× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Imports are decreasing remittances are increasing relief is returning
hear-news
player
print-icon

আমদানি কমছে, বাড়ছে রেমিট্যান্স, ফিরছে স্বস্তি

আমদানি-কমছে-বাড়ছে-রেমিট্যান্স-ফিরছে-স্বস্তি
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টের ১১ দিনে পণ্য আমদানির জন্য ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। আগের মাস জুলাইয়ের এই ১১ দিনে ২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে; অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে অর্থনীতি; রিজার্ভ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে, বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বিশাল ঘাটতিতে পড়ে ওলোটপালট হয়ে গেছে সব হিসাবনিকাশ। সেই আমদানি খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টের ১১ দিনে পণ্য আমদানির জন্য ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। আগের মাস জুলাইয়ের এই ১১ দিনে ২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। তার আগের মাস জুনের ১১ দিনে খোলা হয়েছিল ২ দশমিক ৩৩ বিলিরয়ন ডলারের এলসি।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৫৫৫ কোটি (৫.৫৫ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা জুনে ছিল ৭৯৬ কোটি (৭.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ জুন থেকে জুলাই মাসে এলসি খোলা কমেছে ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ। জুনে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৭৭৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ে সেটি ১১৭ কোটি ডলার কমে ৬৫৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক আর্থিক বছরে পণ্য আমদানিতে এত ব্যয় হয়নি।

অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০২০-২১ অর্থবছরের মতো উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। আগস্টের প্রথম ১০ দিনেই ৮১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো মাসেই ১০ দিনে এত বেশি রেমিট্যান্স কখনই আসেনি দেশে।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে ১০ দিনের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৭ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।

এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৮ কোটি ১৩ লাখ ডলার বা ৭৭২ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকার বেশি দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

আমদানি কমছে, বাড়ছে রেমিট্যান্স, ফিরছে স্বস্তি

মাসের বাকি ২০ দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে, এমন আশার কথা শুনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্ট মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে এটি বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্ট মাসের ১০ দিনে (১ থেকে ১০ আগস্ট) ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত (১ মাস ১০ দিনে) ২৯১ কোটি (২.৯১ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ২৫৪ কোটি ৭০ লাখ (২.৫৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে কয়েক দিন আগে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে, এই প্রশ্ন সবার মধ্যে, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

‘মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা’- এই মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

আরেক অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের ফলে আমদানি কমতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে এটা সত্যিই স্বস্তির খবর। এভাবে আমদানি কমলে আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়লে খুব শিগগিরই আমাদের সংকট কেটে যাবে।

‘এখানে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে, আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা কিন্তু এখনও ভালো অবস্থায় আছে। রপ্তানি বাড়ছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে। আমদানি কমছে। সমস্যা যেটা, সেটা হচ্ছে, ডলারের অস্থির বাজার এবং ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতি নিয়ে। মূল্যস্ফীতি এখনও খুব বেশি ওপরে উঠেনি। জ্বালানি তেলের মূল্যস্ফীতির কারণে সেটা হয়তো বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন যেটা করতে হবে, সেটা হলো, ডলারের বাজারকে যে করেই হোক স্থিতিশীল করতে হবে। টাকাকে শক্তিশালী করতে হবে। আর এ জন্য কিছু সময়ের জন্য হলেও ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানো উচিৎ। তাহলে বাজারে টাকার সরবরাহ কমে আসবে; টাকার চাহিদা বাড়বে, ডলারের বিপরীতে শক্তিশারী হবে।

‘এই কাজটি এখন সরকারের নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরিভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর প্রায় একই। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

আমদানি কমছে, বাড়ছে রেমিট্যান্স, ফিরছে স্বস্তি

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণ উল্লেখ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর জুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ২১ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
১১ মাস পর হিলি দিয়ে ভারত থেকে এলো চাল
সিঙ্গাপুর থেকে গম ও সৌদি থেকে সার কিনবে সরকার
আমদানিতে বিলম্ব মূল্য পরিশোধের সময় বেড়ে দ্বিগুণ
কমছে আমদানি, ফিরছে স্বস্তি
বিলাস পণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণ নয়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Banks have increased spending on sustainable and green financing

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক। প্রতীকী ছবি
কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণে বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি। বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততা। ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করে তা বন্ধে শুরু হয়েছে নানামুখী কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্যাংক।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

ঝুঁকি কমাতে এই দুই খাতে অর্থায়নের লক্ষ্য বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খাতে অর্থায়নে নজর বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি এখন দেশের অনেক ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে।

ব্যাংকগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার। কাগজের ব্যবহার কমাতেও উদ্যোগ নিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক। এ খাতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন বাড়ছে।

চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩১ হাজার ৬২২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০৫০ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫০ শতাংশ সবুজ অর্থায়নে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তবে এ দুটি খাতে ঋণ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার কমাতে হবে।

টেকসই অর্থায়নে কত অর্থ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স পলিসি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সাসটেইনেবল ফিন্যান্সের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের অধিকাংশই সবুজ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করে ২৫ হাজার ২৯০ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৮৫৯ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ঋণ বিতরণের এই ঊর্ধ্বমুখী হার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সবুজ অর্থায়নের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

টেকসই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব কারখানা, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পে অর্থায়ন। যদিও মোট ঋণের ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের ৭৩ শতাংশ নিয়েছে পুরুষ আর ২৭ শতাংশ নারী।

সবুজ অর্থায়ন

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ৩১০ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

মার্চ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার অর্থায়ন করে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৪০৯ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন অন্যতম। এই খাতে মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ ঋণ দেয়ার শর্ত রয়েছে।

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে দুই বছর ধরে বিভিন্ন মানদণ্ডে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) টেকসই বা সাসটেইনেবল রেটিং বা মান প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

চলতি জুন শেষে টেকসই অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্জন করেছে। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তালিকায় দ্বিতীয় ন্যাশনাল ব্যাংক ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এরপর আছে যথাক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৫৩ দশমিক ৭২, কৃষি ব্যাংক ৫০ দশমিক ৬৭, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ৩১ দশমিক ৪৭, ট্রাস্ট ব্যাংক ২৮ দশমিক ৫৫, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৫ দশমিক ৮১, যমুনা ২৩ দশমিক ০৯, এনআরবি কমার্শিয়াল ২২ দশমিক ৪১, ব্র্যাক ২০ দশমিক ৬৮ এবং জনতা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ১১ শতাংশ বিতরণ করেছে।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া লংকান অ্যালায়েন্স ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হজ ফাইন্যান্স ৫৭ শতাংশ, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ ও সিভিসি ফাইন্যান্স ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
মহামারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জোয়ার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Justice is not a reward if there is a case

মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়

মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়
যথাসম্ভব প্রমাণের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে হবে। কোনো কর্মীর মোট প্রাপ্ত নম্বর ন্যূনতম ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়ার নীতিমালার পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন অথবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়া যাবে না।

এ ছাড়া পুরস্কার পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যূনতম তিন বছর সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান (সংশোধন) নীতিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, শুদ্ধাচার পুরস্কার পেতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যূনতম তিন বছর সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।

যথাসম্ভব প্রমাণের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে হবে। কোনো কর্মীর মোট প্রাপ্ত নম্বর ন্যূনতম ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ অভিযোগ তদন্তাধীন অথবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।

একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্ত নম্বর একই হলে যৌথভাবে সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন করতে হবে এবং প্রত্যেকে পৃথকভাবে পুরস্কৃত হবেন।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেকোনো অর্থবছরে একবার শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে বদলি বা পদোন্নতি হলেও তিনি পরবর্তী তিন অর্থবছরে পুনরায় পুরস্কার পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

বদলিযোগ্য চাকরির জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের প্রত্যয়ন নিতে হবে।

পুরস্কার দিতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে বাছাই কমিটি করতে নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননার পাশাপাশি সর্বশেষ মূল বেতনের সমপরিমাণ এক মাসের অর্থ প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন:
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক
শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি
কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sonali Bank will provide loans for wheat and corn cultivation

গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র সই করেছে সোনালী ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেবে। অংশগ্রহণ চুক্তি করা ব্যাংকগুলো চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেবে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করবে।

গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়াতে এ দুই খাতে ঋণ দেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র সই করেছে সোনালী ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে তহবিলের চুক্তিতে সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফজাল করিম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষি ঋণ বিভাগের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ সই করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ ও জেনারেল ম্যানেজার মো. নূরুন নবী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগের উপপরিচালক মার্জিয়া আক্তার ও যুগ্ম পরিচালক মো. হাসান চিশতী।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেবে। অংশগ্রহণ চুক্তি করা ব্যাংকগুলো চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেবে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করবে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গম ও ভুট্টা চাষের উপযোগী অঞ্চলগুলোতে বিতরণে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান-সিইওর শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সোনালী ব্যাংক চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা
জিয়াউল হাসান আবারও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The dollar rate of remittances is also decreasing

কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর

কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর
বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে: বাফেদা চেয়ারম্যান

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনতে প্রতি ডলারের জন্য সর্বোচ্চ দর ১ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে।

আমদানি কমায় এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

বাজারে ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা গত ১১ সেপ্টেম্বর এক সভায় ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। তাতে রপ্তানি আয়ে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দাম ৯৯ টাকা, প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা দাম বেঁধে দেয়া হয়। আর ডলারের পাঁচ দিনের গড় খরচের চেয়ে এক টাকা বেশি দামে আমদানি দায় শোধ করতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। যেটাকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এর মধ্য দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজারভিত্তিক করা হয়েছে।

টাকা-মুদ্রা বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পর মঙ্গলবার ডলারের তেজ বেশ খানিকটা কমেছিল। এক দিনের ব্যবধানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দর সাড়ে ৫ টাকা কমেছিল। কিন্তু বুধবার তা ফের বেড়েছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ছিল ৮ টাকা ৩৫ পয়সা। মঙ্গলবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ৫ টাকা ৪৪ পয়সা কমে ১০২ টাকা ৫৬ পয়সায় নেমে আসে। আর সর্বনিম্ন দর ২ টাকা ১৩ পয়সা বেড়ে ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা হয়েছিল। ব্যবধান নেমে এসেছিল মাত্র ৭৮ পয়সায়।

বুধবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ফের বেড়ে ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সায় উঠেছে। সর্বনিম্ন দর ছিল ১০০ টাকা। ব্যবধান বেড়ে ৭ টাকা ৬৫ পয়সা হয়েছে।

‘আগামী সপ্তাহ থেকে ডলার দুর্বল হবে; টাকা শক্তিশালী হবে’ এমন আশার কথা শুনিয়ে বাফেদার চেয়ারম্যান সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম বলেন, ‘ডলারের বাজার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমদানি বেশ কমেছে; রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এখন ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হবে। আর এটা অব্যাহত থাকবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১ টাকা কমিয়ে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

নতুন দর নির্ধারণের পর আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর আরও কমে আসবে জানিয়ে আফজাল বলেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

সংকট নিরসনে ডলারের দামের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে দাম বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছিল না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছিল। দুর্বল হচ্ছিল টাকা; শক্তিশালী হয়েই চলছিল ডলার। তবে মঙ্গলবার থেকে স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু বুধবার ফের হোঁচট খেয়েছে।

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে খুব একটা ডলার বিক্রি করছে না। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য রিজার্ভ থেকে সামান্য কিছু ডলার বিক্রি করা হচ্ছে।

সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বুধবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০২ টাকা ৫৬ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সোমবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা; সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা।

১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়েছিল।

কয়েক দিন ধরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেট এবং ব্যাংকগুলোতে একই দামে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ২০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা ৯০ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ব্যাংকে নগদ ডলারের দামও কমে আসবে।’

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এতদিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের বাজার বাজারভিত্তিক করা হয়। ওইদিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রাটির বিনিময় হার ঠিক করে দেয়া হয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাড়ে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দর পতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাফেদার দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই। তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংকে ডলারের নতুন দর কার্যকর হয়নি
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’
ডলারের একক রেট: রেমিট্যান্সে ১০৮, রপ্তানিতে ৯৯
ডলারের অভিন্ন দর নির্ধারণে আরও সময় চায় এবিবি ও বাফেদা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shanta Holdings and BRAC Bank deal

শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি

শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি
চুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণের পাশাপাশি এমপ্লয়ি ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের সেবা ও সুবিধা উপভোগ করবেন।

ব্র্যাক ব্যাংক শান্তা গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান-শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড ও শান্তা লাইফস্টাইল লিমিটেডের সঙ্গে এমপ্লয়ি ব্যাংকিং চুক্তি করেছে।

