× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Distress in the capital market 214 companies have less than two and a half million transactions
hear-news
player
google_news print-icon

দুর্দশায় পুঁজিবাজার: ২১৪ কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন আড়াই কোটির কম

দুর্দশায়-পুঁজিবাজার-২১৪-কোম্পানি-মিলিয়ে-লেনদেন-আড়াই-কোটির-কম
ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হওয়া ২২৯টির লেনদেন ছিল একেবারেই নগণ্য। এতগুলো কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে কেবল ১৪ কোটি ৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১৫টি কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন ১১ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

দুই দিন পতন শেষে সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও বাজারে হতাশার চিত্র পাল্টায়নি এতটুকু।

এদিন হাতবদল হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর কমেছে কেবল ছয়টির, বেড়েছে ৭৮টির। সূচক বেড়েছে ৩৯ পয়েন্ট। তারপরও বিনিয়োগকারীরে মধ্যে স্বস্তি ফেরার কোনো আভাসই নেই।

আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও ফেরেনি লেনদেনের গতি বা ভারসাম্য। ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ১১টির লেনদেন স্থগিত ছিল লভ্যাংশ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে। বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় তিন শটির কার্যত ক্রেতা ছিল না।

কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি, এমন কোম্পানি ছিল অবশ্য ৬৬টি। তবে ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হওয়া ২২৯টির লেনদেন ছিল একেবারেই নগণ্য। এতগুলো কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে কেবল ১৪ কোটি ৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

এর মধ্যে আবার বেক্সিমকো লিমিটেড, এডভেন্ট ফার্মা, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, রহিমা ফুড, শমরিতা হাসপাতাল, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বিএসআরএম স্টিল, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জেএমআই সিরিঞ্জ, খান ব্রাদার্স, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক- এই ১৫টি কোম্পানিতে লেনদন হয়েছে ১১ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাকি ২১৪টি কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

লাখ লাখ শেয়ার বসানো থাকলেও ক্রেতার ঘর দিনভর ছিল ফাঁকা। এর মধ্যে আগে থেকে না বসিয়ে ফ্লোর প্রাইসে কিছু কিছু শেয়ার কিনেছেন কেউ কেউ।

এই কিছু শেয়ার যে হাতবদল হয়েছে, তা কেমন ছিল?

দুর্দশায় পুঁজিবাজার: ২১৪ কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন আড়াই কোটির কম
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

১৫টি কোম্পানির কেবল একটি করে, আরও ১৮টি কোম্পানির ২ থেকে ১০টি, ৯টি কোম্পানির ১১টি থেকে ২০টি, ৯টি কোম্পানির ২১ থেকে ৫০টি, ২০টি কোম্পানির ৫১ থেকে ১০০টি, ৩৮টি কোম্পানির ১০১ থেকে ৫০০টি, ২৪টি কোম্পানির ৫০১ থেকে ১ হাজারটি, ৫১টি কোম্পানির ১০০১ থেকে ৫ হাজারটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে কেবল ৬৬টি কোম্পানির। এক লাখ টাকার কম লেনদেন হয়েছে ১৫৪টি কোম্পানিতে।

সব মিলিয়ে এদিন লেনদেন হয়েছে ৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার টাকার, আগের দিন যা ছিল ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

কিছুদিন আগেও এক ঘণ্টাতেই এই পরিমাণ লেনদেন হতো।

এদিন যে পরিমাণ লেনদেন হয়েছে তার ৭৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৩২৬ কোটি ৮২ লাখ ২ হাজার টাকা হাতবদল হয়েছে দর বৃদ্ধি পাওয়া ৭৮ কোম্পানিতেই।

এমনকি দর হারানো ৬ কোম্পানির লেনদেনই ফ্লোরে থাকা ২২৯টির চেয়ে বেশি। এসব কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েক দিনের পতনের পরে আজকে কিছুটা উত্থানই স্বাভাবিক। লেনদেন তলানিতে থাকার কারণ হলো ফ্লোর প্রাইস। বিপুল সংখ্যক শেয়ার ফ্লোরে আটকে আছে। সেগুলোর লেনদেন করা যাচ্ছে না বলেই লেনদেন হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম, ফ্লোর প্রাইস শাখের করাত হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে যেমন বাজারের স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়েছে, তেমনি এখন তুলে দিলেও ধপাধপ পড়তে থাকবে।

