× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Huge transaction index rise to incredible fall
hear-news
player
print-icon

বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন

বিপুল-লেনদেন-সূচকের-উত্থান-থেকে-অবিশ্বাস্য-পতন
দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকার শেয়ার, যা ২০১০ সালের মহাধসের পর সপ্তম সর্বোচ্চ লেনদেন। ২০২০ সালে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পর গত বছরের আগস্টের তিনটি এবং সেপ্টেম্বরের তিনটি কর্মদিবসে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়।

এ যেন আকাশ থেকে মাটিতে পতন।

বেলা একটা পর্যন্ত লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই, সূচক তখন পর্যন্ত বেড়েছে ৭০ পয়েন্ট। শুরুতেই ৫০ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়ার পর এই উত্থানে গত ৯ মের অবস্থানকে ছাড়িয়ে যায় কি না, এমন অপেক্ষার মধ্যে হঠাৎ নিম্নমুখী প্রবণতা। কেবল ৫০ মিনিটে ৭৪ পয়েন্টের পতন দেখল বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে এই চিত্রই বলে দেয় উত্থান পর্বেও দেশের পুঁজিবাজার স্বাভাবিক আচরণ করছে না।

এই পতনের মূল কারণ অবিশ্বাস্য উত্থানে থাকা ওরিয়ন গ্রুপের একটি কোম্পানির দরপতন। তরতর করে বাড়তে থাকা বিকন ফার্মার শেয়ারদর কেবল ৪.৮০ শতাংশ দরপতনেই সূচক থেকে হারিয়ে গেছে অনেকখানি পয়েন্ট।

কোম্পানিটির দর আগের দিন ছিল ৩৬৯ টাকা ২০ পয়সা। লেনদেনের শুরুতেই তা উঠে যায় ৩৯৩ টাকায়। পরে এক পর্যায়ে নেমে আসে ৩৫০ এ। লেনদেন শেষ করে ৩৬১ টাকায়। দিনের সর্বোচ্চ দরের চেয়ে সমাপ্ত দরের পার্থক্য ৩২ টাকা।

তবে এই গ্রুপের অন্য দুই কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশনের স্বপ্নের মতো উত্থান অব্যাহত আছে। আরেক কোম্পানি ওরিয়ন ফার্মার দর দিনের শুরুতে অনেকটা বেড়ে গেলেও দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ টাকা কমে শেষ করেছে লেনদেন।

এদিন পুঁজিবাজারে যে লেনদেন হয়েছে, তা কেবল চলতি ২০২২ সালের সর্বোচ্চ নয়, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ গত এক বছরেও এত বেশি লেনদেন দেখেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।

দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকার শেয়ার, যা ২০১০ সালের মহাধসের পর সপ্তম সর্বোচ্চ লেনদেন।

২০২০ সালে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পর গত বছরের আগস্টের তিনটি এবং সেপ্টেম্বরের তিনটি কর্মদিবসে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়।

এর মধ্যে ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট ২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, ৯ আগস্ট ২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, ৬ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৯০১ কোটি টাকা, ৫ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা এবং ১০ আগস্ট ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা হাতবদল হয়।

২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দর সংশোধনে যাওয়া পুঁজিবাজারে পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতভেদ এরপর অর্থবছরের সমন্বয় এবং সবশেষ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ধস নামে।

এর মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস আরোপ এবং ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৌশলী সার্কুলারের পর থেকে গত ৩১ জুলাই থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লেনদেন।

এই উত্থান শুরুর আগের কর্মদিবস ২৮ জুলাই সূচক নেমে গিয়েছে ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে এবং ক্রমেই তা ছিল নিম্নমুখী। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা ছিল আতঙ্কে।

পরের কর্মদিবস থেকে ছয় শ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পেলেও বিনিয়োগকারীদের মনের খেদ মেটেনি। কারণ এই উত্থানের প্রভাব পুঁজিবাজারে সমভাবে পড়েনি। অল্প কিছু কোম্পানির শেয়ারের মাত্রাতিরিক্ত দর বৃদ্ধির মধ্যেও ফ্লোর প্রাইসে গড়াগড়ি খাচ্ছে ১৩০টিরও বেশি কোম্পানি। এর মধ্যে কিছু দুর্বল কোম্পানি থাকলেও শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিও আছে।

বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন
বেলা একটার সময়ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। সেখান থেকে ৫০ মিনিটে কমে যায় ৭৪ পয়েন্ট

সবচেয়ে বেশি নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বা গ্রামীণ ফোনের মতো কোম্পানিও এই তালিকায় দেখে বিস্মিত হন অনেকেই। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর সিংহভাগ, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের হাতে গোনা এক দুইটি ছাড়া সবগুলোও এই তালিকায়।

লেনদেনের সিংগভাগও কয়েকটি কোম্পানিতেই হচ্ছে। লেনদেন হওয়া ৩৭৩ টি কোম্পানির মধ্যে কেবল ১০টিতে হাতবদল হয়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। তালিকাটি আরও ছোট করলে দেখা যায় মোট লেনদেনের ৩৫ শতাংশ হয়েছে কেবল ৫টি কোম্পানিতে আর ২৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে কেবল তিনটি কোম্পানিতে।

গত কয়েক দিনের মতো এদিনও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। আগের দিন দর হারানো কোম্পানির চেয়ে দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির দর ছিল দেড় গুণের বেশি, সেটি এবার হয়েছে দ্বিগুণের বেশি।

এদিন বেড়েছে ৭২টি কোম্পানির দর, বিপরীতে কমেছে ১৫৬টির। ১৪৫ টি কোম্পানি লেনদেন হয়েছে আগের দিনের দরে। এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে।

সূচক পতনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘অনেক শেয়ারের ওভার ভ্যালুড হয়ে পড়েছিল। যার কারণে সেগুলো থেকে শেষ দিকে দ্রুত প্রফিট টেকিং হওয়ায় সূচক পতন হয়েছে।’

লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্রস ট্রেড হওয়ার কারণে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।’

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাজারের অনেক কিছুই গ্রামারের বাইরে ঘটছে। পুঁজিবাজারের যে উত্থান তার সুফল পুরো বাজারে সমানভাবে পড়ছে না। এটা চিন্তার বিষয়। এটা স্বাভাবিক আচরণ নয়।’

বিনিয়োগকারীদের বিশ্লেষণ করে সতর্কভাবে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।

সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় বিকন ফার্মা

সূচকের পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল বিকন ফার্মা। দর কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমায় ডিএসই সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ৪৭ দশমিক ০৭ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমেছে তিতাস গ্যাসের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

পাওয়ার গ্রিডের দর ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ৯ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট।

গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার, জেনেক্স ইনফোসিস, বার্জার পেইন্টস, ইস্টার্ন ক্যাবলস, ইউনিলিভার কনজিউমার ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১০২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

সূচক বাড়াল যারা

সবচেয়ে বেশি ৩৫ দশমিক ১১ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে লাফার্জ-হোলসিম বাংলাদেশ। শেয়ারটির দর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

একমি ল্যাবরেটরিজের দর ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।

ওরিয়ন ফার্মা সূচকে যোগ করেছে ১১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এর বাইরে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, সি পার্ল, জেএমআই হসপিটাল, বসুন্ধরা পেপার, আইসিবি, কোহিনূর কেমিক্যাল ও ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১২৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট।

কোন খাত কেমন

দরপতনের পাল্লা ভারি হওয়ায় ওষুধ ও রসায়ন ছাড়া আর কোনো খাতেই দরবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

১৭টি বা ৫৬ শতাংশের বেশি কোম্পানির দরবৃদ্ধি হয়েছে। সাত শ কোটি ছুঁইছঁই হাতবদল হওয়ার মধ্য দিয়ে লেনদেনেও শীর্ষে রয়েছে খাতটি।

হাতবদল হয়েছে ৬৯৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বিপরীতে ৬টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। আগের দরেই লেনদেন হয়েছে আরও ৭টি কোম্পানির শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের লেনদেন হয়েছে ৫৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, বা ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এই দুই খাত মিলে লেনদেন হয়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর কোনো খাতের লেনদেন ১০ শতাংশ অতিক্রম করতে পারেনি।

তবে দরপতনের পাল্লাই ভারি ছিল খাতটিতে। ৭টি বা ৫০ শতাংশ কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৩টির ও ৪টির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে।

প্রকৌশল খাতে ১১টি কোম্পানির দরবৃদ্ধি হয়েছে, কমেছে ২০টির। আগের দরে লেনদেন হয়েছে ১১টির।

১০ শতাংশের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে একমাত্র এ খাতেই। দিনভর হাতবদল হয়েছে ২৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতে ১৪৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। আর কোনো খাতের লেনদেন পাঁচ শতাংশ অতিক্রম করতে পারেনি।

এ খাতের ৬টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির।

পঞ্চম স্থানে থাকা আইটি খাতে ১২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬টির ও একটির লেনদেন হয়েছে আগের দরে।

জ্বালানি খাতে লেনদেন একশ কোটি অতিক্রম করলেও দরপতনই বেশি ছিল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৯টি বা ৪০ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

লেনদেনে রাজা বেক্সিমকো-ওরিয়ন ফার্মা

একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এই কোম্পানিটির ৩৪২ কোটি ৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২৭ কোটি ২৫ লাখ ১৭ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ওরিয়ন ফার্মার।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ প্রতিষ্ঠান শিপিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশে। এই কোম্পানিটির ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আর কোনো কোম্পানিতে শত কোটি টাকা লেনদেন হয়নি। শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলো হলো একমি ল্যাবরেটরিজ, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, জেএমআই হসপিটাল, ইস্টার্ন হাউজিং, শাহজিবাজার পাওয়ার, ডেল্টা লাইফ ও বেক্সিমকো ফার্মা।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

এদিন দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছে লোকসানি সেন্ট্রাল ফার্মা। ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকা ৯০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর বেড়েছে শাহজিবাজার পাওয়ার পাওয়ারের। ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯৫ টাকা ২ পয়সায়, আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ৮৭ টাকা ২০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঋণ কেলেঙ্কারি ও লোকসানে ডুবে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ক্যাপিটালের।

৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ দর বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিন দর ছিল ১০ টাকা ৩০ পয়সা।

বিডিকমের দর ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৪৭ টাকা ৩০ পয়সায়।

এ ছাড়াও দরবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে সি পার্ল, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, বসুন্ধরা পেপার, ওরিয়ন ইনফিউশন, জেএমআই হসপিটাল ও আমারটেক।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিডি ওয়েলডিং। অজানা কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে দর বাড়তে দেখা গেছে লোকসানি কোম্পানিটির।

মঙ্গলবার ৯ দশমিক ২২ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩০ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়।

পতনের তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে আরেক লোকসানি কোম্পানি। ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ দর কমে লেনদেন হয়েছে ১১ টাকা ৪০ পয়সায়। তার আগে তিন কর্মদিবস দর বেড়েছিল। অবশ্য এই প্রবণতা নতুন নয়, মাঝে মাঝেই দর বেড়ে লেনদেন হতে দেখা যায়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকসের। ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ১৫২ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- ই-জেনারেশন, ইস্টার্ন ক্যাবলস, ন্যাশনাল টিউবস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনেক্স ইনফোসিস, রতনপুর স্টিল ও পেপার প্রসেসিং।

