× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Exim Bank gave winter clothes and blankets to the Prime Ministers relief fund
hear-news
player
google_news print-icon

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে শীতবস্ত্র ও কম্বল দিল এক্সিম ব্যাংক

প্রধানমন্ত্রীর-ত্রাণভান্ডারে-শীতবস্ত্র-ও-কম্বল-দিল-এক্সিম-ব্যাংক
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকার প্রধানের হাতে কম্বল তুলে দেন এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ ও মো. নাজমুস সালেহীন। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রীর হাতে শীতবস্ত্র ও কম্বল তুলে দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই সদস্য মো. আব্দুল্লাহ ও মো. নাজমুস সালেহীন।

শীত মৌসুমে শীতার্ত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস কম্বল ও শীতবস্ত্র দিয়েছে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এক্সিম ব্যাংক)।

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে কম্বলগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে শীতবস্ত্র ও কম্বল তুলে দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই সদস্য মো. আব্দুল্লাহ ও মো. নাজমুস সালেহীন।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোট ২৮ লাখ ৮৫ হাজার কম্বল দেয়া হয়। আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া হয় ১০ কোটি টাকা।

এর আগেও বিভিন্ন সময় আর্তমানবতার সেবায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও ভান্ডারে সহায়তা দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশংসাপত্র পেল এক্সিম ব্যাংক
এক্সিম ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ থাকবে ৭ দিন
এক্সিম ব্যাংক ও মোমো হোটেলের চুক্তি
এক্সিম ব্যাংকে পদোন্নতি পেলেন আব্দুল বারী ও মাকসুদা খানম
টাইম স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রদর্শনীর সঙ্গী এক্সিম ব্যাংক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Credit growth in the private sector has slowed further

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে
টানা তিন মাস বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিতে ভাটার টান দেখা গেছে। এর অর্থ হলো ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের তুলনায় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরেও দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে। অক্টোবর শেষে এই প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ; যা আগের মাস সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সেই হিসাবে আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার কমেছে দশমিক ২ পয়েন্ট। আগস্টে এই হার ছিল ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ।

টানা তিন মাস বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিতে ভাটার টান দেখা গেছে। এর অর্থ হলো ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের তুলনায় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন।

মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদহার বাড়ানোর পর থেকেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার ঋণ প্রবাহের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি বছরের অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা; যা আগের মাস সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ১৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকার সামান্য বেশি।

এ সময়ে আমদানি পরবর্তী অর্থায়ন ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ কমলেও ঋণপ্রবাহ খুব বেশি কমেনি। যে কারণে গত অক্টোবরে বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের ঋণ নেয়ার প্রবণতাও খুব একটা কমেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ২০২২ সালের অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর অর্থ হলো ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংকিং খাত থেকে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন। এ সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে যা ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্নেষণ করে মুদ্রানীতিতে প্রাক্কলন কিছুটা কমানো হয়।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক কয়েক বছর বিনিয়োগ চাহিদা কম রয়েছে। সাধারণভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকলেও, ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে আসে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাপক কমে ২০২০ সালের মে শেষে প্রবৃদ্ধি নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে পরের মাস জুন থেকে তা অল্প মাত্রায় বাড়তে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে।

এর পর মার্চে আবার বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এর পরের মাস এপ্রিলে হয় ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মে মাসে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, জুলাইয়ে যা ছিল ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার পরিমাণ আগস্টে বেড়ে হয়েছিল ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এর আগে গত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছিল ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে।

আরও পড়ুন:
এই মুহূর্তে ঋণ কমাকে ‘মঙ্গল’ বলছেন অর্থনীতিবিদরা
প্রবৃদ্ধি নামবে ৬ শতাংশে, মূল্যস্ফীতি ৯ ছাড়াবে: আইএমএফ
ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল
বেসরকারি ঋণে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু
বেসরকারি ঋণে ১৩.৬৬% প্রবৃদ্ধি নিয়ে শেষ হলো অর্থবছর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Ban on Islami Bank for loans to 8 institutions

ইসলামী ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা ৮ প্রতিষ্ঠানের ঋণে

ইসলামী ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা ৮ প্রতিষ্ঠানের ঋণে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে।
অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের ঋণ বাড়ানোর বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের মালিকানায় থাকা কোনো পক্ষ বেনামে এসব ঋণ নিতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। এ জন্য বিষয়টি তদন্ত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

নাবিল গ্রুপসহ আট প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ছাড় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জরুরি তলব করে।

এর আগে নাবিল গ্রুপসহ আট প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে আগ্রাসী ঋণ দেয়ার নথিপত্র সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল পরিদর্শন করে এসব ঋণ অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়েছে।