‘আমি মনে করি, এই মুহূর্তে ফ্লোর প্রাইস তোলা যাবে না। তবে বাজার স্বাভাবিক হলেই ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দিতে হবে। এতে সাময়িকভাবে কিছুটা পড়লেও আবার ঠিক হয়ে যাবে।’

মৌলভিত্তির কোম্পানিরও করুণ চিত্র

বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে বহুজাতির কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ারের একজনও ক্রেতা ছিল না। সে সময় ফ্লোর প্রাইসে বিক্রেতা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬২৪ জন।

একই সময় স্কয়ার টেক্সটাইলের ৪ লাখ ২৬ হাজার ৭০১১টি শেয়ার সর্বনিম্ন দরে বসিয়েও ক্রেতা পাচ্ছিলেন না কেউ।

বছরের পর বছর ধরে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়ে আসা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ক্রেতা ছিল না একজনও। ফ্লোর প্রাইসে বসিয়ে রাখা ছিল ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯০২টি শেয়ার।

ওষুধ খাতের শক্তিশালী কোম্পানি রেনাটার ৭০ হাজার ৫৩৯টি শেয়ার বসানো ছিল, কিন্তু ক্রেতার ঘর ছিল শূন্য।

কিছুদিন আগেও দিনে দুই শ বা আড়াই শ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া বেক্সিমকো লিমিটেডের চিত্রও একই রকম করুণ। বেলা ২টা ২০ মিনিটে এই কোম্পানিটির ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬০১টি শেয়ার বসানো ছিল, কিন্তু ক্রেতার ঘর ছিল ফাঁকা।

আর্থিক খাতের শক্তিশালী কোম্পানি ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৩টি, আইডিএলসির ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩১২টি, মাস কয়েক আগেও তরতর করে দাম বাড়তে থাকা আইপিডিসির ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৩টি, ব্যাংক খাতে শক্তিশালী কোম্পানি ব্র্যাকের ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫টি শেয়ার বসানো ছিল, ক্রেতার অভাবে যেগুলোর বিক্রেতার ঘর ছিল ফাঁকা।

এমনকি তালিকাভুক্তির পর সপ্তম দিবসেই ক্রেতাশূন্য ছিল গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের। বেলা ২টা ২১ মিনিটে অভিহিত মূল্যের ১০ শতাংশ কমে বসানো ছিল ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ২১৯টি শেয়ার। অর্থবছর শেষ হতে চলেছে, এর মধ্যেও আইপিওর শেয়ার হওয়ার কথা ছিল আকর্ষণীয়। কিন্তু ১০ শতাংশ লোকসান দিয়ে তা ছেড়ে দিতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু ক্রেতার অভাবে সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কোম্পানির লেনদেন একেবারে হয়নি এমনকি নয়, তবে পরিমাণ ছিল নগণ্য। এদিন ক্রেতা ছিল না মোট ৭৮টি কোম্পানির শেয়ারে। বাকি যেসব কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে, তার মধ্যে ২২০টির লেনদেন ছিল একেবারেই তলানিতে। এসব কোম্পানির মধ্যে আছে মৌলভিত্তির অসংখ্য লাভজনক উদ্যোগ, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়ে আসছে এবং বিশ্ব সংকটের মধ্যেও যাদের ব্যবসা চলমান।

গত আগস্ট থেকেই পুঁজিবাজারের লেনদেন অল্প কয়েকটি কোম্পানিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, লেনদেন ভালো হচ্ছে এমন কোম্পানির সংখ্যাও কমছে।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

গত কয়েকদিন ধরে টানা দরপতন হতে থাকা বেশি কিছু কোম্পানির দর এদিন দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়েছে।

তবে এই তালিকার শীর্ষে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। প্রতি দিনই প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে বাড়তে ১০ টাকার অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ২০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৪৯ টাকা ৩০ পয়সা।

এরপরেই ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৫ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ৭৭ টাকা ৬০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল বিডি কম। ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৩৬ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা।

দুর্দশায় পুঁজিবাজার: ২১৪ কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন আড়াই কোটির কম
দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানি

৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও নাভানা ফার্মার দর, যেগুলো আগের কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

বিডি থাই ফুড, অ্যাপেক্স ফুডস ও জুট স্পিনার্সের দর বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। দশম স্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৭২ শতাংশ, যে কোম্পানির দর ১৫৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৪ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছিল সোমবার।

ফ্লোর প্রাইসে অস্বাভাবিক উত্থানে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭৯ টাকা থেকে দ্বিগুণ হতে সময় লেগেছিল কেবল দেড় মাস।

আরও ৩টি কোম্পানির দর ৭ শতাংশের বেশি, ৬টি কোম্পানির দর ৬ শতাংশের বেশি, ১১টির দর ৫ শতাংশের বেশি, ৮টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ১০টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৮টির দর ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দরপতন যেমন

যে ৬টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আলহাজ্ব টেক্সটাইল। ২ দশমিক ২১ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ১৩২ টাকা ৩০ পয়সায়, আগের দিনে দর ছিল ১৩৫ টাকা ৩০ পয়সা।

সোনালী আঁশের দর ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৮১ টাকায়, আগের দিন ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৬৮৯ টাকা ৯০ পয়সা।

বাজা সুজের দর কমেছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৯২৯ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৯৪০ টাকা।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ১.১০ শতাংশ কমে ৭৬১ টাকা ৬০ পয়সা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের দর শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১২ টাকা ৯০ পয়সা ও মেট্রো পেট্রোলিয়ামের দর শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২০০ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়েছে।

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৬ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।

সোনালী পেপারের দর ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

ওরিয়ন ফার্মা সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে সি-পার্ল, নাভানা ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্টার্ন হাউজিং, জেনেক্স ইনফোসিস ও জেএমআই হসপিটাল।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

বিপরীতে শূন্য দশমিক ৩৪ পয়েন্ট সূচক কমেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক ১০ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমেছে বাটা সুজের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের দর শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ২৩ পয়েন্ট।

এ ছাড়া মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আলহাজ্ব টেক্সটাইল ও সোনালী আঁশের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ৬টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ব্লক মার্কেটে যে দরে বিক্রি হলো ফ্লোরে থাকা শেয়ার
৩০ লাখ বিনিয়োগ ছাড়াই কেনা যাবে এসএমইর শেয়ার
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিডি ফাইন্যান্সের ‘ব্লু সিপ’
ফ্লোরের বাঁধন আলগার পর সূচকের উত্থান
ফ্লোরের বাঁধন আলগা করল বিএসইসি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
This is the lowest transaction in 20 months

এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন

এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
নভেম্বরে শীত পড়ার আগে আগে শীতঘুমে যায় পুঁজিবাজার। ২৪ নভেম্বর ২৩২ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২৪ অক্টোবর ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ৩৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২১ নভেম্বর ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। রোববারের আগে চলতি বছর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেনের প্রধান কারণ ছিল কারিগরি ত্রুটি। সেদিন কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল।

শীতঘুমে থাকা পুঁজিবাজারের জেগে ওঠার কোনো লক্ষণই নেই। ফ্লোর থাকায় তিন শতাধিক কোম্পানির শেয়ারদর কমতে পারছে না, তবে শেয়ারের ক্রেতা নেই বললেই চলে। লেনদেন কোনো রকমে তিন শ কোটির ঘর পার করতে পারলেও সেটি গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার নতুন সপ্তাহের প্রথম দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছে ৩১৩ কোটি ৫৬ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার।

চলতি বছরের তো বটেই, ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সে সময় করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের আগে আগে পুঁজিবাজারে লেনদের স্থগিত হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে লেনদেন নামে তলানিতে। দিনভর হাতবদল হয় কেবল ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তবে পরদিন যখন পুঁজিবাজার চালু থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, পরদিন থেকেই বাড়তে থাকে লেনদেন।

তবে নভেম্বরে শীত পড়ার আগে আগে শীতঘুমে যায় পুঁজিবাজার। ২৪ নভেম্বর ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২৪ অক্টোবর ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ৩৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২১ নভেম্বর ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

