× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
The price of rice in Kushtia has started to fall
hear-news
player
google_news print-icon

চালের দাম কমতে শুরু করেছে মোকামে

চালের-দাম-কমতে-শুরু-করেছে-মোকামে
কুষ্টিয়া পৌর বাজারে কমতে শুরু করেছে চালের দাম। ছবি: নিউজবাংলা
খুচরা পর্যায়ে মিনিকেট কেজিতে ১ টাকা কমে ৭০, কাজললতা ২ টাকা কমে ৫৯, আটাশ ৪ টাকা কমে ৫০ ও মোটা চালের দাম ৪ টাকা কমে ৪৫-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে যে হারে দাম বেড়েছিল সে তুলনায় কমার গতি ধীর।

চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর ১০ দিনের মাথায় সরু চালের বড় মোকাম কুষ্টিয়ার বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। খুচরা পর্যায়ে মিনিকেট চাল ১ টাকা, মাঝারি মোটা চাল ২ টাকা ও মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, আমদানির পাশাপাশি ওএমএসের মাধ্যমে সরকার কম দামে চাল বিক্রির উদ্যোগ নেয়ার প্রভাব পড়েছে চালের দামে। মিলমালিকরা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে চালের দাম আরও কমে আসবে।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারে খুচরা পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সরু চাল মিনিকেট কেজিতে ১ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। আর কাজললতা ২ টাকা কমে ৫৯ টাকায় নেমে এসেছে। কেজিতে ৪ টাকা করে কমেছে আটাশ চাল, বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মোটা চালের দামও ৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৬ টাকায়। তবে যে হারে দাম বেড়েছিল সে তুলনায় কমার গতি ধীর।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি করা চাল চলে আসায় এবং সরকার কম দামে চাল বিক্রির উদ্যোগ নেয়ায় কমছে চালের দাম। তবে কমার গতি আরও কয়েক দিন চলবে।

মিলমালিকরা বলছেন, চাল আমদানি বন্ধ না হলে বাজার আর অস্থিতিশীল হবে না। তারা চান চাল আমদানির এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক।

এদিকে চালের দাম কমতে শুরু করলেও বর্তমান বাজারদর নিয়ে খুশি হতে পারছেন না ভোক্তারা। তারা বলছেন, চালের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অথচ দাম কমছে খুঁড়িয়ে। এর ফলে চালের দাম এখনও অনেক বেশি। চালের বাজার সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে মিল, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরকারি মনিটরিং জোরদার করার কথা বলছেন তারা।

পৌর বাজারে চাল কিনতে আসা খোকন শেখ বলেন, ‘চালের দাম এখনও অতিরিক্ত বেশি। আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এত দাম দিয়ে চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। চালের দাম কেজিতে বাড়ল ৬ থেকে ৭ টাকা আর কমল ১ টাকা। এটা কোনো কথা হলো!’

সেলিনা খাতুন বলেন, ‘সব জিনিসের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চালের দাম চূড়ায় উঠে আছে। সেখানে কেজিতে ১/২ টাকা দাম কমিয়ে তো আর আমাদের কোনো লাভ হবে না। চালের দাম আরও বড় অঙ্কে কমা দরকার। আর সে জন্য খুচরা পর্যায়ে সরকারি মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো চালের দাম বাড়াতে পারবে না।’

পৌর বাজারের চাল বিক্রেতা সরোয়ার মোল্লা বলেন, ‘দাম বাড়ার সময় দ্রুতই বাড়ে। কিন্তু কমার সময় যেন নামতেই চায় না। মিলমালিকরা বলছেন যে ধানের দাম বেশি বলে চালের দাম বেশি। তারা চিকন চালের দাম কমাচ্ছেন না। মোটা চালের দামও যেটুকু কমেছে তাকে ঠিক কমা বলা যায় না।’

চালকল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি- চাল আমদানি যাতে বন্ধ না হয় এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নিন। আমরা মিলমালিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তেমন পরামর্শই দিয়ে আসছি।’

