× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Crisis not just in the country but all over the world MCCI
hear-news
player
google_news print-icon

শুধু দেশে নয়, সংকট সারা বিশ্বে: এমসিসিআই

শুধু-দেশে-নয়-সংকট-সারা-বিশ্বে-এমসিসিআই
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি
এমসিসিআই তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলেছে, যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বা স্লাপাই চেইনে বিপর্যয় ঘটেছে। এর প্রভাবে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তবে এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বের।

সরকারের সময়োচিত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ফলে কোভিড-১৯ পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাতে দেশের অর্থনীতি আবার চাপের মুখে পড়েছে বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।

শনিবার প্রকাশিত চেম্বারের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে এমসিসিআই।

সংগঠনটি বলেছে, যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বা স্লাপাই চেইনে বিপর্যয় ঘটেছে। এর প্রভাবে পণ্যমূল্য বেড়েছে। কমেছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। তবে এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বের।

এমসিসিআিই আরও বলেছে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি কমেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। এতে করে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে (চলতি হিসাব) বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন ডলারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় টাকার মান ব্যাপক কমেছে। ডলার সংকটের কারণে বেড়ে গেছে আমদানি ব্যয়। এসব কারণে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় ত্রৈমাসিক এ প্রতিবেদনে।

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে এলেও অন্যান্য দেশের মতো এটি এখনও বাংলাদেশ থেকে দূর হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে।

অর্থনীতিতে চাপ কমাতে যে সব সুপারিশ করেছে মেট্রো চেম্বার, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ানো। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার আর ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২৯ কোটি ডলার। স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য রিজার্ভের মজুত আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করে এমসিসিআই।

সরকারি হিসাবে এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যদিও বেসরকারি হিসাবে এ হার অনেক বেশি। জিনিসপ্রত্রের দাম সহনীয় করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছে এমসিসিআই।

বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা কমাতে রাজস্ব আদায় আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। যদিও আগের মাসগুলোতে আদায় আরও বেশি ছিল। তবে অক্টোবরের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি এনবিআর।

ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পোৎপাদন কমপক্ষে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। উৎপাদনের চাকা অব্যাহত রাখতে নিরবছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলেছে মেট্রো চেম্বার।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এতে করে তাদের জীপন-যাপন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমসিসিআই মনে করে, গরীবদের সুরক্ষায় সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টণীর আওতা আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
এখন অন্যরাও ঋণ দেবে, সংকট কেটে যাবে
সব সূচক হোঁচট খেলেও বিদেশি বিনিয়োগে এখনও স্বস্তি
সুদের হারে নয়-ছয় বহাল রাখা উচিত
বিদেশি ঋণে সেই জোয়ার আর নেই
দ্রুত পণ্য খালাসের উদ্যোগে সাড়া নেই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladeshi businessmen are interested in working with Gabon

গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা

গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা
গ্রিন ও সার্কুলার ইকোনমি খাতে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে চান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। গ্যাবন সরকার আয়োজিত ‘গ্যাবনে বিনিয়োগ - জলবায়ু ও টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এ কথা জানান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

গ্রিন ও সার্কুলার ইকোনমি খাতে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে চান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। গ্যাবন সরকার আয়োজিত ‘গ্যাবনে বিনিয়োগ - জলবায়ু ও টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এ কথা জানান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

যুক্তরাজ্যে চলমান কমনওয়েলথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলনে বুধবার এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে গ্যাবন সরকার।

এতে অংশ নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘সার্কুলার ইকোনমি এবং গ্রিন ইকোনমি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন, অটোমেশন, বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থা এবং ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন জলবায়ু এবং টেকসই অর্থায়ন অর্জনে ভূমিকা রাখবে। সম্পদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গ্যাবনের সহযোগী হিসেবে কাজ করার বিষয়ে ইচ্ছার কথা জানান তিনি।’

বৈঠকে জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশ্ব আজ জলবায়ু, জীববৈচিত্রগত ঝুঁকি এবং চরম অর্থনৈতিক সমস্যাসহ ত্রিমুখী সঙ্কটের মুখোমুখি। এমতাবস্থায় সমাজ, অর্থনীতি এবং ইকোসিস্টেমকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তী দশ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘নতুন ও উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

এ সময় তিনি রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ১০০ বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে বাংলাদেশে আরও বেশি স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং তথ্য বিশ্লেষণ ভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

সবুজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে উদ্ভাবনী নীতি-কৌশল হাতে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে কমনওয়েলথ দেশগুলোকে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। গত মঙ্গলবার লন্ডনে আয়োজিত কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের (সিডব্লিউইআইসি) এক সভায় তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, এফবিসিসিআই সিডব্লিউইআইসির একটি কৌশলগত অংশীদার এবং মো. জসিম উদ্দিন এর গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের একজন অন্যতম সদস্য।

আরও পড়ুন:
এফবিসিসিআই’র বিজনেস সামিট মার্চে, সিএনএনের সঙ্গে চুক্তি
‘নারীদের সঙ্গে না নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়’
ব্যয় বাড়ায় ব্যবসা হারাচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠান
বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখতে ইতালির সমর্থন প্রত্যাশা
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী আসাম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Padma Bank seminar for students of South East University

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদ্মা ব্যাংকের সেমিনার

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদ্মা ব্যাংকের সেমিনার বুধবার বনানীতে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মঞ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে পদ্মা ব্যাংকের এমন আয়োজন তাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি অ্যান্ড ব্যাংকিং ক্যারিয়ার’ শীর্ষক স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেমিনার করেছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মঞ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে এ ধরনের আয়োজন তাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের চাকরিদাতারা খুঁজে নেয়, এখান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা কেউ বেকার থাকে না। তাই ব্যাংক তাদেরকে হাতে-কলমে সাক্ষাৎকার ও করপোরেট কালচার সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছে তা তাদের জন্য অনেক সহায়ক হবে।’

বিশেষ অতিথি পদ্মা ব্যাংকের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার এম আহসান উল্লাহ খান সিভি লেখা ও চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার খুঁটিনাটি কৌশল সম্পর্কে সেমিনারে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া হেড অফ রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং রকিবুল হাসান চৌধুরী করপোরেট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএনএম মেশকাত উদ্দীন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, বিবিএ প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রহিম বক্তব্য দেন।

এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা দিতে পদ্মা ব্যাংক-রিকো ইন্টারন্যাশনালের চুক্তি
পদ্মা ব্যাংকে এমটিও পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে পরীক্ষা নিল পদ্মা ব্যাংক
পদ্মা ব্যাংকে যোগ দিলেন সেলিম আনোয়ার
এবার গৃহঋণ দিচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Group insurance premiums for DRU members are paid by BSEC

ডিআরইউ সদস্যদের গ্রুপ বিমার প্রিমিয়াম করেছে বিএসইসি

ডিআরইউ সদস্যদের গ্রুপ বিমার প্রিমিয়াম করেছে বিএসইসি
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় বছরের প্রদেয় বিমার প্রিমিয়াম ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫০ টাকা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যদের গ্রুপ বিমার তৃতীয় বছরের (৬ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ৫ ডিসেম্বর ২০২৩) নবায়ন প্রিমিয়ামের ব্যবস্থা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন এই ব্যবস্থা করেছে বলে মঙ্গলবার রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব এ জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় বছরের প্রদেয় বিমার প্রিমিয়াম ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫০ টাকা।

আরও পড়ুন:
ডিআরইউতে ক্রোকারিজ সামগ্রী দিল বিসিএমইএ
ডিআরইউ’র মিঠু-হাসিব-নাদিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন
ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব
ডিআরইউ নির্বাচন: নোমানী সভাপতি, মসিউর সম্পাদক
করোনায়ও জমেছে ডিআরইউ’র ভোট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Imports are more than exports by 95 billion

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার
আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানা গেছে ঠিক। কিন্তু যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয় কমতে শুরু করেছে। যদিও নভেম্বর মাসে বেড়েছে। তবে সেটি আগামী দিনগুলোতে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে। গত অর্থবছরের মতো এবারও বড় ঘাটতি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে।’

নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয় কমার পরও বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তি আসছে না; উল্টো দিন যত যাচ্ছে, অর্থনীতিতে চাপ ততই বাড়ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫৮ কোটি ৭০ লাখ (৯.৫৯ বিলিয়ন) ডলার। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই ৪ মাসে ২৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-অক্টোবর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই চার মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

এ হিসাবেই জুলাই-অক্টোবর সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

লেনদেন ভারসাম্যেও বড় ঘাটতি

রপ্তানির চেয়ে আমদানি খাতে ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ১৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো অর্থবছরে ব্যালান্স অব পেমেন্টে এত ঘাটতি দেখা যায়নি।