আরও পড়ুন:
৯ মাসে মুনাফা ৩৯ কোটি, পরের তিন মাসে ৫২ কোটি লোকসান!
ওরিয়ন ইনফিউশন: ৩ মাসে ৪৭২ শতাংশ দর বৃদ্ধি, চুপ সবাই
কর আতঙ্ক কাটলেও সবাইকে ছাড়িয়ে ফ্লোর প্রাইসের শেয়ার
ক্যাপিটাল গেইন করমুক্ত: এনবিআর পরিপত্র নিয়ে বিএসইসি
টাকার রেকর্ড দরপতনের ধাক্কা পুঁজিবাজারে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The much anticipated ATB is launching soon

শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি

শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি ফাইল ছবি
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘এটি চালু হলে মার্কেটের গভীরতা অনেক বাড়বে। অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন কারণে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না, তারা এখানে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ার পাবে। এটা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের একটা লিকুইডিটি দিবে, টাকা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবে। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট পাবে।’

ব্যবসায় মূলধন প্রাপ্তি ও শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন সহজ করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শিগগিরই চালু হচ্ছে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা বা অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)।

ব্যবস্থাটি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা যেকোনো কোম্পানি এটিবিতে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে অবশ্যই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তিত হতে হবে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারের বাইরে দুই হাজারেরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানি চাইলে সরাসরি এটিবিতে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৯ আগস্ট এ-সংক্রান্ত আইন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) রেগুলেশন, ২০২২ অনুমোদন দিয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর যা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছে ডিএসই। এটি প্রকাশ হলেই এটিবি চালু হওয়ার পথে সব আইনি বাধা দূর হবে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেয়ার লেনদেনের এ বিকল্পব্যবস্থাকে স্টক এক্সচেঞ্জে বৈপ্লবিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন।

ডিএসই ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটিবি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানির উদ্যোক্তারা খুব সহজে মালিকানা পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন। আগে এ কাজটি করতে অনেক খরচ হতো। এখন তা কম খরচেই করা যাবে। এ ছাড়া কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাওয়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের মূলধন দিতে উৎসাহিত হবে। কেননা এটিবিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলোর বিনিয়োগ করা শেয়ার হস্তান্তরের অবারিত সুযাগ তৈরি হবে।’

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হলো এমন ধরনের মূলধন, যা কোনো আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যারা কিনা ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে- এমন স্টার্টআপ বা ছোট কোম্পানিতে মালিকানা বা শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগ করে থাকে। সাধারণত বড় বড় বিনিয়োগকারী, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের তহবিল গঠন হয়ে থাকে। বাজারে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফা ও মূলধন ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দেশে এতদিন শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সহজ ছিল না। ফলে বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তা খুব বেশি কাজে আসছিল না।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘এটি চালু হলে মার্কেটের গভীরতা অনেক বাড়বে। অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন কারণে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না, তারা এখানে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ার পাবে। এটা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের একটা লিকুইডিটি দিবে, টাকা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবে। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট পাবে।’

এটিবিতে কারা লেনদেন করতে পারবে

বর্তমানে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দুই লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এক লাখ ৯৫ হাজার ৪৫টি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি দুই হাজার ৫২৩টি আর একক মালিকানা কোম্পানি আছে ১৬৫টি।

বাকিগুলো হচ্ছে ট্রেড অর্গানাইজেশন, বিদেশি কোম্পানি, সোসাইটি আর অংশীদারি কোম্পানি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে পুঁজিবাজারে আছে ৩৫০টি কোম্পানি। সেই হিসাবে ২ হাজার ১৭৩টি কোম্পানি এখন স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে। এই কোম্পানিগুলো এটিবি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নিতে পারবে। আর বাকিগুলোকে আগে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানান, পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে তালিকাচ্যুত বা তালিকাবহির্ভূত যে সিকিউরিটিজগুলো আছে সেগুলো এটিবিতে লেনদেন করা যাবে। এ ছাড়া ডেবিট সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডও লেনদেন হবে।

রেজাউল করিম বলেন, এটিবি চালু হলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে যা বাজারে গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এটিবিতে কী সুবিধা

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত যেকোনো কোম্পানি তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে গেলে ট্রান্সফার ফি ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটসহ বড় ধরনের খরচের বোঝা বহন করতে হয়। এ ছাড়া ১১৭ ফরম পূরণ করতে আরজেএসসিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। এটিবিতে এলে কোনো ধরনের ঝুটঝামেলা ছাড়াই সামান্য কমিশনেই শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা পাবে। এ ছাড়া কোম্পানির পরিচিতি, সুনাম বা ব্র্যান্ড ভেল্যুও বাড়বে।

এমনকি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে এখান থেকে রাইট শেয়ার কিংবা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে তাদের মূলধন বাড়াতেও পারবে।
বিএসইসির মুখপাত্রের আশা, এতে অনেক কোম্পানি এখানে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। ফলে বাজার মূলধন ও লেনদেন বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বও বেড়ে যাবে।

এটিবিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো কর সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এনবিআরের সম্মতি পেলে সাড়ে ৭ শতাংশ কর ছাড় পাবে কোম্পানিগুলো।
পুঁজিবাজারে এলে কোম্পানি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আগের চেয়ে বাড়ে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তালিকাভুক্তি

এটিবিতে তালিকাভুক্তি অনেকটা সরাসরি বা ডায়রেক্ট লিস্টিংয়ের মতো। নতুন শেয়ার না ছেড়ে উদ্যোক্তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্তি নেয়া যাবে। শেয়ারের মূল্যও হবে বাজারভিত্তিক।

আরও পড়ুন:
শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি
এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC is bringing back the pre opening session of manipulation

‘কারসাজির’ প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি


‘কারসাজির’ প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সকাল ৯ টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ে শেয়ার কেনা-বেচার প্রিঅর্ডার দিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। মূল লেনদেন হবে বেলা ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। আর পোস্ট ক্লোজিং সেশনের সময় ১টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত।

কারসাজি হয় সন্দেহে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর আগে যে প্রি ওপেনিং সেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, সেটি আবার ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, তবে স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং ইঞ্জিনের চাপ কমানো।

