× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
SFIL will give maximum loan facility on Hyundai cars
hear-news
player
google_news print-icon

হুন্দাইয়ের গাড়িতে সর্বোচ্চ সুবিধা দেবে এসএফআইএল   

হুন্দাইয়ের-গাড়িতে-সর্বোচ্চ-সুবিধা-দেবে-এসএফআইএল-  
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
এসএফআইএলের এমডি ও সিইও ইরতেজা আহমেদ খাঁন বলেন, ‘সহজ শর্তে ও দ্রুততম সময়ে গ্রাহককে সেবা দেয়া ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি সেবাকে উন্নত পর্যায়ে নেয়াই এসএফআইএলের লক্ষ্য।’

সহজ ও দ্রুততম সময়ে গ্রাহককে অটো লোন দিতে সম্প্রতি ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (এসএফআইএল)।

এসএফআইএলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইরতেজা আহমেদ খাঁন এবং ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের পক্ষে হেড অফ ট্রেজারি জাহিদুল কবির চুক্তিতে সই করেন।

এ চুক্তির ফলে হুন্দাই ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি কিনলে এসএফআইএলের গ্রাহকরা পাবেন আকর্ষণীয় হারে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ সুবিধা।

এ বিষয়ে এসএফআইএলের এমডি ও সিইও ইরতেজা আহমেদ খাঁন বলেন, ‘সহজ শর্তে ও দ্রুততম সময়ে গ্রাহককে সেবা দেয়া ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি সেবাকে উন্নত পর্যায়ে নেয়াই এসএফআইএলের লক্ষ্য।’

ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের পরিচালক ও বিজনেস হেড অরিন্দম চক্রবর্তী বলেন, ‘এসএফআইএলের গ্রাহকদের জন্য আমরা হ্রাসকৃত আকর্ষণীয় মূল্যে হুন্দাই ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি প্রদান করব।’

চুক্তি সইয়ের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসএফআইএলের ডিএমডি তামিম মারজান হুদা, এসএভিপি ইমরান পারভেজ, অটো লোন ইনচার্জ সৈয়দ মাহফুজুর রহমান এবং ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
এসএফআইএলের দ্বিতীয় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
অর্থ সুরক্ষায় ব্যতিক্রম এসএফআইএল
এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু
এসএফআইএল-বিটিআই চুক্তি, বাড়তি সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা
এসএফআইএল ও নগদের মধ্যে চুক্তি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
AIIB is providing budget support of Tk 2500 crore this week

২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি

২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ। এই ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাওয়া যাবে। এই অর্থ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ করা হবে।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পাশাপাশি আরেক উন্নয়ন সহযোগী এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট সহায়তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে এআইআইবি। ইতোমধ্যে চুক্তির সার-সংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি সপ্তাহেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

জানা যায়, বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের জন্য ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে আইএমএফ। সাত কিস্তিতে মিলবে এই ঋণ। এর প্রথম কিস্তি আসবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্থ কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা এখনও পরিষ্কার করেনি বিশ্বব্যাংক। তবে এডিবি আরও ২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে। আগামী মার্চে এ‌ই ঋণ সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ। এই ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাওয়া যাবে। এআইআইবির বাজেট সহায়তা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ করা হবে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সার-সংক্ষেপ এলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ইআরডি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এই ২৫ কোটি ডলার পাওয়া গেলে প্রথমবারের মতো এআইআইবির কাছ থেকে ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৬ সালে এআইআইবির সদস্য হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮০ কোটি ডলার পেয়েছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Order to facilitate LC on import of daily commodities during Ramadan

রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ

রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট ও ইন্সপেকশন-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যাংকটির ঋণ তদারকি করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেই। এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।’

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিতে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি সহজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় দেশের তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা দেন গর্ভনর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘অর্থ পাচার রোধে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে। আর রোজার সময় কোনো পণ্যের যাতে ঘাটতি না হয় এবং মূল্য স্থিতিশীল থাকে সে জন্য তেল, চিনি, ডাল ও ছোলার এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘সভায় উপস্থিত ব্যাংকাররা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কোনো নীতি-সহায়তা দরকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেয়া হবে।’

মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক খাদ্যপণ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি ঋণ বিতরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। গত চার মাসে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার ৩৩ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। এটা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিয়ে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রতিবন্ধী-বান্ধব অ্যাপ চালু করে।’

তিনি জানান, ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে জনগণকে হয়রানি না করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এখন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে গেলে গ্রাহকের কাছে অর্থের উৎস বা বাড়তি প্রশ্ন জানতে চাইবে না ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনায় সম্মতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি জমা দিলে জাতীয় পরিচয়পত্র, টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইবে ব্যাংক।

মুখপাত্র বলেন, অর্থ পাচার রোধে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য ব্যবস্থাপনায় নজর রেখেছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, ঋণে ৯ শতাংশ সুদের হার নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

হুন্ডি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হুন্ডির চাহিদা যেখান থেকে তৈরি হয়, আমরা সেটা খোঁজার চেষ্টা করছি। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। ৯০ শতাংশ ব্যাংক নির্ধারিত ১০৭ টাকা দরে রেমিট্যান্স আনছে। কিছু ব্যাংক হয়তো বেশি দাম দিচ্ছে। এটা যেন না হয়। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট ও ইন্সপেকশন-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ইসলামী ব্যাংকের ঋণ তদারকি করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেই। এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে ভূমিকা সেটা তারা পালন করবে। কোনো গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে টাকা পায়নি এমন কোনো প্রমাণ তো পাওয়া যায়নি।’

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র‍্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘লোকাল কারেন্সির লিকুইডিটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কথা চলছে। প্রথম দিকে কিছু টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সব ব্যাংকিং সেক্টরে গ্রাহকরা আবার টাকা ফেরত দিচ্ছে। কাজেই দেশে কোনোরকম তারল্য সংকট বা ঝুঁকি নেই।’

আরও পড়ুন:
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর
ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন সংযোজন ‘বিনিময়’ শুরু রোববার
১৫ নভেম্বর থেকে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
We are doing well in the global situation

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রংপুর সার্কিট হাউসে রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশের অসচ্ছল এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

তিনি বলেন, ‘রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ আমদানির ব্যবস্থা করছেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্যাস বন্ধের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী
বিনিয়োগে পর্যাপ্ত সুযোগ ও নিরাপত্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী
‘শ্রমিকের ঘামের মূল্য রক্তের চেয়ে কম নয়’
সেপা চুক্তি হলে দু’দেশই লাভবান হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
If you keep the price of sugar high you will go to jail Commerce Minister

চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। ফাইল ছবি
টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন আমাদের ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে৷ এখন আমরা চিন্তা করছি, এর বাইরে যদি প্রয়োজন হয় জেলের ব্যবস্থা করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি দামে চিনি বিক্রি করলে তাকে প্রয়োজনে কারাগারে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে এক সভা শেষে রোববার তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান। গত নভেম্বরে চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা ঠিক, বাজারে যারা ব্যবসায়ী তারা ফেরেশতা না। কিন্তু আমরা যে দাম নির্ধারণ করে দেই, সেটা দিতে হবে তা কিন্তু নয়। দাম কত হওয়া উচিত সেটা নির্ধারণ করে দেই। তার পরও দেখি কোথাও কোথাও চিনি নিয়ে সুবিধা নিয়েছে। তবে আমাদের কাগজপত্র বলে প্রচুর পরিমাণ চিনি রয়েছে, পাইপলাইনেও আছে৷’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে৷ এখন আমরা চিন্তা করছি এর বাইরে যদি প্রয়োজন হয় জেলের ব্যবস্থা করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চিনির দামটা যেটুকু বেশি আছে, সেটা কমে আসবে। আজকে একটু কথা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে আসছে তাকে বলেছি, চিনির ওপর ডিউটি যদি একটু কমানো যায় বা কনসিডার করা যায় তাহলে দামের ওপর প্রভাব পড়বে বা দাম কমে যাবে।

