× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Commodity price fixing Reluctance of traders to provide information
hear-news
player
print-icon

পণ্যমূল্য বেঁধে দেয়া: তথ্য দিতে ব্যবসায়ীদের গড়িমসি

পণ্যমূল্য-বেঁধে-দেয়া-তথ্য-দিতে-ব্যবসায়ীদের-গড়িমসি
ফাইল ছবি
পণ্য ধরে ধরে তথ্য চেয়ে আমদানিকারক ও উৎপাদকদের চিঠি দিচ্ছে ট্যারিফ কমিশন। ইতোমধ্যে মসুর ডাল, আটা-ময়দা, রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পাঠাতে তিনদিনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও তাতে সেভাবে সাড়া মিলছে না।

বৈশ্বিক সংকটকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অস্থির করা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। কারসাজিতে জড়িত অসৎ ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় হচ্ছে জরিমানা। তাতেও এই অপতৎপরতা থামছে না। এ অবস্থায় বেঁধে দেয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯ পণ্যের দাম। কিন্তু এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর অসহযোগিতায় এই উদ্যোগ সেভাবে গতি পাচ্ছে না।

পণ্য ধরে ধরে তথ্য চেয়ে আমদানিকারক ও উৎপাদকদের চিঠি দিচ্ছে ট্যারিফ কমিশন। ইতোমধ্যে মসুর ডাল, আটা-ময়দা, রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পাঠাতে তিনদিনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও তাতে সেভাবে সাড়া মিলছে না। আটা-ময়দা, মসুর ডাল ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তথ্য দেয়া হলেও তা আংশিক।

ট্যারিফ কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পর্যায়ক্রমে ৯টি পণ্য-সংশ্লিষ্টদের কাছেই চিঠি যাবে। এ পর্যন্ত চার খাতের ব্যবসায়ীদের চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের সবার কাছ থেকে তথ্য আসেনি। তথ্য-উপাত্ত পেলে তা বিশ্লেষণ করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্যারিফ কমিশন তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। সেসব তথ্য পাওয়ার পর আমদানির ক্ষেত্রে কাঁচামালের দাম কতটা বেড়েছে তা বিশ্লেষণ করে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এরপর আমাদের কাজ হবে বাজারে তার প্রভাব কতটা পড়ছে তা দেখা।’

কনজ্যুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘মূল্য বেঁধে দেয়া মুক্তবাজার অর্থনীতিতে টেকসই কোনো উপায় নয়। এক্ষেত্রে বাজারে তদারকি ব্যবস্থাও চালিয়ে যেতে হবে।

‘খোলা বাজারে স্বল্প দামে পণ্য বিক্রি করলে বাজারে চাপ কমে আসবে। এক্ষেত্রে চাহিদা কমে গেলে পণ্যমূল্যও কিছুটা কমতে বাধ্য।’

মসুর ডালের তথ্য চেয়ে চিঠি

জুলাই ও আগস্ট মাসে টন প্রতি মসুর ডালের আমদানি ব্যয়ের তথ্য চেয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তিন দিন সময় দিয়ে ওই চিঠিতে দুই মাসের মসুর ডাল আমদানি সংক্রান্ত এক্স বন্ড কপি চাওয়া হয়েছে। আগস্টে ডাল আমদানির ঋণপত্র খোলা সংক্রান্ত ব্যাংক কপিও চেয়েছে কমিশন।

চিঠিতে প্রতিবছরে টন প্রতি উৎপাদন ব্যয় বিবরণী ছাড়াও খোলা ডাল উৎপাদন-পরবর্তী সাপ্লাই চেইনে দেয়া মুনাফা ও এ সংক্রান্ত প্রমাণক এবং প্রতিটন ও কেজি প্যাকেজিং খরচের পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়েছে। প্যাকেটজাত মসুর ডালের সাপ্লাই চেইনে দেয়া মুনাফা ও এ সংক্রান্ত প্রমাণক বা ইনভয়েস এবং উৎপাদন মিলিং পদ্ধতির ফ্লো চার্ট দিতে বলা হয়েছে।
তবে তাদের পক্ষ থেকে আংশিক তথ্য মিলেছে।

পৃথকভাবে উৎপাদক ছাড়াও ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে তথ্য জানতে চেয়েছে ট্যারিফ কমিশন।

আটা-ময়দার দাম জানতে চেয়ে চিঠি

অত্যাবশকীয় পণ্য বিপণন আইন, ১৯৫৬ এর ৩ ধারা ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন সংশোধন আইন, ২০২০ এর ৭(২) (গ) ধারা অনুযায়ী আটা ও ময়দার উৎপাদকদের কাছে তথ্য চেয়েছে ট্যারিফ কমিশন।

