× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
The lowest remittance in 8 months is falling to 34 billion in reserves
hear-news
player
google_news print-icon

৮ মাসে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স, ৩৪ বিলিয়নে নামছে রিজার্ভ

৮-মাসে-সবচেয়ে-কম-রেমিট্যান্স-৩৪-বিলিয়নে-নামছে-রিজার্ভ
গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ (১.৬৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে।

সেপ্টেম্বরের মতো সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমেছে। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ (১.৬৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে। আর সেপ্টেম্বরের চেয়ে কম এসেছে ১ শতাংশের মতো।

গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ (১.৪৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এর পর আট মাস পর সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আসলো অক্টোবরে।

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমায় রিজার্ভ নেমেছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে। মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। আগামী সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মতো আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ নেমে আসবে ৩৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে।

গত বছরের আগস্টে এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক বছর আগে ২৭ অক্টোবর রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

৮ মাসে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স, ৩৪ বিলিয়নে নামছে রিজার্ভ

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ।

আগস্টে আসে ২ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

তবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই চার মাসে ৭২০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৭০৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) চেয়ে কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়ায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। শুরু থেকেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ফের হোঁচট খেয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারির মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

প্রকৃত রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি

রিজার্ভের এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন আছে। বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের যে তথ্য প্রকাশ করছে, তা থেকে প্রকৃত রিজার্ভ ৮ বিলিয়ন ডলার কম।

সংকট মোকবিলায় সরকার আইএমএফের কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ চেয়েছে, তা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ইতোমধ্যে গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বৈঠকে রিজার্ভের হিসাবায়নে মোট রিজার্ভ ও প্রকৃত রিজার্ভকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার কথা বলা হয়। রিজার্ভ থেকে কোন কোন বিনিয়োগকে বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভ হিসাব করতে হবে, তা-ও আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

৮ মাসে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স, ৩৪ বিলিয়নে নামছে রিজার্ভ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব নিয়ে। আইএমএফ বলছে, ভুল শ্রেণিকরণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের আকার বড় হয়েছে বলে দাবি করে আইএমএফ।

২০২১ সালে আইএমএফ বলেছিল, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ থাকার যে কথা বলা হয়েছিল, তা আসলে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে বলা হয়েছে। রিজার্ভবহির্ভূত সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করে রিজার্ভ ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবার ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে এসে আইএমএফ কর্মকর্তারা বেশ জোরালোভাবেই এ বিষয়টি তুলে ধরে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের শর্ত হিসেবেই যুক্ত করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এখন থেকে আইএমএফের কাছে তথ্য পাঠানোর সময় প্রকৃত রিজার্ভের তথ্য পাঠানো হবে।

এক বছর আগেও দেশে রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের (৪৮ বিলিয়ন) বেশি। আমদানি খরচ বাড়ায় যা এখন কমে হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি (৩৫.৮৫ বিলিয়ন) ডলার। রিজার্ভ থেকে ৭ বিলিয়ন দিয়ে গঠন করা হয়েছে রপ্তানিকারকদের জন্য রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ)।

আবার রিজার্ভের অর্থ দিয়ে গঠন করা হয়েছে লং টার্ম ফান্ড (এলটিএফ) ও গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ)। বাংলাদেশ বিমানকে উড়োজাহাজ কিনতে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া হয়েছে। আবার পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খনন কর্মসূচিতেও রিজার্ভ থেকে অর্থ দেয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হয়েছে। এসব খাতে সব মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার।

আইএমএফ বলছে, এসব বিনিয়োগকে বাদ দিয়ে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব করতে হবে। কারণ রিজার্ভের এসব অর্থ চাইলেই ফেরত পাওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না। আইএমএফের শর্ত মানলে বর্তমানে রিজার্ভ কমে হয় ২৭ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। আর চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর তা নেমে আসবে ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। সেপ্টেম্বরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। সেই হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকতে হয়। সে বিবেচনায় বেশ অস্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ।

