× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Bhutan will increase connectivity in Indias transit
hear-news
player
print-icon

ভারতের ট্রানজিটে যোগাযোগ বাড়াবে বাংলাদেশ-ভুটান

ভারতের-ট্রানজিটে-যোগাযোগ-বাড়াবে-বাংলাদেশ-ভুটান
সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভুটানের প্রতিনিধি দল। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকায় দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ বাস্তবায়ন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণে ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে ঢাকায় শেষ হয়েছে দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক।

অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ বাস্তবায়ন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বৈঠকে বলা হয়, এর ফলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে। এ ছাড়া বাণিজ্য ক্ষেত্রে শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করতে উভয় দেশ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

দুই দিনের এ বৈঠক গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হয়। এটি ছিল দুই দেশের সচিব পর্যায়ের অষ্টম বৈঠক। পরবর্তী বৈঠকটি ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ নেতৃত্ব দেন। ভুটানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব দেব দাশো কর্মা শেরিন নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

দুই বছর আগে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পিটিআই চুক্তি সই হয়, যা চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়।

এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। পক্ষান্তরে ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা পাচ্ছে।

বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ভুটানের অনুকূলে। অর্থাৎ ভুটানে বাংলাদেশের রপ্তানি কম, ভুটান থেকে আমদানি বেশি। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। পিটিআই চুক্তির ফলে সরকার আশা করছে এই ঘাটতি কমে আসবে।

ভুটানে সরাসরি রপ্তানি করতে পারে না বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে মোদি সরকার বাংলাদেশকে ট্রানজিটের প্রস্তাব দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানে সরাসরি পণ্য রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সচিব পর্যায়ের বৈঠকে তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নতি করতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়।

এ ছাড়া বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন, পর্যটনশিল্পের বিকাশে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি এবং শিল্প খাতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যথাক্রমে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), ভুটান স্ট্যান্ডার্ড ব্যুরো, ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার এক্সটেনশন, ভুটান এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড রেগুলেটরি অথরিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সমঝোতা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে পাথর আমদানি করে ভুটান থেকে। ট্রানজিট প্রস্তাবে সরাসরি পাথর আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের পাথর আমদানি সহজ হবে এবং খরচ কমবে।

বৈঠকে এ বিষয়টিসহ সোনাহাট শুল্ক বন্দরের মাধ্যমে ভুটানের পণ্য পরিবহন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ভুটানের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

ভুটানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব দেব দাশো কর্মা শেরিনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে উভয় দেশের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে ভুটানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালু হলে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হবে বলে মত দেন মন্ত্রী।

ভুটানকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে টিপু মুনশি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভুটান প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, বাংলাদেশ তা সব সময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।’

বাংলাদেশ ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ঘোষণা করেছে এবং এর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হলে উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে জানান তিনি।

টিপু মুনশি জানান, বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ নিতে পারে ভুটান। বাংলাদেশে এ বিষয়ে উন্নতমানের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) নূর মো. মাহবুবুল হকসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যে ২০২৬-এর পরও ৯৮ ভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা
বাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
৯৯% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা চীনের
ভারত-রাশিয়া নতুন বাণিজ্য রুটে সঙ্গী ইরান   
এবার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ বিলিয়ন ডলার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Transfer to Ronnies cabin

রনিকে কেবিনে স্থানান্তর

রনিকে কেবিনে স্থানান্তর জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা আবু হেনা রনি। ছবি: সংগৃহীত
পার্থ শংকর পাল বলেন, ‘তাদের দুজনের শরীরেই আজ ড্রেসিং করা হয়েছে। দুপুর ২টায় তাদের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। কেবিনে তাদের একটু আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাদের আরও  কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

গাজীপুর পুলিশ লাইনসে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ কৌতুকাভিনেতা আবু হেনা রনি ও পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ডাক্তার পার্থ শংকর পাল শনিবার এ তথ্য জানান।

পার্থ শংকর পাল বলেন, ‘তাদের দুজনের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে বেশ উন্নতি হচ্ছে। তারা কথা বলছেন। স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দুজনের শরীরেই আজ ড্রেসিং করা হয়েছে। দুপুর ২টায় তাদের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। কেবিনে তাদের একটু আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাদের আরও কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনসে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন থেকে বিস্ফোরণ ঘটে এতে পাঁচ জন আহত হন।

তাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রনি ও পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানকে ওইদিনই গাজীপুর থেকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন:
দক্ষিণখানে গ‍্যাসের আগুনে এক ব‍্যক্তি দগ্ধ
দুর্বৃত্তের আগুনে গুরুতর দগ্ধ দম্পতি
কৌতুক অভিনেতা রনিকে দেখতে হাসপাতালে আইজিপি
দগ্ধ অভিনেতা রনিকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি
গাজীপুরে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
A person was burnt in a gas fire in Dakshinkhane

দক্ষিণখানে গ‍্যাসের আগুনে এক ব‍্যক্তি দগ্ধ

দক্ষিণখানে গ‍্যাসের আগুনে এক ব‍্যক্তি দগ্ধ
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আই হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে আগুনে দগ্ধ একজন রোগী এখানে আনা হয়েছে। বাবুল মিয়া নামের ওই রোগীর শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, যেহেতু তার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।’

রাজধানীর দক্ষিণখানে একটি টিনশেড বাড়িতে জমে থাকা গ্যাসের আগুনে বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণখানের আটিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আই হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে আগুনে দগ্ধ একজন রোগী এখানে আনা হয়েছে। বাবুল মিয়া নামের ওই রোগীর শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, যেহেতু তার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।’

আহত ব্যক্তির স্ত্রী সমলা বেগম বলেন, ‘দক্ষিণখান আটিপাড়া বড়বাগ মহিলা মার্কেটের পাশে মামুনের টিনশেড বাড়িতে স্বামী ও সন্তান নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাতে আমার স্বামী রান্না ঘরে গিয়ে গ্যাস লাইটার জ্বেলে মশাল কয়েল ধরাতে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে তিনি দগ্ধ হন। পরে প্রতিবেশীরাসহ আমরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসি। আমরা ধারণা করছি, জমে থাকা গ্যাসের আগুনেই তিনি দগ্ধ হয়েছেন।’

তিনি জানান, আহত বাবুল মিয়ার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামে। বাবার নাম হযরত আলী। পেশায় রিকশার মেকানিক।

আরও পড়ুন:
‘দুর্বৃত্তের’ আগুনে দগ্ধ দম্পতি: মারা গেছেন স্ত্রী
দুর্বৃত্তের আগুনে গুরুতর দগ্ধ দম্পতি
ডেসটিনির গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সিলিন্ডারের আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর
চীনে নিভেছে জ্বলতে থাকা সেই ভবনের আগুন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
A woman was killed by a bike while crossing the road

রাস্তা পার হওয়ার সময় বাইকের ধাক্কায় নারী নিহত

রাস্তা পার হওয়ার সময় বাইকের ধাক্কায় নারী নিহত
ফিরোজার ছেলে সুজন মিয়া বলেন, ‘আমার মা বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান।’

রাজধানীর হাজারীবাগে রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফিরোজা বেগম নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।

হাজারীবাগ বউবাজার বালুর মাঠের সামনে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চিকিৎসক ৫০ বছর বয়সী ফিরোজাকে মৃত বলে জানান।

ফিরোজার ছেলে সুজন মিয়া বলেন, ‘আমার মা বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কটিয়াদি উপজেলায়। আমার বাবা দুখু মিয়া। হাজারীবাগ বউবাজার বালুর মাঠ এলাকায় আমরা সপরিবারে বাস করি।’

ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
যাত্রাবাড়ীতে গাড়ির ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত
গাড়ির ধাক্কায় বাইক আরোহী নিহত
জবির গেটে বাসের ধাক্কায় গেল রিকশা আরোহীর প্রাণ
বিভাজকে বাস উঠিয়ে পালিয়েছেন চালক
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ দাখিল পরীক্ষার্থী নিহত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In the face of criticism the decision to close the Jabir student hall was withdrawn

সমালোচনার মুখে জবির ছাত্রী হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

সমালোচনার মুখে জবির ছাত্রী হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। ছবি: নিউজবাংলা
আগামী ১ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। আর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে হল বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। কিন্তু ছাত্রীরা টিউশনসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি যেতে ইচ্ছুক না হওয়ায় হলে থাকার আবেদন জানান। ফেসবুকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে তারা।

পূজার ছুটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রশাসন৷ হল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানোর পর আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তাদের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত পাল্টানো হয়।

শুক্রবার প্রভোস্ট শামীমা বেগম নিউজবাংলাকে হল খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূজার ছুটিতে হল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। আর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে হল বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়।