৪ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে গেল দু’মাসের আমদানি ব্যয়, আমদানি সংক্রান্ত এক্সবন্ড কপি, ঋণপত্র সংক্রান্ত তথ্য ও উৎপাদন ব্যয় বিবরণী চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে প্রাপ্ত পণ্য যেমন ভূষি, সুজি ইত্যাদি থেকে ব্যয় রিকভারির হার, খোলা আটা-ময়দা উৎপাদন পরবর্তী সাপ্লাই চেইনে দেয়া মুনাফা ও এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র দিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে প্রতিটন বা কেজি প্যাকেজিং খরচের পরিমাণ, সাপ্লাই চেইনে দেয়া মুনাফা ও এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র, উৎপাদন পদ্ধতি ফ্লো চার্ট, রপ্তানি সংক্রান্ত ই-এক্সপি’র কপি জমা দিতে বলা হয়েছে।

ট্যারিফ কমিশন সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্টরা যেটুকু তথ্য দিয়েছে তা আংশিক।

পৃথকভাবে উৎপাদক ছাড়াও ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে তথ্য জানতে চেয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তিন দিনের মধ্যে এসব তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সিমেন্টের তথ্য পাওয়া যায়নি

সিমেন্ট আমদানি ও উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য দিতে সব উৎপাদকের কাছে ৩১ আগস্ট চিঠি পাঠিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। এক্ষেত্রে তিন দিনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য দেয়নি সংশ্লিষ্টরা। তাদের পক্ষ থেকে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে এমএস রড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

তেল-চিনি নিয়ে রোববার বৈঠক

ভোজ্যতেল ও চিনির মূল্য নির্ধারণ করা নিয়ে রোববার বৈঠক ডেকেছে ট্যারিফ কমিশন। বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের বিশ্ববাজার, আমাদানি ব্যয়, উৎপাদন ব্যয়, লভ্যাংশসহ সার্বিক দিক পর্যালোচনা করা হবে।
যদিও এই দুই পণ্যের সব তথ্য সংরক্ষণ করেছে ট্যারিফ কমিশন। তাছাড়া আগে থেকেই পণ্য দুটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চালের দাম বেঁধে দেবে না কমিশন

সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে ৯টি পণ্যমূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পণ্য তালিকায় আছে চালও। তবে চালের দাম নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেবে না ট্যারিফ কমিশন।

সূত্র জানায়, এক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

কনজ্যুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে পণ্যমূল্যে ভোক্তাকে কিছুটা স্বস্তি দেয়া সম্ভব। কৃষক পর্যায়ে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়বে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ট্যারিফ কমিশন বৈঠক করে মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করবে। তারপর যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করা হবে দাম। সে ক্ষেত্রে সময় প্রয়োজন।

৯ পণ্যের এক মাসের বাজার চিত্র

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনিবার প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৭৫ টাকা। মাঝারি চাল প্রতি কেজি এখন ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে তা ছিল ৫৬ টাকা। মোটা চাল প্রতি কেজি ৫২ টাকা, এক মাস আগেও তা-ই ছিল।

প্যাকেট আটা প্রতি কেজি ৫৮ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৫০ টাকা। খোলা আটা প্রতি কেজি ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে তা ছিল ৪৫ টাকা।

মাসের ব্যবধানে প্যাকেট ময়দার দাম একই রয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক কেজি খোলা ময়দা এক মাস আগে ছিল ৬২ টাকা। এখন দুই টাকা কমে হয়েছে ৬০ টাকা।

ভোজ্যতেলের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন এক লিটার ১৯২ টাকা, এক মাস আগে যা ছিল ১৯০ টাকা। খোলা সয়াবিন পাঁচ লিটার বিক্রি হচ্ছে ৯৪৫ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৯০০ টাকা।

মসুর ডাল বড় দানা এক মাস আগের দর প্রতি কেজি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি দানার মুসর এক কেজি ১২০ টাকা ও ছোট দানা ১৪০ টাকা কেজি। একক মাস আগে তা ছিল ১৩৫ টাকা।

চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ৮৫ টাকা। প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। এক মাস আগে তা ছিল ৪৭ টাকা।

টিসিবি’র তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৪০ গ্রেড রড প্রতি টন ৭৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে তা ছিল ৭৭ হাজার টাকা। তবে বাজারভেদে দেখা গেছে, বর্তমানে এক টন রড ৯৩ থেকে ৯৫ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা পর্যায়ে এখন ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম কোম্পানিভেদে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা। কিছুদিন আগেও তা ছিল ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন:
দুধের বাজার চড়া, খামারিরা দাম পাচ্ছেন না
চিনির বাজারে লাফ, দাম বাড়াতে চাপ
ডলারের উত্তাপ রডের বাজারেও
দাম বাড়ানোর পর বাড়ছে সয়াবিনের সরবরাহ
চাহিদা বাড়ছে ভাঙা ডিমের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh must follow Chinas growth Minister of State for Planning

