× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Expatriates are sending 800 crore rupees to the lighthouse every day
hear-news
player
google_news print-icon

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা

প্রবাসীরাই-বাতিঘর-প্রতিদিন-পাঠাচ্ছেন-৮০০-কোটি-টাকা
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্টেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্টেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের সূচক ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগস্ট মাসের ১১ দিনেই ৯২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাব বিবেচনায় নিলে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

মাসের বাকি ২০ দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্টেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

‘মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা’- এই মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছিল ৬৪০ কোটি টাকা।

এখন তার চেয়েও বেশি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত বছরের জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে রোববার প্রতি ডলার ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর প্রায় একই। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণের কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১১ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স জুলাইয়ে
অর্থনীতিকে চাপমুক্ত করছে রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া, নতুন রেকর্ডের আশা
রপ্তানি কমবে, রেমিট্যান্স বাড়বে: বাংলাদেশ ব্যাংক
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে ভালো গতি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Sonali Bank will give loan for cinema hall renovation

সিনেমা হল সংস্কারে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

সিনেমা হল সংস্কারে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক পঞ্চগড়ের টুনিরহাট সিনেমা হলে চলে ভাঙ্গারির ব্যবসা। এ ধরনের হল সংস্কারে অর্থ দেবে সোনালী ব্যাংক। ফাইল ছবি
সিনেমা হলের মালিকদের ঋণ দিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ‘অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র’ সই করেছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও এমডি আফজাল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সই করেন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক আবদুল মান্নান।

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে হলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক।

চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হলগুলোর জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারে। বিভাগীয় শহরের জন্য সুদহার হবে ৫ শতাংশ। অন্যান্য এলাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিনেমা হলের মালিকদের ঋণ দিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ‘অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র’ সই করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সই করেন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক আবদুল মান্নান।

নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এ ঋণ দেবে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন নিতে পারবে। আর সময়মতো ঋণ শোধ না করলে ব্যাংকগুলোর হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিল থেকে সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও নতুন হল নির্মাণে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে।

বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যমান সিনেমা হলসহ নতুনভাবে নির্মিত সিনেমা হলগুলোও এই তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে, তবে চলতি মূলধন বাবদ কোনো ধরনের ঋণ দেয়া হবে না।

তহবিলের আওতায় গৃহীত ঋণ দিয়ে কোনোভাবেই অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করা যাবে না।

এ ঋণ শোধ করা যাবে আট বছর পর্যন্ত। প্রথম বছরে ঋণ পরিশোধে পাওয়া যাবে গ্রেস পিরিয়ড।

আরও পড়ুন:
নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা
টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক
মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Policy interest rate increased again to curb inflation

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ফের বাড়ল নীতি সুদহার

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ফের বাড়ল নীতি সুদহার
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো রিসার্চ মুনতাসির কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থনীতিতে যখন রেপো সুদের হার কম থাকে, তখন টাকার প্রবাহ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। আর টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। ফলে যখন মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, তখন নীতি সুদহার বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর প্রধান কারণ হলো টাকার প্রবাহ আগের চেয়ে কমিয়ে আনা। এতে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি কমে আসে।’

অবশেষে বাংলাদেশও একই পথ অনুসরণ করল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ ব্যাংকও মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে রেপো বা নীতি সুদহার বাড়িয়েছে।

এতদিন এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে তা ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমেরিকান মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার ক্রমাগত মান হারানোর প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ সামলাতে তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বাড়ানো হলো এই নীতি সুদহার।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে সেটি সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো রিসার্চ মুনতাসির কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থনীতিতে যখন রেপো সুদের হার কম থাকে, তখন টাকার প্রবাহ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। আর টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। ফলে যখন মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় তখন নীতি সুদহার বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর প্রধান কারণ হলো টাকার প্রবাহ আগের চেয়ে কমিয়ে আনা। এতে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি কমে আসে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকও রেপো সুদহার বাড়িয়ে ঠিক কাজটিই করেছে বলে আমি মনে করি।’

নতুন এই সুদহার আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে অবশ্য অন্যান্য নীতি সুদহার যেমন- রিভার্স রেপো ৪ শতাংশ, বিশেষ রেপো ৮ শতাংশ ও ব্যাংক রেটে ৪ শতাংশে কোনো বদল আনা হয়নি।

এর আগে গত ৩০ জুন চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় রেপো সুদহার ৫ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর তারও এক মাস আগে ২৯ মে রেপো সুদহার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করে। উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এমন নীতি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রেপো সুদহার হিসেবে পরিচিত নীতি সুদহার বাড়ানোর অর্থ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করতে এখন বাড়তি সুদ দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংকগুলো সাধারণত এক থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন সুদে টাকা ধার করে থাকে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদহারে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়, তাকে বলে ব্যাংক রেট। আর রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে।

বৃহস্পতিবার নীতি সুদহার বাড়ানোর আগে বিদেশি মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি ঋণের বিপরীতে সুদহারও ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এসওএফআর বা লাইবরের সঙ্গে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ শতাংশ যোগ করে এ সুদহার নির্ধারণ করা হয়।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে যুদ্ধ বাধলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম চড়তে থাকে। জ্বালানি ও তেল, খাদ্যশস্যসহ পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে প্রায় দেশই মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে।

বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে। গত জুনে তা ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরের মাসে সেখান থেকে কমে জুলাইয়ে তা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়। তবে আগস্টের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি পরিসংখ্যান ব্যুরো।

মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে। গত জুলাইয়ে চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ায়।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আবার সুদহার বাড়ানোর পথে হাঁটবে না বলে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালকুদার জানালেও বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে রেপো সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা এলো।

বাংলাদেশে গত দুই বছর এ সুদহার অপরিবর্তিত ছিল। কোভিড মহামারিকালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ বিষয়ে ভাবতে হয়নি। উল্টো ভাইরাস সংক্রমণে লকডাউনে জনজীবন ও অর্থনীতিতে স্থবিরতার মধ্যে ২০২০ সালের ২৯ জুলাই নীতি সুদহার কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই সময় অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) ও রিভার্স রেপোর সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ‘সম্প্রসারণমুখী’ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
চার সূচকের পর স্বস্তি এবার মূল্যস্ফীতির হিসাবে
দু-এক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকে সুদহারের নয়-ছয় নিয়ে উভয় সংকট
মূল্যস্ফীতির পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাব মানছেন না অর্থমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Padma Banks new four schemes for students

শিক্ষার্থীদের জন্য পদ্মা ব্যাংকের নতুন চার স্কিম

শিক্ষার্থীদের জন্য পদ্মা ব্যাংকের নতুন চার স্কিম শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি ব্যাংকিং স্কিম নিয়ে এসেছে পদ্মা ব্যাংক।
পদ্মা মাস্টার মাইন্ড অ্যাকাউন্টটি ১৮ থেকে ২৮ বছরের নিচে যে কেউ পরিচালনা করতে পারবেন। ৫০০ টাকাতেই খোলা যাবে অ্যাকাউন্টটি। দেশের যেকোন এটিএম বুথ থেকে টাকা উঠাতে লাগবে না এক পয়সাও।

শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি ব্যাংকিং স্কিম নিয়ে এসেছে পদ্মা ব্যাংক।

স্কিম চারটি হলো পদ্মা নেক্সটজেন অ্যাকাউন্ট, পদ্মা মাস্টার মাইন্ড অ্যাকাউন্ট, পদ্মা স্পিরিট মান্থলি ডিপোজিট প্ল্যান এবং পদ্মা ব্যাংক স্টুডেন্ট ফাইল।

বুধবার পদ্মা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়।

চারটি স্কিমের মধ্যে পদ্মা নেক্সটজেন অ্যাকাউন্ট ১৮ বছরের নিচে যে কেউ ১০০ টাকা দিয়ে খুলতে পারবেন। আকর্ষণীয় রেটে করা যাবে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়।

পদ্মা মাস্টার মাইন্ড অ্যাকাউন্টটি ১৮ থেকে ২৮ বছরের নিচে যে কেউ পরিচালনা করতে পারবেন। ৫০০ টাকাতেই খোলা যাবে অ্যাকাউন্টটি। দেশের যেকোন এটিএম বুথ থেকে টাকা উঠাতে লাগবে না এক পয়সাও।

হাত খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে খোলা যাবে পদ্মা স্পিরিট মান্থলি ডিপোজিট প্ল্যান। কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিভিন্ন মেয়াদে পরিচালনা করা যাবে এটি।

পদ্মা নেক্সটজেন অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের বাবা-মা ও পদ্মা মাস্টারমাইন্ড অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের জন্য এই স্কিম।

পদ্মা ব্যাংক স্টুডেন্ট ফাইল সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি। এর মাধ্যমে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারত এবং সার্কভুক্ত দেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সাল পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ে সাড়ে ২৮ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং এর বিপরীতে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ১২শ কোটি ছেলেদের আর ১৩শ কোটি মেয়েদের।

পদ্মা ব্যাংক স্টুডেন্ট ব্যাংকিং-এর হেড নাফিসা আরা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা দেশের ১১ জেলায় রোডশো করেছি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় সব ব্যাংকই স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করছে। তবে আমরা একটু আলাদা, কেননা আমরা দিচ্ছি ফ্রি চেক বই ও ডেবিট কার্ড।’

হেড অব রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং রকিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের বন্ধুই হলো আধুনিক টেকনোলজি। এখন সময় এসেছে ফিনটেককেও আপন করে নেয়ার। যার জন্য সেরা মঞ্চ হলো স্টুডেন্ট ব্যাংকিং। তাদের সহযোগিতায় চ্যালেঞ্জটা আমাদেরই বেশি। তাই আমরা অত্যাধুনিক সব সেবা দিতে বদ্ধপরিকর।’

পদ্মা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিওও জাবেদ আমিন বলেন, ‘হাতে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে নতুন প্রজন্ম। এই চেষ্টাই করে যাচ্ছে পদ্মা ব্যাংক।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা ব্যাংকের ট্রাস্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট বিষয়ক কর্মশালা
পদ্মা ব্যাংকে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ বিষয়ক কর্মশালা
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে পদ্মা ব্যাংকের কর্মশালা
প্রয়াত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিল পদ্মা ব্যাংক
পদ্মা ব্যাংকে মিলছে পুরোনো গাড়ি কেনার ঋণও

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Under the pressure of the economy money is tight in the bank

অর্থনীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকে টাকার টান

অর্থনীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকে টাকার টান গ্রাহকরা সঞ্চয় তুলে নেয়ায় ব্যাংক আমানতে তৈরি হয়েছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ফাইল ছবি
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক সুদ এখনও মূল্যস্ফীতির নিচে। ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মূল্যস্ফীতির গড় হিসাব সরকারিভাবে যা প্রকাশ করা হচ্ছে তার চেয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের খরচ বাস্তবে অনেক বেশি। জীবন চালাতে সঞ্চয়ে হাত দিচ্ছেন তারা।’

ব্যাংকে হঠাৎ টাকার আকাল। সঞ্চয় তুলে নেয়ায় আমানতে তৈরি হয়েছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছর শেষে আমানতে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ শতাংশের বেশি। যার ধারাবাহিকতা জুলাইতেও স্পষ্ট।

বিষয়টি অর্থনীতির জন্য সুখকর নয় বলে মনে করছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক সুদ এখনও মূল্যস্ফীতির নিচে। ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মূল্যস্ফীতির গড় হিসাব সরকারিভাবে যা প্রকাশ করা হচ্ছে তার চেয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের খরচ বাস্তবে অনেক বেশি। জীবন চালাতে সঞ্চয়ে হাত দিচ্ছেন তারা।’

