× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
1 ton per day per flour dealer at district level
hear-news
player
google_news print-icon

জেলা পর্যায়ে ডিলারপ্রতি আটা দিনে ১ টন

জেলা-পর্যায়ে-ডিলারপ্রতি-আটা-দিনে-১-টন-
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সংগঠন বিএসআরএফের সংলাপে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গমের সমস্যা হবে না। গম আসছে। জেলা পর্যায়ে ১ অক্টোবর থেকে ডিলারপ্রতি ১ টন করে আটা দেয়া শুরু করব। আটা প্যাকেটজাত করা যায় কিনা সেটা চিন্তা করছি। এতে দাম একটু বেশি পড়বে কিন্তু বাজার মূল্যের চেয়ে দাম অর্ধেক হবে। এতে কালোবাজারি বন্ধ হবে বলে আশা করি।’

জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ১ অক্টোবর থেকে প্রত্যেক ডিলারকে দিনে এক টন করে আটা বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সংগঠন বিএসআরএফের সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গমের সমস্যা হবে না। গম আসছে। জেলা পর্যায়ে ১ অক্টোবর থেকে ডিলারপ্রতি ১ টন করে আটা দেয়া শুরু করব। আটা প্যাকেটজাত করা যায় কিনা সেটা চিন্তা করছি। এতে দাম একটু বেশি পড়বে কিন্তু বাজার মূল্যের চেয়ে দাম অর্ধেক হবে। এতে কালোবাজারি বন্ধ হবে বলে আশা করি।’

‘এখনও দেশে যে খাদ্যের মজুদ আছে তাতে হাহাকারের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা চাল ও গম আমদানি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চালের দাম বাড়া অনুচিত। মিল মালিকরা বলে তারা মিল গেটে দাম বাড়ায়নি। তাদের ওয়েবসাইট করতে বলা হয়েছে। কোন চালের দাম কত, সেটা ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তারা আপডেট করবে। একই সঙ্গে পাইকারদেরও বলবো ওয়েবসাইট খুলতে। এটা অতি জরুরী।’

আরও পড়ুন:
আখাউড়া হয়ে ভারত থেকে এলো ২৫০০ টন গম
ওএমএস চালু হওয়ায় চালের দাম কমবে: মন্ত্রী
দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে একটি মহল: খাদ্যমন্ত্রী
গম ও ভুট্টা চাষে হাজার কোটি টাকার তহবিল
রাশিয়া থেকে গম আমদানির পথ খুলছে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
A farmers dream in Lal Kachumukhi of Lalmai Hills

লালমাই পাহাড়ের কচুমূখীতে কৃষকের স্বপ্ন

লালমাই পাহাড়ের কচুমূখীতে কৃষকের স্বপ্ন লালমাই পাহাড়ের কৃষকরা কচুমূখী চাষ করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা
আবুল কালাম বলেন, ‘এ বছর ২৪০ শতক জমিতে কচুমূখী চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। পেয়েছি ১৮ টন কচুমূখী।’

লালমাই পাহাড়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে সদর দক্ষিণ উপজেলায় এ পাহাড়ের অবস্থান। লাল রংয়ের মাটি বেষ্টিত বলেই লালমাই নামকরণ করা হয়। এই লালমাই পাহাড়ের কৃষকরা কচুমূখী চাষ করেছেন। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও স্বপ্ন বুনছেন আর্থিক স্বচ্ছলতার।

সরেজমিনে লালমাই পাহাড় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ের উচু নিচু জমিতে। কেউ পরিবারের সদস্য নিয়ে, কেউবা শ্রমিক নিয়ে কোদাল কুপিয়ে তুলছেন কচুমূখী। মাঠ থেকে সংগ্রহ করা কচু পরিষ্কার করে বিকেল হলেই ঝুড়িতে করে চলে যাচ্ছেন হাটে।

লালমাই পাহাড়ে কচুমূখী চাষ করেছেন কৃষক আবুল কালাম আজাদ। কথা হয় তার সঙ্গে। জানান, গত বছর দশেক ধরে লালমাই পাহাড়ে নিয়ম করে তিনি কচুমূখীসহ নানান জাতের শাক-সবজি ও ফলমূল চাষ করছেন। কৃষিতেই তার সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে।

আবুল কালাম বলেন, ‘এ বছর ২৪০ শতক জমিতে কচুমূখী চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। পেয়েছি ১৮ টন কচুমূখী।’

সবকিছু ঠিক থাকলে ৮ লাখ টাকার তিনি তার সবজিগুলো বিক্রি করতে পারবেন। এতে খরচ বাদে তিন লাখ টাকা লাভের কথা জানান আজাদ।

লালমাই পাহাড়ের কচুমূখীতে কৃষকের স্বপ্ন

লালমাই পাহাড়ের কচুমূখী স্বাদে-গুণে অনন্য। তাই হাটে এই কচুমূখীর আলাদা চাহিদা রয়েছে। বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা আবদুস সাত্তার জানান, শত বছর ধরে লালমাই পাহাড়ে কচুর ছড়া চাষ হয়। স্থানীয়রা কচুমূখীকে কচুর ছড়া নামে চেনেন।

বলেন, ‘এই মাটিতে উৎপাদিত কচুর ছড়া দিয়ে ইলিশ মাছ রান্না করলে খুব স্বাদ হয়। তাই বছরের এই সময়ে বাড়িতে কুটুম আসলে কচুমূখীর তরকারি দিয়ে আপ্যায়নের একটা প্রথা চালু আছে আমাদের।’

কুমিল্লার কোটবাড়ি, পাহাড়পুর, বিজয়পুর, নিমসার হাট থেকে কচুমূখী দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে চলে যায়। পাইকারি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে হাটে ৬০-৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, ‘শত বছর ধরে লালমাই পাহাড়ে কচুমূখী চাষ হয়। লালমাই পাহাড়েরর কচুমূখী এতদ্বঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী সবজি। লালমাটিতে উৎপাদন হয়, লাল রঙের জন্য বাজারে গেলে যে কেউ সহজে এই কচুমূখী চিনতে পারে। রান্না করলে একদম মোমের মত নরম হয়ে যায়। সব বয়সীদের জন্য এই কচুমূখী বেশ উপকারী।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, ‘লালমাই পাহাড়ের ৫০ হেক্টর জমিতে কচুমূখী চাষ হয়েছে। বছরের এই সময় কৃষকরা ব্যস্ত থাকে কচুমূখী সংগ্রহ পরিষ্কার ও বাজারজাত করার কাজে। পাশাপাশি কৃষকদের বাগানে স্থানীয় নারী পুরুষরাও দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। জমি থেকে কচুমূখী সংগ্রহ পরিষ্কার করার মজুরি হিসেবে প্রতিজন শ্রমিক ৫০০ টাকা পর্যন্ত পান। এ কাজে এই এলাকার শতাধিক পরিবার বেশ ভালো আয় করেন।’

কচুমূখী চাষে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়। কীভাবে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করা যায় সেসব পরামর্শের পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের খোঁজ খবর রাখেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সবজির চারার গ্রামে ক্রেতাশূন্যতায় হতাশা
আগাম জাতের শিমে হাসছেন নওগাঁর চাষিরা
তিন বছরে মাল্টার বাগানে ফলন ৩ গুণ
কলা চাষে লাভবান নাটোরের চাষিরা 
ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Farmers benefit from vegetables and fruits in Polinet

পলিনেটে সবজি-ফলমূলে লাভবান কৃষক

পলিনেটে সবজি-ফলমূলে লাভবান কৃষক শেরপুরে প্রথমবারের মতো পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে ফল-সবজি রোপণ ও চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, ‘পলিনেট হাউস প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারি বৃষ্টিপাত, তাপ, কীটপতঙ্গ, ভাইরাসজনতি রোগ ইত্যাদির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে নিরাপদ শাক-সবজি ও ফলমূল উৎপাদন সম্ভব। পলিনেটের ওপরে শেড দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে। এখানে উৎপাদিত চারা ২০ দিন পর রোপণযোগ্য হয়। মূলত অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় চারা রাখতে না পারায় বিকল্প এই চিন্তা।’

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় শেরপুরে প্রথমবারের মতো পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে ফল-সবজি রোপণ ও চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে।

প্রতিটি পলিনেট হাউস প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে কৃষি বিভাগ। জেলার নকলা, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রথমবারের মতো এ হাউসে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আর এতে সুফল পাচ্ছে তিন উপজেলার কৃষকরা। ফলে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, পলিনেট হাউসে উচ্চমূল্যের ফসল যেমন টম্যাটো, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, রকমেলন, রঙিন তরমুজ, রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুসের মতো সবজির পাশাপাশি চারা উৎপাদন করা হয়।

পলিনেটে সবজি চাষে যেমন বৈচিত্র্য আসে, তেমনি অনেকেই আয়ের নতুন উৎসের সন্ধান পান। শেরপুরেও সেটি হচ্ছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষকরা জানান, পলিথিনের আচ্ছাদন থাকায় এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ভেতরে প্রবেশে বাধা পায় এবং অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ফসল অক্ষত থাকে। অসময়ে সবজি চাষের জন্য পলিনেট হাউস দেশে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নতুন সংযোজন। এর মাধ্যমে শীতকালীন সবজিগুলো যেমন সহজেই গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করা যায়, তেমনি গ্রীষ্মকালের সবজিও শীতে উৎপাদন করা যায়।

পলিনেটে সবজি-ফলমূলে লাভবান কৃষক

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার বাকাকুড়া গ্রামে ১০ শতাংশ জমির ওপর একটি পলিনেট হাউস স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে পলিনেট হাউসে টম্যাটো, ফুলকপি, পেঁপে, কলার চারা ও ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হচ্ছে। আর এতে কাজ করছেন পলিনেটের উদ্যোক্তা ফজলুল হক।

