× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC continues to try and wait for the war to end
hear-news
player
google_news print-icon

চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি, যুদ্ধ শেষের অপেক্ষা

চেষ্টা-চালিয়ে-যাচ্ছে-বিএসইসি-যুদ্ধ-শেষের-অপেক্ষা
বিএসইসির কমিশন সভা। ছবি: নিউজবাংলা
২০২০ সালের মে মাসে বিএসইসির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা আগে নেয়া হয়নি, তবে ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পুঁজিবাজার ক্রমেই গতিহীন হয়ে পড়েছে। অথচ যেসব পরিবর্তন গত দুই বছরে হয়েছে, তাতে পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি বেশ হতাশাজনক, তবে ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টানা উত্থান বিনিয়োগকারীদের বেশ আশাবাদী করেছিল।

এরপর নানা ইস্যুতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে মতভিন্নতার প্রভাবে টানা কয়েক মাস সংশোধন শেষে নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলে। সেটি প্রথমে ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রুশ হামলা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আর বিশ্ব অর্থনীতিতে নামে বিপর্যয়।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাবে ভুগতে থাকে দেশের পুঁজিবাজার। ব্যক্তি-শ্রেণির যে বিনিয়োগকারীরা আছেন, তারা বিনিয়োগের মূলতত্ত্বের বাইরে গিয়ে গুজব, গুঞ্জনে কান দেন বেশি। নানা সময় দেখা যায়, তারা গুজবে শেয়ার কেনেন; আতঙ্কে বেচেন। অথচ পরিস্থিতি এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।

২০২০ সালের মে মাসে বিএসইসির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা আগে নেয়া হয়নি। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু কোম্পানিতে প্রাণ ফিরেছে কমিশনের উদ্যোগে।

কয়েকটি কোম্পানিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিছু কোম্পানি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসিতে পাঠিয়ে দেয়া কয়েকটি কোম্পানি ‍মুনাফায় ফেরার পর পুঁজিবাজারেও ফিরেছে।

যেসব কোম্পানি টাকা তুলে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে ডি লিস্টিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে তারা বিনিয়োগকারীদের তাদের টাকা ফিরিয়ে দেবে।

বেশ কিছু আইন-কানুন, বিধিবিধান সংস্কার করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। কোম্পানিগুলোকে বোনাস লভ্যাংশের বদলে নগদ লভ্যাংশ দিতে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।

সংকটের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দিয়ে পুঁজির সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে, যে অস্ত্র এখন পর্যন্ত দুবার প্রয়োগ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাজারে কারসাজির কারণে নিয়মিত শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ কমিশনের চেষ্টা ও বারবার আলোচনার পর বিনিয়োগকারীদের এক যুগের একটি দাবিও পূরণ হয়েছে। ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার গণনা শেয়ারের বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে নির্ধারণের কারণে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে কমিশনের উদ্যোগ দৃশ্যমান। ফান্ডগুলো নগদে গত দুই বছর দারুণ লভ্যাংশ দিয়েছে। ইউনিটদরের তুলনায় তাদের লভ্যাংশ যেকোনো সঞ্চয়ী আমানতের চেয়ে বেশি।

বন্ড মার্কেট উন্নয়নেও কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। ইসলামী গ্রিন সুকুকের পাশাপাশি সরকারি ট্রেজারি বন্ডেরও লেনদেন শুরু হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ লভ্যাংশ নিশ্চিত করবে।

সবার জন্য আইপিও শেয়ার নিশ্চিত করাও কমিশনের উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন। এর আগে লটারি করে শেয়ার বণ্টন হতো। তাতে হাতে গোনা কয়েকজন পেতেন সুবিধা।

এত সব পরিবর্তন ও চেষ্টার পরও পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত গতিতে ছুটতে পারছে না। ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা অল্পতেই ভীত হন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

২০২০ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কমিশনার হিসেবে যোগ দেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান ও রুমানা ইসলাম। যোগ দেন সাবেক বাণিজ্যসচিব আব্দুল হালিমও।

এই কমিশন দায়িত্ব নেয়ার সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বা ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজারের নিচে। আর লেনদেন নেমে এসেছিল ১০০ কোটি টাকার নিচে।

১৫ মাসের মধ্যে সূচক বেড়ে হয় ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্ট, লেনদেন তিন হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এরপর ঘটে ছন্দঃপতন।

এর ওপর বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের হাত নেই, তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান মনে করেন, যুদ্ধ থামলেই মানুষের মনে আতঙ্ক কাটবে। তখন আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে পুঁজিবাজার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা মিসিং লিংকগুলো নিয়ে কাজ করেছি। অর্থাৎ যে জায়গাগুলোতে কাজ করা দরকার ছিল, কিন্তু করা হয়নি বা করা যাচ্ছিল না, তার সব জায়গায় হাত দিয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবে।’

তিনি বলেন, ‘রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে সাহায্য করার জন্য আরইআইটি করতে যাচ্ছি আমরা। বিশ্বব্যাংকের দেয়া ৯ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেশের পুঁজিবাজারকে পামটপে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ডিএসই ও সিএসইকে আধুনিক করার চেষ্টা করছি।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘বর্তমান কমিশন যত কাজ করেছে, চেষ্টা করেছে, এর আগে কেউ এত করেনি।’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কমিশন গণমাধ্যমে বিভিন্ন ইতিবাচক বক্তব্য প্রচার করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও বহু বছরের কাঙ্ক্ষিত সমন্বয়টা তারা তৈরি করতে পেরেছেন।’

স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন বা ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে কাজ শুরু করার পরপরই রিং সাইনের মতো কিছু কোম্পানিকে তারা শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছিল। এটা বেশ ভালো কাজ করেছিল দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে।

‘এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালকদের কমপক্ষে ২ শতাংশ ও সার্বিকভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ভালো ভূমিকা রেখেছে এই কমিশন। এটা দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে।’

এতগুলো উদ্যোগের পরও পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই কেন, এমন প্রশ্নে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএসইসি অনেক আইন করেছে, আবার অনেক কিছু দ্রুত পরিবর্তনও করছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। যেমন প্রি ওপেনিং সেশনের কথাই বলি। একবার এটি চালু হয়, একবার বন্ধ হয়। এসব বিষয়ে বিএসইসির আরও একটি সতর্ক হওয়া উচিত।’

ফ্লোর প্রাইস নিয়ে এখন গুজব চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসইসির সরাসরি ঘোষণা দেয়া উচিত যে আগামী তিন বা ছয় মাস আগে এই ফ্লোর উঠবে না। গুজব ঠেকাতে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।’

পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বন্ধ কোম্পানিতে ফিরছে প্রাণ

এমারেল্ড অয়েলের কথাই ধরা যাক। ২০১৬ সালের ২৭ জুন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কোম্পানিটি। বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারদর ছিল ৭০ টাকা। আর তা একপর্যায়ে নেমে আসে ৮ টাকায়।

আর কখনও পুঁজি ফিরে পাওয়া যাবে না, এমন শঙ্কার মধ্যে থাকা কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করার পর বদল হয় মালিকানা। ঘুরতে শুরু করে বন্ধ চাকা। দেশের বাজারে তেল বিপণন শুরুর পাশাপাশি জাপানে রপ্তানির স্বপ্নও ডানা মেলছে। বেশ কিছু মানুষের চাকরিও হয়েছে কোম্পানিতে। সরকার পাচ্ছে কর।

মৃত কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ফ্যামিলি টেক্সটাইলেও উৎপাদন ফেরানো হয়েছে একই প্রক্রিয়ায়। এমনকি ইউনাইটেড এয়ারকেও আবার আকাশে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৮টি কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠন করেছে, যার মধ্যে ২০টি কোম্পানি বর্তমানে তাদের কাজ চালু করেছে।

এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞা পরিবর্তন

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজারমূল্য নির্ধারণের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এক যুগ ধরে দেনদরবার করেও শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনা করতে রাজি করা যাচ্ছিল না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে, তবে গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি কৌশলী সিদ্ধান্ত নেয়।এতে বলা হয়, শেয়ারের ক্রয়মূল্যই বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফলে এখন ব্যাংকের কেনা শেয়ারের দর বেড়ে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি বেড়ে গেলেও এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করে গেছে বলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে না। এটি পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে এই পরিবর্তনে রাজি করতে বিএসইসি সংস্থাটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বারবার দেখা করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

কমিশনের সবচেয়ে বড় একটি সাফল্য ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো। ফলে বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। একটি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা গেছে যে ব্যাংক করবে কম সময়ের জন্য আর পুঁজিবাজার করবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন।

বন্ড মার্কেটের বিকাশ শুরু

অনেক দিন ধরে বলা হচ্ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা কম। দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে খুব বাস্তবমুখী কিছু সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিশন।

নতুন কমিশন আসার পর থেকে প্রচুর বন্ডের অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেসব বন্ড দেশের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে লেনদেনের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই নিয়ম না হলে এ ধরনের বন্ডের নাগাল বিনিয়োগকারীরা পেতেন না।