সর্বশেষ গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কেবল মূল্যস্ফীতিই কারণ, এমনটাও নয়। ব্যাংকে আমানতে সুদ কম হওয়ায় মানুষ অন্য কোথাও সঞ্চয় সরিয়ে ফেলতে পারেন বলে মনে করেন আহসান মনসুর। তিনি বলেন, ‘অনেকে ডলারেও বিনিয়োগ করেছেন বলে শোনা গিয়েছে । এটি খুঁজে দেখা প্রয়োজন আসলে টাকা গিয়েছে কোথায়।’

অর্থনীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকে টাকার টান

ব্যাংকে গ্রাহকরা। ফাইল ছবি

ব্যাংক আমানত কমে গেলে সেটি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিতে পারে। তখন কর্মসংস্থান নিয়ে দেখা দেবে সংশয়। আর সুদহার নিয়ন্ত্রণ করা ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও প্রণোদনা প্যাকেজের তৃতীয় ধাপের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সচল হতে পারবেন। আশা করা যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে আমানত প্রবৃদ্ধি ফের আগের জায়গায় ফিরে যাবে।

কমছে আমানত

তাতে দেখা যায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংক খাতে আমানত যোগ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৯ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।

আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংক খাতে আমানত যোগ হয়েছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। ওই সময়ে আমানতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

গত জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।

এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণের তীব্র সময় ২০২০-২১ অর্থবছরেও ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ওই অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে নতুন আমানত যোগ হয় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে আমানত যোগ হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা, আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমানত যোগ হয়েছিল ৯৬ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।

মহামারির অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে আমানতের যে প্রবাহ ছিল, গত অর্থবছর শেষে তা সেই পর্যায়ে চলে গিয়েছে।

আমানতে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, মেয়াদি অর্থাৎ সঞ্চয়ী আমানতের পরিমাণ কমে গিয়েছে সবচেয়ে বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরে মেয়াদি আমানত কমেছে ৩০ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংক খাতে মেয়াদি আমানত যোগ হয়েছে ৯৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যা আগের অর্থ বছরের চেয়ে ৪২ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা কম। অর্থাৎ এক অর্থবছরে এ পরিমাণ সঞ্চয়ী আমানত কমেছে ।

২০২০-২১ অর্থবছরে মেয়াদি আমানত সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। সে সময় মেয়াদি আমানত যোগ হয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাধারণ আমানতে ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি নিয়ে যোগ হয়েছে ২৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

বাড়ছে জীবন যাত্রার ব্যয়

মানুষের জীবন-পরিচালনার খরচ যে বেড়ে গিয়েছে তার প্রমাণ মেলে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর তথ্যে।

খাদ্যপণ্যের মৌলিক ৩টি পণ্য চাল, তেল ও আটার দর টিসিবির তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরে ২০২১ সালের ৩০ জুন মোটা চালের দর ছিল প্রতি কেজি ৪৪ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা, মাঝারি দরের চাল ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়, আর সরু চালের প্রতি কেজির দাম ছিল ৫৬ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায়।

এক বছর পরে গত জুন শেষে ঢাকা মহানগরে মোটা চালের প্রতিকেজি দর ছিল ৪৮ থেকে সর্বোচ্চ ৫২ টাকা। এক বছরে মোটা চালের প্রতিকেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। শতকরা হিসাবে যা ৯ শতাংশ।

মাঝারি দরের বিভিন্ন চালের মূল্য গত বছরে ব্যবধান ছিল ৬ টাকা, এ বছরে ব্যবধান ৮ ধেকে ১০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীতে বিভিন্ন দরের মাঝারি মানের চাল বিক্রিও হয় ৫২ থেকে সর্বোচ্চ ৬২ টাকায় প্রতি কেজি। এক বছর আগে যা ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়।

আর ৫৬ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায় থাকা সরু চালের প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৬৪ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায়। সরু চালের দর প্রতিকেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকায়।

টিসিবির পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের মধ্যে সরু চালে ১৯ শতাংশ, মাঝারি মানের চালে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও মোট চালের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।

একইভাবে প্রতিকেজি খোলা আটার দাম বেড়েছে এক বছরের ব্যবধানে ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আর প্যাকেটজাতে বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

খোলা ময়দায় প্রতি কেজিতে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও প্যাকেটজাতে বেড়েছে ৫৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। ভোজ্য তেলে প্রতি লিটারে (লুজ) ১২২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক বছরের ব্যবধানে ১৮৫ টাকা। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ৫২ ভাগ।

এভাবে খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে সার্বিকভাবে সঞ্চয় কমে গেছে।

আরও পড়ুন:
কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়
বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Private credit growth dropped to 14 under dollar pressure

ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল

ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল
২০২১ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক খাত থেকে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন। এই প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় টাকার ব্যাপক দরপতনে ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে একটি সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সুখবরটি আবার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর মুদ্রা এই ডলারের বদৌলতেই।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা মুদ্রানীতিতে ঘোষিত লক্ষ্যের প্রায় সমান।

এই প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক খাত থেকে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন। আগের মাস জুলাইয়ে গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি নিয়েছিলেন ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

তবে এতে আমেরিকার মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের অবদান রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। তারা বলেছেন, দেশের বাজারে ডলারের দাম বাড়ার কারণে গ্রাহককে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। আর এটি বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, টানা আট মাস ধরে বাড়তে বাড়তে ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকটি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১ দশমিক ০৭ শতাংশে উঠেছিল।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। মার্চে তা দশমিক ৫৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে ওঠে। এপ্রিল মাসে তা ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে। মে মাসে তা আরও বেড়ে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ওঠে।

জুন মাসে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে ওঠে। জুলাই মাসে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশে ওঠে। সবশেষ আগস্টে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এর অর্থ হলো ২০২১ সালের আগস্ট মাসের চেয়ে এই বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছেন।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এরপর থেকেই কমতে থাকে এই সূচক।

ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল

অর্থনীতির বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছিল। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যে প্রণোদণা ঘোষণা করেছিল, তাতে এর অবদান ছিল। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় দেশে বিনিয়োগের একটি অনুকুল পরিবেশও দেখা দিয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে উদ্যোক্তারা নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে বিনিয়োগে নেমেছিলেন। ব্যাংকগুলো তাতেও বিনিয়োগ করেছেন।

‘সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণের একটি গতি এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারকদের এলসি খুলতে বেশি টাকা লাগছে। তাতেও ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

‘তবে আর নয়। এখন যে করেই হোক টাকাকে শক্তিশালী করতে হবে। ডলারের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন আমাদের অর্থনীতিকে প্রতি মুহূর্তে তছনছ করে দিচ্ছে। বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে আমাদের। আমদানি কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারপরও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। এখনও কার্ব মার্কেটে ১১৫ টাকার বেশি দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।’

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আমদানি বাড়তে থাকায় গত বছরের আগস্ট থেকে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে; দুর্বল হতে থাকে টাকা। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার টাকা-ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার ছিল ১০৫ টাকা ৩৫ পয়সা। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা।

এ হিসাবে গত এক বছরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ২০ টাকার বেশি, ২৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আহসান মনসুর বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই দেশে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল। মার্চে থেকে ফের বাড়তে শুরু করে। যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদেক্ষেপের কারণে এখন আমদানি ব্যয় কমেছে ঠিক। কিন্তু পণ্য আমদানির করতে গিয়ে এলসি খুলতে ব্যবসায়ীদের কিন্তু আগের চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। সে কারণে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। তাই সংকটের এই সময়েও বেসরকারি ঋণ বেশি হচ্ছে।’

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তার আগের মাস নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ; অক্টোবরে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছিল। এর অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের চিত্রও ছিল হতাশাজনক। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে তা আরও কমতে থাকে।

প্রতি মাসেই কমতে কমতে গত বছরের মে মাসে তা ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

অতীত ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু অর্থনীতিতে ব্যাংকের ঋণ বাড়তেই থাকে। ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বছরওয়ারি হিসেবে এর পর তা সব সময়ই ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এমনকি এক পর্যায়ে তা ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা দুই অঙ্কের নিচে (ডাবল ডিজিট), ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। এরপর দুই বছর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের নিচে (সিঙ্গেল ডিজিট) অবস্থান করে।

