× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Economy in motion Sloth is the banks earnings wheel
hear-news
player
print-icon

অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

অর্থনীতি-সচল-শ্লথ-ব্যাংকের-আয়ের-চাকা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের অর্ধবার্ষিকে আয়ের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে ব্যাংকগুলোর ফুলে-ফেঁপে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ ব্যাংকের আয় আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির হার অনেকটাই কম। আবার দুটি ব্যাংক এই প্রান্তিকে লোকসান দিয়েছে, যেগুলো আগের বছর বেশ খানিকটা মুনাফায় ছিল। সব মিলিয়ে ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে। ২টির আয় রয়েছে আগের বছরের সমান। আর আয় কমেছে ১৩টি ব্যাংকের।

করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার পর অর্থনীতির চাকা সচল হওয়ার পর বেসরকারি ঋণপ্রবাহেও ফিরেছে গতি। সেই সঙ্গে বেড়েছে আমদানি-রপ্তানি, বেড়েছে রেমিট্যান্স-প্রবাহ, ডলার বাণিজ্য থেকেও বেশ ভালো আয় আসার কথা।

তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের অর্ধবার্ষিকে আয়ের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে ব্যাংকগুলোর ফুলে-ফেঁপে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

গত বছর করোনার বিধিনিষেধের মধ্যেও ব্যাংকগুলো প্রায় প্রতি প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি ভালো আয় করলেও এবার তাদের প্রবৃদ্ধি কমেছে।

তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ ব্যাংকের আয় আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির হার অনেকটাই কম। আবার দুটি ব্যাংক এই প্রান্তিকে লোকসান দিয়েছে, যেগুলো আগের বছর বেশ খানিকটা মুনাফায় ছিল।

সব মিলিয়ে ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টির আয় বেড়েছে। ২টির আয় রয়েছে আগের বছরের সমান। আর আয় কমেছে ১৩টি ব্যাংকের।

শতাংশের হিসাবে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আয় কমেছে আইএফআইসি, স্ট্যান্ডার্ড, ওয়ান, ইউনিয়ন, এনআরবিসি ও রূপালী ব্যাংকের।

বছরের পর বছর ধরে লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক তার বৃত্ত ভেঙে বের হয়ে এসেছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি করেছে। তবে বাকিগুলোর প্রবৃদ্ধি খুব একটা বেশি নয়।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর আরেফিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের মুনাফার হার সামান্য কমার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। ১. ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে এই অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ধরে রাখার প্রবণতা রয়েছে। ২. ডিপোজিট কস্ট বেড়ে গেছে, সেটাও আয় কমার একটা কারণ। ৩. আর ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন- ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো হয়তো আয় করতে পারেনি ভালো। যার কারণে ব্যাংকের সমন্বিত আয় কমেছে। তারপরও খুব বেশি কমেছে বলে মনে হয় না। প্রায় ২০টির মতো ব্যাংক ভালো আয়ে রয়েছে সম্ভবত।’

আমানতের সুদ ও ঋণের সুদহারের মধ্যে পার্থক্য বা মার্জিন কমা ব্যাংকের আয় কমার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও।

তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের যে নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন সেটা অনেক কমে গেছে। ব্যাংকিং খাতের বড় আয় যেখান থেকে, ব্যাংক ইন্টারেস্ট মার্জিন, সেটা অনেক কমে গেছে বেশির ভাগ ব্যাংকের। এটাই প্রধান কারণ। আরেকটা কারণ হতে পারে, তা হলো অনেক ব্যাংকের ব্যাক ডেট প্রভিশন বেড়েছে।‘

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ মনে করেন, প্রবৃদ্ধি ভালো না হলেও ব্যাংক খাতের যে আয়, সেটি অন্য খাতের তুলনায় ভালো।

তিনি বলেন, ‘এই প্রান্তিকে খুব বেশি ভালো হয়তো করেনি। তবে গত কয়েক বছর ধরে দেখে আসছি ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করে। লভ্যাংশও দেয় ভালো । কিন্তু এগুলোর দাম কম।’

