× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Green Delta Securities gets market makers license
hear-news
player
google_news print-icon

মার্কেট মেকারের লাইসেন্স পাচ্ছে গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ

মার্কেট-মেকারের-লাইসেন্স-পাচ্ছে-গ্রিন-ডেল্টা-সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে মার্কেট মেকার নিবন্ধন সনদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখনও প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স দেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকারের (বাজার সৃষ্টিকারী) লাইসেন্স পাচ্ছে গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বুধবার বলেন, ‘সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে মার্কেট মেকার নিবন্ধন সনদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখনও প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স দেয়া হয়নি।’

গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াফি শফিক মিনহাজ খান বলেন, ‘মার্কেট মেকারের লাইসেন্স এখনও ফরমালি হাতে পাইনি। কিন্তু বিএসইসি থেকে একটি কনফারমেশন চিঠি এসেছে। এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকে আমাদের মার্কেট মেকারের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।’

দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে মার্কেট মেকারের আইন করে বিএসইসি। মার্কেট মেকার বলতে এমন একটি কোম্পানি বা ব্যক্তিকে বোঝায় যারা একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করে। তারা কোনো একটি শেয়ারের মজুদ রাখে এবং সব সময় তাদের কাছে একটি দামে শেয়ারটি কেনা যায় ও একটি দামে শেয়ারটি বিক্রি করা যায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য তৈরি হয়।

দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কেট মেকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ বি রিচ লিমিটেড।

বাজার সৃষ্টিকারী বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে- কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার বিএসইসি থেকে এ সনদ পাওয়ার যোগ্য হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা অনুযায়ী, মার্কেট মেকার হওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদন সাপেক্ষে বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আবেদন করবে।

একইসঙ্গে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে থাকলে যে কোনো মার্কেট মেকার একটি অনুমোদিত সিকিউরিটিজ পরিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকতে পারবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে একজন মার্কেট মেকার সর্বোচ্চ ৫টি শেয়ারের বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করতে ১০ কোটি টাকা পেইডআপ লাগবে। সে হিসাবে ৫০ কোটি টাকা পেইড-আপ থাকলে ৫টি শেয়ারের মার্কেট তৈরি করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে সময় কমল ১০ মিনিট, শুরু সাড়ে ৯টায়
‘এসডিজি-এমডিজির দেখা মেলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা, শিল্প, রাষ্ট্রনীতিতে’
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের
ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কিনলে বিএপিএলসিকে সুবিধা: বিএসইসি
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Trading of government securities started on Monday

সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু সোমবার

সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু সোমবার পুঁজিবাজারে শুরু হচ্ছে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
নির্ধারিত সময়ে ট্রেডিং শুরুর সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি সিকিউরিটিজ আগামী ১০ তারিখ (১০ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। বিএসইসির থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করেছি।’

আগামী সোমবার থেকে পুঁজিবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেন শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিকে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিএসইসির পক্ষ থেকে ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রস্তুতিসম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যদিও লেনদেন শুরুর কথা ছিল ৪ সেপ্টেম্বর। তবে বিএসইসি চেয়ারম্যানের মালয়েশিয়া সফরের কারণে তা হয়নি।

গত সোমবার বিএসইসি আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড লেনদেন আগামী সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে।

ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রথমবারের মতো কোনো গভর্নর বিএসইসির কার্যালয়ে যান। এ নিয়ে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের মনে একধরনের উচ্ছ্বাস ছিল।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমাদেরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা এক্সচেঞ্জকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছি। তারা প্রস্তুতি শেষ করতে পারলে ওই দিনই লেনদেন চালু হওয়ার কথা। গর্ভনর স্যার, সেটাই জানিয়েছিলেন।

‘যেহেতু ছুটি চলছে, এক্সচেঞ্জ প্রস্তুতিসম্পন্ন করতে পারল কি-না সেটা তাদের কাছ থেকে জানতে হবে।’

নির্ধারিত সময়ে ট্রেডিং শুরুর সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি সিকিউরিটিজ আগামী ১০ তারিখ (১০ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। বিএসইসির থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করেছি।

‘এটা গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে লেনদেন শুরুর কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। তখনও আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এ ছাড়া আমাদের মক ট্রেডিং হয়েছে। প্রস্তুতি শেষ বলেই ১০ তারিখে ট্রেড শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, স্টক ব্রোকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগেই ওই লেনদেন শুরু হবে বলে আশাবাদী আমরা।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের কোম্পানিতে সুশাসনের অভাব: বিএসইসি কমিশনার
ওরিয়ন গ্রুপের আরও লাফ, এবার সঙ্গে স্বল্প মূলধনি
ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার কিনে ধরা বঙ্গজের পরিচালক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Artificial intelligence will tell which share price will increase or decrease

কোন শেয়ারের দর বাড়বে-কমবে, ‘বলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’

কোন শেয়ারের দর বাড়বে-কমবে, ‘বলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: নিউজবাংলা
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতাবান হবে যার কাছে যত ডাটা আছে। যদি বিএসইসি এই তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে না পারে তাহলে তারা পিছিয়ে যাবে: মোস্তাফা জব্বার

পুঁজিবাজারকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালনে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন তিনি।

জব্বার বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এখন পুঁজিবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যববহার হচ্ছে। এই প্রযুক্তি বলে দিতে পারে যে ভবিষ্যতে কোন শেয়ারের দাম কমবে কোন শেয়ারের দাম বাড়বে। বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

‘এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতাবান হবে যার কাছে যত ডাটা আছে। যদি বিএসইসি এই তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে না পারে তাহলে তারা পিছিয়ে যাবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল ‘রোল অফ টেকনোলজি এবং ইউএসজি এনালাইটিকস ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারীদের সংগঠন বাংলাদেশের সম্পদ ব্যবস্থাপকের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস- এএএমসিএমএফ।

