× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
5 currencies including Dollar Pound Euro will be traded in RTGS
hear-news
player
google_news print-icon

আরটিজিএসে লেনদেন হবে ডলার পাউন্ড ইউরোসহ ৫ মুদ্রা

আরটিজিএসে-লেনদেন-হবে-ডলার-পাউন্ড-ইউরোসহ-৫-মুদ্রা
আরটিজেএস পদ্ধতিতে এখন থেকে ব্যাংকে লেনদেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
দেশে এতদিন আমেরিকান ডলার, যুক্তরাজ্যের পাউন্ড, ইউরো, কানাডার ডলার ও জাপানের ইয়েন- এই পাঁচটি মুদ্রা কাগজ-কলমভিত্তিক সনাতন লেনদেন ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হতো। এ পদ্ধতিতে এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের সঙ্গে কাগুজে নথি ব্যবহার করে ব্যাংকের কর্মকর্তারা হাজির হয়ে লেনদেন নিষ্পত্তি করতেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হতো।

এখন থেকে আমেরিকান ডলার, পাউন্ড, ইউরো, কানাডিয়ান ডলার ও জাপানের ইয়েন আরটিজিএস পদ্ধতিতে ক্লিয়ারিং ও নিষ্পত্তি হবে।

এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে তাৎক্ষণিক লেনদেন নিষ্পত্তির অনলাইন মাধ্যম হলো রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস। বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত আরটিজিএস পদ্ধতিতে এসব বিদেশি মুদ্রা লেনদেন হবে।

রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

দেশে এতদিন আমেরিকান ডলার, যুক্তরাজ্যের পাউন্ড, ইউরো, কানাডার ডলার ও জাপানের ইয়েন- এই পাঁচটি মুদ্রা কাগজ-কলমভিত্তিক সনাতন লেনদেন ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হতো। এ পদ্ধতিতে এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের সঙ্গে কাগুজে নথি ব্যবহার করে ব্যাংকের কর্মকর্তারা হাজির হয়ে লেনদেন নিষ্পত্তি করতেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হতো।

আরটিজিএস পদ্ধতিতে ঝামেলা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারবে ব্যাংকগুলো। পাঁচটি বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে চীনা মুদ্রা ইউয়ানও লেনদেন করা যাবে।

গত ২৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়, আরটিজিএস একটি স্বতন্ত্র লেনদেন প্ল্যাটফর্ম পদ্ধতি। এর সঙ্গে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের সংযুক্তি নেই। এ পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য একটি বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খুলতে হবে। এখান থেকে কেবল ডলারের বিপরীতে ডলার, ইউরোর বিপরীতে ইউরো- এভাবে লেনদেন করা যাবে। এক মুদ্রার বিপরীতে অন্য বৈদেশিক মুদ্রায় নিষ্পত্তি করা যাবে না। তবে যেকোনো অঙ্কের লেনদেন নিষ্পত্তিতে কোনো বাধা থাকবে না এতে।

নীতিমালায় বলা হয়, পরিশোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টের ধরন উল্লেখ করতে হবে। একটি লেনদেনে ব্যাংক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা চার্জ করতে পারবে। আরটিজিএস পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রায় আন্তব্যাংক তারল্য সুবিধা নেয়া যাবে না। লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন (জিইএফটি) মেনে চলতে হবে।

এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর পর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে সুবিধাভোগীর হিসাবে অর্থ দিতে হবে। এটি করতে না পারলে অর্থ ফেরত যাবে।

এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আরটিজিএসের স্থানীয় মুদ্রায় নিষ্পত্তির নীতিমালা মেনে চলতে হবে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে ২০১৫ সাল থেকে চালু হওয়া আরটিজিএস থেকে যেকোনো অংকের অর্থ পরিশোধ নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ১১ হাজার শাখার বেশিরভাগই এ ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছে।

গত জুলাইয়ে ৬ লাখ ২৩ হাজার লেনদেনের বিপরীতে ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিষ্পত্তি হয়েছে। জুন থেকে যুক্ত হয়েছে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান, বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, ব্যবসায়ী‌দের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই‌ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, এমসিসিআই সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আর এফ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
দুই মাসে রেকর্ড আড়াই বিলিয়ন ডলার বিক্রি
বাড়তি ডলার ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ
খোলাবাজারে ডলারের ফের চোখ রাঙানি
২০ বছরে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি ডলারের
২৮ মানি চেঞ্জারের ব্যাংক হিসাব তলব

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
What is the reason for not reducing the price of eggs?