তবে আশার কথা, ডিসেম্বরের মধ্যে আইএমএফের ঋণের সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তির দেড় বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঋণ পাওয়া গেলে সংকট কিছুটা হলেও কেটে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান এইচ মনসুর।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফের মূল কাজ হচ্ছে ক্রাইসিস ঠেকানো। সংস্থাটির এই ঋণ একটি আস্থার সৃষ্টি করবে। বিশ্বব্যাংক তখন পাশে থাকবে। তারা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার কম সুদের যে ঋণ দিতে চাচ্ছে, সেটা দ্রুত দিয়ে দেবে।

‘এডিবি এগিয়ে আসবে। জাইকা আসবে। সবাই এগিয়ে আসবে। তখন তারা সবাই তাদের সাপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসবে। রিজার্ভ বাড়বে; সরকার সাহস পাবে। আর সেই সাহসের ওপর ভর করে করোনা মহামারির মতো এই সংকটও মোকাবিলা করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
আড়াই মাসেই ৫ বিলিয়ন রেমিট্যান্স
ডলারের চাপ সামাল দিচ্ছে বিপুল রেমিট্যান্স
রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন ছাড়াচ্ছে আগস্টেও
ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট
দেড় মাসেই ৩১ হাজার কোটি টাকা পাঠালেন প্রবাসীরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
A few banks are bringing remittance at a rate of more than 107 rupees

১০৭ টাকার বেশি দরে রেমিট্যান্স আনছে কয়েকটি ব্যাংক

১০৭ টাকার বেশি দরে রেমিট্যান্স আনছে কয়েকটি ব্যাংক
৬ ডিসেম্বরের একটি একচেঞ্জ হাউজের রেমিট্যান্স বিতরণের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একজন গ্রাহকের রেমিট্যান্সের বিপরীতে দুইটি ব্যাংক ডলার প্রতি ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দিয়েছে।

বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে কয়েকটি বেবসরকারি ব্যাংক। সবশেষ সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সব ব্যাংক প্রতি ডলারে ১০৭ টাকায় প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করবে। কিন্তু কয়েকটি ব্যাংক এর চেয়েও বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাজারে ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা গত ১১ সেপ্টেম্বর এক সভায় ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। তাতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ১০৮ টাকা দাম বেঁধে দেয়া হয়।

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে দুই দফায় ৫০ পয়সা করে ১ টাকা কমিয়ে এই দর ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনে এবিবি ও বাফেদা। কিন্তু এই দর মানছে না কয়েকটি ব্যাংক।

গত ৬ ডিসেম্বরের একটি একচেঞ্জ হাউজের রেমিট্যান্স বিতরণের একটি নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একজন গ্রাহকের রেমিট্যান্সের বিপরীতে দুইটি ব্যাংক ডলার প্রতি ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।

ব্যাংক দুটি বাফেদা ও এবিবির নির্ধারিত দরের চেয়ে ৫০ পয়সা বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেছেন, অন্তত ৫ টি ব্যাংক এবিবি ও বাফেদার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। গত কয়েক মাস ধরে এই ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করছে।

গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালকুদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বেশি দরে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহ করার বিষয়টি উঠে আসে।

সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাফেদা-এবিবির নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে কয়েকটি ব্যাংক। তবে ৯০ শতাংশ ব্যাংক বাফেদা–এবিবির নির্ধারিত দরে ডলার সংগ্রহ করছে। ব্যাংকগুলো যাতে ১০৭ টাকার বেশি দামে রেমিট্যান্স সংগ্রহ না করে সে বিষয়ে সভায় সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।’

১ ডিসেম্বর এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন এবং বাফেদার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন সাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়, এবিবি-বাফেদা নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করা যাবেনা।

