× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Excess profit in dollars This time 6 banks MDK Shokaj
hear-news
player
google_news print-icon

ডলারে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’: এবার ৬ ব্যাংকের এমডিকে শোকজ

ডলারে-অতিরিক্ত-মুনাফা-এবার-৬-ব্যাংকের-এমডিকে-শোকজ
প্রতীকী ছবি
ব্যাংকগুলোর এমডিদের বুধবার চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। ওই ছয় ব্যাংক হলো ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

ট্রেজারি-প্রধানদের অপসারণের নির্দেশনার পর এবার ডলার নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগে ছয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের বুধবার এ চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

ব্যাংক ছয়টি হলো ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এর আগে এ ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি-প্রধানদের অপসারণের নির্দেশ দিয়ে প্রত্যেক ব্যাংকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই দিনে আরেকটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডলার বিক্রির অতিরিক্ত মুনাফা নেয়া যাবে না ব্যাংকের আয় খাতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংকে ইন্সপেকশন করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডলারে অস্বাভাবিক মুনাফার তালিকায় আরও প্রায় এক ডজন ব্যাংক আছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এসব ব্যাংককে তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য সব ব্যাংকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তালিকায় রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের নাম।

এসব ব্যাংক ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডলারে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:
মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
War shocks growth to 6 1 percent World Bank

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক বলছে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ। ওই দুই দেশের মত বাংলাদেশের রিজার্ভ বিপদজনকভাবে তলানিতে নেমে যায়নি, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে না; মূল্যস্ফীতি এখনও ১০ শতাংশের নিচেই আছে।

দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে (২০২৩ সালের জুন শেষে) বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি।

তবে এই প্রবৃদ্ধি সংস্থাটির আগের দেয়া পূর্ভাভাসের চেয়ে দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। গত জুন মাসে বিশ্ব্যাংক বলেছিল, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এই প্রবৃদ্ধি মালদ্বীপ ও ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে ক্যালেন্ডার বছরকে আর্থিক বছর হিসাবে ধরা হয়। সে হিসাবে ২০২৩ সালে মালদ্বীপে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হবে। ভারতে আর্থিক বছর হিসাব করা হয় এপ্রিল-মার্চ। সে হিসাবে ২০২৩-২৪ ভারতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর আর্থিক বছর হিসাব করা হয় জুন-জুলাই। সে হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নেপালের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া ভূটানে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির হালচাল নিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আশার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার পর যুদ্ধের ধাক্কা এবং শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও পাকিস্তানের বন্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। জুনের পূর্বাভাসের চেয়ে যা ১ শতাংশ পয়েন্ট কম।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন করেছিল দেশটি। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো যুদ্ধের ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে।

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হয়। যুদ্ধের কারণে তা কমে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ অর্জিত হবে। আর আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্জিত হবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ থেকে পজিটিভে গিয়ে ১ শতাংশ হবে। পাকিস্তাতে বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে এবং আগামী অর্থবছরেও তা অব্যাহত থাকবে।

বৈশ্বিক ধাক্কা ভালোভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংক বলেছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালোভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ। তানাহলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতো। মূলত বৈশ্বিক সংকটের বিস্তৃত পরিসর বিবেচনায় নিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে এই পরিবর্তন আনার কথা বলেছে আর্থিক খাতের এই বিশ্ব সংস্থাটি।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, আর্থিক সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে চাপে ফেললেও, কয়েকটি দেশ অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারছে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

প্রতিবেশী ভারতের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের চেয়ে পুরো এক শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে সংস্থাটি। নতুন প্রাক্কলন বলছে, চলতি অর্থবছরে ভারত সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট, পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা, বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীর গতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ যোগ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া একটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে।

এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলোর এখন উচিত অর্থনীতির ‘সহনশীলতা’আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ভারতে রপ্তানি ও সেবা খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি গড় বৈশ্বিক ঘুরে দাঁড়ানোর হারের চেয়ে বেশি। সেদেশের বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্ট মজুতও অর্থনীতির জন্য একটি সুরক্ষা হিসেবে কাজ করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে আসায় এবং ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টে’এর চাপ বাড়তে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পর, তৃতীয় দেশ হিসেবে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

‘তবে অন্য দুই দেশের মত বাংলাদেশের রিজার্ভ বিপদজনকভাবে তলানিতে নেমে যায়নি, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে না, এবং মূল্যস্ফীতির হারও এখনও ১০ শতাংশের নিচেই আছে, যদিও তা সাম্প্রতিক হিসাবে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে,’ বলছে বিশ্ব ব্যাংক।

