× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
It is not possible for the government alone to deal with the crisis
hear-news
player
google_news print-icon

‘সরকারের একার পক্ষে সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়’

সরকারের-একার-পক্ষে-সংকট-মোকাবিলা-সম্ভব-নয়
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দিন যত যাচ্ছে, সংকট তত বাড়ছে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারের একার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি এবং ইটিবিএল সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান রাহমান বলেছেন, দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দিন যত যাচ্ছে, সংকট তত বাড়ছে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারের একার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ দেশের সব মানুষকে এই অনুরোধ করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউজবাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন চলছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য?

প্রতিদিন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ভালো অবস্থায় আছে সেটিও বলা যাবে না; আবার খুব খারাপ আছে সেটিও বলা যাবে না। ব্যবসায়ীরা এই মুহূর্তে খুবই কনফিউজড। গতি কোন দিকে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন না। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, এগুলো কিন্তু শুধু বৈশ্বিক কারণে। এখন এটি কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এ রকম সমস্যা ১০ বছর আগে হলে বাংলাদেশে এত সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন বাংলাদেশ একটি গ্লোবাল প্লেয়ার। আজকে যদি বাংলাদেশে কিছু হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে পাটের দাম বেড়ে যাবে। বিশ্ববাজারে চায়ের দাম বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের কিছু হলে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের (আরএমজি) দাম বেড়ে যাবে। ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। চামড়ার তৈরি জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। কারণ আমরা এগুলো বিশ্বের কাছে সরবরাহ করি।

সার্বিকভাবে বাংলাদেশ এখন একটু হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের ডলার ক্রাইসিস আছে। এনার্জি ক্রাইসিস আছে, এগুলো মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। এখন আমাদের ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি, পলিটিক্যাল ডিপ্লোমেসি আরও স্ট্রং হতে হবে। আমাদের এখন শক্ত হতে হবে। আমাদের এনার্জি ক্রাইসিস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের এলএনজি আমদানি করতে হবে। আমি রাশিয়া থেকে নেব না ব্রুনাই থেকে নেব, না চায়না থেকে নেব সেটি বিষয় নয়। দেশের স্বার্থের জন্য আমাদের এগুলো করতে হবে। এটি ক্রাইসিস মোমেন্ট। সব সিদ্ধান্ত ঠান্ডা মাথায় নিতে হবে।

এই মুহূর্তে সরকারের হাতেও তেমন কোনো কন্ট্রোল নেই। দুটি দেশের যুদ্ধের কারণে এই সমস্যা হয়েছে। সরকারের এখানে কী করার থাকতে পারে। ডলারের দামের অবস্থাটা দেখেন। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ১২০ টাকাও উঠে গিয়েছিল; কিছুই করার নেই। এখন কেউ এলসি খুলতে পারছে না। আমাকে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী বললেন, তিনি ২১ হাজার ডলারের এলসি খুলতে পারছেন না। এখানে তো আমাদের বলার কিছু নেই। জ্বালানি নিয়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক ধরনের কথা হয়েছে। গত বুধবারও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমিও ছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের একার এখানে কিছু করার নেই। যে সরকারই থাকুক, কিছু করতে পারবে না।

তবে আমরা একটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে এসেছি। আমাদের এত রিজার্ভ দিয়ে কী করব। এর থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেন। কিছু তেল নিয়ে আসেন। আমাদের এনার্জি কিনে আনা দরকার। আবার আপনি বাংলাদেশে সারের ভর্তুকি কমাতে পারবেন না। আমেরিকার মতো দেশ এখনো সারে ভর্তুকি দেয়। আপনি অন্যান্য ব্যবসা থেকে ভর্তুকি কমিয়ে আনেন। আমাদেরও সেটি করতে হবে, না হলে আমরা খাদ্যে নিরাপত্তা দিতে পারব না। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বলেন, আর অর্থনীতি বলেন, কেমন যাচ্ছে সেটি বিষয় না। কতদিন যাবে সেটি হচ্ছে বিষয়। এই যুদ্ধ কতদিনে থামবে, তা কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তাই সবকিছুই এখন অনিশ্চিত। এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সামনে রেখেই আমাদের চলতে হচ্ছে। কতদিন চলতে হবে জানি না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। এতে কি দেশবাসীর মধ্যে ভয়-শঙ্কা আরও বাড়ছে? আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে? কোন পথে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ভালোর জন্যই এসব কথা বলছেন। যাতে মানুষ সতর্ক হয়। আমরা একসময় ভালো অবস্থায় ছিলাম। কয়েক বছর আমাদের গ্রোথ (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) ছিল ৮ শতাংশের ওপর। তারপর যখন আমরা করোনাভাইরাসের মধ্যে হিমশিম খেয়ে গেলাম। তখনও কিন্তু বাংলাদেশে ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে; যা ছিল এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আমি এ কথাগুলো নির্দলীয় কথা বলছি। সব সময়ই আমি এই ধরনের কথা বলি। সরকার যেখানে ভুল করছে, সেটি বলি। আবার ঠিক করলেও বলি। করোনার সময় সরকার অনেক ভুল করেছে আমরা সেটি বলেছি তো। আবার বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাসের সময় ভালো দেশ পরিচালনা করেছে। সরকার বাংলাদেশের মতো ১৭ কোটির জনসংখ্যার দেশে অনেক ভালোভাবে অর্থনীতি সামলেছে। সবাই তখন ভালো ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে কিন্তু প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। এখন এই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ঘরের সামনে চাষ করুন। এটি তো গুলশানের বাসিন্দাদের বলেননি। এটি নিয়ে ভয় পেয়ে লাভ নেই। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সামনে ডলারের দাম ১৩০ টাকা যাবে না- কোনো বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কি সেই গ্যারান্টি দিতে পারবেন? বর্তমানে জ্বালানির দাম চার গুণ হয়ে গেছে, এটি যে ৪০ গুণ হবে না সেটি কি কেউ বলতে পারবেন? সে জন্য প্রধানমন্ত্রী বলতেই পারেন আপনাকে সাশ্রয়ী হতে। আপনি এখন যেভাবে চলছেন, সেভাবে যদি চলতে থাকেন তাহলে আপনি আর তিন মাস চলতে পারবেন। আপনি যদি সাশ্রয়ী হয়ে চলতে থাকেন, তাহলে তিন বছর চলতে পারবেন।

আশা করা যায় তিন বছরের মধ্যে যুদ্ধ-টুদ্ধ সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। আমি এটিকে এভাবে দেখি। যারা সরকারবিরোধী, তারা হয়তো অন্যভাবে দেখেন। একেকজন একেকভাবে চিন্তা করেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। তবে বাংলাদেশ যে খারাপ অবস্থায় যাবে না সেটির কোনো গ্যারান্টি নেই। তবে শ্রীলঙ্কা হবে সেটিও ঠিক না। বাংলাদেশের বেসরকারি খাত খুব শক্তিশালী। খুব খারাপ সময়ে এই খাত ৬ থেকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়েছে।

করোনার মধ্যে সব দেশ যখন খুব খারাপ অবস্থায় ছিল, বাংলাদেশ তখন ভালো ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন তুমি সাবধানে থাকো, সেটিকে নেগেটিভ হিসেবে নেয়া যাবে না।

প্রায় এক বছর ধরে ডলারের বাজার অস্থির। নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাগে আসছে না। এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার পরও ডলারের দাম কমছে না। সমস্যা আসলে কোথায়? কীভাবে সমাধান হবে? ডলারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে?

ডলারের বাজার বলা যাচ্ছে না কোন দিকে যায়। এটি পুঁজিবাজারের মতো হয়ে গেছে। কোন দিকে যায় বলা যায় না। গত বছর আমি আমার আগামী তিন বছরের ফোরকাস্টিংটা করেছিলাম। তখন আমি ডলারের দাম ৮৪-৮৫ টাকা ধরেছিলাম। এখন আমি দেখছি সেই ডলার ১১০, ১১৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সেটি মানিয়ে নেয়া আমাদের জন্য খুব কঠিন। আমরা কোনো ধারণা করতে পারছি না আগে থেকে। যার কারণে আমাদের সব সময় একটি বাফার ধরে রাখতে হয়। এখন কিন্তু রপ্তানিকারকদের জন্য শুধু আমদানি খোলা। আর সবার জন্য আমদানি বন্ধ। শুধু তৈরি পোশাকের কাঁচামালের জন্য এলসিটা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। তখন যারা বাধ্যতামূলকভাবে এলসি করবে। ডলারের দাম আরও বেড়ে যাবে।

আমি মনে করি বাংলাদেশ সমস্যা থেকে উতরে যাবে। বাংলাদেশে এখনো ৩৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে। তখন তো ডলারের প্রাইজটি সেখানে এফেক্ট করবে। গ্যাস ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে একটি করেছিল। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সেটি তো আমরা ব্যবসায়ীরা মিলে বিদ্যুৎ প্রস্তাব দিলাম যে আপনি এই ডেভেলপমেন্ট ব্যবহার করেন এখন। আপনি তো এখন গ্যাস ডেভেলপমেন্ট করছেন না। দরকার হলে আপনি আমাদের বিদ্যুতের দাম বাড়িয় দেন। বিদ্যুতের দাম যদি বাড়াতে হয় আপনাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে। এটির জন্য যা যা করণীয় আপনি করেন।

আপনি এখন ফার্নিচার কিনবেন নাকি এলএনজি কিনবেন। গ্যাস ডেভেলপমেন্টের বিষয়ে আমরা পরে আসি। কারণ গ্যাস পেতে পেতে তো আমাদের ১০ বছর লাগবে।

