× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
So much interest in the debt scandal shares of the company
hear-news
player
print-icon

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডোবা কোম্পানির শেয়ারে এত আগ্রহ!

ঋণ-কেলেঙ্কারিতে-ডোবা-কোম্পানির-শেয়ারে-এত-আগ্রহ
ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর দর বাড়ে জুয়াড়িদের কারণে। আর গুজবে কান দিয়ে কিছুটা দাম বাড়ান সাধারণ বিনিয়োগকারী।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিআইএফসি ২০১৭ সালে ১০ টাকার শেয়ারপ্রতি ৬৯ টাকা ৫৫ পয়সা লোকসান দেয়ার পর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারলেই বাঁচে। একপর্যায়ে দর নেমে আসে দুই টাকার ঘরে। সেই কোম্পানির শেয়ার এখন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।

ওই বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি কোনো সম্পদ ছিলই না, ছিল ৬৬ টাকা ৪০ পয়সার দায়।

গত ১৪ জুলাই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৩২৪ পয়েন্ট। সেখান থেকে ধস নেমে ফ্লোর প্রাইস ঘোষণার দিন ২৮ জুলাই সূচকের অবস্থান নামে ৫ হাজার ৯৮০ পয়েন্ট। অর্থাৎ ১০ কর্মদিবসে কমে ৩৪৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

তবে বাজারের গতির বিপরীতে গিয়ে এই সময়ে বিআইএফসির শেয়ারদর এই সময়ে বাড়ে ৫১ শতাংশের বেশি। সেদিন শেয়ারদর দাঁড়ায় ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ১০ দিনে বাড়ে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে গণনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার আসার পর পাঁচ দিনে ৩৩১ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পর বিআইএফসির শেয়ারদর বাড়ে আরও বেশি।

একপর্যায়ে তা ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। অবশ্য এখন সেখান থেকে কিছুটা কমে ১২ টাকা ২০ পয়সায় নেমেছে।
২০১৭ সালের হিসাব দেয়ার পর বিআইএফসি ২০১৯ সালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। এই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২০ পয়সা।

২০১৭ সালের তুলনায় লোকসান কমলেও শেয়ারপ্রতি দায়ের দিক থেকে আরও অবনতি হয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে শেয়ারপ্রতি দায় দাঁড়ায় ৯৪ টাকা ২৭ পয়সায়।

এমন একটি কোম্পানির শেয়ারদর ১৮ কর্মদিবসে শতভাগের বেশি বেড়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিকতার মধ্যে পড়ে না- এটা বলাই যায়।
বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, বিআইএফসির মতো ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব শেয়ারদরই একইভাবে ঊর্ধ্বগামী।

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাড়ছে ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া এসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশসেরা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়েনি সে রকম।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর দর বাড়ে জুয়াড়িদের কারণে। আর গুজবে কান দিয়ে কিছুটা দাম বাড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারী।

ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিং

২০১৯ সালে কোম্পানিটি ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে লোকসান দিয়েছে ১২৬ টাকা ৩৬ পয়সা। পরের বছর লোকসান দাঁড়ায় ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। ২০২১ সালের আর্থিক হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব শেষে জানানো হয়, তিন প্রান্তিক মিলে শেয়ারপ্রতি লোকসান ৭ টাকা ৭১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি দায় ১৫২ টাকা ৬৪ পয়সা।

গত ২০ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা। গত দুই কর্মদিবস কিছুটা কমার পরও এখন ৬ টাকা ৭০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩৪ শতাংশ। দুই দিন আগে তা ছিল আরও বেশি, ৭ টাকা ১০ পয়সা।

গত বছর কোম্পানিটির সাবেক এমডি পিকে হালদারের যোগসাজশে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনিয়ন ক্যাপিটাল

২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি ৫৬ পয়সা লাভের পর ২০১৯ সালে ৬ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান হয়। ২০২০ সালে ৩ টাকা ৮ পয়সা এবং ২০২১ সালে সর্বশেষ ৮ টাকা ৩ পয়সা লোকসান গুনেছে কোম্পানিটি।