রোববার থেকেই ফিরছে এই ব্যবস্থা, এবার প্রি-ওপেনিং সেশনের সময় রাখা হয়েছে ৫ মিনিট।

অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯ টায় লেনদেন শুরুর ৫ মিনিট আগে থেকেই শেয়ার কেনাবেচার অর্ডার দিয়ে রাখা যাবে ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে।

বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি আদেশ দুই স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সকাল ৯ টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ে শেয়ার কেনা-বেচার প্রিঅর্ডার দিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। মূল লেনদেন হবে বেলা ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। আর পোস্ট ক্লোজিং সেশনের সময় ১টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত।

কারসাজি বন্ধে প্রি-ওপেনিং বন্ধ করার পরে আবার কেন চালু করা হলো জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রি-ওপেনিং সেশন বন্ধ করার সময় এও বলা হয়েছিল যে, আমাদের এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং মেশিনের সক্ষমতা বেড়েছে, সেটারও পরীক্ষার জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকে ভলিউম বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ হচ্ছিল। ডিএসইতে ট্রেডিং মেশিনে ঝামেল হচ্ছে, যার কারণে ডিএসইর আইটি থেকে আমাদের বারবার অনুরোধ করা হচ্ছিল। যার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রি-ওপেনিং সেশনের সময় রাখা হয়েছে ৫মিনিট। ফলে কারসাজি করা সম্ভব হবে না।’

২০২০ সালের অক্টোবরে পুঁজিবাজারে প্রি-ওপেনিং সেশন এবং পোস্ট-ওপেনিং সেশনের চালু করা হয়। পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যে গত ২২ মে প্রি ওপেনিং সেশন বন্ধ করে দেয়া হয়।

সে সময় এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কারসাজির বিষয়টি উঠে আসে। লেনদেন শুরুর আগেই শেয়ারের সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে বিপুল সংখ্যক শেয়ার বসিয়ে রাখা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে এসব কার্যাদেশ বাতিল কিংবা পরিবর্তন হয়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আতঙ্কে বাজারে দরপতন হতে থাকে।

তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেডিং ইঞ্জিনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তাই সক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি যাচাই করে দেখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটা অন্যভাবে নেয়া গেলও আমি বলব যে প্রি-অর্ডারে সেশন না থাকলে অর্ডার প্লেস করা কঠিন হয়ে যায়। কারণ এটা না থাকার কারণে লেনদেন চালুর পরে সবাই এক সঙ্গে অর্ডার দিতে চায়। এতে সার্ভার ভারী হয়ে যায়। তখন কাজ কঠিন হয়ে যায়।

‘তাছাড়া আমাদের যে ভেন্ডর বা যারা সফটওয়্যার দিয়েছে তারাই বলেছে অল্প হলেও প্রি-ওপেনিং সেশন রাখতে। যখন লেনদেন ৩০০ থেকে ৪০০ কোটির মধ্যে থাকে তখন খুব বেশি সমস্যা না হলেও লেনদেন দেড় হাজর কোটি অতিক্রম করলে ট্রেডিং মেশিনে চাপ পড়ে যায়। আমি নিজেও এ সমস্যা ফিল করেছি। আমি মনে করি প্রি-ওপেনিং সেশন থাকা দরকার।’

গত ৩১ জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরতে শুরু করার পর লেনদেন পাঁচ শ কোটির ঘর থেকে বাড়তে বাড়তে এখন নিয়মিত দেড় হাজার কোটির ঘরে হচ্ছে। মঙ্গলবার গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ২ হাজার ৮৩২ কোটি টাকার বেশি।

আরও পড়ুন:
‘এসডিজি-এমডিজির দেখা মেলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা, শিল্প, রাষ্ট্রনীতিতে’
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের
ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কিনলে বিএপিএলসিকে সুবিধা: বিএসইসি
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
১৫০ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়বে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC changes policy again with SME board

এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির

এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এসএমই বোর্ড চালুর পর বেশ আশাবাদী ছিল বিএসইসি। সেখানে শেয়ার কেনাবেচা করার সুযোগ ছিল সীমিত। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল, যাদের বিনিয়োগ কমপক্ষে এক কোটি টাকা, তারাই সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এরপর সর্বনিম্ন বিনিয়োগসীমা তিনবার পাল্টানো হয়।

প্রথমে এক কোটি, পরে ৫০ লাখ, এরপর ২০ লাখ এবং সবশেষ ৩০ লাখ- পুঁজিবাজারে কত টাকা বিনিয়োগ থাকলে এসএমই বোর্ডের শেয়ার কেনা যাবে, এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত।

সবশেষ আদেশ জারি হয়েছে, এই বোর্ডে শেয়ার কেনাবেচা করতে হলে বিনিয়োগকারীর কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ২০ লাখ টাকা।

বিনিয়োগের সর্বনিম্ন সীমা বাড়ছে - এমন সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত আদেশ বিএসইসির ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম আগের দিন এই আদেশে সই করেন।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাস দুয়েক আগেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধবার অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে মাত্র।’

যারা আগের নির্দেশনার আলোকে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ দিয়ে যোগ্য হয়েছেন, তাদেরকে যোগ্যতা ধরে রাখতে বিনিয়োগ আরও ১০ লাখ টাকা বাড়াতে হবে। এ জন্য তাদেরকে সময় দেয়া হয়েছে তিন মাস।

যারা এই শর্ত পূরণ করতে পারবে না, তাদের মধ্যে যাদের কাছে এসএমই খাতের শেয়ার আছে, সেসব শেয়ার শুধু তারা বিক্রি করতে পারবেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারও বিনিয়াগ ৩০ লাখ টাকা হলে তাকে এসএমইর জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারী হতে আবেদন করতে হবে না। প্রতি প্রান্তিকে এসএমইতে লেনদেনের যোগ্য করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে রেজিস্ট্রেশন করা হবে। এজন্য প্রতি প্রান্তিকে সিডিবিএল বা ডিপি বিনিয়োগকারীর বিস্তারিত তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেবে।

বারবার সিদ্ধান্তে বদল

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এসএমই বোর্ড চালুর পর বেশ আশাবাদী ছিল বিএসইসি। সেখানে শেয়ার কেনাবেচা করার সুযোগ ছিল সীমিত। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল, যাদের বিনিয়োগ কমপক্ষে এক কোটি টাকা, তারাই সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এতে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই কম, আর এই বোর্ডের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর সেভাবে বাড়ছিল না।

এরপর যোগ্য বিনিয়োগকারী হওয়ার শর্ত শিথিল করা হয়। প্রথমে জানানো হয়, যাদের বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা, তারাই সেখানে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। এতেও যখন শেয়ারগুলো দর হারাতে থাকে।

পরে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিনিয়োগসীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ লাখ টাকায় বিনিয়োগ নামিয়ে আনে বিএসইসি।

এরপর গত ২৮ মার্চ সিদ্ধান্ত হয়, যোগ্য বিনিয়াগকারী হতে কাউকে আবেদন করতে হবে না। যার বিনিয়োগ ২০ লাখ টাকা, তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই মার্কেটে শেয়ার কেনাবেচার জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে নিবন্ধিত করে নেবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

এসএমই প্লাটফর্মে বর্তমানে ১৫টি কোম্পানি লেনদেন হচ্ছে। এর মধ্যে ৫টি কোম্পানি ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি থেকে এসেছে। বাকিগুলো নতুন তালিকাভুক্ত।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market is confused again

পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে

পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘লেনদেনের ক্ষেত্রে সন্দেহজনক কিছুই দেখা যায়নি। লেনদেন যা হয়েছে ভালোই। মার্কেট যে ধরনের পজ নিচ্ছে বা সমন্বয়সাধন হচ্ছে তা পুনরায় মুভ করার জন্য ভালো প্রস্তুতি বলা যেতে পারে।’

লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকা পুঁজিবাজারে আবার ছন্দপতনের শঙ্কা। দুই দিন আগে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই। পরদিন সেখান থেকে কমে যায় ১ হাজার কোটির বেশি। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে তা আরও কমে ১ হাজার ৬০০ কোটির ঘরে নেমেছে।

গত ৩১ জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, তাতে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট হতে পারতেন যদি এর সুফল পুঁজিবাজারে সমভাবে পড়ত। কিন্তু এই সময়ে অল্প কিছু শেয়ারের দর উড়তে থাকার মধ্যে বেশির ভাগ সিকিউরিটিজের দরপতন ঘটতে থাকে। এর মধ্যে হঠাৎ লেনদেন নিম্নমুখী নামতে থাকার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

মঙ্গলবার লেনদেন হয় ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, যা চলতি বছরের তো বটেই, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। আর ২০১০ সালের মহাধসের পর এটি ছিল সপ্তম সর্বোচ্চ লেনদেন। অর্থাৎ এর চেয়ে আর মাত্র ছয়বার এত বেশি লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে।

সেখান থেকে ১ হাজার ২৪ কোটি ১১ লাখ ৬২ হাজার টাকা কমে বুধবার হাতবদল হয় ১ হাজার ৮০৮ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা।

শেষ কর্মদিবসে সেটি আরও ১৪২ কোটি ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা কমেছে। হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিন দরপতন হওয়া কোম্পানির তুলনায় দর বৃদ্ধি হওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তবে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয়েছে আগের দিনের দরে, যেগুলোর সিংহভাগই লেনদেন হয়েছে ফ্লোর প্রাইসে।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সে কিছু পয়েন্ট অবশ্য যোগ হয়েছে, যদিও একসময় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল।

বেলা ১০টা ৫৭ মিনিটে দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায় সূচক। আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়ায় ৬ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে। তবে পরের আধা ঘণ্টায় ব্যাপক দরপতনে ৪৬ পয়েন্ট কমে যায়। পরে দুই দফায় উত্থানের চেষ্টা করে আগের অবস্থানে ফিরতে পারেনি সূচক। শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে সূচকে ১২ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শেষ হয়।

দিনভর লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ৭৮টির ও আর আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ১৬৬টি কোম্পানির।

পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘লেনদেনের ক্ষেত্রে সন্দেহজনক কিছুই দেখা যায়নি। লেনদেন যা হয়েছে ভালোই। মার্কেট যে ধরনের পজ নিচ্ছে বা সমন্বয়সাধন হচ্ছে তা পুনরায় মুভ করার জন্য ভালো প্রস্তুতি বলা যেতে পারে।’

তিনি যোগ করেন, ‘যেসব শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত হয়েছিল, সেগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম। সেগুলো এখনও বায়ার আছে, যদি বায়ারলেস হয়ে যায়, তাহলে অতি সতর্ক হতে হবে।’

সূচকে সবচেয়ে প্রভাব যেসব কোম্পানির

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সি পার্লের দর ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

আর কোনো কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে সূচকে ১ পয়েন্ট যোগ হয়নি।

ইউনিটক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ৮৫ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এর বাইরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ইস্টার্ন হাউজিং, ওরিয়ন ফার্মা, বসুন্ধরা পেপার, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ইনডেক্স অ্যাগ্রো সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৭০ পয়েন্ট সূচক কমেছে বিকন ফার্মার দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট কমেছে বেক্সিমকো লিমিটেডের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

কোহিনূর কেমিক্যালের দর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ০১ পয়েন্ট।

এ ছাড়া লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, ওরিয়ন ইনফিউশন, বেক্সিমকো ফার্মা, আইএফআইসি ব্যাংক, আইসিবি, বার্জার পেইন্টস ও পূবালী ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৮ দশমিক ১৫ পয়েন্ট।

লেনদেনে সেরা ওরিয়ন-বেক্সিমকো

লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে ওরিয়ন ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেড। ওরিয়ন ফার্মার এক কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার ২৪৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৯৫ কোটি ৪০ লাখ ৩২ হাজার টাকায়।

বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ১৫২ কোটি ২৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪২টি শেয়ার।

আর কোনো কোম্পানির লেনদেন এক শ কোটি টাকা ছুঁতে পারেনি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের। ৫৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২ কোটি ২৯ লাখ ১২ হাজার টাকায়।

জেএমআই হসপিটালের লেনদেন হয়েছে ৫৬ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার টাকার।

শীর্ষ দশের বাকি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ কোটির মধ্যেই।

এ তালিকায় ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার, একমি ল্যাব, ইউনিক হোটেল, লাফার্জ হোলসিম, বসুন্ধরা পেপার ও ইস্টার্ন হাউজিং।

কোন খাত কেমন

সংখ্যায় প্রকৌশল খাতে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি হলেও জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে দরবৃদ্ধির হার বেশি ছিল।

জ্বালানি খাতে ১৯টি বা ৮২.৬১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বিপরীতে ২টি করে কোম্পানির দরপতন ও অপরিবর্তিত ছিল।

প্রকৌশল খাতে ২৪টি বা ৫৭.১৪ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়ে লেনদেন হয়েছে। দর কমেছে ৮টির ও আগের দরে লেনদেন হয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ার।

প্রযুক্তি খাতে ১০টি বা ৯০ শতাংশের বেশি কোম্পানির দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। দর কমেছে মাত্র একটির।

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৩টি কোম্পানিরই দর বেড়েছে।

এ ছাড়াও দরবৃদ্ধি হয়েছে জীবন বিমা, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা ও আবাসন, সিরামিকস, বিবিধ ও ট্যানারি খাতে।

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১টির লেনদেন হয়েছে এবং সবগুলোর দরই অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ সেগুলো ফ্লোর প্রাইসেই লেনদেন হয়েছে।

আগের দিনের চেয়ে আরও কমলেও শীর্ষে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। হাতবদল হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

১৫টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ৯টির। আর দরপতনে লেনদেন হয়েছে ১৫টি বা ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের লেনদেন হয়েছে ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ।

দুই খাতেই আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে। তবে দুই খাতের লেনদেন মোট লেনদেনের ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে জ্বালানি খাতে।

এর পরেই ১১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রকৌশল খাতে এবং প্রযুক্তি খাতে ১১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

আর কোনো খাতের লেনদেন একশ কোটি ছুঁতে পারেনি।

এর পরে লেনদেনের ওপরের দিকে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ, বস্ত্র, জীবন বিমা, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা ও আবাসন, সিমেন্ট, খাদ্য, সিরামিকস ইত্যাদি।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

প্রায় ২০টির মতো কোম্পানির দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ ও এর আশেপাশে। তিনটির দর বেড়েছে পুরোপুরি ১০ শতাংশ।

দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন। চলতি বছরের ৯ মাসেই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা।

১০ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪০ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৩৭ টাকা।

একই সমান দর বেড়ে পেনিনসুলা চিটাগংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৯ টাকা ৬০ পয়সায়, আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ৩৬ টাকা।

একই সমান দর বেড়ে ৭২ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা এডিএন টেলিকমের। আগের দিন দর ছিল ৬৬ টাকা।
এ ছাড়াও দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ দশে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, লুবরেফ বাংলাদেশ, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, আজিজ পাইপস, ফাইন ফুডস, ইস্টার্ন হাউজিং ও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জুট স্পিনার্স। পুঞ্জিভূত লোকসান ও অপারেশনে না থাকার পরেও লাফিয়ে লাফিয়ে দর বাড়ার পরে দর কমছে শেয়ারের।

বৃহস্পতিবার ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২২৩ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়।

পতনের তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে কোহিনূর কেমিক্যাল। ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ দর কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৪৫ টাকা ৪০ পয়সায়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারিয়েছে লোকসানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ৬ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- ওরিয়ন ইনফিউশন, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সন্ধানী ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মা,, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স, সিলভা ফার্মা ও নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের আকার বাড়তেই থাকবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
দুই দশক পর পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ পেলেন শহীদ জননী
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিবকে নিয়ে বিপাকে দুদক
বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি
বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC committee to investigate EPS scandal in Bay Leasing

বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি

বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
কোম্পানিটি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৭৫ পয়সা আয় দেখায়। কোম্পানিটির যে শেয়ারসংখ্যা, তার হিসাবে ৯ মাসে মুনাফা দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১৮ টাকা। তবে গোটা অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৯৯ পয়সা লোকসান হয়েছে বলে জানানো হয়। অর্থাৎ ৯ মাসে যে পরিমাণ আয় হয়েছে, পরের তিন মাসে সেখান থেকে কমে গেছে এর চেয়ে বেশি। এই হিসাবে ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৮ টাকা। অর্থাৎ এই তিন মাসে লোকসান হয়েছে ৫২ কোটি ৬৯ লাখ ২২ হাজার ৭৭৬ টাকা।

২০২১ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে ৩৮ কোটি টাকা মুনাফা দেখিয়েও পরের তিন মাসে ৫২ কোটির বেশি লোকসান দেখানোয় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি বে লিজিংয়ের প্রান্তিক প্রতিবেদন খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এ লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি। সংস্থাটি মনে করছে, বে লিজিং যে প্রান্তিক প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে যে উত্থান পতন হয়েছে, সেটি স্বাভাবিক নয়।

বৃহস্পতিবার সংস্থাটির উপ-পরিচালক কাজী মো. আল-ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক কাউসার আলী ও আতিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

কমিটিকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানিটির ৯ মাসের অনিরীক্ষিত ও ১২ মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবের মধ্যে কোনো কারসাজি হয়েছে কি না, ইনসাইডার ট্রেডিং আছে কি না, ওই অস্বাভাবিক আর্থিক হিসাবের কারণে শেয়ার দরে প্রভাব ও মার্কেট ম্যানুপুলেশন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কমিশন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে বে লিজিং নয় মাস পর সম্প্রতি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। তবে কোম্পানিটি যে প্রান্তিক প্রতিবেদন দিয়েছে, তা তৈরি করেছে বিস্ময়।

কোম্পানিটি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৭৫ পয়সা আয় দেখায়। কোম্পানিটির যে শেয়ারসংখ্যা, তার হিসাবে ৯ মাসে মুনাফা দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১৮ টাকা।

তবে গোটা অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৯৯ পয়সা লোকসান হয়েছে বলে জানানো হয়। অর্থাৎ ৯ মাসে যে পরিমাণ আয় হয়েছে, পরের তিন মাসে সেখান থেকে কমে গেছে এর চেয়ে বেশি।

এই হিসাবে ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৮ টাকা। অর্থাৎ এই তিন মাসে লোকসান হয়েছে ৫২ কোটি ৬৯ লাখ ২২ হাজার ৭৭৬ টাকা।

অর্থাৎ শেষ ৩ মাসে শেয়ারপ্রতি (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২১) লোকসান হয়েছে ৩.৭৪ টাকা।

কোম্পানিটি তার লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারপ্রতি আয়ে এই পরিবর্তনের একটি ব্যাখ্যা অবশ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের ঋণ আদায় সন্তোষজনক ছিল না। আর অনাদায়ী এই ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় কমে গেছে।

বে লিজিং জানিয়েছে, গত অর্থবছরে মোট ৫৭ কোটি টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

শেষ প্রান্তিকে এসে বড় সঞ্চিতি সংরক্ষণের কথা বলেছে, সেটা আগের তিন প্রান্তিকে কেন রাখা হয়নি- এমন প্রশ্নে কোম্পানি সচিব শারমিন আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রভিশন রুল পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের বড় কয়েকজন গ্রাহক সময়মতো টাকা দেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপে আমাদের প্রভিশন করতে হয়েছে।’

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে প্রতি কোয়ার্টারে প্রভিশন রাখতে হয়। একবারে বছর শেষে প্রভিশন রাখা এটা সঠিক নিয়ম নয়।’

প্রশ্ন উঠেছে, এই সঞ্চিতি কি কেবল শেষ তিন মাসে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে ৯ মাসের মুনাফা দেখে যারা ভালো লভ্যাংশের আশায় শেয়ারে বিনিয়োগ করে লোকসানে পড়েছেন, তাদের দায়ভার কে নেবে?

এই লভ্যাংশ যে বিনিয়োগকারীদের পছন্দ হয়নি, সেটি লেনদেনেই স্পষ্ট। লভ্যাংশ প্রকাশের দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১ টাকা ৪০ পয়সা। বর্তমান দর ২৩ টাকা ৯০ পয়সা। এটিই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস, অর্থাৎ এর চেয়ে নিচে নামা আসলে সম্ভব নয়। এই বাধা না থাকলে দর কোথায় দাঁড়াত, সেটি জানা সম্ভব নয় কোনোভাবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে প্রতি তিন মাস অন্তর তাদের লাভ-লোকসানের হিসাব প্রকাশ করতে হয়, যাকে বলা হয় প্রান্তিক প্রতিবেদন। এর মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন কেবল নিরীক্ষিত থাকে, বাকি তিনটি প্রতিবেদন নিরীক্ষা না করার কারণে তাতে কারসাজির সুযোগ থাকে।

বিভিন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা গেছে, কোনো প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। তাতে শেয়ারদরও দেয় লাফ। কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা কমে যায়।

গত শনিবার ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে যৌথভাবে সিএমজেএফ ও বিএমবিএ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বে লিজিংয়ের এই প্রতিবেদন খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘যেসব বিনিয়োগকারী ৯ মাসে শেয়ার প্রতি ২.৭৫ টাকা দেখে বিনিয়োগ করল, তাকে কি এখানে দোষ দেয়া যাবে? সে তো ঠিকই ফান্ডামেন্টাল দেখে বিনিয়োগ করেছিল। এ ধরনের অ্যাকাউন্টস যারা প্রকাশ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রান্তিক প্রতিবেদনে কী তথ্য ছিল

বে লিজিং ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মুনাফা দেখায় শেয়ারপ্রতি ৩১ পয়সা।

যে প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে, সেটি কোম্পানিটি প্রকাশ করে ৩০ সেপ্টেম্বর।

একই দিন প্রকাশ করা হয় দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্যও। জানানো হয়, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৪৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ। ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল কেবল ২ পয়সা।

ওই বছরের ২৮ অক্টোবর প্রকাশ হয় কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব। ওই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় আবার দেয় লাফ। জানানো হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ১ টাকা ৯৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯১ পয়সা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়ায় ২ টাকা ৭৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

এবার আয় বাড়লে লভ্যাংশও বাড়তে পারে- এই আশায় যারা বিনিয়োগ করেছেন, তারা এখন হতাশ।

আরও পড়ুন:
দুই দশক পর পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ পেলেন শহীদ জননী
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিবকে নিয়ে বিপাকে দুদক
বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি
বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন
শেয়ারের দাম ১০৯ টাকা, কোম্পানির অস্তিত্ব নেই

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Golden Jubilee Mutual Fund Trading below face value on first day

গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন

গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন হওয়ায় ফান্ডটির সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস ছিল না। তাই ১০ শতাংশ বা ১ টাকার মতো দর কমা বা বৃদ্ধির সুযোগ ছিল। ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর বিপরীতে সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১ টাকা। বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দর কমে লেনদেন হয়েছে। দিনের একসময় ৯ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয় প্রতি ইউনিট। তবে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়।

পুঁজিবাজারে বুধবার শুরু হয়েছে আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন। প্রথম দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফান্ডটির ইউনিট লেনদেন হয়েছে অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর নিচে, ৯ টাকা ৬০ পয়সায়।

অবশ্য লেনদেন শেষ হয়েছে ফেস ভ্যালুর ‌ওপরের দরেই। তবে অপর বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দিনভর ফেস ভ্যালুর ওপরেই ফান্ডটির লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন হওয়ায় ফান্ডটির সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস ছিল না। তাই ১০ শতাংশ বা ১ টাকার মতো দর কমা বা বৃদ্ধির সুযোগ ছিল।

ফলে দিনের বিভিন্ন সময় সর্বোচ্চ পরিমাণ দর বেড়ে লেনদেন হয়েছে। ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর বিপরীতে সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১ টাকা।

বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দর কমে লেনদেন হয়েছে। দিনের একসময় ৯ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয় প্রতি ইউনিট। তবে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়, যা ইউনিটটির ক্লোজিং প্রাইস।

ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইসের বিষয়ে কী হবে জানতে চাইলে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ‘আইপিওতে শেয়ার আসার পর প্রথম লেনদেনের দিনে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দর থাকে না। প্রথম দিনের ক্লোজিং প্রাইস পরের দিন থেকে ফ্লোর প্রাইস হিসেবে গণ্য করা হবে।’

এদিকে ডিএসই ও সিএসই মিলে প্রথম দিনে ফান্ডটির লেনদেন হয়েছে ৯৮ লাখ ৯১ হাজার ১২৫ টাকা। এর মধ্যে ডিএসইতে ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার ও সিএসইতে ৫৫ হাজার ১২৫ টাকা লেনদেন হয়।

লেনদেন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫৪১ বারে ডিএসইতে ফান্ডটির ৯ লাখ ৭৫ হাজার ২৭১টি ইউনিট লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে সিএসইতে সাতবারে মাত্র ৫ হাজার ২৫০টি ইউনিট হাতবদল হয়।

লেনদেনের শুরু থেকেই সিএসইতে একই দরে অর্থাৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সায় প্রতিটি ইউনিট হাতবদল হয়েছে। ফলে সিএসইতে ফান্ডটির ক্লোজিং প্রাইস ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

মিউচুয়াল ফান্ডটির লেনদেন শুরু উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে ঘণ্টা বাজানো বা রিং দ্য বেল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) এবং আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য এ মিউচুয়াল ফান্ড চালু করেছে। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এই গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে আসা হয়।

ফলে ফান্ডটির স্পন্সর হলো সিএমএসএফ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে আছে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইসিবি এএমসিএল)।

ফান্ডটির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০০ কোটি টাকা। এর উদ্যোক্তা হিসেবে সিএমএসএফ ৫০ কোটি টাকা এবং আইসিবি এএমসিএল ২০ কোটি টাকা দিয়েছে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি) প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের ৫ কোটি টাকা দেয়। বাকি ২৫ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়, যা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

গত ৩১ মার্চ সিএমএসএফ ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা চুক্তির বিষয়ে বিএসইসি অনুমোদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল একটি ট্রাস্ট ডিড সই হয়।

এ ছাড়া ফান্ডটির কাস্টোডিয়ান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এবং ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

আরও পড়ুন:
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিবকে নিয়ে বিপাকে দুদক
বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি
বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন
শেয়ারের দাম ১০৯ টাকা, কোম্পানির অস্তিত্ব নেই
দেড় গুণের বেশি কোম্পানির দরপতনেও সূচকের উত্থান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Midland Bank IPO approval

মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন

মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
মিডল্যান্ড ব্যাংক পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা সরকারি সিকিউরিটিজ ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি আইপিওর খরচ মেটাবে। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

বাংলাদেশের চতুর্থ জেনারেশনের বেসরকারি ব্যাংক মিডল্যান্ডকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৭ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৭০ কোটি টাকা মূলধন তোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

মিডল্যান্ড ব্যাংক পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা সরকারি সিকিউরিটিজ ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি আইপিওর খরচ মেটাবে।

মিডল্যান্ড ব্যাংকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান-উজ্জামান ও চেয়ারম্যান মিসেস নিলুফার জাফর উল্লাহ।

২০১৮ সালে ব্যাংকটি ৬৫ কোটি ৩ লাখ টাকা মুনাফা করে। পরের বছর তাদের মুনাফা হয় ৫৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আর ৬৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মুনাফা করে ২০২০ সালে।

২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির ৬ হাজার ৯০১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৬১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার দায় এবং ৭৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকার মূলধন আছে।

২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৩ টাকা, মুনাফা ৯০ পয়সা আর নগদ অর্থপ্রবাহ ২ টাকা ৫২ পয়সা।

মিডল্যান্ড ব্যাংকের ইস্যু ব্যবস্থাপনায় রয়েছে লংকা বাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বিএসইসি মিডল্যান্ড ব্যাংকের প্রতি পরিচালককে ২ শাতংশ শেয়ার ধারণের শর্ত দিয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলতিভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ৬১টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে ৩৩টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংক তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া ৩৫তম ব্যাংক। বেসরকারি খাতের আরেক ব্যাংক গ্লোবাল ইসলামী মিডল্যান্ড এর আগেই তালিকাভুক্ত হবে।

আরও পড়ুন:
বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি
বিপুল লেনদেন, সূচকের উত্থান থেকে অবিশ্বাস্য পতন
শেয়ারের দাম ১০৯ টাকা, কোম্পানির অস্তিত্ব নেই
দেড় গুণের বেশি কোম্পানির দরপতনেও সূচকের উত্থান
ওরিয়ন গ্রুপের বিস্ময়কর উত্থান চলছেই, লাফাচ্ছে দুর্বল কোম্পানিও

মন্তব্য

p
উপরে