এরপরও কয়েকটি ব্যাংক ১০৭ টাকার বেশি দরে ডলার সংগ্রহ করছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোন কোন ব্যাংক ১০৭ টাকার চেয়েও বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রতিযোগিতা করছে।’

‘সে সকল ব্যাংক বেঁধে দেয়া দরের চেয়ে বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে, তাদের জরিমানা করে সতর্ক করে দিতে হবে। তানাহলে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে না।’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্যরাও পাবেন প্রণোদনা
রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
রেমিট্যান্সে পতন থামল নভেম্বরে
কাটছে না রেমিট্যান্সের অশনি গতি
আমদানিতে স্বস্তি, রেমিট্যান্সে উদ্বেগ বাড়ছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In two days Islamic banks received Tk 5250 crore

দুই দিনে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো পেল ৫২৫০ কোটি টাকা

দুই দিনে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো পেল ৫২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়। ফাইলছবি/নিউজবাংলা
বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি ইসলামী ধারার ব্যাংক রয়েছে। ইসলামী ধারার কোনো ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়লে এসব ব্যাংককে এত দিন টাকা ধার দিয়ে আসছিল ইসলামী ব্যাংক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদেরকেও ধার নিতে হচ্ছে।

হঠাৎ তারল্য–সংকটে পড়া ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সহায়তা দিতে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অর্থ দেয়া হচ্ছে।

সোমবার সার্কুলার জারির পর মঙ্গল ও বুধবার এসব ব্যাংককে ধার দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ধার অনুমোদন করেছে।

তারল্য সুবিধা বাস্তবায়নের প্রথম দিন মঙ্গলবার ‘ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি’র মাধ্যমে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে চার হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক পাঁচটি হলো ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

পরদিন বুধবার ব্যাংকগুলো দুই হাজার কোটি টাকা নেয় ব্যাংকগুলো, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৫০ কোটি টাকা নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

এদিন দুটি ব্যাংককে এক হাজার ২৫০ কোটি ধার অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে কত টাকা নিয়েছে, তা জানা যাবে বৃহষ্পতিবার।

ব্যাংকগুলো সুকুক (শরিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ বন্ড) জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘সুকুক বন্ডের বিপরীতে প্রয়োজনমতো টাকা নিতে পারবে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। সুকুকের বিপরীতে গত দুই দিনে ৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি ইসলামী ধারার ব্যাংক রয়েছে। ইসলামী ধারার কোনো ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়লে এসব ব্যাংককে এত দিন টাকা ধার দিয়ে আসছিল ইসলামী ব্যাংক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদেরকেও ধার নিতে হচ্ছে।

এই ব্যাংক থেকে অনেকে আমানত তুলে নেয়ার কারণে আমানত কমে গেছে। মঙ্গলবার ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকায়, যা গত ৩১ অক্টোবর ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
শিল্পের আমদানি সহজ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল
ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
5 thousand crore fund to facilitate import of industries

শিল্পের আমদানি সহজ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল

শিল্পের আমদানি সহজ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ নামে গঠিত এই তহবিলের আওতায় সবুজ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠাকল্পে রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে টেকসইযোগ্য গ্রাহকদের মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য পরিশোধ-পরবর্তী ব্যাংকের অর্থায়নের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে।

রপ্তানি ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নিজস্ব উৎস থেকে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি এ ঋণের সুদ হার গ্রাহক পর্যায়ে হবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ নামে গঠিত এই তহবিলের আওতায় সবুজ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠাকল্পে রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে টেকসইযোগ্য গ্রাহকদের মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য পরিশোধ-পরবর্তী ব্যাংকের অর্থায়নের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রায় (টাকা) পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে।

তহবিলের আকার

পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করা হবে। ব্যাংকগুলো ১ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হার হবে পাঁচ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ ৫ থেকে ১০ বছর। মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগে গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রেস পিরিয়ড হবে সর্বোচ্চ এক বছর।

