× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Bonus up to Rs 5000 on swap product price in cash
hear-news
player
google_news print-icon

সোয়াপের পণ্যের দাম ‘নগদ’-এ নিলেই ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস

সোয়াপের-পণ্যের-দাম-নগদ-এ-নিলেই-৫০০০-টাকা-পর্যন্ত-বোনাস
‘নগদ’-এর চিফ বিজনেস অফিসার শেখ আমিনুর রহমান বলেন, ‘সামনেই বিশ্বকাপ আসছে। ডিজিটাল ডিভাইস কেনার জন্য গ্রাহকরা পুরোনো পণ্য বিক্রি করে নতুন পণ্য কিনবেন। এখন মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস গ্রাহকের খুশি বাড়িয়ে দিতে সোয়াপের সঙ্গে এই অফার নিয়ে এলো নগদ।’

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিতে ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ ও রি-কমার্স ব্র্যান্ড সোয়াপ নিয়ে এসেছে ‘নগদ ডিল-এ বেশি লাভ’ অফার।

এই ক্যাম্পেইনে পুরোনো জিনিসপত্র সোয়াপ (SWAP)-এ বিক্রি করে সেই পণ্যের দাম ‘নগদ’-এ নিলেই গ্রাহকরা পাবেন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বোনাস। অফারটি চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

অফারের আওতায় গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই সোয়াপে বিক্রি করতে পারবেন তাদের পুরোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবসহ এমন আরও অনেক পণ্য। আর সেই বিক্রিত পণ্যের দাম ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে নিলেই গ্রাহকরা পাবেন অতিরিক্ত ১৩ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস।

অফারের সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিকবার এই অফার উপভোগ করতে পারবেন ‘নগদ’-এর গ্রাহকরা।

তবে অফারটি পেতে গ্রাহকের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট অবশ্যই সচল থাকতে হবে।

অফার সম্পর্কিত সব তথ্য, পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিসের দায়ভার থাকবে সোয়াপের ওপর। ‘নগদ’ শুধু পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করবে।

অফার সম্পর্কিত যেকোনো সিদ্ধান্ত ‘নগদ’ কর্তৃক সংরক্ষিত এবং ‘নগদ’-এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

‘নগদ’-এর চিফ বিজনেস অফিসার শেখ আমিনুর রহমান বলেন, ‘সামনেই বিশ্বকাপ আসছে। ডিজিটাল ডিভাইস কেনার জন্য গ্রাহকরা পুরোনো পণ্য বিক্রি করে নতুন পণ্য কিনবেন। এখন মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস গ্রাহকের খুশি বাড়িয়ে দিতে সোয়াপের সঙ্গে এই অফার নিয়ে এলো নগদ।’

অফার চলাকালে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার বিভ্রান্তি দেখা দিলে অথবা অফারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকদের ১৬১৬৭ কিংবা ০৯৬ ০৯৬ ১৬১৬৭ নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল নগদ ও শিশুস্বর্গ
নগদ দিচ্ছে মোবাইল রিচার্জে ১০ টাকা ক্যাশব্যাক
‘নগদ’ ডিস্ট্রিবিউটরদের অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা দেবে সিএমপি
৫০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাকে ‘নগদ’-এ ট্রেনের টিকিট
সিলেটে বন্যাদুর্গতদের পাশে ‘নগদ’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
AIIB will pay and25 million to sign the contract

২৫ কোটি ডলার দেবে এআইআইবি, চুক্তি সই

২৫ কোটি ডলার দেবে এআইআইবি, চুক্তি সই
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলার সংকটের মধ্যে আইএমএফের পর এআইআইবির এই ঋণ সরকারকে স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

সরকারের জন্য আরেকটি সুখবর। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পর আরেক ঋণদাতা সংস্থা এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১০০ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকা।

বুধবার এই ঋণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে চীনের নেতৃত্বে গড়ে উঠা এআইআইবির একটি চুক্তি হয়েছে। বাজেট সহায়তা হিসেবে এই ঋণ দেবে সংস্থাটি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে চুক্তি সইয়ের কথা জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলার সংকটের মধ্যে আইএমএফের পর এআইআইবির এই ঋণ সরকারকে স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

সামাজিক উন্নয়নকে অধিক সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে এই ঋণ দেবে এআইআইবি।