রোববারের আগে চলতি বছর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেনের প্রধান কারণ ছিল কারিগরি ত্রুটি। সেদিন কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল।

করোনাকালের মতো না হলেও গত জুন থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে ডিএসসির সাধারণ সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিজে নেমে এলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ায়। সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়।

৩১ জুলাই থেকে উত্থানে ফেরে পুঁজিবাজার। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের এক যুগের চাহিদাও পূরণ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, শেয়ারের বাজারমূল্য নয়, ক্রয়মূল্য ধরেই গণনা হবে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ফের চলে উত্থান। তবে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে ধীরে ধীরে গতি হারাতে থাকে পুঁজিবাজার।

এর মধ্যে ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। বেশ কিছু ব্যাংক থেকে বেআইনিভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের বিষয়টিও আসে সামনে। এতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস নামতে থাকে তলানিতে।

রোববার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর শেয়ারের ক্রয়াদেশ ছিল না বললেই চলে। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল তিন শ কোটি টাকার ঘরও ছাড়াবে না।

এদিন মোট ২২টি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ৬৪টি। আর ২১৪টি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে।

যে লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে ৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোতে। দর হারানো কোম্পানিগুলোতে হাতবদল হয় ১৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ফ্লোরে থাকা বাকি কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন ৫০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারেনি।

বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতনে কমেছে সূচকও। ২০ পয়েন্ট হারিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২২৪ পয়েন্টে।

এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) সুমন দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের ইনভলভমেন্ট কম। চিন্তা ভাবনা করে ইনভেস্টমেন্টে যাবেন, এমন পরিকল্পনায় রয়েছে। সেলারও নাই, বায়ারও নাই।’

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভাবছে, মার্কেট এর চেয়েও কমতে পারে বা খারাপ হতে পারে। এর জন্য তারা সাইডলাইনে রয়েছে, দেখে শুনে বিনিয়োগ করবেন।’

ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে কমার সুযোগ নেই এবং ফ্লোর উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবছে না বিএসইসি, তাহলে কীভাবে কমবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইস তুললে ডিপ্রেশনে চলে যাবে। সেটা কাটিয়ে ওঠার কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট না রাখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

উত্তরণে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টা মানুষকে বোঝাতে হবে। মানুষ মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলবে, যদি বলা হয় উন্নত দেশেও মূল্যস্ফীতি ব্যাপক, তাহলে বলবে তাদের পারচেজ পাওয়ার আমাদের চেয়ে বেশি। কিন্তু তারপরেও আশেপাশের অনেক দেশের চেয়ে আমাদের অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো- এই বিষয়টা মানুষকে না বোঝাতে পারলে আস্থা ফিরবে না। মানুষ তো প্যানিকড হয়ে আছে। এর দায় মিডিয়ার রয়েছে।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বেক্সিমকো ফার্মার দর ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ৪ দশমিক ২৫ পয়েন্ট।

বিকন ফার্মার কারণে সূচক হারিয়েছে ২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

এ ছাড়াও কোহিনূর কেমিক্যাল, সোনালী পেপার, বসুন্ধরা পেপার, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, সি-পার্ল, ইউনিক হোটেল ও নাভানা ফার্মার দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ২০ দশমিক ২৯ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বেক্সিমকো সুকুকের দর ২ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ১০ পয়েন্ট।

ইসলামী ব্যাংক সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ১ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে ওয়ান ব্যাংক, এডিএন টেলিকম, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, পদ্মা অয়েল, আমরা নেটওয়ার্কস, বিডি থাই ফুড ও যমুনা অয়েল।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ দর বেড়ে কে অ্যান্ড কিউয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮৮ টাকা ৩০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৭০ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৭ টাকা ৯০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল অ্যাডভেন্ট ফার্মা। ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ২৮ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২৭ টাকা ৩০ পয়সা।

এ ছাড়া আমরা নেটওয়ার্কস, এডিএন টেলিকম ও অ্যাপেক্স ফুডসের দর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি। বিডি থাই ফুড ও ওয়ান ব্যাংকের ২ শতাংশের বেশি এবং ইস্টার্ন ক্যাবলস ও মনোস্পুলের দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর কমেছে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৩ টাকা ৭০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৮ টাকা ৪০ পয়সা।