চীনের প্রবৃদ্ধি অনুসরণ করতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

চীনের প্রবৃদ্ধি অনুসরণ করতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক। ছবি: সংগৃহীত
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত অ্যাক্সেস উপভোগ করছে। তবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং এফটিএফ প্রয়োজন। বাংলাদেশ চায় চীন থেকে আরও বেশি এফডিআই আসুক। আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ডেডিকেটেড বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছি।’

দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণে চীনের প্রবৃদ্ধি অনুসরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

ঢাকার পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজেস কো-অপারেশন ফোরাম ২০২২’ শীর্ষক বিজনেস নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীনের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি বুঝতে পেরেছিলেন এবং দ্রুত বর্ধনশীল দেশের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব শুরু করেছিলেন।

চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সফর, সাংস্কৃতিক সফরসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত অ্যাক্সেস উপভোগ করছে। তবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং এফটিএফ প্রয়োজন। বাংলাদেশ চায় চীন থেকে আরও বেশি এফডিআই আসুক। আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ডেডিকেটেড বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছি।’

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী, পরিপূরক এবং ক্রমবর্ধমান। আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশাল এবং মজবুত। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি চীন ও বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই পক্ষ কৃষি, বাণিজ্য, সামুদ্রিক বিষয়, জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা এবং দারিদ্র্যের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছে।’

তিনি বলেন, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে চীন ১৪৯টি দেশ এবং ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ২০০টিরও বেশি সহযোগিতার নথিতে স্বাক্ষর করেছে। এই বছরের প্রথমার্ধে বিআরআইয়ে জড়িত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের পণ্যের বাণিজ্য মোট ১১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন এবং এই দেশগুলোতে এর অ-আর্থিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ১৪৯ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।’

লি জিমিং বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবন-জীবিকা সহজ করা বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য।

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে চীন অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশকে ক্রমাগত সহযোগিতা করছে। এর মধ্যে রয়েছে রেয়াতি ঋণ, বিনিয়োগ সহযোগিতা, প্রকল্প চুক্তি এবং চীন-সহায়তা প্রকল্প।

বাংলাদেশে আরও চীনা বাজারমুখী বিনিয়োগ প্রয়োজন। রপ্তানি বাড়াতে চীনের বাজারে যা প্রয়োজন তা বাংলাদেশকে উৎপাদন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রথম শিল্প পার্ক হিসেবে শিগগিরই চট্টগ্রামে নির্মিত হবে চীনা অর্থনৈতিক জোন, যা যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
৭ দিনের বিশ্রাম শেষে বাড়ি যাবেন নারী ফুটবলাররা
জয়ে ফেরার প্রত্যাশা নিয়ে আমিরাত গেল বাংলাদেশ দল
আমিরাতের বিপক্ষে দলে নেই সাকিব-মাহেদী, অধিনায়ক সোহান
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেমিতে বাংলাদেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Anti dumping and taxes at source hamper the development of jute industry

পাটশিল্প বিকাশে বাধা অ্যান্টি ডাম্পিং ও উৎসে কর

পাটশিল্প বিকাশে বাধা অ্যান্টি ডাম্পিং ও উৎসে কর
বিজেএমএ চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘পাট খাতের উন্নয়নে দুটি প্রধান বাধা স্পষ্ট। তা হচ্ছে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর এবং প্রধান রপ্তানি বাজার ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি। এই বাধা দূর হলে ঘুরে দাঁড়াবে এ খাত।’

সোনালি আঁশ আর রুপালি কাঠি- দুয়ে মিলে সম্ভাবনার ফসল পাট। একসময়ের সোনালি আঁশ একপর্যায়ে হয়ে দাঁড়ায় কৃষকের গলার ফাঁস। নানামুখী উদ্যোগে সেই পাট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। ঘুরে দাঁড়াতে শুরুছে এই অর্থকরী ফসল। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামনে এসেছে দুই প্রতিবন্ধকতা- কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর এবং প্রধান বাজার ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ।

সংকট সুরাহায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ)।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন জানান, পাট খাতের উন্নয়নে দুটি প্রধান বাধা স্পষ্ট। তা হচ্ছে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর এবং প্রধান রপ্তানি বাজার ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি। এই বাধা দূর হলে পাট খাতের রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়বে। ঘুরে দাঁড়াবে এই খাত।

বিজেএমএ মহাসচিব আব্দুল বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা পাট অত্যন্ত উন্নতমানের। সে সুবাদে বিশ্ববাজারে পাটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কাঁচা পাট রপ্তানিতে এ দুটি বাধা দূর করা জরুরি।

‘স্বাধীনতাপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে পাটই ছিল একমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। কিন্তু পাট খাতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। বিদেশ থেকে তুলা আমদানিতে এই তহবিলের সুবিধা মেলে। তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা এ তহবিল থেকে বড় সহায়তা পান। অথচ স্বল্পসুদের এই তহবিল থেকে পাটশিল্প কোনো সহায়তা পায় না।’

বলা হচ্ছে, এ তিনটি সুবিধা বাস্তবায়ন করলে পাট রপ্তানি করে বর্তমানের চেয়ে পাঁচ গুণ আয় করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে কয়েক বছরের মধ্যে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় আসবে পাট রপ্তানি থেকে।

ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘কৃষক-শ্রমিকসহ পাটশিল্প খাতের সঙ্গে পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। পাট খাতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সমস্যা পাট খাতের উন্নয়ন ও সার্বিক কার্যক্রমে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যা দুটি জরুরিভাবে সমাধান করা না হলে পাটশিল্প ক্রমান্বয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। ফলে পাটপণ্য রপ্তানি ও রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’

উৎসে কর

কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর দেশের কৃষক ও ফড়িয়াদের ওপর পড়ে। ফলে কৃষকরা পাট উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন এবং পাট উৎপাদন কমে যাবে। তাই কৃষক ও শ্রমিক বাঁচাতে কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর রহিত করা প্রয়োজন।

শতভাগ দেশীয় উৎপাদিত কাঁচা পাট দিয়ে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করা হয়। ২ শতাংশ উৎসে কর থাকলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। পাটকলগুলোও একে একে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন কারণে পাটপণ্য টিকে থাকতে পারছে না। ২ শতাংশ উৎসে কর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি

বাংলাদেশে পাটপণ্য রপ্তানির ওপর ২০১৭ সালে অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করায় ভারতে পাট রপ্তানি কমে গেছে। পাটের মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চালু থাকা মিলগুলোও ঋণে জর্জরিত। ভারতের আরোপ করা এই অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি রোধকল্পে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) জরুরি ভিত্তিতে আপিল করে এ শিল্পকে রক্ষা করা জরুরি।

ইতোমধ্যে ভারতের মহাপরিচালক ট্রেড রিমিডিজের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে তদন্ত করেছে। ভারত আগামী পাঁচ বছরের জন্য পুনরায় অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করতে চায়।

বাংলাদেশি পাটপণ্যের বড় বাজার ছিল ভারত। কিন্তু পাটপণ্য রপ্তানির ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রাখায় দেশটিতে পাট সুতা রপ্তানি ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

চিঠিতে বিষয় দুটি জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

পাট রপ্তানি

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে ওই অর্থবছরে ৬ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। তিন দশক আগেও দেশে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদিত হতো।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) সূত্রে জানা যায়, বছরে দেশে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য লাগে ৬০ লাখ বেল। আর ১০ থেকে ১২ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১৬ কোটি ডলারেরও বেশি। ওই অর্থবছরে প্রায় ১৪ কোটি ডলার মূল্যের কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আবার দক্ষিণে দিশা
দেশে তৈরি হচ্ছে ২৮২ ধরনের পাটজাত পণ্য
পানির অভাবে স্বপ্ন মলিন সোনালি আঁশ চাষির
ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা
‘বড় বিপদে আছি বাপু’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Big fall in gold prices has little effect on the world market

স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে, দেশে প্রভাব সামান্য

স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে, দেশে প্রভাব সামান্য
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন স্বর্ণের দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছেই। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৩ ডলার ৯০ সেন্টে নেমে এসেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর টানা পড়ছে। এই দর দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ১ হাজার ৬৫০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

তবে বিশ্ববাজারে যে হারে স্বর্ণের দর কমছে, দেশের বাজারে সে হারে কমছে না। এমনকি পড়তির বাজারেও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হলেও দেশের বাজারে কেন কমছে না- এ প্রশ্নের উত্তরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, বাজারে গোল্ডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে গোল্ড আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার, প্রথম দিকে কয়েকজন কিছু আমদানি করলেও এখন আর কেউ করে না। কারণ শুল্ক, ভ্যাটসহ আমদানির খরচ অনেক বেড়ে যায়। সে দামে বিক্রি করলে স্বর্ণের ভরি ৯০ হাজার টাকা বেশি হবে। অন্যদিকে এখন ব্যাগেজ রুলসের আওতায়ও কম গোল্ড আসছে।’

‘সে কারণে আমাদের স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গোল্ডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি কমলেও তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দেশের বাজারে কমাতে পারছি না।’

‘আমরা প্রতি ভরি গোল্ড বিক্রি করে মাত্র ১ হাজার টাকা লাভ করি’ হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তেজাবি স্বর্ণ আমদানি করা হয় না। এটি দেশেই পাওয়া যায়। এই স্বর্ণ একেবারে পিওর বা ১০০ শতাংশ খাঁটি। আমাদের তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ীরা সারা দেশ থেকে পুরোনো স্বর্ণ কিনে সেগুলো মেশিনে মাধ্যমে খাদ বাদ দিয়ে যে স্বর্ণ আলাদা করে, সেটাকেই পিওর বা ১০০ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ বলে। এটাকে আমরা তেজাবি স্বর্ণ বলি। এই স্বর্ণের দামই অনেক বেড়ে গেছে। যেহেতু আমদানি নেই, ব্যাগেজ রুলসের আওতায়ও কম আসছে, সে কারণে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এখন আর গোল্ড বিক্রি করতে পারছি না।’

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছে। গত ১২ আগস্ট প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮০১ ডলার ৮২ সেন্ট। সেখান থেকে কমতে কমতে এখন ১ হাজার ৬৫০ ডলারেরর নিচে নেমে এসেছে। এ হিসাবে দেড় মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ১৫৮ ডলার।

গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৩১ ডলার ৬৬ সেন্ট। এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১০৮ ডলার বা ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন স্বর্ণের দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

এতে ১১ সেপ্টেম্বর সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে নতুন উচ্চতায় ওঠে স্বর্ণের দাম। সে সময় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা করা হয়। এর আগে দেশের বাজারে স্বর্ণের এত দাম দেখা যায়নি।

অবশ্য এই রেকর্ড দাম স্পর্শ করার পর সম্প্রতি দুই দফা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর মধ্যে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে ৬৭ হাজার ৪১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫৮৩ টাকা কমিয়ে ৫৫ হাজার ৮৭১ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে এই ধাতু।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেনে হামলার পর বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে স্বর্ণের দর। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর গত কয়েক মাসে কয়েক দফা ওঠা-নামা করে। তবে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কমছেই।

আরও পড়ুন:
৭২ ভরি স্বর্ণ চুরি, তিন সপ্তাহে ধরে ফেলল পুলিশ
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ৮৪ হাজার ৫৬৪
‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ’
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় কমল স্বর্ণের দাম
গোলাগুলিতে পালাতে গিয়ে স্বর্ণ চোরাকারবারির মৃত্যু, আটক ২

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Grameenphone 5G Test in Divisional Cities

বিভাগীয় শহরে গ্রামীণফোনের ফাইভজি পরীক্ষা

বিভাগীয় শহরে গ্রামীণফোনের ফাইভজি পরীক্ষা
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জিপি হাউসে ইনোভেশন ল্যাবে এই পরীক্ষা করা হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন দেশের আট বিভাগীয় শহরে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজি পরীক্ষা সফলভাবে পরিচালনা করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জিপি হাউসে ইনোভেশন ল্যাবে এই পরীক্ষা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার।

গ্রামীণফোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৬ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রামে সফলভাবে ফাইভজি ট্রায়াল পরিচালনা করে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার গ্রামীণফোন। এর ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাজের ক্ষমতায়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের টেক সার্ভিস লিডার এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে গ্রাহকদের ফাইভজি ট্রায়াল শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ দিলজার হোসেন, বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ, সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডু, গ্রামীণফোনের প্রতিষ্ঠানটির চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব, চীফ ডিজিটাল অফিসার সোলায়মান আলম, চীফ টিকনোলজি অফিসার জয় প্রকাশ, চীফ কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন প্রমুখ।

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান অনুষ্ঠানে ফাইভজি বিষয়ে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এর আগে গত ২৬ জুলাই গ্রামীণফোন দেশে প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইউজ কেস সহ ফাইভজি ট্রায়াল পরিচালনা করে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতেই প্রমাণিত হয়, আমাদের দেশ ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি সেবা প্রদানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেখানে আমরা সবাই কাজ করছি। কিন্ত বিষয়টা এমন নয় নতুন প্রযুক্তিকে স্বাগত জানানো যাবে না। আমাদের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি সুবিধা নিতে হলে সকল প্রযুক্তি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা উন্মোচনে আমাদের ফাইভজির মতো উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন।’

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, “প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের ক্ষমতায়ন ও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে গ্রামীণফোন। আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চলমান ডিজিটালাইজেশন ত্বরাণ্বিত করার মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব আমাদের সবার। টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি থেকে এখন ফাইভজি কানেক্টিভিটি যুগেও উচ্চগতির কানেক্টিভিটি এবং উন্নত ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্যুশন নিয়ে দেশের রূপান্তরে আমরা কানেক্টিভিটি পার্টনার হিসেবে কাজ করছি।”

আরও পড়ুন:
নতুন দুটি ডেটা প্যাক নিয়ে এল গ্রামীণফোন
ঢাকা ও চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের ফাইভজি পরীক্ষা
বন্যার্তদের ১০ মিনিট ফ্রি টক টাইম দিয়েছে গ্রামীণফোন
গ্রামীণফোনের সঙ্গে মুন্ডিফার্মার চুক্তি
গ্রামীণফোনের নতুন সিসিএও হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The much anticipated ATB is launching soon

শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি

শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি ফাইল ছবি
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘এটি চালু হলে মার্কেটের গভীরতা অনেক বাড়বে। অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন কারণে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না, তারা এখানে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ার পাবে। এটা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের একটা লিকুইডিটি দিবে, টাকা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবে। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট পাবে।’

ব্যবসায় মূলধন প্রাপ্তি ও শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন সহজ করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শিগগিরই চালু হচ্ছে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা বা অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)।

ব্যবস্থাটি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা যেকোনো কোম্পানি এটিবিতে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে অবশ্যই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তিত হতে হবে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারের বাইরে দুই হাজারেরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানি চাইলে সরাসরি এটিবিতে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৯ আগস্ট এ-সংক্রান্ত আইন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) রেগুলেশন, ২০২২ অনুমোদন দিয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর যা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছে ডিএসই। এটি প্রকাশ হলেই এটিবি চালু হওয়ার পথে সব আইনি বাধা দূর হবে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেয়ার লেনদেনের এ বিকল্পব্যবস্থাকে স্টক এক্সচেঞ্জে বৈপ্লবিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন।

ডিএসই ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটিবি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানির উদ্যোক্তারা খুব সহজে মালিকানা পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন। আগে এ কাজটি করতে অনেক খরচ হতো। এখন তা কম খরচেই করা যাবে। এ ছাড়া কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাওয়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের মূলধন দিতে উৎসাহিত হবে। কেননা এটিবিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলোর বিনিয়োগ করা শেয়ার হস্তান্তরের অবারিত সুযাগ তৈরি হবে।’

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হলো এমন ধরনের মূলধন, যা কোনো আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যারা কিনা ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে- এমন স্টার্টআপ বা ছোট কোম্পানিতে মালিকানা বা শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগ করে থাকে। সাধারণত বড় বড় বিনিয়োগকারী, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের তহবিল গঠন হয়ে থাকে। বাজারে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফা ও মূলধন ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দেশে এতদিন শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সহজ ছিল না। ফলে বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তা খুব বেশি কাজে আসছিল না।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘এটি চালু হলে মার্কেটের গভীরতা অনেক বাড়বে। অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন কারণে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না, তারা এখানে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ার পাবে। এটা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের একটা লিকুইডিটি দিবে, টাকা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবে। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট পাবে।’

এটিবিতে কারা লেনদেন করতে পারবে

বর্তমানে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দুই লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এক লাখ ৯৫ হাজার ৪৫টি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি দুই হাজার ৫২৩টি আর একক মালিকানা কোম্পানি আছে ১৬৫টি।

বাকিগুলো হচ্ছে ট্রেড অর্গানাইজেশন, বিদেশি কোম্পানি, সোসাইটি আর অংশীদারি কোম্পানি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে পুঁজিবাজারে আছে ৩৫০টি কোম্পানি। সেই হিসাবে ২ হাজার ১৭৩টি কোম্পানি এখন স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে। এই কোম্পানিগুলো এটিবি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নিতে পারবে। আর বাকিগুলোকে আগে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানান, পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে তালিকাচ্যুত বা তালিকাবহির্ভূত যে সিকিউরিটিজগুলো আছে সেগুলো এটিবিতে লেনদেন করা যাবে। এ ছাড়া ডেবিট সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডও লেনদেন হবে।

রেজাউল করিম বলেন, এটিবি চালু হলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে যা বাজারে গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এটিবিতে কী সুবিধা

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত যেকোনো কোম্পানি তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে গেলে ট্রান্সফার ফি ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটসহ বড় ধরনের খরচের বোঝা বহন করতে হয়। এ ছাড়া ১১৭ ফরম পূরণ করতে আরজেএসসিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। এটিবিতে এলে কোনো ধরনের ঝুটঝামেলা ছাড়াই সামান্য কমিশনেই শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা পাবে। এ ছাড়া কোম্পানির পরিচিতি, সুনাম বা ব্র্যান্ড ভেল্যুও বাড়বে।

এমনকি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে এখান থেকে রাইট শেয়ার কিংবা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে তাদের মূলধন বাড়াতেও পারবে।
বিএসইসির মুখপাত্রের আশা, এতে অনেক কোম্পানি এখানে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। ফলে বাজার মূলধন ও লেনদেন বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বও বেড়ে যাবে।

এটিবিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো কর সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এনবিআরের সম্মতি পেলে সাড়ে ৭ শতাংশ কর ছাড় পাবে কোম্পানিগুলো।
পুঁজিবাজারে এলে কোম্পানি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আগের চেয়ে বাড়ে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তালিকাভুক্তি