ডলারের সাম্প্রতিক চাঙাভাব, আর ডলারের বিপরীতে ইউরোর দরপতনে বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যে বেশি খরচ করতে হচ্ছে ইউরোপীয় ভোক্তাদের, কারণ দুই পক্ষের বাণিজ্যের লেনদেন ডলারে মীমাংসা হয়ে থাকে এবং স্বল্প মেয়াদে ডলারের দর যথেষ্ট চড়া অবস্থায় আছে।

এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকা দর হারালেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।

বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক রাইজার বলেন, ‘মহামারি, বৈশ্বিক তারল্য ও পণ্যমূল্যে হঠাৎ পরিবর্তন, কিংবা আবহাওয়ার চরম বিপর্যয়কে এক সময় ঝুঁকির তালিকায় শেষ দিকে রাখা হত। কিন্তু গত দুই বছরের মহামারির ধাক্কার ঠিক পরপরই এই তিন বিপর্যয় দ্রুত দেখা দিয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ধাক্কা মোকাবেলার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোকে মজবুত আর্থিক কাঠামো ও মুদ্রার মজুত গড়তে হবে এবং নিজেদের জনগণের সুরক্ষা বাড়াতে সীমিত সম্পদের পুনর্বিন্যাস করতে হবে।’

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বাণিজ্যে বিধিনিষেধ এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এ বছর তা ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এরপর তা কমতে শুরু করবে।

‘বিশেষ করে এ অঞ্চলের দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর প্রকৃত আয় ব্যাপকভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে, যারা তাদের আয়ের সিংহভাগ খাবার কেনার পেছনে খরচ করতে বাধ্য হন।’

এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় মানুষের চলাফেরায় বিধিনিষেধ থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে যারা অনানুষ্ঠানিক পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের অনেকেই দারুণ ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

অবশ্য মহামারির পরের দিককার পরিস্থিতি এটাও দেখিয়েছে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অভিবাসন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ব ব্যাংকের জরিপের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২২ এর প্রথম ভাগ পর্যন্ত, যে অঞ্চলগুলো মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেসব অঞ্চলে অভিবাসীদের প্রবাহ, যেসব অঞ্চল তুলনামূলক কম ক্ষতির মুখে পড়েছে সেসব অঞ্চলের চেয়ে বেশি ছিল, যা কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে শ্রমের চাহিদা ও যোগানের ক্ষেত্রে একটি সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। আর গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় বাংলাদেশে। গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে উচ্চমূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক ।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

আরও পড়ুন:
ওয়াশিংটনের বৈঠকে বাংলাদেশের চোখ ঋণে
শেখ হাসিনার উন্নয়ন-নেতৃত্বের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংক
করোনার ধাক্কা সামলাতে আরও ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
বন্যা মোকাবিলায় ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৪৮১২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Notification to extend VAT exemption on edible oil by three months

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে সে জন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করেছে এনবিআর।

ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে।

ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে, সে জন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভ্যাটমুক্ত সুবিধা বহাল রাখতে বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর আগে আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

বর্তমানে ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধা দুদফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ভোজ্য তেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধা অব্যাহত না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-কর হার বেড়ে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম বাড়ে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দর পতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম।

তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৯২ টাকা ও পাম তেলের দাম ১৩২ টাকা ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম তেল আমদানি করেন। আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

আরও পড়ুন:
তেলের পুষ্টিগুণ নিশ্চিতের উদ্যোগ
সয়াবিনের নতুন দাম কার্যকর
সব ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ নেই যে কারণে  
ঘোষণার ১০ দিনেও কমেনি সয়াবিন তেলের দাম
ভোজ্যতেলে ভ্যাট সুবিধা আরও ৩ মাস

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Garment manufacturers want diesel at international rates

আন্তর্জাতিক দরে ডিজেল চান পোশাক শিল্পমালিকরা

আন্তর্জাতিক দরে ডিজেল চান পোশাক শিল্পমালিকরা
‘রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় করে ডিজেল সরবরাহকরণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়েছে, শতভাগ রপ্তানিকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরনের উপায় বের করা’।

আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজেল সরবরাহ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ করেছেন।

‘রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় করে ডিজেল সরবরাহকরণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়েছে, শতভাগ রপ্তানিকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরনের উপায় বের করা’।