‘আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি আছে। অন্য বছরের তুলনায় প্রচুর চিনি রয়েছে। আর আমদানি তো ওপেন আছে৷ বাজারে যা মজুত আছে, সেটা কোনো অবস্থায় দেশের জন্য বিপজ্জনক নয়। আমরা শুধু সাধারণ মানুষ যাতে কম দামে চিনি পায়, সে ব্যবস্থা করছি।’

গত মাসে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চিনি ও তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০২ ও প্যাকেটজাত চিনি ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাজারে সেই নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে না।

দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটা ভোক্তা অধিকার আছে, তারা সেটা দেখছে। আমরা আমাদের মতো করে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কে কী বলেছে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার দেখার বিষয় যে দাম হওয়া উচিত, যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা।’

তিনি বলেন, ‘যারা চিনি উৎপাদন করে তাদের নিয়মিত গ্যাস সাপ্লাই দরকার। সেখানে সমস্যা হলে তারা আর কাজ করতে পারবে না। আমরা সবাই জানি, কোথাও কোনো না কোনো সমস্যা আছে। আজকে সব কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরো ভালো করে দেখার জন্য আমরা চিন্তা করেছি, কিছু নির্ধারিত নির্দেশনা দিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করা হবে। শিগগিরই এই কমিটি করা হবে।

‘এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককেও বলেছি, তারা যদি একটি ক্রাইসিস সেল খোলে। এই সেল দেখবে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে। কেননা আমরা লক্ষ্য করছি, যতটা না সমস্যা হচ্ছে, তার থেকে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পত্রিকায় আসছে ১০০টি এলসি বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বলেছে। এ দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার এলসি হয়। এই ১০০টি এলসি বন্ধ হলো যে কারণে সেটা হলো, প্রতিটিই ছিল অতিমূল্যের জন্য। এই ১০০টির নিউজ বেশি করে হলো। অথচ ৯০০টি যে ভালোভাবে হলো, সেটা কেউ প্রচার করল না। এখানে সচেতন হতে হবে।

‘দেশে যদি কোনো আগাম পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রতি তিন মাসে আমরা এই কমিটির একটি সভা করব। আজকের আলোচনায় অনেক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের এলসি ওপেন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় যে যে সমস্যার কথা বলেছেন, যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রিলেটেড সেগুলো সব কিছু বাণিজ্যসচিব নোট করেছেন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আমাদের কর্মকর্তাদের পাঠাব৷ কোথায় কী অ্যাকশন নিয়ে কাজ হবে, প্রয়োজনে তাদের চিঠি দেব।’

আসন্ন রমজানে যাতে কোনো সমস্যা না হয়- এ জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘আলোচনায় আরেকটি বিষয় উঠে আসছে, সেটা হলো রমজান আগামী মার্চ মাসে শুরু হবে৷ সে সময় যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য এলসিসহ অন্য বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। শিগগিরই আমরা বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসব। কোনো অবস্থায় রমজান মাসে সাধারণ ভোক্তারা যাতে বিপদ-আপদ বা সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রয়েছে।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এলসি খোলা সংকট, এর মধ্যে সামনে রমজান মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান মাসকে সামনে রেখে আজকে রাতারাতি সব কিছু বদলে দেয়া যাবে না। আজকের অবস্থা, বৈশ্বিক সব কিছু ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কী আছে, সব কিছু আপনারা জানেন। আমরা অন্তত যে দাম আসছে, সেটাকে কনসিডারেশনে নিয়ে বা লোকসান করে কেউ বিক্রি করবে না। তবে আমাদের যেটা দরকার হলো রিজনেবল দামে যেন যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য রমজান মাসে আসে।’

তিনি বলেন, ‘সিটি গ্রুপ বলেছে, তারা নব কিছুর জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে। যেখানে সমস্যা এলসি নিয়ে সেটাও তারা কথা বলে নেবে। দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বিষয় সার্বিক বিবেচনায় নিয়েছেন।