তিনি বলেন, ‘হাতে গোনা কয়েকটা ব্যাংক ছাড়া বেশির ভাগ ব্যাংকই প্রতি বছর ভালো মুনাফা করছে। অনেক টাকা আয় করে বলেই কর্মীদের ভালো বেতন দেয়। তারপরও যদি ব্যাংক ওই তুলনায় অল্প ‍মুনাফাও করে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয় সেটাও অন্য অনেক শেয়ারের চেয়ে ভালো।’

অর্ধবার্ষিকে শেয়ার প্রতি সবচেয়ে বেশি ৩ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৪ পয়সা আয় করেছে যমুনা ব্যাংক।

তৃতীয় স্থানে থাকা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২ টাকা ৩৯ পয়সা, চতুর্থ স্থানে থাকা পূবালী ব্যাংক ২ টাকা ৩৬ পয়সা, পঞ্চম স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংক ২ টাকা ২৮ পয়সা, ষষ্ঠ স্থানে থাকা ট্রাস্ট ব্যাংক ২ টাকা ২২ পয়সা এবং সপ্তম স্থানে থাকা ইস্টার্ন ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ২১ পয়সা আয় করেছে।

এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি দেড় টাকার বেশি আয় করেছে প্রাইম, ইসলামী, প্রিমিয়ার ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

ব্র্যাক ও ঢাকা ব্যাংকের আয় শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে দেড় টাকার ভেতরে।

শেয়ারপ্রতি ১ টাকার বেশি আয় করেছে ঢাকা এক্সিম এবং আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকও। অর্ধবার্ষিকে বাকি সব ব্যাংকের আয় শেয়ারপ্রতি ১ টাকার কম।

অন্যদিকে একমাত্র ব্যাংক হিসেবে লোকসানে আছে এনবিএল। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ব্যাংকটির পাশাপাশি লোকসান করেছে এনআরবিসি।

সবচেয়ে ভালো করেছে যারা

এই তালিকায় তুলনামূলক হিসাবে নিঃসন্দেহে সবার চেয়ে এগিয়ে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থাকাকালে ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো অর্ধবার্ষিক হিসাব ইতিবাচক দেখা গেছে।

অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ১৭ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে লোকসান ছিল ৩২ পয়সা।

এই হিসাবে অর্ধবার্ষিকীতে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৪ পয়সা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয়ও ‍দুই প্রান্তিকেই বেড়েছে।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২০ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৭৭ শতাংশ।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

কয়েক বছর চাপে থাকলেও চলতি বছর ব্যাংকটি চাপ থেকে বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৭৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৯ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯৬ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক

এই ব্যাংকটি আয়ে চমক দেখিয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬৪ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

উত্তরা ব্যাংক

এই ব্যাংকটিও দারুণ সময় কাটাচ্ছে।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৫৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

এবি ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৪ পয়সা যা গত বছর একই সময় ছিল ১৬ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩১ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

পূবালী ব্যাংক

আয়ের প্রবৃদ্ধিতে দুই বছর ধরেই চমক দেখাচ্ছে এই ব্যাংকটি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৩৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৩১ দশমিক ১১ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয় দুই প্রান্তিকেই বেড়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৮২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮৭ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

যমুনা ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয়ও দুই প্রান্তিকেই বেড়েছে।

এর মধ্যে এপ্রিলে থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩২ পয়সা আয় হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৬৪ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ২৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ঢাকা ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয় দুই প্রান্তিকেই আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আয় হয়েছে ৫৭ পয়সা করে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৮ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ০৪ শতাংশ।

ব্যাংক এশিয়া

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে এই ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৯৪ পয়সা, যা গত বছর একই সময় ছিল ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় ২ টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক

এই ব্যাংকটি কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয় বাড়িয়ে চলছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৯৬ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয়ও দুই প্রান্তিকেই বেড়েছে।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রিমিয়ার ব্যাংক

ব্যাংকটি তার আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যদিও চলতি বছর প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কম।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৯৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯৩ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় সামান্য কমলেও ছয় মাসের সমন্বিত আয় বেড়েছে ব্যাংকটির।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৬ পয়সা।

তবে দুই প্রান্তিক মিলিয়ে অর্থাৎ বছরের প্রথম ছয় মাসের আয় আগের বছরের তুলনায় ১ পয়সা বেড়েছে। ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩২ পয়সা, গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩১ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা কমলেও প্রথম প্রান্তিকে কিছুটা বাড়ার সুবাদে অর্ধবার্ষিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে ব্যাংকটি।

এর মধ্যে জুনে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা।

এই প্রান্তিকে প্রতি শেয়ারে ৩ পয়সা কমলেও দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ট্রাস্ট ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভাটা পড়লেও দুই প্রান্তিক মিলিয়ে আয় কিছুটা বাড়াতে পেরেছে এই ব্যাংকটি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২০ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধিও ইসলামীর মতো ০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬৮ পয়সা, যা গত বছর একই সময় ছিল ৯০ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমলেও প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির কারণে ছয় মাসে আয় কিছুটা বেড়েছে। এই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১ টাকা ১৬ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির আয়ের প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সবচেয়ে খারাপ করেছে যারা

এই তালিকায় সবার ওপরে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক এনবিএল।

এক দশক আগেও দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংকটির একটির এখন করুণ দশা। প্রথম প্রান্তিকে হতাশার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে হতাশা আরও বাড়িয়েছে ব্যাংকটি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১৬ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিকে লোকসান ছিল এর অর্ধেক, শেয়ারপ্রতি ১৮ পয়সা।

অর্থাৎ দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৮ পয়সা।

অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি ৮২ পয়সা আয় কমেছে ব্যাংকটির।

অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

আইএফআইসি ব্যাংক

এই ব্যাংকের দুই প্রান্তিকেই আয় কমেছে।

এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৫ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে অর্ধবার্ষিকে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৫২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮৭ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

গত কয়েক বছর ধরে চাপে থাকা এই ব্যাংকটির আয়ে এবারও ভাটা পড়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৩ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ওয়ান ব্যাংক

গত বছর আয় কমার ধারাবাহিকতা চলতি বছরও দেখা যাচ্ছে এই ব্যাংকটির ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৫৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৭ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৯৮ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪৬ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৩২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

ইউনিয়ন ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয় দুই প্রান্তিকেই কমেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৪৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ২৯ দশমিক ০৩ শতাংশ।

এনআরবিসি

দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান দেয়া দ্বিতীয় ব্যাংক এটি। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি সাড়ে ৬ পয়সা লোকসান হয়েছে।

ফলে প্রথম প্রান্তিক শেষে আয় যতটা ছিল, ছয় মাস শেষের হিসাব থেকে কমে গেছে সেখান থেকে।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ।

রূপালী ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি হতাশ করেই চলেছে। এই ব্যাংকটির আয় চলতি বছর শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি কমেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৯ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংক

এই ব্যাংকটির আয় দুই প্রান্তিকেই কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭০ পয়সা, যা গত বছর একই সময় ছিল ৯০ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে সমন্বিত আয় হয়েছে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ১৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

প্রাইম ব্যাংক

দারুণ দ্বিতীয় প্রান্তিক কাটিয়েও প্রথম প্রান্তিকের কারণে ব্যাংকটির আয় আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ৭২ পয়সা। গত বছর একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৪২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬১ পয়সা। গত বছরও প্রথম দুই প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস ১ টাকা ৭৯ পয়সা ছিল।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ।

এসআইবিএল

এই ব্যাংকটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেশ ভালো করলেও প্রথম প্রান্তিকে আয়ে ভাটার কারণে অর্ধবার্ষিকে আয় কমেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২১ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৩ পয়সা।

অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

সিটি ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাড়লেও প্রথম প্রান্তিকে কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকটির আয় কিছুটা কমেছে।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ১৬ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ইউসিবি

এই ব্যাংকটির আয় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাড়লেও অর্ধবার্ষিকে কিছুটা কমেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৬৮ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬০ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৯৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯৮ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ইবিএল

প্রথম প্রান্তিকে বাড়লেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে কম হওয়ায় এই ব্যাংকটির আয় কিছুটা কমেছে।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২৮ পয়সা।

অর্থাৎ অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় কমেছে ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।

সমান আয় দুই ব্যাংকের

সাউথইস্ট ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ব্যাংকটির আয়েও ভাটা পড়েছে। তবে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির সুবাদে আয় কমেনি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৪ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল সমান।

