× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
And what will bring back the days of pottery
hear-news
player
google_news print-icon

আর কি ফিরে আসবে মৃৎশিল্পের দিন

আর-কি-ফিরে-আসবে-মৃৎশিল্পের-দিন
নিজেদের বানানো মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করছেন মৃৎশিল্পীরা। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুরের রামচন্দ্র পাল বলেন, ‘মাটির জিনিসের ব্যবহার উঠেই যাচ্ছে। পূজা-পার্বণে একটু বেশি বিক্রি হয়। সরকারি তেমন অনুদান আমরা পাই না। পূর্বপুরুষদের ব্যবসা বলে এটা ছাড়তেও পারি না। এই কাজ ছাড়া অন্য কাজ শিখি নাই। তাই ধরে আছি।’

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা। দিনাজপুর জেলা শহরের মহারাজ গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রামচন্দ্র পাল নামে এক মৃৎশিল্পী নিজের বানানো মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। বংশানুক্রমে রামচন্দ্র এই ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। তার ভাই জগন্নাথ পাল এবং বৈদ্যনাথ পালও একই কাজে যুক্ত।

আগে তিন ভাই চাকা ঘুরিয়ে মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত করতেন। এখন বৈদ্যনাথ পাল চাকা ঘোরান না। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটির তৈরি জিনিসপত্র পাইকারি দরে কিনে তা খুচরা বিক্রি করেন।

কথা হয় রামচন্দ্র পালের সঙ্গে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘একটা সময় মাটির জিনিসপত্রের অনেক চাহিদা ছিল। লাভও ভালো হতো। কিন্তু বর্তমানে লাভ করা খুবই কষ্টকর। আগে এক ট্রলি মাটি নিয়ে এলে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ করা যেত। আর এখন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভ ওঠানোই দায়।

আর কি ফিরে আসবে মৃৎশিল্পের দিন

‘আগে মাটি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন আর মাটিও পাওয়া যায় না। আমাদের কাজই যেখানে মাটি নিয়ে, সেখানে মাটি সংকটই আমাদের কাল। অন্যদিকে খড়ির দাম বেশি। মাটির জিনিসের ব্যবহার উঠেই যাচ্ছে। পূজা-পার্বণে একটু বেশি বিক্রি হয়। সরকারি তেমন অনুদান আমরা পাই না। পূর্বপুরুষদের ব্যবসা বলে এটা ছাড়তেও পারি না। এই কাজ ছাড়া অন্য কাজ শিখি নাই। তাই ধরে আছি। সরকারি অনুদান পেলে ভালো হয়।’

রামচন্দ্র পালের ভাইদের কথাও একই রকম। অন্য মৃৎশিল্পীরাও বলেন, আগে মাটির জিনিস বিক্রি করে তাদের সংসার চলত। কাঁচামাল সংকট, জনসাধারণের মাটির জিনিসপত্রের ব্যবহারে অনীহা, আধুনিকতার ছোঁয়া, সরকারি অনুদানের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে দিনাজপুরের মৃৎশিল্প। বিসিক কর্মকর্তাও মনে করেন মাটির জিনিসপত্রের ব্যবহার দিন দিন কমে যাওয়ায় এই শিল্প বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।

আর কি ফিরে আসবে মৃৎশিল্পের দিন

বৈদ্যনাথ পালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আগে চাকা ঘুরাইতাম। এখন মুদিখানায় ব্যবসা করি। আর পাশপাশি সৈয়দপুর, কাহারোল, কাঁওগাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি দরে জিনিস কিনে বিক্রি করি। এতে লাভ কম হয়। বাপ-দাদার শিখিয়ে যাওয়া ব্যবসা ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করে না। তাই ধরে রাখছি।’

মমতা পাল নামের এক নারী মৃৎশিল্পী বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি এই কাজ করেই। স্বামী মারা গেছেন। উনি বানাতেন। এখন আমি বানাই হাত দিয়েই। চাকা ঘুরাইতে আমি পারি না। হাত দিয়ে যা যা বানানো সম্ভব, তাই বানাই। বর্তমানে মাটির সংকট হওয়ায় কাজ করে তেমন লাভ হয় না। একটা সময় হয়তো এই ব্যবসা চলবে না।’

আর কি ফিরে আসবে মৃৎশিল্পের দিন

পার্বতী পাল নামের এক মৃৎশিল্পী বলেন, ‘আমার স্বামী যখন বেঁচে ছিলেন, তখন থেকে এই ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। এখন মানুষের বাড়ি থাকি। আর এই কাজ করেই সংসার চলে। এখন আমার ভাইয়েরা চাকা ঘোরায়। এখন মাটি সংগ্রহ করতে হয় পুকুর শুকিয়ে গেলে। সেখানে মাটি দলা করে কিনে নিতে হয়। একটা মাটির দলা কিনে আনতে খরচ হয় ৭ থেকে ১০ টাকা করে। সব কিছু বাদ দিয়ে মোটের ওপর ৫০ টাকা লাভ হয়। এই ব্যবসা করে চলা খুবই মুশকিল।’

দিনাজপুর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক)-এর উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বর্তমানে মাটির জিনিসের ব্যবহার কমে আসায় এই শিল্প বিলুপ্তির পথে। কটেজ শিল্পের মধ্যে পড়ে মৃৎশিল্প। কটেজ শিল্পের মধ্যে আরও রয়েছে গবাদিপশু পালন, এমব্রয়ডারি শিল্প প্রভৃতি। মৃৎশিল্পের জন্য পৃথকভাবে ঋণের সহায়তা করা না হলেও কটেজ শিল্পের আওতায় তাদের জন্য ঋণের সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আর্থিক কোনো ধরনের অনুদানের ব্যবস্থা নেই।