যেসব খাতে এই ঋণ

পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা ও পুনর্ব্যবহার, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি দক্ষতা, তাপ ও তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা, বায়ু চলাচল ও প্রবাহ দক্ষতা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোর রপ্তানি ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এ ঋণ দেয়া হবে।

কত টাকা ঋণ

তহবিলের আওতায় একজন ঋণ গ্রহীতার ঋণ বা বিনিয়োগ-মূলধন অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ৭০:৩০। তবে কোনো একক ঋণগ্রহিতা এ তহবিলের আওতায় কোনোভাবেই ২০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

খেলাপি ঋণগ্রহিতা পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার ঋণ পাবেন না। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ এবং গ্রাহক ঋণ খেলাপি নয় মর্মে নিশ্চিত হতে হবে। পরপর দুটি রপ্তানি বিল সম্পূর্ণ বা আংশিক অপ্রত্যাবাসিত থাকলে এ তহবিলের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবেন না গ্রাহক।

অংশগ্রহণকারী ব্যাংক

এ তহবিলের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের (পরিচালক, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা) সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হবে। এ চুক্তিতে আবদ্ধ ব্যাংকগুলো পিএফআই হিসেবে গণ্য হবে। এ তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় সময় জারি করা সার্কুলার বা সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।

সব রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ দিতে পারবে। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে শ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের হার ১০ শতাংশের কম হতে হবে।

একক গ্রাহক বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা এ সংক্রান্ত ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর নির্দেশনাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী হবে।

আরও পড়ুন:
ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Padma Bank seminar for students of South East University

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদ্মা ব্যাংকের সেমিনার

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদ্মা ব্যাংকের সেমিনার বুধবার বনানীতে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মঞ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে পদ্মা ব্যাংকের এমন আয়োজন তাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি অ্যান্ড ব্যাংকিং ক্যারিয়ার’ শীর্ষক স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেমিনার করেছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মঞ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে এ ধরনের আয়োজন তাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের চাকরিদাতারা খুঁজে নেয়, এখান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা কেউ বেকার থাকে না। তাই ব্যাংক তাদেরকে হাতে-কলমে সাক্ষাৎকার ও করপোরেট কালচার সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছে তা তাদের জন্য অনেক সহায়ক হবে।’

বিশেষ অতিথি পদ্মা ব্যাংকের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার এম আহসান উল্লাহ খান সিভি লেখা ও চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার খুঁটিনাটি কৌশল সম্পর্কে সেমিনারে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া হেড অফ রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং রকিবুল হাসান চৌধুরী করপোরেট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএনএম মেশকাত উদ্দীন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, বিবিএ প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রহিম বক্তব্য দেন।

এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা দিতে পদ্মা ব্যাংক-রিকো ইন্টারন্যাশনালের চুক্তি
পদ্মা ব্যাংকে এমটিও পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে পরীক্ষা নিল পদ্মা ব্যাংক
পদ্মা ব্যাংকে যোগ দিলেন সেলিম আনোয়ার
এবার গৃহঋণ দিচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Chairman MD of the bank will not get a new car before 8 years

৮ বছরের আগে নতুন গাড়ি পাবেন না ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডি

৮ বছরের আগে নতুন গাড়ি পাবেন না ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডি
ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সার্বক্ষণিক গাড়িসহ যানবাহন সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৯ সালের এক নির্দেশনার আলোকে এসব গাড়ি ব্যবহারের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল পাঁচ বছর। নতুন নির্দেশনায় এসব গাড়ি ব্যবহারের মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) গাড়ি ন্যূনতম আট বছর ব্যবহার করতে হবে। আট বছর পরই কেবল তাদের জন্য নতুন করে গাড়ি কেনা যাবে।