তবে আমি এ ক্ষেত্রে সরকারকে বলব আপনারা সব সময় একটি বিপদে একটি শর্ট টার্ম সলিউশনকে লং টার্ম বানিয়ে ফেলেন। এটি আর করেন না। আপনারা এখন শর্ট টার্ম সলিউশন করেন। একই সঙ্গে লং টার্ম ডিসিশনটি নিয়ে নেন। আওয়ামী লীগ সরকার যে ১৩-১৪ বছর ক্ষমতায় ছিল, এতদিনে তো কয়েকটি গ্যাসফিল্ড খুঁড়ে ফেলতে পারত। কিন্তু সেটি করা হয়নি। আমাদের কমপ্লেইন করে লাভ নেই। এখন করব, এই মুহূর্তে করব। ১০ বছর পরে গিয়ে আমরা পাব। এটি কিন্তু পদ্মা সেতুর মতো একটি মাইলফলক থাকবে। আপনি এক্সপেনসিভ ফুয়েলের ওপর ডিপেন্ডেন্ট থাকতে পারবেন না। যেহেতু আপনি আমদানিনির্ভর দেশ। আপনি রপ্তানি কমাতে পারবেন না। আবার বিশ্ববাজারে যদি তাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তাহলে আপনার রপ্তানি বাজার তো ধসে পড়বেই। বাংলাদেশের সিঙ্গেল লার্জেস্ট এক্সপোর্ট ডেস্টিনেশন হচ্ছে জার্মানি। বাংলাদেশের টোটাল এক্সপোর্টের ১৫ শতাংশ জার্মানিতে যায়। আমাদের ৮৩-৮৪ শতাংশ রপ্তানি যায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে। সেসব দেশে যদি মূল্যস্ফীতি বাড়তেই থাকে, তাহলে ওই সব দেশের লোক পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে- এটিই স্বাভাবিক। তাহলে নিশ্চিতভাবেই আগামী বছর আমার রপ্তানি আয় কমে যাবে।

যুক্তরাজ্যে এখন ১০০ শতাংশের ওপর মূল্যস্ফীতি। সেখানে তো পণ্যের চাহিদা কমে যাবে। লন্ডনে আমার এক্সপোর্ট কমে যাবে। যদি এক্সপোর্ট কমে যায়, তাহলে আমার আয় কমে যাবে। এখানে তো বাংলাদেশের কিছু করার নেই। একসময় বিশ্বে সমস্যা হলে বাংলাদেশের কিছু হতো না। তখন বাংলাদেশ ছিল একটি পুঁটি মাছ। আজকে বাংলাদেশ কিন্তু বোয়াল মাছ। বিশাল ব্যাপার। এ জন্য আমি আবার দৃষ্টি আকর্ষণ করব সরকারের এবং বেসরকারি খাতের। রপ্তানি বাজার এবং পণ্য দুটিকে একসঙ্গে বহুমুখী করা লাগবে। আপনি আমেরিকার ওপর ডিপেন্ডেন্ট থাকবেন সারাক্ষণ। আপনি সারাক্ষণ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ওপর ডিপেন্ডেন্ট থাকবেন। আপনি নিজে যে এত বড় একটি মহাদেশে বাস করেন, সেটি কি ভুলে গেছেন। এশিয়ায় আপনার এক্সপোর্ট মাত্র ১১ শতাংশ কেন ভাই? ৮৪ শতাংশ যাচ্ছে ইউরোপ আর আমেরিকায় এবং ৪ শতাংশ যাচ্ছে আফ্রিকায়। তাই আমি বলছি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতেই হবে। আমি বলছি না বাড়াতে; আপনাকে আফ্রিকার মার্কেট এক্সপ্লোর করতে হবে, আপনাকে এশিয়ার মার্কেট এক্সপ্লোর করতে হবে। আপনাকে চায়নায় যেতে হবে। চায়না থেকে আমি শুধু মাল কিনব কেন? আমি চায়নায় মাল বেঁচতে পারি না। এটি তো সম্ভব। আপনাকে পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। আপনি গার্মেন্টস করছেন ভালো কথা। সেটি কিন্তু আমরা চামড়াশিল্পের জন্য করতে পারি। আমরা পাটশিল্পের জন্য করতে পারি। সেটি আমরা কৃষি খাতের জন্য করতে পারি। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির জন্য করতে পারি। প্রতিটি খাতের জন্য যদি আমরা করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমাদের পণ্য ডাইভারসিফাই হবে। এই সবকিছুর মধ্যে আপনি যতক্ষণ না আপনার এক্সপোর্ট বাড়াবেন। আপনি ডলারটিকে কন্ট্রোল করতে পারবেন না। আপনি ডলারের প্রাইজ রিভাইস করতে পারবেন না। বিশ্ববাজার যতদিন ঠিক না হবে, ততদিন এই সমস্যা থাকবেই। যখন দুনিয়ার বড় বড় সাহেব মনে করবে যে অস্ত্রের ব্যবসা বন্ধ করে একটি শান্তির ব্যবসা করতে পারতাম। তাহলে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হবে।

আপনি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার বাড়ানোর কথা বলছেন। এরই মধ্যে কিন্তু আমরা পাশের দেশ ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়তে দেখছি। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। প্রায় দেড় শ কোটি মানুষের দেশ ভারতের বাজার নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

ভারতের বাজার আসলে ডিপ্লোমেটিক ইস্যু। এ বিষয়গুলো কূটনৈতিক, এখানে বেসরকারি খাতের করার কিছু নেই। এ বছরের জুলাইয়ে আমরা ৪৯ জনের একটি দল ভারত গিয়েছিলাম, প্রায় ৪০০-৫০০ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললাম। ব্যবসায়ীরা কিন্তু ব্যবসা করার জন্য অস্থির। কিন্তু আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আর তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কী কথা হয়, সেটি তো আমরা বলতে পারব না। তাদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক আছে, সেটির ওপর দুই দেশের ব্যবসা নির্ভর করে।

আমি তো মনে করি নর্থইস্ট রিজিয়নটিকে দিল্লির সঙ্গে কানেক্ট করার জন্য বাংলাদেশ শুড বি দ্য হাব। ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যান্ড দ্য সেভেন সিস্টারস। এটি তো একটি ডিপ্লোমেটিক ইস্যু। এখানে আমরা কী করতে পারি। আমি নিজে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি আমাকে বললেন আমরা দেখছি। আমি ওনাকে বললাম আপনি তো দেখছেন আমার জন্মের আগে থেকে। আপনি যখন একটি দেশের থেকে আপনার ৬০ শতাংশের বেশি আমদানি করবেন, সেই দেশের প্রতি আপনি অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি ইম্পোজ করতে পারেন। এখন আপনি আমাকে বলেন, গোটা ভারতের ৬০ শতাংশ কি বাংলাদেশ থেকে ইম্পোর্ট হয়? সেটি কোনো দিন সম্ভব না, বাংলাদেশে কোনো পাটই নেই। তার পরও কেন আপনি আমার ওপরে অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি দিচ্ছেন। এগুলো হচ্ছে ডিপ্লোমেটিক ইস্যু। এগুলোকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া অনেক ঝামেলা আছে, সেগুলো আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এগুলো এক রাতে ঠিক হবে না। এগুলো চালিয়ে যেতে হবে।

বুধবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশের নাগরিকের কাছে যথাযথ মূল্যে সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আপনি কি মনে করেন ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা করছেন, বেশি দামে দেশবাসীর কাছে পণ্য বিক্রি করছেন?

সত্যি কথা বলতে কী বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্যসহ সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তারা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ডলারের দাম বাড়ার প্রভাবও পড়েছে পণ্যমূল্যে। সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষ যে খুবই কষ্টে আছে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের কম লাভে পণ্য বিক্রি করে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি।

মনে রাখতে হবে, করোনা মহামারির সময় কিন্তু সরকার আমাদের প্রণোদনা দিয়েছে। এখন যদি আমরা সরকারের পাশে, মানুষের পাশে না দাঁড়াই, তাহলে কিন্তু ঠিক হবে না। এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু ওনার নেতৃবৃন্দ উল্টাটি করছেন। প্রধানমন্ত্রী মোবাইলের মাধ্যমে টাকা দিলেন, আর ওনার এক নেতার কাছে ৩০০ জনের সিম পাওয়া গেল। যা-ই হোক, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সবাইকে ইউনাইটেড হওয়ার জন্য। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে উঠে দাঁড়াই, তাহলে তো মনে হয় না আমাদের কোনো সমস্যা হবে। মহামারিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আমরা তো সার্ভাইব করে গেছি। প্রধানমন্ত্রী এখন আমাদের বলছেন, মুনাফা একটু কম করতে। এই মুহূর্তে মুনাফা না করলে ভালোই হয় বলে আমি মনে করি। কিন্তু অনেকে এখন হয়তো চিন্তা করছেন যে আমি তো গত দুই-তিন বছর হিমশিম খেয়ে গেছি। এখন একটু পুষিয়ে নিই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য একটি জিনিস চাওয়া যেমন ডিফিকাল্ট, একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্য চাওয়া কিন্তু আরও কঠিন। সে কিন্তু চায় না, তার মধ্যে একটি ইগো কাজ করে। মধ্যবিত্তরা সমস্যায় থাকে, কোন দিকে যাব আমরা। তবে সব ব্যবসায়ী খারাপ না। একজনের জন্য সব ব্যবসায়ীকে খারাপ বলা যাবে না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা খারাপ ব্যবসায়ী তারাই ভালো আছে, যারা ভালো ব্যবসায়ী তারাই বিপদে আছে। যা-ই হোক, সেটি ভিন্ন আলোচনা। আমি বলতে চাই, এই মুহূর্তে মুনাফা করা ঠিক না। এর পরে আবার সময় আসবে, তখন মুনাফা করবেন। এভাবেই তো বাংলাদেশ এগিয়েছে। আগে মানুষ বাংলাদেশকে চিনত না। এখন সবাই সমীহ করে।

নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অর্থনীতির কী হবে? ব্যবসা-বাণিজ্যেরই বা কী হবে?

এটি তো বাংলাদেশের রাজনীতির বিউটি। প্রতি পাঁচ বছরেই হয়। এটি তো ভালো আমাদের বিরোধী দলরা সমাবেশ করছে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং হবে সেটিই স্বাভাবিক। তবে অতীতের মতো সংঘাতের রাজনীতি যেন না হয়, সেটি সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি যেন ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে, সেটিই মনে রাখতে হবে।

রাজনীতি করা সবার অধিকার। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ। সেটি থাকলেই ভালো, সরকারি দল-বিরোধী দল সবাই রাজনীতি করবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ওপর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর একটু চোখ রাখবেন প্লিজ! বাস-টাসগুলো পুড়িয়ে দিয়েন না, আমরা আমাদের ব্যবসা করি, আপনারা আপনাদের রাজনীতি করেন। আসুন, সবাই মিলেমিশে দেশটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই।

আরও পড়ুন:
‘জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রমও এখন নিয়ন্ত্রণে’
ওষুধ শিল্প ভিন্ন উচ্চতায় উঠে যাবে
১০ বছরের মধ্যে দেশে গাড়ি তৈরি হবে: নিউজবাংলাকে নাভানার সিইও

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The price of commemorative gold coins increased again

আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম

আবার বাড়ল স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে (বাক্সসহ) ৭৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণে তৈরি প্রতিটি মুদ্রার ওজন ১০ গ্রাম।

স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি মুদ্রার দাম ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এই দাম মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রিত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ ১৯২০-২০২০’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণমুদ্রার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি স্মারক মুদ্রা ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণে তৈরি ও প্রতিটির ওজন ১০ গ্রাম। স্মারক স্বর্ণমুদ্রাগুলোর (বাক্সসহ) প্রতিটির দাম ৭৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতোদিন এই স্মারক স্বর্ণমুদ্রা ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

এর আগে চলতি মে মাসে এসব স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭২ হাজার টাকা করা হয়। তার আগে দাম ছিল ৬৮ হাজার টাকা।

৩ ডিসেম্বর প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম তিন হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ করেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস। এই দর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনোই এত বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়নি দেশে।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ভরিতে বাড়ানো হয়েছে এক হাজার ৬৩২ টাকা; বিক্রি হবে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকায়। আর ১৮ ক্যারেটের দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭১ হাজার ৩৮৪ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৯ হাজার ৪৮৬ টাকা।

স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরিতে ২২ ক্যারেট অথবা ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সবশেষ প্রতিটি মুদ্রার দাম ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ
ব্যাংকের সিএসআরের ৫ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা তহবিলে দিতে হবে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ
খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিতে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল
ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে সুযোগসন্ধানীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Glimpses of relief as inflation

মূল্যস্ফীতির হিসাবে স্বস্তির আভাস

মূল্যস্ফীতির হিসাবে স্বস্তির আভাস মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ে বাজারে, প্রভাব পড়ে জনজীবনে। ফাইল ছবি
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, আমরা বলেছিলাম আশা করছি মূল্যস্ফীতি কমবে। মূল্যস্ফীতি কমেছে। অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯১ ছিল। এই মাসে নেমেছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে।’

সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও কিছুটা কমল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর অর্থ হলো গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশের মানুষ যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পেয়েছিল, এ বছরের নভেম্বর মাসে তা কিনতে ১০৮ টাকা ৮৫ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

অক্টোবর মাসে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তাদের লেগেছে ১০৮ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে লেগেছিল ১০৯ টাকা ১০ পয়সা। আগস্টে লেগেছিল ১০৯ টাকা ৫২ পয়সা। ওই মাসের মূল্যস্ফীতি ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপর আর এই সূচক ৯ শতাংশের ওপরে ওঠেনি।

তবে এই স্বস্তির মধ্যে অস্বস্তির আরেকটি বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি কমেছে মূলত খাদ্যের পেছনে ব্যয় কিছুটা কমায়। কিন্তু খাদ্য ছাড়া অন্য খরচ গেছে বেড়ে।

নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

অন্যদিকে নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশ খানিকটা কমে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে শেরেবাংলানগরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির নভেম্বর মাসের তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, আমরা বলেছিলাম আশা করছি মূল্যস্ফীতি কমবে। মূল্যস্ফীতি কমেছে। অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯১ ছিল। এই মাসে নেমেছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে।’

মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি বেড়েছে মজুরি সূচক। অর্থাৎ ব্যক্তির গড় আয় কিছুটা বেড়েছে। অক্টোবরে মজুরি সূচক ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। নভেম্বরে সেটি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার প্রবণতা ছিল। ঠিক এ রকম একসময়ে গত ৫ আগস্ট সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। এর পরপরই বাড়ানো হয় সব ধরনের পরিবহন ভাড়া। এই দুইয়ের প্রভাবে বেড়ে যায় প্রায় সব পণ্যের দাম। গত ২৯ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হলেও বাজারে তার প্রভাব ছিল না বললেই চলে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতির উদ্বেগজনক ও স্পর্শকাতর সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপের দেশগুলোও ধুঁকছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভও হচ্ছে।

মজুরি সূচক বেড়েছে

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস ধরেই মজুরি সূচক অল্প অল্প করে বাড়ছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। সবশেষ নভেম্বরে তা আরও বেড়ে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশে উঠেছে।

আরও পড়ুন:
অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮.৯১ শতাংশ
মূল্যস্ফীতি দেশের ব্যর্থতায় নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী
৩২ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি অস্ট্রেলিয়ায়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
AIIB is providing budget support of Tk 2500 crore this week

২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি

২৫০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ। এই ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাওয়া যাবে। এই অর্থ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ করা হবে।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পাশাপাশি আরেক উন্নয়ন সহযোগী এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট সহায়তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে এআইআইবি। ইতোমধ্যে চুক্তির সার-সংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি সপ্তাহেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

জানা যায়, বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের জন্য ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে আইএমএফ। সাত কিস্তিতে মিলবে এই ঋণ। এর প্রথম কিস্তি আসবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্থ কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা এখনও পরিষ্কার করেনি বিশ্বব্যাংক। তবে এডিবি আরও ২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে। আগামী মার্চে এ‌ই ঋণ সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির ঋণের সুদ হার ৩ শতাংশ। এই ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাওয়া যাবে। এআইআইবির বাজেট সহায়তা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ করা হবে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সার-সংক্ষেপ এলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ইআরডি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এই ২৫ কোটি ডলার পাওয়া গেলে প্রথমবারের মতো এআইআইবির কাছ থেকে ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৬ সালে এআইআইবির সদস্য হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮০ কোটি ডলার পেয়েছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Order to facilitate LC on import of daily commodities during Ramadan

রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ

রমজানে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি সহজ করার নির্দেশ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট ও ইন্সপেকশন-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যাংকটির ঋণ তদারকি করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেই। এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।’

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিতে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি সহজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় দেশের তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা দেন গর্ভনর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘অর্থ পাচার রোধে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে। আর রোজার সময় কোনো পণ্যের যাতে ঘাটতি না হয় এবং মূল্য স্থিতিশীল থাকে সে জন্য তেল, চিনি, ডাল ও ছোলার এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘সভায় উপস্থিত ব্যাংকাররা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কোনো নীতি-সহায়তা দরকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেয়া হবে।’

মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক খাদ্যপণ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি ঋণ বিতরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। গত চার মাসে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার ৩৩ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। এটা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিয়ে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রতিবন্ধী-বান্ধব অ্যাপ চালু করে।’

তিনি জানান, ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে জনগণকে হয়রানি না করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এখন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে গেলে গ্রাহকের কাছে অর্থের উৎস বা বাড়তি প্রশ্ন জানতে চাইবে না ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনায় সম্মতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি জমা দিলে জাতীয় পরিচয়পত্র, টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইবে ব্যাংক।

মুখপাত্র বলেন, অর্থ পাচার রোধে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য ব্যবস্থাপনায় নজর রেখেছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, ঋণে ৯ শতাংশ সুদের হার নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

হুন্ডি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হুন্ডির চাহিদা যেখান থেকে তৈরি হয়, আমরা সেটা খোঁজার চেষ্টা করছি। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। ৯০ শতাংশ ব্যাংক নির্ধারিত ১০৭ টাকা দরে রেমিট্যান্স আনছে। কিছু ব্যাংক হয়তো বেশি দাম দিচ্ছে। এটা যেন না হয়। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট ও ইন্সপেকশন-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ইসলামী ব্যাংকের ঋণ তদারকি করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেই। এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে ভূমিকা সেটা তারা পালন করবে। কোনো গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে টাকা পায়নি এমন কোনো প্রমাণ তো পাওয়া যায়নি।’

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র‍্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘লোকাল কারেন্সির লিকুইডিটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কথা চলছে। প্রথম দিকে কিছু টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সব ব্যাংকিং সেক্টরে গ্রাহকরা আবার টাকা ফেরত দিচ্ছে। কাজেই দেশে কোনোরকম তারল্য সংকট বা ঝুঁকি নেই।’

আরও পড়ুন:
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর
ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন সংযোজন ‘বিনিময়’ শুরু রোববার
১৫ নভেম্বর থেকে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
We are doing well in the global situation

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রংপুর সার্কিট হাউসে রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশের অসচ্ছল এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

তিনি বলেন, ‘রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ আমদানির ব্যবস্থা করছেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্যাস বন্ধের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী
বিনিয়োগে পর্যাপ্ত সুযোগ ও নিরাপত্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী
‘শ্রমিকের ঘামের মূল্য রক্তের চেয়ে কম নয়’
সেপা চুক্তি হলে দু’দেশই লাভবান হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
If you keep the price of sugar high you will go to jail Commerce Minister

চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। ফাইল ছবি
টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন আমাদের ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে৷ এখন আমরা চিন্তা করছি, এর বাইরে যদি প্রয়োজন হয় জেলের ব্যবস্থা করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি দামে চিনি বিক্রি করলে তাকে প্রয়োজনে কারাগারে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে এক সভা শেষে রোববার তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান। গত নভেম্বরে চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা ঠিক, বাজারে যারা ব্যবসায়ী তারা ফেরেশতা না। কিন্তু আমরা যে দাম নির্ধারণ করে দেই, সেটা দিতে হবে তা কিন্তু নয়। দাম কত হওয়া উচিত সেটা নির্ধারণ করে দেই। তার পরও দেখি কোথাও কোথাও চিনি নিয়ে সুবিধা নিয়েছে। তবে আমাদের কাগজপত্র বলে প্রচুর পরিমাণ চিনি রয়েছে, পাইপলাইনেও আছে৷’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে৷ এখন আমরা চিন্তা করছি এর বাইরে যদি প্রয়োজন হয় জেলের ব্যবস্থা করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চিনির দামটা যেটুকু বেশি আছে, সেটা কমে আসবে। আজকে একটু কথা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে আসছে তাকে বলেছি, চিনির ওপর ডিউটি যদি একটু কমানো যায় বা কনসিডার করা যায় তাহলে দামের ওপর প্রভাব পড়বে বা দাম কমে যাবে।

‘আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি আছে। অন্য বছরের তুলনায় প্রচুর চিনি রয়েছে। আর আমদানি তো ওপেন আছে৷ বাজারে যা মজুত আছে, সেটা কোনো অবস্থায় দেশের জন্য বিপজ্জনক নয়। আমরা শুধু সাধারণ মানুষ যাতে কম দামে চিনি পায়, সে ব্যবস্থা করছি।’

গত মাসে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চিনি ও তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০২ ও প্যাকেটজাত চিনি ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাজারে সেই নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে না।

দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটা ভোক্তা অধিকার আছে, তারা সেটা দেখছে। আমরা আমাদের মতো করে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কে কী বলেছে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার দেখার বিষয় যে দাম হওয়া উচিত, যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা।’

তিনি বলেন, ‘যারা চিনি উৎপাদন করে তাদের নিয়মিত গ্যাস সাপ্লাই দরকার। সেখানে সমস্যা হলে তারা আর কাজ করতে পারবে না। আমরা সবাই জানি, কোথাও কোনো না কোনো সমস্যা আছে। আজকে সব কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরো ভালো করে দেখার জন্য আমরা চিন্তা করেছি, কিছু নির্ধারিত নির্দেশনা দিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করা হবে। শিগগিরই এই কমিটি করা হবে।

‘এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককেও বলেছি, তারা যদি একটি ক্রাইসিস সেল খোলে। এই সেল দেখবে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে। কেননা আমরা লক্ষ্য করছি, যতটা না সমস্যা হচ্ছে, তার থেকে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পত্রিকায় আসছে ১০০টি এলসি বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বলেছে। এ দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার এলসি হয়। এই ১০০টি এলসি বন্ধ হলো যে কারণে সেটা হলো, প্রতিটিই ছিল অতিমূল্যের জন্য। এই ১০০টির নিউজ বেশি করে হলো। অথচ ৯০০টি যে ভালোভাবে হলো, সেটা কেউ প্রচার করল না। এখানে সচেতন হতে হবে।

‘দেশে যদি কোনো আগাম পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রতি তিন মাসে আমরা এই কমিটির একটি সভা করব। আজকের আলোচনায় অনেক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের এলসি ওপেন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় যে যে সমস্যার কথা বলেছেন, যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রিলেটেড সেগুলো সব কিছু বাণিজ্যসচিব নোট করেছেন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আমাদের কর্মকর্তাদের পাঠাব৷ কোথায় কী অ্যাকশন নিয়ে কাজ হবে, প্রয়োজনে তাদের চিঠি দেব।’

আসন্ন রমজানে যাতে কোনো সমস্যা না হয়- এ জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘আলোচনায় আরেকটি বিষয় উঠে আসছে, সেটা হলো রমজান আগামী মার্চ মাসে শুরু হবে৷ সে সময় যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য এলসিসহ অন্য বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। শিগগিরই আমরা বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসব। কোনো অবস্থায় রমজান মাসে সাধারণ ভোক্তারা যাতে বিপদ-আপদ বা সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রয়েছে।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এলসি খোলা সংকট, এর মধ্যে সামনে রমজান মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান মাসকে সামনে রেখে আজকে রাতারাতি সব কিছু বদলে দেয়া যাবে না। আজকের অবস্থা, বৈশ্বিক সব কিছু ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কী আছে, সব কিছু আপনারা জানেন। আমরা অন্তত যে দাম আসছে, সেটাকে কনসিডারেশনে নিয়ে বা লোকসান করে কেউ বিক্রি করবে না। তবে আমাদের যেটা দরকার হলো রিজনেবল দামে যেন যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য রমজান মাসে আসে।’

তিনি বলেন, ‘সিটি গ্রুপ বলেছে, তারা নব কিছুর জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে। যেখানে সমস্যা এলসি নিয়ে সেটাও তারা কথা বলে নেবে। দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বিষয় সার্বিক বিবেচনায় নিয়েছেন।

‘তাদের যে প্রতিনিধি আসছেন তাদের বলা হয়েছে কাল-পরশুর মধ্যে তারা একটা পরিষ্কার নির্দেশনা দেবেন। সুতরাং রমজান মাসে দাম কমে যাবে সেটা বলছি না, অন্তত আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যে দাম হওয়া উচিত, সেটা মাথায় রেখে পণ্যের সরবরাহ বা পণ্য পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
ফের বেড়ে সয়াবিন তেল ১৯০, চিনি ১০৮
তেল, চিনি সংকটের সুরাহা কবে
টিসিবির জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কিনছে সরকার
এবার বাড়ল দেশি চিনির দাম, কেজিতে ১৪ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sidal artisans in crisis due to lack of fish loans

