× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Imports are more than exports by 455 billion dollars
hear-news
player
google_news print-icon

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানির-চেয়ে-আমদানি-বেশি-৪৫৫-বিলিয়ন-ডলার
‘এই ধারা অব্যাহত থাকবে’ এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

নানা পদক্ষেপের পরও আমদানি ব্যয় খুব একটা কমছে না। এখনও প্রতি মাসে পণ্য আমদানিতে ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এ কারণে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ কোটি ৫০ লাখ (৪.৫৫ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এই দুই মাসে বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করেছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ১২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ১০ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই দুই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

এ হিসাবেই অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ১৩ মাস পর হোঁচট খেয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়।

‘এই ধারা অব্যাহত থাকবে’ এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি ব্যয় কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ফলও পাওয়া যাচ্ছে। আমদানির উল্লম্ফন কিছুটা কমেছে। কিন্তু খারাপ খবর হচ্ছে, রপ্তানি আয়ও কমতে শুরু করেছে। ১৩ মাস পর সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

‘রপ্তানি আয়ের এই নেতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে’ জানিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণে আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই বলেই মনে হচ্ছে।’

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর পর থেকেই আমদানিতে জোয়ার বইতে শুরু করে। আর তাতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধানও চূড়ায় উঠতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত পণ্য বাণিজ্যে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়। এর আগে কখনই এত বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়েনি দেশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

সেবা বাণিজ্যেও ঘাটতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ১.৫ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কোনো অর্থবছরে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে এত বড় ঘাটতি দেখা যায়নি।

আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সূচকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন (৪৫৭ কোটি ৫০ লাখ) ডলার ঘাটতি ছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে ঘাটতি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩১ কোটি ৪০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৭ কোটি ডলার। এভাবে প্রতি মাসেই বেড়েছে ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি।

‘ওই ঘাটতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল’ মন্তব্য করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমদানিতে এখনও যে গতি রয়েছে, সেটা যদি অব্যাহত থাকে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স যদি কমে যায় তাহলে গতবারের মতো এবারও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছল শেষ হবে।’

বেশ কয়েক বছর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে পড়ে বাংলাদেশ। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই বছর।

তার আগে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত ছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২.২৫ শতাংশ

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

তবে এবার এই সূচকে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

গত বছরের এই দুই মাসে ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

তবে সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য হতাশাজনক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্সের হালাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম এবং গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালেন্স) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইয়-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ২২ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে অর্থবছর শেষ হয়েছিল গত ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ওভারঅল ব্যালেন্সে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি

জুলাই-আগস্ট মাসে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে অবশ্য ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণসহায়তা পাওয়ায় গত আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত ছিল বলে জানান আহসান মনসুর।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
বিলাস পণ্যের আমদানিতে লাগাম
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২ লাখ কোটি টাকা
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায়
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
10 lakh discount if you book with Sheltec

শেলটেকে বুকিং দিলেই ১০ লাখ টাকা ছাড়

শেলটেকে বুকিং দিলেই ১০ লাখ টাকা ছাড়
‘শেলটেক আবাসন মেলা ২০২২’ শিরোনামের আবাসন মেলাটি হচ্ছে রাজধানীর ৫৫ পশ্চিম পান্থপথে শেলটেকের প্রধান কার্যালয়ে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান শেলটেক অ্যাপার্টমেন্ট, অফিস স্পেস কিংবা জমি বুকিং দিলেই ১০ লাখ টাকা ছাড় দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি ডিসেম্বর মাসব্যাপী আবাসন মেলায় ক্রেতারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শেলটেকের ৪০টির বেশি প্রকল্পে নির্মাণাধীন অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস ক্রয় করার জন্য বুকিং দিলেই পাচ্ছেন এই সুবিধা।

‘শেলটেক আবাসন মেলা ২০২২’ শিরোনামের আবাসন মেলাটি হচ্ছে রাজধানীর ৫৫ পশ্চিম পান্থপথে শেলটেকের প্রধান কার্যালয়ে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

বৃহস্পতিবার এই আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন শেলটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ হোসেন ভূঁইঞা।

তিনি বলেন, ‘শেলটেক দেশে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থপতি ও প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ বান্ধব আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে আধুনিক ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ৩৪ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করায় শেলটেক‌ ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অর্গানাইজেশনের আইএসও সনদ প্রাপ্ত দেশের শীর্ষ আবাসন কোম্পানিগুলোর একটি।’

শেলটেকের হেড অব অপারেশনস শাহজাহানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Remittance will decrease by 5 to 40 percent World Bank

রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবাসী আয় কমার একমাত্র কারণ হচ্ছে অবৈধ হুন্ডি। প্রবাসীদের অবৈধ চ্যানেল অর্থ পাঠানো বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাস ধরে প্রবাসী আয় কমছে। আর এ কারণেই বিশ্বে রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ হিসেবে সপ্তম থেকে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি বলেছে, চলতি ২০২২ সাল শেষে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের তাদের দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সে অঙ্ক দাঁড়াবে ২১ বিলিয়ন (২ হাজার ১০০ কোটি) ডলার। যা হবে ২০২১ সালের চেয়ে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। এই নেতিবাচক প্রবণতা আগামী ২০২৩ সালেও অব্যাহত থাকবে। গত বছর দেশের প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রবাসী আয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘অভিবাসন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (নোমাড) এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর (২০২১ সাল) বাংলাদেশে ২২ দশমিক ২০ বিলিয়ন (২ হাজার ২২০ কোটি) আমেরিকান ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। সেই সুবাদে ওই বছরে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। চলতি বছর শেষে তা ১২০ কোটি বা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার কমে ২১ বিলিয়ন ডলারে রেনে আসবে। আর এতে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১৭৫ কোটি (২১.৭৫ বিলিয়ন) ডলার।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত মার্চ মাসে ২৪ শতাংশ উল্লম্ফন ছাড়া গত দশ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এপ্রিলে ২০১ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে ২০৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সবশেষ অক্টোবর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। অক্টোবরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৪ কোটি ডলার। গত বছরের অক্টোবরে এসেছিল ২১০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। রেমিটেন্সের হ্রাস রোধে সরকার অভিবাসীদের প্রণোদনা দিচ্ছে। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুতের বড় উৎস রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় ৩৫ শতাংশ বাড়লেও প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবাসী আয় কমার একমাত্র কারণ হচ্ছে অবৈধ হুন্ডি। প্রবাসীদের অবৈধ চ্যানেল অর্থ পাঠানো বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাস ধরে প্রবাসী আয় কমছে। আর এ কারণেই বিশ্বে রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ হিসেবে সপ্তম থেকে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ।’

প্রবাসী আয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ নবম

২০২২ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে শীর্ষস্থানে থাকবে ভারত। চলতি বছর দেশটি প্রবাসী আয় পাবে ১০ হাজার কোটি ডলার। গত বছর দেশটি প্রবাসী আয় পেয়েছিল ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে চীনকে ছাড়িয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মেক্সিকো। দেশটি পাবে ৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। গত বছর পেয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া চীনের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০২১ সালে ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে হবে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার নিয়ে চতুর্থ ও ৩ হাজার ২৩৩ কোটি ডলার নিয়ে মিসর পঞ্চম স্থানে থাকবে। ফ্রান্স ষষ্ঠ (৩ হাজার ১০০ কোটি), পাকিস্তান সমপ্ত (২ হাজার ৯০০ কোটি), জামানি অষ্টম (২ হাজার ১১২ কোটি), বাংলাদেশ নবম (২ হাজার ১০০ কোটি ডলার) স্থানে আছে।

মাসে বেড়েছে .৬৫ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৮৭৯ কোটি ৩১ লাখ (৮.৭৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।

সবশেষ নভেম্বর মাসে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। দুই মাস পর প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। আগের দুই মাস সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যথাক্রমে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ এবং ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

আরও পড়ুন:
হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠালে কঠোর ব্যবস্থা
উন্নয়নে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
রেমিট্যান্সে ভাটায় ‘হুন্ডির প্রভাব’, রিজার্ভ আরও কমার শঙ্কা
বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ
ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধনে অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Historically exports have earned more than 5 billion in 1 month on average

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ৫০৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ; রপ্তানি বাণিজ্যে এক মাসে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রাতে রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ৫০৯ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার (৫.০৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলার ১০০ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সরকারের ধরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নভেম্বর মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। এই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪৩৫ কোটি ডলার। গত বছরের নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪০৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মাসেই পণ্য রপ্তানি থেকে এতো বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসেনি। এমনকি ৫ বিলিয়ন ডলারও ছাড়ায়নি। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ৪৯০ কোটি (৪.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

রপ্তানি বাণিজ্যে এই রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। গত মাসে ৪৩৮ কোটি ডলারের বা ৪৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।

নভেম্বর মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

নভেম্বরে উল্লম্ফনের কারণে চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। অক্টোবর শেষে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। নভেম্বর শেষে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।

এক মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি দেশে আসায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমরা কল্পনাও করিনি এই কঠিন সময়ে এই মাইলফল অর্জিত হবে আমাদের। এটা আসলেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি আয় বাড়াটা খুবই দরকার ছিল। এখন রিজার্ভ আবার বাড়তে থাকবে। সরকারের পক্ষে চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে। আমরা সাহস পাবো।’

‘সবাই সম্মিলিতভাবে করোনার মতো যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটও আমরা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করবো’ আশা কথা শুনিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত (নতুন) বাজারেও আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা খুবই ভালো খবর যে, এই কঠিন সময়ে আমরা এক মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তান আয় দেশে এসেছে। এটা আসলে অব্যাহত রাখতে হবে। সেজন্য সরকারি-বেসরকারি খাত যে যার অবস্থান থেকে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এই ইতিবাচক ধারা যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে আর আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্সও কিছুটা বেড়েছে। আইএমএফের প্রথম কিস্তির ঋণটাও ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে রিজার্ভের উপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আর থাকবে না। কোভিডের মতো এই সংকটও মোকাবিলা করতে পারবো।’

এর আগে একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছিল এক বছর আগে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৪৯০ কোটি ৭৭ লাখ (৪.৯০ বিলিয়ন) ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এসেছিল চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৪৮৫ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার (৪.৮৫ বিলিয়ন) ডলার। মার্চে এসেছিল ৪৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ (৪.২৯ বিলিয়ন) ডলার।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ২ হাজার ১৯৪ কোটি ৬০ লাখ (২১.৯৪ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন দেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

২০২১-২২ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।

দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, যুদ্ধের কারণে আমাদের পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণে এখন সেখানকার মানুষদের খাদ্যের জন্য বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় কম দামি পোশাক তাদের কিনতেই হবে। আমরা প্রচুর কম দামি পোশাক রপ্তানি করি। সে কারণে আমার মনে হয় না যে যুদ্ধের কারণে আমাদের রপ্তানিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে।’

‘তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি’ জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকান ক্রেতারা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে অনেক অর্ডর আসছে। তাই আগামী দিনগুলোতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব রপ্তানি আয়ে পড়বে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি খুব একটা কমবে না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও দেশটির অর্থনীতিতে কোনো সংকট নেই। সে কারণে ওই দেশের লোকজন পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে এমনটা আমার কাছে মনে হয় না।

‘তবে যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেখানে আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ২ হাজার ১৯৪ কোটি ৬০ লাখ (২১.৯৪ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন দেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

২০২১-২২ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, যুদ্ধের কারণে আমাদের পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণে এখন সেখানকার মানুষদের খাদ্যের জন্য বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় কম দামি পোশাক তাদের কিনতেই হবে। আমরা প্রচুর কম দামি পোশাক রপ্তানি করি। সে কারণে আমার মনে হয় না যে যুদ্ধের কারণে আমাদের রপ্তানিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে।’

‘তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি’ জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকান ক্রেতারা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে অনেক অর্ডর আসছে। তাই আগামী দিনগুলোতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব রপ্তানি আয়ে পড়বে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি খুব একটা কমবে না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও দেশটির অর্থনীতিতে কোনো সংকট নেই। সে কারণে ওই দেশের লোকজন পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে এমনটা আমার কাছে মনে হয় না।

‘তবে যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেখানে আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

রপ্তানিতে ইতিহাস গড়ে ১ মাসে ৫ বিলিয়নের বেশি আয়

৮৩.৫৩ শতাংশই এসেছে পোশাক থেকে

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই খাত থেকে আয় বেশি এসেছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে প্রায় ৮৩ দশমিক ৫৩ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। যার মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ১০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। লক্ষ্যে চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

অন্যান্য খাত

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, অন্যান্য খাতের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য বড় খাতগুলোর মধ্যে শুধু চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই খাত থেকে জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে এই পাঁচ মাসে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১৮ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। এসেছে প্রায় ১৯ কোটি ডলার।

এছাড়া জুলাই-নভেম্বর সময়ে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে ৪০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বাইসাইকেল ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং হ্যান্ডিক্যাফট রপ্তানি থেকে ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ রপ্তানি আয় কম এসেছে।

আরও পড়ুন:
রপ্তানি আয় নগদায়নে সনদ ইস্যু করতে পারবে এডি শাখা
রেমিট্যান্সে ধাক্কা ও রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমছে রিজার্ভ
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া
রেমিট্যান্সের পর অর্থনীতির চাপ কমাচ্ছে রপ্তানির উল্লম্ফন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
65 organizations received the ICMAB Best Corporate Award

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল ৬৫ প্রতিষ্ঠান

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল ৬৫ প্রতিষ্ঠান বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ২০২১ সালের গভর্ন্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ১৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়।

৬৫ প্রতিষ্ঠানকে বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ২০২১ সালের গভর্ন্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ১৭ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্য সচিব একটা তথ্য দিয়েছিলেন যে গত মাসে আমরা (বাংলাদেশ) রেকর্ড ৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছি। এখানে এসে আমি বিএসইসি চেয়ারম্যানকে বলার পর তিনি আমাকে আরেকটি তথ্য জানালেন। তা হলো গত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ২ বিলিয়ন ডলার।

‘চারদিকে বলাবলি হচ্ছে যে আমাদের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। আমরা পিছিয়ে যাব। আজকে অনেকের কথা শুনেছি৷ তাদের এগিয়ে যাওয়া ও স্বীকৃতির মাধ্যমে বোঝা যায়, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এগিয়ে যাব।’

যারা রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কথা ছড়াচ্ছেন তারা জেগে থেকে ঘুমাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি আইসিএমবি অনেক পুরস্কার পেয়েছে ও পেতে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় তারা নিজেদের শিক্ষার মান বাড়িয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে।

‘আইসিএমএবি আজ স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেনি, নিজেরাও বড় হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম ও ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশ নতুন লেভেলে চলে গেছে। নভেম্বরে রেকর্ড ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। আরও বাড়বে, বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। মাথাপিছু আয় তিন হাজারে চলে গেছে।’

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সামনে কঠিন সময়, এসডিজি ও ভিশন ২০৪১ পূরণ করতে হলে কম্পিটিটিভ হতে হবে। আমাদের সাপ্লাই চেইনে সমস্যা আছে। এ সমস্যা দূর করা জরুরি। গ্যাস বিদ্যুতের স্মুথ সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। এ জন্য সবকিছুর উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে চাইলে সবগুলো আইটেমই কোয়ালিটিসম্পন্ন হতে হবে। বিদেশে যেগুলো যায় সেগুলোর মান নিয়ে কাজ করতে কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দরকার।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কস্ট ম্যানেজমেন্ট সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ভালোভাবে নিয়মমাফিক কাজ করলে এসব প্রতিষ্ঠান আরও ভালো হবে। এসব হবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।’

আইসিএমএবির গুরুত্ব উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, ‘পুঁজিবাজারের দুর্বল কোম্পানির বোর্ডে আইসিএমবিকে সংযুক্ত করছি, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভালো করতে পারবে। এমনকি কিছু ভালো কোম্পানিতেও সংযুক্ত করছি, যাতে তারা আরও ভালো মুনাফা করতে পারে। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আইসিএমএবি যারা প্রফেশনাল তারা অনেকভাবে আমাদের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে পারে। এই পেশাটা বিভিন্ন রকমের অপচয় রোধে কাজ করে থাকে। এলডিসি থেকে উত্তরণ করতে যাচ্ছি আমরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর অবদান অসামান্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সুবিধাই থাকবে না। আমরা জিএসপি প্লাস নিয়ে কাজ করছি। আমেরিকান মার্কেটেও কাজ করছি। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ করছি। এজন্য দক্ষ জনবল দরকার। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমরা ভালো করতে পারব। এ নিয়ে আমি ভীত নই। যারা কস্ট অ্যাকাউন্টে কাজ করছেন তাদের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসায়ীদের সহায়ক হবে।’

আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল আজিজ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনিরুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এবার ১৬৫টি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ২৮টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১৭ বিভাগে তিনটি করে (প্রথম পুরস্কার স্বর্ণ, দ্বিতীয় পুরস্কার রৌপ্য ও তৃতীয় পুরস্কার ব্রোঞ্জ) মোট ৬৫ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হয়।

এ বছর জুরিবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বোর্ডে সদস্য হিসেবে ছিলেন বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ।

আইসিএমএবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাণাধীন পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং পেশার উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রসারের লক্ষ্যে দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি প্রদান এবং এসব বিষয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

১৭ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক: এই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। দ্বিতীয় সোনালী ব্যাংক ও তৃতীয় অবস্থানে আছে রূপালী ব্যাংক।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে ডাচ-বাংলা ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। তৃতীয় পুরস্কারও যুগ্মভাবে পেয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক লিমিটেড।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশন): এই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংক এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অফ বাংলাদেশ লিমিটেড।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। দ্বিতীয় আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন পিএলসি ও লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।

সাধারণ বীমা: বীমায় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন দ্বিতীয় এবং নিটোল ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

লাইফ ইন্স্যুরেন্স: এই ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে সন্ধ্যানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেছে ন্যাশনাল লাইফ ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ।

ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড প্রথম পুরস্কার ঘরে তুলেছে। আরেক শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানি রেনেটা লিমিটেড পেয়েছে দ্বিতীয় পুরস্কার। যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ওরিয়ন ফার্মা ও এসিআই লিমিটেড।

সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং: প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি। দ্বিতীয় হয়েছে এম.আই. সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড।

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং: প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইল। এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট এবং মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

এমএনসি ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি দ্বিতীয় ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেছে।

অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড প্রথম, আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড দ্বিতীয় এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড ও বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেড।

পাওয়ার জেনারেশন, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন: এই ক্যাটাগরিতে সামিট পাওয়ার লিমিটেড প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ডোরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড এবং বারাকা পাওয়ার লিমিটেড।

তেল, গ্যাস ও জ্বালানি: লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড প্রথম, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড দ্বিতীয় এবং এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

এনজিও: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক। দ্বিতীয় অ্যাকশন এইড-বাংলাদেশ। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে সাজিদা ফাউন্ডেশন ও ইউসেপ বাংলাদেশ।

অ্যাগ্রো এবং ফুড প্রসেসিং: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি ও ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স ফুডস লিমিটেড।

ট্রেডিং ও অ্যাসেম্বলি: প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। রানার অটোমোবাইলস পিএলসি পেয়েছে দ্বিতীয় পুরস্কার। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড।

আইটি ও টেলিকমিউনিকেশন: এই ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ পেয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বিডিকম অনলাইন লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
আইসিএমএবির নতুন সভাপতি মামুনুর রশিদ
সামাজিক নিরাপত্তায় আরও বরাদ্দ চায় আইসিএমএবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Entrepreneurs in Wales interested in investing in the IT sector

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ওয়েলসের উদ্যোক্তারা

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ওয়েলসের উদ্যোক্তারা বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে চেম্বারস ওয়েলসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান ওয়েলসের উদ্যোক্তারা। তারা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান ওয়েলসের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ সফররত চেম্বারস ওয়েলসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ‘বাংলাদেশ-ইউকে বিজনেস নেটওয়ার্কিং মিটিংয়ে’ তারা এ আগ্রহের কথা জানান। বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ২০০টি ব্রিটিশ কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যাংকিং, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, ওষুধ ও জ্বালানি প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ করেছে। গত অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি করেছে।’

যুক্তরাজ্যের বাজার বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্রিটেনের বাজারে হিমায়িত খাদ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, বাইসাইকেল এবং পাটপণ্যেরও প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’

ব্রেক্সিট এবং এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অধিকতর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং কম্প্রিহেনসিভ ইকনোমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন ঢাকা চেম্বার সভাপতি।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে এ খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন খাতেও বিনিয়োগের জন্য ওয়েলসের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান রিজওয়ান রাহমান।

চেম্বারস ওয়েলসের নির্বাহী চেয়ারম্যান পল স্লেভিন বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অনুসরণীয় উন্নতি দেখিয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।

‘বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিবর্তনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনেক। তেমনই ওয়েলসের বেসরকারি খাত বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ সম্প্রসারণে আগ্রহী।’

পল স্লেভিন বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তি খাত ও মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্রিটেনের সুদীর্ঘকালের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে তথ্য-প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজে লাগতে পারে।’

ডিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি আরমান হক অনুষ্ঠানে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Money laundering will stop if imports stop by showing prices lower or higher Governor

দাম কম-বেশি দেখিয়ে আমদানি বন্ধ হলে অর্থ পাচার বন্ধ হবে: গভর্নর

দাম কম-বেশি দেখিয়ে আমদানি বন্ধ হলে অর্থ পাচার বন্ধ হবে: গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ফাইল ছবি
আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম যে ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েসিং (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) করে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। আবার কম মূল্য দেখিয়ে এক লাখ ডলার মূল্যের গাড়ি আমদানি করা হয়েছে ২০ হাজার ডলারে। এতে বোঝা যায় বাকি অর্থ তারা হুন্ডির মাধ্যমে দিয়েছে।’

মৌসুমী ইসলাম

বৈদেশিক বাণিজ্যে পণ্যের দাম কম বা বেশি দেখিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘ট্রেড বেজড’ মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

তিনি বলেছেন, ‘আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম যে ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েসিং (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) করে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ রকম ১০০ এলসি বন্ধ করেছি আমরা।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘পোস্ট কোভিড ইন এন ইউক্রেন অ্যান্ড ডিসিসিভ ওয়ার্ল্ড’।

সম্প্রতি আমদানি বাণিজ্য বৃদ্ধির বিপরীতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স সেভাবে বাড়েনি। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের আগস্টে থাকা ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ বুধবার পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়নে নেমে এসেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমদানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের শুরুতেও গড়ে প্রতি মাসে ৮ বিলিয়নের উপরে আমদানি হয়েছে। অক্টোবরে তা চার বিলিয়নের ঘরে নামিয়ে এনেছে সরকার।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে এলসি খুলতে দেয়া হচ্ছে না ব্যবসায়ীদের- এমন অভিযোগের বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘এটি সত্য নয়। আমরা কোনো এলসি বন্ধ করিনি। আমরা প্রাইস কন্ট্রোল (মূল্য নিয়ন্ত্রণ) করছি, যাতে সঠিক দরে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। বিলাসী পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে মাত্র। আপাতত বিলাসী পণ্য কম এলেও সমস্যা হবে না।’

আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘জুলাইয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমে আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা তা দেখতে গত বছর ও এ বছরের অনেক এলসির তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করি। তখন আমরা দেখতে পেলাম ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েসিং করে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এরপর আন্ডার ইনভয়েসিং-এর তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘এক লাখ ডলার মূল্যের গাড়ি আমদানি করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ডলারে। এতে বোঝা যায় বাকি অর্থ তারা হুন্ডির মাধ্যমে দিয়েছে। আর হুন্ডিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রবাসীদের না পাঠানো রেমিট্যান্স।

‘বর্তমানে অতিরিক্ত ও কম মূল্য দেখিয়ে করতে চাওয়া এলসি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তা সংশোধন করে প্রকৃত দরে আমদানি করতে চাইলে এলসি করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।

‘আমরা আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের দর নিয়ে কাজ করছি, যাতে অর্থপাচার বন্ধ হয়।’

ঋণে বেঁধে দেয়া সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ ঋণ সুদ হার নিয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য মেয়াদি ও চলতি মূলধনের ঋণ সুদ হার সীমা ৯ শতাংশ তুলে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এখন তার সঠিক সময় নয়।’

গভর্নর বলেন, ‘সিএমএসএমই খাতে ব্যাংকগুলোকে ২ শতাংশ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এখন তারা কম সুদের তহবিল পাওয়ায় এ খাতে সুদ হার তুলে দেয়ার প্রয়োজন নেই।’

ডলারের দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজার অনুযায়ী হওয়া উচিত। এখন তা বাজারে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ কারণে খোলা বাজারে ১২১ টাকায় উঠে যাওয়া ডলার এখন ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।’

গভর্নর বলেন, ‘রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বড় কারণ হুন্ডি। এজন্য রেমিট্যান্স আনা সহজ করার পাশাপাশি আমদানিতে ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
লায়ন্স ক্লাবের গভর্নর হলেন সিরাজুল হক
নতুন গভর্নরকে বিএসইসির অভিনন্দন
নতুন গভর্নর নিয়োগ পেলেন আব্দুর রউফ তালুকদার
নতুন গভর্নর হচ্ছেন রউফ তালুকদার
করোনায় অর্থপ্রবাহ ঠিক ছিল: গভর্নর ফজলে কবির

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Growth targets may not be met

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে
বিআইডিএসের বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে সাদিক আহমেদ বলেন, ‘করোনা মহামারি-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে  বর্তমানে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো অব্যাহত রাখা ঠিক হবে না। কেননা, এখন প্রবৃদ্ধির দিকে নজর নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে।

বৈশ্বিক মন্দার কারণে চলতি ও আগামী বছর সরকারের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা চিন্তা করলে হবে না। আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে এমন তাগিদ দেয়া হয়। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত তিন দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রায় ৯টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ।

দ্বিতীয় অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এ সময় সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান।

মূল প্রবন্ধে সাদিক আহমেদ বলেন, ‘করোনা মহামারি-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বর্তমানে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো অব্যাহত রাখা ঠিক হবে না। কেননা, এখন প্রবৃদ্ধির দিকে নজর নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেয়া, মুদ্রা বিনিয়ম হার বাজারের হাতে ছেড়ে দেয়া, আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করা এবং এলসি খোলা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। চাহিদার ওপর ছেড়ে দিতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোসহ কাঠামোগত সংস্কার বিশেষ করে একটি কর কমিশন গঠন করা দরকার। কারণ, বাংলাদেশের কর আদায় হার বিশ্বের প্রায় সব দেশের চেয়ে কম। এসব উদ্যোগ নিলে চলতি অর্থবছর হয়তো প্রবৃদ্ধি কমে ৬ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু সেটিও খারাপ হবে না।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘অর্থনীতিতে ইতিবাচক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। জিডিপির তুলনায় কর আদায়কে মন্দ বলা হয়েছে। কিন্তু এত যদি ভয়ংকর অবস্থা হয়, তাহলে ৫-৬-৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় কীভাবে? নিশ্চই রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি কিছু একটা দিয়ে পুষিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজস্ব খাতে বড় উল্লম্ফন আশা করা যায় না। যদিও আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে কর আদায় বাড়ানো। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপর ধরে রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিবিএসর তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কমে এসেছে। আমরা বিবিএস এবং বিআইডিএসের ওপর আস্থা রাখতে চাই।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হবে। কিন্তু এটা অতি সংরক্ষণশীল তথ্য। বুঝতে পারছি না আইএমএফ-এর পূর্বাভাসকে কেন প্রবন্ধে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের চার মাসে অর্থনৈতিক সূচকগুলো ভালো অবস্থানে আছে। তাই এ বছর ৭ শতাংশের উপর অবশ্যই জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৯ ও ৬ এর পরিবর্তে ৯ এবং ১২ শতাংশ পর্যন্ত করা যেতে পারে। এ ছাড়া কর কমিশন গঠন না করে রাজস্ব বোর্ডকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীন করা যায় কিনা সেটি ভাবতে হবে।’

এ সময় তিনি বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের আগের ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রধান সূচকগুলো উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় আছে।’

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘অবৈধভাবে বিদেশে মুনাফা পাচারের কারণে কিছু বড় শিল্প গ্রুপ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ খেলাপি হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে বাববার ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ, সুদ মওকুফ ইত্যাদি সুবিধা দিতে হয়। কিন্তু এর পরিবর্তে সরকার আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানিগুলোর কিছু শেয়ার সমমূল্যে অর্থাৎ শেয়ারপত্রে উল্লিখিত দামে কিনে নিতে পারে। এ ছাড়া ভালো কোম্পানি বাজারে শেয়ার ছাড়লেও সরকার আইন করে তার কিছু অংশও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উল্লিখিত দামে কিনে নিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কর নীতির কিছু বড় পরিবর্তনও বিবেচনা করা যায়। আমাদের দেশে সম্পত্তির উত্তরাধিকারে কর নেই, অথচ শিল্পোন্নত দেশগুলোতে উচ্চ হারে এ ধরনের কর আরোপ করা হয়। অর্থনৈতিক সাম্যের প্রশ্ন আমাদের মতো অর্থনীতির একটি বড় চালিকা শক্তি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা দরকার। বিনিয়োগের বাধা হিসেবে ব্যবসায় পরিবেশের নানা ক্রুটিবিচ্যুতি, বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই তুলনামুলকভাবে এই বৈরি ব্যবসায় পরিবেশের বেশি ভুক্তভোগী।’

আরও পড়ুন:
বেসরকারি ঋণে ১৩.৬৬% প্রবৃদ্ধি নিয়ে শেষ হলো অর্থবছর
বেসরকারি ঋণে ৪১ মাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধিতে নতুন আশা
সংকটের মাঝেও ৭.৫% প্রবৃদ্ধির আশা
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ ছাড়াল
আড়াই বছরে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি মার্চে

মন্তব্য

p
উপরে