× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Shaheed Janani got dividends in the capital market after two decades
hear-news
player
google_news print-icon

দুই দশক পর পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ পেলেন শহীদ জননী

দুই-দশক-পর-পুঁজিবাজারে-লভ্যাংশ-পেলেন-শহীদ-জননী
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ডের ঘণ্টা বাজানো ও বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তি কর্মসূচি’ অনুষ্ঠানে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়। জাহানারা ইমামের পরিবারের নিষ্পত্তিকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪১০ টাকা।

পুঁজিবাজারের অনিষ্পত্তিকৃত নগদ লভ্যাংশের অর্থ পেল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের পরিবার। দীর্ঘ দুই দশক পর শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, তার দুই সন্তান শহীদ শাফী ইমাম রুনি ও সাইফ ইমামের শেয়ারের অনিষ্পত্তিকৃত অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ডের ঘণ্টা বাজানো ও বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তি কর্মসূচি’ অনুষ্ঠানে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

সাইফ ইমামের পক্ষে তার অনুমোদিত প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান চেক গ্রহণ করেন। চেক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

দুই দশক পর পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ পেলেন শহীদ জননী
সাইফ ইমামের পক্ষে তার অনুমোদিত প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান চেক গ্রহণ করেন।

সিএমএসএফ চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, ড. মিজানুর রহমান ও ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

জাহানারা ইমামের পরিবারের নিষ্পত্তিকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪১০ টাকা।

অনুষ্ঠানে ৭০ লাখ ৫১ হাজার ৭০২ টাকা ৮৩ পয়সা সমমূল্যের বিনিয়োগকারীদের অমীমাংসিত দাবি নিষ্পত্তি করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ডে’র লেনদেন শুরু উপলক্ষে ঘণ্টা বাজানো হয়।

ফান্ডটির লেনদেন শুরু হবে বুধবার। এই ফান্ডের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০০ কোটি টাকা। এটির উদ্যোক্তা হিসেবে সিএমএসএল ৫০ কোটি টাকা এবং আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইসিবি এএমসিএল) ২০ কোটি টাকা দিয়েছে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি) প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের পাঁচ কোটি টাকা দেয়। বাকি ২৫ কোটি টাকা সব বিনিয়োগকারীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়, যা আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। ফান্ডটির ইউনিট প্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এই গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে আসা হচ্ছে। ৩১ মার্চ সিএমএসএফ ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা চুক্তির বিষয়ে বিএসইসি অনুমোদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল একটি ট্রাস্ট ডিড সই হয়।

‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’-এর স্পন্সর ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড। সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া ফান্ডটির কাস্টোডিয়ান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এবং ট্রাস্টি হিসেবে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি রয়েছে।

এই ফান্ডের উদ্দেশ্য হল দেশের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য ছোট ও মাঝারি আকারের সঞ্চয়কারীদের সঞ্চয়কে বাণিজ্য ও শিল্পে ব্যবহার করা এবং ইউনিট হোল্ডারদের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ঝুঁকি-সামঞ্জস্যপূর্ণ মুনাফা দেয়া। এই তহবিলের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা হবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, অনাবাসী বাংলাদেশি, মিউচুয়াল ফান্ড ও যৌথ বিনিয়োগ স্কিমগুলো।

সিএমএসএফ সময়মতো তারল্য সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনয়ন করে এবং আইসিবি এএমসিএল গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মতো একটি উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিবকে নিয়ে বিপাকে দুদক
বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি
বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন
শেয়ারের দাম ১০৯ টাকা, কোম্পানির অস্তিত্ব নেই
দেড় গুণের বেশি কোম্পানির দরপতনেও সূচকের উত্থান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC Committee on Capital Market Stability Fund Audit

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি
সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি তেমন কিছুই না। তহবিলের এক বছর হয়ে গেছে। তাই তাদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে চাইছি। আমাদের বিবেচনায় তারা ভালো কাজ করছে।‘

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে গঠিত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলের কার্যক্রম নিরীক্ষার জন্য দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি)।

রোববার বাংলাদেশ বিএসইসি এই নির্দেশনা জারি করেছে।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন কোম্পানির অবণ্টিত লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে ২০২১ সালে কাজ শুরু করে এই তহবিল।

এটির শুরুতে যে আইন করা হয়, সে সময় বলা হয়, বিএসইসি চাইলে বা প্রয়োজন মনে করলে সিএমএসএফের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে পারবে।

‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১’-এর ১৩ নম্বর ধারায় বলা আছে, যদি বিএসইসির তৈরি করে দেয়া কমিটি কোনো তথ্য জানতে চায় তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফান্ডের কর্মকর্তাদের সেসব তথ্য লিখিতভাবে জানাতে হবে।

রোববার বিএসইসির সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা দরকার হয়ে পড়েছে।

এই খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরা হলেন বিএসইসির উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম ও বিএসইসির সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন সেলিম।

কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

খতিয়ে দেখার প্রয়োজন কেন পড়ল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না। আপনি কমিশনার শামসুদ্দিন স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

তবে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি তেমন কিছুই না। তহবিলের এক বছর হয়ে গেছে। তাই তাদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে চাইছি। আমাদের বিবেচনায় তারা ভালো কাজ করছে।’

তহবিলটি কী, কত টাকা জমা

২০২১ সালের শুরুর দিকে ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিল’ নামে বিশেষ এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। এর উদ্দেশ্য তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অবণ্টিত অর্থ বিনিয়োগে আনা।

২০২১ সালের জুলাইয়ে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১’ গেজেট প্রকাশ হয়।সেই বছরের আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে তহবিল। এরপর অবণ্টিত লভ্যাংশের টাকা তহবিলে জমা দিতে বলা হয় কোম্পানিগুলোকে।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নগদ অর্থ ও শেয়ার জমাদানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তহবিলে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা দেয়নি।

ফান্ড গঠনের এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও মোট ফান্ডের মাত্র ১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছিল, প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

অবণ্টিত দাবিহীন লভ্যাংশ কী?

কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণার পর তা তাদের ডিভিডেন্ড অ্যাকাউন্ট থেকে বিনিয়োগকারীদের নামে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নগদ লভ্যাংশ সরাসরি বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। স্টক লভ্যাংশ জমা হয় তাদের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টে।

যাদের নামে শেয়ার, তারা কেউ মারা গেলে, বিদেশে চলে গেলে কিংবা দীর্ঘদিন খোঁজ না রাখলে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে যায়। বিও হিসাবের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

এমন ক্ষেত্রে লভ্যাংশের টাকা বা শেয়ার বিনিয়োগকারীর ব্যাংক বা বিও অ্যাকাউন্টে জমা না হয়ে কোম্পানির কাছে ফেরত যায়।

বিনিয়োগকারীর মৃত্যুর পর অনেক সময় তথ্য বা কাগজপত্রের অভাবে তার মনোনীত উত্তরাধিকারও সেই টাকা বা শেয়ার আর দাবি করেন না।

এর বাইরেও আইনি জটিলতা বা অন্য কারণে লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীর হাতে পৌঁছায় না অনেক সময়। তখন কোম্পানি ওই সব লভ্যাংশ ‘সাসপেন্ডেড’ হিসাবে জমা দেখিয়ে চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী তৈরি করে।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল
সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
40 percent owned by 10 companies 36 in 200

১০ কোম্পানির দখলে ৪০ শতাংশ, ২০০টিতে ৩.৬

১০ কোম্পানির দখলে ৪০ শতাংশ, ২০০টিতে ৩.৬
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ওষুধ ও রসায়ন খাতের যে প্রাধান্য দেখা গিয়েছিল, সেটি কিছুটা কমেছে। এদিন সব খাতকে ছাড়িয়ে গেছে প্রকৌশল। আর ওষুধ খাত নেমেছে তৃতীয় স্থানে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝিমাতে থাকা বস্ত্র খাত গা ঝাড়া দিয়ে উঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় এই খাতের বেশ কিছু কোম্পানিকে দেখা গেছে।

পুঁজিবাজারে বেশ কিছুদিন পর দরপতন হওয়া কোম্পানির তুলনায় দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা বেশি দেখা গেলেও বাজারে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি থেকে উত্তরণেল বিন্দুমাত্র আভাস সেই।

বিপুল সংখ্যক শেয়ার এখনও ফ্লোর প্রাইসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। অল্প কিছু কোম্পানিতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে লেনদেনের ৪০ শতাংশ কেবল ১০টি কোম্পানিতে। অন্যদিকে লেনদেনের ৩.৬ শতাংশ হয়েছে ২০০ কোম্পানি মিলিয়ে আর ৩০০ কোম্পানি মিলিয়ে হয়েছে লেনদেনের ১৭ শতাংশ।

এসব কারণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচক ও লেনদেন বাড়লেও পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি।

