× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
The government will determine the price of 9 essential products
hear-news
player
google_news print-icon

অত্যাবশ্যক ৯ পণ্যের দাম নির্ধারণ করবে সরকার

অত্যাবশ্যক-৯-পণ্যের-দাম-নির্ধারণ-করবে-সরকার-
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি মুদি দোকান। ফাইল ছবি
এখন থেকে ভোজ্যতেল ও চিনির পাশাপাশি চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল, ডিম, সিমেন্ট ও রডের দামও নির্ধারণ করে দেবে সরকার। এই পণ্যগুলোর দাম কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত দামে বিক্রি করা না হলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা।

চাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, মসুর ডাল, ডিম, সিমেন্ট, রড– এই ৯টি অত্যাবশ্যক পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেবে সরকার।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব পণ্যের যৌক্তিক দাম কী হওয়া উচিত তা ঠিক করা হবে। এরপর বাজারে এই ঘোষিত দাম মানা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর তিন বছরের জেলও হতে পারে।

মঙ্গলবার বাজারে পণ্যের সরবরাহ, মজুত ও আমদানি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই ৯টি পণ্যের যথার্থ দাম কী হওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করে দেবে সরকার।

টিপু মুনশি বলেন, ‘এতদিন ট‌্যারিফ কমিশন শুধু ভোজ্যতেল ও চিনির মূল্য নির্ধারণ করে দিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে এই পণ্যগুলোর দাম অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না। বিষয়গুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধারাবাহিকভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি করা যায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এই বৈঠক করেছে।’

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে ভোজ্যতেল ও চিনির পাশাপাশি চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল, ডিম, সিমেন্ট ও রডের দামও নির্ধারণ করে দেবে সরকার। সার্বিক বিবেচনায় এই পণ্যগুলোর দাম কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব পণ্যের সব পর্যায়ের অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা করে যথাযথ দাম নির্ধারণ করবে।

নির্ধারিত দাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সরকার নির্ধারিত এই দাম কোনো স্তরের ব্যবসায়ী পর্যায়ে লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে মজুত, কারসাজি কিংবা কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে বাড়তি দাম রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনসহ মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা সব সংস্থাকে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে, কোনো ব্যবসায়ী কোনো পণ্যে কারসাজি করলে কিংবা অযৌক্তিক দাম রাখলে, মামলা দিতে হবে। শুধু জরিমানা করেই যেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শেষ করা না হয়।

ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মাহফুজা আখতার, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
ওজনে কম দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন মুরগি ব্যবসায়ী
চালের দামে অস্থিরতা ৯ কারণে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Low price oil did not come in four days sugar with high price came the next day

কম দামের তেল আসেনি চার দিনেও, বাড়তি দরের চিনি পরদিনই

কম দামের তেল আসেনি চার দিনেও, বাড়তি দরের চিনি পরদিনই রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি দোকানে সাজিয়ে রাখা সয়াবিন তেল। নিউজবাংলা
কম দামে তেল না পাওয়া গেলেও বেশি দামে চিনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মাগফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা রয়েছে। আমাদের একাধিক ইউনিট বাজার মনিটরিং বা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে কাজ করা হচ্ছে।’

সয়াবিন তেলের দর লিটারে ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়ার চার দিন পরও বাজারে নতুন দামের তেলের দেখা না মিললেও চিনির দাম বাড়ানোর পর দিনেই এসে গেছে বর্ধিত দরের চিনি।

কোনো পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা আসার পর তা বাস্তবায়নে গড়িমসি আর দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরের যে চিত্রটি এর আগে বহুবার দেখা গিয়েছে, তা এবার একসঙ্গে দেখা গেল দুটি ভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে।

গত সোমবার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সমিতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে কোম্পানি মালিকদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা আর খোলা তেলের দাম লিটারে কমবে ১৭ টাকা।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেয়া হয়, নতুন দাম কার্যকর হবে পরদিন থেকে।

তবে এই ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে আরও চারটি দিন। এখনও আগের দর ১৯২ টাকা লিটার হিসেবেই সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ব্যবসায়ীদের অযুহাত, নতুন দামের তেল বাজারে আসতে কয়দিন সময় লাগবে।

সয়াবিন তেলের দাম কমানোর ঘোষণা বাস্তবায়নে গড়িমসির মধ্যে সরকার চিনি কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে বিক্রির অনুমতি দেয় বৃহস্পতিবার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা চিনি ৯০ টাকা আর প্যাকেটজাত চিনির দর হবে ৯৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত জানানোর বাজারে বর্ধিত দরের চিনি আসতে সময় লাগেনি এতটুকু। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, বেঁধে দেয়া দরের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।

শুক্রবার রাজধানী কারওয়ান বাজারসহ অন্য বাজার ঘুরে এমনটাই জানা গেছে।

কারওয়ানবাজারের বিক্রেতা ওমর ফারুক জানান, তিনি সয়াবিন তেলের এক লিটার বোতল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় এবং দুই লিটারের বোতল ৩৮০ টাকা ও পাঁচ লিটার তেলের বোতল ৯৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।

দাম তো ১৭৪ টাকা হওয়ার কথা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দাম কমালেই তো আর সঙ্গে সঙ্গে সেই মাল বাজারে চলে আসে না। আরও কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা কম দামে পেলে অবশ্যই কম দামে বিক্রি করব।’

ক্রেতা হাবিব রহমান বলেন, ‘দাম কমিয়েছে কাগজে-কলমে, বাস্তবে তো দেখছি না। বাজার মনিটরিং কোথায় করা হচ্ছে? আমার প্রশ্ন হলো- বাজার মনিটরিং কি শুধু খুচরা বাজারে করতে হবে? কোম্পানি, ডিলার, পাইকাররা কী দামে বিক্রি করছে, সেটা কে দেখবে?’

দুই-এক জায়গায় অবশ্য নতুন দামে তেল বিক্রি হয়েছে। এমনটাই জানান কাঞ্চনপুর হাজি স্টোরের মিজানুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সয়াবিন পাঁচ লিটারের বোতলটা নতুন দামে পেয়েছি। ৮৮০ টাকায় বিক্রি করছি।’

দাম বাড়ানোর পর দিন এই বাজারে চিনির প্যাকেটের গায়ে কেজিপ্রতি দর ৯৫ টাকা ছাপা থাকা দেখার পর এটা স্পষ্ট হলো যে, নতুন দরের পণ্য বাজারে আসতে সাত দিন সময় লাগার বিষয়টি সঠিক নয় এতটুকু।

আর খোলা চিনির যে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা বেঁধে দেয়া হয়েছে, সে দরে বিক্রি হচ্ছে না। কোথাও দাম রাখা হচ্ছে ৯২ টাকা, কোথাও ৯৩ টাকা।

বেশি দাম রাখার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা যে যুক্তি দেন, সেটি হলো, প্রতি কেজি কিনতে হয় ৮৭ টাকায়। খুচরা বিক্রি করতে গেলে কেজিতে প্রায় ১০ গ্রাম করে ঘাটতি যায়। তাই বেশি রাখতে হচ্ছে।

হামিদ স্টোরের মো. হামিদ বলেন, ‘কিনতেই হচ্ছে ৯০ টাকায়। তাহলে কয় টাকায় বিক্রি করব?’

আরেক বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত সপ্তাহের চেয়ে বস্তাপ্রতি চিনির দাম আরও বেড়েছে। ৪ হাজার ৪০০ টাকা ও প্রতি কেজি চিনি মেপে বিক্রি করার সময় যে ঘাটতি যায়, তাতে খরচ পড়ে যায় ৮৮ বা ৮৯ টাকা। তাই বেশি দামে বিক্রি না করে উপায় থাকে না।’

চিনি কিনতে আসা ক্রেতা শিহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আগে থেকেই তো বেশি দামে কিনছি। কমল আর কই? গত সপ্তাহেও এরকমই দাম ছিল, এখন দুই টাকার মতো বেশি দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যখন দাম কমায় সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করা হয় না। আর যখন বাড়ানোর ঘোষণা আসে, তখন নির্ধারিত সময় থেকেই তা কর্যকর করা হয়। এসব ঠিক করবে কে?’

মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামেই বিক্রি হচ্ছে পাম তেল। এর আগে যখন ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয় তখনও ১৬ থেকে ১৮ টাকা কমে পাম বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১১৭ টাকায়।

বর্তমানে এক লিটার পাম তেলের দাম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামের চেয়েও ৮ থেকে ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে এই তেল।

বিক্রেতা মামা-ভাগিনা স্টোরের আবু বক্কর বলেন, ‘প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি করছি ১১৫ টাকায়। কেজির হিসাবে ১২৫ টাকায়।’

কম দামে তেল না পাওয়া গেলেও বেশি দামে চিনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মাগফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা রয়েছে। আমাদের একাধিক ইউনিট বাজার মনিটরিং বা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে কাজ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম
ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির
এবারও ‘আগের কেনা’ অজুহাতে কমেনি সয়াবিনের দাম
সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম কমল ১৪ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of lotus palm oil rose and sugar

কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির

কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির পাম তেল ও চিনি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এখন থেকে পাম সুপার এক লিটার ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। আগে নির্ধারিত দাম ছিল ১৩৩ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে আট টাকা। নতুন দর অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে, আগে যা ছিল কেজিতে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হবে, আগে যেটা ছিল ৮৯ টাকা।

চিনি ও পাম তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এখন থেকে পাম সুপার এক লিটার ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। আগে নির্ধারিত দাম ছিল ১৩৩ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে আট টাকা।

পাম তেলের দাম কমানো হলেও খোলা ও প্যাকটজাত চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে, আগে যা ছিল কেজিতে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হবে, আগে যেটা ছিল ৮৯ টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় চিনি ও পাম সুপারের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান বাজারদর এটিই।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর নিত্যপণ্যের মধ্যে ৯টির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তার মধ্যে প্রথম চিনি ও পাম তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

ওই সময় পাম তেলের দাম নির্ধারণ হয় ১৩৩ টাকা লিটার, আগে যা ছিল ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ কমানো হয় ১২ টাকা।

অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ঠিক করা হয় ৮৯ টাকা আর খোলা চিনি প্রতি কেজি নির্ধারণ হয় ৮৪ টাকা।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা কমানোর সুযোগ আছে বলে সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। চিনির দামও কমিয়ে আনার পরামর্শ দেয় এই প্রতিষ্ঠান।

ট্যারিফ কমিশন থেকে দেয়া সুপারিশে বলা হয়, বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামে তেমন প্রভাব পড়েনি, কিন্তু কমেছে পাম তেলের দাম। তাই এই তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কমানোর সুযোগ আছে। সয়াবিন তেল যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা যৌক্তিক। পাম তেলের দাম বর্তমানে ১৪৫ টাকা । এই তেলের দাম লিটারে অন্তত ১২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

চিনি বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন থেকে পাঠানো সুপারিশে বলা হয়, প্রতি কেজি খোলা চিনি ভোক্তাপর্যায়ে খুচরা মূল্য ৮৪ টাকা। আর প্যাকেটজাত চিনির কেজিপ্রতি দাম হওয়া উচিত ৮৮ টাকা।

গত ৩০ আগস্ট বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, বেঁধে দেয়া হবে ৯ পণ্যের দাম। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, রড, সিমেন্ট, চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল, ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

সেই অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণও শুরু করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, তবে সামনে আসে নানা বিপত্তি।

৯ পণ্যের দাম নির্ধারণ করা থেকে সরে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেল, চিনি, রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করবে এই মন্ত্রণালয়।

তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:
ভর্তুকিতে হলেও বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি
সাগরে বিপুল চিনি
কেরু ছাড়া সরকারি সব চিনিকল লোকসানে
দাম চড়া, দেশি চিনির দেখা মেলে না
‘জামাই আপ্যায়নের’ লাল চিনি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Oil is still being sold at the previous price

এবারও ‘আগের কেনা’ অজুহাতে কমেনি সয়াবিনের দাম

এবারও ‘আগের কেনা’ অজুহাতে কমেনি সয়াবিনের দাম বোতলজাত সয়াবিন তেল। ফাইল ছবি
আলিম স্টোরে তেল কিনতে আসা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘তেলের দাম কমলেও বাজারে সেটার প্রভাব পেলাম না। আগের দামেই তেল কিনতে হলো। অথচ দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে সেটার প্রভাব পড়ে।’ মুদি ব্যবসায়ী লিপন ইসলাম বলেন, ‘এগুলো সব আগের দামে কেনা সয়াবিন তেল। নতুন দামে এখনো তেল দোকানে আনা হয়নি৷ যে কারণে ১৭৮ টাকা দরে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।’

দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর আর কমানোর ঘোষণা এলে ‘আগের কেনা’ বলে ব্যবসায়ীদের দাম কমাতে না চাওয়ার বিষয়টি আবার দেখা গেল।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা কমিয়ে ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করার ঘোষণা এলেও দেশবাসীকে এখনও বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে রান্নার উপকরণটি।

মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকরের যে ঘোষণা তেল বিপণন কোম্পানিগুলো দিয়েছে, তার কোনো নমুনা নেই বাজারে।

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তেল বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর মোর্চা বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যারার্স অ্যাসোসিয়েশন বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৭ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে জানায়, নতুন এই দাম কার্যকর হবে মঙ্গলবার থেকে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত এক লিটার তেল বিক্রি করতে হবে ১৭৮ টাকায়, যা এতদিন ছিল ১৯২ টাকা। আর পাঁচ লিটার বোতলের দাম হবে ৮৮০ টাকা যা এতদিন ছিল ৯৪৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম হবে ১৫৮ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৭৫ টাকা।

কিন্তু রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরোনো দামেই বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।

শেওড়াপাড়ার মুদি ব্যবসায়ী লিপন ইসলাম বলেন, ‘এগুলো সব আগের দামে কেনা তেল। নতুন দামে এখনো তেল দোকানে আনা হয়নি ৷ যে কারণে ১৭৮ টাকা দরে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।’

গত ২৩ আগস্ট যখন তেলের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়ানো হয়, সে সময় ব্যবসায়ীরা আগের কম দামে কেনা তেলের দাম বাড়িয়ে দেন সঙ্গে সঙ্গে।

এই চিত্র তারও আগে দেখা গেছে। এমনও দেখা গেছে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার ১০ দিনেও ক্রেতারা নতুন দামে তেল কিনতে পারেননি।

শেওড়াপাড়ার আলীম স্টোরের আলিমুজ্জামান জানান, নতুন কোনো দামের নির্দেশনা তারা পাননি। এজন্য আগের দরে তেল বিক্রি করছেন।

আলিম স্টোরে তেল কিনতে আসা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘তেলের দাম কমলেও বাজারে সেটার প্রভাব পেলাম না। আগের দামেই তেল কিনতে হলো। অথচ দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে সেটার প্রভাব পড়ে।’

মিরপুরের ৬০-ফিট সড়কে জহির জেনারেল স্টোরের দোকানি জসিম মিয়া বলেন, ‘তেলের দাম এক লিটার ১৯২ টাকা।’

ঘোষণা তো ১৭৮ টাকা, ১৪ টাকা কেন বেশি দেব এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নতুন দামের তেল এখনও সরবরাহ করা হয়নি। কোম্পানির প্রতিনিধি তেল দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুরোনো তেলই বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা নতুন দামের তেল চাচ্ছেন, কিন্তু দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।’

খুচরা বাজার তো বটেই পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারের চিত্রও একই। এই বাজারে তেলের ডিলার বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘পাইকারি বাজারে এখন তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই। চাহিদামতো তেল এখন পাওয়া যাচ্ছে। তবে তেলের নতুন দাম ঘোষণার পর এখনো তেল আসেনি। সাধারণত দাম নির্ধারণের তিন-চার দিন পর নতুন দামের থেকে তেল সরবরাহ শুরু করেন মিলমালিকরা। তখন নতুন দামে তেল বিক্রি করা যাবে।’

খোলাবাজার তো বটেই এমনটি সুপার শপেও নতুন দাম কার্যকর হতে দেখা যায়নি। সেখানকার বিক্রেতারা এসব বিষয়ে কথাই বলতে চান না। একাধিক বিক্রেতা বলেছেন, তাদেরকে কোম্পানি থেকে যে মূল্য তালিকা দেয়া হয়েছে, সেই দামেই তারা বিক্রি করতে বাধ্য।

আরও পড়ুন:
সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম কমল ১৪ টাকা
ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস
ঘোষণাতেই সারা, দাম কমেনি চিনি-পাম তেলের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of soybean oil is Tk 14 per liter

সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম কমল ১৪ টাকা

সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম কমল ১৪ টাকা
বিশ্ববাজারে টাকা এক বছর ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশে ভোজ্যতেলের দাম ২০২১ সাল থেকে বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। এক পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ২০৫ টাকা হয়ে যায়। তবে দুই দফায় কমিয়ে গত ২১ জুলাই তেলের লিটার ১৮৫ টাকা করা হয়। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন দাম আরও বাড়িয়ে দেয়। গত ২৩ আগস্ট লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১৯২ টাকা করা হয়।

ভোজ্যতেল কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের দামে এলো স্বস্তির খবর। প্রতি লিটার বোতলজাত দেলের দাম ১৪ টাকা আর খোলা তেলের দাম ১৭ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোতলজাত এক লিটার তেল বিক্রি করে ১৭৮ টাকায়, যা এতদিন ছিল ১৯২ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতলের দাম হবে ৮৮০ টাকা যা এতদিন ছিল ৯৪৫ টাকা।

খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম হবে ১৫৮ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৭৫ টাকা।

সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি জানানো হয়। মঙ্গলবার থেকেই এই দাম কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাম অয়েলের দর লিটারে ১৩ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা ঠিক করে দেয়। তবে সয়াবিন তেল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন নেয়া হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যারার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের ভোজ্যতেল মালিক সমিতির সদস্যরা বর্তমানে ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এলসি খোলার জটিলতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি গুরুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, মেঘনা গুরুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং টি কে গুরুপের এমডি মোস্তফা হায়দার।

‘সভায় ডলারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এবং এলসি খোলার জটিলতার বিষয়ে আলোচনা শেষে এবং ভোক্তাদের সুবিধার্থে ভোজ্যতেলের দাম ১৪ টাকা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়, যা ৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।’

বিশ্ববাজারে টাকা এক বছর ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশে ভোজ্যতেলের দাম ২০২১ সাল থেকে বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। এক পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ২০৫ টাকা হয়ে যায়। তবে দুই দফায় কমিয়ে গত ২১ জুলাই তেলের লিটার ১৮৫ টাকা করা হয়।

এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন দাম আরও বাড়িয়ে দেয়। গত ২৩ আগস্ট লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১৯২ টাকা করা হয়।

ডলারের বাড়তি দাম কমেনি, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসার পর হ্রাসকৃত দামের তেল দেশে আসার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে হিসাব কষে এই দাম ঠিক করে দিয়েছে।

গত কয়েক মাসে ডলারের দাম ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা হয়ে গেছে। টাকার ২৫ শতাংশ দরপতনের কারণে আমদানি পণ্যের খবরও ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

সরকার ভোজ্যতেলের দর ভোক্তাদের কাছে আরও সহনীয় করতে ভ্যাটে ছাড় দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে গত ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম অয়েলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় গত শুক্রবার।

ভ্যাট ছাড় আরও তিন মাস অব্যাহত রাখতে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
২ হাজার লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার, জরিমানা
পামঅয়েলের দাম কমল লিটারে ৩ টাকা
বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সঙ্গে সঙ্গে, দাম কমানোর ঘোষণায় গড়িমসি
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা কমিয়ে ১৬০
বিশ্ববাজারে বৃদ্ধির সুযোগে কিছু কামানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The crazy horse of commodity prices has come to the bug Planning Minister

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী 

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী  প্রতীকী ছবি
মূল্যস্ফীতি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য ভালো সংবাদ আছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে এই মাসে। সবাই আমাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য। গত মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল।’

দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতির তথ্য না জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, চলতি বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতি অনেক বাড়লেও সেপ্টেম্বরে তা কমে এসেছে।

তিনি আরও বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য ভালো সংবাদ আছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে এই মাসে। সবাই আমাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য। গত মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল।

‘এই মাসে নেমেছে এবং ভালোভাবে নেমেছে। আমি যদিও অর্থনীতিবিদ নই, তবুও আমি বলছি আগামী মাসে মূল্যস্ফীতি আরও কমবে।’

মূল্যস্ফীতি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কেন কমেছে? কারণ আমাদের সরকারের কৌশলগত ব্যবস্থা। তেলের দাম বেড়েছিল, কিন্তু এখন কমেছে। কারণ এক কোটি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কম দমে বিক্রি হচ্ছে চাল, তেল।

‘ফলে আমরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরাসরি আঘাত করতে পেরেছি। ফলে দাম কমে এসেছে। শুধু কমেনি; ভালো কমেছে। বিশ্ববাজারেও কমেছে। কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা মূল্যস্ফীতির পুরোটা তথ্য পেয়ে যাবেন।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি দেখেছে জনগণ। চলতি বছরের জুনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরের মাসে সেটি কমে হয় ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ, তবে আগস্টের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিবিএস যে জনশুমারি ও গৃহগণনা করেছে, তার প্রাথমিক ফলের ওপর শুমারি-পরবর্তী যাচাই করবে বিআইডিএস।