ঝিনাইগাতী উপজেলার পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের কৃষক ফজলুল হক তার ১০ শতাংশ জমিতে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে নানা ধরনের সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করছেন।

ফজলুল হক জানান, আধুনিক এই পলিনেট হাউসে প্লাস্টিক ট্রেপে মাটির পরিবর্তে নারকেলের ছোবড়ায় তৈরি কোকোপিটে চারা উৎপাদন করা হয়। এতে ভাইরাস ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ফলে সার ও কীটনাশক দিতে হয় না।

ইতোমধ্যে এ হাউসে ১০ হাজার চারা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পলিনেটে সবজি-ফলমূলে লাভবান কৃষক

এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমি ঝিনাইগাতীর সফল নার্সারি মালিক বলে আমাকে এই পলিনেট হাউসটি দিয়েছেন কৃষি বিভাগ। আমি এতে খুব খুশি। আমি এ পলিনেটে অসময়ের সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করে সফলতা পাচ্ছি। আমার এখান থেকে অনেকে চারা সংগ্রহ করছে। অসময়ে বিভিন্ন সবজি চাষ করার ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি।’

তবে এই চাষাবাদ লাভজনক হবে কি না তা নিয়ে নিজে একটু শঙ্কায় ছিলেন বলেও জানান ফজলুল হক। বলেন, ‘আবাদ শুরুর পর দেখি এ পদ্ধতি বেশ ভালো। সারা বছর এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আমরা লাভবান হতে পারব।’

না‌লিতাবাড়ীর আরেক উদ্যোক্তা বকুল মিয়া বলেন, ‘আমি এ পলিনেটের মাধ্যমে অনেক সুবিধা পাচ্ছি। এতে অসময়ের সবজি চাষ করা যায়। আমার এখান থেকে অনেকে চারা সংগ্রহ করছে। আমি ভালোই সাড়া পাচ্ছি। ইতোমধ্যে এই হাউসে টম্যাটো, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাক-সবজি লাগানো হয়েছে। এইটা দেশের সব জায়গায় করলে সব কৃষক এইটার সুফল ভোগ করবে আমাদের মতো।’

চাষিরা জানান, এই পদ্ধতিতে সার ও কীটনাশক ছাড়াই সব ধরনের শাক-সবজি, ফল রোপণ ও চারা উৎপাদন করা হয়। এতে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে অন্য চাষিদের মাঝে। প্রতিদিনই এই হাউস দেখতে আসছেন কৃষকরা। লাভজনক হলে পলিনেট হাউস করবে তারাও।

পশ্চিম বাকাকুড়ার এরশাদ আলী বলেন, ‘আমি আসলেও প্রথমে ভাবছিলাম এনো সবজি হব না। এখন দেহি ভালাই সবজি হইছে। আমিও এডা পলিনেট হাউস করবার চাইতাছি।’

কৃষক লাদেন মিয়া বলেন, ‘পলিনেটে তো শীতকালের সবজি এহনি পাওয়া যাইতাছে। এইডাতে তো মেলা লাভ। এহন টম্যাটোর দাম বাজারো ১৫০ টাহা কেজি। আর এহন বেইচাও ভালা টাহা পাওয়া যাইতাছে দেখলাম।’

পলিনেটে সবজি-ফলমূলে লাভবান কৃষক

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আসলে এই সময়ে তো শীতকালের সবজির চারা সব জায়গায় হয় না। কিন্তু এর মধ্যে তো হইতাছে। আমি এনো থাইকা কিছু চারা নিয়া লাগাইছি। এনো চারা তো কম সময়ের মধ্যেই হয়ে যাই।’

আব্দুল ওহাব বলেন, ‘ওয়াদুদ ভাইয়ের মত যদি আমাগোরে কৃষি বিভাগ একটু সাহায্য করে এডা পলিনেট হাউস বানাই দেয়। তাহলে আমিও এই রহম কইরা সবজি চাষ করতাম।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে কৃষকরা সারা বছর সবজি চাষ করতে পারবেন। এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সব ধরনের সবজি চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতির সুবিধা দেখে এলাকার অনেক কৃষকই এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘পলিনেট হাউস প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারি বৃষ্টিপাত, তাপ, কীটপতঙ্গ, ভাইরাসজনতি রোগ ইত্যাদির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে নিরাপদ শাক-সবজি ও ফলমূল উৎপাদন সম্ভব। পলিনেটের ওপরে শেড দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে। এখানে উৎপাদিত চারা ২০ দিন পর রোপণযোগ্য হয়। মূলত অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় চারা রাখতে না পারায় বিকল্প এই চিন্তা।’