কুষ্টিয়ার খাজানগরে দেশের বৃহত্তম সরু চালের মোকাম। এখানে ৫২টি অটোমেটিক রাইস মিলসহ মোট সাড়ে ৪০০ মিল রয়েছে। এখান থেকে সারা দেশের সরু চালের চাহিদার বড় অংশ সরবরাহ হয়। অন্যদিকে এখানকার ব্যবসায়ীরা সরু চালের বাজারও নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
চালের মজুত বাড়াতে বড় পরিকল্পনা সরকারের
শুল্ক কমানোর ৫ দিনেও কুষ্টিয়ায় কমেনি চালের দাম
চালের শুল্ক সুবিধা ভোক্তা পাবে কি
চালের দামে অস্থিরতা ৯ কারণে
১ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে ১৫ টাকায় চাল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Organization of youth training bootcamps to solve climate problems

জলবায়ু সমস্যার সমাধানে তরুণদের প্রশিক্ষণ বুটক্যাম্পের আয়োজন  

জলবায়ু সমস্যার সমাধানে তরুণদের প্রশিক্ষণ বুটক্যাম্পের আয়োজন  
ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এ উদ্যোগটি যুবকদের সামাজিক প্রভাবকে অনুঘটক করতে এবং মানবতা ও পৃথিবীর জন্য আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি তরুণদের পরিবর্তনকারী হতে এবং তাদের সমাজে, দেশে এমনকি সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে উৎসাহিত করবে।  

ইউনিসেফ বাংলাদেশ, জেনারেশন আনলিমিটেড, জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, বাংলদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল লেবর অর্গানাইজেশন (আইএলও) এবং টেকনোভেশন গার্লস বাংলাদেশের আয়োজনে ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ শেষ হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরীতে ঢাকা বিভাগের জন্য আয়োজিত তিন দিনের এই বুটক্যাম্প শেষ হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অক্টোবর মাস জুড়ে বাংলাদেশের আরও ৫ টি বিভাগে ৬টি বুটক্যাম্প আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপে ঢাকা বিভাগের অনলাইনে মূল্যায়নের পর বিবেচিত ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী তাদের আইডিয়াগুলো নিয়ে বুটক্যাম্পে আলোচনা করা হয়েছে।

৩ দিনের এই বুটক্যাম্পে ১২টি দল তাদের প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করে। তাদের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে কীভাবে তাদের নিজ জেলায় জলবায়ুর সমস্যার সমাধান করবে, সেগুলো আলোচনা করেছে। প্রশিক্ষকরা তরুণ অংশগ্রহণকারীদের সংযুক্ত করতে, সাফল্য এবং ব্যর্থতা পাড়ি দিতে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশ করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগ থেকে ৫টি বিজয়ী দল তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সীড মানি পেয়েছে। অন্যান্য বিভাগ থেকে আরও বুটক্যাম্প বিজয়ীদের জন্যও অনুরূপ পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। মোট ২০টি দল সীড মানি পাবে এবং বাংলাদেশের ৬টি বিভাগে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য নির্বাচিত হবে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘ঢাকায় ১১টি জলবায়ু চ্যাম্পিয়ন দলের সাথে দেখা একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। একসাথে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য অর্থপূর্ণ সমাধান তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও অল্প সংখ্যক কিশোর এবং যুবক বিশ্বাস করে যে তারা একটি পার্থক্য আনতে পারে।’

বাংলাদেশে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পাউটিয়াইনেন বলেন, ‘জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরও বেশি অংশ নিয়ে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের তরুণদের চালিকাশক্তির আসনে বসাতে হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের ভবিষ্যতের জন্য তাদের প্রস্তুত করা এবং উৎপাদনশীল শ্রমবাজারের সম্পৃক্ততার জন্য কার্যকর পথ তৈরি করা অপরিহার্য।’

‘আমি এটা দেখে আনন্দিত যে, জেনারেশন আনলিমিটেড প্রোগ্রাম ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এর মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে, তাদেরকে সমস্যা সংজ্ঞায়িত করতে, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে দলে কাজ করতে সক্ষম করে।’

জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাকসান্দ বলেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যত নির্ভর করে আমরা কীভাবে আজ জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি। ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এর অংশ হিসাবে, যুবকদের তাদের অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য জলবায়ু-স্মার্ট এন্টারপ্রাইজ সলিউশন ডিজাইনে একত্রিত এবং সমর্থন করা হবে। এটি তাদের বিশ্বে এবং দেশে অবদান রাখার উপায়গুলো ভাবতে অনুপ্রাণিত করবে।’

ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এ উদ্যোগটি যুবকদের সামাজিক প্রভাবকে অনুঘটক করতে এবং মানবতা ও পৃথিবীর জন্য আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি তরুণদের পরিবর্তনকারী হতে এবং তাদের সমাজে, দেশে এমনকি সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে উৎসাহিত করবে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trump complains about the twelfth shipment of Metrorail

মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প

মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প মেট্রোরেলের কোচ-ইঞ্জিন নিয়ে শনিবার মোংলা বন্দরে ভিড়েছে বিদেশি জাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা
মোংলা বন্দর চেয়ারম্যান জানান, আটটি রেলওয়ে কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর জাপানের কোবে বন্দর ছেড়ে আসে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প। জাহাজটি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে।

ঢাকার মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালানে আটটি কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়েছে বিদেশি জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে জাহাজটি। জাহাজে মেট্রোরেলের মেশিনারিসহ একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের পণ্য রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মুসা জানান, আটটি রেলওয়ে কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর জাপানের কোবে বন্দর ছেড়ে আসে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প। জাহাজটি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে।

ভেনাস ট্রাম্পের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনশিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানির ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, জাহাজে আসা কোচ ও ইঞ্জিন রোববার সকালে খালাস শুরু হয়েছে। খালাসের সঙ্গে সঙ্গে তা বার্জে তুলে নৌপথে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ডিপোতে নেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২২ আগস্ট আটটি রেলওয়ে কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে এমভি হোসি ক্রাউন এ বন্দরে আসে। এ পর্যন্ত ৭৮টি কোচ ও ৩৮টি ইঞ্জিন এসেছে ঢাকা মেট্রোরেলের।

মেট্রোরেলের ১৪৪টি কোচ ও ইঞ্জিনের মধ্যে ১১৬টি কোচ-ইঞ্জিন এরই মধ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন:
মেট্রোরেলের ব্যয় বাড়ল ১১ হাজার কোটি
মোংলায় মেট্রোরেলের দশম চালান খালাস
এবার মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা
ছয়টি মেট্রোরেল চালু হলে দিনে ৫০ লাখ যাত্রী পরিবহন
মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেলের কাজ শেষ ৮০ শতাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Rice of OMS and oil of TCB open market company Silgala

ওএমএসের চাল ও টিসিবির তেল খোলা বাজারে, প্রতিষ্ঠান সিলগালা

ওএমএসের চাল ও টিসিবির তেল খোলা বাজারে, প্রতিষ্ঠান সিলগালা নওগাঁয় টিসিবির তেল এবং ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
ভোক্তা অধিদপ্তর জানায়, সরাইল এলাকায় মুসা স্টোরে টিসিবির সয়াবিন তেল এবং প্রায় ১০ বস্তা ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

নওগাঁ সদরে টিসিবির তেল এবং ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। আরও চারটি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নওগাঁ সদরের শিকারপুর ও সরাইল এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শামীম হোসেন ও জেলার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা চিন্ময় প্রামানিক অভিযান পরিচালনা করেন।

শামীম হোসেন বলেন, শিকারপুর বাজারে অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য তৈরি, আয়োডিনবিহীন খোলা লবণ ব্যবহার, অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, সরাইল এলাকায় মুসা স্টোরে টিসিবির সয়াবিন তেল এবং প্রায় ১০ বস্তা ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

