× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Agreement between Padma Bank and Flora Systems
hear-news
player
google_news print-icon

পদ্মা ব্যাংক ও ফ্লোরা সিস্টেমসের চুক্তি

পদ্মা-ব্যাংক-ও-ফ্লোরা-সিস্টেমসের-চুক্তি
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ফ্লোরা সিস্টেমস লিমিটেড ও পদ্মা ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
এই চুক্তির আওতায় সর্বপ্রথম ‘ফ্লোরাব্যাংক কনভেনশনাল কোর ব্যাংকিং’ (সিবিএস) এবং ইসলামিক ব্যাংকিং ‘ফ্লোরাব্যাংক ইনসাফ’ তথ্য প্রযুক্তি সেবার মান উন্নয়নে সংযুক্ত হবে।

দেশীয় ব্যাংকিং সফটওয়্যার কোম্পানি ফ্লোরা সিস্টেমস লিমিটেডের সঙ্গে কোর ব্যাংকিং সল্যুশন এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক এক চুক্তি সই করেছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।

রাজধানীর গুলশানে পদ্মা ব্যাংকের কর্পোরেট হেড অফিসে বুধবার সকালে চুক্তিটি সই হয়।

চুক্তিপত্রে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান এবং ফ্লোরা সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তাফা রফিকুল ইসলাম সই করেন।

এই চুক্তির আওতায় সর্বপ্রথম ‘ফ্লোরাব্যাংক কনভেনশনাল কোর ব্যাংকিং’ (সিবিএস) এবং ইসলামিক ব্যাংকিং ‘ফ্লোরাব্যাংক ইনসাফ’ তথ্য প্রযুক্তি সেবার মান উন্নয়নে সংযুক্ত হবে।

এ ছাড়াও এএমএল, সিএফটি সলিউশান, রেগুলেটরি রিপোর্টিং, ড্যাশবোর্ড, ফিক্সড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, এজেন্ট ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ওয়ালেট, ম্যানেজমেন্ট ড্যাশবোর্ড, এমআইএস রিপোর্টিং, কিওস্কসহ আরও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আহসান চৌধুরী, এসইভিপি ও সিএইচআরও এম আহসান উল্লাহ খান, এসইভিপি ও সিএফও বাদল কুমার নাথ, ইভিপি ও হেড অব অপারেশনস সৈয়দ তৌহিদ হোসেন, ভিপি ও চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার মোশাররফ হোসেন খান, ফ্লোরা সিস্টেমস লিমিটেডের সিআইটিও এস কে ভৌমিক এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার মোকবুল হোসেইনসহ দুই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
সিএডি-এর আধুনিকায়ন ও কেন্দ্রীয়করণ করল পদ্মা ব্যাংক
পদ্মা ব্যাংকের কল্যাণ তহবিলের চেক হস্তান্তর
শোকাবহ আগস্টে পদ্মা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের শোক প্রস্তাব
পদ্মা ব্যাংক ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মধ্যে চুক্তি
বানভাসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পদ্মাসহ ৪৫ ব্যাংকের অনুদান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
War shocks growth to 6 1 percent World Bank

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক বলছে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ। ওই দুই দেশের মত বাংলাদেশের রিজার্ভ বিপদজনকভাবে তলানিতে নেমে যায়নি, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে না; মূল্যস্ফীতি এখনও ১০ শতাংশের নিচেই আছে।

দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে (২০২৩ সালের জুন শেষে) বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি।

তবে এই প্রবৃদ্ধি সংস্থাটির আগের দেয়া পূর্ভাভাসের চেয়ে দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। গত জুন মাসে বিশ্ব্যাংক বলেছিল, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এই প্রবৃদ্ধি মালদ্বীপ ও ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে ক্যালেন্ডার বছরকে আর্থিক বছর হিসাবে ধরা হয়। সে হিসাবে ২০২৩ সালে মালদ্বীপে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হবে। ভারতে আর্থিক বছর হিসাব করা হয় এপ্রিল-মার্চ। সে হিসাবে ২০২২-২৩ ভারতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর আর্থিক বছর হিসাব করা হয় জুন-জুলাই। সে হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নেপালের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া ভূটানে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির হালচাল নিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আশার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার পর যুদ্ধের ধাক্কা এবং শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও পাকিস্তানের বন্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। জুনের পূর্বাভাসের চেয়ে যা ১ শতাংশ পয়েন্ট কম।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন করেছিল দেশটি। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো যুদ্ধের ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে।

যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হয়। যুদ্ধের কারণে তা কমে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ অর্জিত হবে। আর আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্জিত হবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ থেকে পজিটিভে গিয়ে ১ শতাংশ হবে। পাকিস্তাতে বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে এবং আগামী অর্থবছরেও তা অব্যাহত থাকবে।

বৈশ্বিক ধাক্কা ভালোভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংক বলেছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালোভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ। তানাহলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতো। মূলত বৈশ্বিক সংকটের বিস্তৃত পরিসর বিবেচনায় নিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে এই পরিবর্তন আনার কথা বলেছে আর্থিক খাতের এই বিশ্ব সংস্থাটি।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, আর্থিক সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে চাপে ফেললেও, কয়েকটি দেশ অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারছে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

প্রতিবেশী ভারতের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের চেয়ে পুরো এক শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে সংস্থাটি। নতুন প্রাক্কলন বলছে, চলতি অর্থবছরে ভারত সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট, পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা, বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীর গতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ যোগ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া একটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে।

এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলোর এখন উচিত অর্থনীতির ‘সহনশীলতা’আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ভারতে রপ্তানি ও সেবা খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি গড় বৈশ্বিক ঘুরে দাঁড়ানোর হারের চেয়ে বেশি। সেদেশের বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্ট মজুতও অর্থনীতির জন্য একটি সুরক্ষা হিসেবে কাজ করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে আসায় এবং ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টে’এর চাপ বাড়তে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পর, তৃতীয় দেশ হিসেবে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

‘তবে অন্য দুই দেশের মত বাংলাদেশের রিজার্ভ বিপদজনকভাবে তলানিতে নেমে যায়নি, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে না, এবং মূল্যস্ফীতির হারও এখনও ১০ শতাংশের নিচেই আছে, যদিও তা সাম্প্রতিক হিসাবে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে,’ বলছে বিশ্ব ব্যাংক।

ডলারের সাম্প্রতিক চাঙাভাব, আর ডলারের বিপরীতে ইউরোর দরপতনে বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যে বেশি খরচ করতে হচ্ছে ইউরোপীয় ভোক্তাদের, কারণ দুই পক্ষের বাণিজ্যের লেনদেন ডলারে মীমাংসা হয়ে থাকে এবং স্বল্প মেয়াদে ডলারের দর যথেষ্ট চড়া অবস্থায় আছে।

এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকা দর হারালেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।

বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক রাইজার বলেন, ‘মহামারি, বৈশ্বিক তারল্য ও পণ্যমূল্যে হঠাৎ পরিবর্তন, কিংবা আবহাওয়ার চরম বিপর্যয়কে এক সময় ঝুঁকির তালিকায় শেষ দিকে রাখা হত। কিন্তু গত দুই বছরের মহামারির ধাক্কার ঠিক পরপরই এই তিন বিপর্যয় দ্রুত দেখা দিয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ধাক্কা মোকাবেলার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোকে মজবুত আর্থিক কাঠামো ও মুদ্রার মজুদ গড়তে হবে এবং নিজেদের জনগণের সুরক্ষা বাড়াতে সীমিত সম্পদের পুনর্বিন্যাস করতে হবে।’

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বাণিজ্যে বিধিনিষেধ এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এ বছর তা ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এরপর তা কমতে শুরু করবে।

‘বিশেষ করে এ অঞ্চলের দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর প্রকৃত আয় ব্যাপকভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে, যারা তাদের আয়ের সিংহভাগ খাবার কেনার পেছনে খরচ করতে বাধ্য হন।’

এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় মানুষের চলাফেরায় বিধিনিষেধ থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে যারা অনানুষ্ঠানিক পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের অনেকেই দারুণ ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

অবশ্য মহামারির পরের দিককার পরিস্থিতি এটাও দেখিয়েছে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অভিবাসন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ব ব্যাংকের জরিপের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২২ এর প্রথম ভাগ পর্যন্ত, যে অঞ্চলগুলো মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেসব অঞ্চলে অভিবাসীদের প্রবাহ, যেসব অঞ্চল তুলনামূলক কম ক্ষতির মুখে পড়েছে সেসব অঞ্চলের চেয়ে বেশি ছিল, যা কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে শ্রমের চাহিদা ও যোগানের ক্ষেত্রে একটি সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

আরও পড়ুন:
ওয়াশিংটনের বৈঠকে বাংলাদেশের চোখ ঋণে
শেখ হাসিনার উন্নয়ন-নেতৃত্বের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংক
করোনার ধাক্কা সামলাতে আরও ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
বন্যা মোকাবিলায় ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৪৮১২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trading of government securities started on Monday

সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু সোমবার

সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু সোমবার পুঁজিবাজারে শুরু হচ্ছে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
নির্ধারিত সময়ে ট্রেডিং শুরুর সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি সিকিউরিটিজ আগামী ১০ তারিখ (১০ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। বিএসইসির থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করেছি।’

আগামী সোমবার থেকে পুঁজিবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেন শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিকে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিএসইসির পক্ষ থেকে ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রস্তুতিসম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যদিও লেনদেন শুরুর কথা ছিল ৪ সেপ্টেম্বর। তবে বিএসইসি চেয়ারম্যানের মালয়েশিয়া সফরের কারণে তা হয়নি।

গত সোমবার বিএসইসি আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড লেনদেন আগামী সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে।

ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রথমবারের মতো কোনো গভর্নর বিএসইসির কার্যালয়ে যান। এ নিয়ে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের মনে একধরনের উচ্ছ্বাস ছিল।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমাদেরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা এক্সচেঞ্জকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছি। তারা প্রস্তুতি শেষ করতে পারলে ওই দিনই লেনদেন চালু হওয়ার কথা। গর্ভনর স্যার, সেটাই জানিয়েছিলেন।

‘যেহেতু ছুটি চলছে, এক্সচেঞ্জ প্রস্তুতিসম্পন্ন করতে পারল কি-না সেটা তাদের কাছ থেকে জানতে হবে।’

নির্ধারিত সময়ে ট্রেডিং শুরুর সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি সিকিউরিটিজ আগামী ১০ তারিখ (১০ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। বিএসইসির থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করেছি।

‘এটা গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে লেনদেন শুরুর কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। তখনও আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এ ছাড়া আমাদের মক ট্রেডিং হয়েছে। প্রস্তুতি শেষ বলেই ১০ তারিখে ট্রেড শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, স্টক ব্রোকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগেই ওই লেনদেন শুরু হবে বলে আশাবাদী আমরা।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের কোম্পানিতে সুশাসনের অভাব: বিএসইসি কমিশনার
ওরিয়ন গ্রুপের আরও লাফ, এবার সঙ্গে স্বল্প মূলধনি
ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার কিনে ধরা বঙ্গজের পরিচালক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Artificial intelligence will tell which share price will increase or decrease

কোন শেয়ারের দর বাড়বে-কমবে, ‘বলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’

কোন শেয়ারের দর বাড়বে-কমবে, ‘বলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: নিউজবাংলা
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতাবান হবে যার কাছে যত ডাটা আছে। যদি বিএসইসি এই তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে না পারে তাহলে তারা পিছিয়ে যাবে: মোস্তাফা জব্বার

পুঁজিবাজারকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালনে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন তিনি।

জব্বার বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এখন পুঁজিবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যববহার হচ্ছে। এই প্রযুক্তি বলে দিতে পারে যে ভবিষ্যতে কোন শেয়ারের দাম কমবে কোন শেয়ারের দাম বাড়বে। বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

‘এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতাবান হবে যার কাছে যত ডাটা আছে। যদি বিএসইসি এই তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে না পারে তাহলে তারা পিছিয়ে যাবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল ‘রোল অফ টেকনোলজি এবং ইউএসজি এনালাইটিকস ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারীদের সংগঠন বাংলাদেশের সম্পদ ব্যবস্থাপকের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস- এএএমসিএমএফ।