আগে পাঁচ বছর পর ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডির জন্য নতুন গাড়ি কিনতে পারত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এখন তার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সার্বক্ষণিক গাড়িসহ যানবাহন সুবিধা পেয়ে থাকেন। ২০১৯ সালের এক নির্দেশনার আলোকে এসব গাড়ি ব্যবহারের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল পাঁচ বছর। অর্থাৎ পাঁচ বছর ব্যবহারের পরই তাদের জন্য নতুন গাড়ি প্রতিস্থাপন করা যেত।

নতুন নির্দেশনায় এসব গাড়ি ব্যবহারের মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গাড়ি-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকের গাড়ি কেনা ও প্রতিস্থাপন আগের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

দেশে ডলারের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২৭ জুলাই ব্যাংকের জন্য সব ধরনের গাড়ি কেনা বন্ধের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ভ্রমণ, আপ্যায়ন, আসবাব, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মনিহারি সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক জিনিস কেনা বাবদ খরচ কমিয়ে অর্ধেক করে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
বিপুল ব্যাংক ঋণ: এস আলম গ্রুপের বক্তব্য চায় হাইকোর্ট
ব্যাংক খাতে সম্ভাবনা, আস্থা, শঙ্কা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Selling dollars from reserve at 99 rupees

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি ৯৯ টাকায়

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি ৯৯ টাকায়
তবে সব ব্যাংক এই দরে ডলার পাচ্ছে না। সরকারের প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ৯৯ টাকায় ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্য ব্যাংকগুলোকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির দর আরও ১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার থেকে ৯৯ টাকা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৯৮ টাকা নেয়া হতো।

একাধিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তবে সব ব্যাংক এই দরে ডলার পাচ্ছে না। সরকারের প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ৯৯ টাকায় ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্য ব্যাংকগুলোকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৭ টাকা; সর্বনিম্ন ১০২ টাকা ৬৯ পয়সা।

সব ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সঞ্চিত রিজার্ভ আরও কমে যাবে। সেজন্য সরকারের প্রয়োজনেই শুধু রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়া হচ্ছে। গত সোমবার ডলারের দর ৯৮ টাকা থেকে ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৯ টাকা করা হয়েছে। এর আগে গত নভেম্বরে ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে ৯৭ টাকা থেকে ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৮ টাকায় প্রতি ডলার বিক্রি করা হচ্ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার সরকারি কেনাকাটায় প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ নিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত (৫ মাস ৬ দিন) ৬৬০ কোটি (৬.৬ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে।’

আন্তব্যাংক ও গ্রাহক পর্যায়ে সব ব্যাংকেই বর্তমানে ভাসমান বিনিময় দর অনুসরণ করছে। তবে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত আলাদা দর অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাকে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সেলিং রেট’। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করত সেটিকে ‘ইন্টারব্যাংক এক্সচেঞ্জ রেট’ বা আন্তব্যাংক লেনদেন হার নামে অভিহিত করা হতো।

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি ৯৯ টাকায়

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকের কাছে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছর জুলাই থেকে রিজার্ভ থেকে ১০ বার ডলার বিক্রির দাম বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি বাজারের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হচ্ছে। বর্তমানে আন্তব্যাংক লেনদেনের গড় দরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট সমানে নিয়ে আসবে। সে জন্য এই দর বাড়ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট আন্তব্যাংকের সঙ্গে এক দরে নিয়ে এলে সামস্টিক অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।’

এর আগে সর্বশেষ নভেম্বর মাসে ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৮ টাকা করা হয়েছিল। এই দামেই ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে এই নতুন বিনিময় হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আন্তব্যাংক লেনদেন সর্বনিম্ন ছিল ১০২ টাকা ৬৯ পয়সা ও সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা।

চলমান ডলারসংকটের কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের চাহিদা ও জোগানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডলারের দর নির্ধারিত না হওয়ায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ডলার লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েকবার টাকার অবমূল্যায়ন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেও আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বাজার নিষ্ক্রিয়ই থাকে।