আরও পড়ুন:
গ্রীষ্মে শীতের সবজি চাষে দ্বিগুণ লাভ
সবজির দাম কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই
এক মাস পর যুক্তরাজ্যে সবজি রপ্তানি শুরু
আরও ৩০টি ডোনেট বাক্সে দেয়া হচ্ছে বিনা মূল্যে সবজি
স্ক্যানার অচল: নষ্ট হচ্ছে সবজির রপ্তানি বাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Early planting of potato in Nilphamari

নীলফামারীতে আগাম আলু রোপণের ধুম

নীলফামারীতে আগাম আলু রোপণের ধুম আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই, পুটিমারী ও বাহাগিলি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা
দেশে নীলফামারী জেলার আলু সবার আগে ক্ষেত থেকে বাজারে আসে। এখানে তাই অন্য জায়গার চেয়ে আগে শুরু হয়ে যায় আলু রোপণের তোড়জোড়।

আগাম আলু উৎপাদনের একমাত্র জেলা নীলফামারীতে চলছে কৃষকদের জোর প্রস্তুতি। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। কেউবা আলু বীজ রোপণ করছেন। আবার কেউ আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে আলু বীজ রোপণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই, পুটিমারী ও বাহাগিলি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গতবারের লোকসানের শঙ্কা কাটিয়ে এবার বাম্পার ফলন ও ভালো দামের স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক।

নিতাই ইউনিয়নের পশ্চিম দুরাকুটি এলাকার কৃষক শামীম হোসেন বাবু বলেন, ‘এবার ২৩ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণের কাজ শুরু করেছি। ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে আলু তুলে বিক্রি করা যাবে। ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে এই আগাম আলু।’

তবে জ্বালানি, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। আগে বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও এবার খরচ পড়ে যাবে ৩৫ হাজার পর্যন্ত।

তিনি বলেন, ‘আলু তোলার সময় এখানে উৎসব শুরু হয়। ঢাকা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা ট্রাকে ট্রাকে আলু নিয়ে যায়। সে সময়ে বেশ ভালো লাগে আমাদের।’

নীলফামারীতে আগাম আলু রোপণের ধুম

আরেক কৃষক রুবেল রানা বলেন, ‘২০ বিঘা জমিতে আগাম আলু আবাদ শুরু করেছি। বছরে তিনটি ফসল ফলাই এক জমিতে। আমনের পর আগাম আলু, এরপর ভুট্টা লাগাব। বিঘাপ্রতি ৪০-৪৫ বস্তা আলু হলে ৩৫-৪০ হাজার টাকা লাভ আসবে। এক বিঘায় ১০-১২ বস্তা বীজ আলু রোপণ করতে হয়।’

তিনি জানান, সারা দেশের মধ্যে একমাত্র আগাম আলু উৎপাদন হয় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে। এ কারণে এই এলাকার কৃষকরা লাভ-লোকসান মাথায় নিয়ে এমনকি ঝুঁকি নিয়ে আলু আবাদে মাঠে নেমে পড়েন। এই এলাকা আলু চাষের জন্য উত্তম। কারণ উঁচু এলাকা হওয়ায় পানি জমে থাকে না। সে কারণে আলুর ফলনও ভালো হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে যখন আলু উঠবে, ওই আলু ১০০ টাকারও বেশি কেজি দরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরে আস্তে আস্তে আলুর ব্যাপকতা বাড়লে দামও কমে আসে।’

আরেক কৃষক বকুল হোসেন বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জমি তৈরি হচ্ছে, কিন্তু আবহাওয়ার দিকে খেয়াল করছি, কারণ বৃষ্টি হলে বীজ আলু নষ্ট হয়ে যাবে। দু-একটা দিন পর্যবেক্ষণ করে রোপণে যাব।’

তিনি অভিযোগ করেন পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না, তেল ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। খরচ বাড়লেও লাভ তেমন বাড়ে না।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একেকটি জমিতে আট-দশজন মিলে দল বেঁধে আলু রোপণে কাজ করছেন শ্রমিকরা। কেউ রশি টেনে লাইন তৈরি করছেন, কেউ কোদাল দিয়ে বীজ ভরাট করছেন, কেউ বীজের গর্ত তৈরি করছেন।

জানতে চাইলে কৃষক আজিজার রহমান বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সে কারণে আমাদেরও মজুরি বেড়েছে। চার শ টাকা হাজিরা পাই, তাও দিয়া হয় না।’

নীলফামারীতে আগাম আলু রোপণের ধুম

আরেক শ্রমিক একরামুল হক জানান, গত বছর কয়েক দফায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে বীজ নষ্ট হয়েছে। কৃষক দাম পায়নি। এইবার ঝুঁকি নিয়ে কৃষক আলু লাগিয়েছে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার নিতাই, বাহাগিলি, পুটিমারী, রণচন্ডিসহ আরো কয়েকটি ইউনিয়নে আগাম আলু হয়ে থাকে। নীলফামারী জেলার আলুই দেশে সবার আগে ক্ষেত থেকে বাজারে যায়।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের ২০ থেকে আগাম আলু রোপণ শুরু হয়, যা চলে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। যেহেতু দেশের একমাত্র জেলা নীলফামারীতে আগাম আলু হয়, এ কারণে কৃষকদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়, যাতে কোনোভাবে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম বারী পাইলট জানান, ‘এ উপজেলায় ব্যাপক আকারে আলু উৎপাদন হলেও তা সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা ভালো দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে হিমাগার স্থাপন এবং আলুভিত্তিক বিভিন্ন কারখানা স্থাপন করা হলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Fear of Aman cultivation due to seed crisis