আরও পড়ুন:
মৃৎশিল্পীদের জন্য আশাজাগানিয়া এবারের পয়লা বৈশাখ ও ঈদ
শখের হাঁড়ির পোড়া কপাল
হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প
সামান্য রোজগারে জীবন চালাই, এখন তাও বন্ধ
লকডাউনেও রপ্তানি হচ্ছে মাটির পণ্য

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The curtain rises on the 19th Asian Art Biennale on Thursday

১৯তম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর পর্দা উঠছে বৃহস্পতিবার

১৯তম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর পর্দা উঠছে বৃহস্পতিবার এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ ১১৪টি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ১৪৯ জন এবং বিদেশি শিল্পী রয়েছেন ৩৪৪ জন।

বাংলাদেশসহ ১১৪টি দেশের ৩৪৪ জন শিল্পীর ৪৯৩টি শিল্পকর্ম নিয়ে ‘১৯তম এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০২২’-এর পর্দা উঠছে বৃহস্পতিবার।

এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বিগত ৪০ বছর ধরে এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিল্পযজ্ঞ এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল আয়োজন করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক জানান, মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ ১১৪টি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ১৪৯ জন এবং বিদেশি শিল্পী রয়েছেন ৩৪৪ জন।

প্রদর্শনীতে চিত্রকলা, ছাপচিত্র, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, স্থাপনাশিল্প ও নতুন মাধ্যমের শিল্পকর্মসহ মোট ৪৯৩টি বাছাইকৃত শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

এই কর্মযজ্ঞের জুরি বোর্ডের সদস্যরা হলেন, জগথ ভিরাসিংহে (শ্রীলঙ্কা), নারসেরিন টর (তুরস্ক), ইয়োনা ব্লাজউইক (যুক্তরাজ্য) ও জেরুস ল সুহান (পোল্যান্ড)। জুরি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী।

এতে মোট পুরস্কার রয়েছে ৯ টি। এর মধ্যে গ্র্যান্ড পুরস্কার ৩টি। যেগুলো প্রতিটির পুরস্কার মান ৫ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

সম্মানসূচক পুরস্কার রয়েছে ৬টি। প্রতিটির পুরস্কার মান ৩ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীটি চলবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
দেশের প্রথম ‘আর্টস কলেজ’ চালু হচ্ছে ১১ জুন
রাবিতে প্রথমবার আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী
নেত্রকোণায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Father of the Nations daughters image on the screw

স্ক্রুতে জাতির পিতা, কন্যার প্রতিচ্ছবি 

স্ক্রুতে জাতির পিতা, কন্যার প্রতিচ্ছবি  স্ক্রুতে জাতির পিতা ও তার কন্যার প্রতিচ্ছবি। ছবি: নিউজবাংলা
স্ক্রু দিয়ে প্রতিকৃতি তৈরির বিষয়ে শিল্পী জোনায়েদ বলেন, “আসলে সবাই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহু পোর্ট্রেট ছবি এঁকেছে। কেউ কেউ ভাস্কর্য তৈরি করেছে, কিন্তু আমার কাছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ‘আয়রনম্যান’ ও প্রধানমন্ত্রীকে ‘আয়রন লেডি’ মনে হয়েছে। তাই লৌহ দিয়ে কীভাবে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করা যায়, সে চিন্তা থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিই।”

কাগজ, ক্যানভাসের বাইরে দেয়াল, কাঠ, পাথরের মতো বস্তুর ওপর বিখ্যাতদের ছবি এঁকেছেন শিল্পীরা, তবে স্ক্রু দিয়ে কারও প্রতিকৃতি তুলে ধরার ঘটনা বিরল। তেমনটিই করেছেন শিল্পী জোনায়েদ মোস্তফা।

কাঠের ফ্রেমে স্ক্রু বসিয়ে কুমিল্লার এই শিল্পী ফুটিয়ে তুলেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি। এ কাজে প্রশংসাও পাচ্ছেন বেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ছাত্র জোনায়েদ মোস্তফা। তার বাবা কুমিল্লার আলোচিত প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।

স্ক্রু দিয়ে প্রতিকৃতি তৈরির বিষয়ে শিল্পী জোনায়েদ বলেন, “আসলে সবাই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহু পোর্ট্রেট ছবি এঁকেছে। কেউ কেউ ভাস্কর্য তৈরি করেছে, কিন্তু আমার কাছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ‘আয়রনম্যান’ ও প্রধানমন্ত্রীকে ‘আয়রন লেডি’ মনে হয়েছে। তাই লৌহ দিয়ে কীভাবে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করা যায়, সে চিন্তা থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিই।”

উপকরণ সংগ্রহ নিয়ে এ শিল্পী বলেন, ‘ঢাকার নবাবপুরে যাই। সেখান থেকে স্ক্রু সংগ্রহ করি। তারপর শুরু করি কাজ। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি বানাতে দুই মাস করে চার মাস লেগেছে। আসলে মনের খেয়াল থেকে এমন প্রতিকৃতি তৈরি করেছি।

‘পরে এগুলো কয়েকজন শৌখিন লোক কিনে নিয়ে যায়। আসলে শিল্প কেনা যায় না। তারা তো আমাকে পরিশ্রমের মূল্য দিয়েছেন মাত্র।’

