× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
More dividends than income are rural tours
hear-news
player
google_news print-icon

আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর

আয়ের-চেয়ে-বেশি-লভ্যাংশ-গ্রামীণ-টুর
গ্রামীণ টু গত বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৩৯ পয়সা আয় করেছিল। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এই ফান্ডটির লভ্যাংশ নিয়ে ব্যাপকভাবে উৎসাহী ছিলেন। এক পর্যায়ে ইউনিটদর ২১ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায়। এরপর রিয়েলাইজড গেইনের ওপর ভিত্তি করে যখন ১৩ শতাংশ, অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা তীব্রভাবে হতাশ হন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণ ওয়ান: স্কিম টু মিউচুয়াল ফান্ড গত বছরের মতো এবার আর আনরিয়েলাইজড গেইনের হিসাব প্রকাশ করেনি। গত বছর এই হিসাব প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার পর এবার রিয়েলাইজড গেইনের ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ইউনিটধারীদেরকে ১৫ শতাংশ হারে অর্থাৎ প্রতি ইউনিটের বিপরীতে দেড় টাকা হারে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

রোববার ফান্ডটির ট্রাস্টি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক এইমস অব বাংলাদেশ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ১ টাকা ২১ পয়সা হলেও আনরিয়েলাইডজ গেইনসহ আয় দেখানো হয় ৬ টাকা ৮ পয়সা। অর্থাৎ অর্থাৎ বাকি ৪ টাকা ৮৭ পয়সা তাদের আয় হতো শেয়ার বিক্রি করে। কিন্তু বিক্রি না করলেও সেটি তাদের আয় হিসেবে দেখানো হয়।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী একটি ফান্ড তার আয়ের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নগদে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করবে।

গ্রামীণ টু গত বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৩৯ পয়সা আয় করেছিল। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এই ফান্ডটির লভ্যাংশ নিয়ে ব্যাপকভাবে উৎসাহী ছিলেন। এক পর্যায়ে ইউনিটদর ২১ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায়।

এরপর রিয়েলাইজড গেইনের ওপর ভিত্তি করে যখন ১৩ শতাংশ, অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা তীব্রভাবে হতাশ হন।

আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
এইমস পরিচালিত গ্রামীণ ওয়ান: স্কিম টু মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

তবে এবার ফান্ডটি আর আনরিয়েলাইজড আয় প্রকাশ করেনি কোনো প্রান্তিকে। এরা তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ১ টাকা ১ পয়সা আয় দেখানোর পর ইউনিটদরে আর উল্লম্ফন হয়নি।

ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটদর ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। এই হিসাবে এর ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে দেয়া হবে।

২০২২ তারিখে ক্রয়-মূল্যে ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ১১ টাকা ৬৭ পয়সা। ওইদিন বাজার-মূল্যে এর ইউনিটপ্রতি সম্পদ ছিল ২০ টাকা ৫২ পয়সা।

লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ কেউ লভ্যাংশ নিতে চাইলে সেদিন ইউনিট ধরে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
টালমাটাল পুঁজিবাজারে রেইসের ১০ ফান্ডে দারুণ লভ্যাংশ
৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দেড় টাকা লভ্যাংশ
ভিন্নধর্মী হবে সন্ধানীর নতুন মিউচুয়াল ফান্ড
দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি
সেপ্টেম্বরে চালু হচ্ছে এটিবি, ইটিএফ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC continues to try and wait for the war to end

চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি, যুদ্ধ শেষের অপেক্ষা

চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি, যুদ্ধ শেষের অপেক্ষা বিএসইসির কমিশন সভা। ছবি: নিউজবাংলা
২০২০ সালের মে মাসে বিএসইসির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা আগে নেয়া হয়নি, তবে ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পুঁজিবাজার ক্রমেই গতিহীন হয়ে পড়েছে। অথচ যেসব পরিবর্তন গত দুই বছরে হয়েছে, তাতে পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি বেশ হতাশাজনক, তবে ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টানা উত্থান বিনিয়োগকারীদের বেশ আশাবাদী করেছিল।

এরপর নানা ইস্যুতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে মতভিন্নতার প্রভাবে টানা কয়েক মাস সংশোধন শেষে নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলে। সেটি প্রথমে ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রুশ হামলা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আর বিশ্ব অর্থনীতিতে নামে বিপর্যয়।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাবে ভুগতে থাকে দেশের পুঁজিবাজার। ব্যক্তি-শ্রেণির যে বিনিয়োগকারীরা আছেন, তারা বিনিয়োগের মূলতত্ত্বের বাইরে গিয়ে গুজব, গুঞ্জনে কান দেন বেশি। নানা সময় দেখা যায়, তারা গুজবে শেয়ার কেনেন; আতঙ্কে বেচেন। অথচ পরিস্থিতি এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।

২০২০ সালের মে মাসে বিএসইসির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা আগে নেয়া হয়নি। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু কোম্পানিতে প্রাণ ফিরেছে কমিশনের উদ্যোগে।

কয়েকটি কোম্পানিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিছু কোম্পানি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসিতে পাঠিয়ে দেয়া কয়েকটি কোম্পানি ‍মুনাফায় ফেরার পর পুঁজিবাজারেও ফিরেছে।

যেসব কোম্পানি টাকা তুলে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে ডি লিস্টিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে তারা বিনিয়োগকারীদের তাদের টাকা ফিরিয়ে দেবে।

বেশ কিছু আইন-কানুন, বিধিবিধান সংস্কার করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। কোম্পানিগুলোকে বোনাস লভ্যাংশের বদলে নগদ লভ্যাংশ দিতে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।

সংকটের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দিয়ে পুঁজির সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে, যে অস্ত্র এখন পর্যন্ত দুবার প্রয়োগ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাজারে কারসাজির কারণে নিয়মিত শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ কমিশনের চেষ্টা ও বারবার আলোচনার পর বিনিয়োগকারীদের এক যুগের একটি দাবিও পূরণ হয়েছে। ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার গণনা শেয়ারের বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে নির্ধারণের কারণে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে কমিশনের উদ্যোগ দৃশ্যমান। ফান্ডগুলো নগদে গত দুই বছর দারুণ লভ্যাংশ দিয়েছে। ইউনিটদরের তুলনায় তাদের লভ্যাংশ যেকোনো সঞ্চয়ী আমানতের চেয়ে বেশি।

বন্ড মার্কেট উন্নয়নেও কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। ইসলামী গ্রিন সুকুকের পাশাপাশি সরকারি ট্রেজারি বন্ডেরও লেনদেন শুরু হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ লভ্যাংশ নিশ্চিত করবে।

সবার জন্য আইপিও শেয়ার নিশ্চিত করাও কমিশনের উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন। এর আগে লটারি করে শেয়ার বণ্টন হতো। তাতে হাতে গোনা কয়েকজন পেতেন সুবিধা।

এত সব পরিবর্তন ও চেষ্টার পরও পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত গতিতে ছুটতে পারছে না। ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা অল্পতেই ভীত হন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

২০২০ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কমিশনার হিসেবে যোগ দেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান ও রুমানা ইসলাম। যোগ দেন সাবেক বাণিজ্যসচিব আব্দুল হালিমও।

এই কমিশন দায়িত্ব নেয়ার সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বা ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজারের নিচে। আর লেনদেন নেমে এসেছিল ১০০ কোটি টাকার নিচে।

১৫ মাসের মধ্যে সূচক বেড়ে হয় ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্ট, লেনদেন তিন হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এরপর ঘটে ছন্দঃপতন।

এর ওপর বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের হাত নেই, তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান মনে করেন, যুদ্ধ থামলেই মানুষের মনে আতঙ্ক কাটবে। তখন আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে পুঁজিবাজার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা মিসিং লিংকগুলো নিয়ে কাজ করেছি। অর্থাৎ যে জায়গাগুলোতে কাজ করা দরকার ছিল, কিন্তু করা হয়নি বা করা যাচ্ছিল না, তার সব জায়গায় হাত দিয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবে।’

তিনি বলেন, ‘রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে সাহায্য করার জন্য আরইআইটি করতে যাচ্ছি আমরা। বিশ্বব্যাংকের দেয়া ৯ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেশের পুঁজিবাজারকে পামটপে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ডিএসই ও সিএসইকে আধুনিক করার চেষ্টা করছি।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘বর্তমান কমিশন যত কাজ করেছে, চেষ্টা করেছে, এর আগে কেউ এত করেনি।’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কমিশন গণমাধ্যমে বিভিন্ন ইতিবাচক বক্তব্য প্রচার করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও বহু বছরের কাঙ্ক্ষিত সমন্বয়টা তারা তৈরি করতে পেরেছেন।’

স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন বা ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে কাজ শুরু করার পরপরই রিং সাইনের মতো কিছু কোম্পানিকে তারা শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছিল। এটা বেশ ভালো কাজ করেছিল দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে।

‘এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালকদের কমপক্ষে ২ শতাংশ ও সার্বিকভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ভালো ভূমিকা রেখেছে এই কমিশন। এটা দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে।’

এতগুলো উদ্যোগের পরও পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই কেন, এমন প্রশ্নে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএসইসি অনেক আইন করেছে, আবার অনেক কিছু দ্রুত পরিবর্তনও করছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। যেমন প্রি ওপেনিং সেশনের কথাই বলি। একবার এটি চালু হয়, একবার বন্ধ হয়। এসব বিষয়ে বিএসইসির আরও একটি সতর্ক হওয়া উচিত।’

ফ্লোর প্রাইস নিয়ে এখন গুজব চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসইসির সরাসরি ঘোষণা দেয়া উচিত যে আগামী তিন বা ছয় মাস আগে এই ফ্লোর উঠবে না। গুজব ঠেকাতে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।’

পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বন্ধ কোম্পানিতে ফিরছে প্রাণ

এমারেল্ড অয়েলের কথাই ধরা যাক। ২০১৬ সালের ২৭ জুন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কোম্পানিটি। বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারদর ছিল ৭০ টাকা। আর তা একপর্যায়ে নেমে আসে ৮ টাকায়।

আর কখনও পুঁজি ফিরে পাওয়া যাবে না, এমন শঙ্কার মধ্যে থাকা কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করার পর বদল হয় মালিকানা। ঘুরতে শুরু করে বন্ধ চাকা। দেশের বাজারে তেল বিপণন শুরুর পাশাপাশি জাপানে রপ্তানির স্বপ্নও ডানা মেলছে। বেশ কিছু মানুষের চাকরিও হয়েছে কোম্পানিতে। সরকার পাচ্ছে কর।

মৃত কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ফ্যামিলি টেক্সটাইলেও উৎপাদন ফেরানো হয়েছে একই প্রক্রিয়ায়। এমনকি ইউনাইটেড এয়ারকেও আবার আকাশে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৮টি কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠন করেছে, যার মধ্যে ২০টি কোম্পানি বর্তমানে তাদের কাজ চালু করেছে।

এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞা পরিবর্তন

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজারমূল্য নির্ধারণের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এক যুগ ধরে দেনদরবার করেও শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনা করতে রাজি করা যাচ্ছিল না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে, তবে গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি কৌশলী সিদ্ধান্ত নেয়।এতে বলা হয়, শেয়ারের ক্রয়মূল্যই বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফলে এখন ব্যাংকের কেনা শেয়ারের দর বেড়ে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি বেড়ে গেলেও এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করে গেছে বলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে না। এটি পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে এই পরিবর্তনে রাজি করতে বিএসইসি সংস্থাটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বারবার দেখা করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

কমিশনের সবচেয়ে বড় একটি সাফল্য ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো। ফলে বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। একটি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা গেছে যে ব্যাংক করবে কম সময়ের জন্য আর পুঁজিবাজার করবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন।

বন্ড মার্কেটের বিকাশ শুরু

অনেক দিন ধরে বলা হচ্ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা কম। দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে খুব বাস্তবমুখী কিছু সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিশন।

নতুন কমিশন আসার পর থেকে প্রচুর বন্ডের অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেসব বন্ড দেশের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে লেনদেনের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই নিয়ম না হলে এ ধরনের বন্ডের নাগাল বিনিয়োগকারীরা পেতেন না।

সরকারি সিকিউরিটি লেনদেন চালু করেছে নতুন কমিশন। এর ফলে এক দিনেই বাজার মূলধন বেড়েছে আড়ই লাখ কোটি টাকা। ফলে দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বেড়েছে।

শুধু শেয়ার দিয়ে বাজার বড় করা যাবে না- এই মন্ত্র মেনে বন্ডের পাশাপাশি কমডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপানের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে বসুন্ধরাকে পার্টনার হিসেবে পেয়েছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই)। সামনে বাংলাদেশে কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ আনছে তারা।

সবার জন্য শেয়ার

আইপিও থেকে লটারিব্যবস্থা তুলে দেয়া একটি বিরাট পরিবর্তন। লটারি থাকার সময় লাখো বিও হিসাব শুধু আইপিও করার জন্য ব্যবহৃত হতো। দেখা যেত পাওয়া যায় না বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবেদন করাই ছেড়ে দেয়।

আর আইপিও শিকারিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০০টি বা তার বেশি অ্যাকাউন্ট রাখতেন। লটারিতে শেয়ার পেয়ে লাভে বিক্রি করে দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা বের করে নিয়ে যেতেন।

নতুন নিয়মে পুঁজিবাজারে আইপিতে শেয়ার পেতে হলে বিনিয়োগ থাকতে হবে সেকেন্ডারি মার্কেটে। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার পাচ্ছেন।

ভালো কোম্পানি বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা বিমা ও ব্যাংকগুলোকে আনতে কাজ করেছে নতুন কমিশন। এর মধ্যে বেশে কয়েকটি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বাজারে আনা হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি রবিকে। বাংলালিংককে তালিকাভুক্তির চেষ্টাও চলছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে টাকা দেয়ার জন্য এসএমই মার্কেট চালু করেছে নতুন কমিশন। আর তালিকার বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনের জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু হবে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা এটিবি।

আইপিও অনুমোদনে সাবধানতা

গত কমিশনের সময় এক বড় অভিযোগ ছিল খারাপ কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

নতুন কমিশন বেশ গুরুত্ব দিয়ে এই ফুটো বন্ধ করার কাজে হাত দেয়। প্রথম আগের কমিশনের সময় আবেদন করা প্রায় ৮ থেকে ১০টি কোম্পানির আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়।

তবে শুধু আইপিও বাতিল করেই বসে থাকেননি। যেসব ভালো কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিতে চায় তাদের রাস্তা সহজ করতে অনেকগুলো অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

ফিন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বা এফআরসিকেও সচল করা হয়েছে যাতে কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিলে নীরিক্ষককে ধরা যায়।

পর পর দুই বাজেটে বর্তমান কমিশন বড় ভূমিকা রেখেছে করপোরেট কর কমিয়ে আনার জন্য। যাতে ভালো কোম্পানি বাজারে আসে।

অদাবীকৃত লভ্যাংশ দিয়ে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীর জন্য ঘোষিত যে লভ্যাংশ বিনিয়োগ না করার কারণে অলস পড়ে ছিল, সেগুলোতে একটি ছাতার তলে আনার উদ্যোগ এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। অদাবিকৃত এসব ল্যভাংশ দিয়ে কয়েক শ কোটি টাকায় গঠন করা হয়েছে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল।

এরই মধ্যে এই তহবিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে। বাজারে যাত্রা শুরু করেছে একটি মিউচুয়াল ফান্ড।

এটা অবশ্য ঠিক যে, শুরুতে যত টাকা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, পাওয়া গেছে তার একাংশই। এর কারণ কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিনিয়াগকারীদেরকে লভ্যাংশ নিয়ে যেতে বলার পর অনেক লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়।

তবে তহবিলে আরও টাকা জমা পড়ছে এবং বিপুলসংখ্যক শেয়ারও জমা পড়বে যেগুলোও বাজারের স্থিতিশীলতায় কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পুঁজিবাজারে সূচক বৃদ্ধির সময় বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখে বারবার ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। জরিমানা করা হয়েছে বারবার। এর মধ্যে আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের ১৪ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির প্রমাণ পেয়ে।

এই তদন্ত এখনও চলমান আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারসাজি করলে সাজা পেতেই হবে।

ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। নির্দেশনা জারি করে ডিএসই, বিএসইসি, সিএসই বা দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কিত লোগো কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। পাশাপশি বিএসইসির একটি টিম সার্বক্ষণিক নজর রাখছে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ওপরে।

ফ্লোর প্রাইস

এটির প্রথম প্রয়োগ অবশ্য করে আগের কমিশন। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হওয়ার পর শেয়ারদরে যখন ধস নামে, তখন প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর বাজারে দেখা দেয় ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। আর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় ফ্লোর প্রাইস।

এবারও একই কৌশলে শেয়ারদর ধরে রাখা হয়েছে। যদিও প্রায় তিন শ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসেও লেনদেন হচ্ছে না, তারপরও যেহেতু এগুলোর দরপতন ঘটছে না, বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’
শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market cannot operate like this

‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’

‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’ ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী, ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী ও ডিবিএর বর্তমান সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
‘পুঁজিবাজারে ভাইব্রেন্সি খুব প্রয়োজন। তা ছাড়া এভাবে চলতে পারে না। বছরের ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাস ডিপ্রেসড থাকবে, আর দুই মাস ভালো থাকবে, আমরা উচ্ছ্বসিত থাকব, এভাবে চলে না।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশে পুঁজিবাজারের যে আচরণ, তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি হতাশ হয়ে পড়েছেন খোদ স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে জড়িত বড় বিনিয়োগকারীরাও।

ফ্লোর প্রাইসের প্রভাবে শেয়ারের দরপতন ঠেকানো গেছে বটে, কিন্তু ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে কার্যত ৭০ থেকে ৮০টি কোম্পানির শেয়ারে হাতবদল হচ্ছে, তাও সংখ্যায় কম। বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো দিন ৭০টি, কোনো দিন ৮০টির ক্রেতা থাকে না। আর দুই শতাধিক কোম্পানির কিছু শেয়ার হাতবদল হয় বটে, কিন্তু তা এতটাই নগণ্য যে গুরুত্ব পাওয়ার মতো না।

মাস দুয়েক আগেও সেখানে দুই হাজার কোটি বা তার চেয়ে বেশি লেনদেন হচ্ছিল, সেটি এখন নেমে এসেছে তিন শ কোটির ঘরে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী পুঁজিবাজারের এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি হতাশ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ভাইব্রেন্সি খুব প্রয়োজন। তা ছাড়া এভাবে চলতে পারে না। বছরের ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাস ডিপ্রেসড থাকবে, আর দুই মাস ভালো থাকবে, আমরা উচ্ছ্বসিত থাকব, এভাবে চলে না।’

‘বাজারের মধ্যে এখন বড় বিনিয়োগকারীরা ওয়েট অ্যান্ড সি বা সাইডলাইনে বসে গেছেন। একটা বৈশ্বিক কারণ আর দ্বিতীয় হলো যে, এই যে কোটি কোটি টাকা ফাইন হয়, সেটা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’

তিনি বলেন, কেউ দোষ যদি করে তাহলে শাস্তি হবে, কিন্তু যেভাবে মিডিয়ায়, পত্রিকায় আসে, সেভাবে আসলে বড় বিনিয়োগকারীরা শাই হয়ে যায়। তারা যদি বিনিয়োগ করতে ভয় পায়, তাদের জন্য প্যানিক সিচুয়েশন হয়, তাহলে বাজারের ভাইব্রেন্সি থাকবে না। তখন আমাদের মতো বিনিয়োগকারীরা বাজারকে ওইভাবে সাপোর্ট দিতে পারি না। সাপোর্ট দিতে হলে বড় বিনিয়োগকারীদের আনতে হবে।’

কী করার আছে?

লালী বলেন, ‘বাজারে যে জিনিসগুলো প্রয়োজন তা হলো ডিএসইর আমূল পরিবর্তন করতে হবে। বৃহত্তর রিফর্মেশন আনতে হবে। ডিএসই কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না, কোনো কাজই করছে না, অগ্রহণযোগ্য। একটা ইনএফিশিয়েন্ট এক্সচেঞ্জ যেটাকে বলা হয়, সেটা হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।’

কোনো নীতি বা বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সবার অংশ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, ‘পলিসির কনসিসটেন্সি থাকতে হবে। ডিএসই থেকে বা বিএসইসি থেকেই হোক ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। কোনো নীতি করার আগে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসে একটা ভালো জিনিস বের করে আনতে হবে।’

ডিবিএর বর্তমান সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘রিফর্মেশন দরকার আছে, তবে ভালো লোককে বাদ দিয়ে অযোগ্য লোককে নিয়ে এলে হবে না। আইটি সেক্টরে দুর্বলতা রয়েছে, সেটা বারবারেই দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া দুইটা স্টক এক্সচেঞ্জই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘ডিএসইর রিফর্মেশন অবশ্যই দরকার আছে। এমডি পদেই একজন লোক ঠিক করা যাচ্ছে না, আসছেন আর যাচ্ছেন। এটা কেমন কথা? এটা তো প্রতিষ্ঠানের পথচলা বাধাগ্রস্ত করছে।’

‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

কারসাজির সাজা এত দেরিতে কেন?

পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ার নিয়ে কারসাজি হলে মাসের পর মাস তা দেখে আরও কয়েক মাস পর ব্যবস্থা নিয়ে তা ঠেকানো যাবে না বলেও মনে করেন লালী।

বলেন, নিউ ইয়র্কে ডেইলি বিচার হয়। জুমের মাধ্যমে তারা অভিযুক্তকে জিজ্ঞেস করেন আপনি এটা এটা করেছেন। আপনি কি দোষী? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে বলা হয়, ১০ হাজার ডলার পাঠিয়ে দিন। এভাবে কেসটা চলে।

‘এখন তো অনলাইন সার্ভেলেন্স। আপনি কেন সঙ্গে সঙ্গে বলছেন না, আপনি ভুল করছেন। এটা ঠিক করেন। তাহলেই তো আমি সাবধান হয়ে যাই। আমাকে ভুল করিয়ে কমিটি করবেন, ইনকোয়ারি করবেন, তারপর কোটি কোটি টাকা ফাইন করবেন।’

যেটা সঙ্গে সঙ্গে সারাতে পারেন সেটা তিন মাস ধরে করে করছেন, এটা কি টাকা কামাই করার মেশিন নাকি? তিন মাস ধরে বিচার করবেন, আর তিন মাস ধরে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা তো হতে পারে না।’

ডিবিএ সভাপতি রিচার্ড বলেন, ‘সার্ভেলেন্সের মাধ্যমে ম্যানুপুলেশন রোধে তড়িৎ ব্যবস্থা নিলে ব্রোকারেজ হাউজটাও রক্ষা পায়, ওই লোকটাও বাঁচে আবার পুঁজিবাজারও ক্ষতির সম্মুখীন হয় না।’

সার্ভেলেন্সের মাধ্যমে ম্যানুপুলেশন ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে মোস্তফা মাহবুব। ‍তিনি বলেন, ‘সার্ভেলেন্সে রিয়েল টাইম ট্রেড দেখা যায়। সুতরাং সময়েই ফোন করেই এটা বন্ধ করা যায় বা ব্যবস্থা নেয়া যায়।’

জরিমানার অঙ্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যত আয় করছে, তার ২ থেকে ৩ শতাংশ জরিমানা করা হচ্ছে। এটা কি জরিমানা নাকি জাকাত? জরিমানা হতে হবে, যতখানি ম্যানুপুলেশন তার কয়েকগুণ বেশি।’

লালী বলেন, ‘ইনডেক্স, ভলিউম কন্ট্রোল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বাজারের মধ্যে ব্যাড প্লে করছে কি-না, বাজার সুস্থ রাখার জন্য সেটা দেখা দরকার। বাজারকে অযাচিতভাবে খারাপ রাখার চেষ্টা করছে কিনা তা দেখবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে কোনো অবস্থাতেই ভলিউম বা ইনডেক্স কন্ট্রোল করলে পরে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বসে তাদের কী সমস্যা, সেগুলো একটু দেখে সমস্যার সমাধানের পরামর্শও দেন তিনি। বলেন, ‘বাজারে সবসময় মার্কেট মেকার থাকতে হয়। না থাকলে সারাজীবন নড়বড়ে থাকবে।’

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহও মনে করেন মার্কেট মেকার থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘মার্কেট মেকার লাইসেন্স দিয়ে মার্কেট ভালো করা যায়। সব ডুজ অ্যান্ড ডোন্ট মেনে চলতে হবে।’

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নগদ পেমেন্ট পদ্ধতির চালু থাকা দরকার বলে জানান ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী। বলেন, ‘পুঁজিবাজারে অ্যাসেট দ্রুত লিকুইডেট করা যায় বলেই তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখানে আসেন। যখন কোনো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী চেক ছাড়া নগদ টাকা নিতে পারেন না, সেটা তাকে মার্কেট বিমুখ করে। কারণ অল্প কিছু টাকার জন্য এত ঝক্কিঝামেলা পোহাতে চান না কেউই। সুতরাং এই বিষয়টা একটু দেখা দরকার।’

কী বলছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় সবই ঠিক বলেছেন। তবে সার্ভেলেন্সটা ডিএসই করে থাকে। তারা এনফোর্সমেন্টের জন্য পাঠানোর পরে আমাদের কাজ শুরু করতে হয়। যার জন্য দেরি হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আর আমরা তো মিডিয়াতে প্রেস রিলিজ হিসেবে জরিমানার খবর প্রচার করি না। আমাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা থাকে, সেখান থেকে হয়তো দেখে করে।

‘ডিএসইর বোর্ড রিফর্মেশনের দরকার আছে। সেটাও বিবেচনায় নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি
ফেসবুকে পুঁজিবাজার নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে মামলার আসামি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The director of CSE is Nasir Uddin Chowdhury

সিএসইর পরিচালক হলেন নাসির উদ্দিন চৌধুরী

সিএসইর পরিচালক হলেন নাসির উদ্দিন চৌধুরী লংকাবাংলা ক্যাপিটাল মার্কেট অপারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপিটাল মার্কেট, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট, লিজিং এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিতে ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে নাসির উদ্দিন চৌধুরীর। তিনি মাইডাস ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসইর) পরিচালক হলেন লংকাবাংলা ক্যাপিটাল মার্কেট অপারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। সিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বৃহস্পতিবার তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ পদে নির্বাচিত হন।

ক্যাপিটাল মার্কেট, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট, লিজিং এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিতে ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে নাসির উদ্দিন চৌধুরীর। তিনি মাইডাস ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি বিডিভেঞ্চার লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নাসির উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
No one bought the shares the second lowest transaction in a year and a half

শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন

শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
সব মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা। চলতি বছর গত ১৯ জুলাই এর চেয়ে কম ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছিল। এর চেয়ে কম লেনদেন হয় ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল। লকডাউন আতঙ্কে সেদিন শেয়ারদর কমার পাশাপাশি লেনদেন নেমে আসে ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকায়।

সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তিন দিনই ঢাকা স্টক এক্সচঞ্জে তিন শ কোটি টাকা লেনদেন হলো। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেন নেমে এসেছে দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে।

লেনদেন শুরুর আগে ৫ মিনিট প্রি ওপেনিং সেশনে কম দামে শেয়ার বসিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে, এমন মূল্যায়ন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বৃহস্পতিবার থেকে এই সেশন বাতিল করার পরেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। সূচকের পতন ঠেকলেও লেনদেন নেমেছে তলানিতে।

বৃহস্পতিবার ৪৬টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৮টির দরপতনের দিন ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে ২২৬ কোম্পানির শেয়ার। লভ্যাংশ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে এদিন স্থগিত ছিল ২১টি কোম্পানির লেনদেন। ফলে বাকি ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি।

সব মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা। চলতি বছর ১৯ জুলাই এর চেয়ে কম ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছিল।

এর দুই দিন আগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশে লোডশেডিং করার ঘোষণা আসে সংবাদ সম্মেলন করে। এরপর পুঁজিবাজারে আতঙ্ক দেখা দেয়। ফলে শেয়ারদর কমার পাশাপাশি কমছিল লেনদেন।

এর চেয়ে কম লেনদেন হয় ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় এর পরদিন থেকে চলাচলে বিধিনিষেধ বা লকডাউনেরও ঘোষণা ছিল। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে এই বিধিনিষেধের মধ্যে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। সেবারও লেনদেন স্থগিত থাকবে, এমন আতঙ্কে বিধিনিষেধ শুরুর আগের দিন ব্যাপক দরপতনের পাশাপাশি লেনদেন নেমে আসে তলানিতে। হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকার শেয়ার। তবে লকডাউনেও লেনদেন চলবে, এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পরদিন থেকেই ঘুরে দাাঁড়ায় বাজার।