‘তাদের যে প্রতিনিধি আসছেন তাদের বলা হয়েছে কাল-পরশুর মধ্যে তারা একটা পরিষ্কার নির্দেশনা দেবেন। সুতরাং রমজান মাসে দাম কমে যাবে সেটা বলছি না, অন্তত আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যে দাম হওয়া উচিত, সেটা মাথায় রেখে পণ্যের সরবরাহ বা পণ্য পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
ফের বেড়ে সয়াবিন তেল ১৯০, চিনি ১০৮
তেল, চিনি সংকটের সুরাহা কবে
টিসিবির জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কিনছে সরকার
এবার বাড়ল দেশি চিনির দাম, কেজিতে ১৪ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sidal artisans in crisis due to lack of fish loans

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা কুমিল্লার মুরাদনগরের সালফা গ্রামে রোদে শুটকি শুকাতে ব্যস্ত বিষ্ণু চন্দ্র সরকার। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লার মুরাদনগরের সিদলের বেশ চাহিদা আছে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লার সিদল চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। শুধু দেশেই নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার সিদল যাচ্ছে ভারতের আগরতলা, তেল্লামুড়া, সোনামূড়ায়। সেখান থেকে পাইকাররা এসে সিদল নিয়ে যান।

ধোঁয়া উঠা গরম ভাতে সিদল শুঁটকির ভর্তার স্বাদ নেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এক সময় কুমিল্লায় তৈরি সিদলের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ছিল সারা দেশে। তবে সহজ শর্তে ঋণের অভাবে ও নদী এবং খাল-বিলে মাছ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন এখানকার শুঁটকি কারিগরেরা।

শতবছর আগে সিদল শুঁটকি তৈরি শুরু হয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সলফা গ্রামে। বর্তমানে ওই গ্রামের চারটি পরিবার তাদের বাপ-দাদার আদি এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। এক সময় ওই গ্রামের ৪০টি পরিবার সিদল তৈরির কাজ করতো। তবে ঋণ ও মাছের অভাবে অনেকে আবার পেশা বদল করেছেন।

সালফা গ্রামে এখন চারটি পরিবার সিদল শুঁটকি তৈরির সঙ্গে জড়িত। সরেজমিনে সালফা গ্রামে দেখা যায়, মাচায় সিদল শুকানোর কাজ করছেন রবিন্দ্র চন্দ্র ও বিষ্ণু চন্দ্র সরকার।

রবিন্দ্র বলেন, ‘আমরা দুই জাতের সিদল করি। একটি হচ্ছে পোয়া অন্যটি পুঁটি সিদল। পোয়া মাছ চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করি। পুঁটি মাছগুলো মেঘনা ও সিলেট এলাকা থেকে সংগ্রহ করি।’

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা

যেভাবে তৈরি হয় সিদল

সিদল তৈরির কারিগর রবীন্দ্র ও বিষ্ণু জানান, আশপাশের নদী ও খাল থেকে পুঁটি মাছ সংগ্রহ করি। বিশেষ করে স্থানীয় বাজার থেকেও আমরা কম দামে মাছগুলো কিনে বাড়ি আনি। পরে এগুলোর পেট কেটে বড় পাত্রে পানি দিয়ে পেট-কাটা পুটিগুলো রেখে দেই। আগুন তাপে সেগুলো থেকে তেল বের হয়। তেলগুলো আমরা আরেকটা পাত্রে সংরক্ষণ করি। পরে মাছগুলোকে মাচায় শুকিয়ে নেই।

তারা আরও জানান, শুকানো মাছগুলো বড় মটকির ভেতর রেখে এর আগে আগুনের তাপে বের হওয়া মাছের তেল ঢেলে দেই। মাটি খুড়ে মটকিগুলো পুতে রাখি। তিন মাস মাটির নিচে রাখার পর তৈরি হয় সিদল।