এ বিষয়ে লেখক ও গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, “জোনায়েদ তরুণ প্রতিভাবান শিল্পী। কুমিল্লা নগরীর ‘ফুসফুস’ খ্যাত ধর্মসাগরপাড়সহ বিভিন্ন জায়গায় তার শিল্পকর্মের ছাপ দেখেছি। লৌহ, ইট ও সিমেন্ট দিয়েও অনেক ভাস্কর্য তৈরি করেছেন শিল্পী জোনায়েদ।”

সংগঠক ও কলামিস্ট মনজুরুল আজিম পলাশ বলেন, ‘এ রকম কঠিন একটি মাধ্যমে সঠিক আকৃতি এবং আবেগ ফুটিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়। সে ক্ষেত্রে বলা যায় শিল্পী জোনায়েদ সফল।’

আরও পড়ুন:
১০ ভাষায় গাওয়া হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুজন হাজংয়ের গান
বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে ম্যুরালে নিজেদের ছবি বসালেন এমপি ও তার ভাই

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
11 artists painting exhibition begins

১১ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী ‘নকশী’ শুরু

১১ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী ‘নকশী’ শুরু প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা ছবি: নিউজবাংলা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইনাম আল হক বলেন, "নকশী গ্রামের আর্ট ক্যাম্পে শিল্পীরা প্রাণ-প্রকৃতির নিগূঢ়তম যে সৌন্দর্য তাদের ক্যানভাসে ফুটে তুলেছেন, তারই প্রতিবিম্ব ‘নকশী’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী।"   

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে ‘আদ্যোপান্ত’ শিল্পীদলের ১১ শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী ‘নকশী’।

৪৪টি চিত্রকর্ম নিয়ে শুক্রবার বিকেলে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী শেখ আফজাল হোসেন।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া চিত্রকর্মগুলো গত বছর শেরপুরের ঝিনাইগাতির নকশী গ্রামে তিন দিনের এক আর্ট ক্যাম্পে এঁকেছিলেন শিল্পীরা।

এই আর্ট ক্যাম্পের আয়োজক ছিলেন লেখক, পাখি বিশেষজ্ঞ ও আলোকচিত্রী ইনাম আল হক। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

১১ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী ‘নকশী’ শুরু
প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইনাম আল হক বলেন, "নকশী গ্রামের আর্ট ক্যাম্পে শিল্পীরা প্রাণ-প্রকৃতির নিগূঢ়তম যে সৌন্দর্য তাদের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন, তারই প্রতিবিম্ব ‘নকশী’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী।"

১১ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী ‘নকশী’ শুরু
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন ইনাম আল হক। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী ও শিল্পীদের সফলতা কামনা করেন অতিথিরা।

প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া ১১ শিল্পী হলেন ঢালী তমাল, ফারজানা ববি, ইশরাত জাহান, কনক আদিত্য, মামুন হোসাইন, নার্গিস পুনম, নাজমুল হক, শক্তি নোমান, তানিয়া হক, উপমা দাশ ও জেমরিনা হক।

১১ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী ‘নকশী’ শুরু
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিল্পীরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রদর্শনীটি ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ধানমন্ডির ৪ নম্বরে সড়কে ২১এ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত সফিউদ্দীন শিল্পালয় অবস্থিত।

আরও পড়ুন:
নেত্রকোণায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী
জগন্নাথের বিজয় উৎসবে পোস্টারচিত্রের প্রদর্শনী
আমার ‘আমি’ ধারণা নিয়ে জিন্নাতুনের চিত্র প্রদর্শনী ‘নাড়িসূত্র’
এবার জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে পুরস্কার পাবেন ১৩ শিল্পী
এবার জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনী ভার্চুয়াল ও সশরীরে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Gafargaon is showing the beautiful road picture

নান্দনিক সড়কচিত্র তুলে ধরছে গফরগাঁওকে

নান্দনিক সড়কচিত্র তুলে ধরছে গফরগাঁওকে
রুহুল আমিন কাজল বলেন, ‘যারা আগে গফরগাঁও আসার সময় ট্রেনের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিতেন, তারা ছবি দেখতে খুলে দেবেন ট্রেনের জানালা। গফরগাঁও শহরে ঢুকে দেখবেন, দেয়ালে দেয়ালে শিল্পের ছোঁয়া।’

চুরি-ডাকাতিসহ নানা কারণে একসময় আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা। ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে চলাচল করা ট্রেনগুলোতে ঘটত এসব চুরি-ডাকাতির ঘটনা। এ কারণে যাত্রীদের মনে ছিল ভীতি। সেই দিন এখন আর নেই। তবু নেতিবাচক পরিচিতি পেয়েছে এই জনপদ।

নিজেদের এই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছেন এলাকাবাসী।

গফরগাঁও নিয়ে মানুষের ভীতি কাটাতে সড়কে আঁকা হচ্ছে নান্দনিক চিত্রশালা। এটির উদ্যোগ নিয়েছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী রুহুল আমিন কাজল। আর এই শিল্পকর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল।

গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কাজটি শুরু হয়।

ইউরোপের নানা দেশে ছবি এঁকে খ্যাতি অর্জন করেছেন রুহুল আমিন কাজল। তিনি ১৯৯৪ সালে সুইডেনে কার্নিভ্যালে ট্রাফিক আর্ট (সড়কচিত্র) করে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নামও লিখিয়েছেন। তার ‘কলোনি’ সিরিজের কাজগুলো সমাদৃত হয়েছে।

