× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Dhaka Chamber representatives in Turkey to increase investment
hear-news
player
google_news print-icon

বিনিয়োগ বাড়াতে ঢাকা চেম্বার প্রতিনিধিরা তুরস্কে

বিনিয়োগ-বাড়াতে ঢাকা-চেম্বার-প্রতিনিধিরা-তুরস্কে
সফরে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী মেহমেট মুসের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান সাক্ষাৎ করবেন। সেই সঙ্গে ডিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করবে।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা খুঁজতে ঢাকা চেম্বারের একটি প্রতিনিধি দল দেশটিতে যাচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার ৮৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল তুরস্ক যাবে। দলের নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে নতুন বাণিজ্যের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইস্তাম্বুল সফরের মূল লক্ষ্য।’

ডিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরকালে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিরা ২৮ সেপ্টম্বর বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন ‘ইস্তাম্বুল চেম্বার অফ কমার্স’ আয়োজিত ‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা এবং বিটুটি সেশন’, ২৯ সেপ্টেম্বর ফরেন ইকোনমিক রিলেশন্স বোর্ড অফ টার্কি (ডেইক) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার ও বিটুবি অধিবেশনে অংশ নেবেন।

এ ছাড়া সফরে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী মেহমেট মুসের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান সাক্ষাৎ করবেন। সেই সঙ্গে ডিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করবেন।

বিশেষ করে সেবা, উৎপাদন এবং জেনারেল ট্রেডিং খাতে সহযোগিতা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্ভাবনাময় খাতে জয়েন্ট ভেঞ্চার কার্যক্রম বৃদ্ধিতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ডিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
ফের ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হলেন রিজওয়ান
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা
ঢাকা-হ্যানয় ফ্লাইট চায় ডিসিসিআই
অটোমোবাইলে জাপানি বিনিয়োগ চেয়েছে ‘ঢাকা চেম্বার’
ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজনে সহযোগিতা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Prospects confidence in the banking sector is apprehensive

ব্যাংক খাতে সম্ভাবনা, আস্থা, শঙ্কা

ব্যাংক খাতে সম্ভাবনা, আস্থা, শঙ্কা ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস হিসাবে মনোনীত করে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস ৪ ডিসেম্বর। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে ব্যাংক খাত। তবে ব্যাংক নিয়ে গর্ব করার যেমন নানান দিক আছে, তেমনি আছে লুটপাটের ইতিহাস।

অর্থ ছাড়া কিছু কি চলে? না। বলা যায় অর্থই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। কিন্তু অর্থই অনর্থের মূল– এ কথাটিও যথার্থ। যদি তাই না হয়, তবে অর্থনির্ভর ব্যাংক ব্যবস্থায় কেন পিছু ছাড়বেনা অনিয়ম আর ব্যত্যয়?

প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় আগে এই অঞ্চলে শুরু হয় ব্যাংকের যাত্রা। তখন আর এখন– এ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় প্রশ্নের উর্ধ্বে উঠতে পারেনি ব্যাংকিং কার্যক্রম।

আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস ৪ ডিসেম্বর। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দিনটি পালন করে জাতিসংঘ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে ব্যাংক খাত। তবে ব্যাংক নিয়ে গর্ব করার যেমন নানান দিক আছে, তেমনি আছে লুটপাটের ইতিহাস।

ব্যাংক দিবস

টেকসই উন্নয়নে অর্থায়নে বহুপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে ৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস পালিত হয়।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস হিসাবে মনোনিত করে। এটি ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়। টেকসই উন্নয়নে অর্থায়ন এবং উন্নয়নে ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার স্বীকৃতির জন্য দিবসটি পালিত হয়। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখার দিকটিও গুরুত্ব দেয় সদস্য দেশগুলো।

যাত্রা শুরু ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে

যত দূর তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়, উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক ব্যাংকের নাম ইউনিয়ন ব্যাংক, যার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৮২৯ সালে। এটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। বাণিজ্যিক লেনদেন শুরুর পর এই ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়, যা সেকালেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

১৮৩০ থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতার সবচেয়ে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম ছিল ইউনিয়ন ব্যাংক। ব্যবসায়ী শ্রেণির জন্য মূলধন যোগান, ঋণ বৃদ্ধি, এক্সচেঞ্জ ব্যাংকিং, ব্যাংক নোট ইস্যুকরণ এবং কৃষিজাত পণ্যের মূল্যকে নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল এটি প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য।

দ্বারকানাথ ব্যাংকটির শেয়ার কিনে অংশীদার হন। তবে, ব্যাংক পরিচালনার মূল কর্তৃত্ব তিনি নিজের হাতেই রেখেছিলেন। একসময় নিজের ঘনিষ্ঠজন রমানাথ ঠাকুরকে বানিয়েছিলেন ব্যাংকের কোষাধ্যক্ষ। ব্যাংকের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ থাকার সময়ে তার মালিকানায় ছিল ৭০০ শেয়ার।

ব্যাংকের অন্য পরিচালকরা দ্বারকানাথের ঋণের অনুরোধ ফেরাতে পারছিলেন না। তিনি নিজে তদবির করে জন পালমার অ্যান্ড কোম্পানিকে ৬ লাখ রুপি ঋণ দেন। এই ঋণ ছিল ব্যাংকটির মোট সম্পদের অর্ধেক। ফলে ১৮৩০ সালের জানুয়ারিতে জন পালমার অ্যান্ড কোম্পানি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ইউনিয়ন ব্যাংক শুরুতেই প্রায় দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

নীল চাষে দ্বারকানাথ নিজে যেমন জড়িত ছিলেন, তেমনি ছিলেন এই নীলকর সাহেবদের বড় পৃষ্ঠপোষক, অর্থ-সংস্থানকারী। বিলেতে নীলসহ কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানির হুন্ডি বিল কেনাবেচায় তিনি শুরু থেকেই ইউনিয়ন ব্যাংককে সম্পৃক্ত করেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের ব্যাংক খাত

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুনর্গঠনে হাত দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয়করণ করা হয় ব্যাংকিং খাত।

স্টেট ব্যাংক অব ইস্ট পাকিস্তান রূপান্তরিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক হয়।

জাতীয়করণের মাধ্যমে ১২টি ব্যাংক একীভূত করে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, পূবালী ও উত্তরা - এ ছয়টি সরকারি ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়। এভাবে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমের।

এ ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বাইরে এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোকে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়া হয়। এ ছাড়া শিল্প ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের কার্যক্রমও শুরু করা হয়।

এক দশক পর ১৯৮২ সালে যুক্ত হয় ব্যক্তি মালিকানায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

কালের বিবর্তনে হিসাব খোলা, ঋণ বিতরণ এবং লেনদেনে লেজার খাতার বদলে জায়গা করে নিয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তি বা ডিজিটাল ব্যাংকিং।

ঋণ ও আমানত

১৯৭২-৭৩ সালে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট শাখা সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ২৯৫টি, বর্তমানে সেটা বেড়ে ১০ হাজার ৯৯৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

ওই সময়ে মোট আমানত মাত্র ৭০২ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়ে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ঋণের প্রবৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো। ১৯৭২-৭৩ সালে মোট ঋণ ছিল মাত্র ৫৫৪ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বেসরকারি খাতে।

দেশে এখন ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক ও ৯টি বিদেশি ব্যাংক।

খেলাপি ঋণের পাহাড়

ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবে জাল-জালিয়াতির ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে যেসব অর্থ বেরিয়ে গেছে, সেগুলো এখন আদায় হচ্ছে না। ফলে ওইগুলোকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এক যুগ পরে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি ছয় ব্যাংকের মোট ঋণ ৬০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৬৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত কৃষি, প্রবাসীকল্যাণ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন– এ তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। বিদেশি মালিকানার খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।

অনিয়ম, দুর্নীতি

গত এক যুগে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতির প্রধান ঘটনাগুলোর প্রথমেই রয়েছে সরকারি মালিকানার সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি।

২০১১ সালে হলমার্কসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (হোটেল শেরাটন) শাখা থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। সেই ঘটনার বিচারকাজ এখনও চলছে।

২০১১-১২ সালে বেসিক ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র পায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০১২-১৩ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা, প্রাইম, যমুনা, প্রিমিয়ার ও শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

অ্যাননটেক্স গ্রুপকে জনতা ব্যাংক মাত্র ৬ বছরে ঋণ দেয় ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা।

ভুয়া রপ্তানি নথিপত্র তৈরি করে সরকারের নগদ সহায়তা তহবিল থেকে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা নিয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। ক্রিসেন্টের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

ইউনিয়ন ব্যাংকে শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে কোম্পানি গঠন করে ঋণের বড় অংশই বের করে নিয়েছে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা খেলাপি, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৯৫ শতাংশ।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ২০২১ সাল ভিত্তিক পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে দেখা গেছে, এসআইবিএলের ৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হওয়ার যোগ্য।

পরিচালকদের মধ্যে কোন্দল, ক্রেডিট কার্ডে ডলার পাচার, বড় অঙ্কের সুদ মওকুফসহ নানা কারণে সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংক। ফলে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণও আটকে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংকটিকে উদ্ধারে সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি রাজশাহীকেন্দ্রিক নাবিল গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ও বাকি অর্থ সোশ্যাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে বের করে নেয়া হয়। সব মিলিয়ে এ গ্রুপের নামে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।

অর্থায়ন নিশ্চিত করে ব্যাংক

এক দশক আগেও মোট জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশই ছিল ব্যাংকিং সেবার বাইরে। ঋণের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) বা গ্রাম্য মহাজনই ছিল ভরসা। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক খাতে যুক্ত হয়েছে নিত্যনতুন ব্যাংকিং সেবা।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন যেন একদম হাতের মুঠোয়। ব্যাংকবহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এমএফএস। ২০১১ সালে চালু হওয়া এ সেবা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ১৩টি ব্যাংক।

এরপর এলো এজেন্ট ব্যাংকিং। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ব্যাংকের শাখা খোলা সম্ভব নয়, সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা খুলে কাজ চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এ সেবাটি চালু হয়েছে ২০১৩ সালে। বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেবাটি। দেশের ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে।

এছাড়া রয়েছে বুথ ব্যাংকিং, উপশাখার মতো নিত্যনতুন ব্যাংকিং ধারণা।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকায় চালু করা বিশেষ হিসাবও। কৃষক, অতিদরিদ্র, পথশিশুর হিসাব, স্কুল ব্যাংকিংসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ ব্যাংকে হিসাব খোলার মাধ্যমে সেবার আওতায় এসেছে। ফলে আর্থিক সেবার আওতায় চলে এসেছে ৭০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী।

নতুন করে ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে ভার্চুয়াল ব্যাংক, ডিজিটাল শাখাসহ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বিভিন্ন সেবা।

নানা ধরণের ব্যাংক

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক দেখা যায়। কাজের ধরন, পরিচালনা পদ্ধতি ও নীতিমালার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকম ব্যাংক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেখা যায়।

এদের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, অফশোর ব্যাংক উল্লেখযোগ্য।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আস্থা

ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার পরিধিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা দিতে ব্যাংকগুলোর আলাদা অ্যাপসও রয়েছে।

২০১৮ সালে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক ছিল ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৪ জন। বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৫৮ লাখ ৮৯ হাজার ২২৬ জন। আর লেনদেনও ৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

পাশাপাশি কমছে কাগুজে টাকার ব্যবহারও।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ১ টাকার কাগুজে মুদ্রার প্রচলন হয়। বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকা সরকারি মুদ্রায় অর্থসচিবের সই থাকে।

বাকিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট বা মুদ্রা। প্রচলিত ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সই থাকে।

তবে ক্রমান্বয়ে কাগুজে টাকার ব্যবহার কমে বিকল্প হয়ে উঠছে কার্ড, ইন্টারনেট, মোবাইল ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা মোট ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৭টি। সারা দেশে এটিএম বুথ রয়েছে ১৩ হাজার ২১০টি।

তবে বাংলাদেশে এসব লেনদেন এখনও মূলত রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। অবশ্য ব্যাংকগুলো কার্ডের গ্রাহক বাড়াতে কমবেশি চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও সময় সময়ে তাদের নীতি-সহায়তা দিচ্ছে।

বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের কোনো ব্যাংক নেই। মার্জার বা একুইজিশন করে একটা বড় ব্যাংক করা যেতে পারে। দু’একটি বড় ব্যাংক থাকলেও সেখানে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবসে ব্যাংক খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার যে চ্যালেঞ্জ সেটা করার কোনো উদ্যোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক খাতে একটা অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যাংকের অবস্থা খারাপ না হলেও ব্যাংকের প্রতি অনাস্থার অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।’

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে গভর্নেন্সে (সুশাসন) বিশাল সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যা ব্যাংক খাতের প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলবে। ’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতের আকার বড় হলেও প্রযুক্তিগতভাবে আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায়ও জোর দিতে হবে। সাইবার হামলা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সাইবার হামলা সব দেশেই হয়। আমাদের এখানেও হয়েছে, আগামীতেও হবে। এ জন্য এসব বিষয়ে প্রস্তুতি আগে থেকে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আর্থিক সেবা খাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স
গুলশানে এক্সিম ব্যাংক টাওয়ার শাখা উদ্বোধন
কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ব্যাংকের বিশাল ক্ষতি হয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান
পরিবেশের উন্নয়নে ২৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
রেমিট্যান্স কমবে ৫.৪০ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Finance received the award for excellence in the financial services sector

আর্থিক সেবা খাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স

আর্থিক সেবা খাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে পুরস্কৃত করেছে ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার সন্ধ্যায় ১৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে পুরস্কৃত করে আইসিএবি। তালিকায় আর্থিক সেবা খাতে আবারও সেরাদের কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড।

আবারও আর্থিক সেবা খাতে আবারও সেরাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড। ২০২১ সালে সেরা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে পুরস্কৃত করেছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

গতবারের মতো আর্থিক সেবা খাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ খাতে প্রথম হয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড আর তৃতীয় হয়েছে আইপিডিসি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির হাত থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পক্ষে দ্বিতীয় সেরার পুরস্কার নেন প্রতিষ্ঠানটির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ।

এ বিষয়ে কায়সার হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতির বহিঃপ্রকাশ আবারও আইসিএবি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি। এটা অদূর ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, আইসিএবির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসাইন এফসিএ প্রমুখ।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছে সরকারি ব্যাংক খাতের জনতা ও সোনালী ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংক ক্যাটাগরিতে ব্যাংক এশিয়া-শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক-মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কৃত হয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে রয়েছে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রেকিট ব্যাংকিজিয়ার। ইনস্যুরেন্স খাতে পুরস্কৃত হয়েছে গ্রীণ ডেল্টা-রিল্যায়েন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

ডাইভারসিফায়েড হোল্ডিংস খাতে এসিআই লিমিটেড, কমিউনিকেশন ও আইটি খাতে রবি ও গ্রামীণফোন পুরস্কার পেয়েছে।

পাবলিক সেক্টরে পুরস্কার পেয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড। এনজিওতে ব্র্যাক, কোডেক, সাজিদা ফাউন্ডেশন, সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস এবং শক্তি ফাইন্ডেশন রয়েছে।

সার্ভিস সেক্টরে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট , করপোরেট গভর্ন্যান্সে ব্যাংক এশিয়া, আইডিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কৃত হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সামিট পাওয়ার ও ইউনাইটেড পাওয়ার এবং অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতে পুরস্কৃত হয়েছে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’: তদন্ত চেয়ে দুই সংস্থাকে চিঠি
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ইসলামী ব্যাংকের ‘অর্থ লোপাট’ নিয়ে রিটের পরামর্শ হাইকোর্টের
‘শক্তিশালী ব্যাংকের’ স্বীকৃতি পেল ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞা ৮ প্রতিষ্ঠানের ঋণে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
KSRM 8th Golf Tournament completed

কেএসআরএম অষ্টম গলফ টুর্নামেন্ট সম্পন্ন

কেএসআরএম অষ্টম গলফ টুর্নামেন্ট সম্পন্ন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে শুক্রবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম। ছবি: সংগৃহীত
সমাপনী অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা কেএসআরএম-এর সহযোগিতায় এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকি। এটা অত্যন্ত আনন্দের ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। আশা এ সম্পর্ক আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে অষ্টম গলফ টুর্নামেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাটিয়ারি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএম-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. জসিম উদ্দিন, বিজনেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের মহাব্যবস্থাপক কর্নেল (অব.) মো. আশফাকুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) সৈয়দ নজরুল আলম, ভাটিয়ারি গলফ অ্যান্ড কাট্রি ক্লাবের ভাইস প্রসিডেন্ট (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম এবং কেএসআরএমের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা কেএসআরএম-এর সহযোগিতায় এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকি। এটা অত্যন্ত আনন্দের ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। এজন্য কেএসআরএম কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা করি এ সম্পর্ক আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

আঞ্চলিক পর্যায়ের এসব গলফ টুর্নামেন্ট জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএমের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (ব্র্যান্ড) শাহেদ পারভেজ, উপ-ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান রিয়াদ, সহকারী ব্যবস্থাপক ডেনিয়েল দেওয়ান, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজান উল হক, মিথুন বড়ুয়া, মিজানুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

শেষে টুর্নামেন্টে ১৭০ প্রতিযোগী গলফারের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয় এবং র‌্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
দুই বলে হ্যাটট্রিক, ইতিহাস গড়লেন আমেরিকার পেইসার
খেলাধুলায় বন্ধুত্বের বন্ধনে মিলিত
শেষ হলো কেএসআরএম গলফ টুর্নামেন্ট
দেশে প্রথমবারের মতো ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট
শেষ হলো পুলিশ কমিশনারস টেনিস টুর্নামেন্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Gold prices hit a record high of 87000 rupees

স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ভরি ৮৭ হাজার টাকা ছাড়াল

স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ভরি ৮৭ হাজার টাকা ছাড়াল
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। রোববার থেকে সারা দেশে এই দরে স্বর্ণ বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। রোববার থেকে সারা দেশে এই দরে স্বর্ণ বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।

শনিবার রাতে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয় স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও প্রায় একই হারে বাড়ানো হয়েছে।

এ নিয়ে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্র‌তি ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ালো তিন হাজার ৩৩ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভ‌রি এই স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা, যা এত দিন ৮৪ হাজার ২১৪ টাকা ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই প্রতি ভরি সোনা এতো বেশি দামে বিক্রি হয়নি।

টানা তিন দফা কমানোর পর গত ১২ নভেম্বর মূল্যবান এ ধাতুর দাম ভরিতে দুই হাজার ৩৩৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। যা ১৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ছয় দিনের মাথায় ১৭ নভেম্বর ভরিতে এক হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়। শনিবার আরও তিন হাজার ৩৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা এলো।

নতুন দাম অনুযায়ী, রোববার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ভরিতে বাড়ানো হয়েছে এক হাজার ৬৩২ টাকা; বিক্রি হবে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৭১ হাজার ৩৮৪ টাকা করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৯ হাজার ৪৮৬ টাকা।

এর আগে সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা পরের দিন ১৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ওই দাম অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৮৪ হাজার ২১৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার ৩৬৫ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ৫৬ হাজার ৬৮৭ টাকা।

এরও আগে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় গত ২৪ অক্টোবর, যা ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। ওই সময় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ৮০ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৭৬ হাজার ৫১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৬৫ হাজার ৫৫২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৫৪ হাজার ৩৫৪ টাকা।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা অপরিবর্তিত আছে।

আরও পড়ুন:
বৈধ জুয়েলারি থেকে গহনা কেনার পরামর্শ বাজুসের
বাজুস সদস্য ছাড়া স্বর্ণালংকার না কেনার পরামর্শ
৩ নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দিল বাজুস
বাজুসের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Many of the wealthy are not paying income tax NBR

সামর্থ্যবানদের অনেকে দিচ্ছেন না আয়কর: এনবিআর

সামর্থ্যবানদের অনেকে দিচ্ছেন না আয়কর: এনবিআর ট্যাক্স গাইড ২০২২-২৩ প্রকাশ করেছে ডিসিসিআই। ছবি: নিউজবাংলা
‘বর্তমানে দেশে টিআইএন-ধারীর সংখ্যা ৮৩ লাখ। অথচ গত অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ৩০ হাজার। দেশে আয়কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ, বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কর ব্যবস্থাপনার বাইরে রয়ে গেছে।’

দেশে আয়কর দিতে সক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। তবে এর বড় একটি অংশ করের আওতার বাইরে বলে জানিয়েছেন এনবিআর সদস্য (আয়কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কাস্টমস্, ভ্যাট অ্যান্ড ইনকাম ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসিসিআই বিগত বছরের ন্যায় এ বছর ‘ট্যাক্স গাইড ২০২২-২৩’ প্রকাশ করেছে। এতে আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস আইনের বিস্তারিত বিবরণী তুলে ধরা হয়েছে।

ডিসিসিআিই বলেছে, এই গাইডটি চেম্বারের সদ্যেসের পাশাপাশি দেশের সকল ব্যবসায়ীর কাজে লাগবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। আর সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা অব্যাহত থাকবে।

নিবন্ধনের চেয়ে করদাতার সংখ্যা কম, এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে টিআইএন-ধারীর সংখ্যা ৮৩ লাখ। অথচ গত অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ৩০ হাজার। এটি মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।

‘চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু সেবা গ্রহণে রিটার্ন-এর সাথে প্রমাণপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে আশা করা যাচ্ছে রিটার্নের সংখ্যা অনেক বাড়বে। আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এনবিআর সকল কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উপর জোর দিচ্ছে। এর ফলে জনগনের ভোগান্তি কমবে এবং রাজস্ব আহরণের হার বৃদ্ধি পাবে।’

দেশে আয়কর প্রদানে সক্ষম লোকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ, এমন তথ্য জানিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কর ব্যবস্থাপনার বাইরে রয়ে গেছে। কর-জাল সম্প্রসারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সারাদেশে কর অঞ্চলের অফিস বাড়ানোসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে করদাতার সংখ্যা আরও বাড়বে।’

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘কোম্পানীর রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য আয়কর ও ভ্যাট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। এটা জানা থাকলে একজন উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক কর্মকান্ড সফলভাবে পরিচালনা ও কৌশল নির্ধারন সহজ হয়।

‘চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর-জাল বৃদ্ধির জন্য ৩৮টি ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভ্যাটের কেন্দ্রীয় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, স্থানীয় পর্যায়ে কেমিক্যাল উৎপাদনে ৬ শতাংশ ভ্যাট ছাড়, মূসক ফরমে পরিবর্তন এবং কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে ভ্যাট বৃদ্ধিসহ বেশকিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের অবশ্যই অবগত থাকতে হবে।’

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আরমান হক।

কর্মশালায় দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই’র কাস্টমস্, ভ্যাট অ্যান্ড এনবিআর বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ বড়ুয়া ও যুগ্ম-আহবায়ক এমবিএম লুৎফুল হাদী।

আরও পড়ুন:
আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস
শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমার হিড়িক, সময় বাড়তে পারে
রিটার্ন জমা পড়েছে ৯ লাখ, অনলাইনে সাড়া কম
ভুয়া আয়কর রিটার্ন শনাক্ত করা যাবে সহজে 
আয়কর রিটার্ন দ্বিগুণ করতে চায় এনবিআর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Banglalink Development agreement to enjoy the World Cup in Toffee

টফিতে বিশ্বকাপ উপভোগে বাংলালিংক-বিকাশ চুক্তি

টফিতে বিশ্বকাপ উপভোগে বাংলালিংক-বিকাশ চুক্তি সম্প্রতি বিকাশের প্রধান কার্যালয়ে আবদুল মুকিত আহমেদ ও মাহফুজ সাদিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি: সংগৃহীত
বিকাশের প্রধান কার্যালয়ে টফির ডিজিটাল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক আবদুল মুকিত আহমেদ এবং বিকাশের চিফ কমিউনিকেশন্স অফিসার মাহফুজ সাদিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে সরাসরি দেখার সুযোগ করে দিতে বাংলালিংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বিকাশ।

গ্রাহকরা বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’তে বিকাশের মাধ্যমে ডাটা প্যাকেজ কিনে বা রিচার্জ করে সরসারি খেলা উপভোগ করতে পারবেন। বিজ্ঞাপন-মুক্ত খেলা দেখতে প্রিমিয়াম প্যাকেজও সাবস্ক্রাইব করতে পারেন বিকাশ পেমেন্টে।

সম্প্রতি বিকাশের প্রধান কার্যালয়ে টফির ডিজিটাল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক আবদুল মুকিত আহমেদ এবং বিকাশের চিফ কমিউনিকেশন্স অফিসার মাহফুজ সাদিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে বিকাশ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীরসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এর ফলে, বিশ্বকাপজুড়ে টফি অ্যাপে প্রবেশ করলেই গ্রাহকেরা প্রতিটি ম্যাচের আগে মোবাইলে ডাটা আছে কিনা সেই নোটিফিকেশন পাবেন। এমনকি, খেলার মাঝে ডাটা ফুরিয়ে গেলে মুহূর্তেই বিকাশে মোবাইল ডাটা রিচার্জ করে নির্বিঘ্নে খেলা দেখতে পারবেন।

বিকাশে পেমেন্টের মাধ্যমে গ্রাহকেরা ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকার ৩ থেকে ৩০ দিন মেয়াদি বিভিন্ন প্রিমিয়াম প্যাকেজ সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে টফির ডিজিটাল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক আবদুল মুকিত আহমেদ বলেন, ‘টফি ব্যবহারকারীদেরকে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে উপভোগের সুযোগ দিতে আমরা বিকাশ-এর সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা দ্রুত ডাটা কিনে নিরবচ্ছিন্ন লাইভস্ট্রিমিংয়ের অভিজ্ঞতা পাবে। ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ নিয়ে এসেছি।’

বিকাশের চিফ কমিউনিকেশন্স অফিসার মাহফুজ সাদিক বলেন, ‘পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী আর বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপ দেখা বরাবরই আনন্দের। তবে আজকাল কর্মব্যস্ত জীবনে, ছোট পরিবারে ঘরে ফিরে সেভাবে আর টিভির সামনে বসে খেলা দেখা হয়ে ওঠে না। যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকেই মোবাইলে বা অন্য ডিজিটাল ডিভাইসে সরাসরি এবারের বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলালিংকের টফি।’

তিনি বলেন, ‘বিকাশ এই উদ্যোগের সঙ্গে থেকে গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক ডাটা প্যাকেজ কিনে নিরবচ্ছিন্ন খেলা দেখার সুযোগ তৈরি করছে।’

এবার কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ এর ম্যাচগুলো দেখানোর ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একমাত্র স্বত্ব পেয়েছে বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’। জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মে খেলা ছাড়াও মুভি, নাটক, ওয়েব সিরিজ এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেল লাইভ দেখতে পারেন গ্রাহক।

আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপ: টিভিতে ২২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়
আর্জেন্টিনার এক দিন পর বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের
মেসির গ্রুপে লেওয়ানডোভস্কি, কঠিন গ্রুপে ব্রাজিল
কাতার বিশ্বকাপের ম্যাসকট লায়িব
বিশ্বকাপের থিম সং ‘হায়্যা হায়্যা’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
FBCCI signs deal with CNN at Business Summit March

এফবিসিসিআই’র বিজনেস সামিট মার্চে, সিএনএনের সঙ্গে চুক্তি

এফবিসিসিআই’র বিজনেস সামিট মার্চে, সিএনএনের সঙ্গে চুক্তি গুলশানে বেক্সিমকো কার্যালয়ে শনিবার এফবিসিসিআই ও সিএনএন-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি: নিউজবাংলা
এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‌‘এই সামিটের আন্তর্জাতিক মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সিএনএনের সঙ্গে আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তারা আমাদের এই অনুষ্ঠানের খবর বিশ্বব্যাপী প্রচার করবে।’

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে আগামী বছরের মার্চে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট-২০২৩’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে এই সম্মেলনের ব্যাপকভিত্তিক প্রচারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটি।

এই চুক্তির আওতায় চলতি ডিসেম্বর মাস থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালাবে সিএনএন।

গুলশানের বেক্সিমকো কার্যালয়ে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের উপস্থিতিতে এই স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এফবিসিসিআইর পক্ষে সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সিএনএনের পক্ষে ‍প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক (সেলস) অভিজিৎ ধর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এই বিজনেস সামিট-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বিগত বছরের সফলতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এই আয়োজন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং আগামীর উন্নয়ন সম্ভাবনার কথাও এই সামিটে তুলে ধরা হবে।’

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‌‘টেক্সটাইল, গ্রিন ইকোনমি, সার্কুলার ইকোনমি ইত্যাদি সম্ভাবনাময় খাতের প্রদর্শনী করা হবে এই সামিটে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য রিলোকেশনের সুযোগ তৈরি হবে।

‘সামিটে বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়ীসহ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা ব্যবসায়ীদের সম্মানিত করা হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‌‘এই সামিটের আন্তর্জাতিক মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সিএনএনের সঙ্গে আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তারা আমাদের এই অনুষ্ঠানের খবর বিশ্বব্যাপী প্রচার করবে।

‌‘এই আয়োজনে ডব্লিউটিও’র ডিজি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড কমিশনার, জেটরো চেয়ারম্যান, বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিইও এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন ৩০টির বেশি দেশের মন্ত্রীসহ সেসব দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হবে।’

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, সালাউদ্দিন আলমগীর, পরিচালক সৈয়দ সাদাত আলমাস কবির, আনোয়ার উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), আবুল কাসেম খান, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শীতার্ত মানুষের পাশে এফবিসিসিআই
ব্যয় বাড়ায় ব্যবসা হারাচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠান
পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের
ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ চান নারী উদ্যোক্তারা
কৃষিপণ্য ও মৎস্য রপ্তানি সম্ভাবনায় এফবিসিসিআই-ইউএসডিএর সমঝোতা

মন্তব্য

p
উপরে