এর পরেই ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ দর কমে ই-জেনারেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৮ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৬২ টাকা ৫০ পয়সা।

৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ দর কমে বসুন্ধরা পেপারে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৭ টাকা ৩০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৮২ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল নাভানা ফার্মা, হাক্কানি পাল্প, ইস্টার্ন হাউজিং, মেঘনা সিমেন্ট, আইসিবি, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Letter to make the paid up capital of Samrita Hospital Rs30 crores

শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি 

শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি  ডিএসই ও বিএসইসি ভবন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শমরিতা হাসপাতালের কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। জবাবও দিয়েছি। এই আইন আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। লিস্টিং রেগুলেশনের যে রেফারেন্স দেয়া হয়েছে সেটা আমাদের জন্য না। সেটা আনলিস্টেড কোম্পানির জন্য। এটা আমরা বলেছি।’

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সেবা খাতে তালিকাভুক্ত শমরিতা হাসপাতালকে পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকা করার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত মাসে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। শমরিতা হাসপাতালের কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলাম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত হয় শমরিতা হাসপাতাল। বর্তমানে তাদের পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

কিন্তু বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস-২০১৫ অনুযায়ী মূল বোর্ডে থাকতে হলে পরিশোধিত মূলধন হতে হয় ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী শমরিতা হাসপাতালকে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন করার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য ২০২৩ সালের ৩০ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কিভাবে এই মূলধন বাড়ানো হবে সেটার পরিকল্পনা চেয়েছে বিএসইসি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শমরিতা হাসপাতাল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে না পারলে তাদেরকে এসএমই মার্কেটে লেনদেনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হবে। মূল মার্কেট থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হবে।

শমরিতা হাসপাতালের কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। জবাবও দিয়েছি। এই আইন আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। লিস্টিং রেগুলেশনের যে রেফারেন্স দেয়া হয়েছে সেটা আমাদের জন্য না। সেটা আনলিস্টেড কোম্পানির জন্য। এটা আমরা বলেছি।’

১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে।

২০১৯ সালে শমরিতা হাসপাতাল ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা মুনাফা করে; লভ্যাংশ দেয় শেয়ার প্রতি ১ টাকা আর বোনাস লভ্যাংশ দেয়া হয় ১০০টি শেয়ারে নতুন ৫টি শেয়ার। ২০১৯ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৩২ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেয়া হয়নি।

২০২০ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেয়া হয় প্রতি শেয়ারে ১ টাকা।

পুঁজিবাজারে এ কোম্পানির ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৬টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার, বিদেশিদের হাতে রয়েছে দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার।

শমরিতা হাসপাতালের বর্তমান বাজার মূলধন ২ হাজার কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং রিজার্ভের পরিমাণ ৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The BSEC commissioner did not take responsibility for the wrong decision

ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার

ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা
শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়ার সব আইনকানুন পরিপালন করতে হবে। অনেক বিষয় আছে, যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়। আরও দেখতে হয় কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোনো কোম্পানি আছে কি না, সে কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে পরিচালিত করছেন।’

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্তিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের দায় অডিটরদের বলে জানালেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনীতে বুধবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় অডিটরদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ এই জিনিসগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ আইপিও প্রসেসটাকে ডিজিটালাইজড করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আইপিও প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নে বিএসইসি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চেষ্টা করছে বলে জানান শেখ শামসুদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটালাইজেশন ফিনটেক টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। এ জন্য সরকারের ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যে ফান্ডটি পাওয়া যাবে৷ বিএসইসি সে ফান্ড নিয়ে পুরো আইপিও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করবে।’

কোম্পানির তথ্য ঘাটতি আইপিও প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে জানিয়ে বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় আইপিও অনুমোদনের জন্য কালক্ষেপণ হয়। এ জন্য বিএসইসি ও ডিএসই দায়ী থাকে না। কোম্পানির তথ্য ঘাটতির জন্য মূলত এটি হয়ে থাকে।’

আইপিও প্রক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য ইএসজি রিপোর্টিংয়ের মতো নতুন নতুন নির্দেশিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ডকুমেন্ট কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ডকুমেন্ট তৈরিতে কমিশনের কোনো হাত নেই। কমিশন অডিটরদের অডিট রিপোর্টকে পর্যাপ্ত ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়ার সব আইনকানুন পরিপালন করতে হবে। অনেক বিষয় আছে যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়। আরও দেখতে হয় কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোনো কোম্পানি আছে কিনা, সে কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে পরিচালিত করছেন।’

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ৪টি বিষয় খেয়াল রাখা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা কেমন ও তাদের মানসিকতা কী, আইপিওতে বিনিয়োগকারীর বিভিন্ন বিষয় জানা, কোম্পানিটি কোনো রেগুলেটরি ক্রাইসিস তৈরি করবে কিনা সেটি লক্ষ রাখা এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে খেয়াল রাখে কমিশন।’

প্রশিক্ষণার্থীদের তিনি বলেন, ‘কর্মশালার মাধ্যমে যে সব বিষয় শিখছেন, তা শুধুমাত্র শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ভালো কোম্পানিগুলোকে কমিশনের কাছে নিয়ে আসবেন। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেই পুঁজিবাজার ও দেশের কল্যাণ হবে।’​

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রসপেক্টাস মূল্যায়নে বিএসইসি এবং এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা, রেড-হেয়ারিং প্রসপেক্টাসের বিশেষত্ব, প্রসপেক্টাসের প্রয়োজনীয়তা ও বিষয়বস্তু, সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং আর্থিক বিবৃতি মূল্যায়ন, প্রসপেক্টাসের যাচাই-বাছাই পদ্ধতি, ভেটিং পদ্ধতি, আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং বিষয়বস্তু, সিকিউরিটিজ বিতরণ প্রক্রিয়া, লক ইন বিধান, ডিফল্ট এবং শাস্তিমূলক বিধানের পরিণতি এবং আইপিও অনুমোদন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম৷

আরও পড়ুন:
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Again the director of DSE is Shakeel Shahjahan

আবার ডিএসইর পরিচালক হচ্ছেন শাকিল-শাহজাহান

আবার ডিএসইর পরিচালক হচ্ছেন শাকিল-শাহজাহান মো. শাকিল রিজভী (বাঁয়ে) ও মোহাম্মদ শাহজাহান। ছবি: সংগৃহীত
দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিএসই। এ পদে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ফরম সংগ্রহ না করায় তারা আবারও পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আবারও তিন বছরের জন্য পরিচালকের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মো. শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী তিন বছরের জন্য এ দায়িত্ব পাচ্ছেন। বর্তমানেও তারা দুজন পর্ষদে রয়েছেন।

দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিএসই। এ পদে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ফরম সংগ্রহ না করায় তারা আবারও পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা আমাদের শেয়ারহোল্ডার, তারা আমাদের ওপরে আস্থা রেখেছেন, এ জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী নতুন বছরে যেন পুঁজিবাজার আরও ভালো হয় সেটার জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাব। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আমরা কাজ করে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, তিন সদস্যের কমিশন গঠন করে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এ কমিশনে চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাইকোর্ট ডিভিশনের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আব্দুস সামাদকে। সদস্য করা হয়েছে মোরশেদ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান আজিজুর রহমান এবং স্টক অ্যান্ড বন্ডের পরিচালক মোহাম্মদ এ হাফিজকে।

ডিএসইর সংঘ স্মারকের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহানের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এ শেষ হওয়া পদে দুজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের জন্য ২২ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য ২৮ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিন ঠিক করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দুটি পদে শুধু শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

আরও পড়ুন:
৯ ব্রোকারেজ হাউসে ৬৫ অনিয়ম
পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশন
পদে ফিরতে চান তারিক, সুযোগ নেই: ডিএসই
ডিএসইর এমডিরা মেয়াদ পূরণ করতে পারেন না কেন
ডিএসই এমডির পদত্যাগ গ্রহণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Transactions in the capital market are increasing little by little

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন একটি ব্রোকারেজ হাউসে এক বিনিযোগকারী। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টি। আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

শেষ কর্মদিবসেও উত্থানের মধ্য দিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তিন কর্মদিবস সূচকে পয়েন্ট যোগ হলো। সেই সঙ্গে দিনের চেয়ে বেড়ে ছয় কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো লেনদেনও।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রভাব শুরু হওয়া পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে তিন সপ্তাহ ধরে ফের সংশোধন চলছে পুঁজিবাজারে।