ইআরডি সচিব শরিফা খান এবং বেইজিংভিত্তিক এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিনিয়োগ কার্যক্রম অঞ্চল-১) উরিজিৎ আর প্যাটেল চুক্তিতে সই করেন।

তিন বছরের রেয়াতকালসহ ২৬ বছর ৬ মাসে ৩ শতাংশ সুদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বলে জানায় ইআরডি।

এই বাজেট সহায়তা দিয়ে সরকার করোনা মহামারি থেকে নিম্ন আয়ের মানুষকে রক্ষা ও দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ‘সামাজিক স্থিতিশীলতা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে ইআরডি।

এ কর্মসূচি দেশের সামাজিক উন্নয়নকে অধিক সংবেদনশীল করা, সুবিধা বঞ্চিতদের আর্থিক অন্তর্ভূক্তির উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

এই ২৫ কোটি ডলার পাওয়া গেলে প্রথমবারের মতো এআইআইবির কাছ থেকে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৬ সালে এআইআইবির সদস্য হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮০ কোটি ডলার পেয়েছে।

২০১৬ সালে কার্যক্রম শুরু করা এআইআইবি এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ২৭৯ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে বলে জানায় ইআরডি।

এর মধ্যে গত তিন বছরে ১০৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা রয়েছে, যা দিয়ে করোনা মহামারি মোকাবিলা ও কোভিড-পরবর্তী অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে ব্যয় করা হয়।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই চাপ সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার এবং এডিবির কাছে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছিল। এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা এবং এআইআইবির কাছে ঋণ-সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

এর মধ্যে আইএমএফের বহুল প্রতীক্ষিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ পাবে সরকার। বিশ্ব আর্থিক খাতের আরেক মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এডিবির ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য সংস্থটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় অবস্থানকালে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার এডিবির কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে যে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। সফর শেষে ম্যানিলায় ফিরে গিয়ে এডিবি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তারপর সংস্থার বোর্ডসভায় এই ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

আড়াই বছরের করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ওলোটপালট হয়ে গেছে সব হিসাবনিকাশ। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমদানি বাড়ায় এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভ কমছেই; বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতি বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বেশ কমেছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। কিন্তু এর পরও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার।

এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার দাতাসংস্থাগুলোর কাছে ঋণ চেয়েছিল।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের একজন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এখন অন্য সব দাতা সংস্থাও বাংলাদেশকে ঋণ দিতে চাইবে-এটিই স্বাভাবিক। কেননা, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো উন্নয়ন সংস্থা বা দাতা দেশ আইএমএফের মূল্যায়নকে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। আইএমএফ যেহেতু আমাদের ঋণ দিচ্ছে, এখন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য সব দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমরা এখন করোনার মতো যুদ্ধের ধাক্কাও দ্রুত সামলে উঠতে পারব।’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই সরকার স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। সংকট মোকাবিলা করার সাহসও পাচ্ছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সূচক আমদানি ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে রেকর্ড হয়েছে; ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এসেছে। রেমিট্যান্সও কিছুটা বেড়েছে। এ অবস্থায় আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারিতে চলে এলে, এরমধ্যে এআইআইবি বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণও যদি পাওয়া যায়, সরকারের সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। ২০২৩ সালকে নিয়ে যতটা ভয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর মনে হয় থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি
২১০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এআইআইবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
5 thousand crore fund to facilitate import of industries

শিল্পের আমদানি সহজ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল

শিল্পের আমদানি সহজ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ নামে গঠিত এই তহবিলের আওতায় সবুজ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠাকল্পে রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে টেকসইযোগ্য গ্রাহকদের মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য পরিশোধ-পরবর্তী ব্যাংকের অর্থায়নের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে।

রপ্তানি ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নিজস্ব উৎস থেকে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি এ ঋণের সুদ হার গ্রাহক পর্যায়ে হবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ নামে গঠিত এই তহবিলের আওতায় সবুজ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠাকল্পে রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে টেকসইযোগ্য গ্রাহকদের মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য পরিশোধ-পরবর্তী ব্যাংকের অর্থায়নের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রায় (টাকা) পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে।

তহবিলের আকার

পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করা হবে। ব্যাংকগুলো ১ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হার হবে পাঁচ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ ৫ থেকে ১০ বছর। মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগে গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রেস পিরিয়ড হবে সর্বোচ্চ এক বছর।

যেসব খাতে এই ঋণ

পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা ও পুনর্ব্যবহার, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি দক্ষতা, তাপ ও তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা, বায়ু চলাচল ও প্রবাহ দক্ষতা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোর রপ্তানি ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এ ঋণ দেয়া হবে।

কত টাকা ঋণ

তহবিলের আওতায় একজন ঋণ গ্রহীতার ঋণ বা বিনিয়োগ-মূলধন অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ৭০:৩০। তবে কোনো একক ঋণগ্রহিতা এ তহবিলের আওতায় কোনোভাবেই ২০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

খেলাপি ঋণগ্রহিতা পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার ঋণ পাবেন না। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ এবং গ্রাহক ঋণ খেলাপি নয় মর্মে নিশ্চিত হতে হবে। পরপর দুটি রপ্তানি বিল সম্পূর্ণ বা আংশিক অপ্রত্যাবাসিত থাকলে এ তহবিলের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবেন না গ্রাহক।

অংশগ্রহণকারী ব্যাংক

এ তহবিলের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের (পরিচালক, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা) সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হবে। এ চুক্তিতে আবদ্ধ ব্যাংকগুলো পিএফআই হিসেবে গণ্য হবে। এ তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় সময় জারি করা সার্কুলার বা সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।

সব রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ দিতে পারবে। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে শ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের হার ১০ শতাংশের কম হতে হবে।

একক গ্রাহক বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা এ সংক্রান্ত ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর নির্দেশনাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী হবে।

আরও পড়ুন:
ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladeshi businessmen are interested in working with Gabon

গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা

গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাজ্যে চলমান কমনওয়েলথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলনে বুধবার গোলটেবিল বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতিসহ অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন ও সার্কুলার ইকোনমি খাতে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে চান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। গ্যাবন সরকার আয়োজিত ‘গ্যাবনে বিনিয়োগ - জলবায়ু ও টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এ কথা জানান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

গ্রিন ও সার্কুলার ইকোনমি খাতে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের সঙ্গে কাজ করতে চান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। গ্যাবন সরকার আয়োজিত ‘গ্যাবনে বিনিয়োগ- জলবায়ু ও টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এ কথা জানান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

যুক্তরাজ্যে চলমান কমনওয়েলথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলনে বুধবার এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে গ্যাবন সরকার।

এতে অংশ নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘সার্কুলার ইকোনমি এবং গ্রিন ইকোনমি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন, অটোমেশন, বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থা এবং ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন জলবায়ু এবং টেকসই অর্থায়ন অর্জনে ভূমিকা রাখবে।’ সম্পদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গ্যাবনের সহযোগী হিসেবে কাজ করার বিষয়ে ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশ্ব আজ জলবায়ু, জীববৈচিত্র্যগত ঝুঁকি এবং চরম অর্থনৈতিক সমস্যাসহ ত্রিমুখী সংকটের মুখোমুখি। এ অবস্থায় সমাজ, অর্থনীতি এবং ইকোসিস্টেমকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য পরবর্তী দশ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘নতুন ও উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ১০০ বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে পৌঁছতে বাংলাদেশে আরও বেশি স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং তথ্য বিশ্লেষণ ভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

সবুজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে উদ্ভাবনী নীতি-কৌশল হাতে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে কমনওয়েলথ দেশগুলোকে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। গত মঙ্গলবার লন্ডনে আয়োজিত কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের (সিডব্লিউইআইসি) এক সভায় তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, এফবিসিসিআই সিডব্লিউইআইসির একটি কৌশলগত অংশীদার এবং মো. জসিম উদ্দিন এর গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের একজন অন্যতম সদস্য।

আরও পড়ুন:
এফবিসিসিআই’র বিজনেস সামিট মার্চে, সিএনএনের সঙ্গে চুক্তি
‘নারীদের সঙ্গে না নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়’
ব্যয় বাড়ায় ব্যবসা হারাচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠান
বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখতে ইতালির সমর্থন প্রত্যাশা
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী আসাম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Padma Bank seminar for students of South East University

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদ্মা ব্যাংকের সেমিনার

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদ্মা ব্যাংকের সেমিনার বুধবার বনানীতে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মঞ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে পদ্মা ব্যাংকের এমন আয়োজন তাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি অ্যান্ড ব্যাংকিং ক্যারিয়ার’ শীর্ষক স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেমিনার করেছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মঞ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে এ ধরনের আয়োজন তাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের চাকরিদাতারা খুঁজে নেয়, এখান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা কেউ বেকার থাকে না। তাই ব্যাংক তাদেরকে হাতে-কলমে সাক্ষাৎকার ও করপোরেট কালচার সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছে তা তাদের জন্য অনেক সহায়ক হবে।’

বিশেষ অতিথি পদ্মা ব্যাংকের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার এম আহসান উল্লাহ খান সিভি লেখা ও চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার খুঁটিনাটি কৌশল সম্পর্কে সেমিনারে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া হেড অফ রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং রকিবুল হাসান চৌধুরী করপোরেট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সাউথইস্ট ইউনির্ভাসিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএনএম মেশকাত উদ্দীন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, বিবিএ প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রহিম বক্তব্য দেন।

এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা দিতে পদ্মা ব্যাংক-রিকো ইন্টারন্যাশনালের চুক্তি
পদ্মা ব্যাংকে এমটিও পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে পরীক্ষা নিল পদ্মা ব্যাংক
পদ্মা ব্যাংকে যোগ দিলেন সেলিম আনোয়ার
এবার গৃহঋণ দিচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Group insurance premiums for DRU members are paid by BSEC

ডিআরইউ সদস্যদের গ্রুপ বিমার প্রিমিয়াম করেছে বিএসইসি

ডিআরইউ সদস্যদের গ্রুপ বিমার প্রিমিয়াম করেছে বিএসইসি
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় বছরের প্রদেয় বিমার প্রিমিয়াম ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫০ টাকা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যদের গ্রুপ বিমার তৃতীয় বছরের (৬ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ৫ ডিসেম্বর ২০২৩) নবায়ন প্রিমিয়ামের ব্যবস্থা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন এই ব্যবস্থা করেছে বলে মঙ্গলবার রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব এ জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় বছরের প্রদেয় বিমার প্রিমিয়াম ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫০ টাকা।

আরও পড়ুন:
ডিআরইউতে ক্রোকারিজ সামগ্রী দিল বিসিএমইএ
ডিআরইউ’র মিঠু-হাসিব-নাদিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন
ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব
ডিআরইউ নির্বাচন: নোমানী সভাপতি, মসিউর সম্পাদক
করোনায়ও জমেছে ডিআরইউ’র ভোট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Imports are more than exports by 95 billion

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার
আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানা গেছে ঠিক। কিন্তু যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয় কমতে শুরু করেছে। যদিও নভেম্বর মাসে বেড়েছে। তবে সেটি আগামী দিনগুলোতে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে। গত অর্থবছরের মতো এবারও বড় ঘাটতি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে।’

নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয় কমার পরও বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তি আসছে না; উল্টো দিন যত যাচ্ছে, অর্থনীতিতে চাপ ততই বাড়ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫৮ কোটি ৭০ লাখ (৯.৫৯ বিলিয়ন) ডলার। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই ৪ মাসে ২৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-অক্টোবর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই চার মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

এ হিসাবেই জুলাই-অক্টোবর সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

লেনদেন ভারসাম্যেও বড় ঘাটতি

রপ্তানির চেয়ে আমদানি খাতে ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ১৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো অর্থবছরে ব্যালান্স অব পেমেন্টে এত ঘাটতি দেখা যায়নি।

তার আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সূচকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানা গেছে ঠিক। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ও কমতে শুরু করেছে। যদিও নভেম্বরে বেশ বেড়েছে। সেটি আগামী দিনগুলোতে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।’

‘একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও বেশ ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে। মনে হচ্ছে, গত অর্থবছরের মতো এবারও বড় ঘাটতি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। পুরো অর্থবছরজুড়েই সেই উল্লম্ফন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়েও উল্লম্ফন হয়েছিল, ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। সে কারণেই ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি চূড়ায় উঠেছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার

এবার আমদানি ব্যয়ে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) আমদানিতে প্রবৃদ্ধির চেয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের চেয়ে অনেক কম, ৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৫ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স বেড়েছে শতাংশ

