× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Negative impact of economic crisis on capital market Shibli
hear-news
player
google_news print-icon

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে: শিবলী

অর্থনৈতিক-সংকটের-নেতিবাচক-প্রভাব-পুঁজিবাজারে-শিবলী
ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
‘নেগেটিভ ইম্প্যাক্টের কারণে মানুষ সেফটি মেজারস নেয়, যার কারণে বিনিয়োগ কমে গেছে।…হয়তো এখন আমরা সমালোচিত হচ্ছি, কিন্তু আমরা যে কাজ করেছি তার সুফল ভবিষ্যতে পাবেন।’

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে বলে মনে করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তিনি এ-ও মনে করেন যে, বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে লেনদেন কমে গেছে।

শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস দেয়ার কারণে লেনদেন কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা, সে বিষয়ে তিনি বলেছেন, বাধ্য হয়েই এটি দিতে হয়েছে। এটি তুলে নিলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি বাড়বে।

সোমবার রাজধানীতে অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারের বিষয় ছিল ‘প্রসপেক্টাস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট।’

২০২০ সালের মে মাসে শিবলী রুবাইয়াতের নেতৃত্বে বিএসইস পুনর্গঠিত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর পুঁজিবাজার ছিল চাঙা। তবে গত বছরের শেষ দিকে সংশোধন শুরু হওয়ার পর দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা সংকটের প্রভাবে টানা দরপতন হতে থাকে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে যেসব শঙ্কার কথা বলাবলি হচ্ছে, তার প্রভাবও পুঁজিবাজারে স্পষ্ট। টানা দরপতনের মধ্যে গত ৩১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফা ফ্লোর প্রাইস দিয়ে শেয়ারের দাম কমা ঠেকিয়েছে বিএসইসি, তবে ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে তিন শতাধিক কোম্পানি এখন ফ্লোরে পড়ে আছে। লাখ লাখ শেয়ারের কোনো ক্রেতা নেই। এই অবস্থায় লেনদেন নেমেছে তলানিতে। চাঙা বাজারে আধা ঘণ্টায় যত টাকা লেনদেন হতো, এখন সাড়ে চার ঘণ্টাতেও হয় না ততটা। শেয়ার বিক্রি করতে না পেরে হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী।

অর্থনীতি নিয় যে উদ্বেগের কথা বলাবলি হচ্ছে তা নিয়ে কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘নেগেটিভ ইম্প্যাক্টের কারণে মানুষ সেফটি মেজারস নেয়, যার কারণে বিনিয়োগ কমে গেছে।’

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে: শিবলী
প্রসপেক্টাস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে আলোচনায় বক্তারা

তবে সূচকের দিক দিয়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভালো রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন চাপের কারণে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভলাটিলিটির মধ্যে দিয়ে গেছে ঠিক, কিন্তু ভলাটিলিটি ইনডেক্স দেখলে বুঝতে পারবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো ছিলাম।’

ফ্লোর প্রাইস ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরে স্বার্থ রক্ষায়
শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেয়ার বিষয়ে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, পুঁজিবাজারের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর স্টক এক্সচেঞ্জে ৯০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বাকি ১০ শতাংশ রিটেইল। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো। আমাদের বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ইনভেস্টর থাকলে ফ্লোর প্রাইজ নিয়ে আমরা চিন্তাও করব না।

‘আমি আইওএসকোর (বিশ্বের বিভিন্ন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মোর্চা) একজন কর্মকর্তা, বিপাকে পড়ে আমাকে ফ্লোর প্রাইজের কথা ভাবতে হয়েছে। শুধুমাত্র রিটেইল ইনভেস্টরদের কথা ভেবে কমিশনকে ফ্লোর প্রাইজের কথা চিন্তা করতে হয়েছে। অনেক মানুষের মার্জিন থাকে। ফোর্স সেল হয়ে মানুষের সর্বনাশ হয়ে যেত।’

দায়িত্ব নেয়ার পর পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বর্তমান কমিশন কী কী করেছে, তারও বর্ণনা দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। ইটিএফ, বন্ড, কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মতো প্রোডাক্ট পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হয়তো এখন আমরা সমালোচিত হচ্ছি, কিন্তু আমরা যে কাজ করেছি তার সুফল ভবিষ্যতে পাবেন।’

বিনিয়োগ শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘বিনিয়োগারী এবং বাজার উভয়ের জন্য এটা জরুরি। সেজন্য স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা কীভাবে যুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

পুঁজিবাজারের ধীরগতি নিয়ে অন্যদের হতাশা

সেমিনারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার প্রধান ৬টি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পৃথিবীর আর কোনো দেশের সরকার প্রধান পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এত বেশি গুরুত্ব দেন কিনা আমার জানা নেই। বিএসইসিও ভালো কাজ করছে। শুধুমাত্র ইক্যুইটি মার্কেটে আটকে নেই। আমাদের বাজারে বন্ড, ডেট ইত্যাদি আসছে। তবে পলিসি সাপোর্ট এখনও অপর্যাপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভালো কোম্পানিগুলো ৯ শতাংশ বা এর কমে লোন পেয়ে যায় ব্যাংক থেকে। পুঁজিবাজারে আসলে তাকে বিভিন্ন ধরনের কমপ্লায়েন্স মানার পাশাপাশি ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ও অন্যান্য খরচ মিলে ১২ শতাংশ হয়ে যায়, তাহলে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ না নিয়ে ১২ শতাংশ নিয়ে পুঁজিবাজারে আসবেন?’

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে: শিবলী
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান

তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করহারের পার্থক্যকে সামান্য উল্লেখ করে এটি বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি। বলেন, ‘এটা বাড়ালে আরও অনেকেই বাজারে আসতে চাইবে।’

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে বিনিয়োগের প্রয়োজন, তার সিংহভাগই আসতে হবে পুঁজিবাজার থেকে। স্বাধীনতার পরে প্রাইভেট সেক্টরে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তার সবই ব্যাংক থেকে হয়েছে। অথচ এটা হওয়া উচিত ছিল পুঁজিবাজার থেকে।’

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ হারে সুদে ঋণ নিয়েও পরিশোধ করতে হয়েছে। অনেকেই হয়তো পারেনি। যার কারণে এনপিএলের (খেলাপি ঋণ) পরিমাণ বেড়েছে এত হারে।

‘লং টার্মে আগে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে ঋণ পাওয়া যেত, এখন সেটা দশের নিচে চলে এসেছে। অন্যান্য ফ্যাসিলিটিজের ওপর প্রেসার আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুঁজিবাজারের মাধ্যমেই করতে হবে।’

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে: শিবলী
চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলোর মোর্চা বিএপিএলসির সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ করবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো। তারা বিনিয়োগ করবে কীভাবে? তাদের কাছে তো টাকা নাই। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংক সময় বেঁধে দেয়। যে মুনাফা হয় তা প্রফিশন বিল্ড আপ করতেই চলে যায়। তাহলে পুঁজিবাজারে ইনভেস্ট করবে কীভবে?’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব মার্কেটই তিন বছর ধরে ওঠানামা করছে, আমাদের মার্কেটেও তাই হচ্ছে। ধারাবাহিক উত্থান বা পতন প্রত্যাশা করা যায় না।’

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে: শিবলী
বিএপিএলসির সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন- বিএমবিএর সহসভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন ক্রাইসিস মুহূর্তে দেখি, বা মিডিয়াতে আসে, বিভিন্ন ধরনের স্কিম তৈরি করা হয় যে, কারা কত শেয়ার কিনবে বা বিনিয়োগ করবে। এই ডিমান্ড ড্রিভেন পলিসি খুবই শর্ট লিড। এটা অন্যান্য জায়গায় কাজ করে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মেরিট বেসড বা ভ্যালু বেসড ইনভেস্টমেন্ট হয় না। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মানসিকতা থাকে না। স্পেকিউলেটিভ ইনভেস্টমেন্ট হয়। কারণ যখন কেউ দেখে রাতারাতি কোনো শেয়ারের ভ্যালু বেড়ে যাচ্ছে। তখন এই স্পেকিউলেশন প্রবৃদ্ধি জেগে ওঠে। সবাই প্রাইস গেই করতে চায়, লং টার্মে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না।’

ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সাংবাদিক মোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ওয়ালটনের হাত ধরে ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে দেশ: বিএসইসি চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে জালিয়াতির সুযোগ দেয়া হবে না: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে বিআইসিএমের ভূমিকা রয়েছে’
পুঁজিবাজার নিয়ে সঠিক তথ্যের প্ল্যাটফর্ম চাই: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঝুঁকি, মার্জিন ঋণ নয়: শিবলী রুবাইয়াত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The price of gold decreased by 1167 rupees

স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিতে ১১৬৭ টাকা

স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিতে ১১৬৭ টাকা
বাজুস নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯২ হাজার ২৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৮৮ হাজার ৬৩ এবং ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬৬ টাকা।

দাম বৃদ্ধির রেকর্ড করার পর স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের ভরি ৯২ হাজার ২৬২ টাকায় নেমে এসেছে, যা ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। সে হিসাবে ভরিতে দাম কমেছে ১ হাজার ১৬৭ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস এই নতুন দর নির্ধারণ করে দিয়েছে। রোববার থেকেই সারা দেশে তা কার্যকর হবে। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়।

তাতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দেশের বাজারে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হ‌য়ে‌ছে।

নতুন দর অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৯২ হাজার ২৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৮৮ হাজার ৬৩ টাকা করা হয়েছে। আর ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬৬ টাকা।

এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার ৮৬৯ টাকা। শনিবার পর্যন্ত ভালো মানের স্বর্ণের দাম ছিল ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা। ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি বিক্রি হয়েছে ৮৯ হাজার ১৭১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৫৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৬৩ হাজার ৬৮৫ টাকা।

আরও পড়ুন:
ভারতে পাচারকালে ৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ
স্মারক স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার দাম বাড়ল
ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ, ভরি ৯০,৭৪৬ টাকা
স্বর্ণের ভরি ৮৮ হাজার টাকা ছাড়াল
যাত্রীর সঙ্গে আনা এয়ার ফ্রায়ারে মিলল দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Power deal with Adani strange Rehman Sobhan

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি অদ্ভুত: রেহমান সোবহান

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি অদ্ভুত: রেহমান সোবহান মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে শনিবার সানেম সম্মেলনের দ্বিতীয় বৈঠকে মূল আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশকে আদানির অস্ট্রেলিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা বহনের দাম দিতে হচ্ছে। ভারত থেকে আদানির বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের বাড়তি খরচ হচ্ছে কয়লার উৎসের কারণে। চুক্তিটি নিয়ে আমাদের পুনরায় আলোচনা করা উচিত।’

আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিকে অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ একইসঙ্গে বলেছেন, চুক্তিটি পর্যালোচনা করা দরকার।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।

রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে রোববার।

সম্মেলন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, ‘আদানির বিষয়টি আমি পত্রিকায় দেখেছি। যতটুকু মনে পড়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করার কথা ছিল আদানির। আর সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা আসার কথা ছিল ভারত থেকে।

‘ভারতে শিল্প গ্রুপটি পরে অস্ট্রেলিয়ায় কয়লার খনিতে বিনিয়োগ করে। কিন্তু সেটা ভাল বিনিয়োগ ছিল না। সেখানে তারা খারাপ করছিল। এখন অস্ট্রেলিয়ার সেই খনি থেকে কয়লা ভারতে আসবে। এখানে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা বহনের দাম দিতে হচ্ছে। এটি একটি অদ্ভুত চুক্তি। আদানির বিদ্যুৎ আমদানিতে এই বাড়তি খরচ হচ্ছে কয়লার উৎসের কারণে। আমাদের চুক্তিটি নিয়ে আবার আলোচনা করা উচিত।’

ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসার কথা আগামী ২৬ মার্চ থেকে। কিন্তু আদানি গ্রুপ গোড্ডা কেন্দ্রের কয়লার দাম নিয়ে কারসাজি করেছে।

জাহাজ ভাড়াসহ গোড্ডায় ব্যবহৃত কয়লার দাম হওয়ার কথা আন্তর্জাতিক বাজারে ২০০ ডলার। অথচ তারা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে ৪০০ ডলারে বিক্রির জন্য চিঠি দিয়েছে। প্রকৃত দাম থেকে কারসাজি করে টনপ্রতি ২০০ ডলার বাড়তি নিতে চাইছে আদানি গ্রুপ।

কয়লার দাম বেশি কেন চাওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে পিডিবি আদানিকে চিঠি দিয়েছে। একইসঙ্গে পিডিবি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) সংশোধন চেয়েছে।

এমন বাস্তবতায় শনিবার বাংলাদেশের এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে কথা বললেন।

সানেমের দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলন শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। প্রথম দিন ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকটি ছিল ‘রোইং এগেইনস্ট দ্য টাইড’।

এই বৈঠকে মূল আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রিজার্ভ কমা বড় সমস্যা নয়, প্রবণতাটাই বড় কথা: ওয়াহিদউদ্দিন

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তার বক্তব্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ নিচের দিকে নামতে থাকলে তা ঠেকানো কঠিন। দেশের রিজার্ভ একসময় ৩০০ কোটি ডলারও ছিল। তাই বলছি, পরিমাণ অনেক সময় বড় সমস্যা নয়, প্রবণতাটাই বড় কথা।’

সম্মেলনে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ঋণ দিতে এবার আইএমএফ বেশি শর্ত দেয়নি।’

তার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘অনেক দশক ধরে দেখেছি, কাগজে সই করলেই কি খেলাপি ঋণ কমে যাবে? এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ব্যাপার।’

‘খেলাপি ঋণ কমানোর শর্ত দেয়ার মাধ্যমে আইএমএফের আমলাতন্ত্র খুশি, আমরাও খুশি।’

সম্মেলনের শেষ দিন রোববার অনুষ্ঠিত হবে ১৩টি বৈঠক। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ বণ্টনে নয়ছয় হয়েছে: সানেম
লকডাউনে পোশাকশ্রমিকের ৪ শতাংশের জন্য পরিবহন
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাসে চিড়
শ্রমিকদের বিদেশ যেতে বাধা মাত্রাতিরিক্ত ফি: সানেম
করোনার ক্ষতি কাটিয়েছে ৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান: সানেম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
What is the reason for 5 times price increase of sea pearl in 6 months?

৬ মাসে সি পার্লের ৫ গুণ দরবৃদ্ধির কারণ কী

৬ মাসে সি পার্লের ৫ গুণ দরবৃদ্ধির কারণ কী
অনেকেই মনে করেন, দরবৃদ্ধির পালে হাওয়া দিয়েছে মুনাফা বৃদ্ধি ও আরেকটি কোম্পানির অংশীদারত্ব কেনার বিষয়টি। তবে এ খবর সামনে আসার কয়েক মাস আগে থেকেই হু হু করে দর বাড়ছে সি পার্লের।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির আয় বা উৎপাদন বাড়ার বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দরবৃদ্ধি পাওয়ার মতো কোনো খবরও সামনে আসেনি। তবে ৬ মাসে ৫ গুণের বেশি দরবৃদ্ধির পর জানা গেল মুনাফা বৃদ্ধি এবং আরেকটি কোম্পানির অংশীদারত্ব কিনছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানিটির নাম সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। মালিকানায় রয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর পরিবার। গত ৬ মাসে সি পার্লের শেয়ারদর বেড়েছে ৫১৮ শতাংশের বেশি। আর চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৩৮৬ শতাংশের বেশি।

অনেকেই মনে করেন, দরবৃদ্ধির পালে হাওয়া দিয়েছে মুনাফা বৃদ্ধি ও আরেকটি কোম্পানির অংশীদারত্ব কেনার বিষয়টি। তবে এ খবর সামনে আসার কয়েক মাস আগে থেকেই হু হু করে দর বাড়ছে সি পার্লের।