এই চুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণের পাশাপাশি এমপ্লয়ি ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের সেবা ও বিশেষায়িত সুবিধা উপভোগ করবেন বলে ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানে শান্তা গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম আনিসুল হক, শান্তা হোল্ডিংসের সিইও এম হাবিবুল বাসিত, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (হেড অব অ্যাডমিন অ্যান্ড এইচআর) ইরশাদুর রহমান এবং শান্তা লাইফস্টাইলের সিইও দেওয়ান এম সাজিদ আফজাল।

ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মাহীয়ুল ইসলাম, হেড অব এমপ্লয়ি ব্যাংকিং খন্দকার এমদাদুল হক, এরিয়া হেড, ঢাকা ওয়েস্ট রিজিওন আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকরা ‘উপায়’ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন
৭% সুদে সিএমএসএমই ঋণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকে জাতীয় শোক দিবস পালন
ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ গ্রাহকদের ছাড় দিচ্ছে ওয়ান্ডার ওম্যান
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং বন্ডের সাবস্ক্রিপশন ক্লোজার অনুষ্ঠান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Inconvenience of additional charges on card purchases

কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি

কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড। ফাইল ছবি
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ডের সুদের পাশাপাশি কেনাকাটায় বাড়তি আরও ১ থেকে ২ শতাংশ অর্থ দাবি করছেন বিক্রেতা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা করে নেয়া হয় বাড়তি অর্থ।

বেসরকারি একটি আইটি ফার্মের হিসাব শাখায় কাজ করেন তাসনুভা চৌধুরী। রাজধানীর একটি মার্কেটে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিনতে যান শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি, কিন্তু কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে চাইলে দামের চেয়ে কেটে রাখা হয় বাড়তি আরও ২ শতাংশ অর্থ, কিন্তু তা দিতে আপত্তি জানালে শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতার বিতণ্ডা।

তাসনুভার প্রশ্ন, ‘কেনাকাটায় বাড়তি ২ শতাংশ অর্থ গুনতে হবে কেন?’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ডের সুদের পাশাপাশি কেনাকাটায় বাড়তি আরও ১ থেকে ২ শতাংশ অর্থ দাবি করছেন বিক্রেতা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা করে নেয়া হয় বাড়তি অর্থ।

ইলেকট্রনিকস পণ্য, মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ এই ধরনের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রকৃত দামের চেয়ে বাড়তি অর্থ নেয়া হয়। নগদ কেনাকাটায় যে দাম, ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ডে নেয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের সঙ্গে দুই ধরনের দামই উল্লেখ থাকে।

বিভিন্ন দেশে কার্ডে কেনাকাটায় যে চার্জ আসে, সেটা পরিশোধ করেন বিক্রেতা; ক্রেতাকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।

বাংলাদেশে বিশেষ করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক তার গ্রাহকদেরকে এসএমএস পাঠিয়ে বলছে, যারা এই ধরনের চার্জ আরোপ করে, তাদেরকে এড়িয়ে চলতে। অর্থাৎ এই চার্জ আসলে গ্রাহকের দেয়ার কথাই না।

সম্প্রতি ব্যাংক এক এসএমএসে বলেছে, ‘কার্ডে মূল্য পরিশোধে কোনো বাড়তি চার্জ ব্যাংক আরোপ করে না। কার্ড পেমেন্টে বাড়তি চার্জ দাবি করা বিক্রেতাকে এড়িয়ে চলুন।’

বিদেশি ব্র্যান্ডের একটি এসি কিনে বাড়তি অর্থ দিয়েছেন শেওড়াপাড়ার ক্রেতা আশিক মাহমুদ। তিনি জানান, এক টনের একটি এসির প্রকৃত দাম চাওয়া হয় ৪৭ হাজার টাকা, তবে ছাড় দিয়ে দাম দাঁড়ায় ৪৩ হাজার টাকা। বলা হয় নগদ টাকার ক্ষেত্রে এই দাম প্রযোজ্য, কিন্তু ক্রেডিট কার্ডে ইএমআইয়ের মাধ্যমে নিলে ছয় মাসে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। কিন্তু এতে ২ শতাংশ চার্জ প্রযোজ্য হবে।