দেশের শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে গত ১১ আগষ্ট সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি পোশাক কারখানাগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটি পালন করে আসছে। বিজিএমইএ’তেও সাপ্তাহিক ১ দিন ছুটির পরিবর্তে ২দিন ছুটি পালন করা হচ্ছে এবং প্রতাহিক কর্মঘন্টা ১ঘন্টা হ্রাস করা হয়েছে। এতে করে কিছুটা হলেও জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে।

চিঠিতে ফারুক হাসান লিখেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির করালগ্রাসে যখন সমগ্র পৃথিবী বিপন্ন, তখন আপনার সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে সরকার করোনা মহামারির প্রভাব মোকাবেলা করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মহামারির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির উর্দ্ধগতি সারা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে নিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আপনার সরকার সাশ্রয়ী নীতি বাস্তবায়ন এবং সর্বস্তরের মানুষের জন্য নানা ধরণের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছেন।’

‘আপনি প্রনোদনা দিয়েছিলেন বলেই। মহামারির প্রভাব মোকাবেলা করে পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। ফলে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।’

‘আপনি জানেন যে, আমাদের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমে জ্বালানির অপরিহার্যতা অত্যধিক। বর্তমানে কারখানাগুলোতে চরম বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে, এই লোডশেডিং চলাকালীন সময়ে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আমরা জেনারেটর ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছি বিধায় ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘২০২১ সালে ডিজেলের মূল্য ছিলো লিটার প্রতি ৮০ টাকা, ২০২২ সালে এসে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১০৯ টাকা হয়েছে। বহির্বিশ্বে ডিজেলের মূল্যহ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে স্থানীয়ভাবে ডিজেলের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হলে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হবে।’

দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ শিল্পটি অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে আজ অত্যাধুনিক ও নিরাপদ পোশাক উৎপাদনের সবুজ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে এ খাত থেকে ১২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল। গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে তা সাড়ে তিন গুণ বেড়ে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

‘আগামী ২০৩০ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে বিজিএমইএ কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখতে এ খাতে আন্তর্জাতিক মূল্যের সাথে সমন্বয় করে পুনঃনির্ধারিত মূল্যে ডিজেল সরবরাহ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে আপনার সরকারের নীতিগত সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। জ্বালানি সাশ্রয়ে তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার অনেক উদ্যোক্তা সোলার প্যানেল ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে আসছে এবং এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।’

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিজিএমই প্রধান ফারুক হাসান আরও লিখেছেন, ‘আপনার সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক শিল্পের উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আগামীর টেকসই শিল্প নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে বিজিএমইএ'র কর্পোরেট আইডেনটিটি অর্থাৎ লোগোতে পরিবর্তন এনেছি এবং গত ৫ জুলাই বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো উন্মোচত করা হয়েছে।’

‘আমরা মনে করি, বিজিএমইএ'র নতুন প্রত্যয় সমগ্র পৃথিবীতে আমাদের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করবে। তৈরি পোশাক শিল্পে সবুজ বিপ্লবকে তরান্বিত করতে বিজিএমইএ টেকসই রূপকল্প ২০৩০ এর অধীনে একাধিক উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এই রূপকল্পের লক্ষ্যগুলো হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ কমানো, টেকসই কাঁচামাল ব্যবহার, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো, জেডডিএইচসি কেমিক্যাল ব্যবহার, জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করা।’

‘এমতাবস্থায়, এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন অব্যাহত রাখা তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় করে পুনঃনির্ধারিত মূল্যে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ আগস্ট সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেনের দাম লিটারে ৪৬ টাকা ও পেট্রলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম এত বাড়ানো হয়নি।

এরপর গত ২৯ আগস্ট খানিকটা মুখ রক্ষা করতে ডিজেলসহ অন্য জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমায় সরকার। তবে তাতে বাজারে খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি।

৫ আগস্ট যখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়, তখন বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছিল। এখন তা ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন:
বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো
পাচার অর্থ বিনা প্রশ্নে দেশে আনার প্রস্তাবে বিজিএমইএর সমর্থন
পোশাকের ন্যায্য দর পেতে আইএলওর হস্তক্ষেপ চাইলেন রপ্তানিকারকরা
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএর
দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Five day furniture fair from Thursday

পাঁচ দিনের ফার্নিচার মেলা বৃহস্পতিবার থেকে

পাঁচ দিনের ফার্নিচার মেলা বৃহস্পতিবার থেকে
মেলায় হাতিল, আখতার, নাভানা, পারটেক্স, রিগ্যাল, নাদিয়া, ব্রাদার্সের মতো ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮২টি স্টল অংশ নেবে।

দুই বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন ১৭তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে ৫ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করবেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি এই মেলার আয়োজন করছে। চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত।

বুধবার সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে ফার্নিচার মেলা। দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনে ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮২টি স্টল থাকবে। ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারের (ডিটিসি) ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি এ মেলার আয়োজনে করছে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান। ৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির গুলনকশা হলে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক কে এম আকতারুজ্জামান এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

পাঁচ দিনের ফার্নিচার মেলা বৃহস্পতিবার থেকে

উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতযোগিতা। প্রতিযোগিতায় সেরা ছবি আঁকার জন্য প্রথম ১০ জনকে দেওয়া হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী পাবে সার্টিফিকেট ও স্কেচ বুক। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হলে অবশ্যই প্রতিযোগীর জন্ম নিবন্ধন সনদসহ দুপুর দুইটার মধ্যে ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে রেজিস্ট্রশন সম্পন্ন করতে হবে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

চিত্রাঙ্কনের সরঞ্জাম (বোর্ড, তুলি ও প্যাস্টেল কালার) প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকেই আনতে হবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ড্রয়িং পেপার সরবরাহ করা হবে। চিত্রাঙ্কনের বিষয় ‘ছবির মতো ঘর’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬ বছর ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার মেলার ১৭তম আয়োজন। এই মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি দেশের বাইরেও রপ্তানি বাড়ানো। এরই মধ্যে বিদেশে ফার্নিচার রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেলায় হাতিল, আখতার, নাভানা, পারটেক্স, রিগ্যাল, নাদিয়া, ব্রাদার্সের মতো ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮২টি স্টল অংশ নেবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারের ফার্নিচার রপ্তানি হয়েছে। এই অঙ্ক আগের বছরের (২০২০-২১) চেয়ে ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন- ভারত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ফার্নিচার রপ্তানি হচ্ছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
1500 rupees a month in the trap of hundreds of millions of wind

মাসে ১৫০০ টাকা লাভের ফাঁদে শত কোটি হাওয়া

মাসে ১৫০০ টাকা লাভের ফাঁদে শত কোটি হাওয়া আমানতের টাকা ফেরত চেয়ে গ্রাহকদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা
সর্বনিম্ন দুই লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি টাকাও জামানত রেখেছেন অনেকে। ১ হাজার ১০০ জনের মতো গ্রাহকের কয়েকশ কোটি টাকা আটকে আছে মনির আহমদের এই প্রতিষ্ঠানে।

নৌ বাহিনীতে চাকরি শেষে পেনশনের ৬ লাখ, স্ত্রীর তিন লাখ টাকাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ১৫ লাখ টাকা আহমেদীয়া ফাইনান্স অ্যান্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেডে জমা রেখেছিলেন আব্দুল হাকিম। শর্ত ছিল, মাসে প্রতি লাখে দেড় হাজার টাকা লভ্যাংশ দেবে এমসিএস লিমিটেড।

শুরুর দিকে শর্ত অনুযায়ী ঠিকমতো লভ্যাংশ দিলেও কিছুদিন পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠান তালা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ গ্রাহকদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যান।

তাই লাভের চিন্তা বাদ দিয়ে এখন আসল টাকা উদ্ধারের জন্য পথে পথে ঘুরছেন আহমেদীয়া ফাইনান্স অ্যান্ড কমার্স এমসিএসর প্রায় ১ হাজার ১০০ গ্রাহক। পথে বসা গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তারা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গিয়াস উদ্দিন এমসিএস লিমিটেডের ব্যবস্থা নিয়ে তাদের টাকা ফেরতের দাবি জানান। এ সময় শতাধিক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনির আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সাইফুল ইসলামকেও একাধিকবার ফোন করলে তিনি ধরেননি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, সর্বনিম্ন দুই লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি টাকাও জামানত রেখেছেন অনেকে। ১ হাজার ১০০ জনের মতো গ্রাহকের কয়েক শ কোটি টাকা আটকে আছে মনির আহমদের এই প্রতিষ্ঠানে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান মো. মনির আহমেদসহ অন্যরা প্রতি লাখে দেড় হাজার টাকা করে লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়। ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি টাকা লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় ২০১৯ সাল থেকে সবাই লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে।

প্রথম দিকে ঠিকঠাক লভ্যাংশ দিলেও পরে সেটি কমিয়ে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের দিকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

তারা জানান, অনেকে ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেনে টাকা রাখলেও পরে তারা জানতে পারেন এটি সমবায় অধিদপ্তর থেকে সমবায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়েছিল। পরে তারা আসল টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও সমবায় অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তাদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখা টাকা সরিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান করেছেন মনির আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইব্রাহিমপুরের ৮২/২ হোল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেডের অফিস। এখানে আমানত রাখা শতাধিক গ্রাহকের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য, পুলিশ যেমন আছেন, তেমনি রিকশাচালক থেকে শুরু করে আরও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আছেন। সাবেক সরকারি চাকরিজীবীরা বেশিরভাগেই তাদের পেনশন ও গ্রাচুইটির টাকা দীর্ঘদিন ধরে এখানে এফডিআর করে রেখেছে। কিন্তু এখন লভ্যাংশ তো দূরে থাক আসল টাকা পাচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত পেতে সহযোগিতা চেয়ে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তারা। তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। মন্ত্রী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশনাও দিয়েছেন।

কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করে সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘রিজেন্টের মতো বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমাদের কষ্টে জমানো টাকাগুলো উদ্ধার করে মনির আহমেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেবেন।’

আরও পড়ুন:
স্বপ্নে পাওয়া ‘ক্ষমতায়’ তিনি এখন ‘ক্যানসার চিকিৎসক’
রাষ্ট্রের সম্পত্তি ‘ভুল করে’ ব্যক্তি মালিকানায় খারিজ
আদালতকে প্রতারণায় বিচারকের মামলা
ফরিদপুরে ঢুকেছে ‘শয়তানের শ্বাস’
চকিত চাহনিতে যুবকের সব হারানোর অভিযোগ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
34 percent of e TIN holders are not traced

৩৪ শতাংশ ই-টিআইএনধারীর খোঁজ নেই

৩৪ শতাংশ ই-টিআইএনধারীর খোঁজ নেই প্রতীকী ছবি
বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ নানা কাজে দরকার হয় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন। প্রয়োজনে ই-টিআইএন নেয়া অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দেন না। ই-টিআইএনধারী অনেকেই মারা গেছেন, কেউ কেউ বিদেশ চলে গেছেন, আবার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকেরই।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন আসলাম সিকদার। আয়কর রিটার্ন জমা দিতেন নিয়মিত।

দুই বছর আগে মৃত্যু হয় আসলামের, কিন্তু বাতিল করা হয়নি তার আয়কর ফাইল।

কুয়েতপ্রবাসী বাচ্চু মিয়া বিদেশ যাওয়ার আগে জমি কিনতে ই-টিআইএন নেন, কিন্তু রিটার্ন দেননি।

আসলাম, বাচ্চুর মতো লাখ লাখ ব্যক্তি প্রয়োজনে ই-টিআইএন নিলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই সব টিআইএন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এসব করদাতা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর অঞ্চলগুলোর জন্য।

বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ নানা কাজে দরকার হয় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন। প্রয়োজনে ই-টিআইএন নেয়া অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দেন না।

ই-টিআইএনধারী অনেকেই মারা গেছেন, কেউ কেউ বিদেশ চলে গেছেন, আবার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকেরই।

তাদের অনেকের নামে থাকা আয়কর ফাইলও বাতিল করা হয়নি। ফলে লাখ লাখ ই-টিআইএন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিবন্ধন নেয়ার পর খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন টি-আইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

বর্তমানে ই-টিআইএনের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় করদাতার সংখ্যা ২৭ লাখ, যা শতকরা হারে ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

এই ২৭ লাখ বাদ দিলে নিট টিআইএনধারীর সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৫৩ লাখে।

আইন অনুযায়ী, টিআইএনধারী প্রত্যেকের বার্ষিক রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার পরও রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়ছে না প্রত্যাশা অনুযায়ী।

রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বছরে আয়কর রিটার্ন জমার সংখ্যা ২৫ লাখ।

আয়কর রিটার্নের সংখ্যা বাড়াতে এ বছরের বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

রিটার্নের সঙ্গে অ্যাকনলেজমেন্ট বা প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয় ৩৪টি সেবা খাতে। এই উদ্যোগের ফলে এনবিআর আশা করছে, আগামী করবর্ষে আয়কর রিটার্ন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়কর বিভাগের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকেই জমি ক্রয়, গাড়ি কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন সেবা নিতে ই-টিআইএন নিবন্ধন নিয়েছেন, কিন্তু বছরের পর বছর রিটার্ন জমা দেননি। আবার অনেকেই মারা গেছেন, কেউ আবার বিদেশ চলে গেছেন।

