× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
The shipbuilding industry is sinking under the shock of Corona and war
google_news print-icon

করোনা ও যুদ্ধের ধাক্কায় ডুবছে জাহাজ নির্মাণশিল্প

করোনা-ও-যুদ্ধের-ধাক্কায়-ডুবছে-জাহাজ-নির্মাণশিল্প
জাহাজ নির্মাণশিল্পের উন্নয়নে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হলেও এক টাকাও ঋণ নেননি কোনো শিল্পোদ্যোক্তা। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এই খাত থেকে আসা সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
সাত মাস আগে এই শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক দুই হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করলেও কোনো অর্ডার না পাওয়ায় সেখান থেকে এক টাকাও ঋণ নেননি কোনো শিল্পোদ্যোক্তা। ব্যাংকগুলোও পড়েছে মহাবিপদে। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। কোনো ঋণ আদায় হচ্ছে না। বাড়ছে খেলাপি ঋণের অঙ্ক।

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে আশা জাগিয়েছিল যে জাহাজ রপ্তানি, তা তছনছ করে দিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ডুবতে বসেছে জাহাজ নির্মাণশিল্প খাত। গত তিন বছরে বাংলাদেশ থেকে এ শিল্পের কিছু নির্মাণ সরঞ্জাম রপ্তানি হলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো জাহাজ রপ্তানি হয়নি।

সাত মাস আগে এই শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক দুই হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করলেও কোনো অর্ডার না পাওয়ায় সেখান থেকে এক টাকাও ঋণ নেননি কোনো শিল্পোদ্যোক্তা। ব্যাংকগুলোও পড়েছে মহাবিপদে। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। কোনো ঋণ আদায় হচ্ছে না। বাড়ছে খেলাপি ঋণের অঙ্ক।

তিন বছর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এই খাত থেকে আসা সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা। বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা থাকায় এবং আশা জাগানিয়া এই খাত থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ধরা হয়। কিন্তু ওলটপালট হয়ে যায় সব হিসাব-নিকাশ; কালো মেঘ নেমে আসে এই খাতে। করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এখনো চলছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় মাত্র ২ হাজার ডলার। মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নামমাত্র এই লক্ষ্য ধরে সরকার। মহামারির ধকল কমবে- এই প্রত্যাশায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্য কিছুটা বাড়িয়ে ৩ হাজার ডলার ধরা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের প্রথম দিকে বিশ্বে করোনা মহামারি শুরুর পর এই তিন বছরে কোনো জাহাজ রপ্তানি হয়নি।

দেশের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের পরিচালক এবং রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (এইওএসআইবি) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব শেষ…। গত তিন বছরে কোনো জাহাজ রপ্তানি করতে পারিনি আমরা। শুধু আমরা নই, কেউই কোনো জাহাজ রপ্তানি করেননি। সত্যিই বেহাল দশা আমাদের এই শিল্পের। চূড়ান্ত খারাপ অবস্থা। এমন নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হব- কখনোই ভাবিনি আমরা। করোনা আর যুদ্ধ আমাদের শেষ করে দিয়েছে। জানি না ভবিষ্যৎ কী? আর কখনো আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব কি না, জানি না।’

‘আমাদের কারণে ব্যাংকগুলোও বিপাকে পড়েছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্যাংকগুলো সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছিল। সুদ-আসলে তা বেড়ে এখন ২৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমরা কেইউ সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছি না। খেলাপি হয়ে যাচ্ছি। কারখানা, অফিস ঠিকমতো চালু রাখতে পারছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বেকার হয়ে যাবেন।’

বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিচ্ছে বিশ্বের উপকূলীয় দেশগুলো। সমুদ্র থেকে মৎস্য ও খনিজসম্পদ আহরণ, সামুদ্রিক নবায়নযোগ্য শক্তি, সামুদ্রিক পর্যটন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও গবেষণা ঘিরে বাড়ছে এসব কর্মকাণ্ড। সমুদ্র অর্থনীতির এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দরকার উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত ছোট-বড় জাহাজ।

পণ্যবাহী জাহাজ রপ্তানি বাজারের মতো উত্থান-পতন নেই উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত জাহাজের রপ্তানির বাজারে। তাই সম্ভাবনাময় এই রপ্তানির বাজার ঘিরেই আগ্রহ বেড়েছিল বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। সরকারও এ খাতের রপ্তানি বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা, কর ছাড়সহ নানা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ব্যাংকগুলোও মোটা অঙ্কের অর্থায়ন করেছে এই খাতে। ২০২১ সালের প্রথম দিকে সরকার একটি নীতিমালা করে দিয়েছে। তাতে জাহাজ রপ্তানি থেকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

