× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

আলুর কেজি ৪০০

আলুর-কেজি-৪০০
দিনাজপুরের বাজারে উঠেছে নতুন আলু। ছবি: নিউজবাংলা
ক্রেতা প্রকাশ সরকার বলেন, ‘আজ আমাদের নবান্ন। তাই নতুন নতুন বাজারে কী উঠছে কিনতে আসছি। বাজারে দেখলাম নতুন আলু উঠছে। বছরের নতুন সবজি হিসেবে আলুর দাম বেশি। এক কেজির আলুর দাম ৩০০ টাকা। সকালে নাকি ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হইছে। এভাবে তো দুই কেজি আলু বিক্রি করে এক কেজি মাংস কেনা যাবে।’

দেশের শীর্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের বাজারে আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। নতুন জাতের আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে। বছরের নতুন সবজি ও নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে আলুর দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

দিনাজপুর রেলবাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আলু আমদানি হয়েছে মাত্র ১৫ কেজি। আর এই আলু কিনতেই ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। বাজারদর ক্রয়সীমার বাইরে হওয়ায় কেউ কিনছেন ১০০ গ্রাম আবার কেউ ৫০০ গ্রাম।

ক্রেতারা জানান, বছরের নতুন সবজি ও শুক্রবার নবান্ন উৎসব হওয়ায় আলুর দাম বেশি।

বাজার করতে আসা প্রকাশ সরকার বলেন, ‘আজ আমাদের নবান্ন। তাই বাজারে নতুন কী উঠছে, কিনতে আসছি। বাজারে দেখলাম নতুন আলু উঠছে। বছরের নতুন সবজি হিসেবে আলুর দাম বেশি। এক কেজির আলুর দাম ৩০০ টাকা। সকালে নাকি ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হইছে। এভাবে তো দুই কেজি আলু বিক্রি করে এক কেজি মাংস কেনা যাবে।’

আলুর কেজি ৪০০

মানিক বসাক নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘সবজি হিসেবে আমাদের নতুন আলুর দরকার। সেই আলুর দাম নাকি ৪০০ টাকা। যাই হোক, আমাদের প্রয়োজন নিতেই হবে, তাই বাধ্য হয়ে নিলাম। দোকানি তো ৪০০ টাকার নিচে দিবেই না, সবশেষে ৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে পারলাম। এক কেজি নিতে পারিনি, তাই হাফ কেজি কিনছি।’

রেলবাজার হাটে নতুন জাতের আলু বিক্রির জন্য আনেন বিক্রেতা টিয়া ও সূর্য নামে দুই বিক্রেতা। সূর্য বিক্রির জন্য আলু এনেছেন ১০ কেজি আর টিয়া ৫ কেজি।

আলু বিক্রেতা টিয়া বলেন, ‘ওল বিক্রি করছি ২৫০ টাকায় আর আলু বিক্রি করছি ৪০০ টাকা করে। এরপর সজনে বিক্রি করছি ২৬০ টাকা করে। কাঁচাবাজারের দাম সব সময় ওঠানামা করে মৌসুমের ওপর। এখনও নতুন আলু ওঠেনি, সজনে গাছে নেই, ওলও কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাজারে দামটা বেশি।

আলুর কেজি ৪০০

‘আবার শুক্রবার নবান্ন। এ জন্য বাজারে আলুর এত দাম। নবান্ন যারা করেন, তাদের নতুন নতুন শাক-সবজি কিনতেই হবে। তাই বাজারে এত দাম।’

আলু বিক্রেতা সূর্য বলেন, ‘আমি মাত্র ১০ কেজি আলু আনছি। কিনে আনছি বাহাদুর বাজার থেকে ২৪০ টাকা করে। আর বিক্রি করছি ৩০০ টাকা করে। ৩০০ টাকা দরে ক্রেতারা খাচ্ছে। ১০০ গ্রাম, ২০০ গ্রাম আলু কিনছেন ক্রেতারা।’

আরও পড়ুন:
মুন্সীগঞ্জের আলু: বাজারে ওঠার আগেই ক্ষতির শঙ্কা
দেশি আলু যাচ্ছে বিদেশে, শঙ্কা বাড়ছে ক্রেতাদের
‘ওষুধে’ পুড়েছে ১০০ একর আলুগাছ, দায় কার?
ভরা মৌসুমেও দাম নিয়ে হতাশ আলুচাষিরা
‘আমি আর আলু আবাদ করব না’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
LPG 12 kg cylinder price increased by Tk 8

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৮ টাকা

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৮ টাকা রাজধানীর একটি দোকানের সামনে ভ্যানে রাখা এলপিজি সিলিন্ডার। ফাইল ছবি
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে অনুযায়ী, মার্চ মাসে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ঠিক করা হয়েছে এক হাজার ৪৮২ টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৭৪ টাকা। সেই হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে আট টাকা।

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

১২ কেজির সিলিন্ডারে এবার আট টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে অনুযায়ী, মার্চ মাসে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ঠিক করা হয়েছে এক হাজার ৪৮২ টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৭৪ টাকা। সেই হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে আট টাকা।

এলপিজির সমন্বয়কৃত এ মূল্য কার্যকর হবে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্চের জন্য বোতলজাত সাড়ে পাঁচ কেজি এলপিজির দাম ৬৭৯ টাকা। এ ছাড়া বোতলজাত সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি এক হাজার ৫৪৪ টাকা, ১৫ কেজি এলপিজি এক হাজার ৮৫৩ টাকা, ২০ কেজি এলপিজি দুই হাজার ৪৭০ এবং ৩০ কেজি এলপিজির দাম ঠিক করা হয়েছে তিন হাজার ৭০৬ টাকা।

আরও পড়ুন:
এলপিজির দাম আরও বাড়ল
১২ কেজির সিলিন্ডারে ২৯ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম
এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৩ টাকা
এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ১৮ টাকা  
এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭৯ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Even if the duty is reduced by 10 percent the price of dates is out of reach

শুল্ক ১০ শতাংশ কমলেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

শুল্ক ১০ শতাংশ কমলেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে শুল্ক কমানোর পর চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খেজুরের চালান খালাস হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
খেজুরের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। তারপরও দাম না কমে উল্টো বাড়ছে। ওদিকে শুল্ক কমানোর পর পবিত্র রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরে খেজুরের চালান খালাসের পরিমাণ বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাস হয়েছে। প্রতিদিন খালাস অব্যাহত রয়েছে।

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। তারপরও দাম না কমে উল্টো বাড়ছে খেজুরের দাম।

ওদিকে বন্দরে খেজুরের চালান খালাসের পরিমাণ বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাস হয়েছে। প্রতিদিন খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে আগামী ১২ মার্চ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। আর ইফতার পর্বে অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর।

পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে আনে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজে আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৮ ফেব্রুয়ারি একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে করার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো।

শুল্ক ১০ শতাংশ কমলেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে
সরকার আমদানি শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম না কমে আরও বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন এক হাজার থেকে দু’হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এসব মিলে সর্বমোট শুল্ক দিতে হচ্ছে ৪৩ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর রমজানের আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত।

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর। চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০ থেকে ২৬০ ও দাবাস খেজুর ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০ থেকে ৫৪০ টাকা কেজি।

অভিজাত শ্রেণীর পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০ থেকে ৯০০, সুফরি মরিয়ম ৭৫০ থেকে ৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। এখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহেদি ব্র্যান্ডের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। আর এক সপ্তাহ আগেও একই ব্র্যান্ডের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর তা ছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। আর ফেব্রুয়ারির শুরুতে সাধারণ খোলা খেজুর কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮ থেকে ১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি।

শুল্ক ১০ শতাংশ কমলেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি জাহেদি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পরও বর্তমানে এই খেজুর খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা) খেজুর রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এই মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুর ভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও রমজান সামনে রেখে খালাসের পরিমাণ ৭০ কনটেইনারে গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছেন। কিন্তু শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানো এবং পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও খেজুরের দাম কেন কমছে না তা তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না সাধারণ শ্রেণীর ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদিয়া আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমার আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদামজাত করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে এক হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনও খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণ খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা।’

‘খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্ক হার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।’

উচ্চ শুল্ক হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা এনবিআর নির্ধারিত। এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি।’

শুল্ক ১০ শতাংশ কমলেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, ‘শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হতো। এখন ৭০ কনটেইনার খেজুর প্রতিদিন খালাস হচ্ছে।’

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চ মাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এই শুল্ক কমানোর প্রভাব খেজুরের দামে পড়বে না।’

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়।

‘গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ডলারপ্রতি ১২০ থেকে ১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।’

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।’

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ‘ডলারের দাম বাড়ায় পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এরপরও ব্যবসায়ীরা খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।’

আরও পড়ুন:
চাল তেল চিনি খেজুরের আমদানি শুল্ক কমল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dream is offering discounts on various products during Ramadan

রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দিচ্ছে ‘স্বপ্ন’

রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দিচ্ছে ‘স্বপ্ন’ স্বপ্নর লোগো। ফাইল ছবি
সুপারশপটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ থেকে ২ মার্চ বেশ কিছু পণ্য খোলা বাজারের চেয়ে কম দামে স্বপ্নের আউটলেটে গ্রাহকরা কিনতে পারবেন।

রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে দেশের অন্যতম সুপারশপ ‘স্বপ্ন’।

সুপারশপটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ থেকে ২ মার্চ বেশ কিছু পণ্য খোলা বাজারের চেয়ে কম দামে স্বপ্নের আউটলেটে গ্রাহকরা কিনতে পারবেন।

ছাড় দেয়ার পর স্বপ্নের পণ্যের দাম

ছোলা (প্রতি কেজি) ৯৯ টাকা (ভ্যাট নেই), নতুন আলু (প্রতি কেজি) ২৬ টাকা (ভ্যাট নেই), গরুর মাংস (প্রতি কেজি) ৭৪০ টাকা (ভ্যাট নেই), ফার্মের ডিম (প্রতিটি) ১০ টাকা ৯৫ পয়সা (ভ্যাট নেই), ইলিশ (৪০০-৪৯৯ গ্রাম) প্রতিটি ৩৭৫ টাকা (ভ্যাট নেই) ও রুই মাছ (১ থেকে ১ দশমিক ৪৯৯ কেজি) ২৯৫ টাকা (ভ্যাট নেই)।

পুষ্টি সয়াবিন তেল (৫ লিটার) ৭৭৫ টাকা (ভ্যাট নেই), মিনিকেট প্রিমিয়াম চাল ৬৮ টাকা (ভ্যাট নেই), নাজিরশাইল প্রিমিয়াম চাল ৭৩ টাকা (ভ্যাট নেই), এসিআই অ্যারোমা/পুষ্টি চিনিগুঁড়া চাল (প্রতি কেজি) ১৫০ টাকা, ফ্রেশ লবণ (প্রতি কেজি) ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা, ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার ১ হাজার গ্রাম ৭৪০ টাকা ২৫ পয়সা, এসিআই পিউর চিক বেসন (৫০০ গ্রাম) ১০৫ টাকা।

এ ছাড়া রুহ আফজা ৭৫০ মিলি ৫৪০.৭৫ টাকা, নিউট্রোলাইফ জুস ১ লিটার ২৪৬ টাকা ৭৫ পয়সা, ইস্পাহানি মির্জাপুর বেস্টলিফ চা ৪০০ গ্রাম ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা, মসুর ডাল (ছোট দানা-১ কেজি) ১২৩ টাকা (ভ্যাট নেই), এসিআই পিউর হলুদ/মরিচ পাউডার-২০০ গ্রাম ৮৪ টাকা, তীর হালিম মিক্সড-২০০ গ্রাম ৪৯ টাকা ৯৮, কোকাকোলা/স্প্রাইট ২ দশমিক ২৫ লিটার ১৪১ টাকা ৭৫ পয়সা ও সানসিল্ক শ্যাম্পু (৩৪০ +-১০ মিলি) ৩৩৬ টাকা।

এর বাইরে মুড়ি, চিড়া, মসলা, বেবি ডায়াপারসহ বিভিন্ন পণ্যে থাকবে ছাড়। এসিআই/পুষ্টির আটা-ময়দার ২ কেজি প্যাকে থাকছে ১৭ টাকা ছাড়।

একটি পরিবারের ঘরের মাসের বাজারে স্বপ্ন সবগুলো প্রয়োজনীয় পণ্যে সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট দিচ্ছে। এ ছাড়া খোলা চাল, ডাল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, মাছ ও মাংসে কোনো ভ্যাট নেই।

আরও পড়ুন:
‘স্বপ্ন’ এখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়
স্বপ্নতে ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর অবিশ্বাস্য ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে নানান পণ্য
বিনা টিকিটে বিমানে চড়া জুনায়েদের আরেকটি স্বপ্ন পূরণ
ছাড়ে ডিম, মাছসহ নানা পণ্য বিক্রি করছে ‘স্বপ্ন’
‘স্বপ্ন’ সুপারশপে ছাড়ে মিলছে আলু, ডিম, মাছ-মাংসসহ দৈনন্দিন পণ্য

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The new price of soybean oil comes into effect on Friday

সয়াবিন তেলের নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে শুক্রবার

সয়াবিন তেলের নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে শুক্রবার
খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৭৩ টাকায়। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৪৯ টাকায়। এ ছাড়া বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ৮০০ টাকা।

সয়াবিন তেলের নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে শুক্রবার (১ মার্চ)। এদিন থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৭৩ টাকায়। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৪৯ টাকায়। এ ছাড়া বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ৮০০ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় সয়াবিন তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেদিনই বলা হয়, ১ মার্চ থেকে সয়াবিন তেলের নতুন এই দর কার্যকর হবে।

সভায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভোজ্যতেল আমদানির ওপর লিটারে ৫ টাকা শুল্ক কমিয়েছে। অর্থাৎ সরকার লিটারে ৫ টাকা ছাড় দিয়েছে। রমজান সামনে রেখে এখন আপনারাও ৫ টাকা ছাড় দেন।’

সভায় উপস্থিত মিল মালিক ও তেল পরিশোধনকারীরা তা মেনে নেন। সে হিসাবে প্রতি লিটারে সয়াবিন তেলের দাম কমছে ১০ টাকা।

সয়াবিন তেলের দাম কমানো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী টিটু বলেন, ‘রমজানে প্রতি লিটার বোতলের সর্বোচ্চ বাজার মূল্য ১৬৩ টাকা করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আগে এর মূল্য ছিল ১৭৩ টাকা এবং তার আগের বছরে ছিল ১৮৫ টাকার মতো।’

তিনি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের সঙ্গে অনেক কিছু সম্পৃক্ত। সেহেতু এতে ভোক্তা পর্যায়ে কিছুটা স্বস্তি আসবে এবং খুচরায় আমরা যৌক্তিক পর্যায়ে দাম কমিয়ে আনব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি খোলা সয়াবিনের সর্বোচ্চ মূল্য থাকবে ১৪৯ টাকা। আর ৫ লিটারের বোতল ৮০০ টাকায় বিক্রি হবে।’

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আমাদের এটুকু নিশ্চিত করেছেন যে আগামী রমজানে যে পরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাজারে থাকা দরকার বা মজুদ থাকা দরকার বা পাইপলাইনে থাকা দরকার, তার সবই মোটামুটি পর্যাপ্ত আছে।’

পাম তেলের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয় জানিয়ে রাখা দরকার, এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম সয়াবিনের থেকে বেশি। সুতরাং এটি যদি আমরা এখন পুনঃনির্ধারণ করতে যাই, তা ভোক্তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে যাবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘১ মার্চ থেকে সয়াবিন তেলের নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হবে। আমাদের এই ট্যারিফ ১৫ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর আমরা বসে প্রতি মাসে যেমন তেলের দাম আমাদের ট্যারিফ ঠিক করে, প্রতিমাসে আমাদের যারা মিলমালিক আছে তাদের সঙ্গে বসে দাম রেগুলার বেসিসে পুনঃনির্ধারণ করে দেব। কারণ ব্যবসায়ীরা যদি ব্যবসা না করতে পারেন তাহলে পণ্য সরবরাহে সংকট দেখা দেবে।’

প্রসঙ্গত, ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় চারটি পণ্যের শুল্ক কমানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব পণ্য হলো চাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুর। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

আরও পড়ুন:
বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে, প্রশ্ন কাদেরের
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমল ১০ টাকা, ১ মার্চ থেকে কার্যকর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Fuel oil prices will fluctuate with the world market State Minister

বিশ্ববাজারের সঙ্গে ওঠানামা করবে জ্বালানি তেলের দাম: প্রতিমন্ত্রী

বিশ্ববাজারের সঙ্গে ওঠানামা করবে জ্বালানি তেলের দাম: প্রতিমন্ত্রী পেট্রল পাম্পে মোটরসাইকেলে দেয়া হচ্ছে জ্বালানি তেল। ফাইল ছবি
বিদ্যুতের দাম বাড়ার সময় ও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘এটা আমরা চাচ্ছি মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এটা শুরু হবে এবং পরবর্তী সময়ে হয়তো দুই-তিনবার আমরা এই অ্যাডজাস্টমেন্টটা অল্প, ধীরে ধীরে যাব এবং আমাদের তেলের ব্যাপারেও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে অ্যাডজাস্টমেন্ট শুরু হবে। আমাদের ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রির সম্মতিক্রমে আমরা ডায়নামিক প্রাইসিংয়ে (চলতি বাজারে চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের দাম নির্ধারণ) যাচ্ছি।’

চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সরকার কেন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায়, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা যে জ্বালানি ব্যবহার করি, সেটার প্রাইসিংয়ের (মূ্ল্যের) ওপর বিদ্যুতের দাম নির্ভর করে এবং আমরা কয়লা যখন…নিয়ে আসছি, সেই সময় ডলারের যে ভ্যালু আর কয়লার যে দাম ছিল, তার থেকে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। পার (প্রতি) ডলারে প্রায় ৪০ টাকা ডিফারেন্স হয়ে গেছে; মানে বেশি। আমরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধরে ডলারের ভ্যালু করছিলাম, যখন কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট ছিল।’

ডলার কিনতে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের (প্রতি ডলার) ভ্যালু ১১০ টাকা; সরকারি। বেসরকারি তো আরও বেশি। সুতরাং এই যে, প্রাইসের মধ্যে যে একটা পার্থক্য, গ্যাপ, এই গ্যাপটাকে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। আমরা প্রাইস ইনক্রিজ (মূল্য বৃদ্ধি) কখন বলব? যদি আমাদের অ্যাট পার প্রাইস ব্রেক ইভেন থেকে প্রাইস আমরা বাড়িয়ে দিই, তাহলে সেটাকে ইনক্রিজ বলা যায়, কিন্তু যখন আমরা জ্বালানির সাথে সমন্বয় করতে চাব, সব দেশেই তা করে।

‘যেকোনো দেশে যান, জ্বালানির প্রাইসিংয়ের ওপর বিদ্যুতের দাম ওঠানামা করে। সুতরাং ওইটার সাথে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া উপায় নাই।’

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম কী পরিমাণ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এখন যে কাজটা করতেছি, খুবই অল্প পরিমাণে, ৩৪ পয়সা পার ইউনিট, একটা নিচের লেভেলে যা আছে। আমাদের লাইফ লাইন গ্রাহক আছে প্রায় এক কোটি ৪০ লক্ষ। তারা (প্রতি ইউনিটে) চার টাকা করে দেয়। আর ওপরের দিকে যারা আছেন, তাদের সাত টাকা করে চার্জ হয়, কিন্তু আমাদের উৎপাদন খরচ পড়ে ১২ টাকায় এভারেজ।

‘সরকার একটা বড় অংশ কিন্তু এখানে ভর্তুকি হিসেবে অ্যাডেড (যুক্ত) হচ্ছে। এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বেশি বাড়ছে বিকজ অফ প্রাইসিং অফ দ্য ডলার (ডলারের বাড়তি মূল্যের কারণে)। ডিফারেন্সটা হয়ে গেছে এবং এই ডিফারেন্সটা হওয়াতে বিরাটভাবে জাম্প করছে গত বছর থেকে।’

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি সময়মতো একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে (সমন্বয়) না যাই আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে, আমাদের টার্গেটেড হলো আগামী তিন বছর আমরা এটাকে সমন্বয় করব এবং যাতে কিনা একটা সহনীয় পর্যায় থেকে সমন্বয়টা হয়, সেটার একটা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমরা যে যাচ্ছি অল্প অল্প করে ৩৪ পয়সায়। ওপরের লেভেলে হয়তো ৭০ পয়সা, এ রকমভাবে আমরা প্রাইসিংটাকে রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট (পুনঃসমন্বয়) করতেছি।’

বিদ্যুতের দাম বাড়ার সময় ও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘এটা আমরা চাচ্ছি মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এটা শুরু হবে এবং পরবর্তী সময়ে হয়তো দুই-তিনবার আমরা এই অ্যাডজাস্টমেন্টটা অল্প, ধীরে ধীরে যাব এবং আমাদের তেলের ব্যাপারেও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে অ্যাডজাস্টমেন্ট শুরু হবে। আমাদের ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রির সম্মতিক্রমে আমরা ডায়নামিক প্রাইসিংয়ে (চলতি বাজারে চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের দাম নির্ধারণ) যাচ্ছি।

‘ডায়নামিক প্রাইসিংও একই অবস্থা। যদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটে (বিশ্ববাজার) ক্রুডের (অশোধিত জ্বালানি তেল) দাম বাড়ে, সেটার সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে। যদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটে ক্রুডের দাম কমে, সেটার সাথে অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে। সুতরাং এখন থেকে বলা যায় যে, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টে যাচ্ছি, সমন্বয় করতে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে ১০ নম্বর গ্যাস কূপে তেলের সন্ধান
মৈত্রী পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরি করতে গিয়ে ধরা
এবার ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বাড়াচ্ছে জ্বালানির দাম
ডিজেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহার রাশিয়ার
লিটারে ৫ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of electricity is increasing in the first week of March

দাম বাড়ছে বিদ্যুতের, মার্চের প্রথম সপ্তাহে কার্যকরের চিন্তা

দাম বাড়ছে বিদ্যুতের, মার্চের প্রথম সপ্তাহে কার্যকরের চিন্তা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ফাইল ছবি
বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি সময়মতো একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে (সমন্বয়) না যাই আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে, আমাদের টার্গেটেড হলো আগামী তিন বছর আমরা এটাকে সমন্বয় করব এবং যাতে কিনা একটা সহনীয় পর্যায় থেকে সমন্বয়টা হয়, সেটার একটা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমরা যে যাচ্ছি অল্প অল্প করে ৩৪ পয়সায়। ওপরের লেভেলে হয়তো ৭০ পয়সা, এ রকমভাবে আমরা প্রাইসিংটাকে রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট (পুনঃসমন্বয়) করতেছি।’

জ্বালানির দামের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা কার্যকর হতে পারে আগামী মাসের (মার্চ) প্রথম সপ্তাহে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

সরকার কেন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায়, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা যে জ্বালানি ব্যবহার করি, সেটার প্রাইসিংয়ের (মূ্ল্যের) ওপর বিদ্যুতের দাম নির্ভর করে এবং আমরা কয়লা যখন…নিয়ে আসছি, সেই সময় ডলারের যে ভ্যালু আর কয়লার যে দাম ছিল, তার থেকে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। পার (প্রতি) ডলারে প্রায় ৪০ টাকা ডিফারেন্স হয়ে গেছে; মানে বেশি। আমরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধরে ডলারের ভ্যালু করছিলাম, যখন কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট ছিল।’

ডলার কিনতে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের (প্রতি ডলার) ভ্যালু ১১০ টাকা; সরকারি। বেসরকারি তো আরও বেশি। সুতরাং এই যে, প্রাইসের মধ্যে যে একটা পার্থক্য, গ্যাপ, এই গ্যাপটাকে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। আমরা প্রাইস ইনক্রিজ (মূল্য বৃদ্ধি) কখন বলব? যদি আমাদের অ্যাট পার প্রাইস ব্রেক ইভেন থেকে প্রাইস আমরা বাড়িয়ে দিই, তাহলে সেটাকে ইনক্রিজ বলা যায়, কিন্তু যখন আমরা জ্বালানির সাথে সমন্বয় করতে চাব, সব দেশেই তা করে।

‘যেকোনো দেশে যান, জ্বালানির প্রাইসিংয়ের ওপর বিদ্যুতের দাম ওঠানামা করে। সুতরাং ওইটার সাথে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া উপায় নাই।’

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম কী পরিমাণ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এখন যে কাজটা করতেছি, খুবই অল্প পরিমাণে, ৩৪ পয়সা পার ইউনিট, একটা নিচের লেভেলে যা আছে। আমাদের লাইফ লাইন গ্রাহক আছে প্রায় এক কোটি ৪০ লক্ষ। তারা (প্রতি ইউনিটে) চার টাকা করে দেয়। আর ওপরের দিকে যারা আছেন, তাদের সাত টাকা করে চার্জ হয়, কিন্তু আমাদের উৎপাদন খরচ পড়ে ১২ টাকায় এভারেজ।

‘সরকার একটা বড় অংশ কিন্তু এখানে ভর্তুকি হিসেবে অ্যাডেড (যুক্ত) হচ্ছে। এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বেশি বাড়ছে বিকজ অফ প্রাইসিং অফ দ্য ডলার (ডলারের বাড়তি মূল্যের কারণে)। ডিফারেন্সটা হয়ে গেছে এবং এই ডিফারেন্সটা হওয়াতে বিরাটভাবে জাম্প করছে গত বছর থেকে।’

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি সময়মতো একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে (সমন্বয়) না যাই আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে, আমাদের টার্গেটেড হলো আগামী তিন বছর আমরা এটাকে সমন্বয় করব এবং যাতে কিনা একটা সহনীয় পর্যায় থেকে সমন্বয়টা হয়, সেটার একটা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমরা যে যাচ্ছি অল্প অল্প করে ৩৪ পয়সায়। ওপরের লেভেলে হয়তো ৭০ পয়সা, এ রকমভাবে আমরা প্রাইসিংটাকে রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট (পুনঃসমন্বয়) করতেছি।’

কবে থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে তা নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘এটা আমরা চাচ্ছি মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এটা শুরু হবে এবং পরবর্তী সময়ে হয়তো দুই-তিনবার আমরা এই অ্যাডজাস্টমেন্টটা অল্প, ধীরে ধীরে যাব এবং আমাদের তেলের ব্যাপারেও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে অ্যাডজাস্টমেন্ট শুরু হবে। আমাদের ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রির সম্মতিক্রমে আমরা ডায়নামিক প্রাইসিংয়ে যাচ্ছি।