অভিযানে নওগাঁ পুলিশ লাইনসের একটি দল অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
‘আম-লিচুর’ জুসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল, কারখানা সিলগালা
উপজেলা আ. লীগ সভাপতির অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা
দুই জেলায় ৮ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, জরিমানা
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক সিলগালা
মৃত ডাক্তারের নামে রোগ পরীক্ষার রিপোর্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
War hit export earnings fell 625 percent in September

রপ্তানি আয়ে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

রপ্তানি আয়ে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ রপ্তানির বিভিন্ন খাত। ফাইল ছবি
পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে।

যেমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তেমনটিই ঘটতে শুরু করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কার প্রভাবে কমতে শুরু করেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়।

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন দেশে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ কম।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘদিন পর পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখল বাংলাদেশ।

পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রন্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাবে এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রোববার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ১২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি দশমিক ৬২ শতাংশ।

১৩ মাস পর নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

১৩ মাস পর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তান আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে এসে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয়ে যে ধাক্কা লেগেছে, তা মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার কারণে হয়েছে। গত মাসে ৩১৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। গত মাসে ওভেন ও নিট উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিই হ্রাস পেয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশের বেশি, পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় হয়েছে একাধিক পণ্যে। কৃষিপণ্যে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ও কাচঁজাত পণ্যে ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই বলেই মনে হচ্ছে।’

বিজিএমইএ পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে যে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা হবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিজিএমইএ। যা সেপ্টেম্বরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে। কোভিড পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজার বিভিন্ন সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে, কনটেইনারের অপ্রতুলতা এবং সাপ্লাই চেইন সংকট, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে পূর্বাভাষ অনুযায়ী মন্দার আবির্ভাব যার কারণে খুচরা বিক্রয়ে ধ্বস নেমেছে, ক্রেতাদের পোশাকের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে, প্রভৃতি সংকটে শিল্প বিপযর্স্ত।

তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা তাদের ইনভেন্টরি এবং সাপ্লাই চেইনকে নিজেদের জন্য লাভজনক রাখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ উৎপাদন এবং অর্ডার পযর্ন্ত আটকে রেখেছে।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে শিল্পের জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আমরা টেকসই উন্নয়ন এবং প্রতিযোগী সক্ষমতায় আমাদের শক্তি আমরা দেখিয়েছি, তারপরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০২২ সালের শেষ ত্রৈমাসিকের জন্য আশাব্যাঞ্জক কিছু অনুমান করা কঠিন করে তোলে।’

এর আগে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধিতে প্রথম হয়। ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ১ হাজার ২২৩ কোটি বা ১২.২৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ইইউ অঞ্চলে চীন প্রথমে রয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি বা ১১.৩১ বিলিয়ন ডলার পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে সারা বিশ্ব থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে শুধু বাংলাদেশ থেকেই বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করেছিল ৭৮২ কোটি বা ৭.৮২ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন:
লক্ষ্যের চেয়েও বেশি রপ্তানি, অর্থনীতির চাপ কাটার আশা
মাঠ পর্যায়েও আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন চান সালমান
ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট
এবার চীনে রপ্তানি বাড়ার হাতছানি
বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার হতে যাচ্ছে ভারত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Why is the price of reconditioned cars increasing?

রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ছে কেন

রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ছে কেন চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা রিকন্ডিশন গাড়ির সারি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ডলারের দাম তো বেড়েছেই। তার ওপর সরকার নানাভাবে আমদানি নিরুৎসাহিত করায় গাড়ি আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। ওদিকে জাপানে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে নতুন গাড়ির উৎপাদন। সব মিলিয়ে গত তিন থেকে চার মাসে দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

২০১৭ সালের মডেলের একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি আগে বিক্রি হতো গড়ে ১৭ লাখ টাকায়। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্র্যান্ডের গাড়ির ক্ষেত্রেও একই হারে বেড়েছে দাম।

একদিকে বাংলাদেশে বেড়েছে ডলারের দাম, ডলারের চাহিদা কমাতে সরকার কঠিন করে দিয়েছে গাড়ি আমদানি। অন্যদিকে জাপানে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে নতুন গাড়ির উৎপাদন। সব মিলিয়ে গত তিন-চার মাসে দেশে গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম।