বিনিয়োগকারীদের অনেকে বলছেন, কোম্পানির এসব ইতিবাচক খবর আগেই ফাঁস করে শেয়ারদর বাড়িয়ে নেয়ার কৌশল নতুন নয়। এভাবে দর বাড়িয়ে পরবর্তী সময় শেয়ার বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেন তারা।

সম্প্রতি সি পার্লকে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডসের (বিডি ওয়েল্ডিং) ৩০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। উৎপাদন বন্ধ ও বিগত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করা বিডি ওয়েল্ডিংয়ের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে বর্তমানে ৩১ দশমিক ০১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার আইসিবির কাছে আছে। সি পার্লের ৩০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য আইসিবির কাছে থাকা সব শেয়ার সি পার্লের কাছে বিক্রি করে দেয়া হবে। বাকি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার এমডি ও পরিচালকদের কাছ থেকে বিক্রি করা হবে।

যদিও ওই কোম্পানিটি সরাসরি সি পার্ল অধিগ্রহণ করছে না। এর অংশীদারত্ব কিনবেন সি পার্লের পরিচালক মেয়র ইকরামুল হক টিটু, তার ভাই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল হক শামীম ও ভাতিজা সামিউল হক সাফা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সি পার্লের কোম্পানি সচিব আজাহারুল মামুন বলেন, ‘কোম্পানির মালিকানা আমরা অর্থাৎ সি পার্ল কিনছে এমন নয়, আমাদের মালিকপক্ষ ব্যক্তিগতভাবে কিনছেন।’

গত মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) নিট মুনাফা হয়েছে ৪২ কোটি ২৭ লাখ টাকা, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা। আগের অর্থবছরে একই সময়ে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অর্থাৎ ইপিএস ছিল ৭২ পয়সা। সেই হিসাবে ৬ মাসে ইপিএস বেড়েছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা বা ৩৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

আর চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) নিট মুনাফা হয়েছিল ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট মুনাফা হয়েছিল ৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বা ইপিএস ছিল ৮১ পয়সা। এ হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা বা বা ১৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ১৭ পয়সা।

অন্যদিকে ২০২২ সালের ৩১ জুলাইয়ে কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪৫ টাকা ৯০ পয়সা। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারিতে দর দাঁড়ায় ২৮৩ টাকা ৮০ পয়সায়। অর্থাৎ এই সময়ে বেড়েছে ২৩৭ টাকা ৯০ পয়সা বা ৫১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এরপর কয়েক দিন দরপতন হলেও বুধবার ৫ টাকা ৭০ পয়সা ও বৃহস্পতিবার ১ টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে শেয়ারদর অবস্থান করছে ২৭১ টাকায়।

কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিষয়ে মাসুম জামান নামের বিনিয়োগকারী বলেন, ‘এ রকম ক্ষেত্রে যেমনটা দেখেছি যে, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আগেই পজেটিভ নিউজগুলো লিক করে শেয়ারদর বাড়িয়ে নেয়। তার পর শেয়ার বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। অতীতে এ রকম অনেক হয়েছে।’

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, ‘এক দিনে দর বাড়েনি। অনেক দিন থেকেই দর বাড়ছে সি পার্লের। নতুন কোম্পানি অধিগ্রহণের খবরে বেড়ে থাকতে পারে।’

শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে সি পার্লের কোম্পানি সচিব আজাহারুল মামুন বলেন, ‘মার্কেটে কেন শেয়ারদর বাড়ছে, সেটার পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে নজরদারিতে আদানির তিন প্রতিষ্ঠান
ইউএফএসের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতে আইসিবির মামলা
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রভিশন কমল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
ICB case for embezzlement of Tk 207 crore from UFS

ইউএফএসের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতে আইসিবির মামলা

ইউএফএসের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতে আইসিবির মামলা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইউএফএস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
২০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ইউএফএস) লিমিটেডসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

চারটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১৫৮ কোটি টাকা নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরার হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পর আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি)। তবে এবার জানা গেল লোপাট করা অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