এনসিসি ব্যাংক

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা কমলেও দুই প্রান্তিক মিলিয়ে সমান আয় করেছে এই ব্যাংকটি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৭৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮২ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের বছরও ছিল একই পরিমাণ।

আরও পড়ুন:
ব্র্যাক ব্যাংকের প্রগতি সরণি শাখা ও নিকুঞ্জ উপশাখা উদ্বোধন
শোকাবহ আগস্টে পদ্মা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের শোক প্রস্তাব
দু-এক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি: অর্থমন্ত্রী
ইসলামী ব্যাংকের মাসব্যাপী ফিনটেক ক্যাম্পেইন শুরু
অনিবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতে সুদ বাড়ল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market handled the pressure of oil price increase

তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার

তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার
লেনদেন নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার পতনের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বলা যায় যে, সেটা হয়নি। কারণ, আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং পুঁজিবাজারবান্ধব মনোভাব মানুষ বুঝতে পেরেছে। যার কারণে কিছুটা আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।’

ফ্লোর প্রাইস আর পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ইস্যুতে দারুণ একটি সপ্তাহ পার করা পুঁজিবাজারে নতুন সপ্তাহের শুরু হলো কিছুটা দরপতনের মধ্য দিয়ে।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক ৮ পয়েন্ট হারালেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরবর্তী বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বিষয়টি স্বস্তিকরই বলা যায়।

ফ্লোর প্রাইস ও এক্সপোজার লিমিট দেয়ার আগে বৈশ্বিক বা দেশের অর্থনীতি নিয়ে চাপের বা উৎকণ্ঠার যে কোনো আশঙ্কায় পুঁজিবাজার বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

শুক্রবার থেকে দেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা পরযন্ত বাড়ানো হয়। এতে পরিবহন ভাড়া ও সেচের খরচ বেড়ে দিয়ে এমনিতেই মূল্যস্ফীতির দিক দিয়ে চাপে থাকা অর্থনীতিতে নতুন চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লেনদেন শুরু হওয়ার ৪ মিনিটেই সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে গিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে মিনিট পাঁচেক পরেই সেখান থেকে ৫১ পয়েন্ট বাড়ার পর শঙ্কা দূর হয়।

এরপর দিনভর সূচক একবার কিছুটা বেড়ে, একবার কমে। শেষ বেলায় কিছুটা বিক্রয় চাপে সূচক হারানেরা মধ্য দিয়ে শেষ হয় লেনদেন।

সূচকের পাশাপাশি কিছুটা কমেছে লেনদেন, তবে টানা চার কর্মদিবস তা হাজার কোটি টাকার বেশি হলো।

বেলা শেষে হাতবদল হয় ১ হাজার ১১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ১৯০ কোটি ২৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।

নানামুখী সংকটে পতনমুখী পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে গত ২৮ জুলাই প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

৩১ জুলাই থেকে বিষয়টি কার্যকরের দিন সূচকের উত্থান হয় ১৫৩ পয়েন্ট, যা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এদিকে দীর্ঘদিনের চাওয়া ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে গণনার যে দাবি ছিল তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে বাংলাদেশে ব্যাংক ১৮ জুলাই যে চিঠি দেয় তার উত্তরে মন্ত্রণালয় একটি কৌশলী মতামত দেয়। মন্ত্রণালয় বলছে, শেয়ারের ক্রয়মূল্যকেই বাজার মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এই দুই নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে আতঙ্ক কাটিয়ে বিনিয়োগ ফিরতে শুরু করেন সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা। ফলে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইসর সাধারণ সূচক বাড়ে ৩৩১ পয়েন্ট। এ ছাড়াও আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৪টির। বিপরীতে দর কমেছে ১৮৭টির এবং আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ৬৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেন নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার পতনের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বলা যায় যে, সেটা হয়নি। কারণ, আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং পুঁজিবাজারবান্ধব মনোভাব মানুষ বুঝতে পেরেছে। যার কারণে কিছুটা আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের ক্যালকুলেশনে বাজারকে মূল্যায়ন করা যায় না। সব মিলিয়ে বাজার খারাপ নাই। আজ যতটুকু সূচক কমেছে এটা সামান্য দর সংশোধনও বলা যায়। কয়েক দিন উত্থানের পরে আজও হয়ত অনেকেই কিছু প্রফিট তুলেছে।’