ডিমের কেন আগুন দাম

ডিমের কেন আগুন দাম নানা কারণে কমছে না ডিমের দাম। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিকেন ফিডের দাম বৃদ্ধি, লোকসানের আশঙ্কায় খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা খামার করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমছে না ডিমের দাম।

চলতি বছরের আগস্টে ডিমের দাম ১৫৫ টাকা ডজন ছাড়িয়ে যায়, তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম কমে ১২০ টাকায় নামলেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী। দুই সপ্তাহে দাম আবার হয় ১৪০ টাকা।

এর পর থেকে ডিমের দাম আর কমছে না। রাজধানীর বাজারে শনিবার প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ টাকা আর হালি বিক্রি হয়েছে ৪৭ টাকায়। আর সাদা ডিম ডজন বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা। এ ডিমের হালি বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়।

কেন কমছে না ডিমের দাম, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চিকেন ফিডের দাম বৃদ্ধি, লোকসানের আশঙ্কায় খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা খামার করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ডিমের দাম না কমার কারণ হলো মুরগির খাদ্যের দাম। খাদ্যের দাম যতদিন না কমবে, ততদিন ডিমের দামও কমবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগে মুরগির খাদ্যের যে বস্তার দাম ছিল এক হাজার ৫০ টাকা, সেটার দাম এখন ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় মুরগি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন খামারিরা। ফলে ডিমের যে চাহিদা সেই পরিমাণ সরবরাহ নেই।’

ডিমের উৎপাদন কম ও দাম না কমার পেছনে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবের কথাও জানান ভাই ভাই এগ শপের মালিক সঞ্জয়। গত বছরেও একই কারণে ডিমের দাম বেড়েছিল।

গত বছরের অক্টোবরে ডিমের ডজন ৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১১০ টাকা। ওই সময় ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন কমে গেছে। বাজারে মুরগি ও ডিমের চাহিদা বেশি থাকলেও ওই পরিমাণ সরবরাহ নেই। ফলে দাম বাড়ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের কথা আবারও উঠে এলো সঞ্জয়ের কথায়। তিনি বলেন, ‘অনেক ছোট ছোট খামার গড়ে উঠেছিল। করোনার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। লোকসান দিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে বাড়িঘর বিক্রি করে লোকসান ভরেছেন। সেসব বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ছোট ছোট খামার থেকে প্রচুর ডিম উৎপাদন হতো। আগে গাড়ি ভরে ভরে মাল (ডিম) আসত। এখন আসে কম।’

একই তথ্য জানালেন ডিমের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বরিশাল এন্টারপ্রাইজের কুদ্দুস মিয়া। তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে অনেক ছোট ছোট ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম বলেই দাম কমছে না।’

বৃহৎ আমদানিকারক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘মুরগির খাদ্যের দাম অনেক বেশি। ডিমের কস্টিং বেশি। যে পরিমাণ ডিম দরকার, তার চেয়ে কম উৎপাদনের এটি একটি কারণ।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘টাঙ্গাইল থেকে বেশির ভাগ ডিম আসে। আমার দেশের ডিমের প্রায় ৮০ শতাংশই ওই অঞ্চলের। খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ভবিষ্যৎ লোকসানের আশঙ্কায় এসব অঞ্চলে খামারে বাচ্চা উঠাচ্ছেন না খামারিরা।

‘বাচ্চা মুরগি চার থেকে পাঁচ মাস লালন-পালনের পর ডিম পাওয়া যায়। দাম কমে গেলে লোকসান হবে, এই ভয়ে খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।’

ডিমের কেন আগুন দাম

ডিমের দাম কমার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা। সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘শীতের মধ্যে ফার্মে ফ্যানের প্রয়োজন কম হয়। মুরগির অসুখ কম হয়। ডিমের উৎপাদন বাড়ে এবং দাম কমার একটা সম্ভাবনা থাকে।’

কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘ডিমের দাম সামনে কমার আশা আছে। শীতের মধ্যে বিদ্যুতের খরচ কমে যাবে। এ ছাড়া বড় বড় কোম্পানি যারা, তাদের প্রোডাকশন কমছে না, বরং বাড়ছেই। তাতে কিছু দাম কমতে পারে।’

ডিমের দাম বৃদ্ধিতে জনমনে অসন্তোষের কারণে একপর্যায়ে ডিম আমদানিরও চিন্তা করে সরকার। ২৯ আগস্ট সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ রকম পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।

ওই দিনই জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানোর ঘোষণায় ডিমের দাম কিছুটা কমে এলেও পরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে ডিম আমদানির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এদিকে ডিমের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আমদানির বিপক্ষে অবস্থান নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় তিনি বলেন, ‘একটি ডিমের দাম ১২-১৩ টাকা কোনোভাবেই হতে পারে না। এই দাম অস্বাভাবিক। একটা ডিমের উৎপাদন খরচ ৫-৬ টাকা হলে উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ ৮ টাকায় বিক্রি করতে পারে।

‘সরবরাহ একটু কমে গেলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ফার্মের মালিক, হ্যাচারি মালিক নানা ষড়যন্ত্র করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দেয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই হয়তো আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন। তারপরও আমি বলব, ডিম আমদানির দরকার নেই। ডিম আমদানি করলে আমরা আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ব, যা আমরা চাই না।

‘আমদানি না করলে আমাদের একটু কষ্ট হবে, সবাই মিলে এই কষ্ট করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ডিম উৎপাদন করে খেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ডিম, মুরগিতে ‘১৫ দিনে ৫১৮ কোটি টাকা লোপাট’
চাহিদা বাড়ছে ভাঙা ডিমের
বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির
ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই হালিতে ডিমের দাম কমল ৬ টাকা
ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of sugar is Rs 6 more than the fixed price

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬ টাকা বেশি চিনির দাম

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬ টাকা বেশি চিনির দাম
‘আমরা তো লস দিয়ে ব্যবসা করছি। ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের ধরে। গোড়ায় হাত দিতে পারে না। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। কয়েকদিন তাই বেচাও বন্ধ রেখেছিলাম।’

সরকার নির্ধারিত দামে নয়, তার চেয়ে কেজিতে ৬ টাকা বেশিতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে চিনি। তবে বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে পাম তেল।

বিক্রেতারা জানান, চিনি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে কিনতে হচ্ছে বলেই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে শনিবার দেখা গেছে, প্রতি কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আর পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। অথচ সরকারিভাবে দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে ৮৪ ও ৮৯ টাকা।

সেই হিসাবে, খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির কেজিতে ৬ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে পাম সুপার খোলা, পরিশোধিত চিনি খোলা ও পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পাম সুপার খোলা তেল প্রতি লিটার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৩৩ টাকা, প্রতি কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি ৮৪ টাকা ও পরিশোধিত প্যাকেটজাত খোলা চিনির দাম ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই মূল্য কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই সময় থেকে আরও ৫ দিন পেরোলেও বাজারে চিনির দর কার্যকর হয়নি।

এর কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি কেজি চিনি কিনতে হচ্ছে ৮৭ টাকায়। খুচরা বিক্রি করতে কেজিতে প্রায় ১০ গ্রাম করে ঘাটতি যায়। এতে করে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৪ টাকার মতো বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে। ফলে কেজিতে ২ টাকার মতো মুনাফা নিয়ে ৯০ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন তারা।

কারওয়ান বাজারের শাহ মিরান জেনারেল স্টোরের শাহজাহান মনা বলেন, ‘আজকে এক বস্তা চিনি দাম চার হাজার ৩৫০ টাকা। এক বস্তাতে থাকে ৫০ কেজি। এক কেজি করে মেপে চিনি বিক্রি করতে ১০ গ্রাম করে ঘাটতি যায়। বস্তা প্রতি লেবার খরচ ১০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি চিনিতে খরচ পড়ছে ৮৭ টাকার বেশি। আমরা বেচি ৯০ টাকায়।’

তিনি বলেন, ‘প্যাকেটজাত চিনির এক বস্তায় থাকে ২০ কেজি। দাম নিচ্ছে এক হাজার ৮৪০ টাকা। ৯২ টাকা কেনাই পড়ছে। সেখানে আমরা দুই, তিন টাকা লাভে বিক্রি করছি। প্রতি কেজির দাম নিচ্ছি ৯৫ টাকা।’

জাহিদ জেনারেল স্টোরের জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘এক বস্তা চিনির কেনা দাম চার হাজার ৫০০ টাকা। তাহলে কয় টাকায় বেচতে হবে, বলেন?’