তবে গাড়ি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাড়ির দাম যে পরিমাণে বাড়ার কথা, সেই পরিমাণে বাড়েনি। আর দাম বাড়ার কারণে তাদের গাড়ি বিক্রিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গাড়ির দাম সেভাবে বাড়াতে পারিনি। কারণ একদিকে করোনাভাইরাস মহামারিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। সেটা শেষ না হতে হতেই শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। সব মিলিয়ে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এখন যদি আমরা মুনাফা করতে চাই, গাড়ি বিক্রি হবে না। আমরা ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শুধু কিছুটা দাম বাড়িয়েছি।’

বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘মূলত ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম বাড়ছে। এ ছাড়া গাড়ির সরবরাহে একটু সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন গাড়ি উৎপাদন কম হচ্ছে। কারণ নতুন গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত মাইক্রোচিপ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে জাপানের বাজারে লোকেরা নতুন গাড়ি না পেয়ে পুরোনো গাড়ি কিনছে। আমদানি করার মতো গাড়ি বাংলাদেশ কম পাচ্ছে।’

দেশে ডলারের দাম চলতি মাসে হয়েছে ১০৭ টাকা, যা গত এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ২৪ শতংশ বেশি।

চলতি মাসে জাপানের সবচেয়ে বড় গাড়ি উৎপাদন কোম্পানি টয়োটা বিশ্বব্যাপী গাড়ির উৎপাদন এক লাখ কমানের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হোন্ডা ৪০ শতাশং গাড়ি কম উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছে। ফলে ব্যবহৃত গাড়ির সরবরাহ একদিকে যেমন কমেছে, অন্যদিকে ডলারের দাম বেড়েছে। ফলে দেশে ব্যবহৃত গাড়ির দাম বেড়ে গেছে।

আবার সরকার বিলাসপণ্যের আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এলসি মার্জিন ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করেছে। আগে কোনো পণ্য আমদানি করতে হলে ব্যাংকে পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশ টাকা জমা দিতে হতো। এখন পুরো টাকাটাই জমা দিতে হচ্ছে। ফলে একটি বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে আমদানিকারকদের ওপর।

বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘একদিকে যেমন ডলারের দাম বেড়েছে, তেমনি শুল্ক বা করও বেড়েছে। সেটাও গাড়ির দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আগে ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। আগে ৮৫ টাকার ওপর ডিউটি দিতে হতো ১৩০ শতাংশ। এখন সেটাই ১১০ টাকার দিতে হচ্ছে।’

কবে থেকে দাম বাড়ল এ প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল হক বলেন, ‘এটা মূলত শুরু হয়েছে যখন ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলো। বিশেষ করে যখন তেলের দামটা বাড়িয়ে দেওয়া হলো, তখন গাড়ির দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেল।’

গত ৫ আগস্ট ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে সরকার প্রতি লিটার ১১৪ টাকা করে। পেট্রলের দাম ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার হয় ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার করা হয় ১৩৫ টাকা।

পরে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে এখন প্রতি লিটার ডিজেল-কেরোসিনের দাম ১০৯ টাকা, অকটেনের ১৩০ ও পেট্রলের ১২৫ টাকা।

আব্দুল হক জানান, আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশের মতো। জিয়া অটোজের মালিক জিয়াউল ইসলাম জানান, গাড়ি বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ।

তবে গড়ে সব ধরনের গাড়ির দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান এইচএনএস অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী ও বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গাড়ির চাহিদা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণে আমরা সেভাবে দাম বাড়াতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংকের গাড়ি কেনা এক বছর বন্ধ
গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার ও অযথা বিদেশ ভ্রমণ নয়: এনবিআর
২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকের দক্ষতা স্বচালিত গাড়িটির
ময়লার গাড়িতে ফের পথচারী নিহত
ব্যয় সংকোচনে সরকারের গাড়ি কেনা বন্ধ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Scramble to take over Internet business

ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিতে হাঙ্গামা

ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিতে হাঙ্গামা হামলায় আহত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের কর্মী।
আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে জামগড়া এলাকায় ডিউটি করার সময় মারামারির ঘটনাটি দেখি। লাঠিসোটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করছিল।’

ঢাকার সাভারে জোর করে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে এক ব্যবসায়ীর অফিস ভাঙচুর ও তিন কর্মচারীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত রনি ভূইয়ার পরিবার।

শনিবার ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার জান্নাত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থাপক শাহীন আলম। হামলায় আহতরা হলেন জান্নাত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের কর্মচারী মো. রাব্বী, মূসা ও ছানি।

এদিকে একই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত রনির বাবা বকুল ভূইয়া।

মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থাপক শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী রনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবসা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। কিছুদিন আগে সে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এসেই গতকাল তার লোকজন নিয়ে জামগড়া ব্রুকহিল মার্কেট ও আশরাফ প্লাজা এলাকার ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে দেয়। পরে আমরা আবার সংযোগ দিলে রাতেই লাঠি, রড, লোহার পাইপের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রনিসহ ১৫-১৬ জন লোক আমাদের অফিসে হামলা করে।’

এ সময় রাব্বী, মূসা ও ছানি নামে ওই অফিসের তিন কর্মচারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আশপাশের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও দোকানিদের মারধর করে চলে যায় তারা। আহত তিনজনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে রনি ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার বাবা বকুল ভূইয়া বলেন, ‘আমার ছেলে রনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসাতে এসব করা হচ্ছে। গতকাল ওরাই আমার মার্কেটে এসে দোকানপাট ভাঙচুর করছে, দুই-তিনজনরে মারধর করছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

রনির বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বকুল বলেন, ‘রাজনীতিক গেম চলতাছে ভাই। সেই ফাঁদে পইড়া আইজকা আমার ছেলের এই অবস্থা।’

তবে মার্কেটে কেন ভাঙচুর করা হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বকুল।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে জামগড়া এলাকায় ডিউটি করার সময় মারামারির ঘটনাটি দেখি। লাঠিসোটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করছিল। পরে আমি ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় জানতে পারি তিনজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জান্নাত ইন্টারনেট সার্ভিসের পক্ষে শাহিন আলম নামে একজন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত রনির বাবাও জান্নাত ইন্টারনেট সার্ভিসের মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রয়েছে। সে এলাকায় উশৃঙ্খল-প্রকৃতির। তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৪১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই ইন্টারনেট
অব্যবহৃত ইন্টারনেট ডেটা ফেরতে জটিল শর্ত
ইন্টারনেটে বাংলা কনটেন্টের ঘাটতি: মোস্তাফা জব্বার
ইন্টারনেট নিরাপদ হবে কীভাবে
২০২১ সালে প্রতি মিনিটে ইন্টারনেটে যা ঘটেছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Stocks sold in market fire

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। ফাইল ছবি
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই বছরের জুলাইয়ের চেয়ে গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪০১ কোটি ২০ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের চেয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্রে ১৪ দশমিক ২৯ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য সব খাতেও খরচ বেড়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পরও বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি বেশ কমেছে। এখন একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই দুই বছরের করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারও বেতন কমেছে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এই ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনিতেই বাজারে জিনিপত্রের দাম বেশি ছিল। এরপর যুদ্ধের কারণে তা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না।’

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। ব্যাংকে বা অন্য কোনোখানে টাকা রাখলে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ; এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়।

‘তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি, একটু বেশি মুনাফার আশায় কিনেই চলেছিল। তবে এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনার মতো সঞ্চয় নেই মানুষের কাছে। সে কারণে কমে গেছে এ খাতে বিনিয়োগ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কিন্তু তার ব্যত্যয় হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সেটা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে পারে। সে কারণে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করছে না বিবিএস।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তা হলে এখনো দিচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনো সেই হারে পাওয়া যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা
সঞ্চয়পত্রে নানা শর্তে আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহক
সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধেই ৪০ হাজার কোটি টাকা
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

মন্তব্য

p
উপরে