× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Legacy Footwear wants to sell 3 crore shares
hear-news
player
google_news print-icon

তিন কোটি শেয়ার ছাড়তে চায় লিগ্যাসি ফুটওয়্যার

তিন-কোটি-শেয়ার-ছাড়তে-চায়-লিগ্যাসি-ফুটওয়্যার
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের কারখানা। ছবি: সংগৃহীত
লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের পরিচালনা পর্ষদ অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ৩ কোটি অর্ডিনারি শেয়ার ছেড়ে মোট ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে, যা কোম্পানির চলতি মূলধনের ঘাটতি পূরণ করবে।

পুঁজিবাজারে ট্যানারি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়্যার পুঁজিবাজারে তিন কোটি সাধারণ (অর্ডিনারি) শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, নতুন শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বাড়ানো হবে। কোম্পানির পরিচালক ও কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের (যদি পাওয়া যায়) এই শেয়ার ইস্যু করা হবে।

তথ্যমতে, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের পরিচালনা পর্ষদ অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ৩ কোটি অর্ডিনারি শেয়ার ছেড়ে মোট ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে, যা কোম্পানির চলতি মূলধনের ঘাটতি পূরণ করবে।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থায় বোনাস শেয়ার বা রাইট শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় কোম্পানিটি নতুন শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বাড়াতে চায়।

তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমতি লাগবে।

১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০টি। গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন ঘেঁটে জানা যায়, ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৩৭ পয়সা লোকসান দেয় কোম্পানিটি। তবে ২০২১ সালেই লোকসান কাটিয়ে ৪০ পয়সা লাভ হয়।

আরও পড়ুন:
সাউথ বাংলা ও সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সকে বিএসইসিতে তলব
শেয়ার দরে লাফের পর আয় ও লভ্যাংশ কমল ওরিয়ন ফার্মার
পতন ঠেকাতে পারছে না ফ্লোরের বাধাও
পুঁজিবাজার: সূচক বাড়লেও ফেরেনি আস্থা
৫ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The news of ICB coming forward the capital market is lifeless

আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও পুঁজিবাজার নিষ্প্রাণ

আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও পুঁজিবাজার নিষ্প্রাণ
বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা। এই তহবিল ছাড়াও জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি।

করোনাকালের করুণ চিত্র ফিরে আসার পর পরিস্থিতি উত্তরণে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি এগিয়ে আসার উদ্যোগের খবরেও প্রাণ ফিরল না পুঁজিবাজারে। আগের দিনের চেয়ে সূচক ও সামান্য কিছু লেনদেন বাড়লেও রইল তিন শ কোটি টাকার ঘরেই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ নিয়ে ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে ৭ দিনই লেনদেন হলো তিন শ কোটির ঘরে। চার দিন চার শ কোটি, একদিন পাঁচ শ কোটি ও একদিন দুই শ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে।

বুধবার হাতবদল হয়েছে ৩১১ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি।

আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয় মঙ্গলবার, হাতবদল হয় ২৭১ কোটি ৯৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখি। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

লাখ লাখ শেয়ার বসিয়ে রেখেও ক্রেতা খুঁজে না পাওয়াই মূলত লেনদেনের এই খরার কারণ। বাজার এখন ৭০ থেকে ৮০টি কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে। এগুলোর কোনো কোনোটিতে কয়েক মাস আগে দিনে এক শ বা দুই শ কোটি টাকা লেনদেন হতো। তবে বুধবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিও কোনো রকমে ২০ কোটির ঘর ছাড়াতে পেরেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা।

এই তহবিল ছাড়াও জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি।

এমন খবরের পরেও বুধবার ৭৮টি কোম্পানির একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি। এর মধ্যে লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে লেনদেন বন্ধ ছিল ৩টির।

আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও পুঁজিবাজার নিষ্প্রাণ
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৭৮টি কোম্পানির একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি

যে ৩১২টির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে আড়াই শর বেশি কোম্পানির ক্রেতা ছিল নগণ্য। অন্যদিকে ২৪১টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার প্রায় সবই ফ্লোর প্রাইসে পড়ে রয়েছে। এর বেশিরভাগেরই দিনভর ক্রেতার জায়গায় কোনো আদেশ ছিল না। ফ্লোর প্রাইসে মাঝেমধ্যে কেউ কিনে নিয়েছে শেয়ার।

এদিন ৩৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১ থেকে ১ হাজারের মধ্যে, যা ক্রেতা না থাকার সামিল।

এদিন মোট ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে এক কোটির ওপরে। এই লেনদেনের পরিমাণ ২৪০ কোটি ৯৮ লাখ ৯১ হাজার টাকার। বাকি ২৬৯টি শেয়ারের হাতবদল হয়েছে কেবল ৭০ কোটি ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

যদিও দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধির সংখ্যা হলেও এসব কোম্পানি সূচকের খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২৮টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে দরবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩টির।

দিনের প্রথম দিকে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট বেশি থাকার পরেও বেলা একটার পরে পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ৪ পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করে ৬ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারটা এই জায়গায় টিকে গেছে, এটা একটা পজিটিভ দিক। এখন প্রশ্ন হলো কেন ওপরে উঠছে না। সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র, তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে ওপরে যাওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ এটা নয়। এর চেয়ে ডাউন হচ্ছে না, ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্টকে কেন্দ্র করে সূচক ওঠানামা করছে, এটা ভালো দিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়টাতে সাধারণত ব্যাংক সেক্টরে একটা ফ্লো আসে। অর্থবছর শেষ হতে যাচ্ছে, অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই অনেকে পজিশন নিতে শুরু করেন। এই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের বিষয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে সবাই পুরো সেক্টরটা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যে সেক্টরে ফ্লো আসার কথা, সেটাতেই যদি না আসে তাহলে পুঁজিবাজারে অবস্থার পরিবর্তন হুট করে আশা করা যায় না।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ০৬ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ১ দশমিক ০২ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট।

কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বিকন ফার্মা, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, বার্জার পেইন্টস, জেনেক্স ইনফোসিস ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭২ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানির দর কমেছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

সি-পার্লের দর ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ২ দশমিক ১০ পয়েন্ট।

এডিএন টেলিকমের কারণে সূচক হারিয়েছে ১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।

এ ছাড়াও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি থাই ফুড, পূবালী ব্যাংক, অ্যাডভেন্ট ফার্মা ও ওয়ান ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৪ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ দর বেড়ে কেডিএস অ্যাক্সেসরিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৭৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫৫ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের দিন একই সমান দর বেড়ে হয়েছিল ৬০৯ টাকা ৫০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল আমরা টেকনোলজিস। ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৪০ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল জুট স্পিনার্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ দর কমেছে এডিএন টেলিকমের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১১ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ১১৭ টাকা ১০ পয়সা।

এর পরেই ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ দর কমে অ্যাডভেন্ট ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ টাকা ৯০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২৮ টাকা।

৩ দশমিক ২০ শতাংশ দর কমে বিডি থাই ফুডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৫০ টাকা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল ফাইন ফুডস, সি-পার্ল, অ্যাপেক্স ফুডস, লাফার্জ হোলসিম, ই-জেনারেশন, মুন্নু সিরামিকস ও এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১।

আরও পড়ুন:
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর গলার কাঁটা মার্জিন ঋণ
সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার
এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি 

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
ICB is coming to wake up the capital market

পুঁজিবাজার জাগাতে আসছে আইসিবি

পুঁজিবাজার জাগাতে আসছে আইসিবি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে আইসিবি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জনতা ও রূপালী ব্যাংক থেকে কিছু টাকা পাওয়ার জন্য। দুই ব্যাংকের এমডির সঙ্গেই কথা হয়েছে। এখনও তারা নিশ্চিত করেনি। তবে আশা করছি, দ্রুতই টাকা আসবে। আর ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। এটা নিশ্চিত করেছেন তারা।’

পুঁজিবাজারে করোনাকালের করুণ চিত্র ফিরে আসার পর বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি। তারা তহবিলের জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও চাইছে নতুন করে বিনিয়োগ হোক। এতে করে বাজারে লেনদেনের খরা কাটবে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এগিয়ে এলে সাহস পাবে অন্যরাও।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় দুনিয়াজুড়ে অর্থনীতি নিয়ে যে উদ্বেগ, তার বাইরে নয় বাংলাদেশও। বিশ্ববাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে গিয়ে রিজার্ভে যে টান পড়েছে, সেটি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখী। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

যে বাজারে কিছুদিন আগেও দুই হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, সেখানে এখন তা নেমেছে তিন শ কোটির নিচে। চাঙা পুঁজিবাজারে একটি কোম্পানিতেই প্রায় সমপরিমাণ লেনদেন দেখা গেছে গত সেপ্টেম্বরেই।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের মতে, দেশের সামগ্রিক আর্থিক যে পরিস্থিতি, তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাবকেও দায়ী করেছেন। বলেছেন, এখানে বিনিয়োগকারীর মধ্যে ৯০ শতাংশ ব্যক্তি বিনিয়োগকারী।

নানা সময় দেখা গেছে এসব ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা গুজব গুঞ্জনে শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যখন দাম বাড়তে থাকে, তখন আরও বাড়বে আশায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে। আবার যখন কমতে থাকে তখন আরও কমে যাবে ভেবে শেয়ার বিক্রি করে পয়সা হারায়। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

এর মধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা।

এই তহবিল ছাড়াও জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি। তবে এখন পর্যন্ত দুই ব্যাংকের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

জানিয়ে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জনতা ও রূপালী ব্যাংক থেকে কিছু টাকা পাওয়ার জন্য। দুই ব্যাংকের এমডির সঙ্গেই কথা হয়েছে। এখনও তারা নিশ্চিত করেনি। তবে আশা করছি, দ্রুতই টাকা আসবে। আর ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। এটা নিশ্চিত করেছে তারা।’

সিএমএসএফ কত টাকা দেবে এবং মোট কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে তার পরিমাণ জানাননি আইসিবির এমডি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন বলা যাচ্ছে না।’

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল বা সিএমএসএফ যে টাকা দেবে, সেটি ঋণ হিসেবে দেয়া হবে বলেও জানান আইসিবি এমডি।

বিএসইসির একজন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘আইসিবি বিনিয়োগ করবে। এর জন্য সিএমএসএফ টাকা দেবে। জনতা ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে আইসিবির। সেটা আমাদের জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার
এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি 
ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC summons 26 insurance companies for investment information

বিনিয়োগের তথ্য নিয়ে ২৬ বিমা কোম্পানিকে বিএসইসির তলব

বিনিয়োগের তথ্য নিয়ে ২৬ বিমা কোম্পানিকে বিএসইসির তলব ২৬ বিমা কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক হবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়ে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘তাদেরকে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছিল। তাদের মূলধনের ২০ শতাংশ এখানে বিনিয়োগ করার কথা ছিল। সেটা তারা কতটা করেছে সে বিষয়ে জানব আমরা। আবার যারা এখনও আইপিওতে আসেনি তাদের কোনো সহায়তা দরকার আছে কি না, সেটি নিয়েও আলোচনা হবে।’

বিশেষ ছাড় পাওয়া ২৬ বিমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে কতটুকু বিনিয়োগ করেছে সেটি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বুধবার এ নিয়ে আলোচনার জন্য কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বিকাল সাড়ে তিনটায় কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে ডাকা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। এতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানকেও থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘তাদেরকে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছিল। তাদের মূলধনের ২০ শতাংশ এখানে বিনিয়োগ করার কথা ছিল। সেটা তারা কতটা করেছে সে বিষয়ে জানব আমরা। আবার যারা এখনও আইপিওতে আসেনি তাদের কোনো সহায়তা দরকার আছে কি না, সেটি নিয়েও আলোচনা হবে।’

২৬টি বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ছাড় দিয়ে ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে বিএসইসি। প্রজ্ঞাপন অনুসারে কোম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে ন্যূনতম ১৫ কোটি টাকার তহবিল তুলতে পারবে।

এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে তাদের ইক্যুইটির ন্যূনতম ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে।

দেশে বর্তমানে ৮১টি বিমা কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি জীবন বিমা ও ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানি। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৫টি।

ছাড়ের ঘোষণার পরে নতুন করে দুটো বিমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে এলেও রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বিমা করপোরেশন ও সাধারণ বিমা করপোরেশন ছাড়াও ২৪ কোম্পানি তালিকাভুক্তির বাইরে।

সরকারি দুটি কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের উদ্যোগের প্রয়োজন হবে।

বেসরকারি ২৪টি কোম্পানি বিশেষ এই ছাড়ের আওতায় আছে।

যেসব কোম্পানিকে ডাকা হয়েছে

যেসব কোম্পানিকে ডাকা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে জীবন বিমা কোম্পানিগুলেঅ হলো: হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো হলো এলআইসি (বাংলাদেশ), মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স।

আরও পড়ুন:
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল: সারাবিশ্বে বিডের যোগ্যতা অর্জন রেনাটার
ফ্লোরের ‘বাধা’ ভাঙার চেষ্টা শুরু?
আরও একগুচ্ছ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা
৯ মাসে মুনাফা ১৪ কোটি, ৩ মাসে লোকসান ৩৬ কোটি
আয় বাড়লেও তালিকাভুক্তির পর এস্কয়ার নিটের সর্বনিম্ন লভ্যাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC wants investment education in secondary school books

মাধ্যমিকের বইয়ে বিনিয়োগ শিক্ষা চায় বিএসইসি

মাধ্যমিকের বইয়ে বিনিয়োগ শিক্ষা চায় বিএসইসি পাঠ্যবইয়ে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিএসইসির আলোচনায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ছবি: নিউজবাংলা
বিএসইসির মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়টি স্কুল কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করাই শ্রেয়। স্কুল পর্যায়ের বিনিয়োগ শিক্ষা, একজন নাগরিককে পরিণত বয়সে আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

মাধ্যমিক পর্যায় থেকে পাঠ্যবইয়ে বিনিয়োগ শিক্ষা হিসেবে পুঁজিবাজার, ব্যাংক, বিমা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে সভা করেছে সংস্থাটি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সভায় সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঝুঁকি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে সংযোজন করার জন্য প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

বিনিয়োগ শিক্ষার উপযোগিতা এবং প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বজনীন বিনিয়োগ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে নতুন কারিকুলামের কাজ চলমান, যেখানে বিদ্যমান গ্রুপ সিস্টেম আর থাকছে না। ১৬ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা থাকা ধরকার। যেহেতু বিনিয়োগ একটি অবিচ্ছেদ্য জীবন দক্ষতা, তাই নতুন কারিকুলামে বিনিয়োগ, সঞ্চয় ইত্যাদিসহ অর্থায়ন-সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা সংযুক্ত করা হবে।’

মাধ্যমিকের বইয়ে বিনিয়োগ শিক্ষা চায় বিএসইসি

পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে বিনিয়োগের মৌলিক ধারণা প্রদান করা গেলে পরবর্তী সময়ে তারা বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দক্ষতার সঙ্গে নিতে পারবে।’

বিএসসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ডিজিটাল বুথ সারা দেশে বিস্তৃত করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মানুষ বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন।’

বিনিয়োগের ঝুঁকি নিরসন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান ও অন্যান্য প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা-সম্পর্কিত মেলায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্তের সুপারিশ করেন তিনি।

বিএসইসি মনে করে, দেশের পুঁজিবাজারে অধিকাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। তারা যথাযথ বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত নন। তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক বিবরণী এবং অন্যান্য প্রাপ্ত তথ্যাদি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন না। তাই তারা গুজব, ধারণা ও আবেগের ভিত্তিতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে বাজার কারসাজির সুযোগ বেড়ে যায়।

তাই বিনিয়োগ শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হলে, পুঁজিবাজারে তথ্য অসামঞ্জস্য কমবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে সমর্থ হবেন। এতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল ও দক্ষ হবে। বাজারে কারসাজি কমবে।

বিএসইসি ২০১২ সালে একটি ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে, যেখানে বিনিয়োগ শিক্ষার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়। এই উদ্যোগকে ফলপ্রসূ করার জন্য স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়টি স্কুল কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করাই শ্রেয়। স্কুল পর্যায়ের বিনিয়োগ শিক্ষা, একজন নাগরিককে পরিণত বয়সে আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

তাই দেশে জনগণকে বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিশেষ ধরনের ‘ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম’ গড়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক পর্যায় থেকে সচেতনতা বাড়াতে মাধ্যমিক থেকে পাঠ্যপুস্তকে বিনিয়োগ শিক্ষা তুলে ধরা হবে। পরবর্তী সময়ে কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়টি পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সর্বোপরি বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়ে মাস্টার্স বিভাগ চালু করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সভায় আরও অংশ নেন বিএসইসির কমিশনার আব্দুল হালিম, মিজানুর রহমান ও রুমানা ইসলাম। এ ছাড়াও বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, রিপন কুমার দেবনাথ ও পরিচালক মনসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের (বিএএসএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মাহমুদা আক্তার, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন নীলাঞ্জন কুমার সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রঞ্জিত পোদ্দার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠাপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) গবেষণা কর্মকর্তা মুরশীদ আকতার, এসিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রমা তাপসী খান ও বিজনেস রিলেশন এক্সিকিউটিভ মাইশা নানজীবা মুসা।

আরও পড়ুন:
এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি 
ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Urge to increase bond market for mega projects

মেগা প্রকল্পের জন্য বন্ড বাজার বড় করার তাগিদ

মেগা প্রকল্পের জন্য বন্ড বাজার বড় করার তাগিদ বন্ড মার্কেট নিয়ে সিইসইর উদ্যোগে আলোচনায় জুমে যুক্ত হন বক্তারা।
সেকেন্ডারি মার্কেটে সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু হওয়ায় দেশে একটি প্রাণবন্ত বন্ড মার্কেট গড়ে উঠবে। এখন থেকে পুঁজিবাজার শুধু ইক্যুইটি মার্কেটের উপর নির্ভরশীল হবে না বরং এটি বন্ড মার্কেটের উপরও নির্ভরশীল হবে এবং এতে করে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিও অনেকখানি কমবে।

বাংলাদেশে বন্ড মার্কেটকে খুবই ছোট উল্লেখ করে এর বিকাশের তাগিদ এসেছে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের আলোচনায়।

সেখানে বক্তারা বলেছেন, একটি কার্যকর বন্ড বাজার থাকলে সরকার মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সহজেই এই বাজার থেকে নিয়মিত তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

পুঁজিবাজারে স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং প্লাটফর্মে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেনের গতি বাড়াতে ও এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির করতে সোমবার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে বা সিএসই প্রধান কার্যালয়ে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন মার্চেন্ট, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, কোম্পানিজ, ডিলার এবং ব্রোকারেজ কোম্পানি থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা আশা করেন, সেকেন্ডারি মার্কেটে সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু হওয়ায় দেশে একটি প্রাণবন্ত বন্ড মার্কেট গড়ে উঠবে। এখন থেকে পুঁজিবাজার শুধু ইক্যুইটি মার্কেটের উপর নির্ভরশীল হবে না বরং এটি বন্ড মার্কেটের উপরও নির্ভরশীল হবে এবং এতে করে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিও অনেকখানি কমবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা সম্পাদক (এমডি) গোলাম ফারুক বলেন, কোম্পানিগুলোর মূলধন সংগ্রহে ব্যাংক ঋণের উপর বেশি নির্ভর করায় এই বাজার গভীরতা পায়নি। সরবরাহ কম থাকার কারণে বন্ড বাজার বিকাশের জন্য অনুকূল নয়।

তিনি বলেন, ‘বন্ডগুলো ইক্যুইটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এগুলো যদি পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়, মার্কেটের আকারও বাড়বে, বৈচিত্র্যও আসবে। পুঁজিবাজার জিডিপি বৃদ্ধির পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগী খাত হিসেবে উন্মোচিত হবে।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিএসইর ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়্যারনেস বিভাগের প্রধান এম সাদেক আহমেদ। তিনি সরকারি বন্ড ট্রেডিং-এর প্রেক্ষাপট ও এর সুবিধা তুলে ধরে অনুষ্ঠানটি শুরু করেন।

সিএসইর পক্ষে অনুষ্ঠানে ছিলেন সংস্থাটির হেড অফ আইটি মেজবাহ উদ্দিন, হেড অফ ট্রেক মার্কেটিং অ্যান্ড সার্ভিসেস মরতুজা আলম,, হেড অফ বিজনেস প্রোমোশন অ্যান্ড মার্কেটিং মনিরুল হক, হেড অফ সারভিলেন্স অ্যান্ড মার্কেট অপারেসন্স নাহিদুল ইসলাম খান।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর সিডিএস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগের মইনুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিপিআইডি থেকে বিওআইডিতে শেয়ার পাঠানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

সিএসই-এর আইটি বিভাগ থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং প্লাটফর্মে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া উপস্থাপন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বক্তারা। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনাও দেন।

আরও পড়ুন:
করোনাকালের করুণ দশায় পুঁজিবাজার
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর গলার কাঁটা মার্জিন ঋণ
সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার
এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market is in a sad state during the Corona period

করোনাকালের করুণ দশায় পুঁজিবাজার

করোনাকালের করুণ দশায় পুঁজিবাজার ক্রেতাশূন্য পুঁজিবাজারে এখন ব্রোকারেজ হাউজগুলো খাঁ খাঁ করছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
৮ মার্চ দেশেও যখন ভাইরাসটির সংক্রমণ হয়, তখন এই আতঙ্ক একেবারে জেঁকে বসে। ১৯ মার্চ কেবল ৪৯ কোটি ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। দুই মাসের ছুটি শেষে মের শেষ দিন লেনদেন চালু হয়। এরপর কয়েক দিন হাতবদল হয় এক শ কোটির নিচে। পরে তা বাড়তে থাকে। সেই বছরের জুলাইয়ে যে চিত্র ছিল, আড়াই বছর পর এসে দেশের পুঁজিবাজারে এখন সেই একই চিত্র।

প্রায় আড়াই বছর আগে করোনা মহামারির সময় সাধারণ ছুটির বিধিনিষেধ শেষে পুঁজিবাজার চালু হলে লেনদেনে যে খরা দেখা গিয়েছিল, সেটি ফিরে এসেছে।

গত ৮ কর্মদিবসের মধ্যে ৫ কর্মদিবস তিন শ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হওয়ার পর এবার তা নেমে এসেছে দুই শ কোটির ঘরে।

এমন চিত্র সবশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালের জুলাই। সে সময় ১৪ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৮ কর্মদিবস দুই শ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়েছিল।

সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২৭১ কোটি ৯৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। আগের দিনও লেনদেন ছিল ৩৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমলেও সূচক ১৬ পয়েন্ট। ৫০টি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার বিপরীতে এদিন দর হারায় ২৫টি কোম্পানি। ফ্লোর প্রাইসে আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে ২২৮টি কোম্পানি। ৮৭টি কোম্পানির একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখি। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশেপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদেরকে দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেছেন, তারা বাধ্য হয়েই ফ্লোর প্রাইস দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এটি তুলে দেয়া হলে শেয়ারের দর পড়ে গিয়ে বিনিয়োগকারীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তার মতে, দেশের সামগ্রিক আর্থিক যে পরিস্থিতি, তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।

করোনাকালের করুণ দশায় পুঁজিবাজার
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

পুঁজিবাজারের লেনদেন প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারের ভলিউম কমার কারণই হলো ফ্লোর প্রাইস। আগেও বলেছি, এটা শাখের করাত। তুলে দিলেও সমস্যা, আবার থাকার কারণে বায়ার নাই।’

তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকটের কারণেও বিনিয়োগ কমেছে। আর্থিক খাতে বিভিন্ন অনিয়মের খবর পত্র-পত্রিকায় আসছে। যেগুলো দেখে মানুষ বিনিয়োগের সাহস করবে কীভাবে?’

কেমন ছিল করোনাকালের চিত্র

সারা বিশ্বে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকেই আতঙ্কে পুঁজিবাজারে লেনদেন নেমে যায় তলানিতে। জানুয়ারিতেও দুই শ কোটির ঘরে নেমে আসে। তবে পরে বাড়তে বাড়তে হাজার কোটির ঘরও ছাড়িয়ে যায়।

সে সময় বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে মানুষ ছিল আতঙ্কে। ৮ মার্চ দেশেও যখন ভাইরাসটির সংক্রমণ হয়, তখন এই আতঙ্ক একেবারে জেঁকে বসে। ১৯ মার্চ কেবল ৪৯ কোটি ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটিতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের দিন হাতবদল হয় ৩৪৮ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

দুই মাসেরও বেশি সময় লেনদেন স্থগিত থাকার পর ৩১ মে চালু হয় পুঁজিবাজার। তবে আতঙ্কের কারণে সে সময়ও বিনিয়োগকারীরা যায়নি ব্রোকারেজ হাউজে। লেনদেন হতে থাকে এক শ কোটি টাকারও নিচে। জুলাইয়ের শুরু থেকে লেনদেন ফের কিছুটা বাড়তে থাকে। সেই বছরের জুলাইয়ে যে চিত্র ছিল, আড়াই বছর পর এসে দেশের পুঁজিবাজারে এখন সেই একই চিত্র।

তখন একটু একটু করে লেনদেন বাড়তে থাকার পর বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাজারে দেখা দেয় চাঙাভাব। লেনদেন প্রথমে হাজার কোটি, এরপর দুই হাজার কোটি, এবং এক পর্যায়ে ছাড়িয়ে যায় তিন হাজার কোটির ঘর।

শেয়ারদর বাড়তে থাকায় বাড়তে থাকে মূল্যসূচক। এক পর্যায়ে ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ সূচকে পৌঁছার পর এক যুগের হতাশা কাটার আলোচনা বড় হয়ে উঠে।

দবে এখন পুঁজিবাজারে ঠিক উল্টো চিত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে উদ্বেগ, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। পুঁজিবাজারে আতঙ্ক আরও বেশি। এই বাজার ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারী নির্ভর, যারা নানা সময় নেতিবাচক খবরে আতঙ্কিত হয়ে কম দামে শেয়ার বেচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার ইতিবাচক হতে পারে, এমন খবরেও বেশিদামে শেয়ার কিনে পড়ে আরেক ক্ষতিতে।

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট।

ওরিয়ন ইনফিউশন সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে বসুন্ধরা পেপার, সি-পার্ল, ইস্টার্ন হাউজিং, ওরিয়ন ফার্মা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস ও পূবালী ব্যাংক।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১২ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি শূন্য দশমিক ৭৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

পদ্মা অয়েলের দর শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৪০ পয়েন্ট।

সোনালী পেপারের কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৩৬ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

এ ছাড়াও কোহিনূর কেমিক্যালস, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইউনিক হোটেল, আমরা টেকনোলজিস, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও ই-জেনারেশনের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ দর বেড়ে মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭০৮ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৫৮ টাকা ৭০ পয়সা।

এরপরেই ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০৯ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৫৬৭ টাকা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল মুন্নু সিরামিকস। ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ১১৪ টাকা ১০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১০৭ টাকা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল অ্যাম্বি ফার্মা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং, বসুন্ধরা পেপার, অলিম্পিক ইন্ডস্ট্রিজ, পেপার প্রসেসিং ও মনোস্পুল।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ দর কমেছে কনফিডেন্স সিমেন্টের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন ৮৯ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা।

এর পরেই ২ শতাংশ দর কমে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১২ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১১৫ টাকা।

১ দশমিক ৮৩ শতাংশ দর কমে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ টাকা ৭০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ২৭ টাকা ২০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল আমরা টেকনোজিস, কোহিনূর কেমিক্যাল, পদ্মা অয়েল, অগ্নি সিস্টেমস, সোনালী পেপার, বিডি কম ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

আরও পড়ুন:
ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Margin loans are a thorn in the neck of investors in dormant capital markets

ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর গলার কাঁটা মার্জিন ঋণ

ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর গলার কাঁটা মার্জিন ঋণ ফ্লোর প্রাইস শেয়ারের দরপতন ঠেকাতে পারলেও মার্জিন ঋণধারীদের ক্ষতি ঠেকাতে পারছে না। ফাইল ছবি
এক্সাক্টলি বলতে পারছি না। তবে ৩৮ হাজার শেয়ার রয়েছে, এর একটা অংশ মার্জিনে কেনা। লাখ দেড়েক মার্জিনে ছিল। এর মধ্যে আমি কিছু শোধ করেছিলাম। তাতে সব মিলিয়ে শেয়ার প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে লসে আছি। শেয়ার বিক্রি করতেও পারছি না। এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আছে কিনা, আমার জানা নাই: মার্জিন ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়া বিনিয়োগকারী

১০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে সম পরিমাণ টাকা ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছিলেন আবুল কাসেম। তিন মাস ধরে বাড়ছে সুদ, কিন্তু ক্রেতা না পেয়ে শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না।

৩১ জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে দ্বিতীয় দফায় যে ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর মাস দুয়েক পুঁজিবাজারে লেনদেন আর সূচকে ছিল চাঙাভাব। কিন্তু পুরো বাজারের ওপর পড়েনি এই চাঙাভাবের প্রভাব। ৩০ থেকে ৪০টি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে লাফ দিলেও সেপ্টেম্বরের শেষে একের পর এক কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে আসতে থাকে।

এক পর্যায়ে ফ্লোরে ফেরা কোম্পানির সংখ্যা ছাড়িয় যায় ৩০০টিতে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০টির কোনো ক্রেতা থাকে না। ২২০ থেকে ২৩০টি কোম্পানির লেনদেন এতই কম হয় যা ক্রেতা না থাকারই নামান্তর।

এমনও দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ২০টি কোম্পানির তালিকায় আছে, কিন্তু শেয়ার কিনতে অর্ডার বসাননি কেউ। ফ্লোর প্রাইসে মাঝেমধ্যে কেনা হয়েছে কিছু শেয়ার।

এই পরিস্থিতিতে ফ্লোর প্রাইস শেয়ারের দরপতন ঠেকাতে পারলেও মার্জিন ঋণধারীদের ক্ষতি ঠেকাতে পারছে না। এই ক্রেতাহীনতার সময় যত বাড়তে থাকবে, বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতিও তত বাড়বে।

ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর সূচক যখন বাড়ছিল তখন মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছিলেন। সেগুলো বিক্রি করার আগেই শুরু হয় দরপতন, সেই সঙ্গে কমতে থাকে চাহিদা। ফলে সুদের চাপের পাশাপাশি দরপতনের ধাক্কা-দুই দিকেই ক্ষতি হচ্ছে তাদের।

বর্তমানে মূলধন ও মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ বা প্রতি ১ টাকার বিপরীতে মার্জিন ঋণের পরিমাণ ১ টাকা। অর্থাৎ এক লাখ টাকার বিপরীতে আরও ১ লাখ টাকা ঋণ পাবেন একজন বিনিয়োগকারী।

ধরা যাক, দুজন বিনিয়োগকারীর মার্জিন ছাড়াই ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আরেকজন ১ লাখ টাকার বিপরীতে সমপরিমাণ মার্জিন পেয়ে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কোনো একটি শেয়ার ১০০ টাকা দরে কেনা হলে দুজনের শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়ায় যথাক্রমে ১০০০টি ও ২০০০টি।

যদি শেয়ারের কমে যায়, তাহলে মার্জিন ঋণধারীর ক্ষতি হয় দ্বিগুণ। যদি শেয়ারের দর ৮০ টাকায় নামে, তাহলে প্রথম বিনিয়োগকারীর লোকসান হবে ২০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বিনিয়োগকারীর লোকসান হবে ৪০ হাজার টাকা। কারণ, মার্জিন ঋণদাতা কোম্পানিকে পুরো টাকাই দিতে হবে। আর মাসে মাসে এখন বাড়তি টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে মার্জিন ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে। ১৩ শতাংশ সুদের হার ধরে হিসাব করলে মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীকে বার্ষিক সুদ দিতে হবে ১৩ হাজার টাকা।

তাহলে প্রথম মাসে সুদ দিতে হবে ১ হাজার ৮৩ টাকা ৩৩ পয়সা। চক্রবৃদ্ধি হারে পরের ৫ মাসে সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৫ টাকা ৬৬ পয়সা, ১ হাজার ১০৬ টাকা ৯৩ পয়সা, ১ হাজার ১১৮ টাকা ৯২ পয়সা, ১ হাজার ১৩১ টাকা ০৪ পয়সা ও ১ হাজার ১৪৩ টাকা ২৯ পয়সা।

তাহলে মার্জিন ঋণের বিনিয়োগকারীকে ৬ মাসে সুদ দিতে হবে ৬ হাজার ৬৭৮ টাকা ৫৭ পয়সা। এতে তার বিনিয়োগ কমে যাবে সমপরিমাণ।

মার্জিন ঋণের লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হয় বলে মনে করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক লাখ টাকার লাভের চেয়ে দুই লাখ টাকার কিনলে লাভ বেশি। সবাই এই হিসাবই করেন। কিন্তু মার্জিন ঋণে বিনিয়োগ করে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হয়, প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।’

উদাহরণ টেনে ডিবিএ সভাপতি বলেন, ‘ধরুন কারও কাছে এক লাখ টাকা আছে। সমপরিমাণ ঋণ নিয়ে তিনি ১৩০ টাকা দরে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার কিনেছেন ১৫৩৮টি। বর্তমান দর ৮৩ টাকা। অর্থাৎ এই শেয়ারের বাজারদর নেমে এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৪ টাকায়। বিনিয়োগকারীর লোকসান ৭২ হাজার ৩৪৬ টাকা।

কিন্তু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তো এক টাকাও কম নেবে না। শেয়ার বিক্রির পর তারা পুরো টাকাই সমন্বয় করে নেবে। ফলে এই পুরো টাকাই কমবে মূলধন থেকে। তখন মূলধন ২৮ হাজারের নিচে নামবে। এর সঙ্গে যোগ হবে সুদ।

যদি ঋণ না নিয়ে সেই বিনিয়োগকারী ৭৬৯টি শেয়ার কিনতেন, তাহলে তার লোকসান হতো ৩৬ হাজার টাকার কিছু বেশি। এর সঙ্গে সুদের চাপও থাকত না। আবার যতদিন খুশি শেয়ার রেখে দিয়ে কম দামে কিনে কিছু সমন্বয়ও করতে পারতেন।

লোকসান জেনেও কেন ঋণ নেন বিনিয়োগকারীরা- এমন প্রশ্নের উত্তরে রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘লোভ সংবরণ না করতে পেরে বিনিয়োগকারীরা এই ফাঁদে পা দেন।’

তিনি বলেন, ‘জুয়া খেলায় সর্বশান্ত হতে হয় জেনেও কি জুয়া খেলা ছেড়ে দেয়? এখানেও লাভের হিসাব করে কিন্তু লোকসানের কথা মাথায় রাখেন না।

‘আমাদের মার্কেটে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা অনেক। আমাদের হাউজ থেকে লোন দেই না বলে অনেক ক্লায়েন্ট চলে যায়।’

কেমন লোকসানে বিনিয়োগকারীরা

জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘মার্জিন ঋণে বিনিয়োগ করে বিপদে পড়ে গেছি। শেয়ারদর কমে যাচ্ছে। এর ওপর আবার ইন্টারেস্ট বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে ইক্যুইটির ওপর আঘাত আসছে।’

আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেমন ওরিয়ন ফার্মা কেনা আছে ১৪৩ টাকায়। সেটা এখন প্রায় অর্ধেকে আছে। বিক্রি করতে পারছি না। আবারও সুদও বাড়ছে। এটা একটার কথা বললাম।’

খুলনার ব্যবসায়ী জি এম মাহির বলেন, ‘কয়েকটা ইন্স্যুরেন্স কেনা ছিল। ৫৪ টাকা ছিল এখন ৪০ টাকার নিচে।’

বর্তমানে কত লোকসানে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক্সাক্টলি বলতে পারছি না। তবে ৩৮ হাজার শেয়ার রয়েছে, এর একটা অংশ মার্জিনে কেনা। লাখ দেড়েক মার্জিনে ছিল। এর মধ্যে আমি কিছু শোধ করেছিলাম। তাতে সব মিলিয়ে শেয়ার প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে লসে আছি। শেয়ার বিক্রি করতেও পারছি না। এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আছে কিনা, আমার জানা নাই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘আমার যে ইনভেস্টমেন্ট ছিল তা অর্ধেকে চলে এসেছে। লোন সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল না। হঠাৎ করে ব্রোকার থেকে আমাকে বলা হলো, মার্কেট ভালো আছে, লোন নিয়ে ব্যালেন্স করে ফেললে ভালো হবে। আমি জানি না যে মার্কেট এমন হবে। লোন নিয়ে শেয়ার কিনে এখন আমি ধরা।’

‘ধরুন আমি ৫০ টাকা লোন নিয়েছি। যদি তার সুদ ৫ টাকা হয়, সেটা আগেই কেটে নিয়ে ঋণের সঙ্গে যোগ হচ্ছে, অর্থাৎ ৫৫ টাকার ওপর ইন্টারেস্ট কাটছে। চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ বাড়ছে আরকি।’

আরও পড়ুন:
ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার
এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি 
ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার

মন্তব্য

p
উপরে