এক যুগ আগে ২০০৭ সালে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ রপ্তানির মধ্য দিয়ে জাহাজ রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। জার্মানিতে জাহাজ রপ্তানির ফলে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন একটা বার্তা যায় যে, দেশটি বিশেষায়িত এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছে। এতে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়।

কিন্তু ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ২০১০ সালে ইউরো জোনের মন্দার কারণে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি। সমুদ্রগামী জাহাজের ৭০ ভাগের মালিকানা ইউরোপের দেশগুলোর। ওই সময়ে ইউরোপের ব্যাংকগুলো জাহাজ কেনায় অর্থায়ন বন্ধ রাখে। জাহাজ ভাড়াও ৭৫ শতাংশ কমে যায়।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যে সময় জাহাজ রপ্তানি টেক অব করবে, সেই সময়ই ওই ধাক্কা আসে। ২০১০ সালের পর থেকে আমরা টুকটাক করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলাম। আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলামও। ২০২০ সালে ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস চারটি আট হাজার টনের জাহাজ নিয়েছিল। ওই রপ্তানির মধ্য দিয়ে আমরা প্রমাণ করেছিলাম, বাংলাদেশ শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই উৎপাদন করে তা নয়, উচ্চ প্রযুক্তির ভারী শিল্পপণ্যও এখানে তৈরি হচ্ছে। জার্মানি, ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া, পাকিস্তানেও আমাদের জাহাজ রপ্তানি হয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের পাশাপাশি যাত্রীবাহী, বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী, মাছ ধরার জাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজও ছিল।’

‘কিন্তু কোভিড-১৯ সবকিছু শেষ করে দিয়েছে’ মন্তব্য করে সাখাওয়াত বলেন, ‘আমরা যখন জাহাজ তৈরি করি, তখন যে প্রতিষ্ঠানের জাহাজ তৈরি করি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকেন। ২০২০ সালের মার্চের পর থেকেই তারা চলে গেছেন। আমাদের সব কাজ বন্ধ। জাহাজের মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশই রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে। করোনার পর যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ওই সব দেশের মানুষ এখন খাদ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউরোপে জাহাজ রপ্তানি নিয়ে কোনো আশা আমি দেখছি না।’

এইওএসআইবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মাত্র দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠান জাহাজ রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। তবে রপ্তানি করতে সক্ষম এমন কারখানা আছে দেশে ১০টি। এর মধ্যে দেশে ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত জাহাজ নির্মাণ করে ইতিমধ্যে দক্ষতা দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি কারখানা। দেশের জন্য তৈরি করা হলেও এসব জাহাজ নির্মাণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হয়েছে কারখানাগুলোকে।

এ ছাড়া কর্ণফুলী শিপইয়ার্ড লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে তিনটি কারখানায় খননকারী জাহাজ (ড্রেজার) নির্মাণ করছে। বেসরকারি খাত ছাড়াও নৌবাহিনী পরিচালিত তিনটি ইয়ার্ডও নিজেদের ব্যবহারের জন্য যুদ্ধজাহাজসহ বিশেষায়িত জাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা দেখিয়েছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণ খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন, কোরিয়া ও জাপান। বিশ্বের মোট জাহাজ নির্মাণের ৯০ দশমিক ৫ শতাংশ হয় এই তিনটি দেশে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয় ৫০ লাখ ডলার। বছর শেষে সেই লক্ষ্য থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার দাঁড়ায়, যা ছিল এ যাবৎকালে জাহাজ রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি আয়। ওই অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছিল ১৪০ শতাংশ।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত তিন বছরে আসলে কোনো জাহাজ রপ্তানি হয়নি। আগে রপ্তানি করা জাহাজের কিছু অর্থ দেশে এসেছে। আর জাহাজ নির্মাণের কিছু সরঞ্জাম রপ্তানি করে কিছু বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে।’

বাংলাদেশ ছোট ও মাঝারি মানের সমুদ্রগামী জাহাজ তৈরি করে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের জাহাজের চাহিদা বেশি, যার বাজার ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মতো।

২০০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে ১ টাকাও নেয়নি কেউ

জাহাজ নির্মাণশিল্পের উন্নয়নে চলতি বছরের মে মাসে দুই হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাহাজ নির্মাণশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০২১-এর আওতায় এ তহবিল গঠন করা হয়। জাহাজ নির্মাণকারী রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ জাহাজ নির্মাণশিল্পের উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের জন্য এ তহবিল থেকে ঋণ মিলবে। তহবিলটির আওতায় সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ মিলবে। আর ব্যাংকগুলো ১ শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে এই তহবিল থেকে এক টাকা ঋণ নেয়নি জাহাজ নির্মাণ উদ্যোক্তা।

এ প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অর্ডার নেই। ঋণ নিয়ে কী করব। আগের ঋণই তো শোধ করতে পারছি না। সুদ বাড়ছে, আসল বাড়ছে। খুবই বিপদে আছি আমরা। সরকারকে অনুরোধ করছি, আমাদের দিকে তাকাতে। আমাদের সুদটা মাফ করে দিতে হবে। তা না হলে এই খাত আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’

অর্থনীতির গবেষক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই একটা ভালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল এই খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো সুনাম অর্জন করেছিলেন আমাদের রপ্তানিকারকরা। কিন্তু করোনার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই যুদ্ধ এই শিল্পকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।’

‘তবে সামনে সুদিন আসবে। পরিস্থিতি ভালো হলে আবার বাড়বে জাহাজ রপ্তানি। সেদিন পর্যন্ত এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর সেজন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে হবে। সুদ মওকুফ, প্রণোদনাসহ নানা ধরনের সহায়তা করা যেতে পারে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh GDP growth likely to be 61 in current fiscal year ADB

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.১%: এডিবি

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.১%: এডিবি পরপর দুই অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। ফাইল ছবি
এডিওতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে এডিবি বলেছে, ২০২৪ (২০২৩-২৪) অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ছয় দশমিক এক শতাংশ পর্যন্ত। ২০২৫ (২০২৪-২৫) অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়ে হতে পারে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক এক শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংকটি তাদের এপ্রিলের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।

এডিওতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে এডিবি বলেছে, ২০২৪ (২০২৩-২৪) অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ছয় দশমিক এক শতাংশ পর্যন্ত। ২০২৫ (২০২৪-২৫) অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়ে হতে পারে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ।

বাংলাদেশে কোনো বছরের জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের জুন পর্যন্ত ১২ মাসকে এক অর্থবছর ধরা হয়। সে হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ৩০ জুন।

এডিওতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সস্তা তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা দেশে তৈরি সুতা ও বস্ত্র ব্যবহার করছেন।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি কমার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ভোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে ভর্তুকি কম দেয়া এবং কৃচ্ছ্রতার ব্যবস্থাগুলো অব্যাহত রাখায় সরকারি পর্যায়ে ভোগও সামান্য বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:
৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিল আইএমএফ
চট্টগ্রামবাসীর জীবনমান উন্নয়নে এডিবির ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি কমে ৫.৬% হতে পারে: বিশ্ব ব্যাংক
আগামী অর্থবছর বাংলাদেশের জন্য ভালো বছর হবে
রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২৬.১ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Inflation increased by 1014 percent in March

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯.৮১ শতাংশ

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯.৮১ শতাংশ
বিবিএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

চলতি বছরের মার্চে দেশে মূল্যস্ফীতি দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে মূলস্ফীতির এই হার ছিল ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার সবশেষ আর্থিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশে। তুলনামূলকভাবে গত ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় শহরে উচ্চতর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়েছে। শহর এলাকায় মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং গ্রামীণ অঞ্চলে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। মার্চে শহর এলাকায় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

‌আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে দেশ। আর এর বড় বিরূপ প্রভাব পড়ছে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।’

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পলিসি সুদের হার বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু কৌশল বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

তবে ড. মনসুর উল্লেখ করেছেন, বিলম্ব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপগুলো এখনও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব দেখাতে পারেনি।

ক্রমাগত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হারের পেছনে একটি অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পণ্যের দাম বৃদ্ধিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুন:
এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯.২৪%
‘মূল্যস্ফীতির জন্য যুদ্ধের পাশাপাশি দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা দায়ী’
চার মাস ধরে কমছে মূল্যস্ফীতি
খাবারের দাম শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি
মূল্যস্ফীতির হিসাবে স্বস্তির আভাস

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Toll collection of two and a quarter million taka in 8 hours at Padma Bridge