১৫ কর্মদিবস আগে ৯ নভেম্বর সর্বশেষ হাজার কোটির বেশি লেনদেন হয়েছিল ডিএসইতে। এরপরে তিন কর্মদিবস ৭০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হলেও ক্রমেই তা তলানিতে ঠেকে।

৮ কর্মদিবসে পরে ২১ নভেম্বর সর্বপ্রথম লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। হাতবদল হয় ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

পরে আরও তিনবার ৩০০ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা লেনদেন হয়, যা গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

এমনকি ২৪ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ থাকার পরও এর চেয়ে কম লেনদেন হয়নি।

রোববার ৪১৬ কোটির বেশি লেনদেন হলেও সোমবারই আবার লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যাওয়ায় হতাশা ঘিরে ধরে। এরপর ধারাবাহিক তিন কর্মদিবস সূচক ও দুই কর্মদিবস লেনদেন বাড়ে।

ডিএসইতে হাতবদল হয় ৪৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৫ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

মঙ্গলবারের তুলনায় ১১৫ কোটি টাকা বেড়ে বুধবার হাতবদল হয়েছিল ৪৪৯ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টির।

আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

দিনভর উত্থান-পতনের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্যেও একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি ৭২টির, যা আগের দিন ছিল ৮৬। ২৩৪টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার দুই-একটি বাদে সবই ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে।

বিপুল বিক্রয়াদেশের বিপরীতে এসব শেয়ারের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ রকম ১২১টি শেয়ারের লেনদেন হয় ১ থেকে ১ হাজারের নিচে।

মাত্র ৬১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয় কোটি টাকার বেশি, হাতবদল হয় ৩৮৬ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি আড়াই শতাধিক কোম্পানির লেনদেন হয় শত কোটির নিচে। এ রকম ২৫৭টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের সংশোধনে মানুষের বড় রকমের লোকসান হয়েছে। যাদের মার্জিনে ঋণে বিনিয়োগ ছিল তাদের ফোর্স সেল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যখন বড় ধরনের পতন হয়, তখন বাজারে বায়ার তৈরি হয়ে যায়।’

এ উত্থানটা আরও বেশি হতে পারত বলে মনে করেন ব্রোকারদের এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাজার যেভাবে ওঠার দরকার ছিল, সেভাবে ওঠেনি। যে পরিমাণ লোকসান হয়েছে, তাতে আরও বেশি বায়ার তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না ফ্লোর প্রাইসের কারণে। ফলে অনেকেই সাইডলাইনে আছেন।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বসুন্ধরা পেপার। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, পূবালী ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ওরিয়ন ফার্মা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সোনালী পেপার।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে সি-পার্ল। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বিকন ফার্মার দর শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো ফার্মার কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়াও নাভানা ফার্মা, ই-জেনারেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, মুন্নু সিরামিকস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ক্যাবলস ও সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্সের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২৭ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৪৮৫ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে বেঙ্গল উইন্ডসরের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল হাক্কানি পাল্প। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৬৩ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৫৮ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল বসুন্ধরা পেপার, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ফুডস, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও ফাইন ফুডস।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ দর কমেছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর কমে সি-পার্লের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭৮ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১৮৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই দর কমেছে ই-জেনারেশনের। ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৬২ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল জুট স্পিনার্স, মুন্নু সিরামিকস, শমরিতা হসপিটাল, নাভানা ফার্মা, ইস্টার্ন ক্যাবলস, আমরা টেকনোলজিস ও আমরা নেটওয়ার্কস।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
NBL Securities will provide OMS facility to customers

গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ

গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে এনবিএল সিকিউরিটিজের প্রযুক্তি সহায়ক প্রতিষ্ঠান টেকইট্রোন বুধবার চুক্তি সইয়ের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা
ওএমএস সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে এনবিএল সিকিউরিটিজ ডিএসই, এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি ও লিডস করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি ‘জ্যাগ ট্রেডার’ দেবে।

গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের সেবা দিতে জ্যাগ ট্রেডার নামক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালু করতে যাচ্ছে এনবিএল সিকিউরিটিজ। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি ও লিডস করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে এনবিএল সিকিউরিটিজের প্রযুক্তি সহায়ক প্রতিষ্ঠান টেকইট্রোন বুধবার এ চুক্তি সইয়ের আয়োজন করে।

চুক্তি অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি বিশ্বখ্যাত অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) ‘জ্যাগ ট্রেডার’ দেবে।

এর সাহায্যে এনবিএল সিকিউরিটিজ ডিএসই’র মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয় লেনদেন প্ল্যাটফর্ম সেবা দেবে। এই কার্যক্রমে লোকাল সাপোর্ট দেবে লিডস করপোরেশন লিমিটেড।

টেকইট্রোন ভেঞ্চার লিমিটেডের সহায়তায় এনবিএল সিকিউরিটিজ জ্যাগ ট্রেডার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সহায়তা ও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার, এনবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জোবায়েড আল-মামুন হাসান, শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) মান্না সোমি, ডিএসইর পণ্য ও বাজার উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সৈয়দ মাহমুদ জুবায়ের, লিডস করপোরেশনের চিফ মার্কেটিং অফিসার আনিসুর রহমান খান এবং টেকইট্রোন ভেঞ্চার লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল: সারাবিশ্বে বিডের যোগ্যতা অর্জন রেনাটার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Capital market is not a source of long term funding DSE Chairman

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান মঙ্গলবার ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার দেশের শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ার কথা থাকলেও সেই অবস্থানে যেতে পারছে না। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, দেশে মূল অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়। ফলে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়। পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলনের নিরাপদ ও টেকসই উৎস হয়ে ওঠার জন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং সুন্দর হওয়া জরুরি।’

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে মঙ্গলবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য দুদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি।

ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার দেশের শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ার কথা থাকলেও সেই অবস্থানে যেতে পারছে না। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, দেশে মূল অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়। ফলে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়।’

পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করাই লক্ষ্য জানিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির মূল উৎসে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করছি।’

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলনের নিরাপদ ও টেকসই উৎস হয়ে ওঠার জন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুন্দর হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে আইপিও নির্ধারিত হয়৷ কাজেই ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টগুলো যেন অধিকতর স্বচ্ছ হয়, সে বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল কাজ করছে৷ আগামী দিনগুলোতে চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মগুলো আরও আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। তখন স্টেটমেন্টগুলোর সঠিকতা নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তা দূরীভূত হবে।’

আইপিও প্রক্রিয়ার ভুল সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘বিগত নয়-দশ বছরে দেশে শতাধিক কোম্পানির আইপিও এসেছে। এর অনেকগুলো বর্তমানে ফেসভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে। এখানে যেসব ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে তা নির্ধারণপূর্বক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা উত্তরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা আইপিওর প্রসেস ও প্রসিডিউর সম্পর্কে হাতে-কলমে শিখবেন। ব্যক্তি জীবনে কাজে লাগাবেন। আপনাদের অ্যাটিটিউড পজিটিভ হলেই দেশ উপকৃত হবে। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘আইপিও-র প্রসেস, প্রসিডিউর এবং বিধি ও প্রবিধান সবই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত আছে। তারপরও এই প্রশিক্ষণের বিশেষত্ব হলো প্রশিক্ষক যারা রয়েছেন তাদের প্রয়োগিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা৷’

আইপিও প্রসেসিং সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক করপোরেট হাউজ রয়েছে, যাদের আইপিওর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আইপিও প্রসেসিং সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকায় ধীরগতিতে এগুচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ ও নলেজ লেভেল সমৃদ্ধ হবে।’

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পাবলিক অফারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, আইপিও ব্যবস্থাপনায় ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডাররাইটার ও রেজিস্টারের ভূমিকা, ইলেক্ট্রনিক সাবসক্রিপশন সিস্টেম, আইপিওর আবেদন প্রক্রিয়া ও শেয়ার বরাদ্দ, ডিরেক্ট লিস্টিং ও পাবলিক অফারের ডকুমেন্ট প্রসপেক্টাসের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

p
উপরে