বীজ সংকটে আমন চাষে শঙ্কা

বীজ সংকটে আমন চাষে শঙ্কা
জোবায়দুল আলম বলেন, ‘টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এ বছর আমনের সব বীজতলাই নিমজ্জিত হয়েছিল। অপেক্ষাকৃত নিচু বীজতলার প্রায় সব চারা নষ্ট হয়েছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় উপকূলীয় এ জেলার আমন ফলনে শঙ্কা রয়েছে।’

টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বরগুনায় আমন বীজের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। রোপণের জন্য আমন ক্ষেত প্রস্তুত করেও বীজ সংকটে মাঠ খালি রাখতে হয়েছে। এতে উপকূলীয় জেলা বরগুনার প্রধান ফসল আমন চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

কৃষকরা বলছেন, মাঠ প্রস্তুত করার পরও বীজের অভাবে বেশ কিছু জমি অনাবাদি থাকবে।

জেলা কৃষি বিভাগও জানিয়েছে, এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে দেখা গেছে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহজুড়ে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ৪৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আগস্টে প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে চারা নষ্ট হয়ে যায়।

কৃষকরা জানান, উঁচু জমিতে যারা বীজতলা তৈরি করেছিলেন, তাদের চারা নষ্ট হয়নি। সেসব চারা কিনছেন অনেকেই। তবে এক সের ধানের বীজের দাম পড়ছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা। ফলে চারা নষ্ট হওয়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে।

এখন জেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে চারা সংকট দেখা দিয়েছে, যা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক জমি অনাবাদি থেকে যেতে পারে বলে জানান কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের (খামারবাড়ি) তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এ বছর ৯৮ লাখ ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে বরগুনা সদরে ২৫ হাজার ৪০০, আমতলীতে ২৩ হাজার ৩৭১, তালতলীতে ১৬ হাজার ২৩০, বেতাগীতে ১০ হাজার ৬৯২, বামনায় ৬ হাজার ৩৩০ এবং পাথরঘাটা উপজেলায় ১৬ হাজার ৮২৭ হেক্টর। এসব জমিতে হাইব্রিড, উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের আমন আবাদের কথা জানানো হয়।

কৃষি বিভাগ জানায়, উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল রোপা আমন। কৃষকদের বীজ দিয়ে সহায়তা করে কৃষি বিভাগ। বরগুনার ৫৫ ভাগ জমিতে বি-আর, ব্রি ও বিনা এই তিন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করা হয়। এ ছাড়া বাকি ৪৫ ভাগ জমিতে আবাদ হয় স্থানীয় জাতের রোপা আমন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম বলেন, ‘টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এ বছর আমনের সব বীজতলাই নিমজ্জিত হয়েছিল। অপেক্ষাকৃত নিচু বীজতলার প্রায় সব চারা নষ্ট হয়েছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় উপকূলীয় এ জেলার আমন ফলনে শঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমন বরগুনার কৃষকদের প্রধান ফসল। কিন্তু এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।’

বরগুনা সদরের খাজুরতলা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমনের জন্য আধগানি (দুই একর) জমিতে বীজতলা করেছি। দেওইর (বৃষ্টি) কারণে আলচাষ (হালচাষ) করতে পারি নয়। এহন (এখন) পানি কমছে, চাষবাস কইরা জমিতে বীজ লাগামু। কিন্তু বীজ সব পইচ্চা নষ্ট অইয়া গ্যাছে। এহন কি করমু খ্যাতে? নতুন কইররা বীজ করারও সোমায় নাই এহন। হেইতে খ্যাত খিল (অনাবাদি) থুইয়া দিছি।’

জেলার সবচেয়ে বেশি আমন চাষ হয় আমতলী উপজেলায়। উপজেলার হলদিয়া, আঠারগাছিয়া, আমতলী সদর এবং তালতলী উপজেলার ছোটবগী, পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আমনের খেত বীজ রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হলেও বীজের অভাবে মাঠ খালি পড়ে আছে।

চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল জব্বার মৃধা বলেন, ‘আমনের ক্ষেতে এহন (এখন) বীজ রোয়ার সময়, জমিন রেডি করছি চাষাবাদ কইররা, কিন্তু মোগো বীজ সব শ্যাষ, দেওইর পানি জইম্মা সব বীজ নষ্ট।’

