× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Reserves fell to 34 billion
hear-news
player
google_news print-icon

৩৪ বিলিয়নে নামল রিজার্ভ

৩৪-বিলিয়নে-নামল-রিজার্ভ
সোমবার রিজার্ভ থেকে আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়। একইসঙ্গে আমদানি দায় মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। ফলে দিন শেষে রিজার্ভ কমে ৩৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ৪০০ কোটি (৩৪ বিলিয়ন) ডলারের ঘরে নেমে এসেছে।

সোমবার রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১৩৫ কোটি (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়। একইসঙ্গে আমদানি দায় মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। ফলে দিন শেষে রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ৪৩০ কোটি (৩৪.৩০ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দিনের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৫৭৭ কোটি (৩৫.৭৭ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রিজার্ভ থেকে আকু বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আমদানি দায় মেটাতেও রিজার্ভ থেকে কিছু ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে রিজার্ভ কমে কত হলো, তার প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে আগামীকাল মঙ্গলবার।’

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমায় রিজার্ভ কমেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

সেপ্টেম্বরের মতো সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসেও রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমেছে। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ (১.৬৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে। আর সেপ্টেম্বরের চেয়ে কম এসেছে ১ শতাংশের মতো।

৩৪ বিলিয়নে নামল রিজার্ভ

গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ (১.৪৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এর পর আট মাস পর সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছে অক্টোবরে।

অন্যদিকে অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ (৪.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয় কম প্রায় ১৩ শতাংশ।

১৩ মাস পর গত সেপ্টেম্বরে ঋণাত্মক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ওই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার আয় করেন রপ্তানিকারকরা, যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে লক্ষ্যের চেয়ে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছরের আগস্টে এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক বছর আগে ৫ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

আড়াই বছরের করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর থেকে রিজার্ভের প্রধান এই দুই সূচকেও দুঃসংবাদ এসেছে।

৩৪ বিলিয়নে নামল রিজার্ভ

আর এই দুই সূচকে নেতিবাচক ধারার কারণে বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে সবচেয়ে স্পর্শকাতর সূচক রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

আইএমএফের হিসাবে ২৬.৩ বিলিয়ন ডলার

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন আছে। বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের যে তথ্য প্রকাশ করছে, তা থেকে প্রকৃত রিজার্ভ ৮ বিলিয়ন ডলার কম।

সংকট মোকবিলায় সরকার আইএমএফের কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ চেয়েছে, তা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ইতোমধ্যে গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বৈঠকে রিজার্ভের হিসাবায়নে মোট রিজার্ভ ও প্রকৃত রিজার্ভকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার কথা বলা হয়। রিজার্ভ থেকে কোন কোন বিনিয়োগকে বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভ হিসাব করতে হবে, তা-ও আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব নিয়ে। আইএমএফ বলছে, ভুল শ্রেণিকরণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের আকার বড় হয়েছে বলে দাবি করে আইএমএফ।

২০২১ সালে আইএমএফ বলেছিল, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ থাকার যে কথা বলা হয়েছিল, তা আসলে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে বলা হয়েছে। রিজার্ভবহির্ভূত সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করে রিজার্ভ ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবার ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে এসে আইএমএফ কর্মকর্তারা বেশ জোরালোভাবেই এ বিষয়টি তুলে ধরে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের শর্ত হিসেবেই যুক্ত করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এখন থেকে আইএমএফের কাছে তথ্য পাঠানোর সময় প্রকৃত রিজার্ভের তথ্য পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ৭ বিলিয়ন দিয়ে গঠন করেছে রপ্তানিকারকদের জন্য রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ)। আবার রিজার্ভের অর্থ দিয়ে গঠন করা হয়েছে লং টার্ম ফান্ড (এলটিএফ) ও গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ)। বাংলাদেশ বিমানকে উড়োজাহাজ কিনতে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া হয়েছে। আবার পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খনন কর্মসূচিতেও রিজার্ভ থেকে অর্থ দেয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হয়েছে। এসব খাতে সব মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার।

আইএমএফ বলছে, এসব বিনিয়োগকে বাদ দিয়ে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব করতে হবে। কারণ রিজার্ভের এসব অর্থ চাইলেই ফেরত পাওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না।

আইএমএফের এই হিসাবে বাংলাদেশেল রিজার্ভ এখন ২৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। সেই হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে পৌণে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ৩৪ দশামিক ৩০ বিলিয়ন ডলার ধরলে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকতে হয়। সে বিবেচনায় বেশ অস্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ সরকার।

তবে আশার কথা, ডিসেম্বরের মধ্যে আইএমএফের ঋণের সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তির দেড় বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঋণ পাওয়া গেলে সংকট কিছুটা হলেও কেটে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান এইচ মনসুর।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফের মূল কাজ হচ্ছে ক্রাইসিস ঠেকানো। সংস্থাটির এই ঋণ একটি আস্থার সৃষ্টি করবে। বিশ্বব্যাংক তখন পাশে থাকবে। তারা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার কম সুদের যে ঋণ দিতে চাচ্ছে, সেটা দ্রুত দিয়ে দেবে।

‘এডিবি এগিয়ে আসবে। জাইকা আসবে। সবাই এগিয়ে আসবে। তখন তারা সবাই তাদের সাপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসবে। রিজার্ভ বাড়বে; সরকার সাহস পাবে। আর সেই সাহসের ওপর ভর করে করোনা মহামারির মতো এই সংকটও মোকাবিলা করতে পারবে।’

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন-আকু হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি আন্ত-আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার ৯ দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তা প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি হয়। তবে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেন তাৎক্ষণিক সম্পন্ন হয়।

আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। তবে দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শ্রীলঙ্কা।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ চুরি: তদন্ত প্রতিবেদন ১৬ নভেম্বর
৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো রিজার্ভ
২৬ মাস পর রিজার্ভ নামল ৩৭ বিলিয়নে
৩৮ বিলিয়নের নিচে নামছে রিজার্ভ
দুই মাসে রেকর্ড আড়াই বিলিয়ন ডলার বিক্রি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The question of the High Court is whether big debtors are above trial

বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের

বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ফাইল ছবি
দুদকের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘ঋণখেলাপিরা আইনের চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাহলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে খেলাপি হচ্ছে। আপনারা ধরছেন না কেন?’

বড় বড় ঋণখেলাপিরা বিচারের ঊর্ধ্বে থাকবেন কি না, সে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

ঋণ জালিয়াতির মামলায় এক ব্যাংক কর্মকর্তার জামিন বাতিল আবেদনের শুনানিকালে রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রশ্ন তোলে।

সমবায় ব্যাংক হতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় ১২ কৃষকের গ্রেপ্তার নিয়ে আলোচনার মধ্যেই হাইকোর্ট উল্লিখিত প্রশ্ন তুলল। ঈশ্বরদীর ওই ১২ কৃষককে রোববার জামিন দিয়েছে পাবনার আদালত।

হাইকোর্টের বেঞ্চ বলে, ‘যারা অর্থশালী তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? আর দুদক কি তাদের রেখে চুনোপুঁটিদের ধরতে ব্যস্ত থাকবে?’

দুদকের উদ্দেশে হাইকোর্ট আরও বলে, ‘ঋণখেলাপিরা আইনের চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাহলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে খেলাপি হচ্ছে। আপনারা ধরছেন না কেন?

‘যারা বড় বড় ঋণখেলাপি, তারা কি বিচারের ঊর্ধ্বে থাকবে? যারা অর্থশালী, তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে?’

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম এ আজিজ খান ও খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মামলায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এ এস এম হাসানুল কবিরের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের শুনানির সময় আদালত এসব কথা বলে।

দীর্ঘদিনেও এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরীসহ ১২ জনের নামে রমনা থানায় ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ মামলা করেন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার ম্যানেজার নকীবুল ইসলাম। এ মামলায় ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর ব্যাংকটির তৎকালীন ডেপুটি ম্যানেজার এএসএম হাসানুল কবীর ও জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর দুজনকে জামিন দেয় বিচারিক আদালত। সেই জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে।

আরও পড়ুন:
ধানমন্ডির বাড়িটি সরকারি সম্পত্তি
ফুটপাত লিজ: তালিকা চায় হাইকোর্ট
বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা তদন্ত করবে পিবিআই: হাইকোর্ট
কারাগারে চিকিৎসকের শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ
বিচারককে গালি, ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন পিরোজপুরের পিপি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
3 lawyers want investigation into withdrawal of money from Islami Bank

‘ইসলামী ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার’ তদন্ত চান ৩ আইনজীবী

‘ইসলামী ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার’ তদন্ত চান ৩ আইনজীবী রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
চিঠিতে তিন আইনজীবী বলেন, ‘গত ২৪ নভেম্বর প্রথম আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা অসাধুচক্র তুলে নিয়েছে। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

ইসলামী ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার বিষয়ে প্রথম আলোতে ছাপা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিন আইনজীবী।

শিশির মনিরসহ সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবীরা শনিবার এ চিঠি পাঠান।

গত ২৪ নভেম্বর ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’ শিরোনামে প্রতিবেদনে প্রথম আলো জানায়, চলতি বছর আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয় ১ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে। এ কারণে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা চলতি মাসকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’ বলছেন।

চিঠিতে ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছেন তিন আইনজীবী।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পত্র পাঠানো বাকি দুই আইনজীবী হলেন আবদুল্লাহ সাদিক ও যায়েদ বিন আমজাদ।

চিঠিতে বলা হয়, ‘এই যে আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নিয়মিত গ্রাহক। ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করে থাকি।

‘গত ২৪ নভেম্বর প্রথম আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা অসাধুচক্র তুলে নিয়েছে। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

চিঠিতে তিন আইনজীবী উল্লেখ করেন, ‘স্বীকৃত মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে। এমতাবস্থায় এই ধরনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে আমরা সংক্ষুব্ধ। উপরিউক্ত বিষয়টি আমলে নিয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

‘একই সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। আশা করি উক্ত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাদের কৃতার্থ করবেন।’

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহবিষয়ক আলোচনা
ইসলামী ব্যাংকের সাউন্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ক্যাম্পেইন শুরু
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
ইতালিতে ইসলামী ব্যাংকের মতবিনিময়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Basic Bank Scam ACC Requests Malaysia For Clues

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে দুদকের অনুরোধ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে দুদকের অনুরোধ
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন হলফনামা করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (এমএলএআর) আওতায় এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শনিবার নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন হলফনামা করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির মামলায় মোহম্মদ আলীর জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা ৫৬ মামলার মধ্যে ১২ মামলার আসামি ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর জামিন শুনানিতে ৮ নভেম্বর হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল হাইকোর্ট। সে অনুসারে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে।

মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় দুই হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ দুই হাজার ৯৯১ টাকা, যা সুদসহ দুই হাজার ৫৯০ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার চারশ’ ৫৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান করে মোট ৫৬টি মামলা করেছে।

মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন। তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- আত্মসাৎকৃত অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্তকরণ ও তাদের জবানবন্দি গ্রহণ (১৬১ ধারায়) কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সব সাক্ষীর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ণিত মামলায় আলামত প্রচুর এবং ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাধ্য। প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটিও এই মামলায় বেশ জটিল।

এছাড়া মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও আলামত এখনও পাওয়া যায়নি।

মামলাগুলোর আগের তদন্ত কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যাওয়ায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। আসামি ও আলামত শনাক্ত করা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা ও এমএলএআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত পাওয়া সাপেক্ষে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৫৬ মামলায় আত্মসাৎকৃত অর্থের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা উদ্ধার/ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

এ মামলায় ৮২ জন ঋণগ্রহীতা ছাড়াও বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফকরুল ইসলাম, ডিএমডি ফজলুস সোবহান, সাবেক ডিএমডি শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, জিএম এ. মোনায়েম খান, জিএম মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ ব্যাংকের ২৭ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা, প্রিন্সিপাল/প্রধান শাখা, দিলকুশা শাখা এবং শান্তিনগর শাখাসহ মোট চারটি শাখার ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে গুলশান থানায় ২৩টি, মতিঝিল থানায় ১২টি ও পল্টন থানায় ২১টিসহ মোট ৫৬টি মামলা করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা ২৭ জন, ব্যবসায়ী ৮২ জন, বেসরকারি সার্ভেয়ার ১১ জনসহ মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির তদন্ত ৬ বছরেও কেন শেষ হয়নি: হাইকোর্ট
বেসিক ব্যাংকের কত টাকা জব্দ, সাত দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: জি বি হোসেনকে বিদেশ যেতে মানা
বেসিক ব্যাংকে শুধুই দীর্ঘশ্বাস
বেসিক ব্যাংকের নতুন এমডি আনিসুর রহমান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Islami Bank in Jamalpur Islampur

জামালপুরের ইসলামপুরে ইসলামী ব্যাংক

জামালপুরের ইসলামপুরে ইসলামী ব্যাংক
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম ব্যাংক। কর্মকর্তাদের সততা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে গ্রাহকরা এ ব্যাংকের প্রতি আকৃষ্ট হন। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।’

জামালপুরের ইসলামপুরে শাখা খুলেছে ইসলামী ব্যাংক। এটি ব্যাংকটির ৩৯৪তম শাখা।

বৃহস্পতিবার শাখাটির উদ্বোধন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যাংকের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকসুদুর রহমান, ময়মনসিংহ জোনপ্রধান আনিসুল হক, ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু. তানভীর হাসান রুমান, ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম জামাল আব্দুল নাসের, ইসলামপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের সেখ, ইসলামপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী এবং জামালপুর ল’ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইসলামপুর শাখাপ্রধান আব্দুল মতিন সরকার। গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী আহমেদুল কবির মিনু, ইসলামপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল আউয়াল খান লোহানী এবং নারী উদ্যোক্তা আফ্রিনা আক্তার। এ সময় ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম ব্যাংক। কর্মকর্তাদের সততা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে গ্রাহকরা এ ব্যাংকের প্রতি আকৃষ্ট হন। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।’

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও করোনার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের জিডিপি বাড়ছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। অতীতের চেয়ে বর্তমানে আমাদের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্টস অন্যতম। গার্মেন্টস শিল্প বিকাশে ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ইসলামী ব্যাংক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।’

আধুনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকের সাউন্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ক্যাম্পেইন শুরু
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
ইতালিতে ইসলামী ব্যাংকের মতবিনিময়
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে ডিএসই ও সিএসই’র চুক্তি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Mastercard Excellence Awards 2022

‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২’ প্রদান

‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২’ প্রদান বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ার্ডস প্রদান অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। ছবি: নিউজবাংলা
২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশের ভিশন অর্জনের পথ সুগম করার স্বীকৃতি হিসেবে সেরা পারফর্মারদের ১৫টি ক্যাটাগরিতে এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস দিয়েছে মাস্টারকার্ড।

মাস্টারকার্ড ১৫টি ক্যাটাগরিতে ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২’ বাংলাদেশে শীর্ষ পার্টনার ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক এবং মার্চেন্টদের স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশের আর্থিক অর্ন্তভুক্তির বিস্তৃতিতে প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে এই অ্যাওয়ার্ডস যাত্রা শুরু করে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ার্ডস প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গেস্ট অফ অনার ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাউথ এশিয়া মাস্টারকার্ডের সিইও বিকাশ ভার্মা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামালসহ পার্টনার ব্যাংক, ফিনটেক ও মার্চেন্ট পার্টনারদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

আর্থিক খাতে পেমেন্ট গেটওয়ে, কন্ট্যাক্টলেস, ইন্টারঅপারেবল ও কিউআর-ভিত্তিক পেমেন্ট সল্যুশন চালুর পাশাপাশি নিরাপদ ও কার্যকর পেমেন্ট অপশন প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করে মাস্টারকার্ড পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির বৈপ্লবিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কয়েক দশক ধরে, কার্যকর ও টেকসই ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম এর বিস্তৃতি এবং এসএমই’র জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে মাস্টারকার্ড সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের হাতে হাত রেখে কাজ করে চলেছে। ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশের ভিশন অর্জনের পথ সুগম করার স্বীকৃতি হিসেবে সেরা পারফর্মারদের ১৫টি ক্যাটাগরিতে এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করেছে মাস্টারকার্ড।

পুরস্কার দেয়া ক্যাটাগরিগুলো হলো- এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড ডেবিট বিজনেস (ডোমেস্টিক), এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড ডেবিট বিজনেস (ইন্টারন্যাশনাল), এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড ক্রেডিট বিজনেস (ডোমেস্টিক), এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড ক্রেডিট বিজনেস (ইন্টারন্যাশনাল), এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড প্রিপেইড বিজনেস, এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড কন্ট্যাক্টলেস (ইসুয়িং), এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড কন্ট্যাক্টলেস (অ্যাকুয়ারিং), এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড পিওএস অ্যাকুয়ারিং বিজনেস, এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড অনলাইন অ্যাকুয়ারিং বিজনেস, এক্সিলেন্স ইন নিউ ক্যাটাগরি, এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড বিজনেস গ্রোথ, এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড রেমিট্যান্স বিজনেস, এক্সিলেন্স ইন ডিজিটাল ইনোভেশন, এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড বিজনেস (মার্চেন্ট)-পিওএস, এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড বিজনেস (মার্চেন্ট)-অনলাইন।

মাস্টারকার্ড সাউথ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার বিকাশ ভার্মা বলেন, ‘সহজ ও নিরাপদ ফিনান্সিয়াল ইকোসিস্টেম তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ আর্থিক সেবা খাতের বিস্তৃতির এই প্রচেষ্টায় পাশে থাকতে পেরে মাস্টারকার্ড গর্বিত। যেহেতু বাংলাদেশ জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে, মাস্টারকার্ড পার্টনারদের সঙ্গে নিয়ে ও প্রযুক্তির সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের আরও বেশি পেমেন্ট ও কমার্স অপশন প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিগত ৩১ বছরের কার্যক্রমে মাস্টারকার্ড যেসব শীর্ষ আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপ তৈরি করেছে সেগুলো হচ্ছে- এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড ইত্যাদি।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Order to increase credit in agriculture to ensure food security

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ
গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের খাদ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীতে কৃষি খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে।

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। গভর্নরের সভাপতিত্বে বৈঠকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের খাদ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীতে কৃষি খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে।

করোনার সময়ে ব্যাংকের সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখায় তিনি ব্যাংকের নির্বাহীদের সাধুবাদ জানান।

এ সময় ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান এবং কৃষি ঋণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদেরকে স্বল্পতম সময়ে মৌসুমভিত্তিক ঋণ সুবিধা দেয়া হবে বলে গভর্নরকে আশ্বস্ত করেন।

এর আগে ১৭ নভেম্বর ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে কৃষক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এই তহবিলের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রয়োজনে তহবিলের অর্থের পরিমাণ ও মেয়াদ বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন:
খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিতে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল
ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে সুযোগসন্ধানীরা
ঋণ আদায়ে তহবিল ব্যয়ের ছাড়ে নিরীক্ষার নির্দেশ
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর
ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Loan facilities up to crores of rupees to small and medium entrepreneurs

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা
উদ্যোক্তাদের সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ঋণ দেয়া যাবে। এর আগে গত ৮ নভেম্বর এক সার্কুলারে চলতি মূলধন দেয়ারও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসা খাতে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে মেয়াদি ঋণের পাশাপাশি চলতি মূলধন ঋণ এবং ব্যবসা খাতে দেয়া ঋণের বিপরীতেও ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতদিন সিএমএসএমইর পাশাপাশি মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে তাদের জামানতবিহীন মেয়াদি ঋণকে ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম’ সুবিধা দেয়া হতো।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত্র জারি করা এক নির্দেশনা সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসা খাতে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কম সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রয়েছে।

কত টাকা ঋণ

সার্কুলারে বলা হয়, কুটির ও মাইক্রো উদ্যোগের উৎপাদনশীল ও সেবা শিল্প খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ঋণ দেয়া যাবে।

ক্ষুদ্র উদ্যোগের উৎপাদনশীল শিল্প খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা হতে সর্বোচ্চ তিন কোটি টাকা এবং সেবা শিল্প খাতে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে।

মাঝারি উদ্যোগের উৎপাদনশীল শিল্প খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন এক লাখ হতে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা এবং সেবা শিল্প খাতে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা হতে সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে।

মাইক্রো উদ্যোগের ব্যবসা খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের ব্যবসা খাতে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা।

এতদিন এই তহবিল থেকে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের মেয়াদি ঋণ দেয়া হতো।

গত ৮ নভেম্বর এক সার্কুলারে চলতি মূলধন দেয়ারও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনসহ সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে এই তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিল থেকে ব্যবসা খাতে ঋণের পরিমাণও বাড়িয়েছে। এর আগে এই তহবিল থেকে একটি ব্যাংক যত ঋণ বিতরণ করত, তার ৭০ ভাগ যেত উৎপাদন ও সেবা খাতে। বাকি ৩০ ভাগ যেত ব্যবসা খাতে। এখন থেকে উৎপাদন ও সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ এবং ব্যবসা খাতে ৩৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে।

এই তহবিল থেকে এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীল খাতে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা এবং সেবা খাতে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ দেয়া যায়। আর কুটির ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীল খাতে ৩ কোটি এবং সেবা খাতে ১ কোটি টাকা ঋণ দেয়া যায়। গ্রাহক পর্যায়ে এর সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রেই একই পরিমাণ ঋণ দেয়া হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জামানতবিহীন ঋণ দিতে উৎসাহিত করতে সিএমএস খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বপ্রথম ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের’ নীতিমালা ঘোষণা করেছিল ।

২০২০ সালের ২৭ জুলাই ঘোষিত ওই নীতিমালা অনুযায়ী, ক্রেডিট গ্যারান্টি বা ঋণ নিশ্চয়তা সুবিধা শুধু সিএমএস উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) জন্য উন্মুক্ত ছিল। মহামারির ধাক্কা সামলে উঠতে পরে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রেও সে সুবিধা দেয়া হয়।

এরপর উদ্যোক্তাদের মাঝে অর্থ সরবরাহ বাড়াতে নতুন স্কিম গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৯ জুলাই সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়নে তহবিল গঠন করা হয়। ওই তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া সহজ করতে মেয়াদি ঋণকেও ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম সুবিধার আনা হয়। এখন চলতি মূলধন ঋণ এবং ব্যবসা খাতে দেয়া ঋণের বিপরীতেও ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা দেয়া হলো।

আরও পড়ুন:
ছয় বিভাগে এসএমই পণ্য মেলা
ক্ষুদ্র শিল্পে সহজ শর্তে ঋণ প্রয়োজন: শিল্প প্রতিমন্ত্রী
বাজেট: এসএমই ফাউন্ডেশনের ৫০ সুপারিশ
এসএমই খাতে শতভাগ প্রণোদনা বাস্তবায়ন চায় ঢাকা চেম্বার
তিন মাসে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পেলেন ২০০ কোটি টাকা

মন্তব্য

p
উপরে