‘ডেমোক্রেজি, কিলিজিয়ন, ইভিলাইজেশন’ শিরোনাম ব্যবহার করে নতুন শব্দ তৈরি করেছেন তিনি। ‘ট্রাফিক আর্ট’ অর্থাৎ ‘চলার পথে কলার কথা’- এর মাধ্যমে নিজ জন্মভূমিতে শিল্প, নান্দনিকতা ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে তিনি উদ্যোগী হন।

নান্দনিক সড়কচিত্র তুলে ধরছে গফরগাঁওকে

উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ের ঢালীবাড়ী মোড়ে সড়কের পাশে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন রুহুল আমিন কাজল। তার সহযোগী হিসেবে আছেন আরেক চিত্রশিল্পী উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের মহিরখারুয়া গ্রামের জ ই সুমন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং গফরগাঁওয়ের চর এলাকার পাঁচ তরুণও সার্বক্ষণিকভাবে এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

চিত্রকর্ম দেখতে আসা আসাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জামালপুর সদর থেকে গফরগাঁও বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। পরে জানতে পারি রংতুলির আঁচড়ে সড়কে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসে বেশ ভালো সময় উপভোগ করেছি। মনে হচ্ছে সড়কজুড়ে জীবন্ত ছবি।’

মইনুল হাসান নামে আরেকজন বলেন, ‘এসব চিত্রকর্ম মনোমুগ্ধকর। বাচ্চারা খুবই আনন্দ পায়। সে জন্য গফরগাঁও পৌর এলাকা থেকে ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। প্রত্যেকটি সড়কে এমন চিত্র ফুটিয়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।’

কাজলের স্বপ্ন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও দেয়ালজুড়ে আঁকা হবে এমন ছবি।

নান্দনিক সড়কচিত্র তুলে ধরছে গফরগাঁওকে

তিনি বলেন, ‘যারা আগে গফরগাঁও আসার সময় ট্রেনের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিতেন, তারা ছবি দেখতে খুলে দেবেন ট্রেনের জানালা। গফরগাঁও শহরে ঢুকে দেখবেন, দেয়ালে দেয়ালে শিল্পের ছোঁয়া। ক্রমশ ছবির খবর ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশের মানুষের কাছে। গফরগাঁও হয়ে উঠবে দেয়ালচিত্রের শহর।’

তিনি আরও বলেন, ‘লোকজ সুন্দর শিরোনামে গফরগাঁওয়ে সড়কে যে ছবিগুলো আঁকা হচ্ছে, সেগুলো বাতাসে জীবন্ত হয়ে দোল খাবে। মানুষের মনে ছবিগুলো ইতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলবে, এমন স্বপ্ন নিয়েই ছবি আঁকার কাজটি করা হয়েছে। এ ছাড়া গফরগাঁওয়ের নতুন নতুন প্রজন্ম জানবে, তারা ছবির জনপদের মানুষ।’

গফরগাঁওয়ের এই চিত্রকর্ম শেষ করে কাজল চলে যাবেন ডেনমার্কে। ফিরে এসে আবার শুরু করবেন দেয়ালচিত্রের কাজ। তখন মুক্তিযুদ্ধের কিছু ছবি আঁকা হবে। গফরগাঁও ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে এমন চিত্রকর্মের কাজ কেউ করতে চাইলে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।

চিত্রশিল্পী জ ই সুমন কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ড্রয়িং পেইন্টিংয়ে স্নাতকোত্তর করে ঢাকায় বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সবাই যদি নিজ জন্মস্থান ছেড়ে বাইরে চলে যায়, তাহলে নিজ এলাকার উন্নয়নের কাজ কে করবে? এসব চিন্তা করেই নিজ এলাকাতে কাজ শুরু করেছি এবং দেশব্যাপী আমরা এই কাজ করব বলে চিন্তা করেছি।’

নান্দনিক সড়কচিত্র তুলে ধরছে গফরগাঁওকে

তিনি বলেন, 'শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন শেখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটা কাজলের পছন্দ হয়েছে। তিনি আমাদের সহায়তা করবেন।'

সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিত্রশিল্পী রুহুল আমিন কাজল সড়কে ছবি আঁকার আগ্রহ প্রকাশ করলে পৃষ্ঠপোষকতা করার কথা জানাই। তার এমন উদ্যোগ আমার ভালো লেগেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন ভিড় করছে ওই সড়কের পাশে। আমিও দৃষ্টিনন্দন চিত্রাঙ্কন দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’

আরও পড়ুন:
হোলি আর্টিজানে হামলায় নিহতদের প্রতি দূতদের শ্রদ্ধা
জঙ্গিরা এখন কতটা শক্তিশালী
হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় হোলি আর্টিজান মামলা
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
দেশের প্রথম ‘আর্টস কলেজ’ চালু হচ্ছে ১১ জুন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Artists do not want to stop puppet dance

পুতুল নাচ বন্ধ, দিন চলে না শিল্পীদের

পুতুল নাচ বন্ধ, দিন চলে না শিল্পীদের পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর শিল্পীরা পড়েছেন বিপাকে। ছবি: নিউজবাংলা
এক সময় গ্রামগঞ্জ, হাট-বাজার, স্কুল কিংবা খোলা মাঠে মঞ্চ সাজিয়ে যে পুতুল নাচের আসর জমত, এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর শিল্পীরা পড়েছেন বিপাকে। পুরনো পেশা আগলে রেখে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো অর্থের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গের একমাত্র পেশাদার পুতুল নাচের কোম্পানি কুড়িগ্রামের ‘মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার’ শিল্পীদের চুলায় হাড়ি চড়ছে না।