এরপর তিন শ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়েছে হাতে গোনা কয়েকদিন। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহের দুটি কর্মদিবসেই হলো এই ঘটনা। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা হাতবদল হয়। এমনকি গত ২৪ অক্টোবর কারিগরি ত্রুটিতে কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ থাকার দিনও আজকের চেয়ে বেশি ছিল লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেন তলানিতে নামায় হতাশা আরও বেড়েছে

উত্থানের একপর্যায়ে লেনদেন ছাড়িয়ে যায় তিন হাজার কোটি টাকার ঘর। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যে দর সংশোধন শুরু হয়, তা আর শেষের নাম নেই। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বের অর্থনীতি হয়ে যায় টালমাটাল, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাবে ভুগতে থাকা দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা বারবার আতঙ্কে নিজের ক্ষতি করছেন। এবারও তাই হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে এখনকার আতঙ্কের কারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক চাপ। এখন সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয়া আছে, এ কারণে প্রায় তিন শ কোম্পানির শেয়ারের দর কমতে পারছে না। কিন্তু এই সর্বনিম্ন দরে ক্রেতাও নেই।

ফ্লোরের বেশি থাকা ৮০ থেকে ৯০টি কোম্পানিরই শেয়ারেরই মূলত হাতবদল হয় প্রতিদিন। কিছু কোম্পানির একটি, কিছু কোম্পানির ১০ বা ১২ বা ২৮ বা ৩০০ বা ৪০০ বা ৫২৮টি- এভাবেই চলছে লেনদেন। বিপুলসংখ্যক শেয়ার বসানো থাকে বিক্রেতার ঘরে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

এমনকি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও দারুণ মুনাফা করছে, এমন কোম্পানির শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এই অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্লোর প্রাইস থেকে ১০ শতাংশ ছাড়ে ব্লক মার্কেটে শেয়ার বিক্রির যে সুযোগ দিয়েছে, তাতেও নেই সাড়া।

যেসব কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে কেবল ৫৩টির এক কোটি টাকার বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ২৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৮১ শতাংশ।

বকি ২৪৭টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে কেবল ২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা।

লেনদেনের এই করুণ চিত্র নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীল পলিসির কারণে বিনিয়োগকারীরা সাইড লাইনে রয়েছেন। এখন বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। যার কারণে লেনদেন এই পর্যায়ে নেমে এসেছে।’

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

ধারাবাহিকভাবে দর বাড়ছে নতুন তালিকাভুক্ত চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৫৯ টাকা ৬০ পয়সায়।

৮ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে এপেক্স ফুডসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫৯ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৪০ টাকা ২০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল অ্যাডভেন্ট ফার্মা। ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ২৬ টাকা ৬০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

তালিকার পরের স্থানে থাকা মনোস্পুল, এডিএন টেলিকম ও বিকন ফার্মার দর বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। ৪ শতাংশের বেশি দর বেড়েছে ইস্টার্ন হাউজিং ও নাভানা ফার্মার। এ ছাড়া এএফসি অ্যাগ্রো ও পেপার প্রসেসিংয়ের দর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।

দরপতনের শীর্ষ ১০

দরপতনের শীর্ষে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৬৬২ টাকা ৪০ পয়সায়, আগের দিনে দর ছিল ৭১৬ টাকা ১০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর ১০৭ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা ছুঁয়ে ফেলার পর এক মাসেরও কম সময়ে সেখান থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ দর হারাল কোম্পানিটি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে জিপিএইচ ইস্পাতের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিন ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৪৭ টাকা ৩০ পয়সা।

অ্যাম্বি ফার্মার দর কমেছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫০১ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনে দর ছিল ৫১৮ টাকা ১০ পয়সা।

সমান ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ দর কমে ফাইন ফুডসের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ৫৫ টাকা ১০ পয়সায়।

তালিকার পরের স্থানে থাকা সোনালী পেপার, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী আঁশের দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া শীর্ষ দশের বাকি তিন কোম্পানি সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেঙ্গল উইন্ডসরের দর কমেছে ১ শতাংশের বেশি।

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ।

বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের দর ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

নাভানা ফার্মা সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে বসুন্ধরা পেপার, ইস্টার্ন হাউজিং, এডিএন টেলিকম, কোহিনূর কেমিক্যাল, বাটা সুজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ও লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১২ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ০৭ পয়েন্ট সূচক কমেছে জিপিএইচ ইস্পাতের দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।

সমান ২ দশমিক ০৭ পয়েন্ট সূচক কমেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সোনালী পেপারের দর ২ দশমিক ৭২ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ২১ পয়েন্ট।

এ ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, সি-পার্ল, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৮ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ওরিয়ন, মনোস্পুলের শেয়ার দেখছে মুদ্রার উল্টো পিঠ
পুঁজিবাজারের চাপের মধ্যে আরও একটি আইপিও আবেদন শুরু
ফের ঢালাও পতন, মাথা উঁচু করে জীবনবিমা
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে হঠাৎ চাঙা জীবনবিমা, আগ্রহ ব্যাংকেও
ব্লক মার্কেটে যে দরে বিক্রি হলো ফ্লোরে থাকা শেয়ার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Promotion controversy DSE gives written explanation

পদোন্নতি বিতর্ক: লিখিত ব্যাখ্যা দিল ডিএসই

পদোন্নতি বিতর্ক: লিখিত ব্যাখ্যা দিল ডিএসই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভবন। ফাইল ছবি
ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে একযোগে ৯৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি দিয়েছিলেন তারিক আমিন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হন পরিচালনা পর্ষদের অনেকে। অভিযোগ আছে, ডিএসইর সংক্ষুব্ধ পরিচালকরা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি মানতে না পেরে পদত্যাগ করেন সাবেক এমডি। পরে সেই পদোন্নতি বাতিল করে দেয়া হয়।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চাওয়া লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ডিএসই।

গত ১০ নভেম্বর ডিএসইর মানবসম্পদ নীতিমালা নিয়ে এক বৈঠকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যা ডিএসই গত সোমবার দিয়েছে বলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা ডিএসই দিয়েছে গত ২১ নভেম্বর। ৮টি বিষয়েই জবাব এসেছে।

আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‌'এসব ব্যাখ্যার তথ্য পর্যবেক্ষণাধীন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক নির্বাহী পরিচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিএসইর কাছে মানবসম্পদ নীতিমালা নিয়ে যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল তা তারা দিয়েছে। আমরা তাদের দেয়া ব্যাখ্যাগুলো খতিয়ে দেখছি। সব কিছু আমাদের তদন্তাধীন।’

বিতর্ক কী নিয়ে

ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে একযোগে ৯৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি দিয়েছিলেন তারিক আমিন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হন পরিচালনা পর্ষদের অনেকে। অভিযোগ আছে, ডিএসইর সংক্ষুব্ধ পরিচালকরা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি মানতে না পেরে পদত্যাগ করেন সাবেক এমডি।

পদত্যাগের পর তারিক আমিন ভূঁইয়া বিএসইসিতে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করেন, ডিমিউচুয়ালাইজেশন নীতিমালা মেনেই তিনি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেন। নীতিমালা মেনে কাজের সুযোগ পেলে তিনি আবার ফিরতে চান। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ না দিয়ে অনেকটা তড়িঘড়ি করে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

এরপরই ডিএসইর ১৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। গত ২৭ অক্টোবর ডিএসইর বোর্ডসভায় নেয়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ৬ নভেম্বর। এরপর ৮ কর্মকর্তাকে দেয়া হয় ডাবল প্রমোশন, যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্কের।

আটজনকে কীভাবে ডাবল পদোন্নতি দেয়া হলো, ১৮ জনের পদোন্নতি কীভাবে বাতিল হলো, মানবসম্পদ নীতিমালায় কী আছে, সেগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলে বিএসইসি।

গত ১০ নভেম্বর এক বৈঠকে ডিএসইর কাছে লিখিত জবাব চায় বিএসইসি। ওই বৈঠকে বিএসইসির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। এরপরই গত ২১ নভেম্বর বিএসইসিকে লিখিত ব্যাখ্যা দেয় ডিএসই। ব্যাখ্যাতে তারা ৮টি বিষয় সম্পর্কে বিএসইসিকে বিস্তারিত জানায়।

যেসব বিষয়ে জবাব দিল ডিএসই

যে আট বিষয়ে ডিএসই জবাব দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে ডিএসইর সার্ভিস রুলস ২০১৭ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, বেতন-ভাতা ও জ্যেষ্ঠতা, কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন নির্দেশিকা (বোর্ড অনুমোদিত), ডিএসইর (বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ২০১৩ সালের কর্মকর্তা নীতিমালা, ডিএসই কর্মকর্তাদের ২০১৩ সালের এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন সম্পর্কিত, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ফরম (নির্বাহী এবং এর ওপরে ও নিচের কর্মকর্তাদের), ডিএসই ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তালিকা, ডিএসইর ১০৪০তম বোর্ড সভায় আলোচিত বিবরণী এবং ডিএসইর ১০৪৪তম বোর্ড সভায় আলোচিত বিবরণী সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংযুক্ত করেছে ডিএসই।

তবে ব্যাখ্যায় কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসংযোগ বিভাগে কথা বলতে বলেন। পরে ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তাই আমি কিছু বলতেও পারব না।’

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি বিতর্ক: ডিএসইর লিখিত ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি 
১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল করল ডিএসই
বাধ্যতামূলক ছুটিতে ডিএসইর প্রযুক্তি কর্মকর্তা
ব্রোকারেজ হাউসে বসে সাকিবদের সঙ্গী বিনিয়োগকারীরা
৯ ব্রোকারেজ হাউসে ৬৫ অনিয়ম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC considered the pre opening as an opportunity to manipulate again

প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি

প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি প্রি ওপেনিং সেশন বাতিল করতে যাচ্ছে বিএসইসি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২০২০ সালের অক্টোবরে পুঁজিবাজারে প্রি-ওপেনিং সেশন এবং পোস্ট-ওপেনিং সেশনের চালু করা হয়। পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যে গত ২২ মে প্রি ওপেনিং সেশন বন্ধ করে দেয়া হয়। সে সময় এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কারসাজির বিষয়টি উঠে আসে। তারপরও গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সেশন ফেরায় বিএসইসি। দুই মাস পর আবার সিদ্ধান্ত বদল।

দুই মাস পর আবার শেয়ার লেনদেনের প্রি ওপেনিং সেশন বাতিল করতে যাচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। লেনদেন শুরুর আগের এই সময়ে শেয়ার বিক্রির অর্ডার দেয়ার সুযোগে কারসাজির সন্দেহে বন্ধ করে দিলেও ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবার তা চালু হয়।

দুই মাস যেতে না যেতেই বিএসইসির মূল্যায়ন বলছে, এই প্রি ওপেনিং সেশনে কারসাজি হয়। এখানে অ্যাগ্রেসিভ সেল অর্ডার বসানো হচ্ছে যা পুঁজিবাজারে আতঙ্ক তৈরি করছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম তার সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ সকাল ১০টা থেকে লেনদেন হবে। প্রি-ওপেনিং সেশনের যে পাঁচ মিনিট সময় ছিল, তা আর থাকবে না।’

২০২০ সালের অক্টোবরে পুঁজিবাজারে প্রি-ওপেনিং সেশন এবং পোস্ট-ওপেনিং সেশনের চালু করা হয়। সে সময় সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর আগে ১৫ মিনিট সেল অর্ডার বসানো যেত, আর লেনদেন শেষের ১৫ মিনিট ক্লোজিং প্রাইসে শেয়ার কেনা যেত।

পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যে গত ২২ মে প্রি ওপেনিং সেশন বন্ধ করে দেয়া হয়। সে সময় এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কারসাজির বিষয়টি উঠে আসে। লেনদেন শুরুর আগেই শেয়ারের সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে বিপুল সংখ্যক শেয়ার বসিয়ে রাখা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে এসব কার্যাদেশ বাতিল কিংবা পরিবর্তন হয়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আতঙ্কে বাজারে দরপতন হতে থাকে।