একই অবস্থা জেলার পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা উপজেলার আমন চাষিদেরও। পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘার কৃষক সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘মোগো প্রায় দুই কানি (তিন একর) জমি এবার খিল (অনাবাদি) থাকপে। এত কষ্ট হরছি এহন মাঠে ধান ফলাইতে পারতে আছি না। এর চাইতে মোগো আর কষ্ট থাহে না কিছু।’

কৃষি কর্মকর্তা জোবায়দুল আলম বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়া একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমরা সরকারিভাবে কৃষকদের আমনের ধানবীজ সরবরাহ করেছিলাম। বীজ বপনের সময় উঁচু জমি নির্বাচনের পরামর্শও দিয়েছি। কিন্তু এবার বীজ নষ্ট হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি কৃষকদের বীজ সংকট কাটানোর জন্য। যাদের অতিরিক্ত বীজ আছে তাদের কাছ থেকে বীজ কিনেছেন অনেক কৃষক। তবুও সংকট কাটেনি। এই সমস্যার এখন কোনো সমাধান নেই।’

আরও পড়ুন:
চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম
প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ
ধানপাতা খাচ্ছে মাজরা পোকা
পানির নিচে বীজতলা, আমন আবাদে বিপর্যয়ের শঙ্কা
বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The hillbillys smile on Jums paddy

জুমের ধানে পাহাড়িদের হাসি

জুমের ধানে পাহাড়িদের হাসি রাঙামাটি বরকল উপজেলার ৩ নম্বর আইমাছড়া সাইচালপাড়া এলাকার জুমের ধান কাটছেন পাহাড়ি এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, রাঙামাটি সদর উপজেলাসহ ১০ উপজেলায় ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে জুমের ধান আবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার জুম ধানের আবাদ হয়েছে বেশি।

রাঙামাটির উঁচু-নিচু পাহাড়ে উৎপাদিত জুমের ধান কাটা শুরু করেছেন চাষিরা। পাহাড়িদের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন জুম চাষ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত চলে জুমের ধান কাটার উৎসব।

এ সময়ে ব্যস্ত থাকেন আদিবাসী নারীরা। দীর্ঘ ৯ মাসের পরিশ্রমের বিনিময়ে ফলানো পাকা সোনালি ধান কেটে ঘরে তোলার ব্যস্ততায় থাকেন তারা। জুমে উৎপাদিত পাকা ধানে মুখর হয়ে ওঠে জুমিয়াদের ঘর। যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে তোলা হচ্ছে মূল্যবান সোনা। একদিকে সোনালি ধান, অন্যদিকে চাষিদের মুখে হাসি যেন পরিপূর্ণতা পায় পাহাড়ের জনপদ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, রাঙামাটি সদর উপজেলাসহ ১০ উপজেলায় ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে জুমের ধান আবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার জুম ধানের আবাদ হয়েছে বেশি।

গত বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ধানের উৎপাদন কম হয়েছে বলে জানান রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তপন কুমার পাল।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পাহাড় থেকে জুমের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলছেন চাষিরা। সোনালি ধান ঘরে তুলতে সবারই ব্যস্ততা। ধানের সঙ্গে তাদের মুখে ফুটেছে হাসি।

জুমের ধানে পাহাড়িদের হাসি

আগে পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়িদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল জুম চাষ। জুম এক ধরনের স্থানান্তরিত কৃষিপদ্ধতি। পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করা হয়। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে শুরু হয় জুমের জন্য প্রস্তুত করা জঙ্গল পোড়ানোর কাজ। প্রচণ্ড রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে প্রস্তুত করা হয় জুমক্ষেত। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে জুমচাষিদের ব্যস্ততা আরও বাড়ে।

এ সময় হিড়িক পড়ে আগুনে পোড়ানো জুমের মাটিতে বিভিন্ন বীজ বপনের। সুচালো দা ও কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে বপন করা হয় বীজ।

শুধু ধান নয়, ধানের পাশাপাশি তুলা, শিম, মারফা, তিল, চিনার, বেগুন, মরিচ, কুমড়া, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, আখ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল-শাক-সবজি ফলান চাষিরা।

জুম চাষ চাকমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যাচ্ছে। যদিও বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ঘুরে দেখা গেছে, রাঙামাটির তুলনায় ওই দুই পার্বত্য জেলায় জুম হিসেবে ব্যাপক ধান চাষ করা হয়েছে।

বান্দরবানে দেখা গেছে, চিম্বুক পাহাড়, নীলগীরি, থানচি যাওয়ার আঁকাবাঁকা পথজুড়ে পাকা সোনালি রঙের ধান উঁকি দিচ্ছে চাষিকে। জুমের চারপাশ যেন মনে করিয়ে দেয় আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

জুমঘরে মাচাং ঘর বানিয়ে ধান মাড়াই করে ধান সংগ্রহ করছেন চাষিরা। এসব এলাকায় জুম চাষ করে থাকে ম্রো জনগোষ্ঠী। তাদের এ ব্যস্ততা যেন দ্বিগুণ বেড়েছে।

