× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Bashundhara paper with dividend flying high
hear-news
player
google_news print-icon

লভ্যাংশ কমাল উড়তে থাকা বসুন্ধরা পেপার

লভ্যাংশ-কমাল-উড়তে-থাকা-বসুন্ধরা-পেপার
বসুন্ধরা পেপার মিলসের কারখানা। ছবি: সংগৃহীত
গত এক বছরে বসুন্ধরা পেপারের শেয়ারদর দুই বার লাফ গিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিন শেয়ার দর ৪৩ টাকা থেকে ১১ জানুয়ারি হয়ে যায় ৬৮ টাকা। পরে আবার দর হারিয়ে গত ২৮ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন নেমে আসে ৪৮ টাকা ৮০ পয়সায়। ফ্লোর প্রাইস কার্যকরের পর যেসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তার একটি বসুন্ধরা। তিন মাসে দ্বিগুণ হয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ দর দাঁড়ায় ৯৬ টাকা।

তিন মাসের মধ্যে শেয়ারদর দ্বিগুণে হয়ে যাওয়ার পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কাগজ ও প্রকাশনা খাতের কোম্পানি বসুন্ধরা পেপারের এবার লভ্যাংশ কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও তাদের আয় অনেকটাই বেড়েছে।

শুক্রবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ তারা শেয়ার প্রতি পাবেন এক টাকা।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৯২ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৫৫ পয়সা বা ২৩ শতাংশ।

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ কমানো হয়েছে ২ শতাংশ। গত বছর ১২ শতাংশ বা শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এই এক বছরে কোম্পানিটির সম্পদমূল্য লাফ দিয়েছে। পুনর্মূল্যায়ন করার পর প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে গত ৩০ জুন ৭৪ টাকা ৩১ পয়সার সম্পদ দাঁড়িয়েছে। আগের বছর একই সময় শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ৪৫ টাকা ৮১ পয়সা।

যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ২২ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট সেদিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ডাকা হয়েছে আগামী ২৭ ডিসেম্বর।

গত এক বছরে বসুন্ধরা পেপারের শেয়ারদর দুই বার লাফ গিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিন শেয়ার দর ৪৩ টাকা থেকে ১১ জানুয়ারি হয়ে যায় ৬৮ টাকা। পরে আবার দর হারিয়ে গত ২৮ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন নেমে আসে ৪৮ টাকা ৮০ পয়সায়।

ফ্লোর প্রাইস কার্যকরের পর যেসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তার একটি বসুন্ধরা। তিন মাসে দ্বিগুণ হয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ দর দাঁড়ায় ৯৬ টাকা।

সর্বোচ্চ এই অবস্থান থেকে দর কিছুটা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা। সবশেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার দর বেড়েছে ৯.৯৩ শতাংশ বা সাড়ে সাত টাকা।

এই এক বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন শেয়ারদর ছিল ৪২ টাকা ১০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে ইউনিলিভারের পোয়াবারো
বিএসইসির শর্ত পূরণে জেএমআইএর ৩৬ শতাংশ বোনাস শেয়ার
৯ মাসে আয় সাড়ে ৮ কোটি, তিন মাসে লোকসান সোয়া ৬ কোটি
উড়তে থাকা তমিজউদ্দিন বাড়াল লভ্যাংশ
লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
There is no restriction on journalists access to information BSEC Chairman

সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান

সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ফাইল ছবি
‘সাংবাদিকদের কাছে তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে ওই সভায় কোনো বক্তব্য রাখা হয়নি। ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশের গোপনীয় তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ে ১৯ ধারায় বলা হয়েছে। ওই ধারাটি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধারায় বর্তমান ও সাবেক এমএলএসএস থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের কোনো তথ্য সরবরাহ করলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কর্মকর্তাদের জেলের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সোমবার। এর বিপরীতে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিশন স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। আমরা পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। বিএসইসিও এর বাইরে নয়। সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বশীল রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে এই স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তাই বিএসইসি থেকে সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে কোনো বাধা নেই।’

রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারের বিষয় ছিল ‘প্রসপেক্টাস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট।’ এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

প্রকাশিত ওই সংবাদে দাবি করা হয়, বৈঠকে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘সাংবাদিকদের কাছে কোনো কর্মকর্তা তথ্য সরবরাহ করলে ওই কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হতে পারেন। এমনকি জেল-জরিমানাও হতে পারে।’

বিষয়টি সত্য কি-না জানতে চাইলে তিনি অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছে তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে ওই সভায় কোনো বক্তব্য রাখা হয়নি। ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশের গোপনীয় তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ে ১৯ ধারায় বলা হয়েছে। ওই ধারাটি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধারায় বর্তমান ও সাবেক এমএলএসএস থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন পার্টির কাছে তথ্য শেয়ার করেন। বিভিন্ন নথির ছবি তুলে পাঠিয়ে দেন। এটি আইনের লংঘন। আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার স্বার্থে কর্মকর্তাদেরকে এভাবে তথ্য শেয়ার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি কী সে বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market is going through a test of patience

ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার

ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার
রোববার ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে। পরদিন সেখান থেকে কিছুটা বাড়লেও তিন শ কোটির ঘর ছাড়াতে পারেনি। কয়েক মাস আগেও দিনে লেনদেন দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ঘরে ছিল।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের পরীক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সূচক পতনের সঙ্গে আগের কর্মদিবসের মতো লেনদেন তিন শ কোটির ঘর অতিক্রম করতে পারল না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ নিয়ে গত ১১ কর্মদিবসের মধ্যে ৬ দিনই লেনদেন হলো তিন শ কোটির ঘরে। বাকি চার দিন চার শ কোটি ও এক কর্মদিবস লেনদেন হয়েছে পাঁচ শ কোটির বেশি।

লাখ লাখ শেয়ার বিক্রির জন্য বসিয়ে ক্রেতা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। এই অবস্থা থেকে কবে উত্তরণ হবে, তার কোনো আভাস না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। বহু বিনিয়োগকারী এখন ব্রোকারেজ হাউজে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৭ হাজার টাকার, যা আগের কর্মদিবস চেয়ে ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি।

রোববার ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে। হাতবদল হয় ৩১৩ কোটি ৫৬ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার। যা চলতি বছরের তো বটেই, ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন।

সে সময় করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের আগে আগে পুঁজিবাজারে লেনদের স্থগিত হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে লেনদেন নামে তলানিতে। দিনভর হাতবদল হয় কেবল ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তবে পরদিন যখন পুঁজিবাজার চালু থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, পরদিন থেকেই বাড়তে থাকে লেনদেন।

তবে নভেম্বরে শীত পড়ার আগে আগে শীতঘুমে যায় পুঁজিবাজার। ২৪ নভেম্বর ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২৪ অক্টোবর ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ৩৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২১ নভেম্বর ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

রোববারের আগে চলতি বছর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেনের প্রধান কারণ ছিল কারিগরি ত্রুটি। সেদিন কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল।

করোনাকালের মতো না হলেও গত জুন থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে ডিএসসির সাধারণ সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিজে নেমে এলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ায়। সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়।

৩১ জুলাই থেকে উত্থানে ফেরে পুঁজিবাজার। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের এক যুগের চাহিদাও পূরণ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, শেয়ারের বাজারমূল্য নয়, ক্রয়মূল্য ধরেই গণনা হবে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ফের চলে উত্থান। তবে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে ধীরে ধীরে গতি হারাতে থাকে পুঁজিবাজার।

এর মধ্যে ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। বেশ কিছু ব্যাংক থেকে বেআইনিভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের বিষয়টিও আসে সামনে। এতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস নামতে থাকে তলানিতে।

এদিন ৯১টি কোম্পানির একটিও শেয়ারও লেনদেন হয়নি। এর মধ্যে ৮টির লেনদেন বন্ধ ছিল রেকর্ড ডেটের কারণে।

যে ২৯৯টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে ২৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৫৫টির। আর অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে ২২১টি কোম্পানির, যার প্রায় সবই রয়েছে ফ্লোর প্রাইসে।

দরপতনের প্রভাবে সূচক কমেছে ১২ পয়েন্ট। ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১২ পয়েন্টে। সূচকের অবস্থান এর চেয়ে কম ছিল ৫ কর্মদিবস আগে। ২৮ নভেম্বর সূচক ছিল ৬ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে।

ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

১ থেকে ১ হাজারের মধ্যে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৫টিতে। এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে মাত্র ৫১টি কোম্পানিতে। ২৭৪ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিপরীতে ২৪৮টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে কেবল ৭০ কোটি ১৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজারের লেনদেন নিয়ে ক্যাল সিকিউরিটিজের শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) রাজেশ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে ডিসেম্বরে মার্কেট এমন থাকে। কিন্তু এবার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কারণ, আবার ১০ তারিখে বিএনপির কর্মসূচি, এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে রয়েছেন। অন্যবার যেমন হয় কেউ লাভ করেন, কেউ লোকসানে থাকেন। কিন্তু এবার সবাই ধরা খেয়েছে।’

এখন বাজার যে অবস্থানে রয়েছে সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে সময় লাগবে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এটাও মার্কেটের একটা সুযোগ, এটাকে অ্যাকিউমুলেট করে মার্কেট দাঁড়াতে সময় লাগবে।

‘আমাদের দেশে অতীতে দেখা গেছে যখন অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকে তখন মার্কেট ভালো থাকে। কিন্তু এবার সে রকম নয়।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে বিকন ফার্মা। কোম্পানির দর কমেছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ওরিয়ন ফার্মার দর ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট।

বসুন্ধরা পেপারের কারণে সূচক হারিয়েছে ২ দশমিক ০৪ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এ ছাড়াও নাভানা ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী পেপার, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস ও পূবালী ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৩০ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বার্জার পেইন্টসের দর ১ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২৭ পয়েন্ট।

এডিএন টেলিকম সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক, বিডি থাই ফুড, বাটা সুজ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৬৭ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ৫২৭ টাকা ৫০ পয়সা।

এরপরেই ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে এডিএন টেলিকমের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১৪ টাকা ২০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ১০৬ টাকা ৮০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল বিডি থাই ফুড। ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৫০ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৪৮ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া অগ্নি সিস্টেমসের দর ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে ২৪ টাকায়। গতকাল ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৩ টাকা ১০ পয়সা।

সোনালী আঁশ ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

মুন্নু সিরামিকস, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ ও বিডি কমের দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ দর কমেছে জুট স্পিনার্সের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১৬ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ২৩২ টাকা ৪০ পয়সা।

এর পরেই ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ দর কমে পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০৩ টাকা ৫০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২১৫ টাকা ৩০ পয়সা।

৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ দর কমে নাভানা ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮০ টাকা ১০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৮৪ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল বসুন্ধরা পেপার, জেমিনি সি-ফুড, কে অ্যান্ড কিউ, ওরিয়ন ফার্মা, মনোস্পুল, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
This is the lowest transaction in 20 months

এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন

এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
নভেম্বরে শীত পড়ার আগে আগে শীতঘুমে যায় পুঁজিবাজার। ২৪ নভেম্বর ২৩২ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২৪ অক্টোবর ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ৩৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২১ নভেম্বর ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। রোববারের আগে চলতি বছর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেনের প্রধান কারণ ছিল কারিগরি ত্রুটি। সেদিন কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল।

শীতঘুমে থাকা পুঁজিবাজারের জেগে ওঠার কোনো লক্ষণই নেই। ফ্লোর থাকায় তিন শতাধিক কোম্পানির শেয়ারদর কমতে পারছে না, তবে শেয়ারের ক্রেতা নেই বললেই চলে। লেনদেন কোনো রকমে তিন শ কোটির ঘর পার করতে পারলেও সেটি গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার নতুন সপ্তাহের প্রথম দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছে ৩১৩ কোটি ৫৬ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার।

চলতি বছরের তো বটেই, ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সে সময় করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের আগে আগে পুঁজিবাজারে লেনদের স্থগিত হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে লেনদেন নামে তলানিতে। দিনভর হাতবদল হয় কেবল ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তবে পরদিন যখন পুঁজিবাজার চালু থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, পরদিন থেকেই বাড়তে থাকে লেনদেন।

তবে নভেম্বরে শীত পড়ার আগে আগে শীতঘুমে যায় পুঁজিবাজার। ২৪ নভেম্বর ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২৪ অক্টোবর ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ৩৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২১ নভেম্বর ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

রোববারের আগে চলতি বছর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেনের প্রধান কারণ ছিল কারিগরি ত্রুটি। সেদিন কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল।

করোনাকালের মতো না হলেও গত জুন থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে ডিএসসির সাধারণ সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিজে নেমে এলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ায়। সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়।

৩১ জুলাই থেকে উত্থানে ফেরে পুঁজিবাজার। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের এক যুগের চাহিদাও পূরণ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, শেয়ারের বাজারমূল্য নয়, ক্রয়মূল্য ধরেই গণনা হবে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ফের চলে উত্থান। তবে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে ধীরে ধীরে গতি হারাতে থাকে পুঁজিবাজার।

এর মধ্যে ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। বেশ কিছু ব্যাংক থেকে বেআইনিভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের বিষয়টিও আসে সামনে। এতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস নামতে থাকে তলানিতে।

রোববার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর শেয়ারের ক্রয়াদেশ ছিল না বললেই চলে। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল তিন শ কোটি টাকার ঘরও ছাড়াবে না।

এদিন মোট ২২টি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ৬৪টি। আর ২১৪টি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে।

যে লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে ৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোতে। দর হারানো কোম্পানিগুলোতে হাতবদল হয় ১৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ফ্লোরে থাকা বাকি কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন ৫০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারেনি।

বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতনে কমেছে সূচকও। ২০ পয়েন্ট হারিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২২৪ পয়েন্টে।

এবার ২০ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) সুমন দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের ইনভলভমেন্ট কম। চিন্তা ভাবনা করে ইনভেস্টমেন্টে যাবেন, এমন পরিকল্পনায় রয়েছে। সেলারও নাই, বায়ারও নাই।’

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভাবছে, মার্কেট এর চেয়েও কমতে পারে বা খারাপ হতে পারে। এর জন্য তারা সাইডলাইনে রয়েছে, দেখে শুনে বিনিয়োগ করবেন।’

ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে কমার সুযোগ নেই এবং ফ্লোর উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবছে না বিএসইসি, তাহলে কীভাবে কমবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইস তুললে ডিপ্রেশনে চলে যাবে। সেটা কাটিয়ে ওঠার কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট না রাখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

উত্তরণে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টা মানুষকে বোঝাতে হবে। মানুষ মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলবে, যদি বলা হয় উন্নত দেশেও মূল্যস্ফীতি ব্যাপক, তাহলে বলবে তাদের পারচেজ পাওয়ার আমাদের চেয়ে বেশি। কিন্তু তারপরেও আশেপাশের অনেক দেশের চেয়ে আমাদের অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো- এই বিষয়টা মানুষকে না বোঝাতে পারলে আস্থা ফিরবে না। মানুষ তো প্যানিকড হয়ে আছে। এর দায় মিডিয়ার রয়েছে।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বেক্সিমকো ফার্মার দর ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ৪ দশমিক ২৫ পয়েন্ট।

বিকন ফার্মার কারণে সূচক হারিয়েছে ২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

এ ছাড়াও কোহিনূর কেমিক্যাল, সোনালী পেপার, বসুন্ধরা পেপার, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, সি-পার্ল, ইউনিক হোটেল ও নাভানা ফার্মার দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ২০ দশমিক ২৯ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বেক্সিমকো সুকুকের দর ২ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ১০ পয়েন্ট।

ইসলামী ব্যাংক সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ১ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে ওয়ান ব্যাংক, এডিএন টেলিকম, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, পদ্মা অয়েল, আমরা নেটওয়ার্কস, বিডি থাই ফুড ও যমুনা অয়েল।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ দর বেড়ে কে অ্যান্ড কিউয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮৮ টাকা ৩০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৭০ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৭ টাকা ৯০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল অ্যাডভেন্ট ফার্মা। ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ২৮ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২৭ টাকা ৩০ পয়সা।

এ ছাড়া আমরা নেটওয়ার্কস, এডিএন টেলিকম ও অ্যাপেক্স ফুডসের দর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি। বিডি থাই ফুড ও ওয়ান ব্যাংকের ২ শতাংশের বেশি এবং ইস্টার্ন ক্যাবলস ও মনোস্পুলের দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর কমেছে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৩ টাকা ৭০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৮ টাকা ৪০ পয়সা।

এর পরেই ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ দর কমে ই-জেনারেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৮ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৬২ টাকা ৫০ পয়সা।

৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ দর কমে বসুন্ধরা পেপারে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৭ টাকা ৩০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৮২ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল নাভানা ফার্মা, হাক্কানি পাল্প, ইস্টার্ন হাউজিং, মেঘনা সিমেন্ট, আইসিবি, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Letter to make the paid up capital of Samrita Hospital Rs30 crores

শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি 

শমরিতা হাসপাতালের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে চিঠি  ডিএসই ও বিএসইসি ভবন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শমরিতা হাসপাতালের কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। জবাবও দিয়েছি। এই আইন আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। লিস্টিং রেগুলেশনের যে রেফারেন্স দেয়া হয়েছে সেটা আমাদের জন্য না। সেটা আনলিস্টেড কোম্পানির জন্য। এটা আমরা বলেছি।’

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সেবা খাতে তালিকাভুক্ত শমরিতা হাসপাতালকে পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকা করার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত মাসে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। শমরিতা হাসপাতালের কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলাম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত হয় শমরিতা হাসপাতাল। বর্তমানে তাদের পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

কিন্তু বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস-২০১৫ অনুযায়ী মূল বোর্ডে থাকতে হলে পরিশোধিত মূলধন হতে হয় ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী শমরিতা হাসপাতালকে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন করার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য ২০২৩ সালের ৩০ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কিভাবে এই মূলধন বাড়ানো হবে সেটার পরিকল্পনা চেয়েছে বিএসইসি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শমরিতা হাসপাতাল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে না পারলে তাদেরকে এসএমই মার্কেটে লেনদেনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হবে। মূল মার্কেট থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হবে।

শমরিতা হাসপাতালের কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। জবাবও দিয়েছি। এই আইন আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। লিস্টিং রেগুলেশনের যে রেফারেন্স দেয়া হয়েছে সেটা আমাদের জন্য না। সেটা আনলিস্টেড কোম্পানির জন্য। এটা আমরা বলেছি।’

১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে।

২০১৯ সালে শমরিতা হাসপাতাল ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা মুনাফা করে; লভ্যাংশ দেয় শেয়ার প্রতি ১ টাকা আর বোনাস লভ্যাংশ দেয়া হয় ১০০টি শেয়ারে নতুন ৫টি শেয়ার। ২০১৯ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৩২ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেয়া হয়নি।

২০২০ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেয়া হয় প্রতি শেয়ারে ১ টাকা।

পুঁজিবাজারে এ কোম্পানির ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৬টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার, বিদেশিদের হাতে রয়েছে দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার।

শমরিতা হাসপাতালের বর্তমান বাজার মূলধন ২ হাজার কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং রিজার্ভের পরিমাণ ৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The BSEC commissioner did not take responsibility for the wrong decision

ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার

ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা
শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়ার সব আইনকানুন পরিপালন করতে হবে। অনেক বিষয় আছে, যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়। আরও দেখতে হয় কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোনো কোম্পানি আছে কি না, সে কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে পরিচালিত করছেন।’

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্তিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের দায় অডিটরদের বলে জানালেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনীতে বুধবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় অডিটরদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ এই জিনিসগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ আইপিও প্রসেসটাকে ডিজিটালাইজড করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আইপিও প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নে বিএসইসি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চেষ্টা করছে বলে জানান শেখ শামসুদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটালাইজেশন ফিনটেক টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। এ জন্য সরকারের ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যে ফান্ডটি পাওয়া যাবে৷ বিএসইসি সে ফান্ড নিয়ে পুরো আইপিও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করবে।’

কোম্পানির তথ্য ঘাটতি আইপিও প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে জানিয়ে বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় আইপিও অনুমোদনের জন্য কালক্ষেপণ হয়। এ জন্য বিএসইসি ও ডিএসই দায়ী থাকে না। কোম্পানির তথ্য ঘাটতির জন্য মূলত এটি হয়ে থাকে।’

আইপিও প্রক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য ইএসজি রিপোর্টিংয়ের মতো নতুন নতুন নির্দেশিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ডকুমেন্ট কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ডকুমেন্ট তৈরিতে কমিশনের কোনো হাত নেই। কমিশন অডিটরদের অডিট রিপোর্টকে পর্যাপ্ত ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়ার সব আইনকানুন পরিপালন করতে হবে। অনেক বিষয় আছে যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়। আরও দেখতে হয় কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোনো কোম্পানি আছে কিনা, সে কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে পরিচালিত করছেন।’

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ৪টি বিষয় খেয়াল রাখা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা কেমন ও তাদের মানসিকতা কী, আইপিওতে বিনিয়োগকারীর বিভিন্ন বিষয় জানা, কোম্পানিটি কোনো রেগুলেটরি ক্রাইসিস তৈরি করবে কিনা সেটি লক্ষ রাখা এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে খেয়াল রাখে কমিশন।’

প্রশিক্ষণার্থীদের তিনি বলেন, ‘কর্মশালার মাধ্যমে যে সব বিষয় শিখছেন, তা শুধুমাত্র শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ভালো কোম্পানিগুলোকে কমিশনের কাছে নিয়ে আসবেন। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেই পুঁজিবাজার ও দেশের কল্যাণ হবে।’​

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রসপেক্টাস মূল্যায়নে বিএসইসি এবং এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা, রেড-হেয়ারিং প্রসপেক্টাসের বিশেষত্ব, প্রসপেক্টাসের প্রয়োজনীয়তা ও বিষয়বস্তু, সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং আর্থিক বিবৃতি মূল্যায়ন, প্রসপেক্টাসের যাচাই-বাছাই পদ্ধতি, ভেটিং পদ্ধতি, আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং বিষয়বস্তু, সিকিউরিটিজ বিতরণ প্রক্রিয়া, লক ইন বিধান, ডিফল্ট এবং শাস্তিমূলক বিধানের পরিণতি এবং আইপিও অনুমোদন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম৷

আরও পড়ুন:
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Again the director of DSE is Shakeel Shahjahan

আবার ডিএসইর পরিচালক হচ্ছেন শাকিল-শাহজাহান

আবার ডিএসইর পরিচালক হচ্ছেন শাকিল-শাহজাহান মো. শাকিল রিজভী (বাঁয়ে) ও মোহাম্মদ শাহজাহান। ছবি: সংগৃহীত
দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিএসই। এ পদে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ফরম সংগ্রহ না করায় তারা আবারও পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আবারও তিন বছরের জন্য পরিচালকের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মো. শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী তিন বছরের জন্য এ দায়িত্ব পাচ্ছেন। বর্তমানেও তারা দুজন পর্ষদে রয়েছেন।

দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিএসই। এ পদে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ফরম সংগ্রহ না করায় তারা আবারও পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা আমাদের শেয়ারহোল্ডার, তারা আমাদের ওপরে আস্থা রেখেছেন, এ জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী নতুন বছরে যেন পুঁজিবাজার আরও ভালো হয় সেটার জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাব। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আমরা কাজ করে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, তিন সদস্যের কমিশন গঠন করে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এ কমিশনে চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাইকোর্ট ডিভিশনের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আব্দুস সামাদকে। সদস্য করা হয়েছে মোরশেদ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান আজিজুর রহমান এবং স্টক অ্যান্ড বন্ডের পরিচালক মোহাম্মদ এ হাফিজকে।

ডিএসইর সংঘ স্মারকের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহানের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এ শেষ হওয়া পদে দুজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের জন্য ২২ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য ২৮ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিন ঠিক করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দুটি পদে শুধু শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

আরও পড়ুন:
৯ ব্রোকারেজ হাউসে ৬৫ অনিয়ম
পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশন
পদে ফিরতে চান তারিক, সুযোগ নেই: ডিএসই
ডিএসইর এমডিরা মেয়াদ পূরণ করতে পারেন না কেন
ডিএসই এমডির পদত্যাগ গ্রহণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Transactions in the capital market are increasing little by little

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন একটি ব্রোকারেজ হাউসে এক বিনিযোগকারী। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টি। আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

শেষ কর্মদিবসেও উত্থানের মধ্য দিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তিন কর্মদিবস সূচকে পয়েন্ট যোগ হলো। সেই সঙ্গে দিনের চেয়ে বেড়ে ছয় কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো লেনদেনও।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রভাব শুরু হওয়া পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে তিন সপ্তাহ ধরে ফের সংশোধন চলছে পুঁজিবাজারে।

১৫ কর্মদিবস আগে ৯ নভেম্বর সর্বশেষ হাজার কোটির বেশি লেনদেন হয়েছিল ডিএসইতে। এরপরে তিন কর্মদিবস ৭০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হলেও ক্রমেই তা তলানিতে ঠেকে।

৮ কর্মদিবসে পরে ২১ নভেম্বর সর্বপ্রথম লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। হাতবদল হয় ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

পরে আরও তিনবার ৩০০ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা লেনদেন হয়, যা গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

এমনকি ২৪ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ থাকার পরও এর চেয়ে কম লেনদেন হয়নি।

রোববার ৪১৬ কোটির বেশি লেনদেন হলেও সোমবারই আবার লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যাওয়ায় হতাশা ঘিরে ধরে। এরপর ধারাবাহিক তিন কর্মদিবস সূচক ও দুই কর্মদিবস লেনদেন বাড়ে।

ডিএসইতে হাতবদল হয় ৪৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৫ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

মঙ্গলবারের তুলনায় ১১৫ কোটি টাকা বেড়ে বুধবার হাতবদল হয়েছিল ৪৪৯ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টির।

আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

দিনভর উত্থান-পতনের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্যেও একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি ৭২টির, যা আগের দিন ছিল ৮৬। ২৩৪টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার দুই-একটি বাদে সবই ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে।

বিপুল বিক্রয়াদেশের বিপরীতে এসব শেয়ারের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ রকম ১২১টি শেয়ারের লেনদেন হয় ১ থেকে ১ হাজারের নিচে।

মাত্র ৬১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয় কোটি টাকার বেশি, হাতবদল হয় ৩৮৬ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি আড়াই শতাধিক কোম্পানির লেনদেন হয় শত কোটির নিচে। এ রকম ২৫৭টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের সংশোধনে মানুষের বড় রকমের লোকসান হয়েছে। যাদের মার্জিনে ঋণে বিনিয়োগ ছিল তাদের ফোর্স সেল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যখন বড় ধরনের পতন হয়, তখন বাজারে বায়ার তৈরি হয়ে যায়।’

এ উত্থানটা আরও বেশি হতে পারত বলে মনে করেন ব্রোকারদের এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাজার যেভাবে ওঠার দরকার ছিল, সেভাবে ওঠেনি। যে পরিমাণ লোকসান হয়েছে, তাতে আরও বেশি বায়ার তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না ফ্লোর প্রাইসের কারণে। ফলে অনেকেই সাইডলাইনে আছেন।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বসুন্ধরা পেপার। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, পূবালী ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ওরিয়ন ফার্মা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সোনালী পেপার।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে সি-পার্ল। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বিকন ফার্মার দর শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো ফার্মার কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়াও নাভানা ফার্মা, ই-জেনারেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, মুন্নু সিরামিকস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ক্যাবলস ও সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্সের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২৭ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৪৮৫ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে বেঙ্গল উইন্ডসরের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল হাক্কানি পাল্প। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৬৩ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৫৮ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল বসুন্ধরা পেপার, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ফুডস, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও ফাইন ফুডস।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ দর কমেছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর কমে সি-পার্লের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭৮ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১৮৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই দর কমেছে ই-জেনারেশনের। ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৬২ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল জুট স্পিনার্স, মুন্নু সিরামিকস, শমরিতা হসপিটাল, নাভানা ফার্মা, ইস্টার্ন ক্যাবলস, আমরা টেকনোলজিস ও আমরা নেটওয়ার্কস।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

p
উপরে