তবে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিএসইসির আরেকটি আদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে প্রি ওপেনিং সেশন দেয়া হয়। এবার এই সেশন দেয়া হয় ৫ মিনিটের।

কারসাজির কারণে বন্ধ করে দেয়া সেশন আবার চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে সে সময় বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রি-ওপেনিং সেশন বন্ধ করার সময় এও বলা হয়েছিল যে, আমাদের এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং মেশিনের সক্ষমতা বেড়েছে, সেটারও পরীক্ষার জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকে ভলিউম বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ হচ্ছিল। ডিএসইতে ট্রেডিং মেশিনে ঝামেল হচ্ছে, যার কারণে ডিএসইর আইটি থেকে আমাদের বারবার অনুরোধ করা হচ্ছিল। যার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রি-ওপেনিং সেশনের সময় রাখা হয়েছে ৫মিনিট। ফলে কারসাজি করা সম্ভব হবে না।’

তখন পুঁজিবাজারে নিয়মিত দেড় হাজার কোটি বা আশেপাশে লেনদেন হচ্ছিল। একদিন দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকাও ছাড়ায় লেনদেন।

তবে গত দেড় মাসের মন্দাভাবে লেনদেন চলতি সপ্তাহে নেমে এসেছে তলানিতে। দুই তিন তিন শ কোটির ঘরে এবং একদিন চার শ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে।

বিএসইসির মুখপাত্র নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা খেয়াল করে দেখেছি অ্যাগ্রেসিভ সেল অর্ডার বসানো হচ্ছে, যা গত ৫-৬ দিনেও যা হয়নি, সেই রকম। এসব সেল অর্ডার স্বাভাবিক নয়। এসব অযাচিত এবং অ্যাবনরমাল সেল অর্ডার যাতে বাজারে প্র্রভাবিত করতে না পারে এবং বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন না হন, তার জন্যই এটি তুলে নেয়া হয়েছে।’

একই বিষয়ে বিএসইসির বারবার সিদ্ধান্ত বদল সংস্থাটির অস্থিরতার প্রমাণ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাজার মন্দায় রয়েছে। এখন অনেক কিছুই হতে পারে। সে জন্য হয়তো কিছু একটা করে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এর ফলে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কি-না তা কালই বোঝা যাবে। বাজার কী রিঅ্যাক্ট করা তা দেখার বিষয়।’

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘যদি অ্যাগ্রেসিভ অর্ডার বসানো হয়, তাহলে এটা ভালো হয়েছে। তবে এটা খুব বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না।’

একই বিষয়ে বিএসইসির বারবার সিদ্ধান্ত বদলকে কীভাবে দেখছেন- এই প্রশ্নের অবশ্য সরাসরি কোনো জবাব দেননি এই দুই জন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Investment in SMEs Chambers court did not hear BSECs plea

এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত

এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
পুঁজিবাজারে এসএমই (স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর প্ল্যাটফর্ম) মার্কেটে লেনদেনের জন্য কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার শর্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ১৩ নভেম্বর বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেয়। সেই আদেশ স্থগিত চেয়েছিল বিএসইসি। আবেদন না শুনে আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেয় চেম্বার আদালত।

পুঁজিবাজারে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর প্ল্যাটফর্ম এসএমই মার্কেটে লেনদেনের জন্য ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগের শর্ত স্থগিতের বিরুদ্ধে বিএইসির আবেদন গ্রহণ হলো না।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে চেম্বার আদালত। আগামী ৫ ডিসেম্বর সেখানে শুনানি হতে পারে।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার ‘নো অর্ডার’ দিয়ে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়।

এ আদেশের ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

চেম্বার আদালতের আদেশের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর আইনজীবী মোস্তফা কামাল।

পুঁজিবাজারে এসএমই (স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর প্ল্যাটফর্ম) মার্কেটে লেনদেনের জন্য কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার শর্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ১৩ নভেম্বর বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেয়।

একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিলে আবেদন করে বিএসইসি।

আদালতে বিএসইসির পক্ষে শুনানি করেন এ এম মাসুম। আর রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তফা কামাল।

বিএসইসির আইনজীবী এ এম মাসুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে যেহেতু বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সে কারণে ফুল বেঞ্চে শুনবেন। এ জন্য আবেদনটি ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।

কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার শর্ত দিয়ে বিএসইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেন্জ করে রাজধানীর দিলকুশার বাসিন্দা মো. রাজু হাসান হাইকোর্টে রিট করেন।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর লেনদেনের জন্য এসএমই প্ল্যাটফর্ম চালু হয়। সেদিন প্রাথমিকভাবে ছয়টি কোম্পানি নিয়ে ডিএসইর এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন চালু করা হয়। বর্তমানে এসএমইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ১৫টি। এর মধ্যে ১৩ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে।

প্রথমে এক কোটি, পরে ৫০ লাখ, এরপর ২০ লাখ এবং সবশেষ ৩০ লাখ- পুঁজিবাজারে কত টাকা বিনিয়োগ থাকলে এসএমই বোর্ডের শেয়ার কেনা যাবে, এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত।

সবশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত আসে, এসএমইতে লেনদেনে যোগ্য বিনিয়োগকারীর হতে শেয়ারবাজারে ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে।

আরও পড়ুন:
ফের ঢালাও পতন, মাথা উঁচু করে জীবনবিমা
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে হঠাৎ চাঙা জীবনবিমা, আগ্রহ ব্যাংকেও
ব্লক মার্কেটে যে দরে বিক্রি হলো ফ্লোরে থাকা শেয়ার
৩০ লাখ বিনিয়োগ ছাড়াই কেনা যাবে এসএমইর শেয়ার
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিডি ফাইন্যান্সের ‘ব্লু সিপ’

মন্তব্য

p
উপরে