নতুন কোম্পানি খুলে কিংবা আগে থেকে ঋণ রয়েছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, তা খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নাবিল গ্রুপের ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ঋণের সুবিধাভোগী অন্য কোনো পক্ষ কি না, তার তদন্ত হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সংবাদপত্রে উঠে এসেছে ইসলামী ব্যাংক বেনামে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ সদস্যর একটি দল ইসলামী ব্যাংকের দেয়া ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দেবে।’

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নাবিল গ্রুপের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিলেও তা অজ্ঞাত কারণে থেমে যায়। এখন নতুন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।

রাজশাহীকেন্দ্রিক নাবিল গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

শুধু নাবিল গ্রুপের ঋণ নয়, এসব ঋণের সুবিধাভোগী ছাড়াও ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা থেকে বিতরণ করা ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের সুবিধাভোগী কারা, তা খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত দল। ঋণের কোনো অর্থ পাচার হয়েছে কিনা, হুন্ডি কারবারে ব্যবহার হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও যাচাই করবে।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ও বাকি অর্থ সোশ্যাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে বের করে নেয়া হয়। সব মিলিয়ে এ গ্রুপের নামে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তাদের ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

গত আগস্টে অস্বাভাবিক ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসার পর ইসলামী ব্যাংকে তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা।

অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের ঋণ বাড়ানোর বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের মালিকানায় থাকা কোনো পক্ষ বেনামে এসব ঋণ নিতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। এ জন্য বিষয়টি তদন্ত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আরও পড়ুন:
নথিপত্র ছাড়াই নাবিল গ্রুপকে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Remittance will be received at home

ঘরে বসেই মিলবে রেমিট্যান্স

ঘরে বসেই মিলবে রেমিট্যান্স
সার্কুলারে বলা হয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসী আয় প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার, ব্যাংক, ডিজিটাল ওয়ালেট, কার্ড স্কিম ও এগ্রিগেটর পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে।

বিকাশ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল সেবাদাতাদের মাধ্যমে (এমএফএস) সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগ্রহী মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আয় প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।

এতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠালে ঘরে বসেই তা পাবেন গ্রাহক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব অথরাইজড ডিলার এবং মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের হেড অফ কর্পোরেট কমিউনিকেশনস্ শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আশা, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে প্রবাসীরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই নিরাপদে এবং আরো দ্রুত বৈধ উপায়ে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন, যা রেমিটেন্স গ্রহণে আরো গতিশীলতা আনবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসারেই পরবর্তী সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে।’

এতদিন বিদেশি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এনে ওই টাকা গ্রাহকের মনোনীত ব্যক্তির এমএফএস অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেয়া হতো। এতে টাকা পেতে গ্রাহকের সময় বেশি লাগত। অনুমোদন পাওয়া সেবাদাতারা এখন থেকে সরাসরি রেমিট্যান্স আনতে পারবে এবং গ্রাহকও দ্রুত রেমিট্যান্সের টাকা পাবেন।

সার্কুলারে বলা হয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসী আয় প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার, ব্যাংক, ডিজিটাল ওয়ালেট, কার্ড স্কিম ও এগ্রিগেটর পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে।

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতাদের বিদেশি সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে– যার মাধ্যমে তাদের অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে এবং সেখান থেকে প্রবাসী গ্রাহকের মনোনীত মুঠোফোনের আর্থিক অ্যাকাউন্টে তার মূল্য টাকায় প্রদান করবে।

বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা যথাযথ ই-কেওয়াইসি পরিপালন করে মোবাইল ব্যাংকিং অর্থাৎ এমএফএসে হিসাব খুলতে পারবেন। আর বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো মুঠোফোনের আর্থিক সেবাদাতাদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন নিষ্পত্তির সুবিধা দিতে পারবে। এ জন্য অবশ্য নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিদেশস্থ নস্ট্রো হিসাবে অর্থ জমার পর উক্ত অর্থের সমপরিমাণ টাকা সেটেলমেন্ট হিসাবে জমা হবে।

‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ হলো বৈদেশিক মুদ্রায় দায়-দেনা পরিশোধের জন্য বিদেশের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট। এ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের পক্ষে বিদেশি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট এলসির পেমেন্ট দেয়া হয়। রপ্তানি বিল ও রেমিট্যান্সের আয়ও নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে যোগ হয়।

গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ কমে গেছে। অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ হুন্ডি বেড়ে যাওয়ার কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে (১ থেকে ২৫ নভেম্বর) ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। অথচ চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৭ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি মাসের বাকি ৫ দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো নভেম্বর মাসেও দেড় বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি রেমিট্যান্স আসবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণে অবৈধ হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। এটা বন্ধ করতে না পারলে রিজার্ভের পরিমাণ আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। আগস্টে আসে ২ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল। পরের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