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম। তবে এবার এই সূচকে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই দুই মাসেই দেড় বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অথচ প্রথম দুই মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি করে পাঠিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে জুলাই-অক্টোবর ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ বেশি।

সেবা বাণিজ্যেও ঘাটতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৯৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। মূলত, বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি .৮৭ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ১ দশমিক ৩৪ ডলারের ঘাটতি ছিল। অর্থবছর শেষ হয়েছিল গত ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

তার আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ওভারঅল ব্যালান্সে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। অক্টোবর শেষে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে তা ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনা মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণ-সহায়তা পাওয়ায় গত দুই বছর আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত ছিল বলে জানান আহসান মনসুর।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
বিলাস পণ্যের আমদানিতে লাগাম
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২ লাখ কোটি টাকা
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায়
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Good news is also coming with ADB loan

এডিবির ঋণ নিয়েও আসছে সুখবর

এডিবির ঋণ নিয়েও আসছে সুখবর
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এখন অন্য সব দাতা সংস্থাও ঋণ দিতে চাইবে-এটিই স্বাভাবিক। এখন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য সব দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমরা করোনার মতো যুদ্ধের ধাক্কাও দ্রুত সামলে উঠতে পারব।’

১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা বাংলাদেশে আসছেন। এক সপ্তাহের সফরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। আজ বুধবার দুপুরে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশে না থাকায় অশোক লাভাসা অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানকালে এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই চাপ সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার এবং এডিবির কাছে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছিল। এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক- এআইআইবির কাছে ঋণ-সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

এর মধ্যে আইএমএফের বহুল প্রতীক্ষিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ পাবে সরকার। বিশ্ব আর্থিক খাতের আরেক মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এবার ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এডিবির ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য সংস্থটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা ঢাকায় এসেছেন।

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় অবস্থানকালে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার এডিবির কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে যে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। সফর শেষে ম্যানিলায় ফিরে গিয়ে এডিবি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তারপর সংস্থার বোর্ডসভায় এই ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এডিবি সব সময় পাশে ছিল। সরকার যে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে, তা চলমান প্রকল্প সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে চেয়েছে। আশা করছি, এই ঋণের ব্যাপারেও সুসংবাদ পাওয়া যাবে। আর খুব শিগগিরই সেই সুসংবাদ পাওয়া যাবে।’

গোবিন্দ বর বলেন, ‘অশোক লাভাসা এডিবির প্রাইভেট সেক্টর অপারেশনস এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট। সে কারণে ঢাকা সফরকালে তিনি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ১২ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা ছাড়বেন।’

আড়াই বছরের করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ওলোটপালট হয়ে গেছে সব হিসাবনিকাশ। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমদানি বাড়ায় এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভ কমছেই; বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতি বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বেশ কমেছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। কিন্তু এর পরও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার।

এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার দাতাসংস্থাগুলোর কাছে ঋণ চেয়েছিল।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের একজন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এখন অন্য সব দাতা সংস্থাও বাংলাদেশকে ঋণ দিতে চাইবে-এটিই স্বাভাবিক। কেননা, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো উন্নয়ন সংস্থা বা দাতা দেশ আইএমএফের মূল্যায়নকে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। আইএমএফ যেহেতু আমাদের ঋণ দিচ্ছে, এখন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য সব দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমরা এখন করোনার মতো যুদ্ধের ধাক্কাও দ্রুত সামলে উঠতে পারব।’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই সরকার স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। সংকট মোকাবিলা করার সাহসও পাচ্ছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সূচক আমদানি ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে রেকর্ড হয়েছে; ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এসেছে। রেমিট্যান্সও কিছুটা বেড়েছে। এ অবস্থায় আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারিতে চলে এলে, এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণও যদি পাওয়া যায়, সরকারের সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। ২০২৩ সালকে নিয়ে যতটা ভয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর মনে হয় থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
‘রেলে ঋণ দিতে এডিবি ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বসে আছে’
এলজিইডির উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট
মহামারি মোকাবিলায় ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এডিবি
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে ‘ভালো করছে’ বাংলাদেশ: এডিবি
এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন সোমবার

মন্তব্য

p
উপরে