আশিক জানান, শেষ পর্যন্ত বাড়তি ২ শতাংশ অর্থ দিয়ে পণ্যটি কিনতে হয়েছে। এ ছাড়া ওই ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার উপায় ছিল না।

দোকানি জানান, মূলত শীতের সময় ১ অথবা ২ শতাংশ বাড়তি অর্থ নেয়া হয় না, কিন্তু গরমের সময় যখন বেশি চাহিদা থাকে, তখন এ চার্জ প্রযোজ্য হয়। বেশি বিক্রি হলে লাভ কম নিলেও হয়। তখন ২ শতাংশ কোম্পানির লাভের অংশ থেকে সমন্বয় করা হয়।

ব্যাংকগুলো কী বলে

ক্রেডিট কার্ড সেবাকে জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ছাড় দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথম বছরে মাশুল ফ্রি ও নির্দিষ্টসংখ্যক লেনদেনে প্রতি বছর মাশুল মওকুফ সুবিধা। এ ছাড়া রয়েছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট সুবিধা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য কেনাকাটায় ছাড়, হোটেলে থাকা ও খাওয়ায় নানা অফারসহ বিভিন্ন বাড়তি সুযোগও রয়েছে।

এসবের পাশাপাশি গ্রাহকের তাৎক্ষণিক টাকার চাহিদা মেটাচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। টাকার প্রয়োজনে কারও কাছে না গেলেও চলে।

সাধারণত কার্ড পেমেন্টে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পিওএস মেশিন সরবরাহ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

কার্ডে পেমেন্টে মার্চেন্ট ও ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা থাকে যে, এই সার্ভিস ব্যবহারের জন্য মার্চেন্টদের প্রতিটি ট্রান্সজেকশন বাবদ নির্দিষ্ট হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। একে অ্যাকুয়ারিং ফি বলা হয়। এই অর্থ মার্চেন্ট তার মুনাফা থেকেই পরিশোধ করবেন। এই টাকা কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকদের থেকে নেয়া যাবে না।

আগে একেক ব্যাংক ইচ্ছামতো অ্যাকুয়ারিং ফি ধার্য করতে পারত, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চার্জ ১ দশমিক ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ জন্য এখন চুক্তির বাইরে বেশি চার্জ নেয়ার সুযোগ নেই।

কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি

বেসরকারি এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ কার্ডে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যেকোনো পণ্য কার্ড পেমেন্টে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের সঙ্গে মার্চেন্টদের চুক্তি করা হয়।

‘মার্চেন্ট ও ব্যাংকগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে এখানে মার্চেন্ট কমিশন, মার্চেন্ট ফি, ব্যাংকের লাভ—সব বিষয় নির্ধারিত হয়। চুক্তির বাইরে মার্চেন্টের কোনো অতিরিক্ত চার্জ রাখার সুযোগ নেই। কারণ সবসময় ব্যাংকগুলো এসব বিষয় তদারকি করে।’

তিনি বলেন, ‘নগদ পেমেন্টের চেয়ে কার্ডে পেমেন্টে সবসময় টাকা বেশি নেয়া হয়, সেটা নয়। ব্যাংকভেদে বিয়য়টি নির্ধারণ হয়। একটি পণ্য কিস্তিতে কেনার ক্ষেত্রে হয়তো গ্রাহককে কিছু বেশি টাকা গুনতে হয়, কিন্তু এখানে গ্রাহককেও কিন্তু সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বড় কোনো ইলেকট্রনিক পণ্য একবারে কিনতে যে টাকা লাগত, সেটা গ্রাহক ছয় মাস বা এক বছরে বা তারও বেশি সময়ে শোধ করার সুবিধা পাচ্ছেন। মার্চেন্ট কিন্তু এখানে টাকাটা একবারে পাচ্ছে না। তার টাকা আটকে থাকছে। সে জন্য হয়তো সামান্য কিছু লাভ তারা রাখে, তবে চুক্তিতে এ বিষয় না থাকলে অতিরিক্ত এ টাকা নেয়ারও সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু কার্ডে পেমেন্টের জন্য বাড়তি টাকা কেটে রাখার কোনো ‍সুযোগ নেই। গ্রাহক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের বাৎসরিক চার্জ থাকে। সেটা দিতে পারে, কিন্তু কার্ডে কিনলেই তাকে এক্সট্রা টাকা দিতে হবে, যেটা নগদ পেমেন্টে দিতে হবে না। এমন কোনো নিয়ম নেই।’

চার্জ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

ওই সার্কুলারে ব্যাংকগুলো থেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) এবং ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম (আইপিএস) ও কার্ড স্কিমের মাধ্যমে করা ইলেকট্রনিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ফি বা চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের পয়েন্ট অফ সেলস (পিওএস) ব্যবহার করে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট হতে মোট লেনদেনের অন্যূন ১ দশমিক ৬ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাবদ আদায় করবে। এর মধ্য থেকে আইআরএফ বাবদ ১ দশমিক ১ শতাংশ কার্ড ইস্যুয়িং ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে দেবে।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ছাড়াই অধিগ্রহণকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট লেনদেনের ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে ১ দশমিক ১ শতাংশ যাবে কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কাছে।

পিওএস লেনদেনে একেক ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চার্জ কাটত, তাই বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার্থে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হার নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ইন্টারনেট পেমেন্ট সিস্টেমের (আইপিএস) নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হলে আইআরএফ বাবদ চার্জের অতিরিক্ত দশমিক ২ শতাংশ চার্জ দিতে হবে।

ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কার্ড লেনদেন, ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করলে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট লেনদেনের দশমিক ৭ শতাংশ এমডিআর হিসেবে আদায় হবে। এর মধ্যে দশমিক ৪ শতাংশ কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে যাবে বিনিময় ফি (আইআরএফ) হিসেবে।

এসব ফি বা চার্জ কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকদের থেকে আদায় করা যাবে না। বিষয়টি অ্যাকুয়ারিং ব্যাংক নিশ্চিত করবে।

কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেন

গ্রাহকের তাৎক্ষণিক টাকার চাহিদা মেটাচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। টাকার প্রয়োজনে কারও কাছে না গিয়ে এই কার্ডে ব্যাংকের বুথ থেকে নগদ টাকা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের কেনাকাটা ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। কোনো সুদ ছাড়া টাকা পরিশোধে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় মিলছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বিদেশে গিয়েও এসব কার্ডে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য এ কার্ডের ব্যবহার ও লেনদেন দিন দিন বাড়ছে।

২০২১ সাল শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬২টি। ছয় মাস শেষে জুনে সেটা বেড়ে হয় ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬টি।

গত বছরের ডিসেম্বরের ক্রেডিট কার্ডে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। চলতি বছরের জুনে লেনদেন হয় ২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এটি ক্রেডিট কার্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন।

অন্যদিকে ২০২১ সাল শেষে ডেবিট কার্ড ছিল ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার। এ কার্ডে লেনদেন হয় ২৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

ছয় মাসে সেটা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৩১টি। জুনে এ কার্ডে লেনদেন হয় ৩৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগে নিতে হবে অনুমতি
ঢাকায় আসছেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট
চট্টগ্রামে রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন
সুদের হার বৃদ্ধিতে বিশ্ব মন্দা আসন্ন: বিশ্বব্যাংক
এক্সিম ব্যাংকের নতুন এমডি ফিরোজ হোসেন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
PSO License Pay Service Hub

পিএসও লাইসেন্স পেল সার্ভিস হাব

পিএসও লাইসেন্স পেল সার্ভিস হাব রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে পাঠিয়েছে।

প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সার্ভিস হাব লিমিটেডকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের (পিএসও) লাইসেন্স দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ভেতরে ‘পেস্টেশন’ নামে ব্যবসায়ীদের সেবা দেবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে পাঠিয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এর ৭ (এ) (ই) ধারার আওতায় জারি করা বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস রেগুলেশনস ২০১৪ অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্ভিস হাব লিমিটেডকে দেশের অভ্যন্তরে ‘পেস্টেশন’ ব্র্যান্ড নামে পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স দিয়েছে।

আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পিএসপি ও পিএসও লাইসেন্স দিয়েছে। আইপে সিস্টেম, ডি মানি ও রিকারশন ফিনটেককে পিএসপি লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

পিএসও লাইসেন্স আছে আইটি কনসাল্ট্যান্ট, এসএসএল কমার্স, সূর্যমুখী লিমিটেড ও অপটিমাম সলিউশনের।

মন্তব্য

p
উপরে