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট সূচক কমেছে বেক্সিমকো লিমিটেডের দর পতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমিয়েছে বার্জার পেইন্টস। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ওয়ালটন হাইটেকের দর শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বিকন ফার্মা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ইবিএল, ম্যারিকো ও আইএফআইসি ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ২৭ দশমিক ০৯ পয়েন্ট।

সূচকে পয়েন্ট যোগ যাদের

সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির দর ১ দশমিক ২৩ শতাংশ দর বেড়েছে।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর দর ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ সূচকে যোগ করেছে ৮ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এ ছাড়া আইসিবি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, সি পার্ল, পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল এবং এমজেএল বাংলাদেশ সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্টের। গত বছর লোকসান কাটিয়ে শেয়ার প্রতি ৬১ পয়সার মুনাফায় ফিরেছে কোম্পানি। ২৪ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে দর বাড়ছে শেয়ারটির। ওই দিন ৪৩ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হওয়া প্রতিটি শেয়ারের দর আজ ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৫৩ টাকা হাতবদল হয়েছে।

রংপুর ডেইরি ও ফুড প্রোডাক্টস দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২৮ জুলাইয়ে ৩৫ টাকা ২০ পয়সায় প্রতিটি শেয়ার লেনদেনের পর থেকেই দর বাড়ছে।

রোববার ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ টাকা ৭০ পয়সায়।

তৃতীয় স্থানে থাকা দ্য পেনিনসুলা চিটাগংয়ের দরও ২৮ জুলাই থেকেই বাড়ছে। ওই দিন শেয়ারের দাম ছিল ২৬ টাকা ৯০ পয়সা। আজ ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১ টাকা ৩০ পয়সা।

এ ছাড়া শীর্ষে দশে জায়গা করে নিয়েছে প্যাসিফিক ডেনিমস, ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, লোকসানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

দর পতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি দর কমেছে হা-ওয়েল টেক্সটাইলের। ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ দর কমে সর্বশেষ শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৫৪ টাকা ৪০ পয়সায়।

৫ দশমিক ১৮ শতাংশ দর কমেছে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিটি শেয়ারের ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার এটি ছিল ১৪৮ টাকা ৪০ পয়সায়।

এর পরেই ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ দর কমে সর্বশেষ ২৬১ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে লোকসানি কোম্পানি সাভার রিফ্যাক্টরিজের শেয়ার।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, অ্যাম্বি ফার্মা, লোকসানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, কেপিপিএল, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যালস ও এইচ আর টেক্সটাইল লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের
অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা
এক্সপোজার লিমিট ইস্যুতে পুঁজিবাজারে নতুন আশা
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে করার কৌশলী মত মন্ত্রণালয়ের
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে চার সিদ্ধান্ত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The possibility of sukuk stuck in Haola

‘হাওলায়’ আটকে সুকুকের সম্ভাবনা

‘হাওলায়’ আটকে সুকুকের সম্ভাবনা পুঁজিবাজারে অনুমোদন পাওয়া প্রথম সুকুক বন্ডে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের আর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ করছে বেক্সিমকো লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। ফাইল ছবি
কেউ এক হাজার বন্ড কিনতে চাইলেন। তিনি এক হাওলায় ১০০টি পেলে তার জন্য দিতে হবে ৫০ টাকা। অর্থাৎ বন্ডপ্রতি ৫০ পয়সা। কিন্তু যদি এক হাওলায় তিনি পান ১০টি বন্ড, তাহলে বন্ডপ্রতি মাশুল দাঁড়ায় ৫ টাকা। আর যদি তিনি একবারে ৫টি পান, তাহলে মাশুল দাঁড়ায় ১০ টাকা। যদি বিক্রেতার সংখ্যা ২০ জন হয় তাহলে হাওলা মাশুলের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজারে ইসলামিক গ্রিন সুকুক বন্ডের চালুর আগে এটি নিয়ে যে প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছিল, তার প্রমাণ মেলেনি লেনদেনে।