‘ওই সব টিআইএন সিস্টেম থেকে বাতিল না করায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এ কারণে নিষ্ক্রিয় নম্বরগুলো কর বিভাগের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নিষ্ক্রিয় ই-টিআইএন বাতিল করতে সম্প্রতি কর অঞ্চল থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ই-টিআইএনের সঙ্গে রিটার্ন জমার পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তোলে। ফলে নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাতিল করা হলে রিটার্ন জমার হার বেড়ে যাবে।

এনবিআর বলছে, ই-টিআইএন সার্ভারে এটি বাতিলের অপশন বা সুযোগ রাখা হয়নি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিবন্ধন বইয়ে করদাতার নাম ও তথ্য নিবন্ধন করা হতো। এতে যে নম্বর পড়ত, সেটাই হতো করদাতার নম্বর। একে বলা হতো জেনারেল ইনডেক্স রেজিস্ট্রেশন নম্বর।

কোনো কারণে করদাতা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে যাচাই করে সেই নম্বর বন্ধ করে দেয়া হতো।

১৯৯৩ সালে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর চালু করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের জুলাই থেকে টিআইএন পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করা হয়।

১২ ডিজিটের এ নম্বরকে বলা হয় ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ার’স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ই-টিআইএন। স্বয়ংক্রিয় এ পদ্ধতিতে টিআইএন নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগস্ট নাগাদ নিবন্ধিত ই-টিআইএনের সংখ্যা ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৪।

সে হিসাবে এক বছরে করদাতা বেড়েছে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬১ বা ১৮ শতাংশ।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Crisis of Confidence in Capital Markets What BSEC Can Do

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী পুঁজিবাজারে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা। ফাইল ছবি
শেয়ারের ক্রয়মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার দাবি পূরণের পর দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে দৃশ্যত আর বড় কোনো দাবি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ রক্ষণশীল মনোভাবেও এসেছে পরিবর্তন, কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপও দৃশ্যমান, বন্ধ কোম্পানিগুলোকে আবার চালুর পদক্ষেপের পর উৎপাদনেও ফিরেছে অনেক। আরও কিছু কোম্পানি উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়। তবে পুঁজিবাজার গতটা গতিশীল থাকার আশা করা হয়েছিল, ততটা হয়নি।

পুঁজিবাজারে এক যুগ ধরে যে আস্থার সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে, সেটি কীভাবে ফিরবে- এ প্রশ্ন আবার বড় হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের বক্তব্যে।

পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগের কমিশনগুলোর তুলনায় শিবলীর কমিশন অনেক বেশি উদ্যোগী, কিন্তু বাজারে গতি ফিরতে গিয়েও ফেরেনি। টানা ১৬ মাস চাঙ্গাভাবের পর গত এক বছর ধরে পতনের ধারা।

পুঁজিবাজারের এই চিত্রের জন্য যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে, সেটি ভারতের ক্ষেত্রেও সত্য। ডলারের বিপরীতে সে দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে বাংলাদেশের সমানই। তবে সেখানে পুঁজিবাজার বাংলাদেশের মতো এভাবে ঝিমাচ্ছে না। এমনকি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বাজারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারের ক্রয়মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার দাবি পূরণের পর দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে দৃশ্যত আর বড় কোনো দাবি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ রক্ষণশীল মনোভাবেও এসেছে পরিবর্তন, কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপও দৃশ্যমান, বন্ধ কোম্পানিগুলোকে আবার চালুর পদক্ষেপের পর উৎপাদনেও ফিরেছে অনেক কোম্পানি। আরও কিছু কোম্পানি উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়।

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী
গত ৩ অক্টোবর বিএসইসি কমিশনের হল রুমে ‘বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহ-২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ফাইল ছবি

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ না দিলেও গত দুই বছরে ইউনিট-মূল্যের তুলনায় বেশ ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। তবু বাজার নিয়ে যে আস্থার সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে একযুগ ধরে, সেটি ফিরছে না।

বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার প্রসঙ্গটি ওঠে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, ‌‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।'

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিবলী রুবাইয়াত হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে। আস্থা, এই আস্থা যে কোথা থেকে আনব সেটা আমরা বুঝি না।’

চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে যে প্রশ্নটি বড় হয়েছে, সেটি হলো আর কী হলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরবে?