চলতি বছরের সিদল তৈরির কেমন প্রস্তুতি

সিদল তৈরির কারিগর রবিন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এখন আর আগের মত মাছ পাওয়া যায় না। তবুও এ বছর যা সংগ্রহ করেছি তা দিয়ে চারশো থেকে ৫’শ মটকী সিদল তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছি। এগুলো থেকে অন্তত এক’শ মন পুঁটি সিদল তৈরি হবে। প্রতি বছর পৌষ-মাঘ মাসে মটকীগুলো মাটির নীচে গর্ত করে রাখি। মূলত আশ্বিন, কার্তিক মাস থেকে চৈত্র মাস পযর্ন্ত চলে সিদল তৈরির কাজ।

কোথায় যায় কুমিল্লার সিদল

কুমিল্লার মুরাদনগরের সিদলের বেশ চাহিদা আছে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লার সিদল চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। শুধু দেশেই নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার সিদল যাচ্ছে ভারতের আগরতলা, তেল্লামুড়া, সোনামূড়ায়। সেখান থেকে পাইকাররা এসে সিদল নিয়ে যান।

সিদল শুঁটকি তৈরির পেশা টিকিয়ে রাখতে আকুতি

মুরাদনগরের সলফা গ্রামের বিষ্ণু ও রবীন্দ্রসহ আরও দুটি পরিবার এখন সিদল শুঁটকি তৈরি করে। তাদের এই কাজে সহযোগিতা করেন শতাধিক নারী। সিদল তৈরির কারিগর বিষ্ণু বলেন, শত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা নানান সংকটের মুখে পড়ে সিদল তৈরির পেশাটাকে জিইয়ে রেখেছি। সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আমাদের সহায়তা করে তাহলে সিদল উৎপাদন করে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম।

আরও পড়ুন:
শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করতে স্থায়ী জমি চান ব্যবসায়ীরা
শুঁটকিতে ফের লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের
শুঁটকি আহরণে দুবলার পথে জেলেরা
দুবলার পথে উপকূলের ১০ হাজার জেলে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Prospects confidence in the banking sector is apprehensive

ব্যাংক খাতে সম্ভাবনা, আস্থা, শঙ্কা

ব্যাংক খাতে সম্ভাবনা, আস্থা, শঙ্কা ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস হিসাবে মনোনীত করে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস ৪ ডিসেম্বর। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে ব্যাংক খাত। তবে ব্যাংক নিয়ে গর্ব করার যেমন নানান দিক আছে, তেমনি আছে লুটপাটের ইতিহাস।

অর্থ ছাড়া কিছু কি চলে? না। বলা যায় অর্থই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। কিন্তু অর্থই অনর্থের মূল– এ কথাটিও যথার্থ। যদি তাই না হয়, তবে অর্থনির্ভর ব্যাংকব্যবস্থায় কেন পিছু ছাড়বে না অনিয়ম আর ব্যত্যয়?

প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় আগে এই অঞ্চলে শুরু হয় ব্যাংকের যাত্রা। তখন আর এখন– এ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি ব্যাংকিং কার্যক্রম।

আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস ৪ ডিসেম্বর। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দিনটি পালন করে জাতিসংঘ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে ব্যাংক খাত। তবে ব্যাংক নিয়ে গর্ব করার যেমন নানান দিক আছে, তেমনি আছে লুটপাটের ইতিহাস।

ব্যাংক দিবস

টেকসই উন্নয়নে অর্থায়নে বহুপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে ৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস পালিত হয়।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস হিসেবে মনোনীত করে। এটি ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়। টেকসই উন্নয়নে অর্থায়ন এবং উন্নয়নে ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার স্বীকৃতির জন্য দিবসটি পালিত হয়। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অবদান রাখার দিকটিও গুরুত্ব দেয় সদস্য দেশগুলো।

ব্যাংক খাতে সম্ভাবনা, আস্থা, শঙ্কা

যাত্রা শুরু ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে

যত দূর তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়, উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক ব্যাংকের নাম ইউনিয়ন ব্যাংক, যার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৮২৯ সালে। এটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। বাণিজ্যিক লেনদেন শুরুর পর এই ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়, যা সেকালেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