মূলপ্রবন্ধ উপস্থিত করেন এএএমসিএমএফএর কোষাদক্ষ আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করার সময় পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সিগারেট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে আমাদের মুনাফা হবে। কিন্তু এমন যদি কোন কোম্পানি থাকে যেখানে বিনিয়োগ করলে নারীদের কাজ বাড়বে বা পরিবেশের সুরাক্ষা হবে, বড় বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করবে।

‘এখন ইএসজি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ই তে ইনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশ, এস তে স্যোশাল বা সামাজিক উন্নয়ন ও জি তে গভর্নেন্স বা সুশাসন। এই তিনটি এখন দেশের বাইরের বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএএমসিএমএফ এর সভাপতি হাসান ইমাম। তিনি বলেন, ‘ভারতে গত বছর পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমাদের দেশে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না তাই আমরা বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছি না।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার রুমানা ইসলাম বলেন, ‘আমাদেরকে ইএসজি নিশ্চিত্ করতে হবে। নইলে বিদেশের কেউ আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইবে না।’

বিএসইসির আরেক কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসুক। কিন্তু আসছে না। পৃথিবীতে একটি পরিবর্তন এসেছে। ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ এখন পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় হচ্ছে। তাই সম্পদ ব্যবস্থাপকদের এখন এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে যেখানে পরিবেশের সুরক্ষা হবে। আমাদের আরও বেশি বেশি ব্লু বন্ড, গ্রিনবন্ড আনতে হবে। ’

বিএসইসি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংঘের সদস্য। এই সংঘের নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিস কমিশনস বা আইওএসসিও।

আইওএসসিও এর সদস্য দেশগুলো তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে, বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়াতে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে থাকে।

বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ বাংলাদেশে পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
‘ডট বাংলা গ্রহণযোগ্য হলে ভালো অভিজ্ঞতা সম্ভব’
‘গ্রামীণফোন মালিকের’ উন্নত চিকিৎসা চান জব্বার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Notification to extend VAT exemption on edible oil by three months

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে সে জন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করেছে এনবিআর।

ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে।

ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে, সে জন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভ্যাটমুক্ত সুবিধা বহাল রাখতে বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর আগে আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

বর্তমানে ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধা দুদফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ভোজ্য তেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধা অব্যাহত না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-কর হার বেড়ে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম বাড়ে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দর পতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম।

তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৯২ টাকা ও পাম তেলের দাম ১৩২ টাকা ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম তেল আমদানি করেন। আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

আরও পড়ুন:
তেলের পুষ্টিগুণ নিশ্চিতের উদ্যোগ
সয়াবিনের নতুন দাম কার্যকর
সব ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ নেই যে কারণে  
ঘোষণার ১০ দিনেও কমেনি সয়াবিন তেলের দাম
ভোজ্যতেলে ভ্যাট সুবিধা আরও ৩ মাস

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
10 rupees worth of mutual funds for 5 rupees is a great investment

‘১০ টাকার সম্পদ ৫ টাকায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড তো দারুণ বিনিয়োগ’

‘১০ টাকার সম্পদ ৫ টাকায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড তো দারুণ বিনিয়োগ’ মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর প্রেসিডেন্ড হাসান ইমাম।
‘যেটার ১০ টাকা এনএভি, সেটা ৫ টাকায় ট্রেড হচ্ছে। এটা ইনভেস্টরদের জন্য বড় অপরচ্যুনিটি। আপনারা যদি লংটার্ম ইনভেস্টর সত্যি হন, তাহলে এইসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনা উচিত। কারণ এরা বছর বছর ভালো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। অর্থাৎ ডিভিডেন্ড ইল্ড ৫ টাকায় কিনলে কত পাব। ৫ টাকায় কিনলে কত ডিভিডেন্ড পাব সেটা যদি হিসাব করেন, তাহলে অনেক ফান্ড ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়।’

সম্পদমূল্যের তুলনায় অর্ধেক দামে ইউনিট পাওয়া যায় বলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে বিনিয়োগের বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছেন মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিদের সমিতি অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম।