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হতে সময় না লাগলেও সেটি ফেরাতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়ানো, সুশাসনের সঙ্গে ভালো কোম্পানিগুলোকে আইপিওতে আনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এটি ফেরানো সম্ভব।

‘শব্দটা ছোট, কিন্তু কাজটা কঠিন’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আস্থা বা কনফিডেন্স শব্দটি ছোট, কিন্তু কাজটা অনেক কঠিন। আস্থা বলতে আমরা যা বুঝি- বিশ্বাস, মার্কেটের ওপর বিশ্বাস। বিএসইসি যা করেছে, সবই প্রশংসার দাবিদার। যেগুলো অতীতে হয়নি সেগুলোও করেছে কমিশন।

‘আস্থা আসে ওইখান থেকে, যেখানে প্রতিটি কমিটমেন্ট ঠিক থাকে। ধরা যাক, ডিভিডেন্ড দিলে ঠিকঠাক পায়, এজিএম ঠিকমতো করে, ভালো কোম্পানি লিস্টেড করে। আস্থা নিয়ে আসার জন্য এটি প্রথম কাজ।’

উদাহরণ তুলে ধরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘ধরুন, ডিএসই মাছের বাজার বসিয়েছে। সেই বাজারের একটা কমিটি আছে, তারা সেভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে। আর সিটি করপোরেশনকে বিএসইসি বিবেচনা করুন, মানে তারা তদারকি করে। এখন এই কাঁচাবাজারে মানুষের আস্থা তৈরি করতে হলে কী কী করা দরকার?’

নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়িটা সুন্দরভাবে পার্ক করতে দিতে হবে, সবাই যাতে শৃঙ্খলভাবে থাকে। এই ধরনের কাজগুলো বিএসইসি করেছে, ঠিক করেছে।

কিন্তু যে মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর কী অবস্থা তা বিবেচনা করতে হবে। যদি পচা মাছ কিনে বাড়ি ফেরেন তাহলে কি আস্থা ফিরবে?

‘যতই লাইট দেয়া হোক, ঝকঝকে বাজার রাখা হোক। প্রোডাক্ট যদি ভালো না হয়, হবে না। যত ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে তত আস্থা বাড়বে। অন্য বিষয়গুলো তো বাস্তবায়ন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভালো কোম্পানি সংযোজন করতে হবে। আজকে একটি ভালো কোম্পানি লিস্টেড হলেও কাল সবাই আস্থা ফিরে পাবেন- এমনটি নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

তাহলে কি আস্থা ফিরবে না?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে, এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি লাগতে পারে। একবার আস্থা চলে গেলে তা ফেরানো খুবই কষ্টসাধ্য, কিন্তু আস্থা ফেরার পরে তা চলে যেতে সময় লাগে না।’

শাকিল রিজভী জোর দেন কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদনের সত্যতার ওপর। বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলো লিস্টেড হবে সেগুলো যেন ফেইক ইনফরমেশন, ফেইক অডিটেড রিপোর্ট দিয়ে লিস্টেড না হয়। সিকিউরিটিজের দর কমতে বা বাড়তে পারে, কিন্তু কোম্পানির কাছ থেকে যেন না ঠকেন বিনিয়োগকারীরা। তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজারে আসবে সেগুলোর বাস্তবায়ন যেন হয়। এসব যত ভালোভাবে করা যাবে, আস্থা সেভাবে ফিরে আসবে।’

বিএসইসির বারবার নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেন শাকিল রিজভী। বলেন, ‘ছোটখাটো আইন পরিবর্তন বা সংস্করণ ঠিক আছে। কিন্তু খেলা চলছে, এর মধ্যে একবার বলা হলো প্রতি দলে ১২ জন খেলবে, একবার বলা হলো ১১ জন আবার একবার ৯ জন নিয়ে খেলা হবে বলে ঘোষণা দিলে কীভাবে হবে।’

‘আমাদের শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে। আস্থা, এই আস্থা যে কোথা থেকে আনব, সেটা আমরা বুঝি না।’

ফ্লোর প্রাইস আশীর্বাদ নাকি সংকট

পুঁজিবাজার যখন ক্রমেই নিচের দিকে নামছিল, তখন ২৮ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয় বিএসইসি। সব কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয়ার পর ৩১ জুলাই থেকে সূচক বাড়তে শুরু করে।

এই দুই মাসে সূচক বেড়েছে প্রায় ৬০০ পয়েন্ট, তবে তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস নেই। কারণ ৩০ থেকে ৪০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, আর ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে পৌনে দুই শটির বেশি কোম্পানি। এর মধ্যে আছে ডিএসই-৩০ এর আট থেকে ১০টি কোম্পানি।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও মনে করেন ফ্লোর প্রাইস বহু কোম্পানির লেনদেনে বাধা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এতগুলো শেয়ার যদি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকে তাহলে মার্কেটটা জাজমেন্ট করবেন কীভাবে?