১৮৩০ থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতার সবচেয়ে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম ছিল ইউনিয়ন ব্যাংক। ব্যবসায়ী শ্রেণির জন্য মূলধন জোগান, ঋণ বৃদ্ধি, এক্সচেঞ্জ ব্যাংকিং, ব্যাংক নোট ইস্যুকরণ এবং কৃষিজাত পণ্যের মূল্যকে নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল এটি প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য।

দ্বারকানাথ ব্যাংকটির শেয়ার কিনে অংশীদার হন। তবে ব্যাংক পরিচালনার মূল কর্তৃত্ব তিনি নিজের হাতেই রেখেছিলেন। একসময় নিজের ঘনিষ্ঠজন রমানাথ ঠাকুরকে বানিয়েছিলেন ব্যাংকের কোষাধ্যক্ষ। ব্যাংকের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ থাকার সময়ে তার মালিকানায় ছিল ৭০০ শেয়ার।

ব্যাংকের অন্য পরিচালকরা দ্বারকানাথের ঋণের অনুরোধ ফেরাতে পারছিলেন না। তিনি নিজে তদবির করে জন পালমার অ্যান্ড কোম্পানিকে ৬ লাখ রুপি ঋণ দেন। এই ঋণ ছিল ব্যাংকটির মোট সম্পদের অর্ধেক। ফলে ১৮৩০ সালের জানুয়ারিতে জন পালমার অ্যান্ড কোম্পানি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ইউনিয়ন ব্যাংক শুরুতেই প্রায় দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

নীল চাষে দ্বারকানাথ নিজে যেমন জড়িত ছিলেন, তেমনি ছিলেন এই নীলকর সাহেবদের বড় পৃষ্ঠপোষক, অর্থ-সংস্থানকারী। বিলেতে নীলসহ কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানির হুন্ডি বিল কেনাবেচায় তিনি শুরু থেকেই ইউনিয়ন ব্যাংককে সম্পৃক্ত করেন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের ব্যাংক খাত

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুনর্গঠনে হাত দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয়করণ করা হয় ব্যাংকিং খাত।

স্টেট ব্যাংক অব ইস্ট পাকিস্তান রূপান্তরিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক হয়।

জাতীয়করণের মাধ্যমে ১২টি ব্যাংক একীভূত করে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, পূবালী ও উত্তরা- এ ছয়টি সরকারি ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়। এভাবে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমের।

এ ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বাইরে এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোকে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়া হয়। এ ছাড়া শিল্প ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের কার্যক্রমও শুরু করা হয়।

এক দশক পর ১৯৮২ সালে যুক্ত হয় ব্যক্তি মালিকানায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

কালের বিবর্তনে হিসাব খোলা, ঋণ বিতরণ এবং লেনদেনে লেজার খাতার বদলে জায়গা করে নিয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তি বা ডিজিটাল ব্যাংকিং।

ঋণ ও আমানত

১৯৭২-৭৩ সালে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট শাখার সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ২৯৫টি, বর্তমানে সেটা বেড়ে ১০ হাজার ৯৯৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

ওই সময়ে মোট আমানত মাত্র ৭০২ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়ে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ঋণের প্রবৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো। ১৯৭২-৭৩ সালে মোট ঋণ ছিল মাত্র ৫৫৪ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বেসরকারি খাতে।

দেশে এখন ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক ও ৯টি বিদেশি ব্যাংক।

খেলাপি ঋণের পাহাড়

ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবে জাল-জালিয়াতির ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে যেসব অর্থ বেরিয়ে গেছে, সেগুলো এখন আদায় হচ্ছে না। ফলে ওইগুলোকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এক যুগ পরে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি ছয় ব্যাংকের মোট ঋণ ৬০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৬৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত কৃষি, প্রবাসীকল্যাণ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন– এ তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। বিদেশি মালিকানার খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।

অনিয়ম, দুর্নীতি

গত এক যুগে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতির প্রধান ঘটনাগুলোর প্রথমেই রয়েছে সরকারি মালিকানার সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি।

২০১১ সালে হলমার্কসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (হোটেল শেরাটন) শাখা থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। সেই ঘটনার বিচারকাজ এখনও চলছে।