পদ্মা সেতুতে ৮ ঘণ্টায় পৌনে দুই কোটি টাকা টোল আদায়

পদ্মা সেতুতে ৮ ঘণ্টায় পৌনে দুই কোটি টাকা টোল আদায় ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টায় দুই প্রান্ত মিলিয়ে মোট টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৫০ টাকা। এ সময় শুধু মাওয়া প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

পদ্মা সেতুতে ৮ ঘণ্টায় পৌনে দুই কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টায় দুই প্রান্ত মিলিয়ে মোট টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৫০ টাকা। এ সময় শুধু মাওয়া প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

পদ্মা সেতু সাইট অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আমিরুল হায়দার চৌধুরী এ খবর নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মাওয়া প্রান্তে ৭টি বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হয়। আট ঘণ্টায় এখান দিয়ে ১৩ হাজার ৮৮৬টি যানবাহন পার হয়েছে। এরমধ্যে মোটরসাইকেল ছিল ৫৮৬১টি। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ৪৮৪৭টি যানবাহন পার হয়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেল ছিল মাত্র ৩১৩টি।

মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা হয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা আরও জানান, সকালে যানবাহনের কিছুটা চাপ থাকলেও সবাই নির্বিঘ্নে সেতু পার হতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রায় প্রস্তুত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ
চাপ নেই ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে
নগরবাসীর ঈদযাত্রা শুরু, বাস টার্মিনালে বাড়ছে চাপ
লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ নেই, ফাঁকা সদরঘাট
ঈদযাত্রায় আসনের বেশি যাত্রী নয়, রাস্তায় থামানো যাবে না বাস

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In the week before Eid remittances of 45 million dollars came

ঈদের আগের সপ্তাহে এসেছে সাড়ে ৪৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

ঈদের আগের সপ্তাহে এসেছে সাড়ে ৪৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় দর বাড়ার ঘটনায় মার্চে রেমিট্যান্স দুশ’ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। এপ্রিলের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্সে এই বাড়তি গতির মূল কারণ প্রবাসীরা ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন।

ঈদের আগের সপ্তাহে (১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত) প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সে এই বাড়তি গতির মূল কারণ প্রবাসীরা ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন।

ব্যাংকাররা বলছেন, গত মার্চ মাসে প্রতি সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সে হিসাবে, এপ্রিলের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স ভালোই এসেছে। মূলত, প্রবাসীরা ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানোর কারণেই বেড়েছে রেমিট্যান্স।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, টানা দু’মাস রেমিট্যান্স আয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার পর ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় দর বাড়ার ঘটনায় মার্চে রেমিট্যান্স দুশ’ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে।

মার্চে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৯৯ কোটি ডলার দেশে পাঠান। ফেব্রুয়ারিতে তা ছিল ২১৬ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, আগের বছরের একই মাসের ২০২ কোটি ডলারের তুলনায় গত মার্চে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ মাসের বেশিরভাগ দিনে ডলারের বিনিময় দর কমে দাঁড়ায় ১১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১১৩ টাকায়। সে তুলনায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডলারের দর ছিল ১২০ থেকে ১২২ টাকা পর্যন্ত।

তারা বলছেন, ডলারের দাম কমার এই ঘটনা প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে। আর তার প্রভাব পড়ে রেমিট্যান্সের সার্বিক চিত্রে।

আরও পড়ুন:
প্রবাসী আয়ে ইসলামী ব্যাংকের নতুন রেকর্ড
রেমিট্যান্সে গতি, ডিসেম্বরে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে: বিশ্বব্যাংক
নভেম্বরে এলো ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স
বিদেশি মুদ্রায় দেশের ব্যাংকে আমানত রাখার সুযোগ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of gold increased by Tk 3499 in two days

স্বর্ণের দাম দু’দিনের ব্যবধানে ভরিতে বেড়েছে ৩,৪৯৯ টাকা

স্বর্ণের দাম দু’দিনের ব্যবধানে ভরিতে বেড়েছে ৩,৪৯৯ টাকা
সবশেষ বৃদ্ধির পর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৩ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ১২ হাজার ২০৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৯৬ হাজার ২২৮ টাকা ও সনাতন ৮০ হাজার ১৯০ টাকা।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম তিন হাজার ৪৯৯ টাকা বাড়িয়ে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের বাজারে দাম বৃদ্ধির দ্রুততম গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক এই প্রবণতার ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেল ৪টা থেকে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস।

এর আগে শ‌নিবার (৬ এপ্রিল) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর দু’দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলো।

সবশেষ বৃদ্ধির পর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৩ টাকা বা প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ৮০ টাকা; ২১ ক্যারেট ১ লাখ ১২ হাজার ২০৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৯৬ হাজার ২২৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ হাজার ১৯০ টাকা।

