× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Strong wind in the sails of foreign investment
hear-news
player
print-icon

বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া

বিদেশি-বিনিয়োগের-পালেও-জোর-হাওয়া
গত অর্থবছরে ২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার নিট এফডিআই এসেছে দেশে। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৪৭০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে দেশে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। নিট এফডিআই এসেছে আরও বেশি– ৬১ শতাংশ।

রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মতো বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া লেগেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার দেশে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৪৭০ কোটি ৮০ লাখ (৪.৭১ বিলিয়ন) ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে দেশে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি।

নিট এফডিআই এসেছে আরও বেশি– ৬১ শতাংশ। গত অর্থবছরে ২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার নিট এফডিআই এসেছে দেশে।

২০২০-২১ অর্থবছরের ৩৩৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর নিট এফডিআই এসেছিল ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে যখন নানান হতাশা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগের এই উল্লম্ফন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে আগামী দিনগুলোতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী নেতারা।

আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় টানা কয়েক মাস টালমাটাল অবস্থার পর অবশেষে দেশের অর্থনীতি নিয়ে স্বস্তির খবর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

গত ১২ জুলাই দায়িত্ব নেয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমদানি কমছে। বিপরীতে বেড়েছে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। নিম্নমুখী মূল্যস্ফীতিও। আর এতে আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থনীতিতে চাপ কেটে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ (৩.২৩ বিলিয়ন) ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নিট বিনিয়োগের অঙ্ক ছিল ১২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

২০১৮-১৮ অর্থবছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল দেশে। এর মধ্যে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ২৬৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসে ওই বছর। এর মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে জাপানের কোম্পানি জাপান টোব্যাকো। আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা কেনা বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ করেছিল তারা।

বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অঙ্ককে নিট এফডিআই বলা হয়।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই দেশে বিনিয়োগের আবহ তৈরি হয়। ২৫ জুন বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু চালু হয়েছে। এই সেতুকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে দেশে বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছিল। সে কারণেই শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি বা ক্যাপিটাল মেশিনারি, পরিবহন খাতের বাস-ট্রাক তৈরির যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য খাতের সব ধরনের যন্ত্রপাতি-সরঞ্জামের আমদানি বেড়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।

আর দেশি বিনিয়োগ বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে– অর্থনীতির এই সূত্রকে সত্যি প্রমাণ করেই দেশে এখন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই যে গত কয়েক মাস ধরে প্রচুর আমদানি হচ্ছিল, ডলারের চাহিদা বেড়েছে তার মানে এখন দেশে বিনিয়োগ বেড়েছে। আর এ সব কিছুই কিন্তু পদ্মা সেতুকে ঘিরে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু যেভাবে দেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দিয়েছিল, পদ্মা সেতু তার থেকেও বেশি অবদান রাখবে অর্থনীতিতে। এ বিষয়টি দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বুঝতে পেরেছেন। সে কারণেই দেশি বিনিয়োগের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।

‘কয়েক বছর ধরে আমাদের বিনিয়োগ একই জায়গায় আটকে আছে; জিডিপির ৩১ থেকে ৩২ শতাংশের মধ্যে। করোনার মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ কিছুটা হলেও বেড়েছিল, বেসরকারি খাতে তেমন বিনিয়োগ হয়নি। এখন সবকিছু অনুকূলে থাকায় সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি এসেছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও নতুন উদ্যমে বিনিয়োগ করছেন। সে কারণেই আমদানি বেড়েছিল। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।’

আগামী দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আহসান মনসুর।

‘তবে ডলারের বাজারকে দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। অনেক পতন হয়েছে টাকার; আর নয়। এখন যে করেই হোক টাকাকে শক্তিশালী করতে হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছে, যা গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

টানা আট মাস ধরে বাড়তে বাড়তে ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকটি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে উঠেছিল।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। মার্চে তা দশমিক ৫৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে ওঠে। সর্বশেষ জুন মাসে তা আরও বেড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছে।

অন্যদিকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের ৮ হাজার ২৪৯ কোটি ৫০ লাখ (৮২.৪৯ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি।

তবে আমদানির লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নেয়ায় আমদানি খরচ কমতে শুরু করেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩২ শতাংশ।

গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়েছিল ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। জুলাইয়ে ২১০ কোটি (২.১০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

অর্থনীতির আরেক সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। জুলাই মাসের ৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে সাত মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

১২ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রির ফলে আরও কমে যায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচক।

কয়েক দিন ধরে টানা কমে ২৬ জুলাই তা ৩৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। ২৭ জুলাই তা আরও কমে ৩৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর থেকেই তা বাড়তে শুরু করেছে।