‘প্রথম থেকেই বলছি, আমি ফ্লোর প্রাইসের বিরোধী। মার্কেটকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। ফ্লোর প্রাইস না থাকলে হয়তো ইনডেক্সটা পাঁচ হাজার সাত বা আট শর নিচে নেমে যেত। কিন্তু পরে ঠিকই ব্যাক করে নিজের জায়গাটা খুঁজে নিত। নিজেই নিজের বায়ার করে নিত।’

‘এখন এতগুলো আইটেম ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর এই বাজারে কনফিডেন্স কীভাবে আসবে?’- বলেন ডিবিএ সভাপতি।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কি যথাযথ ভূমিকা রাখছেন?

এই প্রশ্নটি উঠছে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকেই। তারা বলছেন, শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ নেই, আর দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বছরের পর বছর ধরে মাতামাতি চলছে- এই বিষয়টি হয়ে আসছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আচরণের কারণে। তারাও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো ডে ট্রেডারের ভূমিকা পালন করছে- এমন বক্তব্য আসছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেই।

তবে ডিবিএ সভাপতি বলেন, ‘এটা আমি মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘মুখে পলিথিন দিয়ে যদি বলা হয় ভাত খেতে, আপনি পারবেন? তিন হাজার ৯৮০ পয়েন্টের সময় যা করা হয়েছে তা সব সময়েই করা ঠিক হবে না। ইনডেক্সকে পড়তে দিতে হবে। অযাচিতভাবে শেয়ারের রেট বাড়িয়ে দিলে সেটা কমতে হবে, কমিয়ে দিলে সেটা বাড়তে হবে।’

ফ্লোর প্রাইসে নতুন আইপিও বন্ধ রাখার পরামর্শ

আর কী প্রয়োজন আস্থা ফেরাতে? এই প্রশ্নের উত্তরে রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘কোনটা হলে কী হতো বলা যায় না। এ রকম একটা বাজারে, যেখানে এতগুলো শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আছে, সেখানে এখন এত আইপিও বাজারে দরকার নাই।

‘ফ্লোর প্রাইস দিয়েছেন মানে বায়ার নাই বা ডিমান্ড কম, আবার আইপিও নিয়ে আসছেন।

বলছেন ডিমান্ড নাই আবার সাপ্লাই বাড়াচ্ছেন। এটা সাংঘর্ষিক। আমি আইপিওর পক্ষে, ভালো আইপিও আসুক। বাজারে এনভায়রনমেন্ট ওকে করে নিয়ে ভালো আইপিও নিয়ে আসা হোক।’

তিনি বলেন, ‘কারণ বাজারের আকার বড় করতে হবে। এই বাজারে ৫০০ কোটি টাকা ইন করলে বের করা যায় না। এ জন্য অনেকেই আসে না। এটা যখন হবে তখন সবাই আসবে।’

বিনিয়োগ শিক্ষার তাগিদ

আস্থা ফেরাতে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা বাড়ানো দরকার। রেজিস্টার্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যাডভাইজার দরকার, যারা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বিষয়ে আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএসইসি যা করছে, সেটা ভালো। সামনে বাজারে বন্ড আসছে। আমরা ঠিক পথে আছি। সময় লাগবে। আর কিছু ম্যাক্রো-ইকোনমিকস ফ্যাক্ট আছে ওয়ার্ল্ডওয়াইড। সেগুলো তো আর রেগুলেটরের নিয়ন্ত্রণে না। এই মুহূর্তে কিছুই চাওয়ার নাই। যেভাবে আগাচ্ছে, সবাই সহযোগিতা করলে এগিয়ে যাবে আশা করি।’

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে শুধু আমাদের পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়ছে, তা নয়। বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। সময়টাই খারাপ যাচ্ছে, ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই ‘সেরা’ কোম্পানিরও, ফের রাজত্ব ওরিয়নের
আস্থা কোথা থেকে আনব জানি না: বিএসইসি চেয়ারম্যান
সঞ্চয়পত্র নয়, পুঁজিবাজারে আসুন: গভর্নর
ওরিয়ন-বেক্সিমকোর আবেদন হারানোর প্রভাব সূচক-লেনদেনে
পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি

মন্তব্য

p
উপরে