মূলপ্রবন্ধ উপস্থিত করেন এএএমসিএমএফএর কোষাদক্ষ আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করার সময় পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সিগারেট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে আমাদের মুনাফা হবে। কিন্তু এমন যদি কোন কোম্পানি থাকে যেখানে বিনিয়োগ করলে নারীদের কাজ বাড়বে বা পরিবেশের সুরাক্ষা হবে, বড় বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করবে।

‘এখন ইএসজি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ই তে ইনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশ, এস তে স্যোশাল বা সামাজিক উন্নয়ন ও জি তে গভর্নেন্স বা সুশাসন। এই তিনটি এখন দেশের বাইরের বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএএমসিএমএফ এর সভাপতি হাসান ইমাম। তিনি বলেন, ‘ভারতে গত বছর পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমাদের দেশে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না তাই আমরা বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছি না।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার রুমানা ইসলাম বলেন, ‘আমাদেরকে ইএসজি নিশ্চিত্ করতে হবে। নইলে বিদেশের কেউ আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইবে না।’

বিএসইসির আরেক কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসুক। কিন্তু আসছে না। পৃথিবীতে একটি পরিবর্তন এসেছে। ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ এখন পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় হচ্ছে। তাই সম্পদ ব্যবস্থাপকদের এখন এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে যেখানে পরিবেশের সুরক্ষা হবে। আমাদের আরও বেশি বেশি ব্লু বন্ড, গ্রিনবন্ড আনতে হবে। ’

বিএসইসি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংঘের সদস্য। এই সংঘের নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিস কমিশনস বা আইওএসসিও।

আইওএসসিও এর সদস্য দেশগুলো তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে, বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়াতে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে থাকে।

বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ বাংলাদেশে পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
‘ডট বাংলা গ্রহণযোগ্য হলে ভালো অভিজ্ঞতা সম্ভব’
‘গ্রামীণফোন মালিকের’ উন্নত চিকিৎসা চান জব্বার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
10 rupees worth of mutual funds for 5 rupees is a great investment

‘১০ টাকার সম্পদ ৫ টাকায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড তো দারুণ বিনিয়োগ’

‘১০ টাকার সম্পদ ৫ টাকায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড তো দারুণ বিনিয়োগ’ মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর প্রেসিডেন্ড হাসান ইমাম।
‘যেটার ১০ টাকা এনএভি, সেটা ৫ টাকায় ট্রেড হচ্ছে। এটা ইনভেস্টরদের জন্য বড় অপরচ্যুনিটি। আপনারা যদি লংটার্ম ইনভেস্টর সত্যি হন, তাহলে এইসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনা উচিত। কারণ এরা বছর বছর ভালো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। অর্থাৎ ডিভিডেন্ড ইল্ড ৫ টাকায় কিনলে কত পাব। ৫ টাকায় কিনলে কত ডিভিডেন্ড পাব সেটা যদি হিসাব করেন, তাহলে অনেক ফান্ড ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়।’

সম্পদমূল্যের তুলনায় অর্ধেক দামে ইউনিট পাওয়া যায় বলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে বিনিয়োগের বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছেন মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিদের সমিতি অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম।

তিনি বলেনে, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড এখন মার্কেটে ভালো ইনভেস্টমেন্ট না, এটা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু আমি বলব এখন শেয়ার মার্কেটের সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো মিউচ্যুয়াল ফান্ড। কারণ, আমি এখন ৫ টাকা দিয়ে এমন একটা ইউনিট কিনতে পারি, যেটার সম্পদ আছে ১০ টাকা। এছাড়া ওই ৫ টাকা দিয়ে আমি সাড়ে ৭ শতাংশ ডিভিডেন্ড পাই। যার ডিভিডেন্ড ইল্ড বা প্রকৃত লভ্যাংশ ১৫ শতাংশ।’

বৃহস্পতিবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ -২০২২ উপলক্ষে এএএমসিএমএফ আয়োজনে ‘রোল অফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইএসজি অ্যানালাইটিকস ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাসান ইমাম বলেন, ‘যেটার ১০ টাকা এনএভি, সেটা ৫ টাকায় ট্রেড হচ্ছে। এটা ইনভেস্টরদের জন্য বড় অপরচ্যুনিটি। আপনারা যদি লংটার্ম ইনভেস্টর সত্যি হন, তাহলে এইসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনা উচিত। কারণ এরা বছর বছর ভালো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। অর্থাৎ ডিভিডেন্ড ইল্ড ৫ টাকায় কিনলে কত পাব। ৫ টাকায় কিনলে কত ডিভিডেন্ড পাব সেটা যদি হিসাব করেন, তাহলে অনেক ফান্ড ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়।’

২০১০ সালের মহাধসের পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে হতাশ করলেও গত দুই বছরের পরিস্থিতি ভিন্ন। ফান্ডগুলো এই দুই বছরে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে লভ্যাংশ নিয়ে বিনিয়োগকারীর খুব একটা মুনাফা হয়েছে এমন নয়। কারণ, যে হারে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে, ইউনিট দর কমেছে তার চেয়ে বেশি।

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিই অভিহিত মূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে। যেসব ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য সাড়ে ১০ টাকার বেশি, সেগুলো লেনদেন হচ্ছে ৫ টাকা বা আশেপাশে দরে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশ এই কারণে যে, এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে ক্রেতা এতটাই কমে গেছে যে, অর্ডার দিয়েও ইউনিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।

এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কোনো বৃদ্ধি নাই, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। আমি যখন এই মার্কেটে শুরু করি ২০০৮ সালে, তখন আমাদের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা, তিনটা এমসি ছিল এবং ফান্ড ছিল ১১টা। এখন সেই সিচিউশন যদি দেখি এমসি হচ্ছে ৫৪, ফান্ড হচ্ছে ৮৮ এবং অ্যাসেট হচ্ছে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

‘অর্থাৎ মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টর গত ১৪ বছরে ৬০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্যাপিটাল মার্কেটে কোনো সেক্টরে এই গ্রোথ নেই। তাহলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রিয়ালিটি যদি আমরা দেখি পারফর্মিং ওয়েল। সবার পছন্দ যদি ২০ শতাংশ হয় সেটা হয়ত দিতে পারছে না। কারণ হচ্ছে শেয়ার মার্কেট তো ২০ শতাংশ উঠছে না। কিন্তু ডিভিডেন্ড রিটার্ন ভালো এবং এই সেক্টরে গ্রোথ হয়েছে। এছাড়াও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে পার্টিসিপেশনটাও বেড়েছে প্রায় চার গুণ। এদিকের হিসাবেও মিউচ্যুয়ালের অবস্থান ভালো।’

‘মার্কেট গ্রোথের চেয়ে ফান্ডের গ্রোথ ভালো’

হাসান ইমাম বলেন, ‘মিডিয়াতে প্রায়ই দেখি এবং বিভিন্ন মহলে দেখি যে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পারফর্মেন্স দুর্বল। কিন্তু রিয়ালেটিটা কি? আপনার যদি ডেটা দেখেন গত ১০ বছরের মধ্যে সাত বছরেই আউটপারফর্ম করেছে। গত বছরও যদি দেখি ইক্যুইটি মার্কেট মানে আমাদের শেয়ার মার্কেট উঠেছে ২.৫ শতাংশ। সেখানে এভারেজ ডিভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ ইক্যুইটি মার্কেটকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড আউট পারফর্ম করেছে প্রায় ৪ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মানি মার্কেট যেটাতে আমরা নরমলি ইনভেস্ট করি, সেটাও যদি দেখি সেখানেও আউটপারফর্ম করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড।’

সেমিনারে বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা বাড়াতে ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি। ফান্ডগুলো কোন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে, সেই বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসতে চায় তারা।

তিনি বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে, আর মানুষের কাছে ফান্ডগুলোকে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে, আমরা একটি খুব আধুনিক ওয়েবসাইট তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি। যেখানে বাংলাদেশের সব সম্পদ ব্যবস্থাপক তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা মিউচ্যুয়াল ফন্ডগুলোর বিভিন্ন তথ্য দেবে।

‘বিশেষ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের বাইরের সব বিনিয়োগকারী এখানে ঢুকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সমস্ত তথ্য দেখতে পারবে। এটা অ্যাপ আকারেও করা হবে।’

মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে স্বচ্ছতা আনতে পারলে, জবাবদিহিতা বাড়াতে পারলে ও বিনিয়োগকারীদের তারল্য দিতে পারলে, সুরক্ষা দিতে পারলে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করবে বলেও মনে করেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এবং রুমানা ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী বিএসইসি
‘সোয়া ১১ টাকার’ দাম পাঁচ টাকা!
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কর চায় না বিএসইসি
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
টালমাটাল পুঁজিবাজারে রেইসের ১০ ফান্ডে দারুণ লভ্যাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC is committed to popularize mutual funds

মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী বিএসইসি

মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী বিএসইসি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকদের এক অনুষ্ঠানে বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিই অভিহিত মূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে। যেসব ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য সাড়ে ১০ টাকার বেশি, সেগুলো লেনদেন হচ্ছে ৫ টাকা বা আশপাশে দরে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশ এই কারণে যে, এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে ক্রেতা এতটাই কমে গেছে যে, অর্ডার দিয়েও ইউনিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।  

পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা বাড়াতে ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি। ফান্ডগুলো কোন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে, সেই বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসতে চায় তারা।

এ জন্য তহবিলগুলোর বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নতুন একটি ওয়েবসাইট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান।

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকের সংগঠন এসোসিয়েশন অফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস বা এএএমসিএমএফ।

আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল ‘রোল অফ টেকনোলজি এবং ইউএসজি এনালাইটিকস ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে স্বচ্ছতা আনতে পারি, জবাবদিহিতা বাড়াতে পারি ও বিনিয়োগকারীদের তারল্য দিতে পারি, সুরক্ষা দিতে পারে, তাহলে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করবে।’

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সব তথ্য সবার কাছে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে, আর মানুষের কাছে ফান্ডগুলোকে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে, আমরা একটি খুব আধুনিক ওয়েবসাইট তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি। যেখানে বাংলাদেশের সব সম্পদ ব্যবস্থাপক তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা মিউচ্যুয়াল ফন্ডগুলোর বিভিন্ন তথ্য দেবে।

‘বিশেষ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের বাইরের সব বিনিয়োগকারী এখানে ঢুকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সমস্ত তথ্য দেখতে পারবে। এটা অ্যাপ আকারেও করা হবে।’

২০১০ সালের মহাধসের পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে হতাশ করলেও গত দুই বছরের পরিস্থিতি ভিন্ন। ফান্ডগুলো এই দুই বছরে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে লভ্যাংশ নিয়ে বিনিয়োগকারীর খুব একটা মুনাফা হয়েছে এমন নয়। কারণ, যে হারে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে, ইউনিট দর কমেছে তার চেয়ে বেশি।

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিই অভিহিত মূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে। যেসব ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য সাড়ে ১০ টাকার বেশি, সেগুলো লেনদেন হচ্ছে ৫ টাকা বা আশেপাশে দরে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশ এই কারণে যে, এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে ক্রেতা এতটাই কমে গেছে যে, অর্ডার দিয়েও ইউনিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।

মিজানুর রহমান এই আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মিউুচয়াল ফান্ডের যে সংষ্কার করা হয়েছে সেগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা লোকসানে ছিল। আমরা আসার পরে এই খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কাজ করেছি। এখন এই খাতের অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো।

‘আমরা এখন এই খাতকে বড় করার জন্য নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসতে কাজ করছি। আমরা ইটিএফ নিয়ে আসছি। আমাদের কাছে ৫টি ইটিএফ আবেদন করেছেভ এই বছরের শেষে বাজারে ৫টি ইটিএফ আসবে। ’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএএমসিএমএফ এর সভাপতি হাসান ইমাম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থিত করেন এএএমসিএমএফ এর কোষাদক্ষ আজাদ চৌধুরী।

এছাড়া অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার রুমানা ইসলাম ও আরেক কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

বিএসইসি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংঘের সদস্য। এই সংঘের নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিস কমিশনস বা আইওএসসিও।

আইওএসসিও এর সদস্য দেশগুলো তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে, বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়াতে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে থাকে।

বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ বাংলাদেশে পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
ভিন্নধর্মী হবে সন্ধানীর নতুন মিউচুয়াল ফান্ড
দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি
সেপ্টেম্বরে চালু হচ্ছে এটিবি, ইটিএফ
৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
আরেকটি মিউচুয়াল ফান্ড আনছে গ্রামীণ ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Small Capital Leap with Orion Group

ওরিয়ন গ্রুপের আরও লাফ, এবার সঙ্গে স্বল্প মূলধনি

ওরিয়ন গ্রুপের আরও লাফ, এবার সঙ্গে স্বল্প মূলধনি
ওরিয়নের চার কোম্পানির পাশাপাশি স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লম্ফনও লেনদেনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটি আর ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১৫ই স্বল্প মূলধনি, যেগুলোর বছর শেষে মুনাফা ও লভ্যাংশ খুব ভালো আসে এমন নয়।

দুর্গাপূজার ছুটি কাটিয়ে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের পুঁজিবাজারের সূচক বাড়ল আরও খানিকটা। সেই সঙ্গে আরও বড় হলো ফ্লোর প্রাইসের তালিকাটি। কমল বেশিরভাগ শেয়ারের দর। তবে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ঠায় দাঁড়িয়ে একটি দরেই।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স যত পয়েন্ট বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি পয়েন্ট বাড়িয়েছে ওরিয়ন গ্রুপের চারটি কোম্পানি। সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করা ১০টি কোম্পানির শীর্ষ পাঁচে এই গ্রুপের চারটি কোম্পানি। বাকি ছয়টির মধ্যে দুটি স্বল্প মূলধনি।

ডিএসইর সূচক বেড়েছে ২৪.৬৭ পয়েন্ট। আর ওরিয়নের চার কোম্পানি বাড়িয়েছে ৩৭.৪৯ পয়েন্ট।

এদিন স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লম্ফনও লেনদেনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটি আর ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১৫ই স্বল্প মূলধনি, যেগুলোর বছর শেষে মুনাফা ও লভ্যাংশ খুব ভালো আসে এমন নয়।

বিপরীতে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। আর অল্প কিছু কোম্পানির শেয়ারেই গোটা লেনদেনের সিংহভাগ হচ্ছে। শত শত কোম্পানির কোনো ক্রেতা না থাকার চিত্র আবার দেখা গেছে।

লেনদেনের এই ভারসাম্যহীনতার কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় লেনদেন আরও কমেছে। দিন শেষে এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ালেও গত ৩৩ কর্মদিবসে এর চেয়ে কম লেনদেন হয়নি ডিএসইতে।

দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৬৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যা গত ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২৪ আগস্ট লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৩৩ কেটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

ওরিয়ন গ্রুপের আরও লাফ, এবার সঙ্গে স্বল্প মূলধনি
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

এদিন বেড়েছে মোট ৭৭টি কোম্পানির দর, কমেছে ১০৩টির আর আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে ১৯০টির দর, যেগুলোর সিংহভাগ ফ্লোর প্রাইসে আছে এবং লেনদেনের পরিমাণ খুবই কম।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকের লেনদেন সন্তোষজনক নয়। এর দুটি কারণ হতে পারে, এক পূজার ছুটি মিলিয়ে বেশ কয়েকদিন ছুটি রয়েছে এবং দুই পোলারাইজেশনটা শেষ হয়নি। যার কারণে বিনিয়োগকারীরা হয়তো সাইড লাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।’

স্বল্পমূলধনির প্রতি আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাজার যখন স্লো থাকে, বা কোনো খাতে যখন র‌্যালি না আসে তখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগটা এসবে ঘোরে। যার কারণে এসবে কিছুটা মুভমেন্ট হয়।’

ওরিয়নের চার কোম্পানির বিস্ময়কর উত্থান অব্যাহত

চার কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮.৭০ শতাংশ দর বেড়েছে বিকন ফার্মার। আগের দিন দর ছিল ২৫০ টাকা ৩০ পয়সা, বেড়ে হয়েছে ৩৮০ টাকা ৮০ পয়সা।

গত বছর শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৭৪ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাশ দেয়া কোম্পানিটি গত মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৩ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করেছে।

গত ২৮ জুলাই পুঁজিবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন দর ছিল ২৪০ টাকা ৮০ পয়সা। দুই মাসের কিছু বেশি সময়ে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারদর বাড়ল ১৪০ টাকা বা ৫৮.১৩ শতাংশ।

এই একটি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ২৬.৪৬ পয়েন্ট।

গত কয়েক মাসে গ্রুপের যে কোম্পানির দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, সেই ওরিয়ন ইনফিউশনের দর এক দিনে বাড়ল আরও ৭.৫ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৭০১ টাকা ৪০ পয়সা। ৫২ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে বর্তমান দর ৭৫৪ টাকা।

গত ২৮ জুলাই পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন দর ছিল ১০৪ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয় দিনে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের কোম্পানিটির দর ৬৪৯ টাকা ৩০ পয়সা বা ৬২০ শতাংশ।

গত সাত বছরে শেয়ার প্রতি সর্বোচ্চ ১ টাকা ৪০ লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটি গত অর্থবছরে লভ্যাংশ দেয় এক টাকা, শেয়ার প্রতি আয় করে ১ টাকা ৩৭ পয়সা। গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪৩ পয়সা আয় করতে পেরেছে।

এই কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ৪.০২ পয়েন্ট।

ওরিয়ন গ্রুপের আরও লাফ, এবার সঙ্গে স্বল্প মূলধনি
ডিএসইর সূচক যতটা বেড়েছে, তার দেড় গুণের বেশি বাড়িয়েছে ওরিয়ন গ্রুপের চার কোম্পানি

কোহিনূর কেমিক্যালসের দর বেড়েছে ৬.১১ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৬৪৬ টাকা ৫০ পয়সা। এক দিনে ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮৬ টাকা।

গত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ১০ টাকা ৫৪ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস আর শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২৪ পয়সা।

গত ২৮ জুন ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন দর ছিল ৩৭৯ টাকা ৯০ পয়সা। এই কয় দিনে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর বাড়ল ৩০৬ টাকা ১০ পয়সা বা ৮০.৫৭ শতাংশ।

এই কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ৩.৭৯ পয়েন্ট।

গ্রুপের সবচেয়ে বড় মূলধনি কোম্পানি ওরিয়ন ফার্মার দর সেই তুলনায় কম বেড়েছে। ২.৯৯ শতাংশ বা ৪ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১৪৮ টাকা।

গত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ১ পয়সা মুনাফা করে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটি গত মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে আয় করেছে ৩ টাকা ৭ পয়সা।

লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা

এদিন যে ৩৭০টি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয় তার মধ্যে শীর্ষ ১০ কোম্পানিতে হাতবদল হয় মোট লেনদেনের ৩৪.৯৯ শতাংশ বা ৪০৮ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

এদিন সবচেয়ে কম লেনদেন হওয়া ২০০টি কোম্পানির যত টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে তার প্রায় পাঁচ গুণ টাকা লেনদেন হয়েছে শীর্ষে থাকা ওরিয়ন ফার্মায়।

এই কোম্পানিটির ১৩০ টোকি ২২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ২০০ কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির লেনদেনের চেয়ে কম টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৩০০ কোম্পানিটি মিলিয়ে। এই কোম্পানিগুলোতে হাতবদল হয়েছে ৩০০ কোম্পানিতে লেনদেন ২৮০ কোটি টাকা।

শীর্ষ ৫ খাত যেমন

বিবিধ খাতে ৭টি বা ৫৩.৮৫ শতাংশ, জ্বালানি খাতে ১১টি বা ৫০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩টি বা শতভাগ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। আর কোনো খাতে বেশি দরপতন দেখা যায়নি।

তেমনি কাগজ খাতে ৩টি বা ৫০ শতাংশ, প্রযুক্তি খাতে ৭টি বা ৬৩.৬৪ শতাংশ ও পাট খাতে ২টি বা ৬৬.৬৭ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি ছাড়া প্রধান কোনো খাতেই খুব বেশি দরবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

এর কারণ বেশিরভাগ কোম্পানির আগের দর বা ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হওয়া।

লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ২৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা লেনদেনের ২২.৩৩ শতাংশ।

১১টি করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি ও দরপতন হয়েছে। বিপরীতে ৯টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে আগের দিনের দরে।

আর কোনো খাতের লেনদেন দুই শ কোটির ঘরে পৌঁছায়নি। কয়েক দিন আগেও কয়েকটি খাতের লেনদেন এর চেয়ে বেশি লেনদেন হতে দেখা গেছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯৬ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এ খাতের ১৬টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১২টির লেনদেন হয়েছে আগের দরেই। আর ১৪টির দরপতন হয়েছে।

১৫০ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৩.৫৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে বিবিধ খাতে। খাতটিতে দরপতন বেশি দেখা গেছে। ৭টি বা ৫৩.৮৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে ৩টি করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি ও দরপতন হয়েছে।

আর কোনো খাতের লেনদেন ১০০ কোটি অতিক্রম বা ১০ শতাংশ ছাড়াতে পারেনি।

৭৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা লেনদেন করে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কাগজ ও মুদ্রণ খাত। খাতের ৩টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২টির দরপতন ও ১টির অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা জ্বালানি খাতে লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৬.৪০ শতাংশ। ৮টি কোম্পানির দরবৃদ্ধি, ৩টির আগের দরে ও ১১টির লেনদেন হয়েছে দর কমে।

পঞ্চাশ কোটি বা ৫ শতাংশের ওপরে লেনদেন হয়েছে সেবা ও আবাসন এবং বস্ত্র খাতে। বাকি খাতের লেনদেন ছিল ৫ শতাংশের নিচে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আফতাব অটোমোবাইলস। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। ২৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বশেষ শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৯ টাকায়।

নাভানা সিএনজির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ দর বেড়ে মনোস্পুল পেপারের লেনদেন হয়েছে ২৬৭ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ২৪৫ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়াও দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল বিকন ফার্মা, বিডি কম, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, ফার্মা এইডস, সোনালী আঁশ ও জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে ছিল বিডি ওয়েলডিং। ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। আগের দিনে লেনদেন হয় ২৫ টাকা ৭০ পয়সায়।

পতনের তালিকায় পরের স্থানে ছিল মীর আকতার হোসেন লিমিটেড। ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ দর কমে লেনদেন হয়েছে ৫৭ টাকা ১০ পয়সায়। আগের দিনের ক্লোদর ছিল ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারায় হাক্কানি পাল্প। ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ৬৭ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। আগের দিনে লেনদেন হয়েছিল ৭০ টাকা ৩০ পয়সায়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- নাহি অ্যালুমিনিয়াম, পেনিনসুলা চিটাগং, ফার কেমিক্যাল, বসুন্ধরা পেপার, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ইয়াকিন পলিমার ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

সূচক প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ২৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

সোনালী পেপার সূচকে যোগ করেছে ৩ দশমিক ৮১ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এর বাইরে কোহিনূর কেমিক্যাল, ওরিয়ন ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, বিডিকম, জেএমআই সিরিঞ্জ ও তিতাস গ্যাস সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট সূচক কমেছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমেছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আইপিডিসির দর ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ২ দশমিক ০৯ পয়েন্ট।

এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, একমি ল্যাব, বসুন্ধরা পেপার, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, জেএমআই হসপিটাল, বেক্সিমকো লিমিটেড ও মীর আকতার লিমিটেডের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আফতাব অটোমোবাইলস। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। ২৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বশেষ শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৯ টাকায়।

নাভানা সিএনজির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ দর বেড়ে মনোস্পুল পেপারের লেনদেন হয়েছে ২৬৭ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ২৪৫ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়াও দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল বিকন ফার্মা, বিডি কম, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, ফার্মা এইডস, সোনালী আঁশ ও জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে ছিল বিডি ওয়েলডিং। ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। আগের দিনে লেনদেন হয় ২৫ টাকা ৭০ পয়সায়।

পতনের তালিকায় পরের স্থানে ছিল মীর আকতার হোসেন লিমিটেড। ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ দর কমে লেনদেন হয়েছে ৫৭ টাকা ১০ পয়সায়। আগের দিনের ক্লোদর ছিল ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারায় হাক্কানি পাল্প। ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ৬৭ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। আগের দিনে লেনদেন হয়েছিল ৭০ টাকা ৩০ পয়সায়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- নাহি অ্যালুমিনিয়াম, পেনিনসুলা চিটাগং, ফার কেমিক্যাল, বসুন্ধরা পেপার, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ইয়াকিন পলিমার ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

আরও পড়ুন:
পি কের সহযোগীর ছেলের ‘সিমটেক্স দখল’
সঞ্চয়পত্র নয়, পুঁজিবাজারে আসুন: গভর্নর
ওরিয়ন-বেক্সিমকোর আবেদন হারানোর প্রভাব সূচক-লেনদেনে
পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি
১০ কোম্পানির দখলে ৪০ শতাংশ, ২০০টিতে ৩.৬

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Director of Bangaj caught buying shares without declaring

ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার কিনে ধরা বঙ্গজের পরিচালক

ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার কিনে ধরা বঙ্গজের পরিচালক
তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির মালিক বা উদ্যোক্তা বা পরিচালক নিজের কোম্পানির শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে চাইলে আগে সেটা স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিকে জানাতে হবে। বঙ্গজের পরিচালক রবিউল ঘোষণা ছাড়া শেয়ার কিনে ধরা পড়ে বলেছেন, এই বিধান জানতেন না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য খাতের কোম্পানি বঙ্গজের এক উদ্যোক্তা ঘোষণা না নিয়ে কোম্পানির শেয়ার কিনে ধরা পড়েছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই কর্তৃপক্ষ এই চেষ্টা ধরে ফেলার পর তিনি ক্ষমাও চান। কিন্তু তাতে রক্ষা হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদনের কপি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছে ডিএসই। তবে বিএসইসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর লিস্টিং রেগুলেশনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির মালিক বা উদ্যোক্তা বা পরিচালক নিজের কোম্পানির শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে চাইলে আগে সেটা স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিকে জানাতে হবে। এরপর স্টক এক্সচেঞ্জ সেটি ঘোষণা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জানাবে। এরপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা শেয়ার লেনদেন করবেন।

তবে বঙ্গজের উদ্যোক্তা রবিউল হক গত ২৩ জুন আগাম ঘোষণা ছাড়াই নিজ কোম্পানির ২ হাজার শেয়ার ১৩৮ টাকা ৫০ পয়সায় ক্রয়াদেশ দেন হাউস রাজ্জাক সিকিউরিটিজের মাধ্যমে।

শেয়ার কেনা হয়ে গেলে সেই খবর চলে যায় ডিএসইর কাছে। শুরু হয় তদন্ত।

ডিএসইর তদন্তে রবিউল ও রাজ্জাক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণও হয়।

তদন্ত চলাকালে রবিউল দাবি করেন, তিনি আইনটি জানতেন না বলে লিখিত বক্তব্যে জানান। এবার ছাড় দেয়ার অনুরোধ করে বলেন, ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না।

রবিউল তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি মিথুন নিটিংয়েরও পরিচালক। চট্টগ্রাম ইপিজেডে থাকা এই কোম্পানিটি নিলামে বিক্রি হয়ে গেলেও পরিচালনা পর্ষদ কিছু জানে না।

ডিএসই তদন্ত দল অভিযোগ এনেছে রাজ্জাক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধেও। এখানে রবিউল বিও হিসাব খোলেন ২০০৪ সালে। কিন্তু তার দুটি কোম্পানির পরিচালকের তথ্য তাতে উল্লেখ করা হয়নি। এতে হাউসটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০ এর ৫ এর ২ এর ই ধারা ভেঙেছে বলেও মনে করে ডিএসইর তদন্ত দল।

এই আইনে বলা আছে, কোনো বিও হিসাবধারী যদি কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালক হন তাহলে বিও একাউন্ট করার সময় সেই তথ্য রাখতে হবে যেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্জাক সিকিউরিটিজ।

ব্রোকাজের হাউসটির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘রবিউল গত ২০০১ সালে জানুয়ারি মাসে আমাদের হাউসে একাউন্ট খোলেন। তখন ফরমে তাদের দেয়া তথ্য আমাদের বিও ওপেনিং ফরমে ছিল না। পত্রপাওয়া মাত্র আমরা হালনাগাদ করব।’

রাজ্জাক সিকিউরিটিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আব্দুর রহিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আমরা জবাব দিয়েছি। রবিউল হক আইনটি জানতেন না। তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।’

গত মাসে ডিএসই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন বিএসইসিতে পাঠায়। তবে এখন পর্যন্ত সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

১৯৮০ সালে উৎপাদনে আসা বঙ্গজ তাদের গ্র্যান্ড চয়েজ বিস্কুট দিয়ে বাজারে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। চার বছর পর তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তবে এখন তাদের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না।

স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটি ২০২০ সালে কর পরবর্তী প্রায় ৪৬ লাখ টাকা এবং পরের বছর সাড়ে ১৭ লাখ টাকা মুনাফা করে কোম্পানিটি। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি। মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা।

শেয়ার প্রতি আয় ২০২০ সালে ছিল ৬০ পয়সা, পরের বছর ২৩ পয়সা এবং গত মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ১৫ পয়সা।

২০২০ ও ২০২১ সালে যথাক্রমে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা ও ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া বঙ্গজের বর্তমান শেয়ারদর ১২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

বঙ্গজের পরিশোধিত মূলধন ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বর্তমান বাজার মূলধন ৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির ৭৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৩টি শেয়ারের মধ্যে ৩০ দশমিক ৯৯ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ আর শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ার।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র নয়, পুঁজিবাজারে আসুন: গভর্নর
ওরিয়ন-বেক্সিমকোর আবেদন হারানোর প্রভাব সূচক-লেনদেনে
পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি
১০ কোম্পানির দখলে ৪০ শতাংশ, ২০০টিতে ৩.৬
‘পদোন্নতির খেলায়’ ডিএসইতে অসন্তোষ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Crisis of Confidence in Capital Markets What BSEC Can Do

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী পুঁজিবাজারে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা। ফাইল ছবি
শেয়ারের ক্রয়মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার দাবি পূরণের পর দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে দৃশ্যত আর বড় কোনো দাবি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ রক্ষণশীল মনোভাবেও এসেছে পরিবর্তন, কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপও দৃশ্যমান, বন্ধ কোম্পানিগুলোকে আবার চালুর পদক্ষেপের পর উৎপাদনেও ফিরেছে অনেক। আরও কিছু কোম্পানি উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়। তবে পুঁজিবাজার গতটা গতিশীল থাকার আশা করা হয়েছিল, ততটা হয়নি।

পুঁজিবাজারে এক যুগ ধরে যে আস্থার সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে, সেটি কীভাবে ফিরবে- এ প্রশ্ন আবার বড় হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের বক্তব্যে।

পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগের কমিশনগুলোর তুলনায় শিবলীর কমিশন অনেক বেশি উদ্যোগী, কিন্তু বাজারে গতি ফিরতে গিয়েও ফেরেনি। টানা ১৬ মাস চাঙ্গাভাবের পর গত এক বছর ধরে পতনের ধারা।

পুঁজিবাজারের এই চিত্রের জন্য যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে, সেটি ভারতের ক্ষেত্রেও সত্য। ডলারের বিপরীতে সে দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে বাংলাদেশের সমানই। তবে সেখানে পুঁজিবাজার বাংলাদেশের মতো এভাবে ঝিমাচ্ছে না। এমনকি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বাজারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারের ক্রয়মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার দাবি পূরণের পর দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে দৃশ্যত আর বড় কোনো দাবি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ রক্ষণশীল মনোভাবেও এসেছে পরিবর্তন, কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপও দৃশ্যমান, বন্ধ কোম্পানিগুলোকে আবার চালুর পদক্ষেপের পর উৎপাদনেও ফিরেছে অনেক কোম্পানি। আরও কিছু কোম্পানি উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়।

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী
গত ৩ অক্টোবর বিএসইসি কমিশনের হল রুমে ‘বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহ-২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ফাইল ছবি

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ না দিলেও গত দুই বছরে ইউনিট-মূল্যের তুলনায় বেশ ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। তবু বাজার নিয়ে যে আস্থার সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে একযুগ ধরে, সেটি ফিরছে না।

বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার প্রসঙ্গটি ওঠে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, ‌‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।'

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিবলী রুবাইয়াত হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে। আস্থা, এই আস্থা যে কোথা থেকে আনব সেটা আমরা বুঝি না।’

চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে যে প্রশ্নটি বড় হয়েছে, সেটি হলো আর কী হলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরবে?

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হতে সময় না লাগলেও সেটি ফেরাতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়ানো, সুশাসনের সঙ্গে ভালো কোম্পানিগুলোকে আইপিওতে আনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এটি ফেরানো সম্ভব।

‘শব্দটা ছোট, কিন্তু কাজটা কঠিন’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আস্থা বা কনফিডেন্স শব্দটি ছোট, কিন্তু কাজটা অনেক কঠিন। আস্থা বলতে আমরা যা বুঝি- বিশ্বাস, মার্কেটের ওপর বিশ্বাস। বিএসইসি যা করেছে, সবই প্রশংসার দাবিদার। যেগুলো অতীতে হয়নি সেগুলোও করেছে কমিশন।

‘আস্থা আসে ওইখান থেকে, যেখানে প্রতিটি কমিটমেন্ট ঠিক থাকে। ধরা যাক, ডিভিডেন্ড দিলে ঠিকঠাক পায়, এজিএম ঠিকমতো করে, ভালো কোম্পানি লিস্টেড করে। আস্থা নিয়ে আসার জন্য এটি প্রথম কাজ।’

উদাহরণ তুলে ধরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘ধরুন, ডিএসই মাছের বাজার বসিয়েছে। সেই বাজারের একটা কমিটি আছে, তারা সেভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে। আর সিটি করপোরেশনকে বিএসইসি বিবেচনা করুন, মানে তারা তদারকি করে। এখন এই কাঁচাবাজারে মানুষের আস্থা তৈরি করতে হলে কী কী করা দরকার?’

নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়িটা সুন্দরভাবে পার্ক করতে দিতে হবে, সবাই যাতে শৃঙ্খলভাবে থাকে। এই ধরনের কাজগুলো বিএসইসি করেছে, ঠিক করেছে।

কিন্তু যে মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর কী অবস্থা তা বিবেচনা করতে হবে। যদি পচা মাছ কিনে বাড়ি ফেরেন তাহলে কি আস্থা ফিরবে?

‘যতই লাইট দেয়া হোক, ঝকঝকে বাজার রাখা হোক। প্রোডাক্ট যদি ভালো না হয়, হবে না। যত ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে তত আস্থা বাড়বে। অন্য বিষয়গুলো তো বাস্তবায়ন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভালো কোম্পানি সংযোজন করতে হবে। আজকে একটি ভালো কোম্পানি লিস্টেড হলেও কাল সবাই আস্থা ফিরে পাবেন- এমনটি নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

তাহলে কি আস্থা ফিরবে না?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে, এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি লাগতে পারে। একবার আস্থা চলে গেলে তা ফেরানো খুবই কষ্টসাধ্য, কিন্তু আস্থা ফেরার পরে তা চলে যেতে সময় লাগে না।’

শাকিল রিজভী জোর দেন কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদনের সত্যতার ওপর। বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলো লিস্টেড হবে সেগুলো যেন ফেইক ইনফরমেশন, ফেইক অডিটেড রিপোর্ট দিয়ে লিস্টেড না হয়। সিকিউরিটিজের দর কমতে বা বাড়তে পারে, কিন্তু কোম্পানির কাছ থেকে যেন না ঠকেন বিনিয়োগকারীরা। তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজারে আসবে সেগুলোর বাস্তবায়ন যেন হয়। এসব যত ভালোভাবে করা যাবে, আস্থা সেভাবে ফিরে আসবে।’

বিএসইসির বারবার নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেন শাকিল রিজভী। বলেন, ‘ছোটখাটো আইন পরিবর্তন বা সংস্করণ ঠিক আছে। কিন্তু খেলা চলছে, এর মধ্যে একবার বলা হলো প্রতি দলে ১২ জন খেলবে, একবার বলা হলো ১১ জন আবার একবার ৯ জন নিয়ে খেলা হবে বলে ঘোষণা দিলে কীভাবে হবে।’

‘আমাদের শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে। আস্থা, এই আস্থা যে কোথা থেকে আনব, সেটা আমরা বুঝি না।’

ফ্লোর প্রাইস আশীর্বাদ নাকি সংকট

পুঁজিবাজার যখন ক্রমেই নিচের দিকে নামছিল, তখন ২৮ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয় বিএসইসি। সব কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয়ার পর ৩১ জুলাই থেকে সূচক বাড়তে শুরু করে।

এই দুই মাসে সূচক বেড়েছে প্রায় ৬০০ পয়েন্ট, তবে তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস নেই। কারণ ৩০ থেকে ৪০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, আর ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে পৌনে দুই শটির বেশি কোম্পানি। এর মধ্যে আছে ডিএসই-৩০ এর আট থেকে ১০টি কোম্পানি।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও মনে করেন ফ্লোর প্রাইস বহু কোম্পানির লেনদেনে বাধা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এতগুলো শেয়ার যদি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকে তাহলে মার্কেটটা জাজমেন্ট করবেন কীভাবে?

‘প্রথম থেকেই বলছি, আমি ফ্লোর প্রাইসের বিরোধী। মার্কেটকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। ফ্লোর প্রাইস না থাকলে হয়তো ইনডেক্সটা পাঁচ হাজার সাত বা আট শর নিচে নেমে যেত। কিন্তু পরে ঠিকই ব্যাক করে নিজের জায়গাটা খুঁজে নিত। নিজেই নিজের বায়ার করে নিত।’

‘এখন এতগুলো আইটেম ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর এই বাজারে কনফিডেন্স কীভাবে আসবে?’- বলেন ডিবিএ সভাপতি।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কি যথাযথ ভূমিকা রাখছেন?

এই প্রশ্নটি উঠছে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকেই। তারা বলছেন, শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ নেই, আর দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বছরের পর বছর ধরে মাতামাতি চলছে- এই বিষয়টি হয়ে আসছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আচরণের কারণে। তারাও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো ডে ট্রেডারের ভূমিকা পালন করছে- এমন বক্তব্য আসছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেই।

তবে ডিবিএ সভাপতি বলেন, ‘এটা আমি মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘মুখে পলিথিন দিয়ে যদি বলা হয় ভাত খেতে, আপনি পারবেন? তিন হাজার ৯৮০ পয়েন্টের সময় যা করা হয়েছে তা সব সময়েই করা ঠিক হবে না। ইনডেক্সকে পড়তে দিতে হবে। অযাচিতভাবে শেয়ারের রেট বাড়িয়ে দিলে সেটা কমতে হবে, কমিয়ে দিলে সেটা বাড়তে হবে।’

ফ্লোর প্রাইসে নতুন আইপিও বন্ধ রাখার পরামর্শ

আর কী প্রয়োজন আস্থা ফেরাতে? এই প্রশ্নের উত্তরে রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘কোনটা হলে কী হতো বলা যায় না। এ রকম একটা বাজারে, যেখানে এতগুলো শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আছে, সেখানে এখন এত আইপিও বাজারে দরকার নাই।

‘ফ্লোর প্রাইস দিয়েছেন মানে বায়ার নাই বা ডিমান্ড কম, আবার আইপিও নিয়ে আসছেন।

বলছেন ডিমান্ড নাই আবার সাপ্লাই বাড়াচ্ছেন। এটা সাংঘর্ষিক। আমি আইপিওর পক্ষে, ভালো আইপিও আসুক। বাজারে এনভায়রনমেন্ট ওকে করে নিয়ে ভালো আইপিও নিয়ে আসা হোক।’

তিনি বলেন, ‘কারণ বাজারের আকার বড় করতে হবে। এই বাজারে ৫০০ কোটি টাকা ইন করলে বের করা যায় না। এ জন্য অনেকেই আসে না। এটা যখন হবে তখন সবাই আসবে।’

বিনিয়োগ শিক্ষার তাগিদ

আস্থা ফেরাতে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা বাড়ানো দরকার। রেজিস্টার্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যাডভাইজার দরকার, যারা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বিষয়ে আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএসইসি যা করছে, সেটা ভালো। সামনে বাজারে বন্ড আসছে। আমরা ঠিক পথে আছি। সময় লাগবে। আর কিছু ম্যাক্রো-ইকোনমিকস ফ্যাক্ট আছে ওয়ার্ল্ডওয়াইড। সেগুলো তো আর রেগুলেটরের নিয়ন্ত্রণে না। এই মুহূর্তে কিছুই চাওয়ার নাই। যেভাবে আগাচ্ছে, সবাই সহযোগিতা করলে এগিয়ে যাবে আশা করি।’

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে শুধু আমাদের পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়ছে, তা নয়। বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। সময়টাই খারাপ যাচ্ছে, ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই ‘সেরা’ কোম্পানিরও, ফের রাজত্ব ওরিয়নের
আস্থা কোথা থেকে আনব জানি না: বিএসইসি চেয়ারম্যান
সঞ্চয়পত্র নয়, পুঁজিবাজারে আসুন: গভর্নর
ওরিয়ন-বেক্সিমকোর আবেদন হারানোর প্রভাব সূচক-লেনদেনে
পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি

মন্তব্য

p
উপরে