আমদানি ব্যয় কমার পাশপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে প্রতিদিন রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির পরও রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন আহসান মনসুর।

বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক ধারায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের চেম্বার অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। অন্য সূচকগুলোও ভালো।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে অস্থিরতা নেই দীর্ঘদিন। পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেছে। মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও এ বছরেই চালু হবে। সব মিলিয়ে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগেও একটি ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। এখন এটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিলে দেশে এফডিআই আরও বাড়বে।’

এরশাদ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এফডিআইয়ের প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্র্যান্ডিং। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে আমরা এখনও আমাদের ব্র্যান্ডিং যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারিনি। এ ছাড়া আমাদের বন্দরের সমস্যা আছে। এতদিনেও আমরা আমাদের বন্দরের অটোমেশন করতে পারিনি।’

এগুলো ঠিক হলে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একা বিনিয়োগ করে খুবই কম। দেশি বিনিয়োগকারীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আসে। সে কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে দেশি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।

‘নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। এই সেতু ঘিরে এখন যেহেতু দেশি বিনিয়োগ বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা যায়, আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় তৈরি পোশাক খাতে কোরিয়া, চীন ও হংকং থেকে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, ব্যাংক, টেলিকমিউনিকেশন খাতেও কিছু বিনিয়োগ এসেছে।

আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো তিনভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে। মূলধন হিসেবে নগদ বা শিল্পের যন্ত্রপাতি হিসেবে, বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফা বিদেশে না নিয়ে পুনর্বিনিয়োগ করে এবং এক কোম্পানি অন্য কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারে।

এ তিন পদ্ধতির যেকোনোভাবে দেশে বিনিয়োগ এলে তা এফডিআই হিসেবে গণ্য করা হয়।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মোট বিনিয়োগের প্রায় ১৭ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে সিঙ্গাপুর। তারা মোট বিনিয়োগের ১৬ শতাংশের মতো বিনিয়োগ করেছে। তৃতীয় অবস্থানে নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ ৮ শতাংশ।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, চীন, মিসর, যুক্তরাজ্য, হংকং এবং অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ রয়েছে।

২০১৫-১৬ থেকে ২০২১-২২ এই পাঁচ অর্থবছরে দেশে মোট ২৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ ১৭ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Xi Putin is going to G20 summit Indonesia

জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যাচ্ছেন শি, পুতিন: ইন্দোনেশিয়া

জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যাচ্ছেন শি, পুতিন: ইন্দোনেশিয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ছবি: এএফপি
জোকো উইদোদো বলেন, ‘শি চিনপিং আসবেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনও আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি বছরের নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠেয় জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

উইদোদো বলেন, ‘শি চিনপিং আসবেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনও আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, উইদোদোই প্রথম ব্যক্তি ‍যিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের জি-২০ সম্মেলনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।

ইউক্রেনে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার হামলা এবং তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছার পর বালির সম্মেলনটিই হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম কোনো জমায়েত।

সম্মেলনে যোগ দিলে ২০২০ সালের জানুয়ারির পর এটিই হবে শির প্রথম বিদেশযাত্রা। করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ওই বছরের শুরুতে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল চীন।

সে সময় থেকে একবারের মতো চীনের মূল ভূখণ্ড ছেড়েছিলেন শি। চীনের কাছে দেশটির বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংকে ফেরত দেয়ার ২৫তম বার্ষিকী ছিল চলতি বছরের পয়লা জুলাই। ওই দিন হংকংয়ে যান তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশগুলোর জোট জি-টোয়েন্টির বহুল প্রতীক্ষিত বালি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে, তবে সম্মেলনে তিনি পুতিনের মুখোমুখি হবেন কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের আগে কিংবা সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি হতে পারেন বাইডেন ও শি।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Cheap market opportunities at home

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম কেনাকাটার অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
‘আমরা পাইকারি দামে অনেক পণ্য কিনি এবং সেটা কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছি। ফলে আমরা খুচরা বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য দিতে পারছি।’

৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ডিমের হালি কেউ যদি ৪৫ টাকা রাখে, আবার বিনা মূল্যে ঘরে পৌঁছে দেয়?