তার আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সূচকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানা গেছে ঠিক। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ও কমতে শুরু করেছে। যদিও নভেম্বরে বেশ বেড়েছে। সেটি আগামী দিনগুলোতে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।’

‘একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও বেশ ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে। মনে হচ্ছে, গত অর্থবছরের মতো এবারও বড় ঘাটতি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। পুরো অর্থবছরজুড়েই সেই উল্লম্ফন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়েও উল্লম্ফন হয়েছিল, ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। সে কারণেই ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি চূড়ায় উঠেছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার

এবার আমদানি ব্যয়ে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) আমদানিতে প্রবৃদ্ধির চেয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের চেয়ে অনেক কম, ৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৫ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স বেড়েছে শতাংশ

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম। তবে এবার এই সূচকে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই দুই মাসেই দেড় বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অথচ প্রথম দুই মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি করে পাঠিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে জুলাই-অক্টোবর ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ বেশি।

সেবা বাণিজ্যেও ঘাটতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৯৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। মূলত, বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি .৮৭ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ১ দশমিক ৩৪ ডলারের ঘাটতি ছিল। অর্থবছর শেষ হয়েছিল গত ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

তার আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ওভারঅল ব্যালান্সে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। অক্টোবর শেষে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে তা ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনা মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণ-সহায়তা পাওয়ায় গত দুই বছর আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত ছিল বলে জানান আহসান মনসুর।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
বিলাস পণ্যের আমদানিতে লাগাম
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২ লাখ কোটি টাকা
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায়
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Good news is also coming with ADB loan

এডিবির ঋণ নিয়েও আসছে সুখবর

এডিবির ঋণ নিয়েও আসছে সুখবর
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এখন অন্য সব দাতা সংস্থাও ঋণ দিতে চাইবে-এটিই স্বাভাবিক। এখন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য সব দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমরা করোনার মতো যুদ্ধের ধাক্কাও দ্রুত সামলে উঠতে পারব।’

১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা বাংলাদেশে আসছেন। এক সপ্তাহের সফরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। আজ বুধবার দুপুরে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশে না থাকায় অশোক লাভাসা অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানকালে এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই চাপ সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার এবং এডিবির কাছে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছিল। এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক- এআইআইবির কাছে ঋণ-সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

এর মধ্যে আইএমএফের বহুল প্রতীক্ষিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ পাবে সরকার। বিশ্ব আর্থিক খাতের আরেক মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এবার ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এডিবির ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য সংস্থটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা ঢাকায় এসেছেন।

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় অবস্থানকালে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার এডিবির কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে যে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। সফর শেষে ম্যানিলায় ফিরে গিয়ে এডিবি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তারপর সংস্থার বোর্ডসভায় এই ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এডিবি সব সময় পাশে ছিল। সরকার যে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে, তা চলমান প্রকল্প সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে চেয়েছে। আশা করছি, এই ঋণের ব্যাপারেও সুসংবাদ পাওয়া যাবে। আর খুব শিগগিরই সেই সুসংবাদ পাওয়া যাবে।’

গোবিন্দ বর বলেন, ‘অশোক লাভাসা এডিবির প্রাইভেট সেক্টর অপারেশনস এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট। সে কারণে ঢাকা সফরকালে তিনি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ১২ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা ছাড়বেন।’

আড়াই বছরের করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ওলোটপালট হয়ে গেছে সব হিসাবনিকাশ। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমদানি বাড়ায় এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভ কমছেই; বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতি বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বেশ কমেছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। কিন্তু এর পরও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার।

এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার দাতাসংস্থাগুলোর কাছে ঋণ চেয়েছিল।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের একজন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এখন অন্য সব দাতা সংস্থাও বাংলাদেশকে ঋণ দিতে চাইবে-এটিই স্বাভাবিক। কেননা, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো উন্নয়ন সংস্থা বা দাতা দেশ আইএমএফের মূল্যায়নকে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। আইএমএফ যেহেতু আমাদের ঋণ দিচ্ছে, এখন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য সব দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমরা এখন করোনার মতো যুদ্ধের ধাক্কাও দ্রুত সামলে উঠতে পারব।’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই সরকার স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। সংকট মোকাবিলা করার সাহসও পাচ্ছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সূচক আমদানি ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে রেকর্ড হয়েছে; ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এসেছে। রেমিট্যান্সও কিছুটা বেড়েছে। এ অবস্থায় আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারিতে চলে এলে, এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণও যদি পাওয়া যায়, সরকারের সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। ২০২৩ সালকে নিয়ে যতটা ভয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর মনে হয় থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
‘রেলে ঋণ দিতে এডিবি ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বসে আছে’
এলজিইডির উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট
মহামারি মোকাবিলায় ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এডিবি
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে ‘ভালো করছে’ বাংলাদেশ: এডিবি
এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন সোমবার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Europes Romania will take 100000 Bangladeshis