গত বছরের নভেম্বরে তা দুই অঙ্কের (ডাবল ডিজিট) ঘরে, ১০ দশমিক ১১ শতাংশে উঠে।

মহামারির ছোবলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলে নেমে আসে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে নেমে যায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি খানিকটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তারপর থেকে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১২৩৩ কোটি টাকা দেবে এডিবি
যুদ্ধের ধাক্কায় কমেছে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি
৬.৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় নেই অর্থমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৯%, ৭ মাস ধরে বাড়ছে
২ বছর পর ২ অঙ্কের ঘরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Islami Bank in Shivpur Narsingdi

নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক

নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ ও শক্তিশালী ব্যাংক। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্সসহ সকল সূচকে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

নরসিংদীর শিবপুরে শাখা খুলেছে ইসলামী ব্যাংক। এটি ব্যাংকটির ৩৮৫তম শাখা।

সোমবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা শাখাটির উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের বক্তব্য দেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাব্বির, ঢাকা ইস্টজোন প্রধান আমিনুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান ভুঁইয়া এবং শিবপুর শাখাপ্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন।

গ্রাহক শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শিবপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাপসী রাবেয়া, সরকারী শহীদ আসাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সদর রোড বণিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া, সানমুন টেইলার্সের প্রোপ্রাইটর তপন চন্দ্র বর্মন এবং খান ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর মাইন উদ্দিন খান।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ ও শক্তিশালী ব্যাংক। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্সসহ সকল সূচকে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সারাদেশে বিস্তৃত শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ও সিআরএম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিদান স্বরুপ আমানত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বড় বড় শিল্প কারখানায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে ইসলামী ব্যাংক। গার্মেন্টস শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখছে।’‘দেশের ২৯ হাজার গ্রামে ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিনা জামানতে গ্রুপভিত্তিক বিনিয়োগ সেবা প্রদান করছে ইসলামী ব্যাংক। এই প্রকল্পের সদস্য সংখ্যা ২৫ লাখ ২৪ হাজার; যার ৯২ শতাংশই নারী গ্রাহক।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ৩৮৫টি শাখা, ২২৫টি উপশাখা, ২৭০০ এজেন্ট আউটলেট এবং ২০০০ এর অধিক এটিএম ও সিআরএম মেশিনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সেবা প্রদান করছে ইসলামী ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আইপিও আবেদন শুরু ১৬ অক্টোবর
ইসলামী ব্যাংকের নতুন পাঁচ সেবা চালু
৭% মুনাফায় সিএমএসএমই ঋণ দেবে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
৭% মুনাফায় সিএমএসএমই ঋণ দেবে ইসলামী ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Exim Bank Sub Branch in Nitaiganj Narayanganj

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অঞ্জন কুমার সাহা। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন।

আধুনিক ও ইসলামিক ব্যাংকিং সেবাকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আরও কাছে পৌঁছে দিতে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ শাখার অধীনে পরিচালিত এই উপশাখাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অঞ্জন কুমার সাহা। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অঞ্জন কুমার সাহা বলেন, ‘দেশব্যাপি এক্সিম ব্যাংক তার সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ব্যাংকের এই উপশাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।’

তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে এক্সিম ব্যাংকের নিতাইগঞ্জ উপশাখার সাথে ব্যাংকিং করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংক তার সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’

তিনি ব্যাংকের বহুমূখী আমানত ও বিনিয়োগ হিসাবসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপশাখাটি উদ্বোধন করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নিতাইগঞ্জ উপশাখার মাধ্যমে এ এলাকার জনগণ এক্সিম ব্যাংকের আন্তরিক সেবা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
এক্সিম ব্যাংকের নতুন এমডি ফিরোজ হোসেন
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন রাশেদুল হাসান
এক্সিম ব্যাংকের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ
হজযাত্রীদের জন্য আশকোনায় বুথ খুলেছে এক্সিম ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশংসাপত্র পেল এক্সিম ব্যাংক

মন্তব্য

p
উপরে