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ডলারের আন্তব্যাংক বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজারের স্থিতিশীলতা আনতে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) এক সভায় রেমিট্যান্স আনতে ১০৭ টাকা এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন করতে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রপ্তানি বিল নগদায়ন ও রেমিট্যান্স দরের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনতে চাচ্ছে এবিবি ও বাফেদা।

১২ সেপ্টেম্বর ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা অভিন্ন হার নির্ধারণ করলে দীর্ঘ পাঁচ মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর ফের সচল হয় আন্তব্যাংক ফরেক্স বাজার।

ওই একই দিনে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির হারের পরিবর্তে আন্তব্যাংক ডলার রেট হিসাবে ভাসমান হার প্রকাশ করা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই দরের ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বলছে, এটি আন্তব্যাংক লেনদেন, যা বাফেদা নির্ধারিত দর।

ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট চালুর কথা বললেও তারা নিজেরা ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তব্যাংক দরটি অনুসরণ করছে না।

চাহিদা অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে। তবে ডলার কত দরে বিক্রি করা হচ্ছে-সে বিষয়ে বিস্তারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে এই দর বাড়ায় টাকার অবমূল্যায়ন হলো কি না, এ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির এই দরকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার সেলিং রেট’। ফলে যে ১ টাকা বাড়ানো হয়েছে সেটিকে বলা হচ্ছে বাজারের সঙ্গে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’। এর আগে অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট বাড়লে সেটিকে ‘টাকার অবমূল্যায়ন’ বলা হতো।

আরও পড়ুন:
ডলার সংকটে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গ
জানুয়ারি থেকে ডলার সংকট থাকবে না: গভর্নর
৬৮ বার পেছাল রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
রিজার্ভ আবার চুরি হয় কীভাবে: প্রধানমন্ত্রী
রেমিট্যান্সে ভাটায় ‘হুন্ডির প্রভাব’, রিজার্ভ আরও কমার শঙ্কা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The central bank will provide liquidity facilities to Islamic banks

ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সুকুক বন্ডের বিপরীতে এ সুবিধার আওতায় প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী এক কোটি থেকে আরও বেশি পরিমাণ টাকা ধার নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। তবে ১৪ দিন মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে সেই অর্থ সমন্বয় বা কেটে রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামি ব্যাংকগুলোর তারল্য সংক‌ট কাটা‌তে নিজস্ব তহবিল থেকে বি‌শেষ সুবিধা দেয়ার কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার নাম ‘ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি’।

সুকুক বন্ডের বিপরীতে এ সুবিধার আওতায় প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী এক কোটি থেকে আরও বেশি পরিমাণ টাকা ধার নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। তবে ১৪ দিন মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে সেই অর্থ সমন্বয় বা কেটে রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে শরিয়াহভিত্তিক সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের জানানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ইসলামিক আর্থিক ব্যবস্থাকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তারল্য সুবিধা দেয়া হবে। সোমবার থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে নিয়মিত এই সুবিধা গ্রহণের জন্য একটি ফর্মে আবেদন করতে পারবে। সার্কুলারের সঙ্গে এ ধরনের আবেদন ফরমও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে একটি নীতিমালা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে অনুযায়ী, তারল্য-সুবিধার মেয়াদ হবে ১৪ দিন। তিন মাস মেয়াদি আমানতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের যে মুনাফার হার, এ ক্ষেত্রেও একই মুনাফা দিতে হবে। কমপক্ষে এক কোটি টাকা তারল্যের জন্য আবেদন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অকশন কমিটি তারল্য-সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। আর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে মুনাফাসহ টাকা ফেরত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের লিয়েনে রাখা বন্ড থেকে তা সমন্বয় করা হবে।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন ১০টি ইসলামি ধারার ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটির আমানত প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

অন্য ব্যাংকগুলো হলো- এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, আল-আরাফাহ্‌, স্ট্যান্ডার্ড, শাহজালাল ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ
খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিতে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল

মন্তব্য

p
উপরে