কিন্তু ছাত্রীরা টিউশনসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি যেতে ইচ্ছুক না হওয়ায় হলে থাকার আবেদন জানান। ফেসবুকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে তারা।
অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও হল প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করতে থাকে। ছুটিতে বাড়ি না গেলে ছাত্রীরা কোথায় অবস্থান করবে সেটা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে।

কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক চঞ্চল বোসও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছুটিতে বন্ধ থাকে বলে কখনও শুনিনি। ঢাবিতে ৬ বছরের বেশি মুহসীন হলে ছিলাম, এক মুহূর্তের জন্যও কোনো হল বন্ধ থাকার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। বরং ছুটিতে হলে থেকেই আমরা বেশি পড়াশুনো করেছি, লাইব্রেরি ওয়ার্ক করেছি। অনেক ছেলেমেয়ে টিউশনি, চাকরি, পত্রিকা অফিসে কাজ করত। এরকম অদ্ভুত কথা তো শুনিনি। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্টের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।’

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রী বলেন, ‘ঢাকায় আমি টিউশন করাই। তাই এবার বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলো না। হঠাৎ হল বন্ধের নোটিশ দেখে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। তাছাড়া বন্ধের পরে আমাদের পরীক্ষাও ছিল। তবে হল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে খুশি হয়েছি।’

আরেকজন ছাত্রী বলেন, ‘যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এবারের ছুটিতে বাসায় যাওয়ারও ইচ্ছা ছিলো না। প্রশাসনের নিকট আবেদন থাকবে পরবর্তীতে যেন এভাবে হল বন্ধ না করা হয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সুমাইয়া সোমা বলেন, ‘কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কখনও কোনো ছুটিতে বন্ধ থাকে না। এই হল প্রশাসন নতুন নতুন নিয়ম তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলে।’

এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘পূজার ছুটি শেষে কিছু বিভাগে ছাত্রীদের পরীক্ষা রয়েছে। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

চলতি বছর দুটি ঈদেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলটি বন্ধ রাখা হয়। সে সময়ও ছাত্রীরা বিপাকে পড়ে।

আরও পড়ুন:
জবিতে ভবনের সামনে অব্যবহৃত বাস নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
কৃষি গুচ্ছে উপস্থিতি ৮২ শতাংশ, ফল ১৫ সেপ্টেম্বর
গুচ্ছের ফল পুনর্নিরীক্ষণ: আবেদন ১১৬৩, নেই পরিবর্তন
কৃষি গুচ্ছে জবি কেন্দ্রে উপস্থিত ৮১ শতাংশ পরীক্ষার্থী
ফের জবি সাদা দলের নেতৃত্বে মোশাররাফ-রইছ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Deaf Haji Selim himself occupied the place of the deaf

বধিরদের জায়গা দখল করে ‘নিজেই বধির হাজি সেলিম’

বধিরদের জায়গা দখল করে ‘নিজেই বধির হাজি সেলিম’ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা। ছবি: নিউজবাংলা
২০০৪ সালে ঢাকা জেলার লালবাগ থানাধীন লালবাগ মৌজার এসএস-১নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ২০৬৫নং দাগের এক একর (আংশিক) জায়গা ঢাকা বধির হাই স্কুলের নামে বরাদ্দ করা হয়। স্কুলটি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু সেই জমিটি হাজি সেলিম দখল করে রেখেছেন।

বধিরদের জায়গা দখল করে নিজেই কথা বলতে পারছেন না পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম। এমন মন্তব্য উঠে এসেছে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সমাবেশে।

সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতি শাহাদাৎ আলম হারু চৌধুরী বলেন, ‘লালবাগে ঢাকা বধির হাই স্কুলের যে জমি রয়েছে তা হাজি সেলিম সাহেব দখল করে রেখেছেন। প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও তিনি এই জমি ফিরিয়ে দিচ্ছেন না।’

বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল যে এক মাসের মাথায় বধির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য এই জায়গাটি তিনি (হাজি সেলিম) ছেড়ে দেবেন। জেলা প্রশাসকদের জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

সেই জমি দখলমুক্ত না হওয়ায় বধির স্কুলের কার্যক্রমে কী সমস্যা হচ্ছে, সেটি তুলে ধরে তিনি বলেন, 'লালবাগের জমিতে একটি ছয়তলা ভবন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু তা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হাজি সেলিম সাহেব এই জমিটা দখল করে রেখেছেন। বিজয়নগরে সংকীর্ণ জায়গায় ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে।’

বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘‘হাজি সেলিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পত্তি দখল করে আছেন। কিন্তু ঢাকা জেলা প্রশাসক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সাল থেকে সংস্থার প্রধান শিক্ষা প্রকল্প হিসেবে ঢাকা বধির স্কুল স্থাপিত হয়। স্কুলটি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০০৪ সালে ঢাকা জেলার লালবাগ থানাধীন লালবাগ মৌজার এসএস-১নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ২০৬৫নং দাগের এক একর (আংশিক) জায়গা ঢাকা বধির হাই স্কুলের নামে বরাদ্দ করা হয়। স্কুলটি ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয়করণ করা হয়।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Chhatra League leader arrested on drug dealers information is accused of murder

মাদক ব্যবসায়ীর তথ্যে ধরা ছাত্রলীগ নেতা হত্যার আসামি

মাদক ব্যবসায়ীর তথ্যে ধরা ছাত্রলীগ নেতা হত্যার আসামি গ্রেপ্তার মো. ইকবাল হোসেন তারেক। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাবের কর্মকর্তা বলেন, ‘তারেক মাদকসহ একাধিকবার বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হন। কিন্তু নিজেকে তাহের পরিচয় দিয়ে হত্যা মামলার দায় থেকে বেঁচে যান। তার নামে হত্যা, মাদকসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।’

রমনা থানা ছাত্রলীগের এক নেতাকে হত্যার আট বছর পর এ মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩।

গ্রেপ্তার মো. ইকবাল হোসেন তারেক ২০১৪ সালে রমনা থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ওরফে রানাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম প্রধান পলাতক আসামি।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, তারেক তৎকালীন সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামে ডিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক কামরুল ইসলাম ও তানভিরুজ্জামান রনির সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল।

এই বিরোধের জেরে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ডিশের ক্যাবল কেটে দিত এবং প্রায়ই মারামারি হতো। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রানা মোটরসাইকেলে করে মগবাজার চৌরাস্তা থেকে মসজিদের পাশের গলিতে প্রবেশ করলে তার মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারেকসহ অন্যরা। পরে স্থানীয়রা রানাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‍্যাব-৩ অধিনায়ক আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এ ঘটনার মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার এবং চারজন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে ইকবাল হোসেন তারেক একজন, তার নামে ২০২০ সালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

তিনি জানান, ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি রানা হত্যাকাণ্ডের পর তারেক প্রথমে পালিয়ে চাঁদপুরের নিজ বাড়িতে চলে যান। চাঁদপুর বাড়ি হলেও তার বেড়ে ওঠা ছিল যশোরে। তাই তাকে না চেনার সুযোগে নিজেকে তাহের হিসেবে পরিচয় দেন। এর মধ্যে চাষাবাদের চেষ্টা করে সুবিধা করতে না পেরে আবার যশোর চলে যান। কিছুদিন পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পর মাদক ব্যবসা শুরু করেন তারেক।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালে আবার ঢাকায় এসে তাহের পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কার্টন সংগ্রহ করে বিক্রির আড়ালে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। সর্বশেষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ধরা পড়েন তারেক।

তিনি বলেন, ‘তারেক মাদকসহ একাধিকবার বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হন। কিন্তু নিজেকে তাহের পরিচয় দিয়ে হত্যা মামলার দায় থেকে বেঁচে যান। তার নামে হত্যা, মাদকসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।’

আরও পড়ুন:
উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত দপ্তরি
গাজীপুরে ৯ ডাকাত গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
মানিকগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
After the case of price manipulation the market cost increased further

দাম নিয়ে কারসাজির মামলার পর আরও বাড়ল বাজার খরচ

দাম নিয়ে কারসাজির মামলার পর আরও বাড়ল বাজার খরচ ফাইল ছবি
ডিমের দাম আবার হালিতে ৫০ ছুঁয়েছে। কিছুটা বেড়েছে মুরগির দামও। কমতে থাকা চালের দামও কেজিতে বাড়ল ২ থেকে ৩ টাকা। শীতের আগে সবজির বাজারে সরবরাহে টানের সঙ্গে বেড়েছে দামও। কারসাজি করে ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলার পর শুক্রবার এই চিত্র দেখা গেছে বাজারে।