কেবল ডিম নয়, ঘরে বসেই বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ আছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে এমন অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম নিচ্ছে তারা।

রাজধানীতে অনলাইন অর্ডারে পণ্য পৌঁছে দিতে ডেলিভারি চার্জও নিচ্ছে না বেশির ভাগ অনলাইন শপ। তবে কোনোটিতে জুড়ে দেয়া হচ্ছে শর্ত। কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে বিনা পয়সায় বাসায় পৌঁছে দেবে বলছে।

বাজারদরের তুলনায় এত কমে পণ্য বিক্রির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কয়েকটি বিষয়। বেশি বিক্রি কম লাভ- এই নীতিতে কোনো কোনো শপ পাইকারি দামে বিক্রি করে। কোনো কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রাহক ধরছে।

৪৫ টাকা হালিতে ডিম কিনুন

নিত্যপণ্যের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কথা যেটি নিয়ে, সেই ডিম বাজারদরের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে কেনার ‍সুযোগ দিচ্ছে অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘অথবা ডট কম’।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের মুরগির এক হালি বাদামি ডিমের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে এমন অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম নিচ্ছে তারা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

৫৫ টাকা হালি ধরে হিসাব করলে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ‘অথবা ডট কম’ বিক্রি করছে ১১ টাকা ২৬ পয়সা করে।

অর্থাৎ বাজারদরের চেয়ে প্রায় আড়াই টাকা বা ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দামে ডিম কেনা যাবে।

তবে এখানে এক হালি করে কেনার সুযোগ নেই। একসঙ্গে কিনতে হবে সাড়ে সাত হালি বা ৩০টি। আর এই ডিম ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে কোনো ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই।

ডায়াপার্স বিডি ডট কমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সোপ বিডি ডট কম’ নামের অনলাইন শপে কেনা যাচ্ছে এক ডজন ডিমও। তারা ১২টি ডিমের দাম নিচ্ছে ১৪৫ টাকা। প্রতিটির দাম পড়ছে ১২ টাকা ৮ পয়সা, যা বাজারের চেয়ে ১ টাকা ৬৭ পয়সা বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

টিসিবির হিসাবে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের মুরগির প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ‘অথবা ডট কম বিক্রি করছে ১১ টাকা ২৬ পয়সা করে। ডায়াপার্স বিডি ডট কমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সোপ বিডি ডট কম-এ পাওয়া গেছে ১২ টাকা ৮ পয়সায়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

সোপ বিডি কম কমে ডিম ছাড়াও বাজারদরের চেয়ে কমে পাওয়া যাচ্ছে অন্য নিত্যপণ্যও।

বাজারে পেঁয়াজের দর ৪০ থেকে ৫৫ টাকা। তবে এই শপে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮ করে। ৩০ টাকা কেজি মূল্যের আলু এখানে মিলছে ২৫ টাকায়।

এই শপ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য দেবে, এ জন্য কোনো বাড়তি চার্জও নিচ্ছে না।

গ্রাহক পর্যায়ে পরিচিত বাড়াতে লোকসানে পণ্য বিক্রির কথা জানিয়েছেন ডায়াপার্স বিডির কাস্টমার-কেয়ার কর্মী মোস্তফা ইমন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নতুন ওয়েবসাইট। গ্রাহক পর্যায়ে পরিচিত হওয়ার জন্য পণ্যের কেনা রেটের চেয়েও দুই-এক টাকা কম দামে আমরা বিক্রি করছি।’

৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম

ওয়ালটনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালকার্ট আদা, রসুনের দামে ৩১ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। থাই আদার প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা বা ৩৬ শতাংশ ছাড় দিয়ে ৭০ টাকায় বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। যেটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। আর বাজারের চেয়ে ৩৮ টাকা কমে চায়না রসুন দিচ্ছে ১২০ টাকায়, যার বাজারমূল্য ১৫৮ টাকা।

ওয়ালকার্টের কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ নাহিয়ান হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পাইকারি দামে অনেক পণ্য কিনি এবং সেটা কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছি। ফলে আমরা খুচরা বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য দিতে পারছি।’

৯৫০ টাকার যেকোনো পণ্যে ছাড় ১১০ টাকা

চেইন সুপার শপ মীনা বাজারে গিয়ে পণ্য কেনার চেয়ে ঘরে বসে কেনা অনেক বেশি লাভজনক।

এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মীনা ক্লিকে ৯৪৯ টাকার পণ্য অর্ডার করলে দিতে হবে ৮৩৯ টাকা। অর্থাৎ ১১০ টাকা ছাড় দিচ্ছে তারা। এই পণ্য বাসায় নিয়ে আসার পর কার্ড সোয়াপের মেশিনের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ থাকছে। ফলে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডেও সেই টাকা পরিশোধের সুযোগ আছে।

এই পণ্য হাতে পেতে আবার কোনো ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে না।

কোনো কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সুপারশপে কেনাকাটায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের ছাড় আসলে আরও বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ম্যানেজার (ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন) মর্তুজা আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লাভ-লোকসান এভাবে হিসাব করা যায় না। আমাদের প্রমোশনের জন্য মার্কেটিং বাজেট থেকে অ্যালোকেট করা হয়। এটার কারণে আমরা কম দামে দিতে পারি।’