রোমানিয়া নেবে এক লাখ বাংলাদেশি

রোমানিয়া নেবে এক লাখ বাংলাদেশি রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট শহর। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের শুরুতে পাঁচ হাজার ভিসা ইস্যু করতে রোমানিয়ার একটি কনস্যুলার টিম ঢাকা আসে। মার্চ থেকে ঢাকায় তিন মাসের অস্থায়ী কনস্যুলেট খুলে তারা এ সেবা দেয়। এবার অনেক বেশি লোক নিতে চায় বলে ঢাকায় একটি দূতাবাস খুলতে দেশটিকে অনুরোধ করে ঢাকা। তবে তারা সে অনুরোধ রাখছে না। ফলে ভিসা করতে হবে দিল্লিতে গিয়েই।

বাংলাদেশ থেকে এক লাখ জনশক্তি নেবে ইউরোপীয় দেশ রোমানিয়া। দেশটিতে দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়ে গণমাধ্যমকে সেটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিতে চাইলেও ঢাকায় দেশটির কোনো দূতাবাস না থাকায় সরকার ইউরোপের দেশটিকে একটি দূতাবাস স্থাপনের অনুরোধও করেছে। তবে সেই অনুরোধ রাখছে না দেশটি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মন্ত্রী। এ সময় এই তথ্য জানানো হয়।

মোমেন বলেন, ‘তারা আপাতত এক লাখ লোক নিতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে পাঁচ হাজার ভিসা ইস্যু করতে রোমানিয়ার একটি কনস্যুলার টিম ঢাকা আসে। মার্চ থেকে ঢাকায় তিন মাসের অস্থায়ী কনস্যুলেট খুলে তারা এ সেবা দেয়। যার মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ ঝুলে থাকা (প্যান্ডিং) ভিসার আবেদন ছিল।’

২০২১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ঢাকায় মিশন পাঠিয়ে অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা প্রদানের আলোচনা হয়।

রোমানিয়া নেবে এক লাখ বাংলাদেশি
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

মন্ত্রী জানান, তারা অনুরোধ করলেও খরচের কথা ভেবে ঢাকায় দূতাবাস চালু করছে না রোমানিয়া। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ রোমানিয়ায় যায়। কিন্তু তাদের দিল্লিতে গিয়ে ভিসা করতে হয়। এটা অনেকটা কষ্ট ও খরচের বিষয়। আমি তাদের বলেছিলাম ঢাকায় দূতাবাস চালু করতে। কিন্তু এটা খুব খরচের বিষয়। তারা কনস্যুলেটও খুলতে রাজি নয়। তাদের অত পয়সা নেই। তাই তারা কনস্যুলার পাঠিয়ে ভিসা দেবে।’

বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রোমানিয়ার ব্যবসায়ীর আলোচনা

গত ২৬ জুন রোমানিয়ার সোনোমা স্পোর্টসওয়্যার কারখানা পরিদর্শন করেন সে দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলি। সেখানে ৩২০ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন। একই দিন রোমানিয়ার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বাকাউ) প্রেসিডেন্ট ডরু সিমোভিচির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

সোনোমা স্পোর্টসওয়্যারের সিইও আন্তোনেলা গাম্বা সেদিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, তার কোম্পানি পোশাক কারখানা চালানোর জন্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন অপারেটর, কাটিং মাস্টার, ম্যানেজারসহ ৩২০ জন বাংলাদেশি দক্ষ পোশাককর্মীকে বেছে নিয়েছে।

দাউদ আলী জানান, আন্তোনেলা তার পোশাক কারখানার জন্য আরও ১২০ জন এবং জুতার কারখানার জন্য ২০০ বাংলাদেশি কর্মী নেবেন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এবং শ্রমিকরা তার কারখানা ছেড়ে ইউরোপের অন্য দেশে না যান, তাহলে তিনি নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য আরও ১ হাজার বাংলাদেশিকে নিয়োগ দেবেন।

মাইগ্রেশন খরচ কমানোর জন্য কোনো এজেন্টকে যুক্ত না করে এটি সরাসরি সরকারি মাধ্যমে করা প্রয়োজন বলেও মত দেন আন্তোনেলা।

রাষ্ট্রদূতকে তিনি জানান, অভিবাসন ব্যয় কমাতে শুধু বিমানের টিকিট এবং ভিসা ফি দিতে হবে বাংলাদেশি কর্মীদের।

সে সময় রাষ্ট্রদূত আন্তোনেলাকে কর্মীদের এয়ার টিকিট দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন:
জনশক্তি রপ্তানির পালেও হাওয়া
মালয়েশিয়ায় কর্মী যাবে ২৫ এজেন্সি ও ২৫০ এজেন্টের মাধ্যমে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Private sector working on eco friendly industrialization FBCCI

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে কাজ করছে বেসরকারি খাত: এফবিসিসিআই

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে কাজ করছে বেসরকারি খাত: এফবিসিসিআই সোমবার লন্ডনের ম্যানশন হাউসে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বের সর্বনিম্ন কার্বন নির্গমনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৮৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টন কমাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিল্পায়নে পরিবেশবান্ধব মান বজায় রাখতে বাংলাদেশের শিল্প-কারখানাগুলো উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।’

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাত কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সোমবার লন্ডনের ম্যানশন হাউসে কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২২-এ ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড প্রফেশনাল সার্ভিসেস- দ্য রোল অফ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস অন দ্য রোড টু নেট জিরো’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বের সর্বনিম্ন কার্বন নির্গমনকারী দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমনে বাংলাদেশের বর্তমান অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। আর কার্বন নির্গমনের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

‘তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৮৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টন কমাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান।’

তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিল্প, গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক, কৃষি, ইটভাটা এবং ধাবমান নির্গমনের মতো জ্বালানি খাত থেকে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্গমন কমাবে। অবশিষ্ট ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কৃষি ও পশুসম্পদ, বনায়ন এবং নগরের কঠিন বর্জ্য থেকে কমানো হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘শিল্পায়নে পরিবেশবান্ধব মান বজায় রাখতে বাংলাদেশের শিল্প-কারখানাগুলো উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে ৯০টি উচ্চ-অগ্রাধিকারসহ মোট ১১৩টি পদক্ষেপ রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।’

জসিম উদ্দিন জানান, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ২৭তম (কপ-২৭) সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের ওপর বাংলাদেশ জোর দিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে নেট-জিরোতে রূপান্তর করতে এবং জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সভাপতি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, সবুজ বা নীল বন্ডের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন, ঝুঁকি স্থানান্তর প্রক্রিয়া বা বিমার সমন্বয়ের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নকে চালিত করা যেতে পারে। সবুজায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বহুপাক্ষিক তহবিল গঠন ভালো বিকল্প হতে পারে।’

প্যারিস চুক্তির (২০১৫) অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী বাংলাদেশের মত উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশে জলবায়ু অর্থায়নের বৈষম্য কমিয়ে আনতে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড বা জিসিএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের বিশ্বস্ত মানগুলো পুনর্বিবেচনা করা এবং শিথিল করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি সিম্পলিফাইড অ্যাপ্রোভাল প্রোসেস-এসএপি এবং বাজেট কাঠামোতে আন্তর্জাতিক তহবিলের জন্য একটি বর্ধিত কোটা কমনওয়েলথ-এর মাধ্যমে চালু ও জনপ্রিয় করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা, এবং কার্যকরী ব্যবসায়িক মডেলগুলোর অনুসরণসহ ক্লিন এনার্জি সাপ্লাই চেইনের বিভিন্ন পর্যায়ে যৌথ অংশীদারত্বের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এবং সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ইস্ট অ্যান্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সিটি অফ লন্ডনের অল্ডারম্যান ব্রোনেক মাসোজ্যাডা।

ইউকে অ্যাক্রিডিটেশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান লর্ড লিন্ডসে, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউশন- বিএসআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজান টেইলর মার্টিন, ইনস্টিটিউট অফ এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এর ডিরেক্টর জেনারেল মার্কো ফরজিওন, এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, আবু হোসেন ভুঁইয়াসহ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে