× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Expats will not be charged for sending remittances
hear-news
player
google_news print-icon

রেমিট্যান্স পাঠাতে চার্জ লাগবে না প্রবাসীদের

রেমিট্যান্স-পাঠাতে-চার্জ-লাগবে-না-প্রবাসীদের
বাফেদা চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম বলেন, ‘রেমিট্যান্স হাউসগুলো ও ব্যাংকে রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ দর আগের মতোই ১০৭ টাকা থাকবে। তবে রপ্তানি বিল সেটেলমেন্ট আগামীকাল (সোমবার) থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০০ টাকা কার্যকর হবে।’

রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব হাউসে এখন আর চার্জ দিতে হবে না প্রবাসীদের। এ ছাড়া সব ব্যাংকে রপ্তানি নগদায়নে ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে রপ্তানির পণ্য নগদায়নে ডলারের দর হবে ১০০ টাকা, যা আগে ছিল ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা।

রপ্তানির নতুন এই দর সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর আগের মতোই ১০৭ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। তবে রেমিট্যান্স পাঠাতে আর চার্জ বা মাশুল দেয়ার প্রয়োজন হবে না বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের। একই সঙ্গে বিদেশে ছুটির দিনেও রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন তারা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) রোববার বৈঠকে বসে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাফেদা চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম।

তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্স হাউসগুলো ও ব্যাংকে রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ দর আগের মতোই ১০৭ টাকা থাকবে। তবে রপ্তানি বিল সেটেলমেন্ট আগামীকাল (সোমবার) থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০০ টাকা কার্যকর হবে। এটি আজকের সভার সিদ্ধান্ত।

‘রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব যে হাউস রয়েছে সেগুলোতে কমিশন নেয়া হতো। সেটা পুরোপুরি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যারা রেমিট্যান্স পাঠান তাদের কাছে এটা যেন কস্ট ফ্রি হয়। এদের কোনো রকম কমিশন লাগবে না।’

কমিশনে কত টাকা খরচ হতো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি খুব নমিন্যাল। রেমিট্যান্স অ্যামাউন্টের ওপর এটি ব্যাংক টু ব্যাংক, রেমিট্যান্স হাউস অনুযায়ী হতো। এক বা দুই ডলার- এমন হবে।’

বাফেদা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিদেশে রেমিট্যান্স হাউস বন্ধের দিনও খোলা থাকবে। বিদেশ থেকে যারা রেমিট্যান্স পাঠান তাদের যেন কোনো কর্মঘণ্টা নষ্ট না হয় সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেনসহ এই দুই সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আমদানির ক্ষেত্রে আগের মতোই রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে এক টাকা।

এর আগে ২৩ অক্টোবর বৈঠকে রেমিট্যান্সে ডলারের দর ৫০ পয়সা কমিয়ে ১০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ১ নভেম্বর কার্যকর হয়। ওই সভায় রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়।

৩১ অক্টোবর আবার বৈঠকে বসে এ দুই সংগঠন। ওই সময় সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের প্রবাসী পেশাজীবীদের (হোয়াইট কলার ওয়েজ আর্নার) পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রোববারের বৈঠকে সে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

‘হোয়াইট কলার ওয়েজ আর্নার বলতে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, ব্যাংকার, নার্সসহ উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের বোঝানো হয়।

ডলারের অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণে ৮ সেপ্টেম্বর করণীয় নির্ধারণে এবিবি ও বাফেদার সঙ্গে আলোচনায় বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ডলারের একক রেট সংগঠন দুটি নিজেরা আলোচনা করে ঠিক করবে।

ওই বৈঠকে ডলারের বাজার পর্যবেক্ষণ ও আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি বুঝতে সময় নেয় ব্যাংক নির্বাহী ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর এই দুই সংগঠন।

পরে ১১ সেপ্টেম্বর এবিবি ও বাফেদা বৈঠক করে রপ্তানি আয়ে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দাম ৯৯ টাকা ও প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা দাম বেঁধে দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রবাসী আয়ে ডলারের দর ৫০ পয়সা কমিয়ে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। ওই বৈঠকে প্রবাসী আয় ছাড়া রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দরে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসেরও কম সময়ে দেশের মুদ্রার দর পতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে ডলারের বিপরীতে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ থেকে ডলার পাবে না বেসরকারি ব্যাংকগুলো
রেমিট্যান্স কমছেই, ২৭ দিনে এসেছে ১৩৬ কোটি ডলার
ডলার প্রিমিয়াম ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগে এনআইডি লাগবে না
ডলার দর: রেমিট্যান্সে কমল, রপ্তানিতে বাড়ল
রেমিট্যান্সে ধীরগতি, ২০ দিনে এসেছে ১১০ কোটি ডলার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The price of commemorative gold coins increased again

আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম

আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে (বাক্সসহ) ৭৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণে তৈরি প্রতিটি মুদ্রার ওজন ১০ গ্রাম।

স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি মুদ্রার দাম ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এই দাম মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রিত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ ১৯২০-২০২০’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণমুদ্রার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি স্মারক মুদ্রা ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণে তৈরি ও প্রতিটির ওজন ১০ গ্রাম। স্মারক স্বর্ণমুদ্রাগুলোর (বাক্সসহ) প্রতিটির দাম ৭৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতোদিন এই স্মারক স্বর্ণমুদ্রা ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

এর আগে চলতি মে মাসে এসব স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭২ হাজার টাকা করা হয়। তার আগে দাম ছিল ৬৮ হাজার টাকা।

৩ ডিসেম্বর প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম তিন হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ করেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস। এই দর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনোই এত বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়নি দেশে।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ভরিতে বাড়ানো হয়েছে এক হাজার ৬৩২ টাকা; বিক্রি হবে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকায়। আর ১৮ ক্যারেটের দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭১ হাজার ৩৮৪ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৯ হাজার ৪৮৬ টাকা।

স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরিতে ২২ ক্যারেট অথবা ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সবশেষ প্রতিটি মুদ্রার দাম ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ
খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিতে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল
ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে সুযোগসন্ধানীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Glimpses of relief as inflation

মূল্যস্ফীতির হিসাবে স্বস্তির আভাস

মূল্যস্ফীতির হিসাবে স্বস্তির আভাস মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ে বাজারে, প্রভাব পড়ে জনজীবনে। ফাইল ছবি
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, আমরা বলেছিলাম আশা করছি মূল্যস্ফীতি কমবে। মূল্যস্ফীতি কমেছে। অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯১ ছিল। এই মাসে নেমেছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে।’

সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও কিছুটা কমল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর অর্থ হলো গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশের মানুষ যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পেয়েছিল, এ বছরের নভেম্বর মাসে তা কিনতে ১০৮ টাকা ৮৫ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

অক্টোবর মাসে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তাদের লেগেছে ১০৮ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে লেগেছিল ১০৯ টাকা ১০ পয়সা। আগস্টে লেগেছিল ১০৯ টাকা ৫২ পয়সা। ওই মাসের মূল্যস্ফীতি ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপর আর এই সূচক ৯ শতাংশের ওপরে ওঠেনি।

তবে এই স্বস্তির মধ্যে অস্বস্তির আরেকটি বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি কমেছে মূলত খাদ্যের পেছনে ব্যয় কিছুটা কমায়। কিন্তু খাদ্য ছাড়া অন্য খরচ গেছে বেড়ে।

নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

অন্যদিকে নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশ খানিকটা কমে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে শেরেবাংলানগরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির নভেম্বর মাসের তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, আমরা বলেছিলাম আশা করছি মূল্যস্ফীতি কমবে। মূল্যস্ফীতি কমেছে। অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯১ ছিল। এই মাসে নেমেছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে।’

মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি বেড়েছে মজুরি সূচক। অর্থাৎ ব্যক্তির গড় আয় কিছুটা বেড়েছে। অক্টোবরে মজুরি সূচক ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। নভেম্বরে সেটি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার প্রবণতা ছিল। ঠিক এ রকম একসময়ে গত ৫ আগস্ট সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। এর পরপরই বাড়ানো হয় সব ধরনের পরিবহন ভাড়া। এই দুইয়ের প্রভাবে বেড়ে যায় প্রায় সব পণ্যের দাম। গত ২৯ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হলেও বাজারে তার প্রভাব ছিল না বললেই চলে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতির উদ্বেগজনক ও স্পর্শকাতর সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপের দেশগুলোও ধুঁকছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভও হচ্ছে।

মজুরি সূচক বেড়েছে

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস ধরেই মজুরি সূচক অল্প অল্প করে বাড়ছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। সবশেষ নভেম্বরে তা আরও বেড়ে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশে উঠেছে।

আরও পড়ুন:
অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮.৯১ শতাংশ
মূল্যস্ফীতি দেশের ব্যর্থতায় নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী
৩২ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি অস্ট্রেলিয়ায়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
AIIB is providing budget support of Tk 2500 crore this week

২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি

২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ। এই ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাওয়া যাবে। এই অর্থ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ করা হবে।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পাশাপাশি আরেক উন্নয়ন সহযোগী এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট সহায়তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে এআইআইবি। ইতোমধ্যে চুক্তির সার-সংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি সপ্তাহেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

জানা যায়, বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের জন্য ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে আইএমএফ। সাত কিস্তিতে মিলবে এই ঋণ। এর প্রথম কিস্তি আসবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্থ কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা এখনও পরিষ্কার করেনি বিশ্বব্যাংক। তবে এডিবি আরও ২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে। আগামী মার্চে এ‌ই ঋণ সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ। এই ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাওয়া যাবে। এআইআইবির বাজেট সহায়তা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ করা হবে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সার-সংক্ষেপ এলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ইআরডি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এই ২৫ কোটি ডলার পাওয়া গেলে প্রথমবারের মতো এআইআইবির কাছ থেকে ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৬ সালে এআইআইবির সদস্য হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮০ কোটি ডলার পেয়েছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Order to facilitate LC on import of daily commodities during Ramadan

রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ

রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট ও ইন্সপেকশন-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যাংকটির ঋণ তদারকি করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেই। এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।’

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিতে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি সহজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় দেশের তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা দেন গর্ভনর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘অর্থ পাচার রোধে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে। আর রোজার সময় কোনো পণ্যের যাতে ঘাটতি না হয় এবং মূল্য স্থিতিশীল থাকে সে জন্য তেল, চিনি, ডাল ও ছোলার এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘সভায় উপস্থিত ব্যাংকাররা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কোনো নীতি-সহায়তা দরকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেয়া হবে।’

মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক খাদ্যপণ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি ঋণ বিতরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। গত চার মাসে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার ৩৩ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। এটা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিয়ে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রতিবন্ধী-বান্ধব অ্যাপ চালু করে।’

তিনি জানান, ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে জনগণকে হয়রানি না করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এখন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে গেলে গ্রাহকের কাছে অর্থের উৎস বা বাড়তি প্রশ্ন জানতে চাইবে না ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনায় সম্মতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি জমা দিলে জাতীয় পরিচয়পত্র, টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইবে ব্যাংক।

মুখপাত্র বলেন, অর্থ পাচার রোধে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য ব্যবস্থাপনায় নজর রেখেছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, ঋণে ৯ শতাংশ সুদের হার নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

হুন্ডি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হুন্ডির চাহিদা যেখান থেকে তৈরি হয়, আমরা সেটা খোঁজার চেষ্টা করছি। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। ৯০ শতাংশ ব্যাংক নির্ধারিত ১০৭ টাকা দরে রেমিট্যান্স আনছে। কিছু ব্যাংক হয়তো বেশি দাম দিচ্ছে। এটা যেন না হয়। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট ও ইন্সপেকশন-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ইসলামী ব্যাংকের ঋণ তদারকি করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেই। এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে ভূমিকা সেটা তারা পালন করবে। কোনো গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে টাকা পায়নি এমন কোনো প্রমাণ তো পাওয়া যায়নি।’

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র‍্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘লোকাল কারেন্সির লিকুইডিটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কথা চলছে। প্রথম দিকে কিছু টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সব ব্যাংকিং সেক্টরে গ্রাহকরা আবার টাকা ফেরত দিচ্ছে। কাজেই দেশে কোনোরকম তারল্য সংকট বা ঝুঁকি নেই।’

আরও পড়ুন:
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর
ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন সংযোজন ‘বিনিময়’ শুরু রোববার
১৫ নভেম্বর থেকে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
We are doing well in the global situation

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রংপুর সার্কিট হাউসে রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশের অসচ্ছল এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

তিনি বলেন, ‘রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ আমদানির ব্যবস্থা করছেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্যাস বন্ধের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী
বিনিয়োগে পর্যাপ্ত সুযোগ ও নিরাপত্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী
‘শ্রমিকের ঘামের মূল্য রক্তের চেয়ে কম নয়’
সেপা চুক্তি হলে দু’দেশই লাভবান হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
If you keep the price of sugar high you will go to jail Commerce Minister

চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। ফাইল ছবি
টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন আমাদের ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে৷ এখন আমরা চিন্তা করছি, এর বাইরে যদি প্রয়োজন হয় জেলের ব্যবস্থা করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি দামে চিনি বিক্রি করলে তাকে প্রয়োজনে কারাগারে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে এক সভা শেষে রোববার তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান। গত নভেম্বরে চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা ঠিক, বাজারে যারা ব্যবসায়ী তারা ফেরেশতা না। কিন্তু আমরা যে দাম নির্ধারণ করে দেই, সেটা দিতে হবে তা কিন্তু নয়। দাম কত হওয়া উচিত সেটা নির্ধারণ করে দেই। তার পরও দেখি কোথাও কোথাও চিনি নিয়ে সুবিধা নিয়েছে। তবে আমাদের কাগজপত্র বলে প্রচুর পরিমাণ চিনি রয়েছে, পাইপলাইনেও আছে৷’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে৷ এখন আমরা চিন্তা করছি এর বাইরে যদি প্রয়োজন হয় জেলের ব্যবস্থা করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চিনির দামটা যেটুকু বেশি আছে, সেটা কমে আসবে। আজকে একটু কথা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে আসছে তাকে বলেছি, চিনির ওপর ডিউটি যদি একটু কমানো যায় বা কনসিডার করা যায় তাহলে দামের ওপর প্রভাব পড়বে বা দাম কমে যাবে।

‘আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি আছে। অন্য বছরের তুলনায় প্রচুর চিনি রয়েছে। আর আমদানি তো ওপেন আছে৷ বাজারে যা মজুত আছে, সেটা কোনো অবস্থায় দেশের জন্য বিপজ্জনক নয়। আমরা শুধু সাধারণ মানুষ যাতে কম দামে চিনি পায়, সে ব্যবস্থা করছি।’

গত মাসে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চিনি ও তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০২ ও প্যাকেটজাত চিনি ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাজারে সেই নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে না।

দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটা ভোক্তা অধিকার আছে, তারা সেটা দেখছে। আমরা আমাদের মতো করে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কে কী বলেছে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার দেখার বিষয় যে দাম হওয়া উচিত, যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা।’

তিনি বলেন, ‘যারা চিনি উৎপাদন করে তাদের নিয়মিত গ্যাস সাপ্লাই দরকার। সেখানে সমস্যা হলে তারা আর কাজ করতে পারবে না। আমরা সবাই জানি, কোথাও কোনো না কোনো সমস্যা আছে। আজকে সব কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরো ভালো করে দেখার জন্য আমরা চিন্তা করেছি, কিছু নির্ধারিত নির্দেশনা দিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করা হবে। শিগগিরই এই কমিটি করা হবে।

‘এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককেও বলেছি, তারা যদি একটি ক্রাইসিস সেল খোলে। এই সেল দেখবে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে। কেননা আমরা লক্ষ্য করছি, যতটা না সমস্যা হচ্ছে, তার থেকে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পত্রিকায় আসছে ১০০টি এলসি বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বলেছে। এ দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার এলসি হয়। এই ১০০টি এলসি বন্ধ হলো যে কারণে সেটা হলো, প্রতিটিই ছিল অতিমূল্যের জন্য। এই ১০০টির নিউজ বেশি করে হলো। অথচ ৯০০টি যে ভালোভাবে হলো, সেটা কেউ প্রচার করল না। এখানে সচেতন হতে হবে।

‘দেশে যদি কোনো আগাম পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রতি তিন মাসে আমরা এই কমিটির একটি সভা করব। আজকের আলোচনায় অনেক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের এলসি ওপেন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় যে যে সমস্যার কথা বলেছেন, যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রিলেটেড সেগুলো সব কিছু বাণিজ্যসচিব নোট করেছেন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আমাদের কর্মকর্তাদের পাঠাব৷ কোথায় কী অ্যাকশন নিয়ে কাজ হবে, প্রয়োজনে তাদের চিঠি দেব।’

আসন্ন রমজানে যাতে কোনো সমস্যা না হয়- এ জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘আলোচনায় আরেকটি বিষয় উঠে আসছে, সেটা হলো রমজান আগামী মার্চ মাসে শুরু হবে৷ সে সময় যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য এলসিসহ অন্য বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। শিগগিরই আমরা বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসব। কোনো অবস্থায় রমজান মাসে সাধারণ ভোক্তারা যাতে বিপদ-আপদ বা সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রয়েছে।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এলসি খোলা সংকট, এর মধ্যে সামনে রমজান মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান মাসকে সামনে রেখে আজকে রাতারাতি সব কিছু বদলে দেয়া যাবে না। আজকের অবস্থা, বৈশ্বিক সব কিছু ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কী আছে, সব কিছু আপনারা জানেন। আমরা অন্তত যে দাম আসছে, সেটাকে কনসিডারেশনে নিয়ে বা লোকসান করে কেউ বিক্রি করবে না। তবে আমাদের যেটা দরকার হলো রিজনেবল দামে যেন যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য রমজান মাসে আসে।’

তিনি বলেন, ‘সিটি গ্রুপ বলেছে, তারা নব কিছুর জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে। যেখানে সমস্যা এলসি নিয়ে সেটাও তারা কথা বলে নেবে। দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বিষয় সার্বিক বিবেচনায় নিয়েছেন।

‘তাদের যে প্রতিনিধি আসছেন তাদের বলা হয়েছে কাল-পরশুর মধ্যে তারা একটা পরিষ্কার নির্দেশনা দেবেন। সুতরাং রমজান মাসে দাম কমে যাবে সেটা বলছি না, অন্তত আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যে দাম হওয়া উচিত, সেটা মাথায় রেখে পণ্যের সরবরাহ বা পণ্য পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
ফের বেড়ে সয়াবিন তেল ১৯০, চিনি ১০৮
তেল, চিনি সংকটের সুরাহা কবে
টিসিবির জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কিনছে সরকার
এবার বাড়ল দেশি চিনির দাম, কেজিতে ১৪ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sidal artisans in crisis due to lack of fish loans

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা কুমিল্লার মুরাদনগরের সালফা গ্রামে রোদে শুটকি শুকাতে ব্যস্ত বিষ্ণু চন্দ্র সরকার। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লার মুরাদনগরের সিদলের বেশ চাহিদা আছে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লার সিদল চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। শুধু দেশেই নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার সিদল যাচ্ছে ভারতের আগরতলা, তেল্লামুড়া, সোনামূড়ায়। সেখান থেকে পাইকাররা এসে সিদল নিয়ে যান।

ধোঁয়া উঠা গরম ভাতে সিদল শুঁটকির ভর্তার স্বাদ নেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এক সময় কুমিল্লায় তৈরি সিদলের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ছিল সারা দেশে। তবে সহজ শর্তে ঋণের অভাবে ও নদী এবং খাল-বিলে মাছ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন এখানকার শুঁটকি কারিগরেরা।

শতবছর আগে সিদল শুঁটকি তৈরি শুরু হয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সলফা গ্রামে। বর্তমানে ওই গ্রামের চারটি পরিবার তাদের বাপ-দাদার আদি এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। এক সময় ওই গ্রামের ৪০টি পরিবার সিদল তৈরির কাজ করতো। তবে ঋণ ও মাছের অভাবে অনেকে আবার পেশা বদল করেছেন।

সালফা গ্রামে এখন চারটি পরিবার সিদল শুঁটকি তৈরির সঙ্গে জড়িত। সরেজমিনে সালফা গ্রামে দেখা যায়, মাচায় সিদল শুকানোর কাজ করছেন রবিন্দ্র চন্দ্র ও বিষ্ণু চন্দ্র সরকার।

রবিন্দ্র বলেন, ‘আমরা দুই জাতের সিদল করি। একটি হচ্ছে পোয়া অন্যটি পুঁটি সিদল। পোয়া মাছ চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করি। পুঁটি মাছগুলো মেঘনা ও সিলেট এলাকা থেকে সংগ্রহ করি।’

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা

যেভাবে তৈরি হয় সিদল

সিদল তৈরির কারিগর রবীন্দ্র ও বিষ্ণু জানান, আশপাশের নদী ও খাল থেকে পুঁটি মাছ সংগ্রহ করি। বিশেষ করে স্থানীয় বাজার থেকেও আমরা কম দামে মাছগুলো কিনে বাড়ি আনি। পরে এগুলোর পেট কেটে বড় পাত্রে পানি দিয়ে পেট-কাটা পুটিগুলো রেখে দেই। আগুন তাপে সেগুলো থেকে তেল বের হয়। তেলগুলো আমরা আরেকটা পাত্রে সংরক্ষণ করি। পরে মাছগুলোকে মাচায় শুকিয়ে নেই।

তারা আরও জানান, শুকানো মাছগুলো বড় মটকির ভেতর রেখে এর আগে আগুনের তাপে বের হওয়া মাছের তেল ঢেলে দেই। মাটি খুড়ে মটকিগুলো পুতে রাখি। তিন মাস মাটির নিচে রাখার পর তৈরি হয় সিদল।

চলতি বছরের সিদল তৈরির কেমন প্রস্তুতি

সিদল তৈরির কারিগর রবিন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এখন আর আগের মত মাছ পাওয়া যায় না। তবুও এ বছর যা সংগ্রহ করেছি তা দিয়ে চারশো থেকে ৫’শ মটকী সিদল তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছি। এগুলো থেকে অন্তত এক’শ মন পুঁটি সিদল তৈরি হবে। প্রতি বছর পৌষ-মাঘ মাসে মটকীগুলো মাটির নীচে গর্ত করে রাখি। মূলত আশ্বিন, কার্তিক মাস থেকে চৈত্র মাস পযর্ন্ত চলে সিদল তৈরির কাজ।

কোথায় যায় কুমিল্লার সিদল

কুমিল্লার মুরাদনগরের সিদলের বেশ চাহিদা আছে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লার সিদল চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। শুধু দেশেই নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার সিদল যাচ্ছে ভারতের আগরতলা, তেল্লামুড়া, সোনামূড়ায়। সেখান থেকে পাইকাররা এসে সিদল নিয়ে যান।

সিদল শুঁটকি তৈরির পেশা টিকিয়ে রাখতে আকুতি

মুরাদনগরের সলফা গ্রামের বিষ্ণু ও রবীন্দ্রসহ আরও দুটি পরিবার এখন সিদল শুঁটকি তৈরি করে। তাদের এই কাজে সহযোগিতা করেন শতাধিক নারী। সিদল তৈরির কারিগর বিষ্ণু বলেন, শত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা নানান সংকটের মুখে পড়ে সিদল তৈরির পেশাটাকে জিইয়ে রেখেছি। সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আমাদের সহায়তা করে তাহলে সিদল উৎপাদন করে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম।

আরও পড়ুন:
শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করতে স্থায়ী জমি চান ব্যবসায়ীরা
শুঁটকিতে ফের লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের
শুঁটকি আহরণে দুবলার পথে জেলেরা
দুবলার পথে উপকূলের ১০ হাজার জেলে

মন্তব্য

p
উপরে