গত ২ নভেম্বর বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এক কোটি টাকার বেশি ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।

স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ আদায় না করেই অবলোপন বা রাইট অফ করছে। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ শেষ করে দায় পরিশোধের সক্ষমতা হারাচ্ছে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানটি। শত কোটি টাকা আটকে রেখে ঋণ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২০ জুলাই এই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। এক পর্যায়ে গত রোববার উঠে যায় ৯ টাকা ৪০ পয়সায়। পরদিন কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকায়। এই কয়দিনে বেড়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এই কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিকতা আগেও দেখা গেছে। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারদর ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে গিয়েছিল। পরে আবার ৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমেও যায়।

ফাস ফাইন্যান্স

পি কে হালদারের ঋণে কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া কোম্পানি এটিও।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১৪ টাকা ৬১ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটি পরের বছরের আর্থিক প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করেনি। ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ হয়েছে প্রায় এক বছর পর।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বছরের তিন প্রান্তিকে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। এর এই সময় পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দায় আছে ২০ টাকা ৫৯ পয়সা।

গত ১৯ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪ টাকা ৯০ পয়সা। বর্তমান দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

তবে দর আরও বেড়ে হয়েছিল ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

গত বছর সেপ্টেম্বরেও কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকবাবে বাড়তে দেখা যায়। নানা গুজব-গুঞ্জনে এক পর্যায়ে তা ১১ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে যায়।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স

এই কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের কোনো প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করেনি এখনও। ২০২১ সালের চূড়ান্ত হিসাবও দেয়নি। ওই বছরের ১ নভেম্বর প্রকাশ করে সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত হিসাব দিয়েছে।

এতে দেখা যায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য কেবল ১ টাকা ১৫ পয়সার।

গত ১৯ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। বর্তমান দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

তবে দর বেড়েছিল আরও বেশি, ৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত।

গত বছরের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও কোম্পাটির দর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে দেখা যায়। সে সময় দর উঠে ১০ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। গত ২২ মে নেমে আসে ৪ টাকা ৭০ পয়সায়।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড

২০২১ সালের আর্থিক হিসাব ও চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকের হিসাব একসঙ্গে প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। এতে দেখা যায় গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের এর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ টাকা ৪৭ পয়সা। আর গত জুন শেষে দুই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ১২ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কোনো সম্পদ নেই, উল্টো দায় আছে ১৮ টাকা ৪৪ পয়সার।

এই কোম্পানির শেয়ারদর গত ২০ জুলাই ছিল ৫ টাকা। বর্তমান দর ৬ টাকা। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে বেড়েছে এক টাকা বা ২০ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও একবার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা উঠে যায় ৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৯৩ টাকা লোকসান দেয়ার পর ২০২১ সালের আর্থিক হিসাব এখনও প্রকাশ করেনি।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটি ওই বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৩৩ পয়সা লোকসান দিয়েছে। তখন প্রতি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ৯ টাকা ৮১ পয়সার।

গত ১৯ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বর্তমান দর ৭ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয়দিনে বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সোমবার দর ৮ টাকা ১০ পয়সাতেও উঠেছিল, পরে সেখান থেকে কমে ৪০ পয়সা।

এই কোম্পানির দর বাড়া শুরু হয় গত ২২ মে। সেদিন হাতবদল হয় ৬ টাকা ১০ পয়সা দরে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে এই কোম্পানিটির শেয়ারদরে এবারের চেয়ে বেশি উল্লম্ফন দেখা যায়। সে সময় দর ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়ে যায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়। সেখান থেকে পরে নেমে আসে ৬ টাকায়।

‘এর কারণ জুয়া’