সরকারি সিকিউরিটি লেনদেন চালু করেছে নতুন কমিশন। এর ফলে এক দিনেই বাজার মূলধন বেড়েছে আড়ই লাখ কোটি টাকা। ফলে দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বেড়েছে।

শুধু শেয়ার দিয়ে বাজার বড় করা যাবে না- এই মন্ত্র মেনে বন্ডের পাশাপাশি কমডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপানের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে বসুন্ধরাকে পার্টনার হিসেবে পেয়েছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই)। সামনে বাংলাদেশে কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ আনছে তারা।

সবার জন্য শেয়ার

আইপিও থেকে লটারিব্যবস্থা তুলে দেয়া একটি বিরাট পরিবর্তন। লটারি থাকার সময় লাখো বিও হিসাব শুধু আইপিও করার জন্য ব্যবহৃত হতো। দেখা যেত পাওয়া যায় না বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবেদন করাই ছেড়ে দেয়।

আর আইপিও শিকারিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০০টি বা তার বেশি অ্যাকাউন্ট রাখতেন। লটারিতে শেয়ার পেয়ে লাভে বিক্রি করে দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা বের করে নিয়ে যেতেন।

নতুন নিয়মে পুঁজিবাজারে আইপিতে শেয়ার পেতে হলে বিনিয়োগ থাকতে হবে সেকেন্ডারি মার্কেটে। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার পাচ্ছেন।

ভালো কোম্পানি বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা বিমা ও ব্যাংকগুলোকে আনতে কাজ করেছে নতুন কমিশন। এর মধ্যে বেশে কয়েকটি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বাজারে আনা হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি রবিকে। বাংলালিংককে তালিকাভুক্তির চেষ্টাও চলছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে টাকা দেয়ার জন্য এসএমই মার্কেট চালু করেছে নতুন কমিশন। আর তালিকার বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনের জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু হবে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা এটিবি।

আইপিও অনুমোদনে সাবধানতা

গত কমিশনের সময় এক বড় অভিযোগ ছিল খারাপ কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

নতুন কমিশন বেশ গুরুত্ব দিয়ে এই ফুটো বন্ধ করার কাজে হাত দেয়। প্রথম আগের কমিশনের সময় আবেদন করা প্রায় ৮ থেকে ১০টি কোম্পানির আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়।

তবে শুধু আইপিও বাতিল করেই বসে থাকেননি। যেসব ভালো কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিতে চায় তাদের রাস্তা সহজ করতে অনেকগুলো অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

ফিন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বা এফআরসিকেও সচল করা হয়েছে যাতে কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিলে নীরিক্ষককে ধরা যায়।

পর পর দুই বাজেটে বর্তমান কমিশন বড় ভূমিকা রেখেছে করপোরেট কর কমিয়ে আনার জন্য। যাতে ভালো কোম্পানি বাজারে আসে।

অদাবীকৃত লভ্যাংশ দিয়ে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীর জন্য ঘোষিত যে লভ্যাংশ বিনিয়োগ না করার কারণে অলস পড়ে ছিল, সেগুলোতে একটি ছাতার তলে আনার উদ্যোগ এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। অদাবিকৃত এসব ল্যভাংশ দিয়ে কয়েক শ কোটি টাকায় গঠন করা হয়েছে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল।

এরই মধ্যে এই তহবিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে। বাজারে যাত্রা শুরু করেছে একটি মিউচুয়াল ফান্ড।

এটা অবশ্য ঠিক যে, শুরুতে যত টাকা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, পাওয়া গেছে তার একাংশই। এর কারণ কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিনিয়াগকারীদেরকে লভ্যাংশ নিয়ে যেতে বলার পর অনেক লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়।

তবে তহবিলে আরও টাকা জমা পড়ছে এবং বিপুলসংখ্যক শেয়ারও জমা পড়বে যেগুলোও বাজারের স্থিতিশীলতায় কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পুঁজিবাজারে সূচক বৃদ্ধির সময় বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখে বারবার ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। জরিমানা করা হয়েছে বারবার। এর মধ্যে আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের ১৪ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির প্রমাণ পেয়ে।

এই তদন্ত এখনও চলমান আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারসাজি করলে সাজা পেতেই হবে।

ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। নির্দেশনা জারি করে ডিএসই, বিএসইসি, সিএসই বা দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কিত লোগো কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। পাশাপশি বিএসইসির একটি টিম সার্বক্ষণিক নজর রাখছে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ওপরে।

ফ্লোর প্রাইস

এটির প্রথম প্রয়োগ অবশ্য করে আগের কমিশন। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হওয়ার পর শেয়ারদরে যখন ধস নামে, তখন প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর বাজারে দেখা দেয় ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। আর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় ফ্লোর প্রাইস।