এটিবিতে তালিকাভুক্তি অনেকটা সরাসরি বা ডায়রেক্ট লিস্টিংয়ের মতো। নতুন শেয়ার না ছেড়ে উদ্যোক্তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্তি নেয়া যাবে। শেয়ারের মূল্যও হবে বাজারভিত্তিক।

আরও পড়ুন:
শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি
এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Ostrich rearing on farm in Dinajpur

দিনাজপুরে খামারে উটপাখি পালন

দিনাজপুরে খামারে উটপাখি পালন মরুভুমির পাখি হিসেবে পরিচিত উটপাখি দিনাজপুরের মাটিতে লালন-পালন করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ মোড়ে একটি অটো রাইস মিলের খোলা জায়গায় এখন ১১টি উটপাখি পালন করছেন সুলতান ইফতেখার। প্রাণীগুলোকে দেখতে তার মিলে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ।

সাহারা মরু অঞ্চলের পাখি উটপাখি পালিত হচ্ছে দিনাজপুরে। সুলতান ইফতেখার চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি এটি শুরু করেছেন নিজের ধানকলের খোলা জায়গায়,পরীক্ষামূলকভাবে। ইতোমধ্যে পাখিগুলো ডিম দিতে শুরু করেছে।

উটপাখির উচ্চতা ৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সর্বোচ্চ ওজন হয় ১৫৫ কেজি। সবচেয়ে দ্রুতগামী বা দৌড়বাজ এ পাখি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। এটি সবচেয়ে বড় ডিমের অধিকারী, দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে এক-একটি ডিমের ওজন।

চিকেন ফিড, আলফা ও নেপিয়ার ঘাস, ডুমুর ও নিমপাতা, ফুলকপি-বাঁধাকপি, লালশাকসহ বিভিন্ন শাক-সবজি ও পাথরের গুঁড়া খেয়ে থাকে। দুই আঙুলবিশিষ্ট পায়ের অধিকারী উড়তে না পারা এই পাখি ও তার ডিমের প্রতি মানুষের আগ্রহ কম নয়।

দিনাজপুরে খামারে উটপাখি পালন

২০১৯ সালের শুরুর দিকে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ১৩টি পাখি আনেন সুলতান ইফতেখার চৌধুরী। এ দেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে পাখিগুলোকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি, যাতে আগামী দিনে বাণিজ্যিকভাবে এটি পালন করা যায়।

দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ মোড়ে একটি অটো রাইস মিলের খোলা জায়গায় এখন ১১টি উটপাখি পালন করছেন সুলতান ইফতেখার। প্রাণীগুলোকে দেখতে তার মিলে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ।

উটপাখি দেখতে আসা রেজাউল আলম পুতুল বলেন, ‘চিড়িয়াখানা ছাড়া এ পাখি দেখতে পাওয়া যায় না। যেহেতু দিনাজপুরের মাটিতে লালন করা হচ্ছে, তাই আমি প্রায়ই দেখতে আসি। দেখতে খুব ভালো লাগে।’

দিনাজপুরে খামারে উটপাখি পালন

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে উটপাখি টিভিতে দেখে আসছি। কিন্তু মিলে এই প্রথম সরাসরি উটপাখি দেখতে পেলাম।’

রাব্বি ইসলাম বলেন, ‘আমি পাশের একটি মিলে কাজ করি। বহুদিন আগে উটপাখি স্বপ্নপুরী নামের একটি থিম পার্কে দেখেছিলাম। মিলের পাশেই যেহেতু এটি লালন-পালন করা হচ্ছে, আমি প্রায়ই এখানে আসি।’

মিলের সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে পাখিগুলো হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ছিল। ডিম থেকে বাচ্চা প্রজনন ও স্বাভাবিকভাবে লালন-পালনের জন্য এই মিলে নিয়ে আসা হয়। যেহেতু এগুলো মরুভূমির প্রাণী, তাই তাদের স্বাভাবিক লালন-পালন করার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের মিলে পুরুষ উটপাখি আছে সাতটি ও মেয়ে চারটি। ইতোমধ্যে এগুলো ডিম দিতে শুরু করেছে। সেগুলো হাজী দানেশের ভেটেরিনারি বিভাগের মাধ্যমে ফোটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি ডিমগুলো থেকে বাচ্চা জন্ম নেয়, তাহলে আমরা উটপাখির বংশবিস্তার করাতে সক্ষম হব।’