যেসব কোম্পানির অদূর ভবিষ্যতে মুনাফায় ফেরা বা লভ্যাংশ দেয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই, সেসব কোম্পানির শেয়ারদরে এভাবে লাফ দেয়ার পেছনে জুয়াড়িয়াদের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক বলেন, ‘এসব কোম্পানি তো আর রাতারাতি ভালো হয়ে যায় না। কিন্তু তারপরও এগুলোর দাম বাড়ে, এর কারণ হলো জুয়া খেলা। জুয়াড়িরা এসব শেয়ারের দাম টেনে তোলে। আর গুজবে কান দিয়ে অনেকেই এই শেয়ার কেনেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যদি ২০ লাখ বিনিয়োগকারী থাকেন, এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ হাজার হবে যারা প্রকৃত বিনিয়োগকারী। তারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন। বাকিরা ওমুক ভাই, তমুক ভাইকে ফলো করে শেয়ার কেনেন।

‘এসব গুজব এবং জুয়াড়িদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়তো তিন বারের মধ্যে একবার উইন করেছে, তাই বেশি টাকা বানানোর আশায় সেই পথই বারবার অনুসরণ করে। এতে জুয়াড়িরা লাভবান হয়, কিন্তু তারা কোনো আয় করতে পারেন না।’

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The Miniket controversy is now in the hearing of the Competition Commission

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশন বাজারে প্যাকেটজাত চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে? প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

বিআর-২৮, নাজিরশাইল, জিরাশাইল চাল কেটে তৈরি করা হয় মিনিকেট। প্রতি কেজির দাম ৫৬ টাকা। প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে এমন দাবি করেছেন বাজারে প্যাকেটজাত ব্র্যান্ড চালসহ ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি।

বাজারে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা কমিশন রশিদ অ্যাগ্রো নামে অপর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে?

এ সময় ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৫৬ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল কোথায় পাওয়া যায়, জানতে চায় কমিশন। কিন্তু এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক এ প্রতিষ্ঠান।

শুধু চালই নয়, আটা ময়দা ও চালের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে শুনানিতে ডাকা হয় সিটি গ্রুপকে।

সিটি গ্রুপের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা ও গ্রুপের আইনজীবী।

শুনানি শেষে বিশ্বজিৎ সাহা সাংবাদিকদের জানান, তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়ার জন্য সময় চাইলে তা দেয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দিয়েছে কমিশন।

পণ্য বিক্রিতে অসম প্রতিযোগিতার অভিযোগে ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

চাল, আটা-ময়দা, ডিম, মুরগি টয়লেট্রিজ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অতি মুনাফার প্রমাণ পায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। অভিযোগ নির্দিষ্ট করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর।

প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, হঠাৎ করেই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এতে চরম সমস্যার মুখে পড়ে সাধারণ ভোক্তা। স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা না করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসায় একচেটিয়া কর্তৃত্ব সৃষ্টির কারণে বেসামাল হয় বাজার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনে শুরু হয় এসব মামলার শুনানি। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। শুনানিতে ৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্তি তুলে ধরে।

চালের জন্য রশিদ অ্যাগ্রো ফুড, সিটি গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, বেলকন গ্রুপ, আটা-ময়দার জন্য সিটি গ্রুপ, ডিম এবং মুরগির জন্য এমডি প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ এবং টয়লেট্রিজ পণ্যের জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন।

চাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেলকন গ্রুপের আইনজীবী ব্যারিস্টার সিনথিয়া সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেলকন গ্রুপ চাল উৎপাদন করে। চালের দাম নিয়ে তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়। তবে, আজ সব তথ্য সরবরাহ করা যায়নি, সময় প্রার্থনা করা হয়। আদালত সময় মঞ্জুর করেছেন।’

শুনানিতে কোম্পানিগুলোর কাছে আমদানি, রপ্তানি এবং উৎপাদনের তথ্য জানতে চায় প্রতিযোগিতা কমিশন। বৈশ্বিক বাজার, ডলারের দাম, শুল্কসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় আনা হয়েছে।

ইউনিলিভারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যে আটটি বিষয়ে কমিশন তথ্য চেয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ নথি নিয়ে আসেননি তারা। এ জন্য সময় চাইলে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেয় কমিশন। এ সময়ের মধ্যে তারা সব নথি কমিশনে দাখিল করবে।

শুনানিতে আইনজীবী জানান, ইউনিলিভারে বিনিয়োগের ৬০ ভাগ বিদেশি আর ৪০ ভাগ শেয়ার বাংলাদেশ সরকারের। তাদের উৎপাদিত সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, শ্যাস্পুসহ কয়েকটি টয়েলেট্রিজ পণ্যের দাম বেড়েছে, এ কথা ঠিক। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এর মুল কারণ।

বলা হয়, ডলারের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিও পণ্যের দাম বাড়ার কারণ। ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৬ টাকার সময় ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরে সেটা ১০৭ টাকায় শোধ করতে হয়েছে। এ সময় শুল্ক হারের যে কাঠামো ছিল, ডলারের দাম বাড়ার কারণে সেটাও বেড়ে গেছে। কারণ ডলার ১০৭ টাকা ধরে শুল্ক দিতে হয়েছে।

এসব তথ্য নির্দিষ্ট করে কাঁচামালের আমদানি, কোন পণ্যের দর কত বৃদ্ধি পেয়েছে– সব তথ্য তারা কমিশনে সরবরাহ করবেন।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরাও শুনানিতে অংশ নেন। সংগঠনের সভাপতি জানান, ডিমের বিক্রিমূল্য এবং ক্রয়মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।

সোম ও মঙ্গলবার প্রথম দুই দিনে ১১ মামলার শুনানির জন্য ডাকা হলো আট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীকে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের মামলার বিষয়ে শুনানি করা হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এরফান আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

চাল ও আটা-ময়দার বাজারে অস্থিরতার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে অস্থিরতার জন্য ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, মুরগির দামে অস্থিরতার জন্য নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেডের পরিচালক এবং টয়লেট্রিজের জন্য স্কয়ার টয়লেট্ররিজের হেড অব অপারেশনকে শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

চালের বাজারে অস্থিরতার কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল হান্নান, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

চাল, আটা-ময়দা ও টয়লেট্রিজের জন্য এসিআইয়ের চেয়ারম্যানকে একই দিন শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, মুরগির বাজারের জন্য সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইওকে ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যে রাজা-রানিতে কেন বদলায় জাতীয় সংগীত?
চালের দামে সুবাতাস
চার্লসের মাথায় ব্রিটিশ রাজমুকুট, বদলাচ্ছে জাতীয় সংগীত
চালের দাম কমতে শুরু করেছে মোকামে
চালের দাম আরও কমবে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
ADB will lend 12 15 billion dollars to Bangladesh

বাংলাদেশকে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এডিবি

বাংলাদেশকে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এডিবি ম্যানিলায় এডিবির সদরদপ্তরে সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাংলাদেশের জন্য তৈরি করা ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এ সহায়তা দেয়া হবে বলে আভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক এই ঋণদানকারী সংস্থাটি।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশের জন্য তৈরি করা ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এ সহায়তা দেয়া হবে বলে আভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক এই ঋণদানকারী সংস্থাটি।

মঙ্গলবার ম্যানিলায় এডিবির সদরদপ্তরে সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এডিবির প্রেসিডেন্ট অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ম্যানিলায় এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার ঢাকা ছাড়েন অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।

বিশ্বব্যাংকের পর এডিবি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির অর্থায়নের পরিমাণ ২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভুয়সী প্রশংসা করেন এডিবির প্রেসিডেন্ট এবং যে কোনো বিপদে বাংলাদেশের পাশে সব সময় থাকবেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাজেটের পাশাপাশি নীতি-সহায়তায় এডিবির সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী।

জবাবে মি. মাসাতসুগু বলেন, বাংলাদেশকে তারা সব সময় গুরুত্ব দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এডিবি বাংলাদেশের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করায় এডিবির প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান মুস্তফা কামাল।

দ্বিপাক্ষিক আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্ষমতার সাথে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে চলেছে। কখনই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি।

বাংলাদেশের উন্নয়নের মাইলফলক অর্জনে এডিবির অব্যাহত সমর্থন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

মহামারি কোভিডের অভিঘাত মোকাবিলায় এডিবি দ্রুত সাড়া দেয়ায় প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সংকট থেকে পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে এডিবি যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা দেখে আমরা অভিভূত। ভ্যাকসিন কেনার জন্য সময়মতো অর্থ না দিলে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুত করোনা মোকাবিলা করা কঠিন হতো।’