চাল, ডিম, মুরগি, প্রসাধনের দাম কারসাজি করে বাড়ানোর অভিযোগ এনে ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার পরদিন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে কেনাকাটায় আরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে মানুষকে। ফলে রান্নার খরচ আরও গেছে বেড়ে।

আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে চাল, ডিম, মুরগির মাংসের দাম। এ তিনটি পণ্যের দাম বাড়ানোর পেছনেই কারসাজির প্রমাণ পেয়ে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। বৃহস্পতিবার মামলার পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে কোম্পানিগুলোকে।

প্রতিযোগিতা কমিশন চালের বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও নওগাঁর বেলকন গ্রুপের বেলকন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ইস্কাটন, বাড্ডাসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মোটা-সরু সব চালের দামই বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা। ২ টাকা বেড়ে মোটা স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায় ও বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়।

চিকন চালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মিনিকেট ও নাজিরশাইল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮৪ টাকায়।

কারওয়ান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জমির ব্যাপারী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া এখন চালের মৌসুম শেষ। যদিও চাল আমদানির কথা শুনছি, কিন্তু বাজারে সেগুলো আসছে না। এ জন্য চালের দাম বাড়ছে। অগ্রিম টাকা দিয়েও চাহিদামতো চাল মিলছে না। মোকামে যে পরিমাণ চালের অর্ডার দেওয়া হচ্ছে তা পাওয়া যাচ্ছে না।’

চলতি সপ্তাহের আগে টানা তিন সপ্তাহ চালের দামে ছিল ভাটার টান। কেজিতে ৬ থেকে ৮ টাকা কমেছিল ওই সময়ে।

প্রতিযোগিতা কমিশন দুই করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আটা-ময়দার সংকট তৈরির অভিযোগে।

মামলার পরদিন খোলা ময়দার দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়ার তথ্য মিলেছে। গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা ময়দা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। প্যাকেটের ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা কেজি, এখন হয়েছে ৭৫ টাকা।
বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তেলের বাজারে সংকট তৈরির অভিযোগে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বেড়ে গেছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৭২ টাকা দরে, সেটি বেড়ে হয়েছে ১৭৭ টাকা।

ডিমের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিম ব্যবসায়ী-আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ্, কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মুরগির বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগও আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি ও কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে।

মামলার পরদিন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ডিমের দর আবার দিয়েছে লাফ। গত মাসে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। পরে দাম কমতে কমতে নেমেছিল ১২০ টাকায়। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে আবার বাড়তে থাকে। ডজনের দাম হয়ে যায় ১৩৫ টাকা, সেটি আবার বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজার, বাড্ডা, রামপুরা বাজারে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, কোথাও কোথাও ৫০।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। কিছুটা বেড়েছে মুরগির দামও।

রামপুরা এলাকার মুরগি বিক্রেতা হাসান বলেন, ‘গত সপ্তাহে মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১৮০ টাকা।’

সবজি, মসলার খরচও বাড়ল

গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজির মৌসুম শেষ প্রায়, শীতের আগাম সবজির জোগান বাজারের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। আর সরবরাহে টান পড়ার কারণে প্রতি বছরের মতো শীতের আগে আগে দাম বাড়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, সেটি দেখা যাচ্ছে এবারও।

সবজিভেদে দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেগুন ১০০, কচুরলতি ৮০, মুলা ৬০, শসা ৭০, করলা ৮০, ঢেঁড়স ৬০, পটোল ৫০ থেকে ৬০, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০, শিম ১৫০ থেকে ১৬০, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ২০ থেকে ৩০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাঁধাকপি ও ফুলকপি উঠতে শুরু করেছে, আকারে ছোট, তবে দামে বড়; একেকটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেড়ে গেছে মিষ্টি কুমড়ার ফালির দামও। কেউ বিক্রি করছে ৩০ টাকায়, কেউ কেজি প্রতি দাম চাইছে ৪০ টাকা।

দাম বেড়েছে আদা-রসুনেরও। আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে যে আদা বিক্রি হয়েছে, আজ সেই আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে।

আমদানি করা ৮০ টাকা কেজি আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রসুন এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

আরও পড়ুন:
চালের দামে অস্থিরতা ৯ কারণে
খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক যুগের সর্বোচ্চ
নিত্যপণ্যের দামে সুখবর নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃচ্ছ্রসাধন হবে কীভাবে
বাজার গরম: এবার রোজাদাররা স্বস্তি পাবে তো?

মন্তব্য

p
উপরে