আগামী ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর সারা দেশে জনশুমারি ও গৃহগণনার পরবর্তী যাচাই (পিইসি) জরিপ হবে।

রাজধানীর আগরগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। গেস্ট অফ অনার ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন ও বিবিএসের মহাপরিচালক মতিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। বক্তব্য দেন জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন ও পিইসি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ড. ইউনূস।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ট্যাবের মাধ্যমে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউইং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে পিইসি করা হবে। ৯ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিটে নির্ধারিত এলাকায় থাকা সব দেশি-বিদেশি নাগরিককে গণনার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ছয় মাসের কম সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করা নির্দিষ্ট এলাকার সব বাংলাদেশি নাগরিককে ফের গণনা করা হবে।

পরে নতুন তথ্যের সঙ্গে আগে পাওয়া শুমারির তথ্য মিলিয়ে দেখে বলা যাবে শুমারিতে কতটা ভুল কিংবা ত্রুটি হয়েছে। তার পরই তথ্য সমন্বয় করে জনশুমারির মূল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বিবিএস একটি ভালো শুমারি করেছে। এখন সেটির পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিবিএসকে আরও একটু স্বাধীনতা দেয়া উচিত।

‘ভারতে পরিসংখ্যান সংস্থা যেভাবে স্বাধীনতা ভোগ করে, বাংলাদেশে সেটি হচ্ছে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
১৭ মাস পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি মার্চে
অন্যায্য বাজার ও জনজীবন
মূল্যবৃদ্ধির পাগলা ঘোড়া টেনে ধরবে কে?
মূল্যতালিকা প্রদর্শনসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ১৬ সুপারিশ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বিএনপির হাত আছে: যুবলীগ চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
VAT exemption on edible oil for another 3 months

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস ভোজ্যতেলে ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ বাড়তে পারে। ছবি: নিউজবাংলা
বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর আরও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আবারও বাড়তে পারে।

ভোজ্যতেলের দাম যেন নতুন করে না বাড়ে, তাই ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা আরও তিন মাস বহাল রাখতে পারে বলে বাণিজ্য ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির মূল্য কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

‘তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি পেয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর আরও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভোজ্যতেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ অব্যাহতি না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-করহার বেড়ে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দামে প্রভাব পড়ে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে গত ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় গত শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দরপতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে গত ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম।

তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকার ডলারের দর এখন ১০৬ টাকা।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দর নির্ধারিত আছে ১৯২ টাকা আর প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ঠিক করে দেয়া হয়েছে ১৩২ টাকা।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম অয়েল আমদানি করেন।

আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এ ছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

আরও পড়ুন:
১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার
দাম বাড়ানোর পর বাড়ছে সয়াবিনের সরবরাহ
সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৭ টাকা
ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল
১ লাখ ২৫ হাজার টন সয়াবিন তেল কিনছে টিসিবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
What is the reason for not reducing the price of eggs?

ডিমের কেন আগুন দাম

ডিমের কেন আগুন দাম নানা কারণে কমছে না ডিমের দাম। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিকেন ফিডের দাম বৃদ্ধি, লোকসানের আশঙ্কায় খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা খামার করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমছে না ডিমের দাম।

চলতি বছরের আগস্টে ডিমের দাম ১৫৫ টাকা ডজন ছাড়িয়ে যায়, তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম কমে ১২০ টাকায় নামলেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী। দুই সপ্তাহে দাম আবার হয় ১৪০ টাকা।

এর পর থেকে ডিমের দাম আর কমছে না। রাজধানীর বাজারে শনিবার প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ টাকা আর হালি বিক্রি হয়েছে ৪৭ টাকায়। আর সাদা ডিম ডজন বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা। এ ডিমের হালি বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়।

কেন কমছে না ডিমের দাম, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চিকেন ফিডের দাম বৃদ্ধি, লোকসানের আশঙ্কায় খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা খামার করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ডিমের দাম না কমার কারণ হলো মুরগির খাদ্যের দাম। খাদ্যের দাম যতদিন না কমবে, ততদিন ডিমের দামও কমবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগে মুরগির খাদ্যের যে বস্তার দাম ছিল এক হাজার ৫০ টাকা, সেটার দাম এখন ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় মুরগি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন খামারিরা। ফলে ডিমের যে চাহিদা সেই পরিমাণ সরবরাহ নেই।’

ডিমের উৎপাদন কম ও দাম না কমার পেছনে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবের কথাও জানান ভাই ভাই এগ শপের মালিক সঞ্জয়। গত বছরেও একই কারণে ডিমের দাম বেড়েছিল।

গত বছরের অক্টোবরে ডিমের ডজন ৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১১০ টাকা। ওই সময় ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন কমে গেছে। বাজারে মুরগি ও ডিমের চাহিদা বেশি থাকলেও ওই পরিমাণ সরবরাহ নেই। ফলে দাম বাড়ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের কথা আবারও উঠে এলো সঞ্জয়ের কথায়। তিনি বলেন, ‘অনেক ছোট ছোট খামার গড়ে উঠেছিল। করোনার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। লোকসান দিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে বাড়িঘর বিক্রি করে লোকসান ভরেছেন। সেসব বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ছোট ছোট খামার থেকে প্রচুর ডিম উৎপাদন হতো। আগে গাড়ি ভরে ভরে মাল (ডিম) আসত। এখন আসে কম।’

একই তথ্য জানালেন ডিমের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বরিশাল এন্টারপ্রাইজের কুদ্দুস মিয়া। তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে অনেক ছোট ছোট ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম বলেই দাম কমছে না।’

বৃহৎ আমদানিকারক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘মুরগির খাদ্যের দাম অনেক বেশি। ডিমের কস্টিং বেশি। যে পরিমাণ ডিম দরকার, তার চেয়ে কম উৎপাদনের এটি একটি কারণ।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘টাঙ্গাইল থেকে বেশির ভাগ ডিম আসে। আমার দেশের ডিমের প্রায় ৮০ শতাংশই ওই অঞ্চলের। খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ভবিষ্যৎ লোকসানের আশঙ্কায় এসব অঞ্চলে খামারে বাচ্চা উঠাচ্ছেন না খামারিরা।

‘বাচ্চা মুরগি চার থেকে পাঁচ মাস লালন-পালনের পর ডিম পাওয়া যায়। দাম কমে গেলে লোকসান হবে, এই ভয়ে খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।’

ডিমের কেন আগুন দাম

ডিমের দাম কমার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা। সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘শীতের মধ্যে ফার্মে ফ্যানের প্রয়োজন কম হয়। মুরগির অসুখ কম হয়। ডিমের উৎপাদন বাড়ে এবং দাম কমার একটা সম্ভাবনা থাকে।’

কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘ডিমের দাম সামনে কমার আশা আছে। শীতের মধ্যে বিদ্যুতের খরচ কমে যাবে। এ ছাড়া বড় বড় কোম্পানি যারা, তাদের প্রোডাকশন কমছে না, বরং বাড়ছেই। তাতে কিছু দাম কমতে পারে।’

ডিমের দাম বৃদ্ধিতে জনমনে অসন্তোষের কারণে একপর্যায়ে ডিম আমদানিরও চিন্তা করে সরকার। ২৯ আগস্ট সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ রকম পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।

ওই দিনই জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানোর ঘোষণায় ডিমের দাম কিছুটা কমে এলেও পরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে ডিম আমদানির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এদিকে ডিমের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আমদানির বিপক্ষে অবস্থান নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় তিনি বলেন, ‘একটি ডিমের দাম ১২-১৩ টাকা কোনোভাবেই হতে পারে না। এই দাম অস্বাভাবিক। একটা ডিমের উৎপাদন খরচ ৫-৬ টাকা হলে উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ ৮ টাকায় বিক্রি করতে পারে।

‘সরবরাহ একটু কমে গেলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ফার্মের মালিক, হ্যাচারি মালিক নানা ষড়যন্ত্র করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দেয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই হয়তো আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন। তারপরও আমি বলব, ডিম আমদানির দরকার নেই। ডিম আমদানি করলে আমরা আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ব, যা আমরা চাই না।

‘আমদানি না করলে আমাদের একটু কষ্ট হবে, সবাই মিলে এই কষ্ট করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ডিম উৎপাদন করে খেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ডিম, মুরগিতে ‘১৫ দিনে ৫১৮ কোটি টাকা লোপাট’
চাহিদা বাড়ছে ভাঙা ডিমের
বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির
ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই হালিতে ডিমের দাম কমল ৬ টাকা
ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে

মন্তব্য

p
উপরে