২০১১-১২ সালে বেসিক ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র পায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০১২-১৩ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা, প্রাইম, যমুনা, প্রিমিয়ার ও শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

অ্যাননটেক্স গ্রুপকে জনতা ব্যাংক মাত্র ৬ বছরে ঋণ দেয় ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা।

ভুয়া রপ্তানি নথিপত্র তৈরি করে সরকারের নগদ সহায়তা তহবিল থেকে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা নিয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। ক্রিসেন্টের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

ইউনিয়ন ব্যাংকে শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে কোম্পানি গঠন করে ঋণের বড় অংশই বের করে নিয়েছে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা খেলাপি, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৯৫ শতাংশ।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ২০২১ সাল ভিত্তিক পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে দেখা গেছে, এসআইবিএলের ৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হওয়ার যোগ্য।

পরিচালকদের মধ্যে কোন্দল, ক্রেডিট কার্ডে ডলার পাচার, বড় অঙ্কের সুদ মওকুফসহ নানা কারণে সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংক। ফলে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণও আটকে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংকটিকে উদ্ধারে সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি রাজশাহীকেন্দ্রিক নাবিল গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ও বাকি অর্থ সোশ্যাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে বের করে নেয়া হয়। সব মিলিয়ে এ গ্রুপের নামে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।

অর্থায়ন নিশ্চিত করে ব্যাংক

এক দশক আগেও মোট জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশই ছিল ব্যাংকিং সেবার বাইরে। ঋণের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) বা গ্রাম্য মহাজনই ছিল ভরসা। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক খাতে যুক্ত হয়েছে নিত্যনতুন ব্যাংকিং সেবা।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন যেন একদম হাতের মুঠোয়। ব্যাংকবহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এমএফএস। ২০১১ সালে চালু হওয়া এ সেবা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ১৩টি ব্যাংক।

এরপর এলো এজেন্ট ব্যাংকিং। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ব্যাংকের শাখা খোলা সম্ভব নয়, সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা খুলে কাজ চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এ সেবাটি চালু হয়েছে ২০১৩ সালে। বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেবাটি। দেশের ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে।

এ ছাড়া রয়েছে বুথ ব্যাংকিং, উপশাখার মতো নিত্যনতুন ব্যাংকিং ধারণা।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকায় চালু করা বিশেষ হিসাবও। কৃষক, অতিদরিদ্র, পথশিশুর হিসাব, স্কুল ব্যাংকিংসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ ব্যাংকে হিসাব খোলার মাধ্যমে সেবার আওতায় এসেছে। ফলে আর্থিক সেবার আওতায় চলে এসেছে ৭০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী।

নতুন করে ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে ভার্চুয়াল ব্যাংক, ডিজিটাল শাখাসহ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বিভিন্ন সেবা।

নানা ধরনের ব্যাংক

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক দেখা যায়। কাজের ধরন, পরিচালনা পদ্ধতি ও নীতিমালার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকম ব্যাংক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেখা যায়।

এদের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, অফশোর ব্যাংক উল্লেখযোগ্য।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আস্থা

ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার পরিধিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা দিতে ব্যাংকগুলোর আলাদা অ্যাপসও রয়েছে।

২০১৮ সালে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক ছিল ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৪ জন। বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৫৮ লাখ ৮৯ হাজার ২২৬ জন। আর লেনদেনও ৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

পাশাপাশি কমছে কাগুজে টাকার ব্যবহারও।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ১ টাকার কাগুজে মুদ্রার প্রচলন হয়। বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকা সরকারি মুদ্রায় অর্থসচিবের সই থাকে।

বাকিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট বা মুদ্রা। প্রচলিত ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সই থাকে।

তবে ক্রমান্বয়ে কাগুজে টাকার ব্যবহার কমে বিকল্প হয়ে উঠছে কার্ড, ইন্টারনেট, মোবাইল ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা মোট ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৭টি। সারা দেশে এটিএম বুথ রয়েছে ১৩ হাজার ২১০টি।