‘ডায়নামিক প্রাইসিংও একই অবস্থা। যদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটে (বিশ্ববাজার) ক্রুডের (অশোধিত জ্বালানি তেল) দাম বাড়ে, সেটার সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে। যদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটে ক্রুডের দাম কমে, সেটার সাথে অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে। সুতরাং এখন থেকে বলা যায় যে, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টে যাচ্ছি, সমন্বয় করতে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
দাবি না মানলে জ্বালানি তেল উত্তোলন পরিবহন বন্ধের হুঁশিয়ারি
কাতার থেকে বাড়তি ১.৮ এমটিপিএ এলএনজি পেতে চুক্তি
‘২ বছর ধরে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি নেই’
মন্দার শঙ্কায় জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The question is whether there is a lack of buyers in the market

বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে, প্রশ্ন কাদেরের

বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে, প্রশ্ন কাদেরের রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার ব্রিফিংয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরও বাজারে সেগুলোর ঊর্ধ্বগতি কেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক। ওই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘খাদ্য তো পাচ্ছেনই। একটা লোক না খেয়ে মারা গেছে বাংলাদেশে এত সংকটের মধ্যে? বলেন? বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে?

নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে না খেয়ে কেউ মারা গেছে কি না এবং বাজারে ক্রেতার সংকট আছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্লিখিত প্রশ্নগুলো করেন।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরও বাজারে সেগুলোর ঊর্ধ্বগতি কেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক।

ওই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘খাদ্য তো পাচ্ছেনই। একটা লোক না খেয়ে মারা গেছে বাংলাদেশে এত সংকটের মধ্যে? বলেন? বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে?

‘গত ঈদের সময় দেখছি, রাত তিনটার সময়ও মানুষ বাজারে কেনাকাটা করছে। পয়সা না থাকলে কিনছে? মানুষের পারচেজিং/বায়িং ক্যাপাসিটি (কেনার সামর্থ্য), পারচেজিং পাওয়ার (ক্রয়ক্ষমতা) বেড়ে গেছে। এটা হলো বাস্তবতা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সিন্ডিকেট লালনপালন করেছে, মজুতদারদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, এ কথা বললে কি ভুল হবে? যারা করছে তারা বিএনপির পুরোনো সিন্ডিকেট।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ছিল ব্যবসায়ী সরকার। আওয়ামী লীগ ব্যবসা করতে আসেনি। এখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে, এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই।

‘বিভিন্নভাবে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে যে অশুভ চক্র দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনঅসন্তোষের কারণ সৃষ্টি করছে, তাদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই জোরালোভাবে সেটি বলেছেন।’

বিদ্যুতের দাম সমন্বয় আরেক দফা দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা তো বিদ্যুৎমন্ত্রীই বলছে…এটা আমি কেন বলতে যাব? যেই মন্ত্রী এটা ডিল করেন, তিনিই বলেছেন।

‘সমন্বয়ের বিষয়ে আগেও বলেছেন, এখনও বলছেন। বিদ্যুতে আমাদের ভর্তুকি অনেক বেশি হয়ে গেছে। ভর্তুকি আর বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না।’

ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দিনে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডি এবং সেখানে বিদ্যুতের দাম পাঁচ বছরে তারা ৯ বার বাড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।’

বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে এবং এই আন্দোলনে সরকারের পতন হবে, দলটির এক নেতার এমন মন্তব্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে দেশে একটা নির্বাচন হয়ে গেল, তারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের মহড়া দিয়েছে; আগুন সন্ত্রাস করেছে।

‘আন্দোলনের নামে কত ভয়ংকর ভূমিকায় বিএনপি হতে পারে, সেটা তারা করে দেখিয়েছে বারেবারে। জনগণ সম্পৃক্ত ছিল না বলে অতীতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারগামী পর্যটকদের জন্য ‘বিশেষ ট্রেন’
দেশে আন্দোলনের কোনো ইস্যু নেই: কাদের
দেশে উগ্রবাদের জন্ম বিএনপির হাত ধরে: কাদের
বিএনপিকে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ কাদেরের
বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা দলগতভাবে আওয়ামী লীগ করেনি: কাদের

মন্তব্য

p
উপরে