তিনি বলেন, ‘পাইকারদের জিজ্ঞেস করেন, দাম বেশি কেন? আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। তার ওপর দাম নিয়ে ভেজাল হওয়ায় চিনি সেভাবে উঠাইনি, বিক্রিও করছি না।’

পাইকারি বিক্রেতা আবুল কাশেম দিলেন একই তথ্য। সোনালী ট্রেডার্সের এই স্বত্বাধিকারী ফ্রেশ চিনির ডিলার। তিনি বলেন, ‘প্রতি বস্তা চার হাজার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি।’

৮৪ টাকায় চিনি বিক্রির নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই দামে কিনতেও পাই না, বেচতেও পারি না।’

কোম্পানির কাছে জানতে চান কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে তো কথাই বলা যায় না। কোম্পানি কোনো কথা বলতে চায় না।’

নাম প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে আরেকজন ডিলার বলেন, ‘এমনও হয় যে, মাল কেনার সময় কোম্পানি রশিদ দেবে সরকার নির্ধারিত দামে, কিন্তু টাকা নেবে বেশি দামে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমরা তো লস দিয়ে ব্যবসা করছি। ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের ধরে। গোড়ায় হাত দিতে পারে না। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। কয়েক দিন তাই বেচাও বন্ধ রেখেছিলাম।’

চিনির আরেক ডিলার জামাল ট্রেডার্সের জামাল হোসেন বলেন, ‘কোম্পানি দাম কমায়নি। আমি আলাপ করেছি, দাম কমাবে। কমালে আমাদেরকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে। আমাদের যে প্যাকেটজাত মাল (চিনি) আছে, বেশি দরে কেনা। সেটাই বিক্রি করছি।’

অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দরের চেয়ে ১৬ থেকে ১৮ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে পাম তেল। প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১১৫ থেকে ১১৭ টাকায়।

বিক্রেতা মামা-ভাগিনা স্টোরের আবু বক্কর বলেন, ‘প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি করছি ১১৫ টাকায়। আর কেজির হিসাব ধরলে ১২৫ টাকার মতো পড়বে।’

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা সেকান্দার এন্টারপ্রাইজের মো. সেকান্দার বলেন, ‘আমরা প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি করছি ১১৫ থেকে ১১৭ টাকায়। আর কেজি হিসাবে নিলে ১২৫ টাকায় বিক্রি। সরকার দাম বেঁধে দিয়েছে ১৩৩ টাকা। তাদের হিসাবে বিক্রি করতে গেলে ১৪০ থেকে ১৪২ টাকায় বিক্রি করা লাগবে।’

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে কীভাবে বিক্রি করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, তার চেয়ে দুই-এক টাকা লাভে বিক্রি করি। এর বেশি কিছু জানি না।’

আরও পড়ুন:
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
কমেছে সবজির দাম, বেড়েছে মাংসের
ঈদের ছুটিতে কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি, শসার সেঞ্চুরি
ডিমের বাজারও চড়া
চিনি রপ্তানিতেও লাগাম টানছে ভারত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Excess profit in dollars 6 remaining banks also liquidated

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ৬ ব্যাংককেও নিষ্কৃতি

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ৬ ব্যাংককেও নিষ্কৃতি প্রতীকী ছবি
ছয় ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতির বিষয়টি জানায়। ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ১২ ব্যাংকের মধ্যে বাকি ৬টিকেও অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক ছয়টির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর একাধিক ট্রেজারি কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মে-জুন মাসে ডলার কেনাবেচা করে ব্যাংকগুলো যে মুনাফা করেছিল তার অর্ধেক আয় খাতে নিতে বলা হয়েছে। বাকি অর্ধেক অর্থ সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে (সিএসআর) বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে ব্যাংকগুলোর করা এই মুনাফার পুরোটাই আলাদা রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ৬ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জবাবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেয়।

সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ১২ ব্যাংককে ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা ও ভুল তথ্য দেয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ থেকে মুক্তি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ডলারে অতি মুনাফার জন্য বেসরকারি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে ওই দায়িত্বে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়।

আগের ৬ ব্যাংক হলো ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ও সাউথইস্ট ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সেপ্টেম্বরে তাদেরও ডলার কেনাবেচা থেকে করা মুনাফা নিয়ে একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

তখন ওই ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের পদে ফেরার সুযোগও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোন ব্যাংক কত মুনাফা করল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের হিসাবে ডলার কেনাবেচা থেকে ব্যাংক এশিয়া ১৭৭ কোটি বা ৭৭০ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ১২৬ কোটি বা ৫০৪ শতাংশ, ব্র‍্যাক ব্যাংক ৭৫ কোটি বা ৪১৭ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৪০৩ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৩৫৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ৩৪০ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২০ কোটি বা ২৪৫ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৯৭ কোটি বা ২৩৪ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩৫ কোটি বা ২০৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪৩ কোটি বা ১৫৯ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ১৪০ শতাংশ মুনাফা করে।

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কিছুটা কমার কারণে ডলারের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সব ব্যাংকের জন্য ডলারের একক দর নির্ধারণ করে দেয়। রেমিট্যান্স আনতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায়।

আমদানির ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে এক টাকা।

পয়লা অক্টোবর থেকে দেশের সব ব্যাংকে এই দর অনুসরণ করা হবে বলে জানায় বাফেদা।

আরও পড়ুন:
ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের
রেমিট্যান্সে ডলারের দর কমল ৫০ পয়সা
কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর
৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো রিজার্ভ
ডলারকে দুর্বল করে এবার শক্তি পাচ্ছে টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Chinese yuan falls to record low against dollar

ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের

ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের প্রতীকী ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার ইউয়ানের দর ২০১১ সালের পর সর্বনিম্নে নামে। ওই বছর থেকে দর বাড়া-কমার ডেটা প্রকাশ শুরু হয়।

ঊর্ধ্বমুখী যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন হয়েছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের।

আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার ইউয়ানের দর ২০১১ সালের পর সর্বনিম্নে নামে। ওই বছর থেকে দর বাড়া-কমার ডেটা প্রকাশ শুরু হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সর্বনিম্ন দরপতন হয় ইউয়ানের।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সুদহার ফের বাড়ানোর পর প্রভাবশালী মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে ডলার। এবার ডলারের বিপরীতে বড় দরপতন দেখল ইউয়ান।

ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে ‍বুধবার এক ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ৭ দশমিক ২৩৮৬ ইউয়ান।

চীনা মুদ্রার অবনমনের খবরের মধ্যে বুধবার এশিয়ার বড় পুঁজিবাজারগুলোতে সূচকে ধস নেমেছে।

সকালে লেনদেনের সময় জাপানের নিক্কেই, হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং সাউথ কোরিয়ার কসপির সূচক কমে ২ শতাংশের বেশি।

ইউয়ানের পতন ঠেকাতে কাজ করছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপল’স ব্যাংক অফ চায়না (পিবিওসি)। এর অংশ হিসেবে চীনা ব্যাংকগুলোতে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নের সীমা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংকটকালে ডলারে বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করেন অনেকে। এটি অন্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারকে শক্তিশালী করায় ভূমিকা রেখেছে।

সোমবার ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্নে নামে ব্রিটিশ পাউন্ড। দুই দিন পর বেশ কিছু মুদ্রার বিপরীতে ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে যায় ডলার।

আরও পড়ুন:
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর আরও বাড়ল
একদিনে ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১০ টাকা দরপতন
ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংকে ডলারের নতুন দর কার্যকর হয়নি
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The Miniket controversy is now in the hearing of the Competition Commission

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশন বাজারে প্যাকেটজাত চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে? প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

বিআর-২৮, নাজিরশাইল, জিরাশাইল চাল কেটে তৈরি করা হয় মিনিকেট। প্রতি কেজির দাম ৫৬ টাকা। প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে এমন দাবি করেছেন বাজারে প্যাকেটজাত ব্র্যান্ড চালসহ ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি।

বাজারে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা কমিশন রশিদ অ্যাগ্রো নামে অপর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে?

এ সময় ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৫৬ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল কোথায় পাওয়া যায়, জানতে চায় কমিশন। কিন্তু এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক এ প্রতিষ্ঠান।

শুধু চালই নয়, আটা ময়দা ও চালের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে শুনানিতে ডাকা হয় সিটি গ্রুপকে।

সিটি গ্রুপের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা ও গ্রুপের আইনজীবী।

শুনানি শেষে বিশ্বজিৎ সাহা সাংবাদিকদের জানান, তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়ার জন্য সময় চাইলে তা দেয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দিয়েছে কমিশন।

পণ্য বিক্রিতে অসম প্রতিযোগিতার অভিযোগে ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

চাল, আটা-ময়দা, ডিম, মুরগি টয়লেট্রিজ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অতি মুনাফার প্রমাণ পায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। অভিযোগ নির্দিষ্ট করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর।

প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, হঠাৎ করেই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এতে চরম সমস্যার মুখে পড়ে সাধারণ ভোক্তা। স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা না করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসায় একচেটিয়া কর্তৃত্ব সৃষ্টির কারণে বেসামাল হয় বাজার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনে শুরু হয় এসব মামলার শুনানি। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। শুনানিতে ৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্তি তুলে ধরে।

চালের জন্য রশিদ অ্যাগ্রো ফুড, সিটি গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, বেলকন গ্রুপ, আটা-ময়দার জন্য সিটি গ্রুপ, ডিম এবং মুরগির জন্য এমডি প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ এবং টয়লেট্রিজ পণ্যের জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন।

চাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেলকন গ্রুপের আইনজীবী ব্যারিস্টার সিনথিয়া সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেলকন গ্রুপ চাল উৎপাদন করে। চালের দাম নিয়ে তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়। তবে, আজ সব তথ্য সরবরাহ করা যায়নি, সময় প্রার্থনা করা হয়। আদালত সময় মঞ্জুর করেছেন।’

শুনানিতে কোম্পানিগুলোর কাছে আমদানি, রপ্তানি এবং উৎপাদনের তথ্য জানতে চায় প্রতিযোগিতা কমিশন। বৈশ্বিক বাজার, ডলারের দাম, শুল্কসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় আনা হয়েছে।

ইউনিলিভারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যে আটটি বিষয়ে কমিশন তথ্য চেয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ নথি নিয়ে আসেননি তারা। এ জন্য সময় চাইলে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেয় কমিশন। এ সময়ের মধ্যে তারা সব নথি কমিশনে দাখিল করবে।

শুনানিতে আইনজীবী জানান, ইউনিলিভারে বিনিয়োগের ৬০ ভাগ বিদেশি আর ৪০ ভাগ শেয়ার বাংলাদেশ সরকারের। তাদের উৎপাদিত সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, শ্যাস্পুসহ কয়েকটি টয়েলেট্রিজ পণ্যের দাম বেড়েছে, এ কথা ঠিক। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এর মুল কারণ।

বলা হয়, ডলারের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিও পণ্যের দাম বাড়ার কারণ। ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৬ টাকার সময় ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরে সেটা ১০৭ টাকায় শোধ করতে হয়েছে। এ সময় শুল্ক হারের যে কাঠামো ছিল, ডলারের দাম বাড়ার কারণে সেটাও বেড়ে গেছে। কারণ ডলার ১০৭ টাকা ধরে শুল্ক দিতে হয়েছে।

এসব তথ্য নির্দিষ্ট করে কাঁচামালের আমদানি, কোন পণ্যের দর কত বৃদ্ধি পেয়েছে– সব তথ্য তারা কমিশনে সরবরাহ করবেন।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরাও শুনানিতে অংশ নেন। সংগঠনের সভাপতি জানান, ডিমের বিক্রিমূল্য এবং ক্রয়মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।

সোম ও মঙ্গলবার প্রথম দুই দিনে ১১ মামলার শুনানির জন্য ডাকা হলো আট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীকে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের মামলার বিষয়ে শুনানি করা হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এরফান আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

চাল ও আটা-ময়দার বাজারে অস্থিরতার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে অস্থিরতার জন্য ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, মুরগির দামে অস্থিরতার জন্য নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেডের পরিচালক এবং টয়লেট্রিজের জন্য স্কয়ার টয়লেট্ররিজের হেড অব অপারেশনকে শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

চালের বাজারে অস্থিরতার কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল হান্নান, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

চাল, আটা-ময়দা ও টয়লেট্রিজের জন্য এসিআইয়ের চেয়ারম্যানকে একই দিন শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, মুরগির বাজারের জন্য সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইওকে ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যে রাজা-রানিতে কেন বদলায় জাতীয় সংগীত?
চালের দামে সুবাতাস
চার্লসের মাথায় ব্রিটিশ রাজমুকুট, বদলাচ্ছে জাতীয় সংগীত
চালের দাম কমতে শুরু করেছে মোকামে
চালের দাম আরও কমবে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Case against 36 institutions including Bashundhara Pran Square ACI

বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব আইনে মামলা হয়েছে। এখন প্রত্যেককে শুনানির জন্য ডাকা হবে। শুনানিতে অপরাধ প্রমাণ হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে।’

চাল, ডাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কারসাজি করে অস্থিরতার অভিযোগে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ৩৬ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিযোগিতা কমিশন। সোমবার কমিশনের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব আইনে মামলা হয়েছে। এখন প্রত্যেককে শুনানির জন্য ডাকা হবে। শুনানিতে অপরাধ প্রমাণ হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জরিমানার পরিমাণ হবে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বছরে যে পরিমাণ টার্নওভার করে, তার সর্বনিম্ন ১ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত।’

যাদের নামে মামলা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা, এস আলম, স্কয়ার, প্রাণ, এসিআই, সিটি, আকিজ, মেঘনার মতো প্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই অভিযোগে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। এ নিয়ে দুই দফায় সব মিলিয়ে ৪৪ মামলায় ৩৬ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

এসব কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কমিশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তারা বাজারে চাল, আটা, ময়দা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও টয়লেট্রিজ পণ্যের ‘অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে অস্থিরতা’ তৈরি করেছে।

কমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান, এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান অথবা এমডি, প্রাণ ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অথবা এমডি, সিটি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের এমডির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুর রশিদ, দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল হান্নান, নওগাঁর বেলকন গ্রুপের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এরফান আলী, বগুড়ার কিবরিয়া অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, নওগাঁর মফিজ উদ্দীন অটোমেটিক রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী তৌফিকুল ইসলাম, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুরজাহান অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া আছেন বগুড়ার খান অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী পুটু মিয়া, কুষ্টিয়ার মেসার্স দাদা রাইচ মিলের মো. আরশাদ আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস এবং নওগাঁর ম্যাবকো হাইটেক রাইস ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অথবা এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন।

এ ছাড়া আটা-ময়দার বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি, এসিআই, টি কে গ্রুপের এমডি, নুরজাহান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি, এস আলম রিফাইন্ড ইন্ডাস্ট্রির এমডি এবং সিটি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে কারসাজির জন্য সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির এমডি বা সিইও, প্যারাগন পোলট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ফার্মের মুরগির বাজারে অস্থিরতার জন্য কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান, সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডসের পরিচালক, আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইও, নারিশ পোলট্রি ও হ্যাচারির পরিচালক, প্যারাগন পোলট্রির এমডি এবং সিপি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

টয়লেট্রিজের (সাবান, সুগন্ধী সাবান ও গুঁড়া সাবান) অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর জন্যও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের এমডি, স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান বা এমডি, কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি (তিব্বত) ও কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অথবা এমডি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার টয়লেট্রিজের পরিচালক মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেখানে কিছু তথ্য-উপাত্তসহ ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আমরা তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থিত থাকব।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখনো এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমরা এ বিষয়ে উত্তর দেব। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমরা অ্যারোম্যাটিক চাল বিক্রি করি। সেগুলোর কাঁচামালের দাম বেড়েছে, তাই আমরা আমাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছি। আমাদের এখানে কোনো কারসাজি ছিল না।’

কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মামলার শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যথাযথ শাস্তি চাই: গোলাম রহমান

৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘শুধু মামলা হলে বা শুনানিতে ডাকলেই হবে না। কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেটাই বড় কথা। আমরা চাই যারা মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের যথাযথ শাস্তি হোক। আর যেন কেউ কারসাজি করে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে সাহস না পায়।

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিযোগিতা কমিশনের এই মামলা করাকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে আমি কমিশনকে সাধুবাদ জানাব।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার টয়লেট্রিজের পরিচালক মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেখানে কিছু তথ্য-উপাত্তসহ ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আমরা তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থিত থাকব।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, স্বামী কারাগারে
‘চিটার সর্দার’ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
ছাত্র ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক
পুলিশের ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন খোদ বিচারক
মামলা নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩২ শতাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Napier is a multi billion dollar business

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে বলছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

এক সময়ের অনাবাদি কিংবা সড়কের পাশের পতিত জমিও এখন দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে আধুনিক বা বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের কল্যাণে। এই বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুরে।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

তাদের একজন হলেন বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর এলাকায় বাসিন্দা আপেল মাহমুদ। ৭ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা ১৭ হাজার টাকা করে ইজারা নিয়ে কাঠমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে এখন পুরোদমে খামারি হয়েছেন। ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালনের পাশাপাশি ঘাস চাষকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন।

নিজের এলাকার মহিপুর বাজারে এক স্কুল মাঠে প্রতিদিন বেলা তিনটার দিকে ঘাসের হাট বসে; সেখানে বছরের প্রায় প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক।

সম্প্রতি এই হাটে ঘাস বিক্রি করতে করতে আপেলের সঙ্গে আলাপ হয়। জানান, আট থেকে দশ বছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এই কাজ করে সংসার চলে কিন্তু প্রশান্তি মেলে না। এক সময় এমন চিন্তা থেকেই পেশা বদল করেছেন। জমানো টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে শুরু করলেন ঘাস চাষ। বছর শেষে প্রায় ২ লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করেন এই জমি থেকেই।

লাভের দিক বিবেচনায় নিয়ে এরপর আপেল মাহমুদ ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালন শুরু করেন। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই তিনি ঘাস চাষ আর গরু পালন করছেন। ঘাস চাষের জমির পরিধি বেড়ে ৭ বিঘায় এসেছে। জীবনযাপনের জন্য প্রথমে ঘাস চাষ শুরু করলেও আপেল এখন এটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন; যেখানে খামারের গরুর জন্য ঘাস চাষও হচ্ছে, একই সঙ্গে অন্যদের গরুর প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আপেলের মতে, এক সঙ্গে গরু পালন আর ঘাস চাষের মধ্যে খামারিদের ব্যাপক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শুধু শেরপুর উপজেলায় গরু পালনের অন্তত ২ হাজার জন খামারি রয়েছেন। এখানে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। শুধু উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া এই তথ্য বলছে, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অন্তত দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। খামারিরা এখন রেডি ফিডের চেয়ে ঘাস খাওয়ানোই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলায় অন্তত ২ হাজার একর জমিতে এবার ঘাষ চাষের অন্যতম কারণ এটিও।

তবে ঘাষ চাষের তাৎপর্য নিয়ে বহুমুখী ব্যাখ্যা রয়েছে কৃষকদের কাছেই। মহিপুরের জামতলা গ্রামের চাষী মো. হেলাল হোসেন প্রতি বছরই ২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন।

চাষের কারণ জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করতে এখন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে ঘাস বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার। একই সঙ্গে ঘাস চাষে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা নেই। ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শ্রমিক খরচ কম। কম শ্রম দেয়া লাগে। চাহিদাও ভালো। সব দিক থেকেই অন্য ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক।’

গাড়িদহ এলাকার আব্দুল হামিদ ১৮ বছর ধরে ৪ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছেন। তিনি জানান, আগের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। পতিত ধরনের জমিতে অন্য কিছু চাষাবাদ করা যায় না বলে তিনি সেখানে ঘাস চাষ করেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে ঘাস চাষের পরিসর আরও বাড়ানোর লক্ষ্য তার।

শেরপুরের উলিপুরের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ঘাসের ব্যবসা করেন। মহিপুর বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে ঘাস কিনে খামারিদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এ ঘাস বিভিন্ন আকারের আটি বেঁধে বিক্রয় করা হয়। ১০ থেকে শুরু করে ৪০ টাকা দামের আটি বিক্রয় করেন ব্যবসায়ীরা।

এই ব্যবসায়ীর অবশ্য ফ্রিজিয়ান জাতের ৬টি গরু রয়েছে। জানান, শেরপুরে ঘাস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অনেক লম্বা একটি চেইন গড়ে উঠেছে। অন্তত ২০০ মানুষ সরাসরি এই ঘাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

চাহিদার প্রেক্ষাপটে জেলাজুড়ে ঘাস চাষও বাড়ছে। বগুড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, জেলাজুড়ে ঘাস চাষের চাহিদা বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলায় ৫৭৫ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ৪৪৮ একর জমিতে ঘাস চাষ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১২৭ একর জমিতে ঘাস চাষ বেড়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শেরপুরের মহিপুরের আব্দুর রশিদ প্রতিদিন ১০টি গরুর জন্য ১ হাজার থেকে ১২ শ টাকার ঘাস কেনেন। ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়।

এই খামারি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে গরুর ফিডের দাম কম ছিল। কিন্তু এখন বেড়েছে। ফিড খাওয়ালে খরচ বেশি হয়।’ এই কারণে ঘাস কিনে খাওয়ান তিনি। ঘাসের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এই প্রবীণ খামারি।

এখন গরুর ফিডের কাঁচামালও আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বেড়েছে সব পণ্যের। তবে অন্য খাবারের চেয়ে গরু-মুরগীর ফিডের দাম অনেক বেড়েছে বলে জানান খামারিরা। ফলে স্বভাবতই ঘাসের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকছেন তারা।

গো-খাদ্যের দামের সংকটের কারণে ঘাস চাষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে বলে মনে করেন শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘাস হচ্ছে গো-খাদ্যের প্রাকৃতিক উপাদান। সুষম খাদ্যের সব উপাদান রয়েছে ঘাসের মধ্যে। গরু-মহিষের দুধ, মাংস উৎপাদনের উপকরণ তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক ঘাস। বিভিন্ন গবেষণাতেও পাওয়া গেছে, দানাদার ফিডের চেয়ে ঘাস গো-খাদ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি।’

তিনি আরও বলেন, গরু-মহিষের প্রজননের জন্য যে হরমোন দায়ী তার নাম ইস্ট্রোজেন (Estrogen) । ঘাস এই হরমোন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। ফলে গরু বা মহিষকে ঘাস খাওয়ালে তার প্রজনন ক্ষমতাও বাড়ে। এই কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষকদের ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। ঘাসের বীজ, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’

এই উপজেলা থেকে প্রতি বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঘাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব ঘাস এই উপজেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য উপজেলার সংকটও মেটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রাণিসম্পদ এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ
ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে উৎসব
নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন পণ্যমেলা
‘বিশেষ সুবিধা নয়, বাজেটে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রিপেইড কার্ড চালু

মন্তব্য

p
উপরে