× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Big fall in gold prices has little effect on the world market
hear-news
player
google_news print-icon

স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে, দেশে প্রভাব সামান্য

স্বর্ণের-দামে-বড়-পতন-বিশ্ববাজারে-দেশে-প্রভাব-সামান্য
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন স্বর্ণের দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছেই। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৩ ডলার ৯০ সেন্টে নেমে এসেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর টানা পড়ছে। এই দর দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ১ হাজার ৬৫০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

তবে বিশ্ববাজারে যে হারে স্বর্ণের দর কমছে, দেশের বাজারে সে হারে কমছে না। এমনকি পড়তির বাজারেও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হলেও দেশের বাজারে কেন কমছে না- এ প্রশ্নের উত্তরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, বাজারে গোল্ডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে গোল্ড আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার, প্রথম দিকে কয়েকজন কিছু আমদানি করলেও এখন আর কেউ করে না। কারণ শুল্ক, ভ্যাটসহ আমদানির খরচ অনেক বেড়ে যায়। সে দামে বিক্রি করলে স্বর্ণের ভরি ৯০ হাজার টাকা বেশি হবে। অন্যদিকে এখন ব্যাগেজ রুলসের আওতায়ও কম গোল্ড আসছে।’

‘সে কারণে আমাদের স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গোল্ডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি কমলেও তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দেশের বাজারে কমাতে পারছি না।’

‘আমরা প্রতি ভরি গোল্ড বিক্রি করে মাত্র ১ হাজার টাকা লাভ করি’ হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তেজাবি স্বর্ণ আমদানি করা হয় না। এটি দেশেই পাওয়া যায়। এই স্বর্ণ একেবারে পিওর বা ১০০ শতাংশ খাঁটি। আমাদের তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ীরা সারা দেশ থেকে পুরোনো স্বর্ণ কিনে সেগুলো মেশিনে মাধ্যমে খাদ বাদ দিয়ে যে স্বর্ণ আলাদা করে, সেটাকেই পিওর বা ১০০ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ বলে। এটাকে আমরা তেজাবি স্বর্ণ বলি। এই স্বর্ণের দামই অনেক বেড়ে গেছে। যেহেতু আমদানি নেই, ব্যাগেজ রুলসের আওতায়ও কম আসছে, সে কারণে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এখন আর গোল্ড বিক্রি করতে পারছি না।’

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছে। গত ১২ আগস্ট প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮০১ ডলার ৮২ সেন্ট। সেখান থেকে কমতে কমতে এখন ১ হাজার ৬৫০ ডলারেরর নিচে নেমে এসেছে। এ হিসাবে দেড় মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ১৫৮ ডলার।

গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৩১ ডলার ৬৬ সেন্ট। এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১০৮ ডলার বা ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন স্বর্ণের দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

এতে ১১ সেপ্টেম্বর সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে নতুন উচ্চতায় ওঠে স্বর্ণের দাম। সে সময় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা করা হয়। এর আগে দেশের বাজারে স্বর্ণের এত দাম দেখা যায়নি।

অবশ্য এই রেকর্ড দাম স্পর্শ করার পর সম্প্রতি দুই দফা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর মধ্যে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে ৬৭ হাজার ৪১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫৮৩ টাকা কমিয়ে ৫৫ হাজার ৮৭১ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে এই ধাতু।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেনে হামলার পর বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে স্বর্ণের দর। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর গত কয়েক মাসে কয়েক দফা ওঠা-নামা করে। তবে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কমছেই।

আরও পড়ুন:
৭২ ভরি স্বর্ণ চুরি, তিন সপ্তাহে ধরে ফেলল পুলিশ
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ৮৪ হাজার ৫৬৪
‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ’
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় কমল স্বর্ণের দাম
গোলাগুলিতে পালাতে গিয়ে স্বর্ণ চোরাকারবারির মৃত্যু, আটক ২

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Chittagong port stalled due to shipping strike

নৌযান ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর

নৌযান ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিক ধর্মঘটের প্রথম পড়বে। তবে কনটেইনার জাহাজ বা কনটেইনার কার্গোতে কোনো সমস্যা নেই। আউটার অ্যাংকরেজ (বহির্নোঙর) থেকে পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ আছে।’

সারা দেশে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দরে জাহাজের পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। অচলাবস্থার দেখা দিয়েছে বহির্নোঙরেও।

শনিবার রাত থেকে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হয়। রোববার সকাল থেকে বন্দরে লাইটারেজর জাহাজে লোড-আনলোড, সেইলিংসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ নবী আলম বলেন, ‘নৌযান শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে এই ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। রাতে কিছু কিছু শ্রমিক কাজ করলেও সকাল থেকে পুরোপুরি ধর্মঘট চলছে।’

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি হলো নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক দেয়াসহ সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা।

এ ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌ-পথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ করা।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেয়াসহ ভারতীয় সীমানায় হয়রানি বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সব লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে নৌ-শ্রমিকদের এই ধর্মঘট চলবে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিক ধর্মঘটের প্রথম পড়বে। তবে কনটেইনার জাহাজ বা কনটেইনার কার্গোতে কোনো সমস্যা নেই। আউটার অ্যাংকরেজ (বহির্নোঙর) থেকে পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ আছে।’

এর আগে ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান ও পতেঙ্গা থানার ওসিকে প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবিতে বন্দর নগরীতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালন করেন লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ছে দেড়গুণ
চট্টগ্রাম-ইতালি সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ ফেব্রুয়ারিতে
এলসিএল কনটেইনার ডেলিভারিতে নানা সংকট
কনটেইনার ধারণক্ষমতা বাড়ল চট্টগ্রাম বন্দরের
পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের রেকর্ড

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
90 percent of the tax comes from Dhaka and Chittagong

করের ৯০ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে

করের ৯০ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে শনিবার গুলশান ক্লাবে ‘শতবর্ষে আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে অনেক জেলা শহরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে কর আহরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওই সব জেলার সামর্থ্যবানদের কর-জালে আনতে হবে। এ জন্য এনবিআরের সক্ষমতা ও জনবল বাড়াতে হবে।’

দেশে বছরে যে পরিমাণ আয়কর আদায় হয় তার ৯০ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সংগৃহীত হয় অন্যান্য জেলা থেকে।

শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘শতবর্ষের আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এ তথ্য জানিয়েছেন স্নেহাশীর্ষ বড়ুয়া এফসিএ।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ-আইবিএফবি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত আয়করের ৭৪ শতাংশই আদায় হয় রাজধানী ঢাকা থেকে। আর ১৬ শতাংশ আসে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে। বাকি অংশ আহরণ হয় সারা দেশ থেকে।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে অনেক জেলা শহরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে কর আহরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আওতা বাড়াতে হলে ওই সব জেলার সামর্থ্যবানদের কর-জালে আনতে হবে। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা ও জনবল বাড়াতে হবে।

গত অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক মিলে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়করের অংশ ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় হয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে।

বর্তমানে আয়করের অংশ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে করের পরিমাণ জিডিপির ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ফলে আগামী দিনে আয়কর আহরণ বৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমানে ৮৬ উপজেলায় আয়কর অফিস আছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও জনবলের অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে সামর্থ্যবানদের করনেটে আনা যাচ্ছে না। আওতা বাড়াতে হলে মাঠপর্যায়ে কর বিভাগের সম্প্রসারণ জরুরি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন পর্যন্ত টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৫ লাখ। অর্থাৎ নিবন্ধিত করদাতার ৬৫ শতাংশই রিটার্ন জমা দেননি।

অনুষ্ঠানে আইবিএফবির সভাপতি হুমায়ন রশিদ জানান, প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় ২২ লাখ লোক। আর ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে জমা পড়ে ২৩ লাখ।

আয়কর আদায় ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত হওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি কারণের কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত, কর আদায় বাড়ানোর জন্য এনবিআরের যে ধরনের কাঠামো বিস্তৃত করা দরকার সেভাবে করা হয়নি।

জ্যেষ্ঠ এই গবেষক আরও বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদ দিয়ে অন্যান্য জেলা শহরে কর আহরণের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও তা আদায় করতে পারছে না এনবিআর। সব জেলা শহরে বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন, অনেক পেশাজীবী আছেন, যাদের আয় অনেক। এদের অনেকেই এখনও করনেটের বাইরে। শুধু তা-ই নয়, উপজেলা পর্যায়েও কর আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সামর্থ্যবানদের সবাইকে নেটে আনতে পারলে কর আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
সম্ভাবনার প্রযুক্তি খাতে নানা সমস্যা, সমাধানের তাগিদ
বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে পদ্মা সেতু: প্যাট্রিক
বড় প্রকল্পে হংকংয়ের বিনিয়োগ চায় সরকার
‘প্রাসাদ বানালেন অথচ ভিতরে নড়বড়ে, লাভ নেই’
‘অর্থনীতিতে অবিচারের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Fire safety of the building is mandatory

ভবনের ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলক

ভবনের ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলক অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০২২-এর অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, দেশের কোম্পানিগুলো ফায়ার সেফটি ও কমপ্লায়েন্স মেনে চলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। বিশ্বের ১০টি গ্রিন কারখানার ৮টি এখন বাংলাদেশে। যার ফলে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, উৎপাদন বেড়েছে এবং আমরা বেশি রপ্তানি করতে পারছি।

দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, ফায়ার সেফটি ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ করা হলে তা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হবে না। এখন থেকে যে ভবনগুলো হবে সেগুলোতে ফায়ার সেফটি থাকতেই হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুক্রবার রাতে ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০২২-এর ‘সেফটি এক্সিলেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘দেশের কোম্পানিগুলো ফায়ার সেফটি ও কমপ্লায়েন্স মেনে চলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। বিশ্বের ১০টি গ্রিন কারখানার ৮টি এখন বাংলাদেশে। যার ফলে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, উৎপাদন বেড়েছে এবং আমরা বেশি রপ্তানি করতে পারছি।

‘এখন ফায়ার সেফটি পণ্য বেশির ভাগই আমদানি করা হচ্ছে। দেশে ১০০ ইকোনমিক জোন হচ্ছে, সেখানে ফায়ার সেফটি পণ্য উৎপাদন করা যেতে পারে। এ জন্য আগ্রহীদের ইকোনমিক জোনে প্লট পেতে সহযোগিতা করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ৩২টি উপজেলায় নতুন করে ফায়ার সার্ভিসের ডিপো স্থাপন করা হয়েছে। এটা দেশের বড় অর্জন। এখন দেশে ফায়ার সেফটি সনদ না থাকলে সেই ভবন ব্যবহারের অনুমতি দেবে না রাজউক বা সিটি করপোরেশন।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ‘ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রয়োজনীয়তা বুঝে আমরা সেফটি কাউন্সিল গঠন করেছি। ইনডোর-আউটডোর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’

ফায়ার সেফটি পণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমানোর দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) অগ্নিনিরাপত্তা সঠিকভাবে বজায় রাখায় ৯টি কোম্পানিকে পুরস্কৃত করে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণে নিহত ফায়ার ফাইটারদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ১৩টি ক্রেস্ট দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম, ইএসএসএবি সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর, সিনিয়র সহসভাপতি নিয়াজ আলী চিশতি, মহাসচিব মাহমুদুর রশীদ, প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে পোশাক কারখানার গুদামে আগুন
মানববন্ধনে তাজরীন ট্র্যাজেডিসহ শ্রমিক ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার দাবি
চট্টগ্রামে বাটার শোরুমের আগুন নিয়ন্ত্রণে
চীনে কারখানায় আগুন, নিহত ৩৬
আগুনে দগ্ধ ছেলের মৃত্যু, বাবার মামলায় মা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The new law does not allow money laundering

‘নতুন আইনে টাকা সাদা করার সুযোগ নয়’

‘নতুন আইনে টাকা সাদা করার সুযোগ নয়’ কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে অনৈতিক মনে করেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রচলিত আইনে কর্মকর্তাদের ‘ঐচ্ছিক ক্ষমতা’ অত্যধিক। সে কারণে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ বিধান বাতিল করে নতুন আয়কর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘জাতীয় বাজেটে বার বার কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দেয়া হয়েছে অনৈতিক। ক্রাইম বা অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় অবৈধ হলেও আইন করে সেই আয়কেই বৈধতার সুযোগ দিয়েছে সরকার, যা অন্যায়।’

শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তারা নতুন আয়কর আইনে সুযোগটি না রাখার দাবি জানিয়েছেন।

‘শতবর্ষে আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অফ বাংলাদেশ-আইবিএফবি।

নতুন আয়কর আইনটি যাতে ব্যবসা-বান্ধব ও গতিশীল হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রচলিত আইনে কর্মকর্তাদের ‘ঐচ্ছিক ক্ষমতা’ অত্যধিক। সে কারণে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ বিধান বাতিল করে নতুন আয়কর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

একইসঙ্গে আয়কর আহরণ আরও বাড়াতে এসএমই খাতকে বেশি কর প্রণোদনা, করদাতাদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পুনরায় ট্যাক্স ওমবুসমেন্ট বা কর ন্যায়পাল চালু, উৎসে করের হার কমানোর পরামর্শ দেন তারা।

সেমিনারে বক্তব্য দেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাছান আরেফিন, সাবেক সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, এনবিআরের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আলমগীর হোসেন, আইবিএফবির সহ-সভাপতি অর্থনীতিবিদ এম এ সিদ্দীক, এফবিসিসিআইর পরিচালক আব্দুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া এফসিএ। সঞ্চালনা করেন আইবিএফবির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান।

মূলত বিদ্যমান আয়কর আইনটি ১৯২২ সালে প্রণীত, যা পরবর্তীতে কয়েক দফা সংশোধন হয়েছে। ওই আইনের পরিবর্তে নতুন আয়কর আইন করছে সরকার।

‘নতুন আইনে টাকা সাদা করার সুযোগ নয়’
শনিবার গুলশান ক্লাবে ‘শতবর্ষে আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

অনুষ্ঠানে সবার অংশগ্রহণে নতুন আয়কর আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেন হাছান আরেফিন।

করদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

এনবিআরের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কর্মকর্তাদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। কর্মকর্তাকে বুঝতে হবে যে যিনি কর দেন তিনি কষ্ট করে আয় করেন। সুতরাং এমন আচরণ করা যাবে না যাতে করদাতা অসম্মানিত হন।’

করদাতাদের সুবিধার্থে পুনরায় কর ন্যায়পাল চালু ও কর বিভাগ সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।

আলমগীর হোসেন মনে করেন, দেশে কর কম আদায়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। তিনি বলেন, ‘করদাতাদের সুবিধার জন্যই স্বনির্ধারণী পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতাদের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। বেসরকারি খাত ও করদাতাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন আয়কর আইন করা হচ্ছে।’

এম এ সিদ্দীক বলেন, ‘ক্রিমিনাল বা অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় অবৈধ হলেও সরকার এই আয়কে বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে। আমরা আর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চাই না। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে প্রকারান্তরে দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করছে সরকার।’

আইবিএফবির এই সহ-সভাপতি আরও বলেন, ‘এসএমই খাত হচ্ছে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। অথচ বিদ্যমান করনীতি এই খাতের পরিপন্থী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে কীভাবে? উদ্যোক্তারা কীভাবে উৎসাহিত হবেন?’

মূল প্রবন্ধে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, দেশে টিআইএন বাড়লেও গড় কর আদায় কমছে। এতে করে গরিবের ওপর করের চাপ বাড়ছে। অর্থনীতির জন্য এটা কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

‘এখন মোট রাজস্ব আয়ে আয়করের অবদান ৩২ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এটা ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা। ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে। এরপর আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধাই থাকবে না। সুতরাং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নিজস্ব সম্পদ তথা আয়কর আদায় বাড়াতেই হবে।’

করপোরেট কর হার পর পর তিন বছর কমানোর পরও দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের কার্যকর কর হার বেড়েছে। এর কারণ আমাদের দেশে উৎসে কর হার বেশি। তাই পর্যায়ক্রমে এটি কমানোর প্রস্তাব করেন তিনি।

আইবিএফবির সভাপতি হুমায়ন রশিদ বলেন, ‘নেপালের জনসংখ্যা ২ কোটি ৯০ লাখ। সে দেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় ২২ লাখ মানুষ। আর আমাদের ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে রিটার্ন জমা দেয় ২৩ লাখ। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশে কর-সংস্কৃতি খুবই দুর্বল।

আরও পড়ুন:
বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে পদ্মা সেতু: প্যাট্রিক
বড় প্রকল্পে হংকংয়ের বিনিয়োগ চায় সরকার
‘প্রাসাদ বানালেন অথচ ভিতরে নড়বড়ে, লাভ নেই’
‘অর্থনীতিতে অবিচারের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে’
অর্থ বিল নিয়ে স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোংয়ের সেমিনার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Power crisis will end gas crisis BGMEA

বিদ্যুতের সমস্যা শেষ, গ্যাস সংকটও কেটে যাবে: বিজিএমইএ

বিদ্যুতের সমস্যা শেষ, গ্যাস সংকটও কেটে যাবে: বিজিএমইএ
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্রুনাই থেকে গ্যাস আমদানি করবে। এ গ্যাস আসা শুরু হলেই পোশাক কারখানায় জ্বালানির সমস্যা দূর হবে।’

পোশাক শিল্পে বিদ্যুতের যে সমস্যা ছিল, তা প্রায় কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান হয়েছে, আশা করছি শিগগিরই গ্যাস সংকটও নিরসন হবে।’

শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ফারুক হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্রুনাই থেকে গ্যাস আমদানি করবে। এ গ্যাস আসা শুরু হলেই পোশাক কারখানায় জ্বালানির সমস্যা দূর হবে।’

তিনি বলেন, ‘পোশাক কারখানায় সাম্প্রতিক যে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান হয়েছে। কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত আছে। আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে পণ্য রপ্তানিতে যে সমস্যা হয়েছিল, তার সমাধান হয়েছে। ঢাকা বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন জটিলতায় পড়তে হয়েছিল একটা সময়। এখন চারটি স্ক্যানার মেশিন বসানো হয়েছে। বলতে পারি রপ্তানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিমানবন্দরেও আর কোনো জটিলতা নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে ১৮ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান সপ্তাহব্যাপী ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইকের’ উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাত দিনব্যাপী মেগা ইভেন্ট “মেইড ইন বাংলাদেশ উইক” গত ১২ থেকে ১৮ নভেম্বর উদযাপন করেছি। এই ইভেন্টের থিম ছিল “কেয়ার ফর ফ্যাশন”। এই ইভেন্টের বিভিন্ন দিক আপনাদেরকে অবহিত করতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।’

বিদ্যুতের সমস্যা শেষ, গ্যাস সংকটও কেটে যাবে: বিজিএমইএ
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

ফারুক হাসান বলেন, ‘সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে সামিট, এক্সপোজিশন, ফটো এক্সিবিশন, কনফারেন্স, ফ্যাশন ইনোভেশন রানওয়ে শো, সাসটেইনেবল ডিজাইন এবং ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড, ফ্যাশন ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড, ফ্যাক্টরি ট্যুর, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নেটওয়ার্কিং ডিনারসহ মোট ১৭টি কর্মসূচি ছিল।

‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক আয়োজনের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, পোশাক শিল্প এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করা; বিশেষ করে শিল্পের যে প্রকৃত রূপান্তর ঘটেছে, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে এ শিল্পের ব্র্যান্ডিং করা।

‘দ্বিতীয়ত, রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান কৌশলগত লক্ষ্যগুলো চিহ্নিত করে শিল্পের জন্য একটি টেকসই রোডম্যাপ তৈরিতে শিল্পের সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে এ ব্যাপারে তাদের মতামত নেওয়া।

‘তৃতীয়ত. সরকার, ব্র্যান্ড-ক্রেতা, বিভিন্ন সাপ্লায়ার (টেকনোলজি, মেশিন, এক্সেসরিজ সরবরাহকারী), শিল্প সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে নেটওয়ার্কিং করা।’

আরও পড়ুন:
পোশাক রপ্তানি ২০ শতাংশ কমার শঙ্কায় বিজিএমইএ
ইয়াংওয়ানকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান
সামনে তৈরি পোশাক শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ: বিজিএমইএ
আন্তর্জাতিক দরে ডিজেল চান পোশাক শিল্পমালিকরা
বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Salman hopes that the dollar crisis in the bank will end in January

জানুয়ারিতে ব্যাংকে ডলার সংকট কাটবে, আশা সালমানের

জানুয়ারিতে ব্যাংকে ডলার সংকট কাটবে, আশা সালমানের মেহেরপুরের মুজিবনগরে শনিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক আইএফআইসির এক হাজারতম সামাজিক উপশাখার উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ডলার সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ব‍্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ। তা ছাড়া আগামী রমজান মাসকে কেন্দ্র করে যে জিনিসপত্রগুলো আমদানি করা দরকার, তা করা হবে।’

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ব‍্যাংকগুলোতে ডলার সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান।

মেহেরপুরের মুজিবনগরে শনিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক আইএফআইসির এক হাজারতম সামাজিক উপশাখার উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকাল ১০টার দিকে মুজিবনগরে পৌঁছে মু্ক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

ওই সময় ডলার সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ব‍্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ। তা ছাড়া আগামী রমজান মাসকে কেন্দ্র করে যে জিনিসপত্রগুলো আমদানি করা দরকার, তা করা হবে। তাই আগামী রমজান মাসে কোনো সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ এবং আপনারা জানেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা যখন বিদেশ থেকে কোনো কিছু আমদানি করছি, তখন তার ওপর এর এফেক্ট পড়ছে।

‘তারপরও সরকার যেটা করছে, তা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এক কোটি পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ‍্যমে নিত‍্যপ্রয়োজনীয় পণ‍্য বিতরণ করছে। এক কোটি পরিবার মানে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ। ১৬ কোটি মানুষের মধ‍্যে আমরা যদি ডিরেক্ট এ সাহায্যটা পৌঁছে দিতে পারি, ইনশাল্লাহ দেশে কোনো সমস‍্যা থাকবে না। আমি আবারও বলছি ব‍্যাংকগুলোতে জানুয়ারি মাস থেকে ডলারের সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ।’

গত বছরের আগস্ট থেকে দেশে আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকে। দেখা দিতে থাকে ডলারের সংকট, বাড়তে থাকে দর। শক্তিশালী হতে থাকে ডলার, দুর্বল হতে থাকে টাকা।

এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে ডলারের জোগান দিলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারাও হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে এখন নিজেদের ডলার দিয়ে চলতে হচ্ছে, কিন্তু প্রবাসী আয় ও রপ্তানিতে টান পড়ায় সেই সক্ষমতাও হারাতে বসেছে তারা।

আরও পড়ুন:
৪ মাসেই ৫ বিলিয়ন বিক্রি, তারপরও ডলার নেই ব্যাংকে
উচ্চ আয়ের প্রবাসীরাও পাবেন ডলারপ্রতি ১০৭ টাকা
রিজার্ভ থেকে ডলার পাবে না বেসরকারি ব্যাংকগুলো
ডলার প্রিমিয়াম ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগে এনআইডি লাগবে না
ডলার দর: রেমিট্যান্সে কমল, রপ্তানিতে বাড়ল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Relief is returning to the economy based on agriculture

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
আমাদের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন, আমাদের যে খাদ্য পরিস্থিতি, আমাদের যে নীতি সমর্থন, আমাদের কৃষিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে ও আগামীতে যে আরও বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খাদ্যসংকট নিয়ে দুর্ভাবনা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এ কথা ঠিক, সবাই ২০২৩ সালকে মন্দার বছর বলছেন। আর সেই সময় খাদ্য পরিস্থিতি খারাপ হবে বলছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এর বড় কারণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। শুধু সরকার নয়, আমাদের ব্যক্তি খাত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবাই কাজ করছে।

কৃষি খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দুটি মাস যদি আমরা সাবধানে পা ফেলি, তাহলে এরই মধ্যে আমাদের আইএমএফের টাকা আসতে শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবির টাকা আসতে শুরু করবে। তখন আমরা একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে যেতে শুরু করব। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা এলে, বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের খুব একটি সমস্যা হবে না।’

গত বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারকে এই আশার কথা শুনিয়েছেন গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি আতিউর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউজবাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি এখনো মজবুত ভিত্তির ওপর আছে; খাদ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমাদের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন, আমাদের যে খাদ্য পরিস্থিতি, আমাদের যে নীতি সমর্থন, আমাদের কৃষিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে ও আগামী দিনে যে আরও বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খাদ্যসংকট নিয়ে দুর্ভাবনা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এ কথা ঠিক, সবাই ২০২৩ সালকে মন্দার বছর বলছেন। আর সেই সময় খাদ্য পরিস্থিতি খারাপ হবে বলছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এর বড় কারণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। শুধু সরকার নয়, আমাদের ব্যক্তি খাত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবাই কাজ করছে। সবাই এক দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।

যদিও আমরা এক্সপোর্ট নিয়ে অনেক কথা বলি। রেমিট্যান্স নিয়ে অনেক কথা বলি। কিন্তু আমাদের দেশীয় অর্থনীতি সেটি কিন্তু ভোগনির্ভর। সেটি আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদানির্ভর। সেখানেই আমরা অনেক বেশি জোর দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কৃষিতে গুরুত্ব দিতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আমাদের সাবধান করে দিয়েছেন। মন্দা যদি চলে আসে। তখন হয়তো আমদানি করা খাদ্য আমাদের জন্য আনতে হবে। সেগুলোর তো দাম অনেক বেশি হবে। সেটি আনতে গিয়ে হয়তো চাপ পড়বে। নিজেরা যদি আমরা আমাদের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করতে পারি। আমাদের ভোগটা যদি আমরা সামলাতে পারি। তাহলে আমাদের বেশি ডলার খরচ করতে হবে না। সেই অর্থে কৃষি একটি ফুড সাবস্টিটিউট ইন্ডাস্ট্রি। যদি আমাদের অনেক আমদানি করতে হতো। সেই আমদানির যে মূল্য সেটি কিন্তু বর্তমান রিজার্ভের ওপর আরও চাপ তৈরি করত।

বাংলাদেশ কৃষির উন্নয়নের জন্য যে নীতিমালা গ্রহণ করেছে সেটি যথার্থ। এ জন্যই বলছি, আমি দুই-তিন দিন আগেই উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ করে এলাম। তেঁতুলিয়ায় গিয়েছিলাম, ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখলাম যে এবার আমন উৎপাদন বাম্পার হয়েছে। কৃষকের মুখে হাসি। কারণ তারা অনেক বেশি উৎপাদন করতে পেরেছে। এখন আমাদের জন্য যেটি চ্যালেঞ্জ, সেটি হচ্ছে বোরো। আমাদের বোরো উৎপাদন ঠিকমতো করতে হবে। সে জন্য সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করছি, বিদ্যুৎ সব সময় থাকবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। ডিসেম্বরে আরও ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। সব মিলিয়ে মনে হয় কৃষকরা সেচের বিদ্যুৎ পাবেন। আমাদের জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ সেটি হচ্ছে ফার্টিলাইজার। আমরা যেন কৃষককে সময়মতো সার দিতে পারি। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের যে সার বিতরণব্যবস্থা তার ওপর নজর রাখতে হবে। যাতে আমাদের ডিলাররা কৃষকদের সার সময়মতো দিতে পারে। এটি নিয়ে যেন কোনো রকমের সমস্যা না তৈরি হয়; সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আরেকটি জিনিস করতে হবে আমন উৎপাদনের পর। আমাদের প্রকিউরমেন্ট শুরু হবে। আমরা যেন কৃষকদের যথার্থ মূল্য দিই।

আমি যদি ৫৫ টাকা করে চাল আমদানি করি। আমার কৃষককে যদি আমি ৫০ টাকাও না দিতে পারি, তাহলে কিন্তু কৃষকের প্রতি সুবিচার হচ্ছে না। এই জায়গাটিতে আমাদের খেয়াল করতে হবে। আমাদের যে মজুত সেটি বাড়িয়ে যেতে হবে। মজুত যদি আমাদের বেশি থাকে, তাহলে আমাদের বিশ্ব সংকট হলেও আমরা সামাল দিতে পারব। গ্রাম নিয়ে আমি চিন্তিত না। খাদ্য নিয়ে যদি কিছু টানাপড়েন থেকে থাকে সেটি শহরে। শহরের যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, তাদের আয়-রোজগার কিছুটা কমেছে। খাদ্য কিনতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। গ্রামে যে রকম সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আছে, শহরে কিন্তু ততটা নেই। সুতরাং আমাদের শহরের খাদ্য নিয়ে আরও ভাবতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিরও উদ্বেগজনক সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। সরকারি হিসাবেই অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগস্টে এই সূচক ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠেছিল। মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে সরকারের কী করা উচিত?

সরকারের জন্য খুব অসুবিধা এই কারণে যে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নেই। আমাদের আছে টিসিবি। টিসিবির গলিতে গলিতে দোকানপাট নেই। সুতরাং মধ্যবিত্ত চাইলেও কিনতে পারে না। এখন ডিজিটাল যুগ। এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটালভাবে সব রকম ব্যবস্থা করা যেত। মধ্যবিত্ত যদি একটি জায়গায় অনলাইনে ঢুকতে পারে। আমার পাঁচ কেজি চাল লাগবে, সেটি সরকার সহনীয় মূল্যে সরবরাহ করবে। এটি কিন্তু করা যায়। মধ্যবিত্ত সহজেই এনআইডি ব্যবহার করবে। একজন একবারের বেশি ব্যবহার করবে না। মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকাটি দিয়ে দেবে। যাদের দরকার তাদের এভাবে দেয়া যেতে পারে। এ রকম কিছু ইনোভেটিভ মেজার নেয়া যেতে পারে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় গরিব মানুষ নানাভাবে সহায়তা পাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি পরিবারকে কম দামে খাদ্য দেয়া হচ্ছে। এগুলো খুবই ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। অসহায় গরিব মানুষের খুব উপকার হচ্ছে। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের নিয়ে ভাবতে হবে। আড়াই বছরের করোনা মহামারি এবং যুদ্ধের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কারও বেতনই কিন্তু বাড়েনি। বরং অনেকে চাকরি হারিয়েছেন; কম বেতন পাচ্ছেন। এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি মনে করি, সরকারকে এখন মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এতে যদি সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে যায়, সেটি মেনে নিয়েই এই কাজটি করতে হবে।

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয় অনেক কমেছে। গত মার্চে পণ্য আমদানির জন্য যেখানে সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছিল, সেটি এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে শিল্প উৎপাদন বা সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে?

এখনই এতটা অস্বস্তির কথাটা না ভাবাই ভালো। আমরা কৃষিতে যেহেতু ভালো করছি। আমাদের দেখতে হবে আমাদের আমদানি যেন বন্ধ না হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমদানিতে আছে খাদ্য, কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি- এগুলোই মোট আমদানির ৮৫ শতাংশ। আমাদের রপ্তানি বাড়বে না যদি আমদানি না বাড়ে। সুতরাং আমদানিটা কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বাঁচানোর জন্য আমদানি বন্ধ করেছে। সেটির একটি সুফল আমরা পাচ্ছি। যাতে করে ছোট ছোট আমদানি যেমন গরুর জন্য ওষুধ, মুরগির জন্য খাদ্য- এগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ব্যাংকগুলো যেন এসব ছোটখাটো আমদানিতে ডলার জোগান দিতে পারে; এলসি খুলতে পারে- সেদিকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের জন্য এখন খুবই ক্রিটিক্যাল সময়। এই সময় যাতে আমাদের জরুরি আমদানি বন্ধ না হয়, আমাদের যাতে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমাদের এক্সপোর্ট ও রেমিট্যান্স কিন্তু আবার বাড়ছে। আরও বাড়বে আমরা আশা করি। একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল এক্সচেঞ্জ রেট। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা চেষ্টা করছে। এক্সচেঞ্জ রেট একাধিক হওয়ার কারণে কিছু সংকট দেখা দিয়েছিল, ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছিল। এর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন ওয়ার ট্রান্সফার এবং রেমিট্যান্সে জন্য একটি ডলার রেট হয়েছে।

কিন্তু এক্সপোর্ট এবং রেমিট্যান্সের মধ্যে পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। আমাদের ইন্টার ব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট এখন খুবই স্যালো। এটির একটি রেটেই থাকা উচিত। সেই রেট দেখে দেশের মানুষ এবং বিদেশি যারা আমাদের এখানে বিনিয়োগ করছেন তারা বুঝতে পারবেন যে টাকা এবং ডলারের রেশিওটি কত। এটি অনেক সময় বোঝা যায় না। একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছে।

প্রাইভেট (বেসরকারি খাত) অনেক ফরেন ঋণ যারা নিয়েছেন, তারা একটু চাপের মধ্যে পড়ছেন। সেটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যারা এই ঋণগুলো নিয়েছে তাদের মধ্যে একটি বোঝাপড়া হওয়া উচিত। এগুলোর জন্য সময় বাড়িয়ে নেয়া যায় কি না বা এগুলোর জন্য বিদেশি অন্যান্য ব্যাংক থেকে রিফাইন্যান্স করা যায় কি না- এসব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি।

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে

ছোট ব্যাংকগুলো যারা এক্সপোর্ট বেশি করে না, রেমিট্যান্স বেশি আনে না, তারা যাতে এসেনসিয়াল পণ্য আমদানি করতে ইন্টার ব্যাংক থেকে তাদের যেটি প্রাপ্য এক টাকা বেশি দিয়ে ডলার পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে ৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখতে পারে। এটি কিন্তু ছোট ইম্পোর্টের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাতে কী হবে? হয়তো দেড় বিলিয়ন ডলার বাড়তি ড্র-ডাউন হবে। তাতে কিচ্ছু আসে যায় না, মার্কেট যদি আমাদের সুস্থির থাকে, এর চার গুণ আমাদের ফিরে আসবে। ইম্পোর্ট যদি চালু থাকে আমাদের যেই পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত একটি শক্তিশালী অবস্থানের ওপর আছে। আমার সবার কাছে অনুরোধ থাকবে অযথা গুজব ছড়াবেন না। বরং আমরা সবাই মিলে কিছু শক্তিশালী নীতিমালা গ্রহণ করে এই যে টানাপোড়েন ফরেন এক্সচেঞ্জের, সেটি হয়তো পূরণ করতে পারব। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যে সেটি তো অনেক শক্তিশালী। গ্রাম ভালো আছে। শহরে কিছু সামাজিক নিরাপত্তা দরকার। সরকার এরই মধ্যে এক কোটি কার্ড করেছে। তারা নানাভাবে চেষ্টা করছে। মধ্যবিত্তের জন্য যতটুকু পারা যায় চেষ্টা করতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় আমি বলতে চাই, আমাদের কথাবার্তায় আমরা যাতে খুব সাবধানে কথা বলি। যাতে কোনো রকম গুজব না তৈরি হয়। এ বিষয়গুলোর ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আগামী দুটি মাস যদি আমরা সাবধানে পা ফেলি, তাহলে আমাদের আইএমএফের টাকা যখন আসতে শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবির টাকা আসতে শুরু করবে। আমাদের রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। কৃষিতে ভর করে একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে কিন্তু আমরা যাচ্ছি। সামনের দিনগুলো আরও ভালো হবে। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা এলে, বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের খুব একটি সমস্যা হবে না। কেননা আমাদের সরকারি গুদামগুলোতে ২০ লাখ টনের মতো খাদ্য মজুত আছে। বেসরকারি পর‌্যায়েও প্রচুর খাদ্য আছে। আমনটা ভালো হয়েছে। বেরোটা যদি আমরা ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারি, তাহলে খাদ্য নিয়ে আর আমাদের কোনো চিন্তা থাকবে না। আর পেটে ভাত থাকলে অন্য সব বাধাবিপত্তি মোবাবিলা করা খুব একটা কঠিন হবে না বলে আমি মনে করি।

আপনি বলছিলেন যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে যারা বিপদে পড়েছে। এদের কীভাবে সহায়তা করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি, সেটি হলো জরুরি আমদানি বন্ধ করা যাবে না। নতুন পদ্ধতি আমাদের তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে বেশি ডলার আনার উদ্যোগ আমাদের নিতে হবে। যারা বাইরে থেকে ডলারে ঋণ নিয়েছে। আর এখন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সংকটে পড়েছে। তাদের কিন্তু সাহায্য করার কথা সরকারকে চিন্তা করতে হবে। যারা সঠিক উদ্যোক্তা। তাদের উতরে নেয়ার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা এরা যদি বিপদে পড়ে, উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু অর্থনীতিতে আরেক ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে; যারা এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বা কাজ করছেন, তারা বেকার হয়ে যাবেন। তাই এ বিষয়টি এখন সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

হুন্ডি তখনই বাড়ে, যখনই কার্ব মার্কেটে ডলার রেটের সঙ্গে অফিশিয়াল রেটের পার্থক্য অনেক বেশি হয়। মার্কেট রেটে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটটি হওয়া উচিত। এক্সচেঞ্জ রেট আমরা এত দিন ফ্লোটিং ম্যানেজেমেন্ট করতাম। অর্থাৎ মার্কেট রেটের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, এখনো করছি। কিন্তু রেটের অ্যাভারেজ (গড়) করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এটিকে ছেড়ে দেয়া উচিত। কার্ব মার্কেট ও অফিশিয়াল রেটের পার্থক্য যদি ১ বা ২ টাকার হয়, তাহলে কিন্তু মানুষ অফিশিয়াল চ্যানেলেই টাকা পাঠাবে।

যারা অফিশিয়ালি টাকা পাঠাবে তাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আসা যায় কি না তা ভাবা দরকার। যেমন- এনআইডি ফিক্স করে তাদের ইনভার্সাল পেনশন স্কিমে যুক্ত করা, তাদের সন্তানদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। এ রকম লং টার্ম ইনসেনটিভ প্যাকেজের সঙ্গে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের যুক্ত করে দিলে দেশের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে তারা অফিশিয়াল চ্যানেলে টাকা পাঠাবেন।

আরেকটি কাজ করতে হবে, আর সেটি হলো ক্যাম্পেইন করতে হবে। প্রবাসী ভাইবোনদের বলতে হবে, আপনারা যে আন-অফিশিয়াল চ্যানেলে (হুন্ডি) টাকা পাঠাচ্ছেন, এটি দিয়ে কী হয়? এই টাকা দিয়ে কেউ জঙ্গিপনা করে, অস্ত্র কেনে, সন্ত্রাস করে। তার চেয়ে টাকা অফিশিয়াল চ্যানেলে পাঠান, যেটি দিয়ে আমরা মেশিন কিনতে পারব রপ্তানির জন্য, শিশুখাদ্য কিনতে পারব। তখন তারা বুঝবেন, দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বৈধ পথে টাকা পাঠাবেন।

আমরা এই পারে (দেশে) যেমন ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যেমন আমরা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি, ওই পারেও অর্থাৎ উৎসেও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এক্সচেঞ্জ বা ব্যাংকগুলোকে অ্যাপস খুলতে বলতে পারি। ধরুন, ওইখানে একটি ফেইক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আছে, যেটি তারা বলে, সেটি কিন্তু সত্যি না, ফেইক।

কিন্তু একটি রিয়েল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যদি করতে পারে এবং তারা যদি একটি অ্যাপস তৈরি করে, যেমন অগ্রণী ব্যাংক করেছে মালয়েশিয়ায়। তাহলে মরুভূমিতে বসেই আমাদের ভাইগুলো টাকা পাঠাবেন, যেটি আমাদের ব্যাংক হয়ে আবার তার বাড়িতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যাবে। এই রকম একটি ব্যবস্থা আমরা করতেই পারি। আমাদের রেগুলেটর ও তাদের রেগুলেটররা আলাপ করতে পারেন।

আমি যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলাম, তখন আমরা এই ধরনের একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম মালয়েশিয়ায়, একটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বিকাশের সঙ্গে এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। এই ধরনের এক্সপেরিমেন্ট আরও বেশি করা উচিত। তাতে মানুষ কনফিডেন্স পাবে। আনুষ্ঠানিকভাবেই আমরা টাকাগুলো আনতে সক্রিয় আছি।

মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যাংকঋণ ও আমানতের সুদের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

রেট অব ইন্টারেস্ট (সুদের হার) নিয়ে উভয় দিকের কনসার্নেই সত্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ালে দেশের জন্য ভালোই হয়, তাতে অনুৎপাদনশীল খাতে খরচটা কম হয়। আবার কোনো ক্ষেত্রে, যেমন উৎপাদনশীল খাতে রেট অব ইন্টারেস্ট কম থাকলে উৎপাদন বাড়ে, বিনিয়োগ বাড়ে। সুতরাং এটি একটি ব্যালান্সিং অ্যাক্ট, এই কাজটি করতে হবে। তবে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হারে যদি ডিপোজিট রেট দিই, তাহলে তো একজন মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে, সে তো টাকা দিন দিন হারিয়ে ফেলবে।

ব্যাংক যদি সেই হারের বেশি হারে ডিপোজিট দেয়, কম হারে যদি লোন দেয়, তার ওপরে ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। তাহলে তো ব্যাংকের ব্যবসা হবে না। এই রকম জিনিসগুলোতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট রেট কম দেব, সে ক্ষেত্রে তাকে ফিসক্যাল সাপোর্টে দেয়া যেতে পারে। যেমন আমি গভর্নর থাকার সময় কৃষিতে ইন্টারেস্ট রেট কম রেখেছি, খুবই কম হারে পিঁয়াজের জন্য লোন দিয়েছিলাম, সেটি কেমন করে, কারণ আমরা ৬ শতাংশ ভর্তুকি ফিসক্যাল পলিসিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছিলাম।

সুতরাং কোনো কোনো জায়গায় এ রকম ইনোভেটিভ আইডিয়া করাই যেতে পারে। তবে বাকিটা বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত, ট্রাস্ট করা উচিত। বাজার যেভাবে আমাদের গাইড করবে, কিছুটা সামাজিক দায়বোধ থাকতে হবে, কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিলেও সার্বিক ক্ষেত্রে বাজারের ধর্মমতে চলতে হবে। অনুৎপাদনশীল খাত যদি খানিকটা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাতে ক্ষতি নেই।

কোরিয়ায় একসময় ২০ শতাংশ হারেও লোন দেয়া হতো। সেখানে প্রবৃদ্ধি কিন্তু কমেনি। সুতরাং আমি মনে করি, টাকাটা ঠিক জায়গামতো যাচ্ছে কি না, আমার রিয়েল ইকোনমি উপকৃত হচ্ছে কি না, এটি যদি হয় এবং সময়মতো মানুষ যাতে টাকা পায় সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। ধরা যাক, কম রেটে কৃষিঋণ দেয়া হলো। কৃষক গেলেন ব্যাংকে, টাকা নেয়ার সময় তার কাছ থেকে কিছু টাকা ব্যাংকাররা রেখে দিলেন। কৃষক কিন্তু হিসাব করবেন তার রেট অব ইন্টারেস্ট বা খরচ বেশি হিসাব করবেন। সুতরাং স্বচ্ছতার খাতিরে রেট অব ইন্টারেস্ট নিয়ে বাস্তববাদী ভাবনার সুযোগ রয়েছে।

ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে একটি মহল। আসলে বাস্তব অবস্থা কী। সাবেক গভর্নর হিসেবে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখনো পুরোপুরি নিরাপদ। কয়েক দিন আগে যে গুজব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ ছড়িয়েছিল, তা কিন্তু নেই। তাহলে তো এখনো থাকত তাই না? এটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল সেটি বোঝা যায়। আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে টাকা রাখা, বালিশের নিচে টাকা রাখার চেয়েও বেশি নিরাপদ। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে অনেক ইনস্ট্রুমেন্ট আছে। কোনো ব্যাংকের সত্যিই যদি লিকুইডিটি ক্রাইসিস থাকে, তাহলে সে তার রেপো ব্যবহার করতে পারে, সরকারের কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট বা সিকিউরিটি থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে পারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ওই ব্যাংকটিকে লং টার্ম লিকুইডিটি সাপোর্ট দিতে পারে। এখন ফরেন এক্সচেঞ্জেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় এসেছে সাপোর্ট দেয়ার। দরকার হলে ওডি দেবে, সোয়াপ করবে। নানা রকম ইনস্ট্রুমেন্ট আছে, যাতে মার্কেটটিকে লিকুইড এবং স্বস্তিকর করে দেয়া যায়। এটি ফরেন এক্সচেঞ্জের জন্য ও লোকাল মার্কেটের জন্যও দরকার। আমাদের কাছে সেই ইনস্ট্রুমেন্ট আছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি কথা বলেছেন, ‘টাকার অভাবটা আসল অভাব না, আসল অভাব ভরসা।’ সুতরাং আমরা ভরসার পরিবেশ করি।

অর্থনীতিতে চাপ সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আর কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

সরকার এখন পর্যন্ত যথার্থ পথেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিতে তারা যে গুরুত্বটা দিয়েছে, সেটা অত্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক হয়েছে। এখন যেটি করতে হবে। আমাদের দরকার হলে আগামী দুই মাসের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ছেড়ে দেব, ছেড়ে দিয়ে হলেও এই জায়গাটায় স্টেবলাইজড করব। বিশেষ করে এসেনসিয়াল ইমপোর্টে যেন কোনো ব্যাংকই কোনো সমস্যা তৈরি না করে। সে জন্য দরকার হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হটলাইন খুলতে হবে, কোন ব্যাংক কী সমস্যা করছে, তা জানবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন দিতে হবে।

পাইপলাইনে যেসব ফরেন এক্সচেঞ্জ আসার কথা সেটি ত্বরান্বিত করতে হবে। আইএমএফ, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে নেগোসিয়েশন করেছি, সেগুলোর প্রথম কিস্তি তাড়াতাড়ি চলে আসবে সেই কাজটি করতে হবে। আরেকটি কথা হলো, ফরেন এক্সচেঞ্জ বা রিজার্ভের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সবাই কথা বললে হবে না। কথা বলবেন সেন্ট্রাল ব্যাংক, গভর্নর বা মুখপাত্র এবং তথ্য দিয়ে ক্রেডিবল মেসেজ দেবেন, এটি সম্ভব, তাহলে সবকিছু ঠান্ডা হয়ে যাবে বলে আমার মনে হয়।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধিতে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে
সংলাপে মতভেদও ঘুচবে, ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনা
‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বিদ্যুৎ’

মন্তব্য

p
উপরে