এদিন আবার যেসব কোম্পানির দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু লোকসানি, বছরের পর বছর ধরে লভ্যাংশ দিতে পারছে না।

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ওষুধ ও রসায়ন খাতের যে প্রাধান্য দেখা গিয়েছিল, সেটি কিছুটা কমেছে। এদিন সব খাতকে ছাড়িয়ে গেছে প্রকৌশল। আর ওষুধ খাত নেমেছে তৃতীয় স্থানে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝিমাতে থাকা বস্ত্র খাত গা ঝাড়া দিয়ে উঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় এই খাতের বেশ কিছু কোম্পানিকে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে এদিন সূচক বেড়েছে ১৮ পয়েন্ট। যদিও দিনের মধ্যভাগে আর বেশি সূচক বেড়ে লেনদেন হতে দেখা গেছে।

বেলা ১২টার এক মিনিট আগের দিনের চেয়ে ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৫৫৭ পয়েন্ট। শেষ দিকে দরপতনে সেই উত্থান স্থায়ী হয়নি। ১৮ পয়েন্ট যোগ হয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৩১ পয়েন্টে।

১০ কোম্পানির দখলে ৪০ শতাংশ, ২০০টিতে ৩.৬
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

দর বেড়েছে ১১৫টি কোম্পানির শেয়ারের, বিপরীতে কমেছে ৮১টির। আর আগের দরে লেনদেন হয়েছে ১৭৭টির, যেগুলোর সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে।

লেনদেন চার কর্মদিবস পর ছাড়াল দেড় হাজার কোটি টাকা। হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৫৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার টাকা, যা আগের কর্মদিবসের চেয়ে ৩১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২১৬ কোটি ৯৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজারের লেনদেন নিয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘আজ পুঁজিবাজারের লেনদেন কিছুটা বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে বলা যায়। কারণ কিছু দিন থেকে যেসব খাতে বিনিয়োগ বেশি হচ্ছিল, বা ওই সব খাত থেকে সরছিল না, সেখান থেকে ফান্ড অন্য খাতেও মুভ করেছে। বস্ত্র খাতেও কিছু ক্রয় প্রবণতা দেখা গেছে।’

সূচকের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দিনের অগ্রভাবে যেসব শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচক বাড়ছিল, শেষ দিকে সেগুলোর দর হারানোর কারণে সূচক কমতে থাক। তা ছাড়া সূচক আরও বেশি বাড়তে পারতো।’

লেনদেনের ৪০ শতাংশ ১০ কোম্পানিতে

দরপতন হলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ওরিয়ন ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেড।

ওরিয়নে লেনদেন হয়েছে ১২১ কোটি ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৮৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৬টি।

বেক্সিমকোর ৭৬ লাখ এক হাজার ৩২৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০০ কোটি ৯৩ লাখ ৫২ হাজার টাকায়।

ইস্টার্ন হাউজিংয়ের লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬টি শেয়ার।

এই তিন কোম্পানিরই দরপতন হয়েছে।

জেএমআই হসপিটালের ৬৬ কোটি ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৫২টি।

বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪৫ হাজার ২৭৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৩৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

আর কোনো কোম্পানির লেনদেন ৫০ কোটি অতিক্রম করেনি।

কপারটেক, শাইনপুকুর সিরামিকস, বিবিএস ক্যাবলস, ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন ও বসুন্ধরা পেপারের লেনদেন হয়েছে ৩০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে।

এই দশটি কোম্পানিতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১১ কোটি ৮১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। যা মোট লেনদেনের ৩৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে এমন ৩০০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ২৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৭.২৪ শতাংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেন হওয়া ২০০টি কোম্পানির ৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে যা মোট লেনদেনের ৩.৬ শতাংশেরও কম।

ফার্মা-বিবিধ খাত টপকে শীর্ষে প্রকৌশল

দীর্ঘ সময় ধরে লেনদেনে শীর্ষ অবস্থান করছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এরপর বিবিধ খাতে শীর্ষ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে।

রোববার লেনদেনে বিকেন্দ্রীকরণ দেখা গেছে। এই দুই খাতকে টপকে শীর্ষে চলে এসেছে প্রকৌশল খাত।

হাতবদল হয়েছে ২৩৩ কোটি ১ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৬.০৮ শতাংশ।

লেনদেনে সঙ্গে দরবৃদ্ধিও হয়েছে খাতটিতে। ২৩টি বা ৫৪.৭৬ শতাংশ দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ১০টির। আর ৯টির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে।

বিবিধ খাতে লেনদেন হয়েছে ২২৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ৪টি করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি ও অপরিবর্তিত ছিল দরে লেনদেন হয়েছে। আর ৬টির দর কমেছে।

যে ওষুধ রসায়ন খাতে লেনদেন এক সময় ছয় শ কোটি ছাড়িয়েছিল, তার লেনদেন নেমে এসেছে ২২৯ কোটি ৫০ লাখে।

১২টি কোম্পানির দরবৃদ্ধি, ৮টির দরপতন ও ১০টির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে আগের দরে।

অনেক দিন পর জেগে উঠেছে বস্ত্র খাত। লেনদেন হয়েছে ১৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার।

কিছুটা দরবৃদ্ধি হলেও বিপুল সংখ্যক কোম্পানির লেনদেন হচ্ছে ফ্লোর প্রাইসে। খাতের ২০টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩৮টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে। মাত্র একটি কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

আর কোনো খাতে এক শ কোটি টাকা লেনদেন হয়নি।

সেবা ও আবাসন খাতে লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার। ২টি করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি ও দরপতন দেখা গেছে।

এ ছাড়াও লেনদেনে এগিয়ে ছিল জ্বালানি, প্রযুক্তি, কাগজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিরামিকস খাত। এসব খাতের ৫০ কোটি থেকে ৯০ কোটির মধ্যে লেনদেন হয়েছে।

শীর্ষ পাঁচ খাতের বাইরে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি হয়েছে- জ্বালানি খাতে ৩৪.৭৮ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩৬.৩৬ শতাংশ, সিরামিকস খাতে ৬০ শতাংশ, খাদ্য খাতে ৩১.৫৮ শতাংশ, সিমেন্ট ৫৭.১৪ শতাংশ, সাধারণ বিমা ২১.৯৫ ও ব্যাংক খাতে ১৮.১৮ শতাংশ।

সূচক বাড়াল যারা

সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৮১ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের দর ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭০ পয়েন্ট।

বসুন্ধরা পেপার সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এর বাইরে জিপিএইচ ইস্পাত, কেয়া কসমেটিকস, ওরিয়ন ইনফিউশন, পাওয়ার গ্রিড, ম্যাকসন স্পিনিং, বিএসআরএম স্টিল ও সাইফ পাওয়ার সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭০ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৬২ পয়েন্ট সূচক কমেছে বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমেছে সি পার্লের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

আইসিবির দর ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ২দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

এ ছাড়া শাহজিবাজার পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, আইডিএলসি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ইউনিক হোটেল, আইপিডিসি ও সোনালী পেপারের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৮ দশমিক ৭২ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

শীর্ষ দশের সবকটির দরই বেড়েছে সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ ও এর আশেপাশে।

১০ শতাংশ করে দর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে মেট্রো স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫১ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনে দর ছিল ৪৭ টাকা।

চলতি অর্থবছরের তিন প্রান্তিকের হিসাবে শেয়ার প্রতি এক টাকার কিছু বেশি মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।

একই সমান দর বেড়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঋণ কেলেঙ্কারি ও লোকসানে ডুবে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি।

শেয়ারটির দর বেড়ে ৬ টাকা থেকে ৬ টাকা ৬০ পয়সায় সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে।

বিডিকমের দর ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৭ টাকা ৪০ পয়সায়।

বিবিএস ক্যাবলসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ টাকা ৯০ পয়সায়। দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

শীর্ষ পাঁচে অবস্থানকারী ম্যাকসন স্পিনিংয়ের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। হাতবদল হয়েছে ২৬ টাকা ৯০ পয়সায়।

বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, লোকসানি কেয়া কসমেটিকস ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, আমান ফিড ও কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজও ছিল দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায়।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সি পার্ল। ৭ দশমিক ১২ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১২১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। আগের দিনে লেনদেন হয় ১৩০ টাকা ৬০ পয়সায়।

পরের স্থানে ছিল ইনডেক্স অ্যাগ্রো। ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ দর কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন। ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ৪১ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- শাহজিবাজার পাওয়ার, বিডি ওয়েলডিং, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, ফু-ওয়াং সিরামিকস, ইস্টার্ন হাউজিং, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পেনিনসুলা চিটাগং।

আরও পড়ুন:
সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In the promotion play Dissatisfaction with DSE

‘পদোন্নতির খেলায়’ ডিএসইতে অসন্তোষ

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
একজন সিনিয়র ম্যানেজার বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সেই ৯৫ কর্মকর্তাকে আগের পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে ইমেইল করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন না, তারা এখন কোন পদে। এর কারণ, নতুন পদ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হলেও নতুন পদের যে সুযোগ সুবিধা, সেগুলো বহাল আছে।

স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে কিছু কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত সংশোধন হবে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এখন এসব কর্মকাণ্ডে তারা মানসিক চাপে আছেন। এতে কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে গত ২৩ আগস্ট ৯৫ জনকে পদোন্নতি দেন ডিএসইর সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া। কিন্তু নিজেদের মনমতো না হওয়ায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল পরিচালনা পর্ষদ। এ টানাপড়েনের সমাপ্তি ঘটে এমডির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

পদোন্নতি পাওয়া ডিএসইর একজন মহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে জানান, এমডি পদত্যাগ করার পর, তাদেরকে মেইল করে আগের পদবি ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এতে বিস্ময় প্রকাশ করে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা কীভাবে হতে পারে? যেখানে অফিশিয়ালি আমাদের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেখানে মেইল করে পদ বাতিল করে আগের পদেই কাজ করার কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক?

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ
ডিএসইতে পদোন্নতি নিয়ে বিরোধের জেরে এমডির পদ ছেড়েছেন তারিক আমিন ভূঁইয়া

পদোন্নতি বাতিল হওয়ায় মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান একজন সিনিয়র ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।

‘এখন আমার পদ কী, সেটাই নিশ্চিত নই। অফিশিয়ালি জানানো হয়েছে আমি সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছি। অথচ মেইল করে বলা হচ্ছে আমি ম্যানেজারই আছি। এখন আমি কোনটা লেখব? কোনটা ঠিক? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।’

জিএম পদবির আরেকজন বলেন, ‘ভুল করলে কর্তৃপক্ষ করেছে। সে জন্য এমপ্লয়িরা কেন শাস্তি পাবেন, অপমানিত হবেন, এটা কী আইন।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা জানান, আগের এমডির নির্দেশনা মেনে যারা কাজ করেছেন, তারা এখন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। জিএম হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া একজন বলেন, ‘এক মাসের বেশি হয়েছে আমি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু এইচআর থেকে বলা হয়েছে আমি নাকি সেই ডিজিএমই আছি। আবার আমাকে জিএম হিসেবে গাড়ি দেয়া হচ্ছে, মোবাইল অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে জিএম হিসেবেই। তাহলে আমার পদ কোনটা?’

পদোন্নতি পাওয়া একজন এজিএম বলেন, ‘আমাদের পদোন্নতি দেয়া হলেও, আমরা সে অনুযায়ী টাইটেল লিখতে পারছি না। আমাদের টাইটেল লিখতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিং করে এসব কর্মকর্তার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেশ কিছু পদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, যেখানে আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে তো কেউ চাইলেই তা লঙ্ঘন করতে পারে না। আইন যেখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘিত করে দেয়া হয়েছিল। সেটাই ঠিক করা হবে।’

কবে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা থেকে কিছু বাদ যাবে আর কিছু সংশোধন হবে।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ইমেইলে আগের পদেই বহাল থেকে কাজ করতে নির্দেশনা প্রসঙ্গে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরপরই, সবাইকে আবারও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেয়া হবে তাদের পদের ব্যাপারে। এতে তাদের কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না ।’

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখনও কিছু জানায়নি ডিএসই। আমরা রোববার খবর নেব। বিষয়টা এমন হতে পারে, ওদের অর্গানোগ্রামের বাইরে বোধ হয় কয়েকটা পদোন্নতি হয়ে গেছে, তাই হয়ত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে।’

‘যদি ডিএসই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন বা পদোন্নতি বাতিল করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যদি এর বাইরে করে তাহলে আমাদের জানাবে’- যোগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এর আগে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম তিনজন, ডিজিএম থেকে জিএম তিনজন, এজিএম থেকে ডিজিএম তিনজন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম ১৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ২৯ জন, এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ১০ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ ছয়জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ একজন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন, জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ছয়জন পদোন্নতি পান।

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Margin lending boosts profits in capital markets BICM

মার্জিন ঋণে পুঁজিবাজারে মুনাফা বাড়ে: বিআইসিএম

মার্জিন ঋণে পুঁজিবাজারে মুনাফা বাড়ে: বিআইসিএম
তামান্না ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগের আকার মার্জিন ঋণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই ঋণ নেয়ার পর ট্রেডিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়। মার্জিন ঋণের পরিমাণ রিটার্নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পোর্টফোলিওর আকার মার্জিন ঋণের পরিমাণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ নিলে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়ে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) এই গবেষণাটি করেছে।

ইনস্টিটিউটের মাল্টিপারপাস হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘বিআইসিএম রিসার্চ সেমিনার-১৬’এ মূল গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তামান্না ইসলাম এটি উপস্থাপন করেন। গবেষণা শিরোনাম হচ্ছে ‘বিনিয়োগ আচরণ এবং কর্মক্ষমতার ওপর মার্জিন ঋণের প্রভাব: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অন্তর্দৃষ্টি’।

গবেষণায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আচরণ এবং কর্মক্ষমতার ওপর মার্জিন ঋণের প্রভাব পরীক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তামান্না ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের আকার মার্জিন ঋণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই ঋণ নেয়ার পর ট্রেডিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়। মার্জিন ঋণের পরিমাণ রিটার্নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পোর্টফোলিওর আকার মার্জিন ঋণের পরিমাণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মাহমুদা আক্তার।

সেমিনারে আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন এবং রয়েল ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মুনির আহমেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া।

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের প্রভাবে নিয়ে একমাত্র বিআইসিএমই গবেষণা করেছে বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মাহমুদা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘বিআইসিএম পুঁজিবাজার সংক্রান্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কাজের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রেক্ষিতে মার্জিন ঋণের ওপর এ ধরনের গবেষণা বাংলাদেশে প্রথম। গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশের পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’

তবে গবেষণার বিষয় ও মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্ত ফলাফল সাংঘর্ষিক বলে মত দেন সেমিনারের আলোচক আল-আমিন। আরও বেশি সময় নিয়ে গবেষণা পরিচালনার পরামর্শ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, ‘গবেষণাটির লিটারেচার রিভিউ এবং ফাইন্ডিং সাংঘর্ষিক। এখানে প্র্যাকটিক্যাল আরও অনেক বিষয় আনলে ভালো হতো। আরও কিছু বিষয় যুক্ত করে গবেষণার সময়সীমা বাড়িয়ে ফলাফল পুনরায় পরীক্ষ করা যেতে পারে।’

এ ছাড়াও এই গবেষণায় মাল্টিনমিয়াল লজিস্টিক রিগ্রেশন মডেলের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মোহাম্মদ মুনির আহমেদ বলেন, ‘মার্জিন ঋণের প্রভাব নিয়ে মার্কেটে যারা আছেন তাদের চিন্তা করা উচিত। কেন দেব, কী কারণে দেব- সে বিষয়টাও ভাবা উচিত। এটা চিন্তা করলে সবার জন্য ভালো হবে।’

বিআইসিএমের অনুষদ সদস্য, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন
লভ্যাংশ ঘোষণা করে কিন্তু দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Corporate governance will increase the share price

শেয়ারের দর বাড়াবে ‘করপোরেট সুশাসন’

শেয়ারের দর বাড়াবে ‘করপোরেট সুশাসন’ করপোরেট সুশাসন নিয়ে চট্টগ্রাম ক্লাবে দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘এই সুশাসন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপযুক্ত রিটার্ন পেতে সহায়তা করে। ভালো করপোরেট গভর্ন্যান্স শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতেও সহায়তা করতে পারে। এটি আর্থিক ক্ষতি, অপচয়, ঝুঁকি এবং দুর্নীতি কমাতে পারে। এটি স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য একটি গেম প্ল্যান।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে একটি আলোচনায় বলা হয়েছে, এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে শেয়ারদর বাড়বে।

বক্তরা বলেন, এই সুশাসন কোম্পানির গুরুত্ব বাড়ায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। ফলে তার আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ক্লাবে দিনব্যাপী সম্মেলনের কি-নোট প্রেজেন্টেশনে এসব কথা বলা হয়।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি এবং চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসই যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সচিবদের উদ্দেশ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসইসির কমিশনার মিজানুর রহমান।

কি-নোট প্রেজেন্টার ও বিশেষ অতিথি থেকে প্রতিপাদ্য বিষয়ে বক্তব্য দেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান করপোরেট সুশাসন ক্রাইসিস, করপোরেট ম্যানেজমেন্ট ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘করপোরেট ক্রাইসিস হ্রাসকরণে বিএসইসি ১৫ বছর ধরে কাজ করছে। কোম্পানির বোর্ড, বোর্ড কমিটি এবং ইনভেস্টরদের মধ্যকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন এবং নিরীক্ষক নিয়োগের বিষয়ও তদারক করে বিএসইসি।’

এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আজকের সম্মেলনের উদ্দেশ্য করপোরেট সুশাসন সম্পর্কে মাইন্ড সেট, করপোরেট কালচার ও এনভায়রনমেন্ট নির্ধারণ এবং সেই অনুসারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

বিষয়গুলোর সচিত্র উপস্থাপন করে তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেট সুশাসন কোম্পানির গুরুত্ব বাড়ায়। এর সঙ্গে নতুন মূল্য যুক্ত করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াই করপোরেট সুশাসন, যাতে আইনি বিধিমালা সন্নিবেশিত থাকে। এটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়।’

শেয়ারের দর বাড়াবে ‘করপোরেট সুশাসন’

সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘করপোরেট সুশাসন হলো একটি কোম্পানিকে পরিচালনা করতে ব্যবহৃত নিয়ম, অনুশীলন এবং প্রক্রিয়াগুলোর কাঠামো। একটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ হলো এই সুশাসন নিশ্চিত করার প্রাথমিক শক্তি। এটি স্বচ্ছ নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে, নেতৃত্বকে নির্দেশনা প্রদান করে এবং শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা এবং কর্মচারীদের স্বার্থকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে।’

তিনি বলেন, ‘করপোরেট সুশাসন বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে। এটি বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডারদের একটি কোম্পানির দিকনির্দেশনা এবং ব্যবসায়িক সততা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা প্রদান করতে পারে।’

আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘এই সুশাসন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপযুক্ত রিটার্ন পেতে সহায়তা করে। ভালো করপোরেট গভর্ন্যান্স শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতেও সহায়তা করতে পারে। এটি আর্থিক ক্ষতি, অপচয়, ঝুঁকি এবং দুর্নীতি কমাতে পারে। এটি স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য একটি গেম প্ল্যান।’

স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর পরিচালক এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের যথাযথ পরিপালন পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন
লভ্যাংশ ঘোষণা করে কিন্তু দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন
সিংহভাগ কোম্পানি ফ্লোরে, নামছে আরও অনেকগুলো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC wants information about the banks investment in the capital market

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের তথ্য চায় বিএসইসি

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের তথ্য চায় বিএসইসি
এক্সপোজার লিমিট নিয়ে এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারে যে হতাশা, তা কাটছে না। গত দুই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পাঁচ শ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও সেটি বেড়েছে হাতে গোণা কয়েকটি কোম্পানির কারণে। পৌনে দুই শ কোম্পানির শেয়ার এখনও বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছে। আর এই দরেও শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে না বললেই চলে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সীমা বা এক্সপোজার এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগ সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার পরে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে কমিশনে জমা দেয়ার জন্য ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, ‘তালিকাভুক্ত সব ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোকে (দুটি এক্সচেঞ্জের যে কোনো একটিতে তালিকাভুক্ত) পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য গঠিত ফান্ডের বিনিয়োগ সম্পর্কে কমিশন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে তথ্য সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

চিঠিটি ব্যাংকগুলোর কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এক্সচেঞ্জ দুটিকে। এতে বলা হয়, ‘উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে এই চিঠিটি ছড়িয়ে দেয়ার এবং তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তির পরে প্রতি মাসের ৫ তারিখে বা তার আগে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধসের পর নানা সময় ব্যাংকে বিনিয়োগের সীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনা পদ্ধতি পাল্টানোর দাবি ছিল। কোনো শেয়ারের ক্রয়মূল্য বা বাজার মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি হিসাব করেই এই লিমিট গণনা করা হতো। এর ফলে শেয়ারের দর বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলো তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতো। ফলে বাজারে শেয়ারের বিক্রয়চাপ তৈরি হতো।

এ কারণে শেয়ারের ক্রয়মূল্য ধরে এক্সপোজার লিমিট নির্ধারণের দাবি ছিল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও এই সুপারিশ করে আসছিল। কিন্তু ফজলে কবির গভর্নর থাকাকালে এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

আবদুর রউফ তালুকদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার পর থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোভাব পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যে গত ১৮ জুলাই এক্সপোজার লিমিটের হিসাব পরিবর্তনে মতামত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২ আগস্ট মন্ত্রণালয় থেকে ফিরতি চিঠিতে একটি কৌশলী মতামত দেয়া হয়।

এতে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকেই বাজার মূল্য হিসেবে বিবেচনার মত দেয়া হয়। এর ফলে এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞায় বাজারমূল্য থাকলেও কার্যত ক্রয়মূল্যতেই সেটি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেই মত মেনেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কোনো ব্যাংক কোম্পানির একক ও সমন্বিত উভয় ভিত্তিতে শেয়ার ধারণের ঊর্ধ্বসীমা নিধারণে সংশ্লিষ্ট শেয়ার করপোরেট বন্ড, ডিবেঞ্চার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য পুঁজিবাজার নিদর্শনপত্রে বাজারমূল্য হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রয়মূল্যকেই বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তবে এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারে যে হতাশা, তা কাটছে না। গত দুই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পাঁচ শ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও সেটি বেড়েছে হাতে গোণা কয়েকটি কোম্পানির কারণে। পৌনে দুই শ কোম্পানির শেয়ার এখনও বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছে। আর এই দরেও শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে না বললেই চলে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে, তার মধ্যে ২০০টি কোম্পানি মিলিয়ে কেবল ৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে। অন্যদিকে ১০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল
সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shares of Monospool rallied on dividend announcement

লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল

লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মনোস্পুল পেপারের কারখানা। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট
সুশাসনের অভাব থাকায় ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়ার এক যুগ পর গত বছর মূল বাজারে ফেরে কোম্পানি। পরের বছর তাদের আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪৩ শতাংশ।

১০ শতাংশ নগদ ও সমপরিমাণ বোনাস ঘোষণার প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে কাগজ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের শেয়ারদর দিয়েছে লাফ।

এক দিন দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা না থাকার দিন দর বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

বুধবার প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ১৯২ টাকা ৯০ পয়সায়। লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে মূল্যসীমা না থাকার দিন বেড়েছে ৩৭ টাকা ১০ পয়সা বা ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। দর দাঁড়িয়েছে ২৩০ টাকা।

সুশাসনের অভাব থাকায় ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়ার এক যুগ পর গত বছর মূল বাজারে ফেরে কোম্পানি। পরের বছর তাদের আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪৩ শতাংশ।

বুধবার কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদ অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে আর বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে বিজ্ঞপ্তি আকারে সে সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়।

কোম্পানিটি এবার ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে। এর অর্ধেক বোনাসে, অর্ধেক নগদে অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার এবং প্রতি শেয়ারে পাবেন এক টাকা করে।

২০২১ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫ টাকা ৪৫ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪ টাকা ২২ পয়সা বা ৩৪৩ শতাংশ।

ওই বছর বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি এক টাকা লভ্যাংশ পেয়েছিল।

গত বছর মুনাফা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ বছর হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। বেড়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ৪৪ টাকা ৮৮ পয়সা, আগের বছর সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা ৪৩ পয়সা।

গত ৫২ সপ্তাহে এই কোম্পানির শেয়ার ১৩৩ টাকা থেকে ২৭৫ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে।

১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি। এর মধ্যে ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫১ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার।

মনোস্পুল পেপারের পরিশোধিত মূলধন ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বর্তমান বাজার মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

দাম কমেছে পেপার প্রসেসিংয়ের

মনোস্পুলের সঙ্গে ওটিসি থেকে ফেরা আরেক কোম্পানি পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ারদর লভ্যাংশ ঘোষণার পর কমেছে।

এই কোম্পানিটি এবার শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৬২ পয়সা মুনাফা করে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৩৪ পয়সা। বেড়েছে ৩ টাকা ২৮ পয়সা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪৪ টাকা।

গত বছর শেয়ারপ্রতি এক টাকা বা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

এবার যে লভ্যাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮ শতাংশ নগদে এবং ৭ শতাংশ বোনাস হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আগের দিন প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩৬ টাকা ৮০ পয়সায়, সেটি এখন দাঁড়িয়েছে ২৩৩ টাকা ২০ পয়সায়।

গত এক বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৫ টাকা, সর্বোচ্চ দর ছিল ৩১৯ টাকা।

১০ কোটি ৪৫ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০টি।

এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করে আছেন উদ্যোক্তা পরিচালকরা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ আর বাকি ৬৪ দশমিক ৪৬ শতাংশই আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

কোম্পানিটির বর্তমান বাজার মূলধন ২৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন:
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে
আয় বাড়িয়ে লভ্যাংশও কিছুটা বাড়াল কন্টিনেন্টাল

মন্তব্য

p
উপরে