যেসব এলাকায় ধানের পাশাপাশি মিষ্টিকুমড়া বেশি চাষ হয়, সেসব তোলা ও বাজারে নেয়ার কাজ করছেন চাষিরা।

এসব সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যায়।

বরকল উপজেলার ৩ নম্বর আইমাছড়ার সাইচালপাড়ার জুমচাষিরা তুলছেন ধান।

ধানের পাশাপাশি মারুফা, বেগুন, হলুদ, ভুট্টা, মরিচ, কুমড়া, ঢেঁড়স, কাঁকরোল বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন তারা।

ওই পাড়ার জুমচাষি জ্ঞান জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘অন্য উপজেলায় এ বছর ধানের উৎপাদন কম হলেও বরকল উপজেলার আইমাছড়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের পাশাপাশি পাহাড়ি শাক-সবজির উৎপাদন অনেক বেশি।’

সদর উপজেলার সাপছড়ির নয়ন শোভা চাকমা বলেন, ‘এ বছর জুমে ধান, মারফা, হলুদ ও ভুট্টা চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে ঠিক সময়ে যদি বৃষ্টিপাত হতো, আরও বেশি ফলন হতো।’

মগবান এলাকার সাধন চাকমা বলেন, ‘জুমের মাটির অনুকূল পরিবেশ ও আবহাওয়ার উপযুক্ত হওয়ায় ধান ও শাক-সবজির ফলন বেশি হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত সঠিক সময়ে হলে ফলন আরও হতো।’

বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জুমে উৎপাদিত ধান ও শাক-সবজির উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে বলে জানান রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তপন কুমার পাল।

তিনি বলেন, ‘এবার রাঙামাটিতে প্রায় ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টন। তবে চাষিদের ধান কাটা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ধান কাটা শেষ হলে জানা যাবে জুমের ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে কি না।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
12 thousand tons of vegetables in one village

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি তোলা সবজি বাছাই করে বাজারে নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ সরবরাহ করা হয়।’

মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, বেগুন, করলাসহ হরেক রকম সবজির ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। সবজি তোলা, সেগুলো বাছাই করে বাজারে নিয়ে যেতেই ব্যস্ত কেউ কেউ। কেউ আবার সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মাশকাটা ধনপোতা গ্রামের কৃষকরা।

গ্রামটি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নে। গ্রামটিতে বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার টন সবজি। আর এগুলো বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে। এখান থেকেই বছরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সবজি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের ধনপোতা, খরিবনিয়া, চাকুলি ও কুমারখালী বিল। এই চার বিলের ১৪০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, বেগুন, করলা, তরমুজ, বাঙ্গিসহ নানা জাতের সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় চার শতাধিক কৃষক।

মৎস্য ঘেরের পাড়ে উৎপাদিত এসব সবজিতে কোনো প্রকার রাসায়নিক, কীটনাশক ও সার দেয়া হয় না। প্রাকৃতিক বালাইনাশক ও জৈব সার ব্যবহার করে এসব সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান এখানকার কৃষকরা।

ধনপোতা গ্রামের কৃষক জীবন পাল বলেন, ‘আমাদের এই গ্রামের আশপাশের চারটি বিলে আমরা চার শতাধিক কৃষক মৎস্য ঘেরে মাছ ও সবজি চাষ করি। আমরা মাছের ঘেরে লাইলে সবজি চাষ করার কারণে সবজিতে কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না। কারণ এ ধরনের কীটনাশক বা সার পানিতে পড়লে মাছ মারা যাবে।’

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

তিনি বলেন, ‘আমি সবজির পাইকারি ব্যবসাসহ নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি ঢাকা, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আড়তে বিক্রি করি। এই সবজি বিক্রির টাকা দিয়েই আমি একটি বাড়ি করেছি ও একটি মোটরসাইকেল কিনেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে আমার আয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।’

একই গ্রামের কৃষক বাসু দেব বলেন, ‘রাসায়নিক সারের বদলে আমরা ভার্মি কমপোস্ট ও জৈব সার এবং কীটনাশকের বদলে নীম পাতার রস দিয়ে প্রাকৃতিক বালাইনাশক স্প্রে করি। এ ছাড়া মেহগনি গাছের ফলের বিজ দিয়ে স্প্রে করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আমাদের চাষ করা প্রায় প্রতিটি সবজির ব্যাপক ফলন হচ্ছে। এতে আমাদের মাছের চেয়ে সবজিতে বেশি লাভ হচ্ছে।’

কৃষক মকবুল শেখ বলেন, ‘ফকিরহাট কৃষি অফিস থেকে আমাদের গ্রামের চার শতাধিক কৃষককে বিভিন্ন সময় মাছের ঘেরে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসার এসে আমাদের হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে উচ্ছ ফলনশীল বীজ। সব মিলিয়ে সবজি চাষে আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষই এখন স্বাবলম্বী। কেউ বেকার বসে নেই।’

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ সরবরাহ করা হয়।

‘এর সুফল হিসেবে বছরে চারটি বিল থেকেই উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার টন সবজি। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি।’

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সুবাদে পাইকার সবজি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করছেন। ধনপোতা গ্রামের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে সবজির পাইকারি হাট। কৃষকরা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে ওই স্থানগুলোতে রাখেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাক করে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফকিরহাট উপজেলাকে কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। আশা করছি ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের দেখে অন্য কৃষকরাও বিষমুক্ত সমন্বিত কৃষিতে আগ্রহী হবেন।’

আরও পড়ুন:
তিন বছরে মাল্টার বাগানে ফলন ৩ গুণ
কলা চাষে লাভবান নাটোরের চাষিরা 
ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা
‘বড় বিপদে আছি বাপু’
ব্রহ্মোত্তর এখন সবজির গ্রাম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Cow Lumpy Skin Disease Spread Fear of Farmers

গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের আতঙ্ক

গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের আতঙ্ক লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত একটি গরু। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান জানান, রোগটি সাধারণত বর্ষাকালেই বেশি হয়। শীত এলে এর প্রকোপ কমে যাবে।

গত ঈদুল আজহায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার গবাদিপশু বিক্রি করেছেন মেহেরপুর জেলার খামারি ও চাষিরা। তবে এসব খামারি ও চাষির কপালে এবার চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে লাম্পি স্কিন নামে গরুর একটি রোগ। ভাইরাসবাহিত লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাবে এখন দিশেহারা তারা।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন, লাম্পি স্কিন ডিজিস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি মারাত্মক কোনো রোগ না। মশা-মাছিবাহিত এই রোগটি নিয়মিত ওষুধ খাওয়ালে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়।

রোগটির বর্ণনা দিয়ে গাংনী উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের খামারি আব্দুল জাব্বার বলেন, ‘আমার খামারের গরুর শরীরে হঠাৎ করে টিউমারের মতো গুটি গুটি কী যেন বের হয়েছে! এটা হওয়ার পর থেকেই খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়ে শুধু ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। পশু ডাক্তারকে দেখিয়েছি, তারা ওষুধ দিয়েছে। দেড় সপ্তাহ হয়ে গেছে। গরুর শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

গাভী নিয়ে একই সমস্যায় পড়েছেন বাওট গ্রামের গরু পালনকারী জায়েদা খাতুন। তার গাভী প্রতিদিন দেড় কেজি দুধ দেয়। কিন্তু ছয় দিন ধরে গাভীটির চামড়ায় ছোট ছোট টিউমারের মতো গুটি বের হয়েছে এবং যথারীতি খাওয়া-দাওয়াও কমিয়ে দিয়েছে। এতে কমে গেছে দুধের পরিমাণও।

সদর উপজেলার গরু চাষি রিপন আলীও এ ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক মাস ধরে আমার গাভীর গায়ে গুটি বের হয়েছে। ডাক্তার প‍্যারাসিটামল আর হিস্টাসিন বড়ি দিয়েছেন। তা-ই খাওয়াচ্ছি। তবে এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও সারেনি।’

বামন্দী গ্রামের পল্লি চিকিৎসক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিনই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু নিয়ে আসছেন খামারিরা। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে সেরে উঠতে মাসখানেক সময় লাগছে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে ব‍্যথা অনুভূত হয়।’

জেলার ঐতিহ্যবাহী পশুহাট ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, সোম ও শুক্রবার হাট বসে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে গরু-ছাগল কিনতে আসেন বেপারিরা। তবে বতর্মানে হাটে প্রচুর পরিমাণে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু আসছে। সেই গরুগুলো বাইরের বেপারিরা কিনতে চাইছেন না।

তবে এই রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান।

তিনি জানান, দেশের অনেক জেলার মতো মেহেরপুরেও সম্প্রতি লাম্পি স্কিন ডিজিস দেখা দিয়েছে। মূলত রোগটি মশা, মাছি, আক্রান্ত পশুর ব্যবহৃত নিডল ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে গরু থেকে গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত গরুটিকে অবশ‍্যই কোয়ারেন্টিন করে চিকিৎসা নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, রোগটি সাধারণত বর্ষাকালেই বেশি হয়। শীত এলে এর প্রকোপ কমে যাবে। আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা শুরুর ২৫ দিনের মধ‍্যে রোগটি সেরে যায়। সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগটিকে এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:
৩০ মণের ইউটিউবার, ৩২ মণের চিরকুমার
দাম শুনে, ছবি তুলে চলে যাচ্ছেন ক্রেতারা
গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা
প্রাইভেটকারে গরু চুরি, গাড়ি জব্দ
অজানা রোগে মরছে গরু, দুগ্ধ গ্রামে আতঙ্ক

মন্তব্য

p
উপরে