এবারও একই কৌশলে শেয়ারদর ধরে রাখা হয়েছে। যদিও প্রায় তিন শ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসেও লেনদেন হচ্ছে না, তারপরও যেহেতু এগুলোর দরপতন ঘটছে না, বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’
শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Hat trick fall in the capital market

হ্যাটট্রিক পতন পুঁজিবাজারে

হ্যাটট্রিক পতন পুঁজিবাজারে ফাইল ছবি
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৯ পয়েন্টে।

মঙ্গলবার পতনের মধ্য দিয়ে টানা তিন দিন মূল্যসূচকের পতনে লেনদেন হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। দরপতন হলেও বেশিরভাগ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। কমেছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ। আরেক বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ডিএসইতে এদিন ৫৭৩ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন ডিএসইতে ৫০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৯ পয়েন্টে।

ডিএসইতে ৩২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬১টির। আরেক বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিচ সূচক সিএএসপিআই ১৯ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা

আরও পড়ুন:
সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন
সূচকের সঙ্গে কমল লেনদেনও
ডিএসই’র সতর্কতার পরও ছুটছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Although the index decreased the transaction increased

সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন ফাইল ছবি
ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৭৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৭০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৫ পয়েন্টে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। আরেক বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ডিএসইতে ৫০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি। রোববার ডিএসইতে ৪৮৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৭৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৭০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৫ পয়েন্টে।

৩৩৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭০টির।

আরেক বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৭ পয়েন্ট কমেছে। ১২ কোটি ৮৮ লাখ ৩২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সূচকের সঙ্গে কমল লেনদেনও
ডিএসই’র সতর্কতার পরও ছুটছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স
পুঁজিবাজারে কয়েক ঘণ্টায় ২ লাখ কোটি রুপি উধাও আদানির

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Kamal also trades with indices

সূচকের সঙ্গে কমল লেনদেনও

সূচকের সঙ্গে কমল লেনদেনও
ডিএসইতে রোববার ৪৮৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কম। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৫০৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনে শেষ হয়েছে লেনদেন। কমেছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণও। তবে এদিন দেশের অপর বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়ে লেনদেন হয়েছে।

ডিএসইতে রোববার ৪৮৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কম। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৫০৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৮৮ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭১ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক শূন্য দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩১ পয়েন্ট।

ডিএসইতে বেশিরভাগ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ৩৪৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭৫টির।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন ফান্ডের ইনজেকশন নেই। সেক্টরাল মুভমেন্টও হচ্ছে না। ফলে মার্কেট একই জায়গায় আবর্তিত হচ্ছে।’

অপর বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৫ পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচক সিএএসপিআই অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে। হাতবদল হয়েছে ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার। হাতবদল হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ৫৯টির ও অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে ৬২টির।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dhaka Insurance is running despite DSEs warning

ডিএসই’র সতর্কতার পরও ছুটছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স

ডিএসই’র সতর্কতার পরও ছুটছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স
ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ১৫ দিনের মধ্যে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ডিএসই থেকে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তা দেয়ার পরও কোম্পনিটির শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা না কমে আরও বেড়েছে।

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে ছিল ঢাকা ইন্স্যুরেন্স। সাধারণ বিমার এ কোম্পানিটির শেয়ার দরে সপ্তাহজুড়েই ছিল উল্লম্ফন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনার তথ্য বলছে, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীর কাছে গত সপ্তাহজুড়েই পছন্দের তালিকায় ছিল। আর এতে সপ্তাহ শেষে এ কোম্পানিটির শেয়ার সবার শীর্ষে উঠে আসে। এতে সপ্তাহজুড়েই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে।

জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম টানা বাড়ছে। এতে ১৫ দিনের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই থেকে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই সতর্ক বার্তা কোম্পনিটির শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা থামাতে পারেনি। বরং ডিএসইর বার্তা প্রকাশের পর দাম আরও বেড়েছে।

তথ্যে জানা যায়, ১২ জানুয়ারি ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ছিল ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর দাম বাড়তে বাড়তে ২২ জানুয়ারি ৫৭ টাকা ২০ পয়সা ওঠে। এ পরিস্থিতিতে ২৩ জানুয়ারি ডিএসই থেকে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তা প্রকাশ করা হয়।

ডিএসইর ওই সতর্ক বার্তায় বলা হয়, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের উত্তরে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদশীল তথ্য নেই।

এরপরও কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬৫ টাকায় উঠেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বেড়েছে ১৩ টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৫২ টাকা।

কোম্পানিটি ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০২০ সালে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এছাড়া ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৮ সালে ১৫ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৩৩ শতাংশ শেয়ার আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে আছে দশমিক ১০ শতাংশ।

শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ার বড় অঙ্কে লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার টাকার। আর প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সি পার্ল বিচ রিসোর্টের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ দাম বাড়ার মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে কয়েক ঘণ্টায় ২ লাখ কোটি রুপি উধাও আদানির
লেনদেন কমল শেয়ারবাজারে
  পুঁজিবাজারে সূচকের সামান্য উত্থান
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও অনুমোদন
আইন মানছে না বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Transactions are less in the stock market

লেনদেন কমল শেয়ারবাজারে

লেনদেন কমল শেয়ারবাজারে
সপ্তাহের শেষ দিন ডিএসইতে ৫০৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২২৯ কোটি ৬ লাখ টাকা কম।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের সামান্য উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেয়া ৫১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৫০৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২২৯ কোটি ৬ লাখ টাকা কম। বুধবার ৭৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে এদিন ৩৪৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৩টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭৮টির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএসই সার্বিক সূচক সিএসপিআই ১০ পয়েন্ট কমেছে। এদিন সিএসইতে ২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Slight rise in stock market indices

  পুঁজিবাজারে সূচকের সামান্য উত্থান

 
পুঁজিবাজারে সূচকের সামান্য উত্থান
ফাইল ছবি
বুধবার ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ২৯৩ দশমিক ৪০ পয়েন্ট। এদিন সহ মোট তিনদিন সূচক বেড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। তিন দিনে ডিএসই সূচক বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

সপ্তাহের চতুর্থ দিন বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচক সামান্য বেড়েছে। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বাড়লেও কমে গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)।

বুধবার ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ২৯৩ দশমিক ৪০ পয়েন্ট। এদিন সহ মোট তিনদিন সূচক বেড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। তিন দিনে ডিএসই সূচক বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

আর এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৭৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। ডিএসইতে সূচক আর লেনদেন বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমে গেছে।

বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৪৬টি শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩৮টির বা ১১ শতাংশের। দাম কমেছে ১২৯টির বা ৩৭ শতাংশের। দাম অপরিবর্তিত ছিল ১৭৯টির বা ৫২ শতাংশের।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৮ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট। আর এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এই লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। সিএসইতে সূচক বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমে গেছে।

বুধবার সিএসইতে মোট ১৭৪টি শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩৬টির বা ২১ শতাংশের।আর দাম কমেছে ৬৮টির বা ৩৯ শতাংশের। আর দাম অপরিবর্তিত ছিল ৭০টির বা ৪০ শতাংশের।

আরও পড়ুন:
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও অনুমোদন
আইন মানছে না বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার
উত্থানে লেনদেন পুঁজিবাজারে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trust Islami Life Insurance IPO approval

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও অনুমোদন

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও অনুমোদন
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। বিমা কোম্পানির অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু সেই শর্ত পূরণে এই কোম্পানিটির লেগে গেল প্রায় ৯ বছর। যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঘোষিত সময়ে পুঁজিবাজারে আসতে না পারলে নির্দিষ্ট হারে জরিমানা দেয়ারও বিধান রয়েছে।

পুঁজিবাজারে আসছে জীবন বিমা খাতের কোম্পানি ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

বুধবার কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে জনসাধারণের কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। এজন্য ১০ টাকা অবিহিত মূল্যের এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছাড়তে হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএসইসি জানায়, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকার একটা অংশ সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে। বাকি অংশ বিনিয়োগ করবে পুঁজিবাজার ও এফডিআরে। আর কিছু টাকা শেয়ার ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বা ইস্যু ব্যবস্থাপনার ব্যয় মেটাবে।

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। বিমা কোম্পানির অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু সেই শর্ত পূরণে এই কোম্পানিটির লেগে গেল প্রায় ৯ বছর। যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঘোষিত সময়ে পুঁজিবাজারে আসতে না পারলে নির্দিষ্ট হারে জরিমানা দেয়ারও বিধান রয়েছে।

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স মূলত জীবন বিমা করে থাকে। এছাড়া তারা গ্রুপ বিমা ও ক্ষুদ্র বিমাও রয়েছে তাদের সেবার তালিকায়। কোম্পানিটির ইস্যুব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মোট ৮১টি বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে জীবন বিমা ৩৫টি আর সাধারণ বিমা ৪৬টি। উভয় ধরনের বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখন পর্যন্ত পঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৫৬টি।

আরও পড়ুন:
আইন মানছে না বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার
উত্থানে লেনদেন পুঁজিবাজারে
সিএসইতে লেনদেন বাড়লেও ডিএসইতে কমেছে

মন্তব্য

p
উপরে