তবে বাংলাদেশে এসব লেনদেন এখনও মূলত রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। অবশ্য ব্যাংকগুলো কার্ডের গ্রাহক বাড়াতে কমবেশি চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও সময় সময়ে তাদের নীতি-সহায়তা দিচ্ছে।

বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের কোনো ব্যাংক নেই। মার্জার বা একুইজিশন করে একটা বড় ব্যাংক করা যেতে পারে। দু-একটি বড় ব্যাংক থাকলেও সেখানে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবসে ব্যাংক খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার যে চ্যালেঞ্জ সেটা করার কোনো উদ্যোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক খাতে একটা অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যাংকের অবস্থা খারাপ না হলেও ব্যাংকের প্রতি অনাস্থার অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।’

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে গভর্নেন্সে (সুশাসন) বিশাল সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যা ব্যাংক খাতের প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলবে। ’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতের আকার বড় হলেও প্রযুক্তিগতভাবে আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায়ও জোর দিতে হবে। সাইবার হামলা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সাইবার হামলা সব দেশেই হয়। আমাদের এখানেও হয়েছে, আগামীতেও হবে। এ জন্য এসব বিষয়ে প্রস্তুতি আগে থেকে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’: তদন্ত চেয়ে দুই সংস্থাকে চিঠি
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ইসলামী ব্যাংকের ‘অর্থ লোপাট’ নিয়ে রিটের পরামর্শ হাইকোর্টের
‘শক্তিশালী ব্যাংকের’ স্বীকৃতি পেল ইসলামী ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Finance received the award for excellence in the financial services sector

আর্থিক সেবা খাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স

আর্থিক সেবা খাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে পুরস্কৃত করেছে ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার সন্ধ্যায় ১৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে পুরস্কৃত করে আইসিএবি। তালিকায় আর্থিক সেবা খাতে আবারও সেরাদের কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড।

আবারও আর্থিক সেবা খাতে আবারও সেরাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড। ২০২১ সালে সেরা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে পুরস্কৃত করেছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

গতবারের মতো আর্থিক সেবা খাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ খাতে প্রথম হয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড আর তৃতীয় হয়েছে আইপিডিসি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির হাত থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পক্ষে দ্বিতীয় সেরার পুরস্কার নেন প্রতিষ্ঠানটির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ।

এ বিষয়ে কায়সার হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতির বহিঃপ্রকাশ আবারও আইসিএবি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি। এটা অদূর ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, আইসিএবির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসাইন এফসিএ প্রমুখ।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছে সরকারি ব্যাংক খাতের জনতা ও সোনালী ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংক ক্যাটাগরিতে ব্যাংক এশিয়া-শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক-মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কৃত হয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে রয়েছে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রেকিট ব্যাংকিজিয়ার। ইনস্যুরেন্স খাতে পুরস্কৃত হয়েছে গ্রীণ ডেল্টা-রিল্যায়েন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

ডাইভারসিফায়েড হোল্ডিংস খাতে এসিআই লিমিটেড, কমিউনিকেশন ও আইটি খাতে রবি ও গ্রামীণফোন পুরস্কার পেয়েছে।

পাবলিক সেক্টরে পুরস্কার পেয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড। এনজিওতে ব্র্যাক, কোডেক, সাজিদা ফাউন্ডেশন, সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস এবং শক্তি ফাইন্ডেশন রয়েছে।

সার্ভিস সেক্টরে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট , করপোরেট গভর্ন্যান্সে ব্যাংক এশিয়া, আইডিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কৃত হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সামিট পাওয়ার ও ইউনাইটেড পাওয়ার এবং অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতে পুরস্কৃত হয়েছে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’: তদন্ত চেয়ে দুই সংস্থাকে চিঠি
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ইসলামী ব্যাংকের ‘অর্থ লোপাট’ নিয়ে রিটের পরামর্শ হাইকোর্টের
‘শক্তিশালী ব্যাংকের’ স্বীকৃতি পেল ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা ৮ প্রতিষ্ঠানের ঋণে

মন্তব্য

p
উপরে