আরও পড়ুন:
কর্মকর্তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ধামাচাপা দেন ডিজিএম
ব্যাংকিং খাত নিয়ে ভিডিওর যথার্থতা যাচাইয়ের নির্দেশ
‘কৃষকের কোমরে দড়ি, কোটি টাকার পাওনাদারদের কিছু হয় না’
চেক ডিজঅনার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি
পদ্মা ব্যাংক ও রয়্যাল গ্রুপের সমঝোতা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
At the last moment the deadline for return submission may increase

শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমার হিড়িক, সময় বাড়তে পারে

শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমার হিড়িক, সময় বাড়তে পারে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কর অফিসে মঙ্গলবার রিটার্ন জমা দিতে আসা করদাতার ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআর বুধবার জাতীয় আয়কর দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন।

শেষ মুহূর্তে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার হিড়িক পড়েছে। মঙ্গলবার সারা দেশের কর অফিসগুলোতে ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার কর অফিসগুলো করদাতাদের পদচারণে ছিল মুখর।

এদিকে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি-শ্রেণির আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়তে পারে। বেঁধে দেয়া সময়সীমার শেষ দিন বুধবার ৩০ নভেম্বর এই ঘোষণা আসতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার জাতীয় আয়কর দিবস পালন করবে এনবিআর। এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বুধবার রিটার্ন জমার শেষ সময়। বরাবরই শেষ সময়ে এসে রিটার্ন জমার চাপ বেশি থাকে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

তরুণ করদাতা আব্দুল হামিদ একজন ব্যাংকার। তিন ধরে তিনি নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবার মতিঝিলে নিজের অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তিনি সেগুনবাগিচায় আসেন আয়কর রিটার্ন জমা দিতে।

রাজধানীর কর আঞ্চল-৮-এর সার্কেল ১৭০ অফিসের করদাতা তিনি। নিজের ফাইল নিজেই পূরণ করেন তিনি।

সেগুনবাগিচায় কর অফিসে কথা হলো আব্দুল হামিদের সঙ্গে। ‍নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে ভালো লেগেছে। তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কর্মকর্তারা যথেষ্টই আন্তরিক। দ্রুত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে পেরেঠি। আমরা চাই কর অফিসে সারা বছর এমন পরিবেশ বজায় থাকুক।’

এনবিআর এবার কর মেলার আয়োজন করেনি। তবে করদাতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি কর অফিস প্রাঙ্গণে মেলার আদলে সেবার আয়োজন করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে কর সেবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে শেষ দিন পর্যন্ত। সহজে ও কম সময়ে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন বলে এনবিআরের এই উদ্যোগে সন্তুষ্ট করদাতারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত ২১ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে জমা পড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। তবে করদাতা শনাক্তকরণ বা টিআইএনধারীর সংখ্যা ৮০ লাখ।

নিবন্ধনের তুলনায় রিটার্ন জমার সংখ্যা কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ক্রয়সহ ৩৯ সেবা খাতে রিটার্নের সঙ্গে প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তিস্বীকার দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে এনবিআর আশা করছে এবার রিটার্ন জমার সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

রিটার্ন জমার সময় বারবার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৬ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবসে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্দিষ্ট করা হয়। এ নিয়ে সে বছরই সংসদে আইন পাস হয়।

এনবিআর বলেছে, দেশে কোনো মহামারি কিংবা দুর্যোগ পরিস্থিতি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে করোনা সংক্রমণের মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৮৪ জি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত দুই বছর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ব্যবসায়ীরাও ভালো নেই। এমন পরিস্থিতিতে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর দাবি এসেছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পক্ষ থেকে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা দিতে হয়। তবে জরিমানা এড়াতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলেই কর
টাকা সাদা করার সুযোগের বিপক্ষে এনবিআর
ব্যক্তি আয়করে ছাড়ের সম্ভাবনা নেই
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Where is the condition of the banking sector bad? Finance Ministers question

ব্যাংক খাতের অবস্থা কোথায় খারাপ, অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন

ব্যাংক খাতের অবস্থা কোথায় খারাপ, অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যাংকের অবস্থা কোথায় খারাপ তা লিখিত দিয়ে যান, আমরা খতিয়ে দেখব।’

দেশে ব্যাংক খাতের অবস্থা ভালো নয়- এমনটা মানতে নারাজ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। উল্টো দেশের ব্যাংকগুলোর অবস্থা কোথায় খারাপ তা লিখিতভাবে জানাতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মঙ্গলবার সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ ব্যবস্থাপনা মডিউল উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংকের অবস্থা কোথায় খারাপ তা লিখিত দিয়ে যান, আমরা খতিয়ে দেখব।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুরশেদুল কবীর, ইসলামী ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা প্রমুখ।

সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা’ প্রণয়ন করে সরকার। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর প্রণয়ন করা হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক/কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা। একই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের জুনে প্রণয়ন করা হয় প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তাতে অধিকাংশ সময় আবেদনকারীর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ সময় লেগে যায়। আবেদনের অবস্থা কী বা কোন পর্যায়ে আছে, তা জানারও কোনো সুযোগ থাকে না আবেদনকারীদের। আশা করি ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা হলে এ ধরনের সমস্যা দূর হবে।’

অর্থমন্ত্রীর মতে, ঋণ আবেদনপ্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা হলে আবেদনকারী সরাসরি অনলাইনে অর্থ বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংক ও মন্ত্রণালয় মিলে অল্প সময়ের মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে সুদ-ভর্তুকির মঞ্জুরি আদেশ জারি করাও সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে হলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার পদ্ধতি সহজ করা বা অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য একই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সরকার এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবকিছুতেই পরিবর্তন এনেছি। আগে যেভাবে বাজেট পেশ করতাম, সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবকিছু ডিজিটাল করা হয়েছে।’

‘আমি নিজেও একজন নিরীক্ষক ছিলাম। তখন একটাই অভিযোগ পেতাম, মাস শেষে লাইন ধরে বসে থেকেও পেনশনের টাকা পাওয়া যায় না। ভাবতাম, এটা কী করে সম্ভব? পেনশন কেন পাওয়া যাবে না? আসলে তখন সবকিছু ছিল কাগজে-কলমে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকার কারণেই সমস্যা ছিল বেশি। এখন কোনও সমস্যা হচ্ছে না।’

সরকার সর্বজনীন পেনশনের যে কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
আইএমএফের ঋণে শর্ত নেই: অর্থমন্ত্রী
অবকাঠামো উন্নয়নে এআইআইবি’র সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চান অর্থমন্ত্রী
‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সংবাদে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান প্রতিফলিত হয়নি’
জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ-বাণিজ্য
5 percent of the banks CSR should be given to the Prime Ministers Education Fund

ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে

ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছর সিএসআর খাতে যে বাজেট ধরা হবে তার ৫ শতাংশ অর্থ আগামী বছরের ৩০ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিলে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে অনুদান হিসেবে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ সোমবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, চলতি বছর সিএসআর খাতে যে বাজেট ধরা হবে তার ৫ শতাংশ অর্থ আগামী বছরের ৩০ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিলে জমা দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিলের আকার বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর খাতের বরাদ্দের ৫ শতাংশ অর্থ এই তহবিলে অনুদান হিসেবে জমার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই অর্থ দেশের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিরবচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য উপযোগী মানবসম্পদ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলের আকার বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ডিসেম্বরভিত্তিক নিট মুনাফার (নিরীক্ষিত/অনিরীক্ষিত) ভিত্তিতে নির্ধারিত সিএসআরের বাজেট থেকে ৫ শতাংশ অর্থ পরবর্তী বছরের ৩০ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত তহবিলের ব্যাংক হিসাবে জমা করতে হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে অর্থাৎ ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৬৩৪ কোটি টাকা সিএসআর খাতে খরচ করেছে।

আরও পড়ুন:
ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন সংযোজন ‘বিনিময়’ শুরু রোববার
১৫ নভেম্বর থেকে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণসীমা নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The Japanese do business smoothly in the country Salman F Rahman

দেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেন জাপানিরা: সালমান এফ রহমান

দেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেন জাপানিরা: সালমান এফ রহমান বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নিজের দেশের অনুভূতি পান। এখানে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন না। নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।’

দেশে জাপানিরা স্বদেশের অনুভূতি পান এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে হাইব্রিড ফর্মে আয়োজিত ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্লাশ মব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা (বিডা) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাপানের টোকিওতে এএনএ ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে মঙ্গলবার এ আয়োজনে দুই দেশের বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নিজের দেশের অনুভূতি পান। এখানে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন না। নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।’

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘বিশেষ’ তকমা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর একটি। দুই দেশের মধ্যে বিশেষ এক সম্পর্ক রয়েছে। এটা ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক।

‘সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান সফর করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ বার জাপান ভ্রমণ করেছেন। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হয়েছে।’

জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সালমান এফ রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নে আগামীতেও জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আগামীতে আরও স্মার্ট বাংলাদেশ হবে।’

এ সময় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বানের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ২০২১ ও ২০২২ সালে দুবাই, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান্তাক্লারা, জুরিখ, জেনেভা, লন্ডন, ম্যানচেস্টার এবং আবুধাবিতে বিনিয়োগ সম্মেলন করেছে ঢাকা।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ জ্বালানিসংকট: সালমান
বছরের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি: সালমান এফ রহমান
‘ব‌রিশালে বেসরকা‌রি শি‌ল্প উন্নয়নে যা সহায়তা দরকার কর‌ব’
বেকারত্ব কোথায়, প্রশ্ন সালমান এফ রহমানের
মানবাধিকার প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

p
উপরে