তিনি বলেনে, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড এখন মার্কেটে ভালো ইনভেস্টমেন্ট না, এটা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু আমি বলব এখন শেয়ার মার্কেটের সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো মিউচ্যুয়াল ফান্ড। কারণ, আমি এখন ৫ টাকা দিয়ে এমন একটা ইউনিট কিনতে পারি, যেটার সম্পদ আছে ১০ টাকা। এছাড়া ওই ৫ টাকা দিয়ে আমি সাড়ে ৭ শতাংশ ডিভিডেন্ড পাই। যার ডিভিডেন্ড ইল্ড বা প্রকৃত লভ্যাংশ ১৫ শতাংশ।’

বৃহস্পতিবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ -২০২২ উপলক্ষে এএএমসিএমএফ আয়োজনে ‘রোল অফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইএসজি অ্যানালাইটিকস ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাসান ইমাম বলেন, ‘যেটার ১০ টাকা এনএভি, সেটা ৫ টাকায় ট্রেড হচ্ছে। এটা ইনভেস্টরদের জন্য বড় অপরচ্যুনিটি। আপনারা যদি লংটার্ম ইনভেস্টর সত্যি হন, তাহলে এইসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনা উচিত। কারণ এরা বছর বছর ভালো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। অর্থাৎ ডিভিডেন্ড ইল্ড ৫ টাকায় কিনলে কত পাব। ৫ টাকায় কিনলে কত ডিভিডেন্ড পাব সেটা যদি হিসাব করেন, তাহলে অনেক ফান্ড ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়।’

২০১০ সালের মহাধসের পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে হতাশ করলেও গত দুই বছরের পরিস্থিতি ভিন্ন। ফান্ডগুলো এই দুই বছরে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে লভ্যাংশ নিয়ে বিনিয়োগকারীর খুব একটা মুনাফা হয়েছে এমন নয়। কারণ, যে হারে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে, ইউনিট দর কমেছে তার চেয়ে বেশি।

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিই অভিহিত মূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে। যেসব ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য সাড়ে ১০ টাকার বেশি, সেগুলো লেনদেন হচ্ছে ৫ টাকা বা আশেপাশে দরে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশ এই কারণে যে, এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে ক্রেতা এতটাই কমে গেছে যে, অর্ডার দিয়েও ইউনিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।

এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কোনো বৃদ্ধি নাই, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। আমি যখন এই মার্কেটে শুরু করি ২০০৮ সালে, তখন আমাদের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা, তিনটা এমসি ছিল এবং ফান্ড ছিল ১১টা। এখন সেই সিচিউশন যদি দেখি এমসি হচ্ছে ৫৪, ফান্ড হচ্ছে ৮৮ এবং অ্যাসেট হচ্ছে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

‘অর্থাৎ মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টর গত ১৪ বছরে ৬০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্যাপিটাল মার্কেটে কোনো সেক্টরে এই গ্রোথ নেই। তাহলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রিয়ালিটি যদি আমরা দেখি পারফর্মিং ওয়েল। সবার পছন্দ যদি ২০ শতাংশ হয় সেটা হয়ত দিতে পারছে না। কারণ হচ্ছে শেয়ার মার্কেট তো ২০ শতাংশ উঠছে না। কিন্তু ডিভিডেন্ড রিটার্ন ভালো এবং এই সেক্টরে গ্রোথ হয়েছে। এছাড়াও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে পার্টিসিপেশনটাও বেড়েছে প্রায় চার গুণ। এদিকের হিসাবেও মিউচ্যুয়ালের অবস্থান ভালো।’

‘মার্কেট গ্রোথের চেয়ে ফান্ডের গ্রোথ ভালো’

হাসান ইমাম বলেন, ‘মিডিয়াতে প্রায়ই দেখি এবং বিভিন্ন মহলে দেখি যে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পারফর্মেন্স দুর্বল। কিন্তু রিয়ালেটিটা কি? আপনার যদি ডেটা দেখেন গত ১০ বছরের মধ্যে সাত বছরেই আউটপারফর্ম করেছে। গত বছরও যদি দেখি ইক্যুইটি মার্কেট মানে আমাদের শেয়ার মার্কেট উঠেছে ২.৫ শতাংশ। সেখানে এভারেজ ডিভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ ইক্যুইটি মার্কেটকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড আউট পারফর্ম করেছে প্রায় ৪ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মানি মার্কেট যেটাতে আমরা নরমলি ইনভেস্ট করি, সেটাও যদি দেখি সেখানেও আউটপারফর্ম করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড।’