এক সময় গ্রামগঞ্জ, হাট-বাজার, স্কুল কিংবা খোলা মাঠে মঞ্চ সাজিয়ে যে পুতুল নাচের আসর জমত, এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর শিল্পীরা পড়েছেন বিপাকে। পুরনো পেশা আগলে রেখে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি গ্রামে ঠিকানা ‘মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার’-এর। এটির মালিক মকবুল হোসেন, সভাপতি ভানু চন্দ্র বর্মন। সংগঠনে সরকারি তালিকাভুক্ত শিল্পী মকবুল হোসেন এবং আবুল হোসেন। মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে বছরে ১৮ হাজার টাকা পান তারা।

মালিক মকবুল হোসেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে প্রায় তিন বছর ধরে পড়ে আছেন। দুই স্ত্রী, পাঁচ ছেলে এবং ছয় মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সহায় সম্পদ বলতে ২০ শতকের ভিটাবাড়ি। ছেলেরা কৃষি কাজ করে। তাই দিয়ে সংসার চলছে।

পুতুল নাচ বন্ধ, দিন চলে না শিল্পীদের

মকবুল হোসেন জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার ‘মা কালি পুতুল নাচ’ সংগঠনের শ্রী মুরালী বর্মণের কাছে থেকে ৮০ হাজার টাকায় পুতুলগুলো কিনেছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮৪ সালে সেই নাম বদলে রাখা হয় ‘মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার’।

ভারতের কলকাতা, কুচবিহার, দিনহাটা ও শিলিগুড়ি থেকে পুতুল নাচের মাস্টার এনে প্রায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেন বাংলাদেশের ৯ জন শিল্পী। শুরুতে পুতুল নাচ দেখানো হতো শুধু কুড়িগ্রামে। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নিবন্ধন পাওয়ার পর ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুতুল নাচ দেখাতে শুরু করেন তারা।

‘এক ফুল দুই মালি’, ‘কাশেম মালার প্রেম’, ‘সতী রূপভান’, ‘রামের বনবাস’, ‘দানবীর রাজা হরিশ চন্দ্র’, ‘রাবণ বধ’, ‘মহা সতী সাবিত্রী’ ‘সত্যবান’, ‘সাগরভাসা’সহ ২১টি পালা করেছে এ কোম্পানি। শিল্পকলা একাডেমি পুরষ্কারও পেয়েছে তারা। অর্থাভাবে এই থিয়েটার দল বিদেশে শো করতে পারেনি।

সময়ের সঙ্গে যাত্রাপালা বন্ধ হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়েছে পুতুল নাচেরও আসর। আগের মতো আর ডাক আসে না তাদের। প্রায় ২০ বছর ধরে পুতুল নাচের আসর না পাওয়ায় আয় রোজগারও নেই সংগঠনের শিল্পীদের। এখন দিনমজুরি করে সংসার চলছে তাদের। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ সদস্যের মধ্যে একজন মারা গেছেন, একজন অসুস্থ। বাকি ৭ জনের মধ্যে ২ জনের শিল্পী ভাতা হয়েছে।

সীমান্ত আর প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে এসব শিল্পী।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাড়াইটারী গ্রামের বাসিন্দা এই থিয়েটার দলের সভাপতি ভানু বর্মণ। অসুস্থ শরীর হলেও তারই আয়ে চলে স্ত্রী আর মেয়েসহ ৫ জনের সংসার। ছয় শতকের ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কোনো অর্থ সম্পদ নেই ভানু বর্মণের।

ভানু বলেন, ‘১৯৮৪ সাল থেকে এই দলে কাজ করছি। প্রায় ২১টি পালায় সুরের তালে তালে পুরুষ-মেয়ে কণ্ঠ দেই। আগে পুতুল নাচ দেখিয়ে প্রতি শোতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আয় হতো। তাই দিয়ে স্বচ্ছলভাবে চলছিল সংসার। কিন্তু গত ২০-২২ বছর থেকে পুতুল নাচ বন্ধ থাকায় অভাব আর অর্ধাহারে পরিবার নিয়ে দিন কাটে। মাঝে মধ্যে হঠাৎ সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে পুতুল নাচের খেলা দেখালে তাই দিয়ে চলে।’

পুতুল নাচ বন্ধ, দিন চলে না শিল্পীদের

পুতুল নাচের কাহিনিগুলো যিনি তৈরি করেন, সেই পালাকার আবুল হোসেন বলেন, ‘পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সরকারিভাবে দু-একটি অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে। এতে করে ৩০০-৪০০ টাকা পাই। আর সারা বছর দিনমজুরি করে সংসার চলে।’

তবলা বাদক স্বপন বর্মণ বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পুতুল নাচের সাথে জড়িত। প্রযুক্তির যুগে এসে মানুষ আর পুতুল নাচ দেখে না। ফলে শো না থাকায় আয়ও কমে গেছে। সরকারিভাবে কোনো ভাতা জোটে না। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানরাও কোনো খোঁজ রাখেন না। ভিজিডি, ভিজিএফসহ সরকারের অনেক সুযোগ-সুবিধা আসলেও তারা আমাদের দেয় না। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।’

এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, ‘যাত্রাপালার অশ্লীলতার চাপে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচও এখন বন্ধ। ক্ষণিকের জন্য পুতুল নাচ দেখতে পেয়ে ৩০/৩৫ বছর আগের শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। আগে ১/২ টাকায় টিকিট কিনে পুতুল নাচ দেখতাম। ঐতিহ্যবাহী এই পুতুল নাচ টিকিয়ে রাখতে সরকারে কাছে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।’

কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার দলের দুই জন সরকারিভাবে ভাতা পাচ্ছেন। বাকিদের পর্যায়ক্রমে আনা হবে। পুতুল নাচ টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসার আহবান জানাই।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Faheems exhibition is going on in the empty art space

শূন্য আর্ট স্পেসে চলছে ফাহিমের চিত্র প্রদর্শনী ‘অবয়ব’

শূন্য আর্ট স্পেসে চলছে ফাহিমের চিত্র প্রদর্শনী ‘অবয়ব’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে কথা বলছেন শিল্পী শহিদ কবির। ছবি: সংগৃহীত
শিল্পীর ভাষায়, ‘প্রদর্শিত চিত্রকর্মের চরিত্রগুলোর চেনা স্থির অভিব্যক্তির রুপায়নের চেয়ে আনকোড়া একজন মানুষের মনস্তাত্তিক পরিচয় খোঁজার চেষ্টাটাই আমার মূখ্য উদ্দেশ্য। যে পরিচয় তার বাহ্যিক অবয়বের চেয়ে আলাদা।’

রাজধানীর লালমাটিয়াই শূন্য আর্ট স্পেস গ্যালারিতে চলছে তরুণ চিত্রশিল্পী ফাহিম চৌধুরীর একক চিত্র প্রদর্শনী ‘অবয়ব’। ১৫ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীটি শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধন করেন শিল্পী শহিদ কবির।

১৬টি শিল্পকর্ম নিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনীটি। এতে স্থান পেয়েছে মূলত মানুষের প্রতিকৃতি।

প্রতিকৃতি হলো ব্যক্তির মুখাবয়বের প্রতিনিধিত্বমূলক স্থিরচিত্র, কিন্তু এই স্থিরচিত্রের গভীরে যিনি থাকেন তিনি কে? কি তার বিশেষত্ব? স্থিরচিত্র দিয়ে তাকে কতটুকু চেনা যায়?

এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফাহিম নিবিষ্ট হন ‘স্থির-অপলক’ চরিত্রগুলোর সঙ্গে কথোপকথনে।

শিল্পীর ভাষায়, ‘প্রদর্শিত চিত্রকর্মের চরিত্রগুলোর চেনা স্থির অভিব্যক্তির রুপায়নের চেয়ে আনকোড়া একজন মানুষের মনস্তাত্তিক পরিচয় খোঁজার চেষ্টাটাই আমার মূখ্য উদ্দেশ্য। যে পরিচয় তার বাহ্যিক অবয়বের চেয়ে আলাদা।’

২০১৭ সালে ইউডা চারুকলা থেকে স্নাতক শেষ করেন ফাহিম। ছাপচিত্র মাধ্যমে ভর্তি হলেও প্রবল আগ্রহ ছিল ড্রইং-পেইন্টিংয়ের প্রতি।

ফাহিম জানালেন, স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষক শিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশের পোর্ট্রেট ক্লাস থেকে তার প্রতিকৃতি আঁকার প্রতি বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়, যার চর্চা চলছে আজ অবধি।

প্রদর্শনীর চিত্রকর্মগুলো আঁকার পেছনের গল্প নিয়ে ফাহিমের ভাষ্য, ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত সব ভালোই চলছিল। হঠাৎ করোনাকালীন সব কিছু যখন বিমূঢ়, তখন আমি ঢাকায়। লকডাউনের কারণে বাড়ি ফিরতে পারেনি। দু:সহ একটা সময়! গৃহবন্দী থাকতে হয়েছে বহুদিন।

সেই সময় ফোনে থাকা ছবিগুলো সংস্কৃতির মিশেলে কাগজে আঁকা শুরু। রঙ-তুলির বদলে কাঠকয়লা আর পেন্সিলে সাদাকালোতে শুরু হয় ‘কালবেলা’র ডায়েরি। সেই ছবিগুলো আমার কাছে আর ছবি থাকেনি। হয়ে উঠেছে বিষন্ন সময়কালের একাকিত্ব কাটিয়ে ওঠার নিয়ন্তা।

আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন (রোববার বাদে) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত চলছে এই প্রদর্শনী। শূন্য আর্ট স্পেস গ্যালারিটির অবস্থান লালমাটিয়া ৫/৬ ব্লক এফ, কাজী অফিসের পাশে।

আরও পড়ুন:
শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
How Manipuri dance spread everywhere

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে সম্প্রদায় ছাড়িয়ে মণিপুরি নাচ জায়গা করে নিয়েছে বহু দূরের মানুষের হৃদয়েও। ছবি: নিউজবাংলা
‘রবীন্দ্রনাথ মণিপুরী নৃত্যকলায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, কলকাতায় ফিরবার পথে ত্রিপুরার রাজার সাহায্য নিয়ে একজন নাচের শিক্ষককে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যান সেখানকার শিক্ষার্থীদের নাচ শেখাবার জন্যে।’

রাসলীলা মণিপুরি সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব হলেও এখন তা আকৃষ্ট করছে সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষকেও। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাস উৎসবে প্রতিবছর নানা জাতিধর্মের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটছে।

দেশের অন্য কোনো নৃগোষ্ঠীর লোক উৎসব এত বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি।

রাস উৎসব ছাড়াও মণিপুরি নাচ সিলেট-মৌলভীবাজার অঞ্চলের শিল্পকলায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ধর্মীয় আচার থেকে এই নাচ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হয়ে ওঠার পাশাপাশি প্রচারের আলোয় আসার গল্পটি চমকপ্রদ।

বাঙালি সংস্কৃতির অনেক মণিমুক্তো খুঁজে বের করার মতো মণিপুরি নাচের সুবাস ছড়িয়ে দেয়ার পেছনেও জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের নাম। তার উদ্যোগেই মণিপুরি নাচ অন্য জাতিগোষ্ঠীর কাছেও পরিচিতি পায়।

সিলেটের প্রবীণ নৃত্যগুরু অনিল কিষান সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কল্যাণেই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মণিপুরি নৃত্য প্রচারের আলোয় আসে। রবীন্দ্রনাথ সিলেটে এসে প্রথম মণিপুরি নৃত্য দেখেন। এতে মুগ্ধ হয়ে শান্তিনিকেতনে এই নাচের চর্চা শুরু করেন। এরপর থেকেই মণিপুরি নৃত্য সব মহলে সমাদৃত হতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে মণিপুরি শিল্পীরা আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন।’

তিনি বলেন, ‘মণিপুরিদের কাছে নৃত্য তাদের ধর্মীয় আচারের অংশ। এখন এটি এই অঞ্চলের সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। মণিপুরি নৃত্যের প্রচারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসামান্য অবদান রেখেছেন।’

রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফর

১৯১৯ সালে অবকাশ যাপনের জন্য অভিভক্ত ভারতের আসাম রাজ্যের তখনকার রাজধানী শিলংয়ে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেখানে অবস্থানের সময় শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ওই বছরের ৫ নভেম্বর ছেলে ও ছেলেবউকে নিয়ে সিলেট আসেন রবীন্দ্রনাথ।

৫ নভেম্বর সকালে সুরমা নদীর ঘাট চাঁদনী ঘাটে শঙ্খধ্বনি বাজিয়ে শোভাযাত্রাসহ সিলেটে স্বাগত জানানো হয় কবিকে। সিলেটে তিন দিন অবস্থান করেন কবি।

ভ্রমণকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়ে সিলেটকে নিয়ে একটি কবিতাও লেখেন রবীন্দ্রনাথ। সে সময় বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সিলেটকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এ নিয়ে আক্ষেপও ফুটে ওঠে রবীন্দ্রনাথের কবিতায়। শতবর্ষ পরেও সিলেটের বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনও অনেকে দ্বারস্থ হন সেই কবিতার-

মমতাবিহীন কালস্রোতে/ বাঙলার রাষ্ট্রসীমা হতে/ নির্বাসিতা তুমি/ সুন্দরী শ্রীভূমি।/ ভারতী আপন পুণ্য হাতে/ বাঙালির হৃদয়ের সাথে/ বাণীমালা দিয়া/ বাঁধে তব হিয়া/ সে বাঁধনে চিরদিনতরে তব কাছে/ বাঙলার আশীর্বাদ গাঁথা আছে।

সিলেটে ভ্রমণকালে ৬ নভেম্বর টাউন হল প্রাঙ্গণে ও ৭ নভেম্বর মুরারীচাঁদ (এম সি) কলেজের ছাত্রাবাসের উদ্যোগে কবিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। টাউন হলে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা ‘বাঙালীর সাধনা’ নামে ‘প্রবাসী’ পত্রিকার আর এম সি কলেজের বক্তৃতার সারমর্ম ‘আকাঙ্ক্ষা’ নামে ‘শান্তিনিকেতন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে
সিলেট অঞ্চলে কবিগুরুর সফরের প্রামাণ্য দলিল

টাউন হল প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা মঞ্চের টেবিল মোড়ানো ছিল মণিপুরিদের তাঁতের কাপড়ে। এটি পছন্দ হয় রবীন্দ্রনাথের। এই কাপড়ের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি মণিপুরিদের সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর মণিপুরিদের তাঁতশিল্প ও তাদের জীবনযাত্রা দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন কবি।

মাছিমপুরে রবীন্দ্রনাথ

কবির আগ্রহে পরদিন ৬ নভেম্বর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নগরের মাছিমপুর মণিপুরিপাড়ায়। সেখানকার বাসিন্দারা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করেন কবিগুরুকে। কবির সম্মানে আয়োজন করা হয় মণিপুরি নৃত্যের।

‘শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থের লেখক কবি ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৬ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে মাছিমপুর মণিপুরিপাড়ায় আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিকে স্বাগত জানাতে এখানকার বাসিন্দারা সড়কে সারি সারি কলাগাছ পুঁতে তোরণ নির্মাণ করেন। প্রতি গাছের গোড়ায় মঙ্গলঘট ও আমপাতার সজ্জা করেন। মাছিমপুরে আসার পর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যাওয়া হয় গোপীনাথ জীউ মন্দিরে।’

নৃপেন্দ্রলাল বলেন, ‘মণ্ডপে কবির উদ্দেশে মণিপুরি ছেলেমেয়েরা রাখালনৃত্য পরিবেশন করেন। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে এই রাখাল নৃত্যের কাহিনি। এরপর রাসনৃত্যের আয়োজনও করা হয়। তবে কবি ক্লান্ত বোধ করায়, রাসনৃত্য না দেখেই নয়াসড়ক টিলার ওপরে ফাদার টমাসের বাংলোয় ফিরে আসেন।

‘সিলেট সফরকালে এখানেই তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর সন্ধ্যায় মণিপুরি ছেলেমেয়েরা তার বাংলোয় এসে রাসনৃত্য পরিবেশন করেন, যা মুগ্ধ করে রবীন্দ্রনাথকে।’

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে
কৃষ্ণপ্রেমের লীলা তথা মণিপুরিদের রাসলীলার নাচে মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শান্তিনিকেতনে মণিপুরি নৃত্য

মণিপুরি নৃত্যের সজ্জা, সাবলীল ছন্দ ও সৌন্দর্যে বিমোহিত হন রবীন্দ্রনাথ। শান্তিনিকেতনের ছেলেমেয়েদের মণিপুরি নৃত্য শেখানোর আগ্রহ প্রকাশ তিনি।

সিলেটে রবীন্দ্রনাথের সামনে যে মণিপুরি নৃত্য পরিবেশিত হয় তা পরিচালনায় ছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি নৃত্যশিল্পী ইমাগো দেবী। ইমাগো দেবীকে কবিগুরু শান্তিনিকেতনে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে মণিপুরিদের কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে ইমোগা রাজি হননি। তবে এতে দমে যাননি রবীন্দ্রনাথ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা তার ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষে ফিরে দেখা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ মণিপুরী নৃত্যকলায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, কলকাতায় ফিরবার পথে ত্রিপুরার রাজার সাহায্য নিয়ে একজন নাচের শিক্ষককে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যান সেখানকার শিক্ষার্থীদের নাচ শেখাবার জন্যে।’

কেবল শিক্ষক নিয়োগ নয়, শান্তিনিকেতনে মণিপুরি নৃত্যের জন্য আলাদা শাখা গঠন করা হয়। পরবর্তীকালে রবীন্দ্ররচনাতেও পাওয়া যায় মণিপুরি নৃত্যের প্রভাব। রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, মায়ার খেলা, নটীর পূজা, শাপমোচন নৃত্যনাট্যে মণিপুরি নৃত্যেও সুর ও তাল অনুসরণ করা হয়েছে।

রবীন্দ্র কালচারাল একাডেমি গঠনের দাবি

সিলেট নগরের মাছিমপুর এলাকার মণিপুরিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, যে মণ্ডপে রবীন্দ্রনাথ এসে মণিপুরি নৃত্য দেখেছিলেন তার পাশেই উঁচু বেদীর ওপর কবিগুরুর আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে।

ভাস্কর্যের কয়েক ফুট সামনেই মণ্ডপটি। পুরোনো মণ্ডপের টিনের চালে লাগানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া। স্থাপিত ১৮৮০ সন।’

সাইনবোর্ড জানান দিচ্ছে, মণ্ডপের বয়স ১৪২ বছর। এখানেই ১৯১৯ সালের ৬ নভেম্বর এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২০১৯ সালে সিলেটে মহাসমারোহে পালিত হয় ‘শ্রীহট্টে রীবন্দ্রনাথ: শতবর্ষে স্মরণোৎসব’। তার আগের বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত মাছিমপুরে নির্মিত হয় রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তি।

তবে ঐতিহাসিক মণ্ডপটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি, এর জায়গাও বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাংলাদেশ মণিপুরি সমাজকল্যাণ সমিতি, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাছিমপুরে মণিপুরি-রবীন্দ্র কালচারাল একাডেমি গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। মন্ত্রী-মেয়রসহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা বরাবর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’

রাস উৎসব কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস মূলত শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব।

‘রাস’ শব্দটি এসেছে ‘রস’ থেকে। ‘রস’ মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম। ‘লীলা’ অর্থ নৃত্য। রাসলীলা মূলত পুরাণের কৃষ্ণ ও বৈষ্ণব সাহিত্যের চরিত্র রাধার অপ্রাকৃত প্রেমলীলার একটি আখ্যান। বৃন্দাবনের গোপীদের নিয়ে রাধা ও কৃষ্ণ এই রাস করেন।

বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি একে শেরাম নিউজবাংলাকে বলেন, ’পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মহামিলনই রাস। পরমাত্মা হচ্ছেন ঈশ্বর, মানে শ্রীকৃষ্ণ। আর জীবাত্মা হলেন রাধা ও গোপীরা, যারা পুণ্যবলে কৃষ্ণের সান্নিধ্যলাভ করেছেন।’

তিনি বলেন, ’রাসনৃত্য একধরনের বৃত্তাকার নাচ যা আট, ষোলো বা বত্রিশজনে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপনা করা যায়।’

প্রতিবছরের মতো এবারও কার্তিকের পূর্ণিমায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাস উৎসব হবে।

কমলগঞ্জের আদমপুরের নৃত্যগুরু ধীরেন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, ‘মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাখাল নৃত্য শুরু হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবে রাস নৃত্য, যা পরদিন ভোর পর্যন্ত চলবে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় বাজেটের এক শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের দাবি
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি
টিএসসির অনুষ্ঠানে হামলা ও সাংস্কৃতিক দায়
জাতীয় সংগীত পুরস্কার প্রবর্তনের ভাবনা
প্রস্তাবিত বাজেটে অসন্তুষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা

মন্তব্য

p
উপরে