স্বর্ণের দাম নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় দেখা গেলেও রুপার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এর মধ্যে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ২ হাজার ১০০ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী, প্রতি আউন্স (৩১ দশমিক ১০৩ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২৯ ডলার।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাকে দায়ী করা হয়েছে। আর সে কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।

বৈশ্বিক আর্থিক বাজার এবং পণ্যের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণের কৌশলকেও প্রভাবিত করে।

আরও পড়ুন:
বাড়া-কমার খেলায় স্বর্ণের ভরি রেকর্ড ১,১৪,০৭৪ টাকা
কমলো স্বর্ণের দাম
দেশে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ১,১২,৯০৮ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Hirid to buy Walton fridge on Eid festival

ঈদ উৎসবে ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার হিড়িক

ঈদ উৎসবে ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার হিড়িক রাজধানীর এক ওয়ালটন প্লাজায় ফ্রিজ দেখছেন ক্রেতারা। ছবি: ওয়ালটন

দুয়ারে ঈদুল ফিতর। ঈদে নতুন ফ্রিজ কিনতে ক্রেতারা ছুটছেন ইলেকট্রনিক্সের শোরুমে। বিশেষ করে সেরা দামে সেরা মানের পছন্দের ফ্রিজ কিনতে দেশের সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনের শোরুমে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ব্যাপক ক্রেতা সমাগমে দেশব্যাপী ওয়ালটন শোরুমগুলোতে পড়েছে ফ্রিজ কেনার হিড়িক। শোরুমের বিক্রয় প্রতিনিধিরাও এই বাড়তি ক্রেতা সমাগম ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছেন।

ওয়ালটন ফ্রিজের সাশ্রয়ী দাম, উচ্চ গুণগত মানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ বিক্রয়োত্তর সুবিধা থাকায় ঈদের আগে শোরুমগুলোতে ফ্রিজ বিক্রির উৎসব চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বাগেরহাট, বগুড়া, সিলেট, ফেনী, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়োজিত ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার, পরিবেশক ও অঞ্চল প্রধানরা।

তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে ‘সেরা পণ্যে সেরা অফার’ স্লোগানে সারা দেশে চলছে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২০। এই সিজনেও ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ‘ননস্টপ মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। এছাড়াও রয়েছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত উপহার। ইতোমধ্যে সিজন-২০ এ ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন ৩ জন ক্রেতা। তাই ঈদ উৎসবে ক্রেতা পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ওয়ালটন ফ্রিজ।

ওয়ালটন ফ্রিজের ডেপুটি চিফ বিজনেস অফিসার আনিসুর রহমান মল্লিক জানান, সার্বিক বিবেচনায় এবারের ঈদে ফ্রিজ বিক্রির জন্য সময়টা খুব ভালো যাচ্ছে। ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে আশাতীত। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদি প্রতিক‚লতাকে কাটিয়ে চলতি বছরে ব্যবসায়ে স্বাভাবিক ধারা ফিরে এসেছে। তাই এবছর ঈদকে ঘিরে ফ্রিজের বাজার বেশ চাঙ্গা। প্রতিবছরের মতো এই ঈদেও ফ্রিজের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ওয়ালটনের। এরইমধ্যে ঈদে আমাদের ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সার্বিকভাবে বলা চলে ঈদের আগমুহুর্তে দেশব্যাপী ওয়ালটনের শোরুমগুলোতে চলছে ফ্রিজ বিক্রির ধূম।

তিনি বলেন, ‘দেশের সিংহভাগ ক্রেতার আস্থা এখন ওয়ালটন ফ্রিজে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজে অ্যাডভান্সড আইওটি, ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির পাশাপাশি বিশ্বের সর্বাধুনিক ফিচারের ব্যবহার। আমরা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছি। তাই ঈদ উৎসবে পছন্দের ওয়ালটন ফ্রিজ কিনতে শোরুমগুলোতে ক্রেতা ভিড় বেড়েছে ব্যাপকহারে।’

ঈদ বাজারে সকল শ্রেণি, পেশা ও আয়ের ক্রেতাদের জন্য ওয়ালটনের রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের ৩ শতাধিক মডেলের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার। এসব মডেলের সহ¯্রাধিক কালারের ফ্রিজ রয়েছে। এসব ফ্রিজের দাম ১৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। আছে জিরো ইন্টারেস্টে ৬ মাসের সহজ কিস্তিসহ সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের কিস্তি সুবিধা।