সেমিনারে বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা বাড়াতে ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি। ফান্ডগুলো কোন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে, সেই বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসতে চায় তারা।

তিনি বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে, আর মানুষের কাছে ফান্ডগুলোকে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে, আমরা একটি খুব আধুনিক ওয়েবসাইট তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি। যেখানে বাংলাদেশের সব সম্পদ ব্যবস্থাপক তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা মিউচ্যুয়াল ফন্ডগুলোর বিভিন্ন তথ্য দেবে।

‘বিশেষ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের বাইরের সব বিনিয়োগকারী এখানে ঢুকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সমস্ত তথ্য দেখতে পারবে। এটা অ্যাপ আকারেও করা হবে।’

মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে স্বচ্ছতা আনতে পারলে, জবাবদিহিতা বাড়াতে পারলে ও বিনিয়োগকারীদের তারল্য দিতে পারলে, সুরক্ষা দিতে পারলে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করবে বলেও মনে করেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এবং রুমানা ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী বিএসইসি
‘সোয়া ১১ টাকার’ দাম পাঁচ টাকা!
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কর চায় না বিএসইসি
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
টালমাটাল পুঁজিবাজারে রেইসের ১০ ফান্ডে দারুণ লভ্যাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC is committed to popularize mutual funds

মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী বিএসইসি

মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী বিএসইসি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকদের এক অনুষ্ঠানে বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিই অভিহিত মূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে। যেসব ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য সাড়ে ১০ টাকার বেশি, সেগুলো লেনদেন হচ্ছে ৫ টাকা বা আশপাশে দরে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশ এই কারণে যে, এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে ক্রেতা এতটাই কমে গেছে যে, অর্ডার দিয়েও ইউনিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।  

পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা বাড়াতে ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি। ফান্ডগুলো কোন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে, সেই বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসতে চায় তারা।

এ জন্য তহবিলগুলোর বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নতুন একটি ওয়েবসাইট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান।

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকের সংগঠন এসোসিয়েশন অফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস বা এএএমসিএমএফ।

আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল ‘রোল অফ টেকনোলজি এবং ইউএসজি এনালাইটিকস ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে স্বচ্ছতা আনতে পারি, জবাবদিহিতা বাড়াতে পারি ও বিনিয়োগকারীদের তারল্য দিতে পারি, সুরক্ষা দিতে পারে, তাহলে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করবে।’

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সব তথ্য সবার কাছে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে, আর মানুষের কাছে ফান্ডগুলোকে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে, আমরা একটি খুব আধুনিক ওয়েবসাইট তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি। যেখানে বাংলাদেশের সব সম্পদ ব্যবস্থাপক তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা মিউচ্যুয়াল ফন্ডগুলোর বিভিন্ন তথ্য দেবে।

‘বিশেষ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের বাইরের সব বিনিয়োগকারী এখানে ঢুকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সমস্ত তথ্য দেখতে পারবে। এটা অ্যাপ আকারেও করা হবে।’

২০১০ সালের মহাধসের পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে হতাশ করলেও গত দুই বছরের পরিস্থিতি ভিন্ন। ফান্ডগুলো এই দুই বছরে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে লভ্যাংশ নিয়ে বিনিয়োগকারীর খুব একটা মুনাফা হয়েছে এমন নয়। কারণ, যে হারে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে, ইউনিট দর কমেছে তার চেয়ে বেশি।

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিই অভিহিত মূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে। যেসব ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য সাড়ে ১০ টাকার বেশি, সেগুলো লেনদেন হচ্ছে ৫ টাকা বা আশেপাশে দরে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশ এই কারণে যে, এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে ক্রেতা এতটাই কমে গেছে যে, অর্ডার দিয়েও ইউনিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।

মিজানুর রহমান এই আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মিউুচয়াল ফান্ডের যে সংষ্কার করা হয়েছে সেগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা লোকসানে ছিল। আমরা আসার পরে এই খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কাজ করেছি। এখন এই খাতের অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো।

‘আমরা এখন এই খাতকে বড় করার জন্য নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসতে কাজ করছি। আমরা ইটিএফ নিয়ে আসছি। আমাদের কাছে ৫টি ইটিএফ আবেদন করেছেভ এই বছরের শেষে বাজারে ৫টি ইটিএফ আসবে। ’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএএমসিএমএফ এর সভাপতি হাসান ইমাম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থিত করেন এএএমসিএমএফ এর কোষাদক্ষ আজাদ চৌধুরী।

এছাড়া অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার রুমানা ইসলাম ও আরেক কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

বিএসইসি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংঘের সদস্য। এই সংঘের নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিস কমিশনস বা আইওএসসিও।

আইওএসসিও এর সদস্য দেশগুলো তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে, বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়াতে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে থাকে।

বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ বাংলাদেশে পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
ভিন্নধর্মী হবে সন্ধানীর নতুন মিউচুয়াল ফান্ড
দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি
সেপ্টেম্বরে চালু হচ্ছে এটিবি, ইটিএফ
৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
আরেকটি মিউচুয়াল ফান্ড আনছে গ্রামীণ ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of lotus palm oil rose and sugar

কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির

কমল পাম তেলের দাম, বাড়ল চিনির পাম তেল ও চিনি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এখন থেকে পাম সুপার এক লিটার ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। আগে নির্ধারিত দাম ছিল ১৩৩ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে আট টাকা। নতুন দর অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে, আগে যা ছিল কেজিতে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হবে, আগে যেটা ছিল ৮৯ টাকা।

চিনি ও পাম তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এখন থেকে পাম সুপার এক লিটার ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। আগে নির্ধারিত দাম ছিল ১৩৩ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে আট টাকা।

পাম তেলের দাম কমানো হলেও খোলা ও প্যাকটজাত চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে, আগে যা ছিল কেজিতে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হবে, আগে যেটা ছিল ৮৯ টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় চিনি ও পাম সুপারের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান বাজারদর এটিই।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর নিত্যপণ্যের মধ্যে ৯টির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তার মধ্যে প্রথম চিনি ও পাম তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

ওই সময় পাম তেলের দাম নির্ধারণ হয় ১৩৩ টাকা লিটার, আগে যা ছিল ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ কমানো হয় ১২ টাকা।

অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ঠিক করা হয় ৮৯ টাকা আর খোলা চিনি প্রতি কেজি নির্ধারণ হয় ৮৪ টাকা।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা কমানোর সুযোগ আছে বলে সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। চিনির দামও কমিয়ে আনার পরামর্শ দেয় এই প্রতিষ্ঠান।

ট্যারিফ কমিশন থেকে দেয়া সুপারিশে বলা হয়, বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামে তেমন প্রভাব পড়েনি, কিন্তু কমেছে পাম তেলের দাম। তাই এই তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কমানোর সুযোগ আছে। সয়াবিন তেল যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা যৌক্তিক। পাম তেলের দাম বর্তমানে ১৪৫ টাকা । এই তেলের দাম লিটারে অন্তত ১২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

চিনি বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন থেকে পাঠানো সুপারিশে বলা হয়, প্রতি কেজি খোলা চিনি ভোক্তাপর্যায়ে খুচরা মূল্য ৮৪ টাকা। আর প্যাকেটজাত চিনির কেজিপ্রতি দাম হওয়া উচিত ৮৮ টাকা।

গত ৩০ আগস্ট বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, বেঁধে দেয়া হবে ৯ পণ্যের দাম। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, রড, সিমেন্ট, চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল, ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

সেই অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণও শুরু করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, তবে সামনে আসে নানা বিপত্তি।

৯ পণ্যের দাম নির্ধারণ করা থেকে সরে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেল, চিনি, রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করবে এই মন্ত্রণালয়।

তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:
ভর্তুকিতে হলেও বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি
সাগরে বিপুল চিনি
কেরু ছাড়া সরকারি সব চিনিকল লোকসানে
দাম চড়া, দেশি চিনির দেখা মেলে না
‘জামাই আপ্যায়নের’ লাল চিনি

মন্তব্য

p
উপরে