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এডিবি বাংলাদেশের জন্য ২০২১-২০২৫ মেয়াদে কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছে – এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আওতায় ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহয়তার যোগান থাকবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশর অগ্রগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল আর্থ-সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’

জলবায়ু অভিযোজন, প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশে এডিবির সহায়তা কামনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় মিশ্র অর্থায়নের পরিবর্তে নমনীয় ঋণ সহায়তা হবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি।

বাংলাদেশ ও এডিবির সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর বাংলাদেশ ও এডিবির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ২০২৩ সাল আমাদের অংশীদারত্বের ৫০তম বার্ষিকী হবে।’

এ উপলক্ষে এডিবি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান মুস্তফা কামাল।

এডিবির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিয়োগের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি প্রতীক।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ও আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং টিকা কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি এডিবির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এবারের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে, সেগুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এডিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে সবসময় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এটির প্রেসিডেন্ট।

ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার এডিবির সদরদপ্তরে বার্ষিক সভার পাশাপাশি ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ আহবান জানান তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইন এ বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে যৌথ কৌশল প্রণয়ন করার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ১০৮ মিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য বাড়াতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ওষুধ, কৃষি পণ্য, হালকা প্রকৌশল, পাট এবং পাটজাত পণ্য হচ্ছে সম্ভাবনাময় খাতগুলো। এসব খাতে নজর দিলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে।

আরও পড়ুন:
সোয়া লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
গম-ভুট্টা চাষিদের জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল
চাপ সামলাতে ৬৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে সরকার
১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল বিদেশি ঋণ
কৃষিতে বাড়ল ঋণের লক্ষ্যমাত্রা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Illegal Anika Agro fake fertilizer taken by legitimate company

অবৈধ আনিকা এগ্রোর নকল সার নিতো ‘বৈধ কোম্পানি’

অবৈধ আনিকা এগ্রোর নকল সার নিতো ‘বৈধ কোম্পানি’ কাহালুর অবৈধ আনিকা এগ্রো কারখানায় অভিযান চালিয়ে সার তৈরির কাঁচামাল ও এসিড জব্দ করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
আদালত সূত্র জানায়, সার উৎপাদনে আনিকা এগ্রোর সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোদন নেই। কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গোপনে নিম্নমানের ও নকল সার সরবরাহ করতো। ওইসব প্রতিষ্ঠান এই সার নিজ নিজ নামে প্যাকেটিং করে বাজারজাত করে।

সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বগুড়ার কাহালুতে এক বছর ধরে দস্তার সার উৎপাদন করছে আনিকা এগ্রো নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বৈধ বিভিন্ন কোম্পানি এসব সার নিয়ে নিজেদের লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করে আসছে।

এমন তথ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে।

উপজেলার নিশ্চিন্তপুর বৌ-বাজার এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ অভিযান চালায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম।

আদালত সূত্র জানায়, সরকারি অনুমোদন না নিয়ে কাহালুতে আনিকা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কারখানায় এক বছর ধরে জিঙ্ক সালফেট সার উৎপাদন হচ্ছে। জাকির হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদরে, তিনি বগুড়া সদরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

এই সার উৎপাদনে সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোদন নেই। কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গোপনে নিম্নমানের ও নকল সার সরবরাহ করে। ওইসব প্রতিষ্ঠান এই সার নিজ নিজ নামে প্যাকেটিং করে বাজারজাত করে।

অভিযানে ১৮ শ বস্তা সার তৈরির কাঁচামাল, ২৫ বস্তা জিঙ্ক সালফেট ও ১৬ ড্রাম এসিড জব্দ করা হয়।

এ সব বিষয় নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এদের উৎপাদনের অনুমতিও নেই। এ জন্য কারখানায় বেশ কিছু মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

জান্নাতুল নাইম আরও বলেন, এ কারখানা থেকে সারের নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সারের মজুত পর্যাপ্ত, তবুও শঙ্কায় কৃষিমন্ত্রী
সার বিতরণে অনিয়মে ডিলারশিপ বাতিল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Great response to Walton Smart TV in Ireland

আয়ারল্যান্ডে ওয়ালটন স্মার্ট টিভিতে ব্যাপক সাড়া

আয়ারল্যান্ডে ওয়ালটন স্মার্ট টিভিতে ব্যাপক সাড়া
আয়ারল্যন্ডে ওয়ালটন টিভির পরিবেশক হিসেবে বাজারজাত কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশটির খ্যাতনামা কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্সে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান সোমার লিমিটেড।

চলতি বছরের এপ্রিলে আয়ারল্যান্ডে নিজস্ব ব্র্যান্ড লোগোতে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট টিভি রপ্তানি শুরু করে বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। উত্তর-পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে ইতোমধ্যে ওয়ালটন টিভি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ রিটেইল স্টোর ‘ডিড ইলেকট্রিক্যাল’-এ প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে ওয়ালটনের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট টিভি। যা ইউরোপের বাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেই শুধু নয়; বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্যে ওয়ালটন তথা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিশাল মাইলফলক।

ইউরোপে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ালটন গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাঈদ আল ইমরান বলেন, ‘ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে ওয়ালটন টিভির ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে উত্তর-পূর্ব ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডে ওয়ালটন ব্র্যান্ড লোগোতে টেলিভিশন রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করা হয়। গত এপ্রিলে ওয়ালটনের ৩২, ৪৩ ও ৫৫ ইঞ্চি অ্যান্ড্রয়েড টিভির প্রথম শিপমেন্ট পাঠানো হয়।’

আয়ারল্যন্ডে ওয়ালটন টিভির পরিবেশক হিসেবে বাজারজাত কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশটির খ্যাতনামা কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্সে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান সোমার লিমিটেড।

ওয়ালটন টিভির চিফ বিজনেস অফিসার প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডে টিভি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে ওয়ালটনের ভিশন ‘গো গ্লোবাল ২০৩০’ অর্জনের পথে এক বিশাল মাইলফলক। ভৌগোলিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বাজার। দেশটির প্রতিবেশী হচ্ছে গ্রেট বিটেন। তাই আয়ারল্যান্ডে রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর ফলে গ্রেট ব্রিটেনে ওয়ালটন টিভির ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩৫ টিরও বেশি দেশে শতাধিক বিজনেস পার্টনারের মাধ্যমে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেবেলযুক্ত টিভি রপ্তানি করছে ওয়ালটন। ওয়ালটন টিভির মোট রপ্তানির প্রায় ৯৫ শতাংশই যাচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোতে।

আরও পড়ুন:
নতুন মেকানিক্যাল কিবোর্ড আনল ওয়ালটন
স্টার ব্র্যান্ড প্রোমোটার কার্যক্রম শুরু করল ওয়ালটন
ওয়ালটনের সিসিটিভি পণ্য উন্মোচন
ব্লুটুথ ও এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তির এসি আনল ওয়ালটন
ওয়ালটনের ‘ব্র্যান্ডিং হিরোস’ পুরস্কার পেল ৪৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
10000 CCTV of Sidnisan in IFIC Bank

আইএফআইসি ব্যাংকে সিডনিসানের ১০ হাজার সিসিটিভি

আইএফআইসি ব্যাংকে সিডনিসানের ১০ হাজার সিসিটিভি
আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষে ডিএমডি অ্যান্ড হেড অফ ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন সৈয়দ মনসুর মোস্তফা এবং সিডনিসান ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাগর টিটো সই করেন।

দেশের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যাংকিং কার্যক্রম আধুনিকায়নে ও গ্রাহকসেবার নিরাপত্তার লক্ষ্যে দেশের অন্যতম সিসিটিভি ও ভিডিও সারভেইলেন্স সলিউশিন সরবরাহ ও স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান সিডনিসান ইন্টারন্যাশনালের চুক্তি হয়েছে।

সে চুক্তির আওতায় এখন সিডনিসান আইএফআইসি ব্যাংকের ১৭৬টি শাখা, ১ হাজার ৩৩০টি উপশাখাসহ ৩৯টি এটিএম বুথে প্রায় ১০ হাজার দাহুয়া ব্র্যান্ডের আইপি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজন ও স্থাপন করে। এসব এখন আইএফআইসি টাওয়ার থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রকল্পটির নিরবচ্ছিন্ন ও সেবার মানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বিক্রয়োত্তর সেবার লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সিডনিসান ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে রোববার আরেকটি চুক্তি হয়েছে।

আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষে ডিএমডি অ্যান্ড হেড অফ ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন সৈয়দ মনসুর মোস্তফা এবং সিডনিসান ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাগর টিটো সই করেন।

চুক্তি অনুষ্ঠানে আইএফআইসির পক্ষে হেড অফ ডাটা প্রোসেসিং অ্যাড আইটি নাজমুল হক তালুকদার, হেড অফ সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট তৌহিদ মাহমুদ হোসাইন, হেড অফ আইটি অপারেশনস আশরাফুল আলম বিশ্বাস, ইনচার্জ সেন্ট্রাল সিকিউরিটি সারভেইলেন্স সিস্টেম শ্রীজন কুমার দে ও সিডনিসান ইন্টারন্যাশনালের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নেফিজ আহমেদ, সিনিয়র ম্যানেজার কৌশিক মাতুব্বর, হেড অফ সলিউশন রাশেদুল হাসান ছাড়াও অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিডনিসান ইন্টারন্যাশনালের সিইও সাগর টিটো বলেন, ‘আইএফআইসি ব্যাংকের এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে সিডনিসান পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধুনিক প্রযুক্তির ডাহুয়া ব্রান্ডের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারি কর্মকাণ্ডকে অধিকতর কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করে। ফলে, সীমিত লোকবল দিয়ে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
আইএফআইসি ব্যাংকের ডিএমডি হলেন গীতাঙ্ক দেবদীপ
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আইএফআইসি’র বিশেষ ব্যাংকিং সেবা
আইএফআইসি ব্যাংকে রিকভারি সভা
আইএফআইসির গণমানুষবান্ধব একগুচ্ছ ব্যাংকিং সেবা
আইএফআইসি ব্যাংকের রাইট শেয়ারের আবেদন বাতিল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
600 million dollars from JICA in budget support

বাজেট সহায়তায় জাইকার ৬০ কোটি ডলার

বাজেট সহায়তায় জাইকার ৬০ কোটি ডলার
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকার বাজেট সহায়তা চেয়ে জাইকাকে আভাস দিয়েছে। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে, তাদের কথা শুনে ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। তবে সবকিছুর আইনকানুন আছে, সেগুলো মেনেই কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস, সব প্রসেসিংয়ের পর আমরা বাজেট সহায়তা পাব।’

দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশকে ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিতে চায় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১০৫ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সোমবার জাইকার বিদায়ী বাংলাদেশ প্রধান ইয়ো হায়াকাওয়া এবং নতুন আবাসিক প্রতিনিধি ইচিগুচি টমোহাইডের সঙ্গে বৈঠক শেষ পরিকল্পনামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘এটা আলোচনা পর্যায়ে আছে; এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যেহেতু আমি সরকারের একটা দায়িত্বে আছি, তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বাজেট সহায়তা চেয়ে জাইকাকে আভাস দিয়েছে। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে, তাদের কথা শুনে ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। তবে সবকিছুর আইনকানুন আছে, সেগুলো মেনেই কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস, সব প্রসেসিংয়ের পর আমরা বাজেট সহায়তা পাব।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘এটা নিয়ে কাজ করবে ইআরডি। তবে যেহেতু সরকারে আছি, মন্ত্রণালয়ে আছি, তাই আলোচনা করেছি। পরিবেশটা অনেক ইতিবাচক। ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা জাইকা আমাদের দেবে।

‘নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে জাপানি অর্থায়নে ইকোনমিক জোন হচ্ছে। সেখানে কাজ করতে চায় জাইকা। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রকল্পটি দ্রুততর সময়ে একনেক সভায় উঠবে। মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুতেও জাপান কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা আরও আগ্রহী। এ খাতে জাইকা কাজ করতে ইচ্ছুক। আমরা আমাদের নৌবন্দরগুলোতে আরও কাজ করতে চাই। অবকাঠামো খাতে জাইকা বেশি কাজ করতে চায়। রেল, সমুদ্র খাত নিয়ে কাজ করতে চায় তারা।’

বৈঠক শেষে জাইকার বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি ইয়ো হায়াকাওয়া দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নিজ চোখে দেখেছি, বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে। কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা আমার জন্য খুব অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি বাংলাদেশে কাজ করার সময়টাকে খুব উপভোগ করেছি।’

জাইকার নতুন আবাসিক প্রতিনিধি ইচিগুচি টমোহাইড বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার জন্য নতুন নয়। তিন বছর আগে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেছি। বাংলাদেশের অনেক কিছুর সঙ্গে আমি পরিচিত। এই দেশের কয়েকটি প্রকল্পে আমি কাজ করেছি জাইকার হেড অফিসে বসে।’

তিনি বলেন, ‘আমার আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার বয়স আর বাংলাদেশের বয়স সমান। বাংলাদেশের জন্য আমি একটি টান অনুভব করি। আমি বাংলাদেশে কাজ করতে পেরে আনন্দিত।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী হলো জাইকা। আর উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু হলো জাইকা। জাইকার অর্থায়নে ঢাকায় বহুলপ্রতীক্ষিত মেট্রোরেল তৈরি হচ্ছে।

জাইকার ঋণের সুদের হার বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্য উন্নয়ন সংস্থার চেয়ে কম। জাইকার অনেক ঋণ অনুদান হিসেবেও পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছিল প্রথম কাতারে। জাপান শুধু বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নয়, শিক্ষা ও কৃষিতেও অবদান রেখেছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল জাপান। দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিয়েছে জাইকা।

আরও পড়ুন:
বন্দরে টেস্টিং ল্যাব স্থাপনে জাইকার সহায়তা চায় এফবিসিসিআই
উপকূলীয় জেলেদের উন্নয়নে জাপানের পাইলট প্রকল্প

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
3 points lotus gold price in 12 days interval

১২ দিনের ব্যবধানে ৩ দফা কমল স্বর্ণের দাম

১২ দিনের ব্যবধানে ৩ দফা কমল  স্বর্ণের দাম
মঙ্গলবার থেকে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৮১ হাজার ২৯৯ টাকায় বিক্রি হবে। সোমবার পর্যন্ত ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও প্রায় একই হারে কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

স্বর্ণের দাম আরও কমছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এবার ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।

এ নিয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে তিন দফায় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

মঙ্গলবার থেকে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৮১ হাজার ২৯৯ টাকায় বিক্রি হবে। সোমবার পর্যন্ত ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ হিসাবেই কমেছে ১ হাজার ৫০ টাকা।

অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও প্রায় একই হারে কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

সোমবার বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়।

তাতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হ‌য়ে‌ছে।

সোমবার থেকে সারা দেশে নতুন দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।

নতুন দর অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ৮১ হাজার ২৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৯১ টাকা কমে ৭৭ হাজার ৬২৪ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের দাম কমানো হয়েছে ৯৩৩ টাকা। এখন বিক্রি হবে ৬৬ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ৭০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ হাজার ১৭১ টাকা।

সোমবার পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৬৭ হাজার ৪১৮ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ছিল ৫৫ হাজার ৮৭১ টাকা।

এর আগে সবশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম কমানো হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। তার চার দিন আগে ১৪ সেপ্টেম্বর এক দফা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণের দাম কমেছে
৭২ ভরি স্বর্ণ চুরি, তিন সপ্তাহে ধরে ফেলল পুলিশ
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ৮৪ হাজার ৫৬৪
‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ’
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় কমল স্বর্ণের দাম

মন্তব্য

p
উপরে