ওয়ালটনের ফ্রিজে ১ বছরের রিপ্লেসমেন্টসহ কম্প্রেসরে ১২ বছরের গ্যারান্টি এবং ৫ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সেবার সুবিধা পাচ্ছেন ক্রেতারা। গ্রাহকদের দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা পৌঁছে দিতে ওয়ালটনের রয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সার্ভিস এক্সপার্টস টিম ও আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এর আওতায় দেশব্যাপী বিস্তৃত ৮০টিরও অধিক সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকদের সবচেয়ে কম সময়ে সর্বোচ্চ লেভেলের বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Buy Walton TV and get air tickets till Chandrarat

ওয়ালটন টিভি কিনে এয়ার টিকিটের সুযোগ চাঁদরাত পর্যন্ত

ওয়ালটন টিভি কিনে এয়ার টিকিটের সুযোগ চাঁদরাত পর্যন্ত
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৫ জন ক্রেতা ওয়ালটন টিভি কিনে এয়ার টিকিট ফ্রি পেয়েছেন।

ঈদে ক্রেতাদের বিশেষ উপহার স্বরূপ টেলিভিশন ক্রয়ে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকার এয়ার টিকিট ফ্রি পাওয়ার সুবিধা দিচ্ছে দেশের সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৫ জন ক্রেতা ওয়ালটন টিভি কিনে এয়ার টিকিট ফ্রি পেয়েছেন।

ওয়ালটন টিভির ব্র্যান্ড ম্যানেজার খন্দকার আশিকুল হাসান জানান, ঈদ উৎসবে দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম কিম্বা অনলাইন সেলস প্লাটফর্ম ‘ই-প্লাজা’ থেকে বেসিক এলইডি বা স্মার্ট টিভি কিনে ক্রেতারা ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা’র এয়ার টিকিট ফ্রি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে চাঁদরাত পর্যন্ত অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন ক্রেতারা। এরইমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, কালিয়াকৈর, মুন্সীগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুরে ৩৫ জন গ্রাহক ওয়ালটন টিভি কিনে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা’র এয়ার টিকিট ফ্রি পেয়েছেন। আগামী কয়েকদিনে আরো অসংখ্য ক্রেতা এই সুবিধা পাবেন বলে আশা করছি।

ওয়ালটন টিভির চিফ বিজনেস অফিসার মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, টেলিভিশন ক্রেতাদের ঈদের আনন্দ ও বিনোদনকে আরো বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা’র এয়ার টিকিট ফ্রি দেয়ার এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই সুবিধার পাশাপাশি দেশব্যাপী চলমান ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২০’ এর আওতায় ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ‘ননস্টপ মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার সুযোগ। অর্থাৎ ওয়ালটন টিভি কিনে ক্রেতারা পেতে পারেন নগদ ১০ লাখ টাকা। রয়েছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত ক্যাশব্যাক।

ওয়ালটন টিভির প্রোডাক্ট ম্যানেজার তানভীর মাহমুদ শুভ জানান, ঈদে বাজারে রয়েছে ওয়ালটনের বিভিন্ন সাইজের ৪৮টি মডেলের টিভি। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ালটনের বিভিন্ন সাইজের বেসিক এলইডি টিভিসহ এন্ড্রয়েড-১১ অপারেটিং সিস্টেমের গুগল টিভি, ওয়েবওএস এবং কুলিটা অপারেটিং সিস্টেমর স্মার্ট এলইডি টিভি। বাজারে মাত্র ১৯ হাজার ৯৯০ টাকায় ৩২ ইঞ্চি এবং ৩৩ হাজার ৯’শ টাকায় ওয়ালটনের ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট এলইডি টিভি কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

ওয়ালটন টিভি ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্টসহ ৫ বছর পর্যন্ত প্যানেল গ্যারান্টি ও ফ্রি বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন ক্রেতারা। আইএসও সনদপ্রাপ্ত দেশের সর্ববৃহৎ সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় দেশব্যাপী বিস্তৃত ৮২টি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে ওয়ালটন টিভির গ্রাহকদের দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রেস রিলিজ

আরও পড়ুন:
ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ৩৩তম মিলিয়নিয়ার হলেন রাজশাহীর মাদ্রাসাশিক্ষক আমিনুল
মার্চে ওয়ালটনের ৫০ লাখ টাকার ফ্যান রপ্তানি ভারতে
ওয়ালটনের নতুন সিরিজের স্মার্টফোন ‘নেক্সজি এন৯’ বাজারে

মন্তব্য

p
উপরে