দিনাজপুরে খামারে উটপাখি পালন

উটপাখির পালক সুলতান ইফতেখার চৌধুরী বলেন, ‘উটপাখি সাধারণ তৃণভোজী প্রাণী। এগুলোর খাবার খুব একটা ব্যয়বহুল নয়। ঘাস, গাছের পাতা, ফিড খেতে দেয়া হয়। উটপাখির অসুখ-বিসুখ খুব একটা হয় না। আমরা গরু-ছাগল যেভাবে লালন-পালন করি, সেভাবেই উটপাখি পালন করা হচ্ছে। আমাদের কাছে অনেকে উটপাখি কিনতে চায়। এদের বংশবিস্তার করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে বাইরে বিক্রি করার চিন্তা করব।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘উটপাখি মরু অঞ্চল ও আফ্রিকার বনে পাওয়া যায়। এটি বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে লালন-পালন করা হচ্ছে। উটপাখির মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এই পাখির মাংসে চর্বির পরিমাণ ৩ শতাংশেরও কম থাকে। উটপাখির পশম ও চামড়ার বিদেশে চাহিদা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় উটপাখির মৃত্যু 

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
A big fall in fuel oil prices due to fears of recession

মন্দার শঙ্কায় জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

মন্দার শঙ্কায় জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন জ্বালানি তেলের দাম ৮ মাসে সবচেয়ে কম।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে। এর জেরেই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি সুখবর এসেছে। যে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিতে ওলোটপালট করে দিচ্ছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেলের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে; নেমে এসেছে ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দামে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ ডলার শূন্য সাত সেন্ট বা ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৮৬ ডলার ৩৯ সেন্টে নেমে এসেছে। আর ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম নেমে এসেছে ৭৯ ডলার ১২ সেন্টে; কমেছে ৪ ডলার ৩৭ সেন্ট বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।

এই দর গত জানুয়ারির পর সবচেয়ে কম।

শুক্রবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর নিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশাঙ্কায় জ্বালানি তেলের বড় দরপতন হয়েছে।

‘আমেরিকান মুদ্রা ডলার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার বড় অর্থনীতিকে মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ আশঙ্কায় পড়ছে তেলের দাম।’

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশ ঋণের সুদের হার বাড়িয়েই চলেছে। ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ বুধবারও সুদের হার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। অন্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোও সেই একই পথ অনুসরণ করছে। আর এটাই বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে। এর জেরেই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘বিশ্বে কি মন্দা আসন্ন’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি। দিন দিন বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার একযোগে বাড়িয়েই চলেছে। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৩ সালে মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বড় বড় শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাহিদা কমায় জ্বালানি তেলের দাম কমেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূলত দুটি কারণে তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। প্রথমত, বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা মোটেও ভালো নয়। উন্নত দেশগুলোতে মন্দার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই তেলের চাহিদা কমছে। দ্বিতীয়ত, ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দর।

ডলার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্যানুসারে, চলতি বছর ডলারের দর ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি মূল্য বেড়ে যায়, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। সে জন্য ডলারের দর বাড়লে উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি তেল আমদানি হ্রাস করে, বাংলাদেশও যা করেছে। ডলার বাঁচাতে দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস করা হবে।

বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম গড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছিল, ঠিক তখন বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। গত ৫ আগস্ট রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের প্রতি লিটারের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা আর অকটেন ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন মধ্যরাত থেকে নতুন দর কার্যকর করা হয়। এর পর থেকেই বাস, ট্রাক, অ্যাপের প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, লঞ্চ ও হিউম্যান হলারের ভাড়া বেড়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে তা আরও একদফা বাড়ে।

সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য বলে আসছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কাছুটা কমলে দেশের বাজারে লিটারে মাত্র পাঁচ টাকা কমানো হয়।

মন্দাভাবের কারণে বিশ্ববাজারে দাম কমার ধারা কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, দাম কমতে থাকলে ওপেক তেল উত্তোলন আরও হ্রাস করবে। এতে দাম খুব একটা না-ও কমতে পারে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে দুই ধরনের তেলের দামই ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে তেলের দাম। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে ওঠানামার মধ্যেই তেলের দর ১১০ থেকে ১১৫ ডলারের মধ্যে ছিল।

গত মে মাসের শেষের দিকে তেলের দাম বেড়ে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

২০২০ সালের করোনা মহামারির শুরুতে সারা বিশ্বে যখন লকডাউন চলছিল, তখন জ্বালানি তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ এক ব্যারেল তেল কিনলে ক্রেতাকে উল্টো ৩৭ ডলার দেয়া হয়েছে। এরপর ওপেক ও রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে'তে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলারে ওঠে। সে সময়ই দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

এরপর অবশ্য তেলের দাম খানিকটা কমে আসে। যুদ্ধের কারণে ফের তা বাড়তে থাকে। ইউক্রেনে রুশ হামলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
জ্বালানি তেলের দাম শিগগির আবার কমবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
ব্যক্তিগত কাজে ব্যাংকের গাড়ি ব্যবহার নয়
জ্বালানি নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ বাড়াল রাশিয়া
রাশিয়ার তেল পরীক্ষায় সময় লাগবে এক সপ্তাহ
বাসে ভাড়া ১ টাকা কমাতে যেতে হবে ২০ কিলোমিটার

মন্তব্য

p
উপরে