শুক্রবার সুপারশপে ছাড়ের ছড়াছড়ি

নাজিরশাইল প্রিমিয়াম যে চালের দর কেজিতে ৭৮ টাকায় বিক্রি হয়, গত দুই শুক্রবার মীনা বাজার সেটি বিক্রি করেছে ৬৮ টাকায়।

কেবল চাল নয়, প্রতিটি শপই শুক্রবার রীতিমতো বড় আকারের লিফলেট ছেপে বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে।

প্রাণের অনলাইন শপ ডেইলি শপিংয়ের পক্ষ থেকে ছাড় দেয়ার আগের দিন হোয়াটস অ্যাপে কোন পণ্য কত টাকায় বিক্রি করা হবে, সে তথ্য জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়।

স্বপ্ন সুপার শপ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আর ছুটির দিন ছাড়াও এসব শপে দুটির সঙ্গে একটি বা তিনটির সঙ্গে একটি এমনকি একটির সঙ্গে একটি ছাড় থাকে।

আবার মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো সেবা ব্যবহার করলেও দিনে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে। স্বাভাবিক ছাড়ের সঙ্গে এই ছাড় আবার বাড়তি।

আরও পড়ুন:
ডিমের পর তেলাপিয়া-পাঙাশও গরিবের হাতছাড়া!
‘৫০ পয়সা খরচ বাড়ায় দাম চার টাকা বাড়ার লজিক আছে?’
পুঁজিবাজারে একটু একটু করে ফিরল আরও প্রাণ
দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There is no food shortage in Bangladesh World Bank

বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি নেই: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি নেই: বিশ্বব্যাংক ফাইল ছবি
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতির তোপে পড়লেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গায় আছে। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি হয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই বলে সুখবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ বাংলাদেশকে এই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি।

খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিয়ে এই তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতির তোপে পড়লেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গায় আছে। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি হয়নি। তবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাত মিলে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ১৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মূলত খাদ্য ঘাটতিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপালে বড় ধরনের খাদ্য ঘাটতি দেখা যায়নি। পাকিস্তানে সারের অভাব এবং তাপপ্রবাহের কারণে গম ও চালের উৎপাদন কম হয়েছে। ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি অনুভব করছে। শ্রীলঙ্কায় সারের ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে এবং খাদ্য আমদানি করার জন্য বৈদেশিক মুদ্রার অভাব রয়েছে। সার ও জ্বালানির (জমি প্রস্তুতি, পরিবহন এবং ফসল সংগ্রহের কার্যক্রমের জন্য) অভাব খাদ্য সরবরাহকে আরও সীমিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শ্রীলঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮০ শতাংশে উঠেছে। পাকিস্তানে ২৬ শতাংশ। বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচকটি সে তুলনায় অনেক কম, এক অঙ্কের ঘরে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার খাদ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ মোকাবিলায় চাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে, সারে ভর্তুকি বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

এ ক্ষেত্রে ভারতও স্বস্তিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশটি ৪৪ হাজার টন ইউরিয়ার প্রথম চালান পেয়েছে। ভারতীয় চালের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন।

আর ভুটানে সরকার পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রত্যক্ষভাবে এবং রেয়াতি কাজের মূলধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করছে।

আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় খাদ্যের অভাব ৫০ লাখ মানুষের: জাতিসংঘ
খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর সিদ্ধান্তে বদল চায় বাংলাদেশ
খাদ্য নিরাপত্তা না নিরাপদ খাদ্য
দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত
সারা দেশে নওগাঁর আম পরিচিতি পাবে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Because of the rise in the egg chicken market

ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে

ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে
বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরই তিন দিনের অঘোষিত ধর্মঘট পরিস্থিতি বাজারে অল্প সময়ের জন্য সরবরাহ ঘাটতি তৈরি করে। এরপর ঘটে এটির চেইন রিঅ্যাকশন।

সারা দেশে ডিম ও মুরগির দাম চড়ে যাওয়ার নেপথ্যে মাত্র তিন দিনের পরিবহন সংকট। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি ঘোষণার পর ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা হিসেবে পণ্য পরিবহন খাতে ছিল অঘোষিত ধর্মঘট। ফলে খামার থেকে প্রথম তিন দিন এ দুই পণ্যের সরবরাহ আসেনি।

এতে গোটা দেশে খবর ছড়িয়ে পড়ে সরবরাহ সংকট। এ সুযোগ কাজে লাগায় মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ও অনৈতিক বাড়তি মুনাফার চেষ্টায় প্রথম দফায় এই মধ্যস্বত্বভোগীরা যার যার আগের মজুত থেকেই দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে খামারিরা পরিবহন সংকটে সরবরাহ দিতে না পেরে প্রথম দিকে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়লেও বাজারে দাম বাড়ার ফায়দা পরে তারাও নিতে শুরু করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ডিম ও মুরগির সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি খামার গেটে প্রতি পিস ডিমের ক্ষেত্রে ২০-৫০ পয়সা হারে এবং লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে বাড়াতে থাকেন খামারিরা। এভাবে খামারিরা দফায় দফায় যে হারে দাম বাড়িয়েছেন, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা স্থানভেদে নিজেদের লাভ বিবেচনায় আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামেন। ফলাফল বাজারে এখন এসব পণ্যের দাম নামছে না।

এ প্রসঙ্গে ফিড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খামার পর্যায়ে দাম বেড়েছে এটা সত্য। এই বাড়তি দামের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগী যারা রয়েছে, তাদের আরও বাড়তি মুনাফার একটা অপচষ্টো তো সব সময়ই থাকে। আগে ৬ টাকায় কিনে ৯ টাকায় বিক্রি করত, এখন ৯-১০ টাকায় কিনে ১৩-১৪ টাকা বিক্রি করছে। তবে এবার দাম বাড়ার এই অপচেষ্টার পেছনে ছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি।’

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার জানান, সারা দেশে ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধি উসকে দিয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর মাত্র তিন দিনের পরিবহন সংকট।

কারওয়ান বাজারের খুচরা ডিম ব্যবসায়ী বশিররুল্লাহ বলেন, ‘বাজারে কাঁচা সবজি ও মাছ-মাংসের দাম বাড়ায় মানুষ ডিম ও ব্রয়লার বেশি খাচ্ছে। ফলে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে।’

ভোক্তার পকেট কেটে কে কতটা লাভ করছে

খামারে একটি ডিমের উৎপাদনের পেছনে খরচ পড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকা। খামারিরা সেই ডিমে পরিচালন খরচ যোগ করার পর আনুপাতিক হারে মুনাফা নির্ধারণ করে থাকেন। খামারসংশ্লিষ্টদের দাবি, খামার গেটে একটি ডিম এখন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানে খামারির ডিমপ্রতি লাভ দুই থেকে আড়াই টাকা।

সেই ডিম খামার গেট থেকে আড়তদার, পাইকার ও খুচরাপর্যায়ে তিন দফা হাতবদলের পর পরিবহন খরচ যোগ হয়ে ভোক্তাপর্যায়ে স্থানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। অর্থাৎ এই মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রতিটি ডিম থেকে লাভ করছেন ৪ থেকে ৫ টাকা।

একইভাবে ১৩৫ টাকা আট মাস বিনিয়োগের পর খামারিরা এক কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার থেকে লাভ করেন ১৫-২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে খামারিদের বিক্রয় মূল্য ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। হাতবদলের পর ভোক্তাপর্যায়ে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। এখানে হাতবদলে দর বৃদ্ধি ৪০-৪৫ টাকা, যা পুরোটাই যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

বাড়তি দামে খামারিদেরও আছে যৌক্তিকতা

দেশে ছয়-সাত মাস ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চলছে। ১৭ টাকার ভুট্টা হয়ে গেছে ৩৬ টাকা, ৩০ টাকার সয়াবিন মিল হয়ে গেছে ৬৫ টাকা। আটার দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এগুলো দিয়ে পোল্ট্রি ফিড তৈরি হয়। এর দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচের ওপর।

এ ছাড়া বিদ্যুতে লোডশেডিং হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে আগের তুলনায় খরচ দুই থেকে আড়াই টাকা বাড়তি যোগ হয়েছে। এর সঙ্গে ওষুধের দাম বেড়েছে। পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সব কিছুর দাম বাড়ায় ব্যবসার পরিচালন খরচও বেড়েছে। এর ফলে এক বছর আগে একটি ডিম উৎপাদনে যেখানে খরচ হতো ৬ টাকা, এখন তার খরচ পড়ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকা।

অন্যদিকে এক বছর আগে এক কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এখন সেই একই ওজনের ব্রয়লারের উৎপাদনে খরচ পড়ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।

দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (বিএবি) সভাপতি ও নাহার এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান (টুটুল) জানান, দাম বৃদ্ধির প্রবণতা যেভাবেই ঘটুক, খামারপর্যায়ে দাম যৌক্তিকভাবেই বাড়ানো হয়েছে। দামের এই বৃদ্ধি না হলে দেশি খামারিরা এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেত।

পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী সাত্তার মিয়া বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে ঢাকায় আনা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। সেতুর টোল ভাড়া বেড়েছে। সড়কে চাঁদাবাজি বেড়েছে। সব মিলিয়ে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’

চাহিদার তুলনায় আছে ঘাটতি

করোনা-পরবর্তী সময়ে মুরগি ও ডিমের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে প্যারেন্ট মার্কেট হোল্ডাররা মুরগির বাচ্চা উৎপাদন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক ডিমের খামারও বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অতিমাত্রার গরম ও সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় কুলাতে না পারায় সারা দেশে এখন ছোট বেশির ভাগ খামার বন্ধ রয়েছে। এসবের প্রভাবে সারা দেশে চাহিদার তুলনায় মুরগি ও ডিমের সরবরাহ আগের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভের’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডিমের ভোগ ৭ দশমিক ২ গ্রাম থেকে ১৩ দশমিক ৫৮ গ্রাম বেড়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের উৎপাদনের তথ্য বলছে, দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে খামার পর্যায়ে ডিম উৎপাদন হয় প্রায় চার কোটি পিস।

পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, বিভিন্ন খামার বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন সেই উৎপাদন নেমে এসেছে তিন কোটিতে।

১০ টাকায় ডিম খাওয়ার দিন শেষ

ফিড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন,লোকসান দিয়ে কেউ ব্যবসা করবে না। সব কিছুর দামই যেখানে বেড়েছে, সেখানে খামারিরা করোনা-পরবর্তী দীর্ঘদিন লোকসান করছিল। এখন পরিস্থিতির কারণে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। একটা ক্রাইসিস পিরিয়ডে মধ্যস্বত্বভোগীরাও হয়তো কিছুটা বাড়তি লাভের চেষ্টা করছে। তাই বলে কি লোকেরা কিনছে না? চাহিদা আছে বলেই তো কিনছে, আবার বাড়তি খরচের পাশাপাশি ঘাটতি থাকার কারণেই তো দাম বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্যারেন্ট হোল্ডাররা যখন ৫ টাকায় মুরগির বাচ্চা বিক্রি করেন, লোকসান দেন, তখন তো সরকার ২০ টাকা লাভ করে দিতে পারে না। যেটা বাড়ছে, সেটা বাড়তি চাহিদা এবং সরবরাহে ঘাটতি কারণেই। কিন্তু এটাকে নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে। সবারই মনে রাখা দরকার, ৮ টাকায় ডিম খাওয়ার দিন আর নেই। ৯০ টাকার ডলার এখন অফিশিয়ালি হয়েছে ১১৪-১১৫ টাকা। ডলারের এই বাড়তি দামের কারণে এ খাতে ফিড আমদানি খরচ সরাসরি ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ডিজেলের কারণে দেড় থেকে দুই টাকা খরচ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে বাড়তি ডেলিভারি খরচ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে পোল্ট্রি খাতটি একটি বিপজ্জনক অবস্থায় আছে।’

ডিম আমদানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

খুচরা এক হালি ডিমের দাম এখন ৫৫-৬০ টাকা। স্থানভেদে এখনও প্রতি ডজন ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। যারা মাছ-মাংস ও কাঁচাবাজারের অসহনীয় দামে ভরসা করত এই ডিমের ওপর, তাদের কাছে এখন সেই ডিমও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ডিম আমদানির পথ উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিমের দাম এত বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কিছু ব্যবসায়ী ডিমের বাজারকে অস্থির করে তুলেছেন। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে ডিম আমদানির বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন খামারিরা। এ প্রসঙ্গে ফিড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিমের দাম বাড়ছে, সেটি ঠিক হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মুরগির দাম অনেকটা কমে আসছে। কিন্তু খরচ অনেক বাড়ছে। সেটিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাই বলে ডিম আমদানি? এটা কোনোভাবেই দেশীয় শিল্পের জন্য সুখকর হতে পারে না।’

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, ‘সরকার এখনও সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুধু পরিকল্পনায় আছে। আমার বিশ্বাস, বাস্তবে সেটির প্রতিফলন ঘটবে না, দেশীয় শিল্পের স্বার্থেই।’

আরও পড়ুন:
বিশ্বজুড়ে ডিমের দাম বাড়ল কেন
ফোন দিলে বিনা মূল্যে ডিম
মুরগির ডিম ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরি করলেন রাশেদ
ডিমের খাবারে নাজিম মামার দিনে আয় ২৫ হাজার
‘শয়তানের ডিম’ খাওয়ার দিন আজ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Some unscrupulous traders have suddenly raised the prices of goods Amu

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন: আমু

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন: আমু নলছিটিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের শোকসভায় বক্তব্য দেন আমির হোসেন আমু। ছবি: নিউজবাংলা
‘সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেতে চাচ্ছেন। পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান।’

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন বলে দাবি করেছেন জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠির নলছিটিতে বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় তিনি এমন দাবি করেন।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেতে চাচ্ছেন। পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের পরাজিত শক্তি পঁচাত্তরে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। তদের মদদ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট লাগিয়ে জিয়া সাড়ে ১১ হাজার মানবতাবিরোধীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি ইনডেমেনিটি বিল করে খুনিদের রক্ষাও করেছিলেন।’

সকাল ১০টার দিকে নলছিটি সরকারি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তছলিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহেদ কবির খান।

আরও পড়ুন:
১৫ আগস্টের সুবিধাভোগীরাই বঙ্গবন্ধুর খুনি: আমু
আ.লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আমুর
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বলেই বিচারহীনতা দূর হয়েছে: আমু

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Excess profit in dollars This time 6 banks MDK Shokaj

ডলারে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’: এবার ৬ ব্যাংকের এমডিকে শোকজ

ডলারে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’: এবার ৬ ব্যাংকের এমডিকে শোকজ প্রতীকী ছবি
ব্যাংকগুলোর এমডিদের বুধবার চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। ওই ছয় ব্যাংক হলো ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

ট্রেজারি-প্রধানদের অপসারণের নির্দেশনার পর এবার ডলার নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগে ছয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের বুধবার এ চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

ব্যাংক ছয়টি হলো ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এর আগে এ ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি-প্রধানদের অপসারণের নির্দেশ দিয়ে প্রত্যেক ব্যাংকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই দিনে আরেকটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডলার বিক্রির অতিরিক্ত মুনাফা নেয়া যাবে না ব্যাংকের আয় খাতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংকে ইন্সপেকশন করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডলারে অস্বাভাবিক মুনাফার তালিকায় আরও প্রায় এক ডজন ব্যাংক আছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এসব ব্যাংককে তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য সব ব্যাংকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তালিকায় রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের নাম।

এসব ব্যাংক ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডলারে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:
মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
That old trick to increase the price of edible oil

ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল

ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল কোনো কোনো দোকানে আগে সরবরাহ করা ভোজ্যতেল থাকলে তা কিনতে পারছেন কিছু ক্রেতা। তবে চাহিদার তুলনায় তা কম। ফাইল ছবি
সরকারের কাছে সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে আমদানি ও উৎপাদক সমিতি। এবার তাদের যুক্তি টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চ মূল্য। দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু সময় দিতে রাজি নয় কোম্পানিগুলো।

দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া। ফলে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি। আর ঘাটতির কারণে বেড়ে যাচ্ছে দাম।

ভোজ্যতেলের বাজারে এমন চিত্র বরাবরের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়াতে আবারও সেই পুরোনো কৌশলের আশ্রয় নিতে চলেছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের কাছে সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে আমদানি ও উৎপাদক সমিতি। এবার তাদের যুক্তি টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চ মূল্য। দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু সময় দিতে রাজি নয় কোম্পানিগুলো।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, মিরপুরের শেওড়াপাড়াসহ অলিগলির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বাজারে তেলের সংকট হয়েছে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন না।

দোকানিরা বলছেন, টাকা দিলেও তেলের চাহিদা নিচ্ছে না সব কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। ফলে ক্রেতারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছে না। কোনো কোনো দোকানে আগে সরবরাহ করা তেল থাকলে তা কিনতে পারছেন কিছু ক্রেতা। তবে চাহিদার তুলনায় তা কম।

বাজার পরিস্থিতি

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে মদিনা স্টোরের দোকানি আলতাফ হোসেন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তেলের সরবরাহ নেই। দোকানে সরিষার তেল ছাড়া কোনো সয়াবিন তেল নেই।

তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ কোম্পানির কোনো প্রতিনিধিকে এখন দেখা যায় না। দু-একজনের দেখা পেলেও তাদের বক্তব্য- দাম বাড়বে, তাই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।’

জামাল নামে আরেক দোকানি বলেন, ‘আগের কেনা সামান্য তেল আছে। তা-ও শেষ হয়ে যাবে। তেল চাইলে দেয়া হচ্ছে না। যেসব কোম্পানি বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহ করে, তারাই চাহিদা নিচ্ছে না। ক্রেতারা পাঁচ লিটারের ক্যান চান। অথচ দোকানে এক ও দুই লিটারের মাত্র কয়েক বোতল ভোজ্যতেল আছে।’

মিরপুর ৬০ ফুট রোডের জহির জেনারেল স্টোরের জসিম জানান, ‘দোকানে তেল নেই। কোম্পানির লোকদের পাওয়া যায় না। দুই-একজনকে পেলেও তার সরবরাহের বিপরীতে অগ্রিম টাকা নেয় না। বলে, কোম্পানি থেকে তেল দেয়া হচ্ছে না।

‘বাধ্য হয়ে ক্রেতারা রাইস ব্রান অয়েল, সরিষা ও সানফ্লাওয়ার তেল নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা এত দামি তেল কিনতে পারছে না। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাও হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘তেলের সরবরাহ থাকলেও আগের মতো না। দুই-একটি কোম্পানি তেল দিলেও কমিশন কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে একটু ছাড় দিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

দামবৃদ্ধির প্রস্তাব

বিশ্ববাজারে দাম ক্রমান্বয়ে কমে আসায় দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করা হয় ১৮ জুলাই। এক মাস না যেতেই নতুন করে আবার দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পতনের উল্লেখ করে তেলের দামবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদক সমিতি।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো প্রস্তাবে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০, বোতলজাত ২০৫ ও পাঁচ লিটার তেলের দাম ৯৬০ টাকা করার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বোতলজাত সয়াবিন লিটারে ২০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৪ টাকা ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ৫০ টাকা দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়।

পর্যালোচনা করছে ট্যারিফ কমিশন

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, ১৮ জুলাই দাম সমন্বয়ের পর আবার ১৫ দিনের মাথায় দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব হাস্যকর।

‘দাম নির্ধারণ করা হয় এক মাসের জন্য। কিন্তু কোম্পানিগুলো নেই নিয়ম মানছে না। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম দ্রুত কমছে। আবার ডলারের বিপরীতে কমছে টাকার মান। সবদিক পর্যালোচনা শেষে সবশেষ যে মূল্য নির্ধারণ হয় তখনও ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখীই ছিল।’

ট্যারিফ কমিশন সূত্র জানায়, ডলারের তেজিভাব কমছে। তবে আগের তুলনায় এখনও বেশি। আমদানি পর্যায়ে ডলারের দাম এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে ট্যারিফ কমিশন। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ক্রেতার নাভিশ্বাস

প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম চড়া। বাজারে গিয়ে ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠেছে। ভোজ্যতেল যেহেতু ক্রেতার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তাই এই পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে কেনার ক্ষমতা হারাচ্ছে ভোক্তা। পড়ছে বাড়তি চাপ।

ক্রেতারা বলেন, সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি এর আগেও করা হয়েছে। এবারও একই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। ক্রেতাদের স্বার্থ দেখবে কে?

হাতিরপুল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বেতন বাড়ছে না। অথচ সবকিছুর দাম বাড়ছে। ভয়াবহ এক সংকট সামনে এসেছে। আগে সংসারে যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন হতো, এখন তা প্রায় অর্ধেক কমিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না।’

শেওড়াপাড়া বাজারের সানজিদা খাতুন বলেন, ‘তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল দিতে পারছে না। অগত্য দুই লিটার নিতে হলো।’

আলিম স্টোরে তেল কিনতে আসা ক্রেতা আমিনুল জানান, ‘তিনটি দোকান ঘুরে এক দোকানে তেল পাওয়া গেছে। তাও বোতলের গায়ে উল্লেখ থাকা দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। তেল কিনতে পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা

ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তরল পদার্থ পরিমাপের একক হিসেবে লিটার ব্যবহৃত হলেও ভোজ্যতেলের পাইকারি বাজারে মণ ও খুচরা বাজারে কেজিতে বিক্রির প্রবণতা রয়ে গেছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খোলা ভোজ্যতেলের মিলগেট মূল্য অতিমাত্রায় পরিবর্তনশীল হওয়ায় সেকেন্ডারি মার্কেটে মূল্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। তাই খোলা ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। খোলা ভোজ্যতেলে সেকেন্ডারি বা পাইকারি বাজারে প্রবেশের পর এই তেলের কোনো ব্রান্ডিং থাকে না।

সরকারের এই প্রতিষ্ঠান মনে করে, খোলা ভোজ্যতেল সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিশোধনকারী মিলগুলো সরবরাহ আদেশে দেয়া মেয়াদ ১৫ দিন উল্লেখ করলেও তা ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত ছাড়িয়ে গ্রহণ করা হয়। এতে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যের এসও (চাহিদাপত্র) বাজারে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ কারখানায় বোতলজাত করা হয় সয়াবিন
তেলের দাম: পিটিয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেই পুলিশের মামলা
তেলের পুষ্টিগুণ নিশ্চিতের উদ্যোগ
সয়াবিনের নতুন দাম কার্যকর
ধনী-গরিবের আলাদা পানির বিলে সময় লাগবে

মন্তব্য

p
উপরে