২০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ইউএফএস) লিমিটেডসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আইসিবি। ১১ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খতিয়ে দেখছে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ইউনিভার্সেল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে আইসিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।’

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আত্মসাৎ করার অপরাধ চিহ্নিত হয়েছে। আত্মসাৎকৃত ২০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উদ্ধার করতে এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ইউএফএস, ইউএফএসের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমগীর ফারুখ চৌধুরী, কোম্পানির এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীর, পরিচালক ইসরাত আলমগীর, আলিয়া হক আলমগীর, মাহিদ হক, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, মোসাম্মত উম্মে ইসলাম সোহানা, সৈয়দা শেহরীন হোসেন, তারিক মাসুদ খান, সৈয়দা মেহরীন হুসেইনসহ অজ্ঞাতনামাসহ অনেকে।

এর আগে চারটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নিয়ে ১৩ অক্টোবর দুবাই পাড়ি জমান প্রতিষ্ঠানটির এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীর। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে তহবিল সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে।

এই জালিয়াতির ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রতিবেদন জালিয়াতি এবং ভুয়া এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিড রেট) দেখিয়ে বিএসইসিকে অন্ধকারে রাখা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৪ বছর নিষ্ক্রিয় ছিল ফান্ডের ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান (গ্যারান্টি দেয়া প্রতিষ্ঠান) আইসিবি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এ খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ২ জানুয়ারি এমডির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চায় হাইকোর্ট। পাশাপাশি সৈয়দ আলমগীরের দুবাই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও আইসিবিকে ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়।

৩ জানুয়ারি ইউএফএস ও এর এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ ১৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা জব্দ করা হয়। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ কথা জানিয়ে চিঠি পাঠায়।

এ তালিকায় নাম আছে ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস লিমিটেড, ইউএফএসের এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীর, আলিয়া হক আলমগীর, মাহিদ হক, তারেক মাসুদ খান, মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, মোসা. উম্মে ইসলাম সোহানা, ইশরাত আলমগীর, সৈয়দা মেহরীন রহমান, সৈয়দ আলমগীর ফারুক চৌধুরী ও সৈয়দা শেহরীন হুসাইনের।

অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার তালিকায় আরও আছে- ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড ৩৮, ইউএফএস-ব্যাংক এশিয়া ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ফান্ড।

এদিকে বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের স্বার্থে ইউএফএস ও তাদের সব ফান্ডের নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করা হয়। বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়, ইউএফএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় চারটি ফান্ড ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড ও ইউএফএস-ব্যাংক এশিয়া ইউনিট ফান্ডের নিরীক্ষা করে আসছে আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। নিরীক্ষক মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অনুসন্ধানের জন্য তদন্তের শুনানিতে উপস্থিত হয়নি। এ থেকে স্পষ্ট যে, তদন্ত কমিটির সঙ্গে নিরীক্ষক অপেশাদার আচরণ করেছে। তাই, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২০-এ দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ম্যানেজার, ট্রাস্টি, কাস্টোডিয়ান, ইস্যুকারী এবং সম্পদ ব্যবস্থাপককে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে যে, নিরীক্ষক আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে ইউএফএসের অধীনে থাকা কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নিরীক্ষার অনুমতি দেয়া হবে না। কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে, নিরীক্ষককে কোনো মিউচুয়াল ফান্ড এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষক হতে অনুমতি দেবে না কমিশন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জারি থাকবে।

এ ছাড়া কোম্পানিটির ফান্ড সংশ্লিষ্টদের কাছে ২৩টি তথ্য চায় কমিশন, যা ৮ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছিল। বিএসইসির চিঠিতে যেসব তথ্য চাওয়া হয়ে, সেগুলো হলো-ইউএফএসের ব্যবস্থাপনার ইউএফএসইপিএল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং ইউএফএসইপিএল প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডের আগের ও বর্তমানের সব আর্থিক প্রতিবেদন, ফান্ড দুটির সব ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য, ফান্ড দুটিতে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও তাদের ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ফান্ডগুলোর গ্রাহক ও তাদের টাকার পরিমাণের তথ্য, ফান্ড দুটিতে বিনিয়োগ কমিটির সদস্যদের তালিকা।

সে সঙ্গে ফান্ড দুটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে সেগুলো ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ জমা দিতে বলা হয়। ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিওতে থাকা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

ফান্ড দুটির বিনিয়োগের অবস্থা এবং নির্দিষ্ট সীমার বিষয়ে প্রকাশ করা তথ্য, অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ফান্ড দুটির বিনিয়োগের বিষয়ে ট্রাস্টি থেকে প্রাপ্ত কনসেন্ট লেটার, ফান্ডগুলোর সম্পদ মূল্য ও শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা ফি এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছিল।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Provision reduced to increase bank investment in capital market

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রভিশন কমল

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রভিশন কমল ফাইল ছবি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকগুলো ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ডিলারদের ঋণ দিয়ে থাকে। সেখানে আগে অশ্রেণিবদ্ধ ঋণে ২ শতাংশ প্রভিশন রাখার নিয়ম ছিল। এখন থেকে ১ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে।’

ব্যাংকগুলো দেশের ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে ঋণ দিয়ে থাকে তার ওপর প্রভিশন ১ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের বিনিয়োগ টানতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে এর কতটা ইতিবাচক প্রভাব প্রভাব তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

তাতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ডিলারদের ঋণ দিয়ে থাকে। সেখানে আগে অশ্রেণিবদ্ধ ঋণে ২ শতাংশ প্রভিশন রাখার নিয়ম ছিল। এখন থেকে ১ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে।

বিআরপিডি’র পরিচালক মাকসুদা বেগম বলেন, ‘দেশের আর্থিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে থেকেও এমনটা দাবি ছিল। দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে আমরা একটু আকর্ষণীয় করতে চেয়েছি। আমরা দেখলাম যে বিবেচনা করার মতো সুযোগ আছে। এর ফলে ব্যাংকের যে খুব একটা লোকসান হবে তা কিন্তু না। বরং এর ফলে দেশের পুঁজিবাজার যদি চাঙ্গা হয় তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।’

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর জন্য দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আর একটু আকর্ষণীয় করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর ফলে যে খুব বেশি ইমপ্যাক্ট হবে তা আমি মনে করি না।’

দ্য এসোসিয়েশন অফ ব্যাংকারস, বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘ব্যাংক কোথায় কত বিনিয়োগ করবে তা নির্ভর করছে তাদের পরিকল্পনার ওপর। এই পদক্ষেপে যে বড় কোনো পরিবর্তন হবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘এখন আগের তুলনায় প্রভিশন কম করতে হবে। আগে ব্যাংকগুলো ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ডিলারদের ঋণ দিলে এর ওপর ২ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হতো। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিলে তাকে ২ কোটি টাকা প্রভিশন রাখতে হতো। এখন ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিলে ১ কোটি টাকা প্রভিশন রাখতে হবে। ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ঋণ ১০০ কোটি টাকাই দিচ্ছে। শুধু ব্যাংক প্রভিশন কম রাখবে।’

আরও পড়ুন:
লেনদেন বেড়েছে শত কোটির বেশি, আপাত স্বস্তি
হ্যাটট্রিক পতন পুঁজিবাজারে
সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন
সূচকের সঙ্গে কমল লেনদেনও
ডিএসই’র সতর্কতার পরও ছুটছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh received the first installment of the IMF loan

আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ

আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ
বিশ্ব আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান মোড়ল এই সংস্থার কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছিল, সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত সোমবার সংস্থাটি তার চেয়েও বেশি ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় আইএমএফ। প্রথম কিস্তির ঋণ যেকোনো মুহূর্তে ছাড় করা হবে বলে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই ঋণের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে জমা হলো, বেড়ে গেলো বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক রিজার্ভ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বহুল প্রতিক্ষিত ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথম কিস্তির এই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে যোগ হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক। এর ফলে রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে বলে জানান তিনি।

মেজবাউল হক বলেন, ‘আমরা আইএমএফ ঋণের প্রথম কিস্তি পেয়েছি। প্রথম বারে আমরা ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছি। এর পরের বাকি ৪২২ কোটি ৪০ লাখ ডলার আমরা সমান ছয়টি কিস্তিতে পাবো। প্রতি কিস্তিতে আসবে ৭০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, তবে পরের কিস্তি কবে আসবে এখন সেটা বলা যাচ্ছে না।’

বিশ্ব আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান মোড়ল এই সংস্থার কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছিল, সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত সোমবার সংস্থাটি তার চেয়েও বেশি ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় আইএমএফ। প্রথম কিস্তির ঋণ যেকোনো মুহূর্তে ছাড় করা হবে বলে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই ঋণের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে জমা হলো, বেড়ে গেলো বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক রিজার্ভ।

দুই বছরের করোনা মহামারি ও এক বছরের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কার বড় চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বাংলাদেশ গত বছরের জুলাই মাসে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ চেয়েছিল, আইএমএম তার চেয়েও ২০ কোটি ডলার বেশি অর্থাৎ ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলার দেয়। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তরে এই ঋণ অনুমোদন করে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ।

গত মঙ্গলবার আইএমএফের ওয়েবসাইটে এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার তাৎক্ষণিকভাবে ছাড় করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএমএফ। ২ দশমিক ২ শতাংশ সুদে নেয়া এই ঋণ আসবে সাত কিস্তিতে। শেষ কিস্তি আসবে ২০২৬ সালে।

৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ পেতে ও চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার কয়েক মাস ধরেই সংস্কার কর্মসূচি পরিচালনা করছে। চলতি জানুয়ারিতে যখন আইএমএফের ডিএমডি অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ বাংলাদেশ সফরে আসেন, তখন এসব সংস্কারে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মৌলিক এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিও আইএমএফের ডিএমডি গুরুত্বারোপ করেন তখন।

আইএমএফও তাদের বিবৃতিতে বলেছে, করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল বাংলাদেশ, কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাতে বৈদেশিক বাণিজ্যে চলতি হিসাব ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, টাকার মান কমে গেছে এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। সাম্প্রতিক এই অর্থনৈতিক জটিলতাগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একগুচ্ছ সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে, প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি করতে হলে তাতৎক্ষণিক এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলোকেও আমলে নিতে হবে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
LPG 12 kg cylinder price increased by Tk 266

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৬৬ টাকা

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৬৬ টাকা দোকানে সাজিয়ে রাখা এলপিজি সিলিন্ডার। ফাইল ছবি
ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি জানুয়ারি মাসে ছিল ‍১ হাজার ২৩২ টাকা। এর অর্থ হলো ফেব্রুয়ারিতে এসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২৬৬ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে সরকার।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি জানুয়ারি মাসে ছিল ‍১ হাজার ২৩২ টাকা। এর অর্থ হলো ফেব্রুয়ারিতে এসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২৬৬ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে। প্রতি ইউনিট অটো গ্যাস এখন থেকে বিক্রি হবে ৬৯.৭১ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতি মাসেই এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।

সংস্থাটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করেছিল।

এর আগের দুই মাসে জ্বালানিটির দাম বাড়ায় বিইআরসি।

গত বছরের ডিসেম্বরে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৯৭ টাকা ঠিক করেছিল সংস্থাটি।

এর আগে নভেম্বরে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৫১ টাকা।

আরও পড়ুন:
২ মাস কমার পর এলপিজির দাম বাড়ল কেজিতে ১ টাকা
দুই মাসে এলপিজির দাম কমল ১৯৭ টাকা
আখাউড়া দিয়ে ত্রিপুরায় গেল ৩৬ টন এলপিজি
তিন মাস বাড়ার পর কমল এলপিজির দাম
‘যুদ্ধের প্রভাবে’ আবার বাড়ল এলপিজির দর

মন্তব্য

p
উপরে