্থিক খাতকে শক্তিশালীকরণ, নীতি কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করবে।

আইএমএফ-কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে মহামারি থেকে বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পেয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এই সর্বশেষ অর্থনৈতিক বিঘ্ন মোকাবেলায় একটি বিস্তৃত ব্যবস্থা নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, এই তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা এবং দুর্বলতাগুলোও মোকাবেলা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চান অর্থমন্ত্রী
‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সংবাদে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান প্রতিফলিত হয়নি’
জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে দাম কমছে, আমরাও কেনা শুরু করেছি: অর্থমন্ত্রী
দু-এক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি: অর্থমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে