× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Record growth in revenue
hear-news
player
google_news print-icon

রাজস্ব আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

রাজস্ব-আয়ে-রেকর্ড-প্রবৃদ্ধি
এ বছরের জুলাই-আগস্টে রাজস্ব আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ২১ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরুতে সরকারি আয়ে এলো সুখবর। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে হয়েছে বড় উলম্ফন। এ বছরের জুলাই-আগস্টে রাজস্ব আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ২১ শতাংশের বেশি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ তথা রাজস্ব বৃদ্ধির এই হার এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত অর্থবছরে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলে, গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আয় বেড়েছে গড়ে ১২ শতাংশ। সে হিসাবে এখন যে প্রবৃদ্ধি হলো এটা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রধানত পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণেই রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়লে বেশি শুল্ক আদায় হয়। এ ছাড়া অম্ভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে মূল্য সংযোজন কর আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আবার উন্নয়ন কাজের গতি বাড়লে আয়কর বাড়ে। এসব কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্বের পালে হাওয়া লেগেছে বলে জানান এনবিআর কর্মকর্তারা।

এনবিআরের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজস্ব আয়ের চলমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে।’

এ বছর এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা।

সরকার বাজেট বাস্তবায়নে যে অর্থায়ন করে তার ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ জোগান দেয় এনবিআর। যে কারণে রাজস্ব আয় ভালো হলে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ সহনীয় থাকে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, আমাদের অর্থনীতির যে আকার তার সঙ্গে রাজস্ব আয় সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তাই আরও বেশি আদায় বাড়াতে হবে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

রাজস্ব বোর্ডের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে কাস্টমস, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর মিলে আদায় হয় ৪০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের এই সময়ে আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর- এই তিন উৎস থেকে রাজস্ব আহরণ করে এনবিআর। এর মধ্যে সবচেয় বেশি অবদান ভ্যাটে। মোট আদায়ের ৩৯ শতাংশ আসে ভ্যাট থেকে। আয়কর থেকে আয় হয় ৩৭ শতাংশ। বাকি রাজস্ব আসে আমদানি শুল্ক থেকে।

পরিসংখ্যান বলে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমদানি শুল্ক খাতে। এই সময়ে শুল্ক আদায় হয় ১৪ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের এই সময়ে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ২৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এনবিআর সূত্র বলেছে, বিশ্ব বাজারে আমদানি করা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণেই বাড়তি শুল্ক আদায় হয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অভ্যন্তরীণ রাজস্বের অন্যতম উৎস ভ্যাট আদায় হয় ১৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এই সময়ে আদায় হয় ১২ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। ভ্যাটে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ শতাংশ।

অপরদিকে, অভ্যন্তরীণ সম্পদের আরেকটি উৎস আয়করে আদায় হয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় আদায় হয় ৮ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। ফলে আয়করে জুলাই-আগস্টে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ।

সব মিলে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে আহরণ হয় ৪০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, যা পুরো বছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ শতাংশ।

গত অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায় করে ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াতে এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা
রাজস্বে দুর্বলতা অর্থনীতির প্রধান সমস্যা: দেবপ্রিয়
রাজস্ব আয় রেকর্ড ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল
৩০ বছর অপেক্ষার পর এনবিআরের নিজস্ব ভবন
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি ভোমরা স্থলবন্দর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Low price oil did not come in four days sugar with high price came the next day

কম দামের তেল আসেনি চার দিনেও, বাড়তি দরের চিনি পরদিনই

কম দামের তেল আসেনি চার দিনেও, বাড়তি দরের চিনি পরদিনই রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি দোকানে সাজিয়ে রাখা সয়াবিন তেল। নিউজবাংলা
কম দামে তেল না পাওয়া গেলেও বেশি দামে চিনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মাগফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা রয়েছে। আমাদের একাধিক ইউনিট বাজার মনিটরিং বা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে কাজ করা হচ্ছে।’

সয়াবিন তেলের দর লিটারে ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়ার চার দিন পরও বাজারে নতুন দামের তেলের দেখা না মিললেও চিনির দাম বাড়ানোর পর দিনেই এসে গেছে বর্ধিত দরের চিনি।

কোনো পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা আসার পর তা বাস্তবায়নে গড়িমসি আর দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরের যে চিত্রটি এর আগে বহুবার দেখা গিয়েছে, তা এবার একসঙ্গে দেখা গেল দুটি ভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে।

গত সোমবার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সমিতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে কোম্পানি মালিকদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা আর খোলা তেলের দাম লিটারে কমবে ১৭ টাকা।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেয়া হয়, নতুন দাম কার্যকর হবে পরদিন থেকে।

তবে এই ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে আরও চারটি দিন। এখনও আগের দর ১৯২ টাকা লিটার হিসেবেই সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ব্যবসায়ীদের অযুহাত, নতুন দামের তেল বাজারে আসতে কয়দিন সময় লাগবে।

সয়াবিন তেলের দাম কমানোর ঘোষণা বাস্তবায়নে গড়িমসির মধ্যে সরকার চিনি কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে বিক্রির অনুমতি দেয় বৃহস্পতিবার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা চিনি ৯০ টাকা আর প্যাকেটজাত চিনির দর হবে ৯৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত জানানোর বাজারে বর্ধিত দরের চিনি আসতে সময় লাগেনি এতটুকু। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, বেঁধে দেয়া দরের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।

শুক্রবার রাজধানী কারওয়ান বাজারসহ অন্য বাজার ঘুরে এমনটাই জানা গেছে।

কারওয়ানবাজারের বিক্রেতা ওমর ফারুক জানান, তিনি সয়াবিন তেলের এক লিটার বোতল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় এবং দুই লিটারের বোতল ৩৮০ টাকা ও পাঁচ লিটার তেলের বোতল ৯৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।

দাম তো ১৭৪ টাকা হওয়ার কথা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দাম কমালেই তো আর সঙ্গে সঙ্গে সেই মাল বাজারে চলে আসে না। আরও কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা কম দামে পেলে অবশ্যই কম দামে বিক্রি করব।’

ক্রেতা হাবিব রহমান বলেন, ‘দাম কমিয়েছে কাগজে-কলমে, বাস্তবে তো দেখছি না। বাজার মনিটরিং কোথায় করা হচ্ছে? আমার প্রশ্ন হলো- বাজার মনিটরিং কি শুধু খুচরা বাজারে করতে হবে? কোম্পানি, ডিলার, পাইকাররা কী দামে বিক্রি করছে, সেটা কে দেখবে?’

দুই-এক জায়গায় অবশ্য নতুন দামে তেল বিক্রি হয়েছে। এমনটাই জানান কাঞ্চনপুর হাজি স্টোরের মিজানুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সয়াবিন পাঁচ লিটারের বোতলটা নতুন দামে পেয়েছি। ৮৮০ টাকায় বিক্রি করছি।’

দাম বাড়ানোর পর দিন এই বাজারে চিনির প্যাকেটের গায়ে কেজিপ্রতি দর ৯৫ টাকা ছাপা থাকা দেখার পর এটা স্পষ্ট হলো যে, নতুন দরের পণ্য বাজারে আসতে সাত দিন সময় লাগার বিষয়টি সঠিক নয় এতটুকু।

আর খোলা চিনির যে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা বেঁধে দেয়া হয়েছে, সে দরে বিক্রি হচ্ছে না। কোথাও দাম রাখা হচ্ছে ৯২ টাকা, কোথাও ৯৩ টাকা।

বেশি দাম রাখার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা যে যুক্তি দেন, সেটি হলো, প্রতি কেজি কিনতে হয় ৮৭ টাকায়। খুচরা বিক্রি করতে গেলে কেজিতে প্রায় ১০ গ্রাম করে ঘাটতি যায়। তাই বেশি রাখতে হচ্ছে।

হামিদ স্টোরের মো. হামিদ বলেন, ‘কিনতেই হচ্ছে ৯০ টাকায়। তাহলে কয় টাকায় বিক্রি করব?’

আরেক বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত সপ্তাহের চেয়ে বস্তাপ্রতি চিনির দাম আরও বেড়েছে। ৪ হাজার ৪০০ টাকা ও প্রতি কেজি চিনি মেপে বিক্রি করার সময় যে ঘাটতি যায়, তাতে খরচ পড়ে যায় ৮৮ বা ৮৯ টাকা। তাই বেশি দামে বিক্রি না করে উপায় থাকে না।’

চিনি কিনতে আসা ক্রেতা শিহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আগে থেকেই তো বেশি দামে কিনছি। কমল আর কই? গত সপ্তাহেও এরকমই দাম ছিল, এখন দুই টাকার মতো বেশি দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যখন দাম কমায় সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করা হয় না। আর যখন বাড়ানোর ঘোষণা আসে, তখন নির্ধারিত সময় থেকেই তা কর্যকর করা হয়। এসব ঠিক করবে কে?’

মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামেই বিক্রি হচ্ছে পাম তেল। এর আগে যখন ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয় তখনও ১৬ থেকে ১৮ টাকা কমে পাম বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১১৭ টাকায়।

বর্তমানে এক লিটার পাম তেলের দাম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামের চেয়েও ৮ থেকে ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে এই তেল।

বিক্রেতা মামা-ভাগিনা স্টোরের আবু বক্কর বলেন, ‘প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি করছি ১১৫ টাকায়। কেজির হিসাবে ১২৫ টাকায়।’

কম দামে তেল না পাওয়া গেলেও বেশি দামে চিনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মাগফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা রয়েছে। আমাদের একাধিক ইউনিট বাজার মনিটরিং বা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে কাজ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম
ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির
এবারও ‘আগের কেনা’ অজুহাতে কমেনি সয়াবিনের দাম
সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম কমল ১৪ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Additional VAT collection of Tk 26 thousand crore per year
ইএফডির সুফল মিলছে

বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ভ্যাট আদায়

বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ভ্যাট আদায়
এনবিআর সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক ইএফডি চালুর পর এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার মেশিন বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে ভ্যাট এসেছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। আর আগস্টে আদায় হয়েছে ৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ভ্যাট আদায়ের মেশিন ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালুর পর এর সুফল মিলছে। প্রচলিত প্রথায় যে পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আদায় হয়, ইএফডি মেশিন বসানোর পর তার চেয়ে বহুগুণ আহরণ হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একটি দোকানে আগে যেখানে মাসে গড়ে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকার ভ্যাট আদায় হতো, সেখানে ইএফডি মেশিন বসানোর পর আদায় হচ্ছে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তার মানে ভ্যাট আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইএফডি ব্যবহারে।

ভ্যাট আদায় বাড়াতে সারা দেশে তিন লাখ ইএফডি মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। আগামী তিন বছরে পর্যায়ক্রমে এসব মেশিন ভ্যাট পরিশোধে সামর্থ্য রয়েছে- এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসানো হবে। ইতোমধ্যে ক্রয়সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইএফডি মেশিন বসানো সম্পন্ন হলে বছরে কমপক্ষে ‘অতিরিক্ত’ ২৬ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আহরণ হবে। আদায় আরও বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এনবিআর সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক ইএফডি চালুর পর এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার মেশিন বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে ভ্যাট এসেছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। আর আগস্টে আদায় হয়েছে ৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

গত বুধবার এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ইএফডি লটারি ড্র উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য (মূসক মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন) ড. মইনুল খান বলেছেন, ইএফডি মেশিনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এই মেশিন বসানোর ফলে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। যখন তিন লাখ মেশিন বসানো সম্পন্ন হবে, তখন দীর্ঘমেয়াদে আরও সুফল মিলবে বলে মত দেন তিনি।

ভ্যাট আদায় বাড়াতে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন পরীক্ষামূলক চালু করা হয়। অতিমারি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এর কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। এখন আবার জোর দেয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা জনপ্রিয় ও ক্রেতাদের ভ্যাট দিতে উৎসাহিত করতে গত বছর থেকে নিয়মিত লটারির ড্রয়ের আয়োজন করে আসছে এনবিআর। ইএফডি হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির হিসাব যন্ত্র। এটি ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার বা ইসিআরের উন্নত সংস্করণ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই যন্ত্র বসানোর ফলে এনবিআরের কর্মকর্তারা প্রতিদিনের বিক্রির প্রকৃত তথ্য জানতে পারেন। ফলে তথ্য গোপনের সুযোগ নেই ব্যবসায়ীদের। এই পদ্ধতিতে ফাঁকি বন্ধ হওয়ায় ভ্যাট আদায় বর্তমানের চেয়ে বহুগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

বর্তমানে মোট রাজস্বের ৩৯ শতাংশই আদায় হয় ভ্যাট থেকে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বিপণিবিতান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ ২৫টি খাতে ইএফডি বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দৈনিক গড়ে বিক্রয় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাটমুক্ত। এর বেশি হলে প্রযোজ্য হারে ভ্যাট দিতে হয়। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে আসবে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

আদায় করবে এজেন্ট: আগে সিদ্ধান্ত ছিল, ব্যবসায়ীদের ইএফডি মেশিন সরবরাহ করবে এনবিআর। পরবর্তী সময়ে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এজেন্টের মাধ্যমে আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ জন্য ‘জেনেক্স ইনফোসিস লি.’ নামে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। যে পরিমাণ ভ্যাট আহরণ হবে তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হারে কমিশন দেয়া হবে। এই প্রথম বেসরকারি খাতের একটি প্রতিষ্ঠানকে রাজস্ব আদায়ে অনুমতি দিল সরকার। প্রতিষ্ঠানটি মেশিন সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। বিনিময়ে পাবে সার্ভিস চার্জ বা কমিশন। কমিশনের হার আদায়কৃত ভ্যাটের শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানকে রাজস্ব আদায়ের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেয়া যায় কি না– এ প্রশ্নের উত্তরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সিস্টেম অটোমেশন হলে কোনো সমস্যা নেই। আমরা অটোমেশন সম্পন্ন করেছি। তা ছাড়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস বা পিপিআর অনুযায়ী এতে কোনো বাধা নেই। বর্তমান পিপিআরের সঙ্গে ভ্যাট আইনের কোনো সাংঘর্ষিক নেই বলে মত দেন ওই কর্মকর্তা।

এনবিআর বলেছে, ইএফডি বসানো সম্পন্ন হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। ঘরে বসেই তদারক করা যাবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার। এনবিআর দাবি করেছে, এখন ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ২০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কতটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট দেয়ার সামর্থ্য আছে, তার কোনো সঠিক সংখ্যা নেই। জানা যায়, যোগ্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে জরিপ করছে রাজস্ব বোর্ড।

যোগাযোগ করা হলে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড কোম্পানির সচিব জুয়েল রাশেদ সরকার দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমাদের সঙ্গে চুক্তি হয়নি এখনো। এটি হলে নিয়োগের শর্তসমূহ জানা যাবে। এরপর কাজ শুরু হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ কাজে অভিজ্ঞতা না থাকলেও কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি। আমরা শুধু মেশিন সরবরাহ করব এবং টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেব। ফলে কাজটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ নয়- মন্তব্য করেন তিনি।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় বিশাল ভ্যাট ফাঁকি: খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে এ খাতের অংশ চলতি মূল্যে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে ১৫ শতাংশ। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পাঁচটি খাত প্রধান চালিকাশক্তি। এর মধ্যে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা অন্যতম। উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পরই এ খাতের অবস্থান। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ ভ্যাট আহরণের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে খুব কমই ভ্যাট আসে। বছরে মাত্র ৭০০-৮০০ কোটি টাকা। অথচ আদায়ের সম্ভাবনা আছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় আদায়যোগ্য ভ্যাটের ৯০ শতাংশই ফাঁকি হয়। এর প্রধান কারণ দুটি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই আওতার বাইরে। দ্বিতীয়ত, অটোমেশন না করা।

এনবিআরের সাবেক সদস্য রেজাউল হাসান বলেন, ‘ছোট ব্যবসায়ীদের মূল সমস্যা হচ্ছে তারা যে লেনদেন করে থাকে, তার জন্য কোনো হিসাব সংরক্ষণ করে না। যে কারণে সরকার থেকে রেয়াত বা ভ্যাট ফেরত পায় না। তিনি আরও বলেন, ‘এ খাত থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে হলে সামর্থ্যবান সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আওতায় এনে অটোমেশন করতে হবে। তা হলে আদায় বর্তমানের চেয়ে বহুগুণ বাড়বে।’

জানা যায়, দু-তিনটি খাত ছাড়া বেশির ভাগ খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ৫ শতাংশ ভ্যাট তাদের জন্য অনেক বেশি। এই হারে ভ্যাট দিতে হলে তাদের ব্যবসায় কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ ‘মূল্য সংযোজন’ করতে হয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এ খাতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়। কাজেই নিট বা প্রকৃত মূল্য সংযোজন যা হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই এ খাত থেকে ভ্যাট আদায় করা উচিত। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ব্যবসায় যে পরিমাণ ‘মূল্য সংযোজন’ হয়, তার ওপর ভিত্তি করে প্রযোজ্য হারে ভ্যাট আদায় করে সরকার। মাসিক রিটার্নের সময় এই ভ্যাট পরিশোধ করা হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৯ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী ভোক্তার কাছ থেকে সরাসরি ভ্যাট আহরণ করবে খুচরা ও পাইকারি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি যন্ত্র বসানোর কথা। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখন পর্যন্ত অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে তা স্থাপন করতে পেরেছে। ফলে ভ্যাট আদায় নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যতদিন পর্যন্ত রাজস্ব বোর্ড সব দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন স্থাপন করতে না পারে, ততদিন পর্যন্ত খুচরা ও পাইকারি থেকে ভ্যাট আদায় বাড়বে না।’

আরও পড়ুন:
ভ্যাট আদায়ে এজেন্ট নিয়োগ
আয়কর রিটার্ন দ্বিগুণ করতে চায় এনবিআর
আয় বাড়াতে এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There is no end to the excuses even after the announcement the price is not decreasing

অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম

অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম সয়াবিন তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়ার তিনদিন পরও নতুন বোতলের দেখা নেই বাজারে। ছবি: সংগৃহীত
গত সোমবার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সমিতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা আর খোলা তেলের দাম লিটারে কমবে ১৭ টাকা। বিবৃতিতে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেয়া হয়, নতুন দাম কার্যকর হবে পরদিন থেকে। তবে এই ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে আরও তিনটি দিন। এখনও আগের বর্ধিত দরেই তেল কিনতে হচ্ছে দেশবাসীকে। ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে নতুন দামের তেল দোকানে তুলছে না। একই কাজ করছে সুপারশপগুলোও।

বোতলজাত যে সয়াবিন তেল ১৭৮ টাকা লিটারে কেনার কথা ক্রেতাদের, তা এখনও কিনতে হচ্ছে ১৯২ টাকা করে।

দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলে সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তি দামের তেলের বোতল বাজারে চলে এলেও দাম কমানোর ঘোষণা দেয়ার তিন দিন পরও নতুন বোতলের দেখা নেই বাজারে।

কাঁচাবাজারের সাধারণ মুদির দোকান তো বটেই, এমনকি চেইন সুপার শপগুলোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সয়াবিন তেল বিক্রি করছে আগের দরে ১৯২ টাকা লিটার হিসাবে। যুক্তি হিসেবে সবাই বলছে, হ্রাসকৃত দামের বোতল এখনও পৌঁছেনি তাদের হাতে।

গত সোমবার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সমিতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে কোম্পানি মালিকদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা আর খোলা তেলের দাম লিটারে কমবে ১৭ টাকা।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেয়া হয়, নতুন দাম কার্যকর হবে পরদিন থেকে।

তবে এই ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে আরও তিনটি দিন। এখনও আগের বর্ধিত দরেই তেল কিনতে হচ্ছে দেশবাসীকে।

অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম
সুপারশপগুলোতে আগের পুরাতন দামের বোতল দিয়েই তেলের কর্নার ভরা।

এই বিষয়টি এর আগেও বারবার দেখা গেছে। সবশেষ গত ২৩ আগস্ট যখন লিটার প্রতি দাম ৭ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে, তখন পরের দিন সকাল থেকেই বাড়তি দরে তেল কিনতে হয় মানুষকে। আর নতুন দাম উল্লেখ করে তেলের বোতল ছেয়ে যায় বাজারে।

নতুন তেল তুলছে না কেউ
ক্রেতাদেরকে পুরোনো তেলের বোতল কিনতে বাধ্য করতে একজোট একটি প্রচেষ্টা চোখে পড়ছে খোলাবাজার, সুপারশপ-সব জায়গায়।

আগের বোতল স্টকে থেকে যাওয়ায় হ্রাসকৃত দামের তেল কিনতে আগ্রহী নন খুচরা বিক্রেতা এমনকি সুপারশপগুলো। তারা বলছেন, পুরাতনগুলো শেষ হলে পরে নতুন তেল আনা হবে।

এ ক্ষেত্রে দুর্গাপূজার ছুটিকে অজুহাত হিসেবেও দাঁড় করিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, যদিও এই পূজায় বাজারের কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকেনি।

রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে স্বপ্ন, উত্তর বাড্ডায় ডেইলি শপ, টিকাটুলির ইউনিমার্টের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে আগের পুরাতন দামের বোতল দিয়েই তেলের কর্নার ভরা। এক লিটার, দুই লিটার এবং পাঁচ লিটারের সবগুলো বোতলই আগের দামের সিলযুক্ত। নতুন দামের কোনো বোতল পাওয়া যায়নি একটি সুপার শপেও।

কর্মকর্তারা বলছেন, খুচরা বাজারে চেয়ে সুপার শপে তাড়াতাড়ি নতুন দামের তেল পাওয়া যাবে। ভোক্তারা নতুন দামের পণ্যটা যেন খোলাবাজারের চেয়ে অন্তত একদিন আগে হলেও পান, সে চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন একজন।

মীনা বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থার প্রধান আবু রাইহান ভূঁইয়া আলবেরুনী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব সময় নতুন দামে তেল আমরা দুইতিন দিনের মধ্যেই পেয়ে যাই। এরপর নতুন দামেরটাও থাকে পুরাতন দামেরটাও থাকে সেখান থেকে ক্রেতারা যেটা পছন্দ করে সেটাই নেয়। তবে যদি নতুন দাম আর পুরাতন দামের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি থাকে তাহলে কোম্পানিগুলো দামটা সমন্বয় করে দেয়। তখন আমরা বিভিন্ন ছাড় দিয়ে সেটা বিক্রি করে ফেলি। এবারও নতুন চালান চলে আসবে খুব শিগগিরই। পূজার বন্ধের কারণে হয়ত একটু দেরি হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই চলে আসবে আশা করি।’

এসিআই লজিস্টিকসের সুপার শপ স্বপ্নের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিলু বলেন, ‘আমরা নতুন তেল অর্ডার দিয়েছি। অপেক্ষায় আছি কোম্পানিগুলো কবে আমাদের তা সরবরাহ করবে। আমাদের গ্রাহকরা নতুন দামের পণ্য চাচ্ছে। তাদের চাহিদা মেটাতে আশা করছি খুব দ্রুতই নতুন দামে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিমার্টের ক্রয় ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদা বলেন, ‘যেদিন থেকে দাম নির্ধারণ হয়েছে সেদিন থেকেই আমরা নতুন দামে পেতে অর্ডার করেছি। এখনও আমাদের কাছে নতুন দামের তেল এসে পৌঁছায়নি। যেহেতু আমরা অনেক বড় একটা পরিমাণ অর্ডার করে থাকি সেহেতু এর প্রক্রিয়াটাও একটু দেরি হয়।’

এখন এক সপ্তাহ সময় চায় কোম্পানি
ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের সমিতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দাম নির্ধারণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো মার্কেটে মাল যায় না। মার্কেটে নতুন মাল যেতে কমপক্ষে সময় লাগে এক সপ্তাহ।

‘সবেমাত্র সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন ব্যাংক থেকে পে অর্ডার আনবে, তা জমা দেবে তারপর স্লিপ নেবে। আপনি ব্যাংকে গিয়ে দেখেন কয় শ গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এদের সবাইকে দিতেই তো এক সপ্তাহ সময় লাগবে।’

দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায় আর কমলে তা কার্যকর হতে অনেক সময় লাগে এমন প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাহী বলেন, ‘আমি নিজেও একজন ভোক্তা, আমিও এর শিকার। দাম বাড়লে তা তাৎক্ষণিক বেড়ে যায় আর কমলে তা কমতে লাগে সপ্তাহের বেশি। আমরা জিম্মি হয়ে গেছি, এখানে কিছুই করার নেই। আমি নিজেও বাকি সবার মতোই একজন ভোক্তা।’

অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম
সুপারশপগুলোতে আগের পুরাতন দামের বোতল দিয়েই তেলের কর্নার ভরা।

সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘দাম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই আমরা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছি। উৎপাদনের পর মালটা পৌঁছাতে তো দুয়েকদিন সময় লাগে। যেসব ব্যবসায়ী পুরাতন দামে মাল কিনেছে তারা তো লসে মাল বিক্রি করবে না। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যেই সবার কাছে নতুন দামের তেল পৌঁছে যাবে।’

টিকে গ্রুপের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অপারেশনসের উপ-ব্যবস্থপনা পরিচালক (ডিজিএম) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ৩ তারিখ থেকেই নতুন দামে মাল প্রস্তুত শুরু করেছি। এখন সাপ্লাই চেইনে কোনো ঝামেলা না হলে খুব দ্রুতই নতুন দামের মাল পৌঁছে যাবে। এখানে গ্যাপটা শুধু সাপ্লাই চেইনের।’

নতুন মূল্যে পণ্য পেতে হলে অর্ডার করা প্রয়োজন উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দাম পরিবর্তন করার পর দেখা গেল কোনো সুপার শপে তেলের ডেলিভারি নেই, তখন তো আর তাদের জোর করে মাল দেয়া যাবে না। নতুন দামে মাল পেতে হলে তাদের নতুন করে অর্ডার করতে হবে। তাই সুপার শপগুলোর নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে সমন্বয় করে নতুন দামে মাল অর্ডার করা। আমরা নতুন দাম অনুযায়ী সমন্বয় করে দিয়ে থাকি। এটা বলা যায় যার যার নৈতিকতার ওপর নির্ভর।’

মেঘনা গ্রপ অব ইন্ডাস্টির ব্রান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আবুল হাসনাত শাকিল বলেন, ‘বাজারে যেসব পুরাতন মূল্যের মাল থাকে সেগুলো তো আর সরিয়ে আনা সম্ভব না। নতুন দাম যেদিন থেকে কার্যকর তারমানে সেদিন ফ্যাক্টরি থেকে যে প্রোডাকশন হবে তা নতুন দামে হবে। এর জন্য তিন থেকে চার দিন আর সারা বাংলাদেশে কমপক্ষে সাত দিন সময় লাগে।’

আরও পড়ুন:
ভোজ্যতেলের দাম লিটারে মাত্র ৬ টাকা কমানো নিয়ে প্রশ্ন
বাজেটের দিন সয়াবিন তেল ছাড়াল ২০০ টাকা
মহাসড়কে সয়াবিন তেলের হরিলুট
বাড়ছে সয়াবিন তেলের সরবরাহ
সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি: রান্নাঘর থেকেই আন্দোলন শুরুর আহ্বান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Bank Spokesperson Abul Kalam Azad

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ আবুল কালাম আজাদ। ফাইল ছবি
সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নির্বাহী পরিচলক মো. সিরাজুল ইসলাম। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে নিয়োগ পেয়ে চার বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে গত ৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তিনি অবসরে যান।

সহকারী মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জিএম আবুল কালাম আজাদকে নতুন মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র করা হয়েছে অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও ডিপার্টমেনট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স এর পরিচালক সাঈদা খানমকে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আবুল কালাম আজাদ।

সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নির্বাহী পরিচলক মো. সিরাজুল ইসলাম।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে নিয়োগ পেয়ে চার বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে গত ৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তিনি অবসরে যান।

এর একদিন পরই আবুল কালাম আজাদকে নতুন মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে যোগ দেয়ার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

আরও পড়ুন:
বিদেশি মুদ্রায় ঋণের সুদহার বাড়িয়ে আগের অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগে নিতে হবে অনুমতি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
War shocks growth to 6 1 percent World Bank

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক বলছে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ। ওই দুই দেশের মত বাংলাদেশের রিজার্ভ বিপদজনকভাবে তলানিতে নেমে যায়নি, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে না; মূল্যস্ফীতি এখনও ১০ শতাংশের নিচেই আছে।

দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে (২০২৩ সালের জুন শেষে) বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি।

তবে এই প্রবৃদ্ধি সংস্থাটির আগের দেয়া পূর্ভাভাসের চেয়ে দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। গত জুন মাসে বিশ্ব্যাংক বলেছিল, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এই প্রবৃদ্ধি মালদ্বীপ ও ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে ক্যালেন্ডার বছরকে আর্থিক বছর হিসাবে ধরা হয়। সে হিসাবে ২০২৩ সালে মালদ্বীপে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হবে। ভারতে আর্থিক বছর হিসাব করা হয় এপ্রিল-মার্চ। সে হিসাবে ২০২৩-২৪ ভারতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর আর্থিক বছর হিসাব করা হয় জুন-জুলাই। সে হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নেপালের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া ভূটানে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির হালচাল নিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আশার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার পর যুদ্ধের ধাক্কা এবং শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও পাকিস্তানের বন্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। জুনের পূর্বাভাসের চেয়ে যা ১ শতাংশ পয়েন্ট কম।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন করেছিল দেশটি। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো যুদ্ধের ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে।

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হয়। যুদ্ধের কারণে তা কমে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ অর্জিত হবে। আর আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্জিত হবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ থেকে পজিটিভে গিয়ে ১ শতাংশ হবে। পাকিস্তাতে বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে এবং আগামী অর্থবছরেও তা অব্যাহত থাকবে।

বৈশ্বিক ধাক্কা ভালোভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংক বলেছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালোভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ। তানাহলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতো। মূলত বৈশ্বিক সংকটের বিস্তৃত পরিসর বিবেচনায় নিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে এই পরিবর্তন আনার কথা বলেছে আর্থিক খাতের এই বিশ্ব সংস্থাটি।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, আর্থিক সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে চাপে ফেললেও, কয়েকটি দেশ অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারছে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

প্রতিবেশী ভারতের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের চেয়ে পুরো এক শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে সংস্থাটি। নতুন প্রাক্কলন বলছে, চলতি অর্থবছরে ভারত সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট, পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা, বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীর গতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ যোগ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া একটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে।

এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলোর এখন উচিত অর্থনীতির ‘সহনশীলতা’আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ভারতে রপ্তানি ও সেবা খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি গড় বৈশ্বিক ঘুরে দাঁড়ানোর হারের চেয়ে বেশি। সেদেশের বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্ট মজুতও অর্থনীতির জন্য একটি সুরক্ষা হিসেবে কাজ করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে আসায় এবং ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টে’এর চাপ বাড়তে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পর, তৃতীয় দেশ হিসেবে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

‘তবে অন্য দুই দেশের মত বাংলাদেশের রিজার্ভ বিপদজনকভাবে তলানিতে নেমে যায়নি, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে না, এবং মূল্যস্ফীতির হারও এখনও ১০ শতাংশের নিচেই আছে, যদিও তা সাম্প্রতিক হিসাবে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে,’ বলছে বিশ্ব ব্যাংক।

ডলারের সাম্প্রতিক চাঙাভাব, আর ডলারের বিপরীতে ইউরোর দরপতনে বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যে বেশি খরচ করতে হচ্ছে ইউরোপীয় ভোক্তাদের, কারণ দুই পক্ষের বাণিজ্যের লেনদেন ডলারে মীমাংসা হয়ে থাকে এবং স্বল্প মেয়াদে ডলারের দর যথেষ্ট চড়া অবস্থায় আছে।

এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকা দর হারালেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।

বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক রাইজার বলেন, ‘মহামারি, বৈশ্বিক তারল্য ও পণ্যমূল্যে হঠাৎ পরিবর্তন, কিংবা আবহাওয়ার চরম বিপর্যয়কে এক সময় ঝুঁকির তালিকায় শেষ দিকে রাখা হত। কিন্তু গত দুই বছরের মহামারির ধাক্কার ঠিক পরপরই এই তিন বিপর্যয় দ্রুত দেখা দিয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ধাক্কা মোকাবেলার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোকে মজবুত আর্থিক কাঠামো ও মুদ্রার মজুত গড়তে হবে এবং নিজেদের জনগণের সুরক্ষা বাড়াতে সীমিত সম্পদের পুনর্বিন্যাস করতে হবে।’

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বাণিজ্যে বিধিনিষেধ এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এ বছর তা ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এরপর তা কমতে শুরু করবে।

‘বিশেষ করে এ অঞ্চলের দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর প্রকৃত আয় ব্যাপকভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে, যারা তাদের আয়ের সিংহভাগ খাবার কেনার পেছনে খরচ করতে বাধ্য হন।’

এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় মানুষের চলাফেরায় বিধিনিষেধ থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে যারা অনানুষ্ঠানিক পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের অনেকেই দারুণ ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

অবশ্য মহামারির পরের দিককার পরিস্থিতি এটাও দেখিয়েছে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অভিবাসন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ব ব্যাংকের জরিপের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২২ এর প্রথম ভাগ পর্যন্ত, যে অঞ্চলগুলো মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেসব অঞ্চলে অভিবাসীদের প্রবাহ, যেসব অঞ্চল তুলনামূলক কম ক্ষতির মুখে পড়েছে সেসব অঞ্চলের চেয়ে বেশি ছিল, যা কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে শ্রমের চাহিদা ও যোগানের ক্ষেত্রে একটি সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। আর গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় বাংলাদেশে। গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে উচ্চমূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক ।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

আরও পড়ুন:
ওয়াশিংটনের বৈঠকে বাংলাদেশের চোখ ঋণে
শেখ হাসিনার উন্নয়ন-নেতৃত্বের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংক
করোনার ধাক্কা সামলাতে আরও ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
বন্যা মোকাবিলায় ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৪৮১২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Notification to extend VAT exemption on edible oil by three months

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে সে জন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করেছে এনবিআর।

ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে।

ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে, সে জন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভ্যাটমুক্ত সুবিধা বহাল রাখতে বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর আগে আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

বর্তমানে ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধা দুদফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ভোজ্য তেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধা অব্যাহত না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-কর হার বেড়ে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম বাড়ে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দর পতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম।

তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৯২ টাকা ও পাম তেলের দাম ১৩২ টাকা ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম তেল আমদানি করেন। আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

আরও পড়ুন:
তেলের পুষ্টিগুণ নিশ্চিতের উদ্যোগ
সয়াবিনের নতুন দাম কার্যকর
সব ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ নেই যে কারণে  
ঘোষণার ১০ দিনেও কমেনি সয়াবিন তেলের দাম
ভোজ্যতেলে ভ্যাট সুবিধা আরও ৩ মাস

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of lotus palm oil rose and sugar

কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির

কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির পাম তেল ও চিনি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এখন থেকে পাম সুপার এক লিটার ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। আগে নির্ধারিত দাম ছিল ১৩৩ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে আট টাকা। নতুন দর অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে, আগে যা ছিল কেজিতে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হবে, আগে যেটা ছিল ৮৯ টাকা।

চিনি ও পাম তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এখন থেকে পাম সুপার এক লিটার ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। আগে নির্ধারিত দাম ছিল ১৩৩ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে আট টাকা।

পাম তেলের দাম কমানো হলেও খোলা ও প্যাকটজাত চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে, আগে যা ছিল কেজিতে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হবে, আগে যেটা ছিল ৮৯ টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় চিনি ও পাম সুপারের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান বাজারদর এটিই।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর নিত্যপণ্যের মধ্যে ৯টির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তার মধ্যে প্রথম চিনি ও পাম তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

ওই সময় পাম তেলের দাম নির্ধারণ হয় ১৩৩ টাকা লিটার, আগে যা ছিল ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ কমানো হয় ১২ টাকা।

অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ঠিক করা হয় ৮৯ টাকা আর খোলা চিনি প্রতি কেজি নির্ধারণ হয় ৮৪ টাকা।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা কমানোর সুযোগ আছে বলে সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। চিনির দামও কমিয়ে আনার পরামর্শ দেয় এই প্রতিষ্ঠান।

ট্যারিফ কমিশন থেকে দেয়া সুপারিশে বলা হয়, বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামে তেমন প্রভাব পড়েনি, কিন্তু কমেছে পাম তেলের দাম। তাই এই তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কমানোর সুযোগ আছে। সয়াবিন তেল যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা যৌক্তিক। পাম তেলের দাম বর্তমানে ১৪৫ টাকা । এই তেলের দাম লিটারে অন্তত ১২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

চিনি বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন থেকে পাঠানো সুপারিশে বলা হয়, প্রতি কেজি খোলা চিনি ভোক্তাপর্যায়ে খুচরা মূল্য ৮৪ টাকা। আর প্যাকেটজাত চিনির কেজিপ্রতি দাম হওয়া উচিত ৮৮ টাকা।

গত ৩০ আগস্ট বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, বেঁধে দেয়া হবে ৯ পণ্যের দাম। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, রড, সিমেন্ট, চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল, ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

সেই অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণও শুরু করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, তবে সামনে আসে নানা বিপত্তি।

৯ পণ্যের দাম নির্ধারণ করা থেকে সরে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেল, চিনি, রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করবে এই মন্ত্রণালয়।

তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:
ভর্তুকিতে হলেও বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি
সাগরে বিপুল চিনি
কেরু ছাড়া সরকারি সব চিনিকল লোকসানে
দাম চড়া, দেশি চিনির দেখা মেলে না
‘জামাই আপ্যায়নের’ লাল চিনি

মন্তব্য

p
উপরে