× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Five people including Manik resigned from Evalys board of directors
hear-news
player
print-icon

ইভ্যালির পরিচালনা বোর্ড থেকে পদত্যাগ মানিকসহ ৫ জনের

ইভ্যালির-পরিচালনা-বোর্ড-থেকে-পদত্যাগ-মানিকসহ-৫-জনের
ইভ্যালির লোগো। ছবি: সংগৃহীত
পরিচালনা বোর্ড থেকে পদত্যাগের বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আজকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমাদের অডিট রিপোর্ট, আমাদের প্রতিবেদনও জমা দিয়েছি। সারসংক্ষেপ হলো এই কোম্পানির দুর্দশার জন্য রাসেলই দায়ী। কোম্পানি প্রতিষ্ঠাই করছে প্রতারণার জন্য; কোনো সৎ উদ্দেশ্যে করে নাই। মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পয়সা বানিয়েছে। তার সঙ্গে মার্চেন্টরা সহযোগিতা করেছে।’

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির পরিচালনা বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ পাঁচ সদস্য।

বুধবার তারা আদালতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়ে পদত্যাগ করা বোর্ডের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন বলেন, ‘অডিট রিপোর্ট, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতামত, পরিচালনা বোর্ডের মতামত (যেভাবে মহামান্য আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে) এবং হাইকোর্ট নির্দেশিত পরিচালনা বোর্ডের সকল সদস্যের পদত্যাগ আজ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে জমা দেয়া হলো। আগামীকাল ইভ্যালির নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেবেন।’

ইভ্যালি পরিচালনার জন্য ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেয় হাইকোর্ট।

মানিক ও মিলন বাদে বোর্ডের অন্য সদস্যরা ছিলেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ এবং কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

পদত্যাগের বিষয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘আজকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমাদের অডিট রিপোর্ট, আমাদের প্রতিবেদনও জমা দিয়েছি। সারসংক্ষেপ হলো এই কোম্পানির দুর্দশার জন্য রাসেলই দায়ী। কোম্পানি প্রতিষ্ঠাই করছে প্রতারণার জন্য; কোনো সৎ উদ্দেশ্যে করে নাই। মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পয়সা বানিয়েছে। তার সঙ্গে মার্চেন্টরা সহযোগিতা করেছে।

‘প্রতারণার জন্য মার্চেন্টরাও দায়ী। কারণ তারাই সুযোগটা করে দিয়েছে। রাসেল কোনো আইন, বিধি মানে নাই। একাই চালাত কোম্পানিটা। সে অনেক ভাউচার দিয়েছে। সেই টাকা কেন দিয়েছে, কাকে দিয়েছে, তার কিছুই উল্লেখ নেই। ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছে, কিন্তু কাকে দিয়েছে, তাও উল্লেখ নেই। ফলে আমরা বলছি এটা ভাবা স্বাভাবিক যে, ওরা মানি লন্ডারিং করেছে। এটা আমাদের অবজারভেশন।’

প্রতারণার অভিযোগে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামের একজন গ্রাহক।

মামলার পরদিন বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরে তাদের বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয়। এর মধ্যে সবগুলো মামলায় জামিন পেয়ে গত ৬ এপ্রিল কারামুক্ত হন শামীমা। রাসেল এখনও কারাবন্দি।

ইভ্যালি ফের চালুর বিষয়ে নতুন বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তার মা ও বোনের স্বামীকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

শামীমা নাসরিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেন।

সম্প্রতি আদেশের লিখিত অনুলিপি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসে। শামীমার আইনজীবী আহসানুল করিম গত সোমবার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি চালু করতে শামীমাকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে মামলা
পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন না ইভ্যালির রাসেল, আটকে গ্রাহকের টাকা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে রংপুরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইভ্যালির লেনদেনের তথ্য জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
US supports no party Peter Haas

যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না: পিটার হাস

যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না: পিটার হাস বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ছবি: নিউজবাংলা
রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাঁচটি লক্ষ্য তুলে ধরেন। এগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ; গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার; সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীলতা; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর বা পরের বছরের জানুয়ারিতে হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় নিবার্চন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদী ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাটস।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কারও প্রতি কোনো পক্ষপাত নেই জানিয়ে হাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না।’

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

ইউএস- বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক: ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণই চাবিকাঠি’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় মূল বক্তব্য রাখেন পিটার হাস। বক্তব্য রাখেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের দূত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাঁচটি লক্ষ্য তুলে ধরেন।

এগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ; গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার; সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীলতা; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

পিটার হাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বেশি। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক বিরাজমান। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘বেসরকারি খাত জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্য দশা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।’

স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উত্তরণ হলে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন-এটিও স্মরণ করিয়ে দেন হাস। আর এই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগ করার আগে সুশাসন, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, দক্ষ শ্রমশক্তির সহজলভ্যতা ও মুনাফা- এসব বিষয় বিবেচনা করে থাকে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবিক কারণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এখন তাদের নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়া নিজে কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ন কবির, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়াও অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগের জন্য শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Commissions question which paddy which rice

শুনানিতে কমিশনের প্রশ্ন- কোন ধানে কোন চাল

শুনানিতে কমিশনের প্রশ্ন- কোন ধানে কোন চাল
প্রতিযোগিতা কমিশনে বুধবার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের আটটি মামলার ওপর শুনানি ছিল। চালের জন্য স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও এরফান গ্রুপ, চাল ও আটা-ময়দার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি হয়েছে। তবে নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিল শুনানির জন্য প্রতিনিধি পাঠায়নি।

মিনিকেট চাল কীভাবে হয়? ধান থেকে চাল বানিয়ে কী নাম দিচ্ছেন? একই ভ্যারাইটির ধান থেকে কয় ধরনের চাল করা হয়?

চাল প্রস্তুতকারক ‘এরফান ব্রান্ড’-এর প্রতিনিধির কাছে এমন সব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। জবাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিনিকেট চালের নামে প্রতিবন্ধকতা আছে। দিনাজপুর ও নওগাঁ অঞ্চল থেকে জিরাশাইল ধান সংগ্রহ করে তা থেকে তৈরি করা হয় মিনিকেট চাল।

রাজধানীতে প্রতিযোগিতা কমিশন কার্যালয়ে বুধবার মামলার শুনানিতে মিনিকেট চাল ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে। চাল-আটাসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতকারী কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা সকাল থেকে মামলার শুনানিতে হাজির হয়ে তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।

আলোচনার বড় অংশ জুড়েই ছিল চাল ইস্যু। ভোক্তা-ক্রেতার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি নানা প্রশ্ন তুলে সেসবের বিষয়ে উৎপাদকদের কাছে জানতে চায় কমিশন।

তবে সব কোম্পানিই প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। কমিশন পরে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম এবং সদস্য জিএম সালেহ উদ্দিন, এএফএম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।

এদিন ছয়টি প্রতিষ্ঠানের আটটি মামলার ওপর শুনানির দিন নির্ধারিণ করা ছিল। তবে নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদার শুনানির জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠাননি। আর চালের জন্য স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও এরফান গ্রুপ, চাল ও আটা-ময়দার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি হয়েছে।

এছাড়া ডিমের বাজারে অস্থিরতার জন্য ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, মুরগির দামে অস্থিরতার জন্য নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেড এবং টয়লেট্রিজের জন্য স্কয়ার টয়লেট্রিজকে শুনানিতে ডাকা হয়।

এরফান গ্রুপ

শুনানিতে এরফান গ্রুপের পক্ষে লিগ্যাল অফিসার মো. কামরুজ্জামান ও আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বাজারে চিনিগুঁড়া, নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি করেন।

মিনিকেট চাল কিভাবে হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ‘মিনিকেট আমাদের না। নাজিরশাইল, কাজললতা, পাজাম এমন নানা ধরনের চাল আছে।’

বিআর-২৮, বিআর-২৯ বাজারজাত করেন কিনা- এ

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এরফান গ্রুপের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘বিআর-২৮, বিআর-২৯ চাল আমরা বাজারজাত করি না।’

কমিশন জানায়, ‘কোন জাতকে কোন নামে কোন ব্র্যান্ডে বিক্রি করছেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। একই ভ্যারাইটির ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নাম দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করছেন কিনা সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য লাগবে।’

শুনানিতে প্রতিনিধিরা জানান, তাদের ব্র্যান্ডের নাম এরফান। চালের মিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে। অন্য কোথাও আর কোনো গুদাম নেই। ঢাকায় তাদের অফিস আছে।

কমিশন পরবর্তী শুনানিতে সব ধরনের ধান ও কোন জাত থেকে কোন নামে চাল করা হচ্ছে সেসবের এক কেজি করে নমুনা নিয়ে আসতে বলে দেয়।

সব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছে কমিশন।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড

চাল এবং সাবান, গুঁড়া সাবান ও সুগন্ধী সাবানের দুটি মামলার শুনানির জন্য স্কয়ার টয়লেট্রিজের পক্ষে তাদের দুজন আইনজীবী ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার ও মুহাম্মদ আল ইমরান শুনানিতে অংশ নেন।

প্রতিনিধিরা জানান, তারা সুগন্ধী চাল প্যাকেজাত করে বাজারজাত করেন। তাদের ব্র্যান্ডের নাম চাষী। সুগন্ধীর কোন ভ্যারাইটি বিক্রি করেন জানতে চাইলে তারা চিনিগুঁড়া চালের কথা জানান।

চিনিগুঁড়া সুগন্ধী কোনো ভ্যারাইটি কীনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ‘এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারে আছে। সারা দেশে এই চাল বিক্রি করা হয়। এটা মূলত রপ্তানির জন্য করা হয়। আগে ৪০টি দেশে রপ্তানি করা হতো। বর্তমানে সরকারি নির্দেশে চাল রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।’

ভ্যারাইটি বলতে কোন ধান থেকে চিনিগুঁড়া হয়- এমন প্রশ্নের জবাব দিতে স্কয়ারের প্রতিনিধিরা সময় চান।

কমিশন পরবর্তী শুনানিতে সব ধরনের ধান ও কোন জাত থেকে কোন নামে চাল করা হচ্ছে, প্রতিটির এক কেজি করে নমুনা নিয়ে আসতে বলে দেয়। চাল খাতে কোম্পানির গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্যও চেয়েছে কমিশন।

সব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছে কমিশন।

ডায়মন্ড এগ লিমিটেড

কমিশনের শুনানিতে ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের কোম্পানির পক্ষে মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান ও আইনজীবী এস এম শিহাব উদ্দীন অংশ নেন।

তারা জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়াসহ একাধিক স্থানে তাদের চারটি ফার্ম আছে। তাদের ফার্মে প্রতিদিন নয় লাখ ডিম উৎপাদন হয়। অন্য জায়গা থেকে কিনে বিক্রি করা হয় না। তাদের কোনো অর্গানিক ডিম নেই।

দাম নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, খোলা বাজারে ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সারা দেশে তাদের ৪০ জন ডিলার আছেন। তারা জেলার বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের জানান। তারপর ডিমের উৎপাদন থেকে সার্বিক মূল্য অ্যাভারেজ করে দাম নির্ধারণ করা হয়।

এই পর্যায়ে কমিশন মন্তব্য করে, পণ্য উৎপাদন করব আমি, আর দাম ঠিক করবে অন্যজন- ব্যাপারটা এমন।

এ সময় ডায়মন্ডের প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বাজারে অনেক বড় জোন আছে। সেখান থেকে দরের তথ্য নেয়া হয়।

মুরগির বাজারে অস্থিরতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেডের প্রতিনিধি শুনানিতে জানান, ‘তারা ‍মুরগি বিক্রি করেন না। তাদেরই আরেকটি কোম্পানি নরেশ এগ্রো এটা করে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চাল, আটা-ময়দা, ডিম-মুরগি, সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার বাজারজাতকারী এবং পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ৪৪টি মামলা করে প্রতিযোগিতা কমিশন। সোমবার থেকে সেসব মামলার ওপর ধারাবাহিক শুনানি চলছে।

আরও পড়ুন:
চালের ব্যবসা না থাকার দাবি বসুন্ধরার
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bashundhara claims that there is no rice business

চালের ব্যবসা না থাকার দাবি বসুন্ধরার

চালের ব্যবসা না থাকার দাবি বসুন্ধরার বসুন্ধরার নামে বাজারজাত করা মিনিকেট চালের প্যাকেট। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এটা আমাদের কোনো প্রোডাক্ট না। বসুন্ধরার অনেক কোম্পানি আছে। কিন্তু চালের কোনো কোম্পানি নেই।’

বাজারে বসুন্ধরার নামে যে চাল বিক্রি হয়, তা বসুন্ধরা গ্রুপ উৎপাদন করে না। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে বসুন্ধরার নাম ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্প গ্রুপ।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে এমন তথ্য জানান বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগীয় প্রধান রেদায়ানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানিরি আইনজীবী মামুন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চালের কোনো ব্যবসা নেই। কোনো চাল বসুন্ধরা গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে না।’

এ সময় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম বসুন্ধরার প্রতিনিধিদের সামনে বসুন্ধরা নামে মিনিকেট চালের একটা প্যাকেট তুলে ধরার নির্দেশ দেন। কমিশনের কর্মী তা তুলে ধরলে চেয়ারপারসন জানতে চান, ‘এটি তাহলে কাদের?’

তখন বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এটা আমাদের কোনো প্রোডাক্ট না। বসুন্ধরার অনেক কোম্পানি আছে। কিন্তু চালের কোনো কোম্পানি নেই।’

কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘২০ কেজি মিনিকেট চালের বস্তা তাহলে কাদের? আপনারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? যদি কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে এটিই প্রমাণ হয় এই চাল আপনারাই প্রস্তুত করেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধি তখন বলেন, ‘এই চালের প্যাকেট আমরা আজই দেখলাম। একই নামের কোনো প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরার নাম করে চাল বিক্রি করছে সেটা অনুসন্ধান করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এ সময় তারা কমিশনের কাছে এ-সংক্রান্ত্র কোনো তথ্য আছে কি না জানতে চাইলে কমিশনের এক সদস্য বলেন, ‘কোথায় বসুন্ধরার নামে পণ্য আছে এ তথ্য আমরা দেব না। এটা আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের নাম দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে, এটা আপনারা অনুসন্ধান করবেন।’

আটা-ময়দা বিষয়ে বসুন্ধরার প্রতিনিধি সময় চেয়ে বলেন, তাদের ব্র্যান্ডের নাম বসুন্ধরা। আটা-ময়দা বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির পণ্য। আটা-ময়দার মধ্যে দেশে ৭৫ শতাংশ চাহিদা আটার, বাকি ২৫ শতাংশ ময়দার।

এসব পণ্যের দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এখন আটা-ময়দার সংকট চলছে। গমের ৭০ শতাংশ রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করতে হয় বলে আটা দেয়া যাচ্ছে না। তবে ময়দা দেয়া যাচ্ছে, কারণ ময়দা কানাডা থেকে আমদানি করা হয়।

কমিশন থেকে জানতে চাওয়া হয় তাদের আটা-ময়দার মার্কেট শেয়ার কত?

বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা বলা কঠিন। নিজেদের সার্ভে করা প্রতিবেদেনে দেখা গেছে বড় ১০ কোম্পানির মার্কেট শেয়ার ৭০ শতাংশ। তারা চার নম্বরে।

কমিশন পরবর্তী শুনানিতে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত, গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য চায়।

সব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছে কমিশন।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চাল, আটা-ময়দা, ডিম-মুরগি, সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার বাজারজাতকারী ও পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ৪৪টি মামলা করে প্রতিযোগিতা কমিশন।

সোমবার থেকে সেসব মামলার ওপর ধারাবাহিক শুনানি শুরু হয়েছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম এবং সদস্য জিএম সালেহ উদ্দিন, এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Bank increased the interest rate of loans in foreign currency in the previous position

বিদেশি মুদ্রায় ঋণের সুদহার বাড়িয়ে আগের অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশি মুদ্রায় ঋণের সুদহার বাড়িয়ে আগের অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক
এক মাস ১০ দিনের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সুদহার ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিসুদহার বাড়িয়েই চলছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকও এক মাসের কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার সুদহার বাড়াল ৫০ বেসিস পয়েন্ট।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগে সুদহার হবে এসওএফআর রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে।

গত ১৬ আগস্ট তা থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে লাইবরের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এক মাস ১০ দিনের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সুদহার ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর মানে হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসওএফআর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট-এসওএফআর, পূর্বে যা ছিল লাইবর) রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ঋণ দিতে পারবে ব্যবসায়ীদের।

বুধবার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ‘বৈশ্বিক সুদহারের ধারাবাহিকতায় সুদহার পুনর্নির্ধারণ করা হলো।’

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদহার বা এসওএফআর এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারবে। আর লাইবরের রেট যতোদিন কার্যকর রয়েছে, ততদিন তা অনুসরণ করতে পারবে ডলারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদহারকে ‘বেঞ্চমার্ক রেট’ হিসেবে ধরা হবে বলে জনিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, স্বল্প মেয়াদে ট্রেড ফাইন্যান্সের বেলায় ডলারের ক্ষেত্রে লাইবর রেট (ইংল্যান্ডের আন্তব্যাংকের ৩ মাসের গড় সুদহার) অনুসরণ করা যাবে।

বুধবার ছয় মাস মেয়াদের জন্য এসওএফআর সুদহার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ যোগ করলে বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বার্ষিক সুদহার যোগ করতে পারবে যেকোনো ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ঠিক একইভাবে ইউরো মুদ্রায় বিনিয়োগে ইউরো, পাউন্ডের বেলায় সোনিয়া (স্টারলিং ওভারনাইট ইনডেক্স এভারেজ) এর সুদহারকে রেফারেন্স রেট হিসেবে নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

এর আগে বিদেশি মুদ্রায় আমানত আনতেও সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদহারকে বেঞ্চমার্ক ধরা হতো। গত মাস থেকে ঋণ প্রদানের বেলায়ও তা অনুসরণ করা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে গত জুলাইয়ে চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্ক যা ফেড নামে পরিচিত, তারাও সুদহার বাড়িয়েছে।

১৯৮১ সালের পরে গত জুলাইয়ে ফেড সর্বোচ্চ সুদহার বাড়ায়। যা যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের ব্যাংকের আমানত সুদহার বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে।

এর চাপ পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোর উপরও। যদিও মূল্যস্পীতির চাপ সামলাতে দেশের অর্থনীতিবিদরাও ঋণ সুদহার সীমা ৯ শতাংশ থেকে তুলে দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবরই বেঁধে দেয়া ঋণসুদ হার সীমা তুলে দেয়ার বিপক্ষে থাকার কথা জানিয়ে আসছে।

দেশিয় মুদ্রায় ঋণ সুদহার সীমা তুলে না দিলেও বিদেশি মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদের ঋণ সুদহার বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
বিদেশি ঋণে হোঁচট
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগে নিতে হবে অনুমতি
বিদেশি ঋণধারীদের মাথায় হাত
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The government is buying 90 thousand tons of urea fertilizer

৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার

৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি থেকে কেনা হচ্ছে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কাফকো, কাতারের মুনতাজাত ও সৌদি আরবের সেবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার টন করে ইউরিয়া সার কেনা হবে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বুধবার এ বিষয়ক দরপ্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

চাহিদা মেটাতে ৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার। সৌদি আরব, কাতার ও দেশীয় এক প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার কেনা হবে। এ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকার বেশি।

বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দরপ্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক এ তথ্য জানান।

জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। এতে খরচ হবে ১৯৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এছাড়া বিসিআইসির মাধ্যমে কাতারের মুনতাজাত থেকে আনা হবে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর বাইরে বিসিআইসির মাধ্যমে সৌদি আরবের সেবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট কোম্পানি থেকে ২০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হবে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার।

মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে বিসিআইসির মাধ্যমে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) জন্য ৩০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে খরচ হবে প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উল্লিখিতসহ মোট ছয়টি দর প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মোট অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার ২১৬ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৩৭৮ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৭ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ ৬৪৯ কোটি ৮০ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৯ টাকা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Under the pressure of the economy money is tight in the bank

অর্থনীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকে টাকার টান

অর্থনীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকে টাকার টান গ্রাহকরা সঞ্চয় তুলে নেয়ায় ব্যাংক আমানতে তৈরি হয়েছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ফাইল ছবি
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক সুদ এখনও মূল্যস্ফীতির নিচে। ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মূল্যস্ফীতির গড় হিসাব সরকারিভাবে যা প্রকাশ করা হচ্ছে তার চেয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের খরচ বাস্তবে অনেক বেশি। জীবন চালাতে সঞ্চয়ে হাত দিচ্ছেন তারা।’

ব্যাংকে হঠাৎ টাকার আকাল। সঞ্চয় তুলে নেয়ায় আমানতে তৈরি হয়েছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছর শেষে আমানতে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ শতাংশের বেশি। যার ধারাবাহিকতা জুলাইতেও স্পষ্ট।

বিষয়টি অর্থনীতির জন্য সুখকর নয় বলে মনে করছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক সুদ এখনও মূল্যস্ফীতির নিচে। ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মূল্যস্ফীতির গড় হিসাব সরকারিভাবে যা প্রকাশ করা হচ্ছে তার চেয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের খরচ বাস্তবে অনেক বেশি। জীবন চালাতে সঞ্চয়ে হাত দিচ্ছেন তারা।’

সর্বশেষ গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কেবল মূল্যস্ফীতিই কারণ, এমনটাও নয়। ব্যাংকে আমানতে সুদ কম হওয়ায় মানুষ অন্য কোথাও সঞ্চয় সরিয়ে ফেলতে পারেন বলে মনে করেন আহসান মনসুর। তিনি বলেন, ‘অনেকে ডলারেও বিনিয়োগ করেছেন বলে শোনা গিয়েছে । এটি খুঁজে দেখা প্রয়োজন আসলে টাকা গিয়েছে কোথায়।’

অর্থনীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকে টাকার টান

ব্যাংকে গ্রাহকরা। ফাইল ছবি

ব্যাংক আমানত কমে গেলে সেটি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিতে পারে। তখন কর্মসংস্থান নিয়ে দেখা দেবে সংশয়। আর সুদহার নিয়ন্ত্রণ করা ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও প্রণোদনা প্যাকেজের তৃতীয় ধাপের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সচল হতে পারবেন। আশা করা যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে আমানত প্রবৃদ্ধি ফের আগের জায়গায় ফিরে যাবে।

কমছে আমানত

তাতে দেখা যায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংক খাতে আমানত যোগ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৯ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।

আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংক খাতে আমানত যোগ হয়েছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। ওই সময়ে আমানতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

গত জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।

এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণের তীব্র সময় ২০২০-২১ অর্থবছরেও ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ওই অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে নতুন আমানত যোগ হয় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে আমানত যোগ হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা, আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমানত যোগ হয়েছিল ৯৬ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।

মহামারির অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে আমানতের যে প্রবাহ ছিল, গত অর্থবছর শেষে তা সেই পর্যায়ে চলে গিয়েছে।

আমানতে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, মেয়াদি অর্থাৎ সঞ্চয়ী আমানতের পরিমাণ কমে গিয়েছে সবচেয়ে বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরে মেয়াদি আমানত কমেছে ৩০ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংক খাতে মেয়াদি আমানত যোগ হয়েছে ৯৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যা আগের অর্থ বছরের চেয়ে ৪২ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা কম। অর্থাৎ এক অর্থবছরে এ পরিমাণ সঞ্চয়ী আমানত কমেছে ।

২০২০-২১ অর্থবছরে মেয়াদি আমানত সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। সে সময় মেয়াদি আমানত যোগ হয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাধারণ আমানতে ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি নিয়ে যোগ হয়েছে ২৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

বাড়ছে জীবন যাত্রার ব্যয়

মানুষের জীবন-পরিচালনার খরচ যে বেড়ে গিয়েছে তার প্রমাণ মেলে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর তথ্যে।

খাদ্যপণ্যের মৌলিক ৩টি পণ্য চাল, তেল ও আটার দর টিসিবির তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরে ২০২১ সালের ৩০ জুন মোটা চালের দর ছিল প্রতি কেজি ৪৪ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা, মাঝারি দরের চাল ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়, আর সরু চালের প্রতি কেজির দাম ছিল ৫৬ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায়।

এক বছর পরে গত জুন শেষে ঢাকা মহানগরে মোটা চালের প্রতিকেজি দর ছিল ৪৮ থেকে সর্বোচ্চ ৫২ টাকা। এক বছরে মোটা চালের প্রতিকেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। শতকরা হিসাবে যা ৯ শতাংশ।

মাঝারি দরের বিভিন্ন চালের মূল্য গত বছরে ব্যবধান ছিল ৬ টাকা, এ বছরে ব্যবধান ৮ ধেকে ১০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীতে বিভিন্ন দরের মাঝারি মানের চাল বিক্রিও হয় ৫২ থেকে সর্বোচ্চ ৬২ টাকায় প্রতি কেজি। এক বছর আগে যা ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়।

আর ৫৬ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায় থাকা সরু চালের প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৬৪ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায়। সরু চালের দর প্রতিকেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকায়।

টিসিবির পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের মধ্যে সরু চালে ১৯ শতাংশ, মাঝারি মানের চালে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও মোট চালের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।

একইভাবে প্রতিকেজি খোলা আটার দাম বেড়েছে এক বছরের ব্যবধানে ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আর প্যাকেটজাতে বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

খোলা ময়দায় প্রতি কেজিতে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও প্যাকেটজাতে বেড়েছে ৫৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। ভোজ্য তেলে প্রতি লিটারে (লুজ) ১২২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক বছরের ব্যবধানে ১৮৫ টাকা। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ৫২ ভাগ।

এভাবে খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে সার্বিকভাবে সঞ্চয় কমে গেছে।

আরও পড়ুন:
কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়
বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The Miniket controversy is now in the hearing of the Competition Commission

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশন বাজারে প্যাকেটজাত চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে? প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

বিআর-২৮, নাজিরশাইল, জিরাশাইল চাল কেটে তৈরি করা হয় মিনিকেট। প্রতি কেজির দাম ৫৬ টাকা। প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে এমন দাবি করেছেন বাজারে প্যাকেটজাত ব্র্যান্ড চালসহ ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি।

বাজারে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা কমিশন রশিদ অ্যাগ্রো নামে অপর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে?

এ সময় ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৫৬ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল কোথায় পাওয়া যায়, জানতে চায় কমিশন। কিন্তু এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক এ প্রতিষ্ঠান।

শুধু চালই নয়, আটা ময়দা ও চালের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে শুনানিতে ডাকা হয় সিটি গ্রুপকে।

সিটি গ্রুপের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা ও গ্রুপের আইনজীবী।

শুনানি শেষে বিশ্বজিৎ সাহা সাংবাদিকদের জানান, তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়ার জন্য সময় চাইলে তা দেয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দিয়েছে কমিশন।

পণ্য বিক্রিতে অসম প্রতিযোগিতার অভিযোগে ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

চাল, আটা-ময়দা, ডিম, মুরগি টয়লেট্রিজ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অতি মুনাফার প্রমাণ পায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। অভিযোগ নির্দিষ্ট করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর।

প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, হঠাৎ করেই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এতে চরম সমস্যার মুখে পড়ে সাধারণ ভোক্তা। স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা না করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসায় একচেটিয়া কর্তৃত্ব সৃষ্টির কারণে বেসামাল হয় বাজার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনে শুরু হয় এসব মামলার শুনানি। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। শুনানিতে ৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্তি তুলে ধরে।

চালের জন্য রশিদ অ্যাগ্রো ফুড, সিটি গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, বেলকন গ্রুপ, আটা-ময়দার জন্য সিটি গ্রুপ, ডিম এবং মুরগির জন্য এমডি প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ এবং টয়লেট্রিজ পণ্যের জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন।

চাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেলকন গ্রুপের আইনজীবী ব্যারিস্টার সিনথিয়া সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেলকন গ্রুপ চাল উৎপাদন করে। চালের দাম নিয়ে তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়। তবে, আজ সব তথ্য সরবরাহ করা যায়নি, সময় প্রার্থনা করা হয়। আদালত সময় মঞ্জুর করেছেন।’

শুনানিতে কোম্পানিগুলোর কাছে আমদানি, রপ্তানি এবং উৎপাদনের তথ্য জানতে চায় প্রতিযোগিতা কমিশন। বৈশ্বিক বাজার, ডলারের দাম, শুল্কসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় আনা হয়েছে।

ইউনিলিভারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যে আটটি বিষয়ে কমিশন তথ্য চেয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ নথি নিয়ে আসেননি তারা। এ জন্য সময় চাইলে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেয় কমিশন। এ সময়ের মধ্যে তারা সব নথি কমিশনে দাখিল করবে।

শুনানিতে আইনজীবী জানান, ইউনিলিভারে বিনিয়োগের ৬০ ভাগ বিদেশি আর ৪০ ভাগ শেয়ার বাংলাদেশ সরকারের। তাদের উৎপাদিত সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, শ্যাস্পুসহ কয়েকটি টয়েলেট্রিজ পণ্যের দাম বেড়েছে, এ কথা ঠিক। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এর মুল কারণ।

বলা হয়, ডলারের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিও পণ্যের দাম বাড়ার কারণ। ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৬ টাকার সময় ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরে সেটা ১০৭ টাকায় শোধ করতে হয়েছে। এ সময় শুল্ক হারের যে কাঠামো ছিল, ডলারের দাম বাড়ার কারণে সেটাও বেড়ে গেছে। কারণ ডলার ১০৭ টাকা ধরে শুল্ক দিতে হয়েছে।

এসব তথ্য নির্দিষ্ট করে কাঁচামালের আমদানি, কোন পণ্যের দর কত বৃদ্ধি পেয়েছে– সব তথ্য তারা কমিশনে সরবরাহ করবেন।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরাও শুনানিতে অংশ নেন। সংগঠনের সভাপতি জানান, ডিমের বিক্রিমূল্য এবং ক্রয়মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।

সোম ও মঙ্গলবার প্রথম দুই দিনে ১১ মামলার শুনানির জন্য ডাকা হলো আট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীকে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের মামলার বিষয়ে শুনানি করা হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এরফান আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

চাল ও আটা-ময়দার বাজারে অস্থিরতার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে অস্থিরতার জন্য ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, মুরগির দামে অস্থিরতার জন্য নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেডের পরিচালক এবং টয়লেট্রিজের জন্য স্কয়ার টয়লেট্ররিজের হেড অব অপারেশনকে শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

চালের বাজারে অস্থিরতার কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল হান্নান, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

চাল, আটা-ময়দা ও টয়লেট্রিজের জন্য এসিআইয়ের চেয়ারম্যানকে একই দিন শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, মুরগির বাজারের জন্য সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইওকে ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যে রাজা-রানিতে কেন বদলায় জাতীয় সংগীত?
চালের দামে সুবাতাস
চার্লসের মাথায় ব্রিটিশ রাজমুকুট, বদলাচ্ছে জাতীয় সংগীত
চালের দাম কমতে শুরু করেছে মোকামে
চালের দাম আরও কমবে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে