× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
NBR wants to double income tax returns
hear-news
player
google_news print-icon

আয়কর রিটার্ন দ্বিগুণ করতে চায় এনবিআর

আয়কর-রিটার্ন-দ্বিগুণ-করতে-চায়-এনবিআর
এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে শুধু টিআইএন দেখিয়ে জমি, ফ্ল্যাট নিবন্ধন, গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যেত। কিন্তু তাদের অনেকেই রিটার্ন জমা দেন না। সেজন্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএনের সঙ্গে রিটার্নের দলিলাদি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে এবার রিটার্নের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

রাজধানী ঢাকার তালতলার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম সম্প্রতি জমি বিক্রি করে দশ লাখ টাকা পেয়েছেন। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্র কেনার কথা ভাবছেন তিনি।

সে উদ্দেশ্যে সঞ্চয় ব্যুরো অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে এর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে তাকে আয়কর রিটার্ন জমার কপি দিতে হবে। অথচ তার করযোগ্য আয় নেই।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এমন ৩৮ ধরনের সেবা নিতে হলে আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতোদিন এসব সেবা নিতে গেলে শুধু টিআইএন সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হতো। কিন্তু এখন টিআইএনের সঙ্গে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রও দিতে হবে।

সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে এই নিয়ম করা হয়েছে কর জাল বাড়ানোর জন্য, যাতে করযোগ্যরা নিয়মিত কর দেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ লাখ লোক বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে শুধু করদাতা শণাক্তকরণ নম্বার –টিআইএন দেখিয়ে জমি, ফ্ল্যাট নিবন্ধন, গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যেত। দেখা গেছে, সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই রিটার্ন জমা দেন না। অথচ তাদের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে। সেজন্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএনের সঙ্গে রিটার্নের দলিলাদি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে এবার রিটার্নের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে কমপক্ষে দ্বিগুণ হবে বলে আমরা আশা করছি।’

রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা ৭৬ লাখ। গত করবর্ষে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে মোট রিটার্ন জমা হয়েছে ২৪ লাখ। সে হিসাবে ৬৮ শতাংশ টিআইএনধারীই রিটার্ন জমা দেননি।

আলী হোসেন একজন ব্যবসায়ী। বসুন্ধরা শপিংমলে তার একটি কাপড়ের শো-রুম আছে। ধরে নেয়া হয় তার করযোগ্য আয় আছে। এ বছর তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন। আইন অনুযায়ী, রিটার্নের সঙ্গে তাকে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে।

রহমান শেখ একটি বেসরকারি ব্যাংকে উচ্চ পদে চাকরি করেন। রিটার্নের সঙ্গে তাকে বেতন বিবরণী, ব্যাংকে এফডিআর থাকলে তার বিবরণী ও কোনো খাতে বিনিয়োগ থাকলে তার প্রমাণ দেখাতে হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে এসব প্রমাণ সংগ্রহ করে না রাখে, তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে। একইসঙ্গে বেশি হারে কর কেটে রাখা হবে।

দেশে সাড়ে ষোল কোটি জনসংখ্যা থাকলেও নিয়মিত কর দেন মাত্র ১ শতাংশ। কতসংখ্যক মানুষের কর দেয়ার সামর্থ্য আছে তার কোনো সঠিক হিসাব এনবিআরে নেই। তবে মাথাপিছু আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বিচারে বর্তমানে দেড় কোটি লোকের করযোগ্য আয় আছে বলে এনবিআর মনে করে। বাস্তবতা হচ্ছে, করযোগ্য এসব ব্যক্তির বেশিরভাগই এখনও করের আওতার বাইরে।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াতে এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
রিটার্ন বাড়লেও আয়কর আদায় কম
রিটার্ন জমায় মেলার সুবিধা কর অঞ্চলে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Imports are more than exports by 455 billion dollars

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার
‘এই ধারা অব্যাহত থাকবে’ এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

নানা পদক্ষেপের পরও আমদানি ব্যয় খুব একটা কমছে না। এখনও প্রতি মাসে পণ্য আমদানিতে ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এ কারণে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ কোটি ৫০ লাখ (৪.৫৫ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এই দুই মাসে বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করেছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ১২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ১০ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই দুই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

এ হিসাবেই অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ১৩ মাস পর হোঁচট খেয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়।

‘এই ধারা অব্যাহত থাকবে’ এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি ব্যয় কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ফলও পাওয়া যাচ্ছে। আমদানির উল্লম্ফন কিছুটা কমেছে। কিন্তু খারাপ খবর হচ্ছে, রপ্তানি আয়ও কমতে শুরু করেছে। ১৩ মাস পর সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

‘রপ্তানি আয়ের এই নেতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে’ জানিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণে আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই বলেই মনে হচ্ছে।’

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর পর থেকেই আমদানিতে জোয়ার বইতে শুরু করে। আর তাতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধানও চূড়ায় উঠতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত পণ্য বাণিজ্যে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়। এর আগে কখনই এত বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়েনি দেশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

সেবা বাণিজ্যেও ঘাটতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ১.৫ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কোনো অর্থবছরে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে এত বড় ঘাটতি দেখা যায়নি।

আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সূচকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন (৪৫৭ কোটি ৫০ লাখ) ডলার ঘাটতি ছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে ঘাটতি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩১ কোটি ৪০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৭ কোটি ডলার। এভাবে প্রতি মাসেই বেড়েছে ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি।

‘ওই ঘাটতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল’ মন্তব্য করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমদানিতে এখনও যে গতি রয়েছে, সেটা যদি অব্যাহত থাকে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স যদি কমে যায় তাহলে গতবারের মতো এবারও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছল শেষ হবে।’

বেশ কয়েক বছর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে পড়ে বাংলাদেশ। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই বছর।

তার আগে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত ছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২.২৫ শতাংশ

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

তবে এবার এই সূচকে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

গত বছরের এই দুই মাসে ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

তবে সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য হতাশাজনক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্সের হালাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম এবং গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালেন্স) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইয়-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ২২ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে অর্থবছর শেষ হয়েছিল গত ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ওভারঅল ব্যালেন্সে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি

জুলাই-আগস্ট মাসে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে অবশ্য ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণসহায়তা পাওয়ায় গত আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত ছিল বলে জানান আহসান মনসুর।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
বিলাস পণ্যের আমদানিতে লাগাম
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২ লাখ কোটি টাকা
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায়
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Organization of youth training bootcamps to solve climate problems

জলবায়ু সমস্যার সমাধানে তরুণদের প্রশিক্ষণ বুটক্যাম্পের আয়োজন  

জলবায়ু সমস্যার সমাধানে তরুণদের প্রশিক্ষণ বুটক্যাম্পের আয়োজন  
ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এ উদ্যোগটি যুবকদের সামাজিক প্রভাবকে অনুঘটক করতে এবং মানবতা ও পৃথিবীর জন্য আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি তরুণদের পরিবর্তনকারী হতে এবং তাদের সমাজে, দেশে এমনকি সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে উৎসাহিত করবে।  

ইউনিসেফ বাংলাদেশ, জেনারেশন আনলিমিটেড, জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, বাংলদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল লেবর অর্গানাইজেশন (আইএলও) এবং টেকনোভেশন গার্লস বাংলাদেশের আয়োজনে ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ শেষ হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরীতে ঢাকা বিভাগের জন্য আয়োজিত তিন দিনের এই বুটক্যাম্প শেষ হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অক্টোবর মাস জুড়ে বাংলাদেশের আরও ৫ টি বিভাগে ৬টি বুটক্যাম্প আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপে ঢাকা বিভাগের অনলাইনে মূল্যায়নের পর বিবেচিত ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী তাদের আইডিয়াগুলো নিয়ে বুটক্যাম্পে আলোচনা করা হয়েছে।

৩ দিনের এই বুটক্যাম্পে ১২টি দল তাদের প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করে। তাদের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে কীভাবে তাদের নিজ জেলায় জলবায়ুর সমস্যার সমাধান করবে, সেগুলো আলোচনা করেছে। প্রশিক্ষকরা তরুণ অংশগ্রহণকারীদের সংযুক্ত করতে, সাফল্য এবং ব্যর্থতা পাড়ি দিতে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশ করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগ থেকে ৫টি বিজয়ী দল তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সীড মানি পেয়েছে। অন্যান্য বিভাগ থেকে আরও বুটক্যাম্প বিজয়ীদের জন্যও অনুরূপ পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। মোট ২০টি দল সীড মানি পাবে এবং বাংলাদেশের ৬টি বিভাগে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য নির্বাচিত হবে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘ঢাকায় ১১টি জলবায়ু চ্যাম্পিয়ন দলের সাথে দেখা একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। একসাথে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য অর্থপূর্ণ সমাধান তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও অল্প সংখ্যক কিশোর এবং যুবক বিশ্বাস করে যে তারা একটি পার্থক্য আনতে পারে।’

বাংলাদেশে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পাউটিয়াইনেন বলেন, ‘জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরও বেশি অংশ নিয়ে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের তরুণদের চালিকাশক্তির আসনে বসাতে হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের ভবিষ্যতের জন্য তাদের প্রস্তুত করা এবং উৎপাদনশীল শ্রমবাজারের সম্পৃক্ততার জন্য কার্যকর পথ তৈরি করা অপরিহার্য।’

‘আমি এটা দেখে আনন্দিত যে, জেনারেশন আনলিমিটেড প্রোগ্রাম ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এর মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে, তাদেরকে সমস্যা সংজ্ঞায়িত করতে, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে দলে কাজ করতে সক্ষম করে।’

জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাকসান্দ বলেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যত নির্ভর করে আমরা কীভাবে আজ জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি। ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এর অংশ হিসাবে, যুবকদের তাদের অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য জলবায়ু-স্মার্ট এন্টারপ্রাইজ সলিউশন ডিজাইনে একত্রিত এবং সমর্থন করা হবে। এটি তাদের বিশ্বে এবং দেশে অবদান রাখার উপায়গুলো ভাবতে অনুপ্রাণিত করবে।’

ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এ উদ্যোগটি যুবকদের সামাজিক প্রভাবকে অনুঘটক করতে এবং মানবতা ও পৃথিবীর জন্য আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি তরুণদের পরিবর্তনকারী হতে এবং তাদের সমাজে, দেশে এমনকি সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে উৎসাহিত করবে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trump complains about the twelfth shipment of Metrorail

মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প

মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প মেট্রোরেলের কোচ-ইঞ্জিন নিয়ে শনিবার মোংলা বন্দরে ভিড়েছে বিদেশি জাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা
মোংলা বন্দর চেয়ারম্যান জানান, আটটি রেলওয়ে কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর জাপানের কোবে বন্দর ছেড়ে আসে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প। জাহাজটি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে।

ঢাকার মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালানে আটটি কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়েছে বিদেশি জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে জাহাজটি। জাহাজে মেট্রোরেলের মেশিনারিসহ একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের পণ্য রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মুসা জানান, আটটি রেলওয়ে কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর জাপানের কোবে বন্দর ছেড়ে আসে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প। জাহাজটি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে।

ভেনাস ট্রাম্পের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনশিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানির ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, জাহাজে আসা কোচ ও ইঞ্জিন রোববার সকালে খালাস শুরু হয়েছে। খালাসের সঙ্গে সঙ্গে তা বার্জে তুলে নৌপথে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ডিপোতে নেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২২ আগস্ট আটটি রেলওয়ে কোচ ও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে এমভি হোসি ক্রাউন এ বন্দরে আসে। এ পর্যন্ত ৭৮টি কোচ ও ৩৮টি ইঞ্জিন এসেছে ঢাকা মেট্রোরেলের।

মেট্রোরেলের ১৪৪টি কোচ ও ইঞ্জিনের মধ্যে ১১৬টি কোচ-ইঞ্জিন এরই মধ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন:
মেট্রোরেলের ব্যয় বাড়ল ১১ হাজার কোটি
মোংলায় মেট্রোরেলের দশম চালান খালাস
এবার মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা
ছয়টি মেট্রোরেল চালু হলে দিনে ৫০ লাখ যাত্রী পরিবহন
মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেলের কাজ শেষ ৮০ শতাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Rice of OMS and oil of TCB open market company Silgala

ওএমএসের চাল ও টিসিবির তেল খোলা বাজারে, প্রতিষ্ঠান সিলগালা

ওএমএসের চাল ও টিসিবির তেল খোলা বাজারে, প্রতিষ্ঠান সিলগালা নওগাঁয় টিসিবির তেল এবং ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
ভোক্তা অধিদপ্তর জানায়, সরাইল এলাকায় মুসা স্টোরে টিসিবির সয়াবিন তেল এবং প্রায় ১০ বস্তা ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

নওগাঁ সদরে টিসিবির তেল এবং ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। আরও চারটি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নওগাঁ সদরের শিকারপুর ও সরাইল এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শামীম হোসেন ও জেলার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা চিন্ময় প্রামানিক অভিযান পরিচালনা করেন।

শামীম হোসেন বলেন, শিকারপুর বাজারে অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য তৈরি, আয়োডিনবিহীন খোলা লবণ ব্যবহার, অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, সরাইল এলাকায় মুসা স্টোরে টিসিবির সয়াবিন তেল এবং প্রায় ১০ বস্তা ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

অভিযানে নওগাঁ পুলিশ লাইনসের একটি দল অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
‘আম-লিচুর’ জুসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল, কারখানা সিলগালা
উপজেলা আ. লীগ সভাপতির অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা
দুই জেলায় ৮ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, জরিমানা
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক সিলগালা
মৃত ডাক্তারের নামে রোগ পরীক্ষার রিপোর্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
War hit export earnings fell 625 percent in September

রপ্তানি আয়ে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

রপ্তানি আয়ে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ রপ্তানির বিভিন্ন খাত। ফাইল ছবি
পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে।

যেমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তেমনটিই ঘটতে শুরু করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কার প্রভাবে কমতে শুরু করেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়।

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন দেশে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ কম।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘদিন পর পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখল বাংলাদেশ।

পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রন্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাবে এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রোববার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ১২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি দশমিক ৬২ শতাংশ।

১৩ মাস পর নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

১৩ মাস পর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তান আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে এসে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয়ে যে ধাক্কা লেগেছে, তা মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার কারণে হয়েছে। গত মাসে ৩১৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। গত মাসে ওভেন ও নিট উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিই হ্রাস পেয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশের বেশি, পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় হয়েছে একাধিক পণ্যে। কৃষিপণ্যে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ও কাচঁজাত পণ্যে ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই বলেই মনে হচ্ছে।’

বিজিএমইএ পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে যে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা হবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিজিএমইএ। যা সেপ্টেম্বরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে। কোভিড পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজার বিভিন্ন সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে, কনটেইনারের অপ্রতুলতা এবং সাপ্লাই চেইন সংকট, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে পূর্বাভাষ অনুযায়ী মন্দার আবির্ভাব যার কারণে খুচরা বিক্রয়ে ধ্বস নেমেছে, ক্রেতাদের পোশাকের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে, প্রভৃতি সংকটে শিল্প বিপযর্স্ত।

তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা তাদের ইনভেন্টরি এবং সাপ্লাই চেইনকে নিজেদের জন্য লাভজনক রাখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ উৎপাদন এবং অর্ডার পযর্ন্ত আটকে রেখেছে।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে শিল্পের জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আমরা টেকসই উন্নয়ন এবং প্রতিযোগী সক্ষমতায় আমাদের শক্তি আমরা দেখিয়েছি, তারপরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০২২ সালের শেষ ত্রৈমাসিকের জন্য আশাব্যাঞ্জক কিছু অনুমান করা কঠিন করে তোলে।’

এর আগে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধিতে প্রথম হয়। ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ১ হাজার ২২৩ কোটি বা ১২.২৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ইইউ অঞ্চলে চীন প্রথমে রয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি বা ১১.৩১ বিলিয়ন ডলার পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে সারা বিশ্ব থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে শুধু বাংলাদেশ থেকেই বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করেছিল ৭৮২ কোটি বা ৭.৮২ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন:
লক্ষ্যের চেয়েও বেশি রপ্তানি, অর্থনীতির চাপ কাটার আশা
মাঠ পর্যায়েও আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন চান সালমান
ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট
এবার চীনে রপ্তানি বাড়ার হাতছানি
বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার হতে যাচ্ছে ভারত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Why is the price of reconditioned cars increasing?

রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ছে কেন

রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ছে কেন চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা রিকন্ডিশন গাড়ির সারি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ডলারের দাম তো বেড়েছেই। তার ওপর সরকার নানাভাবে আমদানি নিরুৎসাহিত করায় গাড়ি আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। ওদিকে জাপানে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে নতুন গাড়ির উৎপাদন। সব মিলিয়ে গত তিন থেকে চার মাসে দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

২০১৭ সালের মডেলের একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি আগে বিক্রি হতো গড়ে ১৭ লাখ টাকায়। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্র্যান্ডের গাড়ির ক্ষেত্রেও একই হারে বেড়েছে দাম।

একদিকে বাংলাদেশে বেড়েছে ডলারের দাম, ডলারের চাহিদা কমাতে সরকার কঠিন করে দিয়েছে গাড়ি আমদানি। অন্যদিকে জাপানে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে নতুন গাড়ির উৎপাদন। সব মিলিয়ে গত তিন-চার মাসে দেশে গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম।

তবে গাড়ি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাড়ির দাম যে পরিমাণে বাড়ার কথা, সেই পরিমাণে বাড়েনি। আর দাম বাড়ার কারণে তাদের গাড়ি বিক্রিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গাড়ির দাম সেভাবে বাড়াতে পারিনি। কারণ একদিকে করোনাভাইরাস মহামারিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। সেটা শেষ না হতে হতেই শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। সব মিলিয়ে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এখন যদি আমরা মুনাফা করতে চাই, গাড়ি বিক্রি হবে না। আমরা ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শুধু কিছুটা দাম বাড়িয়েছি।’

বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘মূলত ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম বাড়ছে। এ ছাড়া গাড়ির সরবরাহে একটু সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন গাড়ি উৎপাদন কম হচ্ছে। কারণ নতুন গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত মাইক্রোচিপ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে জাপানের বাজারে লোকেরা নতুন গাড়ি না পেয়ে পুরোনো গাড়ি কিনছে। আমদানি করার মতো গাড়ি বাংলাদেশ কম পাচ্ছে।’

দেশে ডলারের দাম চলতি মাসে হয়েছে ১০৭ টাকা, যা গত এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ২৪ শতংশ বেশি।

চলতি মাসে জাপানের সবচেয়ে বড় গাড়ি উৎপাদন কোম্পানি টয়োটা বিশ্বব্যাপী গাড়ির উৎপাদন এক লাখ কমানের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হোন্ডা ৪০ শতাশং গাড়ি কম উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছে। ফলে ব্যবহৃত গাড়ির সরবরাহ একদিকে যেমন কমেছে, অন্যদিকে ডলারের দাম বেড়েছে। ফলে দেশে ব্যবহৃত গাড়ির দাম বেড়ে গেছে।

আবার সরকার বিলাসপণ্যের আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এলসি মার্জিন ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করেছে। আগে কোনো পণ্য আমদানি করতে হলে ব্যাংকে পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশ টাকা জমা দিতে হতো। এখন পুরো টাকাটাই জমা দিতে হচ্ছে। ফলে একটি বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে আমদানিকারকদের ওপর।

বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘একদিকে যেমন ডলারের দাম বেড়েছে, তেমনি শুল্ক বা করও বেড়েছে। সেটাও গাড়ির দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আগে ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। আগে ৮৫ টাকার ওপর ডিউটি দিতে হতো ১৩০ শতাংশ। এখন সেটাই ১১০ টাকার দিতে হচ্ছে।’

কবে থেকে দাম বাড়ল এ প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল হক বলেন, ‘এটা মূলত শুরু হয়েছে যখন ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলো। বিশেষ করে যখন তেলের দামটা বাড়িয়ে দেওয়া হলো, তখন গাড়ির দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেল।’

গত ৫ আগস্ট ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে সরকার প্রতি লিটার ১১৪ টাকা করে। পেট্রলের দাম ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার হয় ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার করা হয় ১৩৫ টাকা।

পরে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে এখন প্রতি লিটার ডিজেল-কেরোসিনের দাম ১০৯ টাকা, অকটেনের ১৩০ ও পেট্রলের ১২৫ টাকা।

আব্দুল হক জানান, আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশের মতো। জিয়া অটোজের মালিক জিয়াউল ইসলাম জানান, গাড়ি বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ।

তবে গড়ে সব ধরনের গাড়ির দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান এইচএনএস অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী ও বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গাড়ির চাহিদা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণে আমরা সেভাবে দাম বাড়াতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংকের গাড়ি কেনা এক বছর বন্ধ
গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার ও অযথা বিদেশ ভ্রমণ নয়: এনবিআর
২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকের দক্ষতা স্বচালিত গাড়িটির
ময়লার গাড়িতে ফের পথচারী নিহত
ব্যয় সংকোচনে সরকারের গাড়ি কেনা বন্ধ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Scramble to take over Internet business

ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিতে হাঙ্গামা

ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিতে হাঙ্গামা হামলায় আহত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের কর্মী।
আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে জামগড়া এলাকায় ডিউটি করার সময় মারামারির ঘটনাটি দেখি। লাঠিসোটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করছিল।’

ঢাকার সাভারে জোর করে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে এক ব্যবসায়ীর অফিস ভাঙচুর ও তিন কর্মচারীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত রনি ভূইয়ার পরিবার।

শনিবার ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার জান্নাত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থাপক শাহীন আলম। হামলায় আহতরা হলেন জান্নাত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের কর্মচারী মো. রাব্বী, মূসা ও ছানি।

এদিকে একই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত রনির বাবা বকুল ভূইয়া।

মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থাপক শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী রনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবসা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। কিছুদিন আগে সে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এসেই গতকাল তার লোকজন নিয়ে জামগড়া ব্রুকহিল মার্কেট ও আশরাফ প্লাজা এলাকার ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে দেয়। পরে আমরা আবার সংযোগ দিলে রাতেই লাঠি, রড, লোহার পাইপের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রনিসহ ১৫-১৬ জন লোক আমাদের অফিসে হামলা করে।’

এ সময় রাব্বী, মূসা ও ছানি নামে ওই অফিসের তিন কর্মচারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আশপাশের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও দোকানিদের মারধর করে চলে যায় তারা। আহত তিনজনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে রনি ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার বাবা বকুল ভূইয়া বলেন, ‘আমার ছেলে রনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসাতে এসব করা হচ্ছে। গতকাল ওরাই আমার মার্কেটে এসে দোকানপাট ভাঙচুর করছে, দুই-তিনজনরে মারধর করছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

রনির বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বকুল বলেন, ‘রাজনীতিক গেম চলতাছে ভাই। সেই ফাঁদে পইড়া আইজকা আমার ছেলের এই অবস্থা।’

তবে মার্কেটে কেন ভাঙচুর করা হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বকুল।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে জামগড়া এলাকায় ডিউটি করার সময় মারামারির ঘটনাটি দেখি। লাঠিসোটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করছিল। পরে আমি ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় জানতে পারি তিনজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জান্নাত ইন্টারনেট সার্ভিসের পক্ষে শাহিন আলম নামে একজন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত রনির বাবাও জান্নাত ইন্টারনেট সার্ভিসের মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রয়েছে। সে এলাকায় উশৃঙ্খল-প্রকৃতির। তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৪১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই ইন্টারনেট
অব্যবহৃত ইন্টারনেট ডেটা ফেরতে জটিল শর্ত
ইন্টারনেটে বাংলা কনটেন্টের ঘাটতি: মোস্তাফা জব্বার
ইন্টারনেট নিরাপদ হবে কীভাবে
২০২১ সালে প্রতি মিনিটে ইন্টারনেটে যা ঘটেছে

মন্তব্য

p
উপরে