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা কুমিল্লার মুরাদনগরের সালফা গ্রামে রোদে শুটকি শুকাতে ব্যস্ত বিষ্ণু চন্দ্র সরকার। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লার মুরাদনগরের সিদলের বেশ চাহিদা আছে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লার সিদল চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। শুধু দেশেই নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার সিদল যাচ্ছে ভারতের আগরতলা, তেল্লামুড়া, সোনামূড়ায়। সেখান থেকে পাইকাররা এসে সিদল নিয়ে যান।

ধোঁয়া উঠা গরম ভাতে সিদল শুঁটকির ভর্তার স্বাদ নেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এক সময় কুমিল্লায় তৈরি সিদলের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ছিল সারা দেশে। তবে সহজ শর্তে ঋণের অভাবে ও নদী এবং খাল-বিলে মাছ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন এখানকার শুঁটকি কারিগরেরা।

শতবছর আগে সিদল শুঁটকি তৈরি শুরু হয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সলফা গ্রামে। বর্তমানে ওই গ্রামের চারটি পরিবার তাদের বাপ-দাদার আদি এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। এক সময় ওই গ্রামের ৪০টি পরিবার সিদল তৈরির কাজ করতো। তবে ঋণ ও মাছের অভাবে অনেকে আবার পেশা বদল করেছেন।

সালফা গ্রামে এখন চারটি পরিবার সিদল শুঁটকি তৈরির সঙ্গে জড়িত। সরেজমিনে সালফা গ্রামে দেখা যায়, মাচায় সিদল শুকানোর কাজ করছেন রবিন্দ্র চন্দ্র ও বিষ্ণু চন্দ্র সরকার।

রবিন্দ্র বলেন, ‘আমরা দুই জাতের সিদল করি। একটি হচ্ছে পোয়া অন্যটি পুঁটি সিদল। পোয়া মাছ চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করি। পুঁটি মাছগুলো মেঘনা ও সিলেট এলাকা থেকে সংগ্রহ করি।’

মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা

যেভাবে তৈরি হয় সিদল

সিদল তৈরির কারিগর রবীন্দ্র ও বিষ্ণু জানান, আশপাশের নদী ও খাল থেকে পুঁটি মাছ সংগ্রহ করি। বিশেষ করে স্থানীয় বাজার থেকেও আমরা কম দামে মাছগুলো কিনে বাড়ি আনি। পরে এগুলোর পেট কেটে বড় পাত্রে পানি দিয়ে পেট-কাটা পুটিগুলো রেখে দেই। আগুন তাপে সেগুলো থেকে তেল বের হয়। তেলগুলো আমরা আরেকটা পাত্রে সংরক্ষণ করি। পরে মাছগুলোকে মাচায় শুকিয়ে নেই।

তারা আরও জানান, শুকানো মাছগুলো বড় মটকির ভেতর রেখে এর আগে আগুনের তাপে বের হওয়া মাছের তেল ঢেলে দেই। মাটি খুড়ে মটকিগুলো পুতে রাখি। তিন মাস মাটির নিচে রাখার পর তৈরি হয় সিদল।

চলতি বছরের সিদল তৈরির কেমন প্রস্তুতি

সিদল তৈরির কারিগর রবিন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এখন আর আগের মত মাছ পাওয়া যায় না। তবুও এ বছর যা সংগ্রহ করেছি তা দিয়ে চারশো থেকে ৫’শ মটকী সিদল তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছি। এগুলো থেকে অন্তত এক’শ মন পুঁটি সিদল তৈরি হবে। প্রতি বছর পৌষ-মাঘ মাসে মটকীগুলো মাটির নীচে গর্ত করে রাখি। মূলত আশ্বিন, কার্তিক মাস থেকে চৈত্র মাস পযর্ন্ত চলে সিদল তৈরির কাজ।

কোথায় যায় কুমিল্লার সিদল

কুমিল্লার মুরাদনগরের সিদলের বেশ চাহিদা আছে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লার সিদল চলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। শুধু দেশেই নয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার সিদল যাচ্ছে ভারতের আগরতলা, তেল্লামুড়া, সোনামূড়ায়। সেখান থেকে পাইকাররা এসে সিদল নিয়ে যান।

সিদল শুঁটকি তৈরির পেশা টিকিয়ে রাখতে আকুতি

মুরাদনগরের সলফা গ্রামের বিষ্ণু ও রবীন্দ্রসহ আরও দুটি পরিবার এখন সিদল শুঁটকি তৈরি করে। তাদের এই কাজে সহযোগিতা করেন শতাধিক নারী। সিদল তৈরির কারিগর বিষ্ণু বলেন, শত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা নানান সংকটের মুখে পড়ে সিদল তৈরির পেশাটাকে জিইয়ে রেখেছি। সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আমাদের সহায়তা করে তাহলে সিদল উৎপাদন করে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম।

আরও পড়ুন:
শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করতে স্থায়ী জমি চান ব্যবসায়ীরা
শুঁটকিতে ফের লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের
শুঁটকি আহরণে দুবলার পথে জেলেরা
দুবলার পথে উপকূলের ১০ হাজার জেলে

মন্তব্য

p
উপরে