তিন হাজার কোটি টাকার বন্ডে অর্ধবার্ষিক বা ছয় মাসে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বা প্রতি ১০০ টাকার বন্ডে ৫ টাকা ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশও এসেছে। এই হারে লভ্যাংশ যেকোনো সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে বেশি লাভ, তার পরও বিনিয়োগকারীদের বন্ডের লেনদেনে খুব একটা আগ্রহী দেখা যাচ্ছে না।

এর কারণ কী- এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে শেয়ার লেনদেনে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, হাওলার চার্জ বা মাশুল সমস্যায় বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত।

পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের প্রতিটি ক্রয় বা বিক্রয় আদেশকে বলা হয় হাওলা। বন্ডের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতি হাওলায় ফি ঠিক করা হয়েছে ৫০ টাকা। কেউ বন্ড কিনতে চাইলে এক হাওলায় কতগুলো পাওয়া যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তার কাছ থেকে নেয়া হবে ৫০ টাকা। এটিই সুকুক বন্ডের লেনদেনে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, কেউ এক হাজার বন্ড কিনতে চাইলেন। তিনি এক হাওলায় ১০০টি পেলে তার জন্য দিতে হবে ৫০ টাকা। অর্থাৎ বন্ডপ্রতি ৫০ পয়সা। কিন্তু যদি এক হাওলায় তিনি পান ১০টি বন্ড, তাহলে বন্ডপ্রতি মাশুল দাঁড়ায় ৫ টাকা। আর যদি তিনি একবারে ৫টি পান, তাহলে মাশুল দাঁড়ায় ১০ টাকা।

যদি বিক্রেতার সংখ্যা ২০ জন হয়, তাহলে হাওলা মাশুলের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার টাকা। এভাবে কাঙ্ক্ষিত বাই অর্ডারে যত বেশি হাওলার সংখ্যা বাড়বে তত বেশি বিনিয়োগ ব্যয় বাড়বে। একই কথা যারা বিক্রি করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরের আগে শেয়ার বিক্রি হতো লট হিসেবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যক বা এক গুচ্ছ শেয়ারকে বলা হতো লট। এক লট শেয়ার লেনদেনের জন্য তখন ব্রোকারেজ হাউস থেকে হাওলা বাবদ চার টাকা অর্থাৎ ক্রয় বাবদ দুই টাকা ও বিক্রয় বাবদ দুই টাকা মাশুল নিত স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ক্রয় বা বিক্রয় আদেশকে একটি হাওলা হিসেবে বিবেচনায় ধরে এ মাশুল আদায় করা হতো।


তবে ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন লেনদেন যন্ত্র চালুর পর শেয়ারের গুচ্ছ প্রথা তুলে নেয় এক্সচেঞ্জগুলো। এরপর থেকে একটি করে শেয়ার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটও লেনদেন করা যায়। আর এই পরিবর্তনের পর হাওলার মাশুল পরিবর্তন করে শেয়ারদরের শতকরা হিসেবে মাশুল নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বন্ডের ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতিতেই মাশুল আদায় করা হচ্ছে।


বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বন্ড মার্কেট খুবই ছোট। এর পরিধি বাড়াতে হলে বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করতে হবে। বন্ডের হাওলা মাশুলকে পরিবর্তন করে শেয়ার লেনদেনের মতো মাশুল নির্ধারণ করা যেতে পারে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট নেই বললেই চলে। হাওলা মাশুল ক্ষুদ্র বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা।

‘একজন বিনিয়োগকারী যে পরিমাণ বন্ড কিনতে আগ্রহী তা একবারেই তার অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। দেখা যাবে, চাহিদার বিপরীতে সেল অর্ডার কম। তখন ওই বিনিয়োগকারী কয়েকবারে ভেঙে ভেঙে ওই পরিমাণ ইউনিট পাবেন। এতে হাওলার সংখ্যা বেড়ে যাবে। খরচও বেড়ে যাবে। খরচ বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই কিছুটা উৎসাহী হলেও কিনতে সাহস করবে না।’


অভিন্ন মত দিয়েছেন পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুকুক বন্ডের হাওলা ফি ট্রেডের ক্ষেত্রে আসলেই একটা বাধা। যে পরিমাণ ইউনিট বাই অর্ডার দেয়া হবে সেটা একবারেই পাওয়া যাবে এমন না। বারে বারে পেলে হাওলার সংখ্যা বাড়বে, এতে করে যিনি শেয়ারটা কিনলেন তার কিন্তু কস্টিং বেড়ে যায়।’


ব্যয় কমানোর জন্য একবারে চার্জ কেটে নেয়ার দাবি জানান বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ সুকুক বন্ডের ৫০০ ইউনিট কেনেন, সেটা যতবারেই হোক ওই ইউনিটের ওপর একবারই ফি কেটে নেয়া হোক।’

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘আমরা চাই যে, বাজার বড় হোক, বন্ডের বাজার সম্প্রসারিত হোক। বন্ডের যে হাওলা চার্জ তা অনেক বেশি।


‘বিনিয়োগ বাড়াতে হলে এই ফি কমানো প্রয়োজন। মানুষকে কোনো জিনিসে অভ্যস্ত করতে হলে আগে ফ্রি করে দিতে হবে। উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, প্রথমে ফ্রি করে দেয়, এরপর মানুষ যখন সেটা ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন এর সঙ্গে চার্জ জুড়ে দেয়া হয়। সেভাবে বন্ড মার্কেট জনপ্রিয় করতে হলে এর শর্তগুলো শিথিল করতে হবে। স্টক মার্কেট খারাপ হলে টাকা বন্ড মার্কেটে যাবে, বন্ড মার্কেট খারাপ হলে স্টক মার্কেটে যাবে। এটাই টাকার ধর্ম।’


তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসই কর্তৃপক্ষের দাবি, যে পদ্ধতিতে সুকুক বন্ডের হাওলা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক।


ডিএসইর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সাইফুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রানজেকশন ফি কম রাখার জন্যই এটা করা হয়েছে। যখন কেউ বেশি পরিমাণে কিনবেন তখন খরচ অনেক কম পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ এক-দুই ইউনিট বন্ড কিনবে সেটা অ্যাকসেপ্টেড না বা সেভাবে ডিজাইন করা হয়নি। বেশি যখন কিনবে তখন কম হয়ে রেট হবে। যদি কেউ একবারে ২৫ হাজার কিনতে পারে তখন সেটার চার্জ ০.২ পড়ে। তাহলে দেখা যাবে যে, ইক্যুয়িটির যে রেট সেই রেটই পড়বে। যদি আরও বেশি কেনে কেউ, তাহলে আরও কম পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ড মার্কেট ডিজাইন করা আছে যেন কেউ একটা রিজনেবল কোয়ান্টিটি কেনে। তাহলে ব্লক মার্কেটে কিনতে পারে, সেখানে কিনলে একবারে ৫ লাখ টাকার একবারে কিনতে পারবে। বন্ড মার্কেটে ফি কম রাখার জন্যই এটা করা হয়েছে।’

কত হাওলাতে কাঙ্ক্ষিত ইউনিট পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা নেই, সেক্ষেত্রে খরচ তো বেশি হয়ে যাবে না?- এমন প্রশ্নে সাইফুর মজুমদার বলেন, ‘সুকুক আসার পরে খুচরা লেনদেনে কিছু সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। বন্ড মার্কেট পার্সিয়ালি চালু হয়েছে, গর্ভমেন্ট সিকিউরিটিজ আসলে তখন এগুলো রিভাইজ হবে, তখন দেখা হবে।

‘এখন পর্যন্ত যেভাবে আছে, সেটা রাখা হয়েছে যাতে করে যারা কিনবেন তারা যেন একটা বাল্ক পরিমাণ কেনেন। এটা রাখা হয়েছে বন্ডে ফি কম থাকুক। বেশি বন্ড কিনলে তার ফি হবে নেগলিজেবল।’

লেনদেন কত

সুকুকের লেনদেন শুরু হয় গত ১৩ জানুয়ার। প্রথম দিন হাতবদল হয় ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি ইউনিট। কিন্তু এরপর এর ধারেকাছেও লেনদেন হয়নি।

দ্বিতীয় দিনই লেনদেন নেমে আসে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টিতে। পরের দিন হাতবদল হয় ৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯টিতে। তৃতীয় দিনের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে কেবল একদিন।

গত ২৮ জুন হাতবদল হয় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৪টি ইউনিট। বাকি দিনগুলোর মধ্যে এক লাখ ছাড়ানো লেনদেন হয়েছে কেবল ১১ কর্মদিবসে। এর মধ্যে ৫ লাখের বেশি হাতবদল হয়েছে কেবল দুই দিন।

অথচ তিন হাজার কোটি টাকার বন্ডে ইউনিট সংখ্যা ৩০ কোটি। এই পরিমাণ শেয়ার আছে যেসব কোম্পানির, সেগুলোর লাখ লাখ ইউনিট হাতবদল হয় নিয়মিত।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক
পুঁজিবাজারে দুই সমস্যা: সালমান
সুকুক বন্ড নিলামে ২৩ হাজার কোটি টাকার বিড
এক হাজার কোটি টাকার সুকুক আনছে আইসিবি
সুকুকের ৩ হাজার কোটি টাকা পেল বেক্সিমকো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
NBLs fall from sky to earth

এনবিএলের আকাশ থেকে মাটিতে পতন

এনবিএলের আকাশ থেকে মাটিতে পতন
২০১৬ সালে এনবিএল শেয়ারপ্রতি আয় করে ২ টাকা ৮৪ পয়সা। পরের বছর তা কমে হয় ২ টাকা ২ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি আয় আরও কমে হয় ১ টাকা ৪৫ পয়সা, যা পরের বছর নেমে হয় ১ টাকা ৪১ পয়সা। ২০২০ সালে আয় আরও কমে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১৮ পয়সায় নামে, যা ২০২১ সালে নামে শেয়ারপ্রতি ১২ পয়সা। চলতি বছরের ছয় মাসে ব্যাংকটি লোকসান করেছে ১৭৩ কোটি টাকা।

২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি আয় ১৫ টাকা ৫৫ পয়সা। আর এক যুগ পর ২০২২ সালের অর্ধবার্ষিক হিসাব শেষে শেয়ারপ্রতি লোকসান ৫৪ পয়সা। এ যেন আকাশ থেকে মাটিতে পতন।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএলের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৪৪১ কোটি ২১ লাখ ৩১ হাজার ২৮০ টাকা। সে সময় শেয়ার সংখ্যা ছিল ৪৪ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার ১২৮টি। ওই বছর ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৬৮৬ কোটি ৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৪০ টাকা।

প্রতি বছর বোনাস শেয়ার দিতে দিনে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ও শেয়ারসংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৩ হাজার ২১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭১০ টাকা। শেয়ারসংখ্যা ৩২১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৭ টাকা।

এই হিসাবে ছয় মাসে ব্যাংকটি লোকসান দিয়েছে ১৭৩ কোটি ৮৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৮ টাকা। লোকসানের এই বৃত্ত থেকে বের হতে না পারলে বছর শেষে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংকটির শেয়ারদরও কমতে কমতে তলানিতে নেমেছে। ২০১০ সালে শেয়ারদর ছিল ২০০ টাকা ছাড়িয়ে, এখন তা অভিহিত মূল্য ১০ টাকার নিচে নেমেছে। একপর্যায়ে ৬ টাকাতেও লেনদেন হয়েছে।

সবশেষ হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের অঙ্কটা ৬ হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এই খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটিকে টেনে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালকদের সঙ্গে দুই দিন আলোচনায় বসেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

যে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে টেনে তোলার কথা গভর্নর বলেছেন, তার মধ্যে তিনি নাম উল্লেখ করেছেন কেবল ন্যাশনালের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা উত্তরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। একে একে ১০ ব্যাংকের সঙ্গে এ রকম সভা হবে। তবে কোনো কোনো ব্যাংকের সঙ্গে সভা হবে, তা জানি না।’

ব্যাংকটির এই দশার কারণ আকাশচুম্বী খেলাপি ঋণ, যেগুলোর আদায় হওয়ার আশা ক্ষীণ। নামে-বেনামে ঋণ, পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্বসহ নানামুখী সংকটে থাকা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দেশের যেকোনো ব্যাংকের চেয়ে বেশি। ফলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ব্যাংকটির কারণে।

ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে লোকসানি

কোনো একটি কোম্পানির এক বা দুই প্রান্তিক খারাপ হতেই পারে। তবে এনবিএলের ক্ষেত্রে এমনটি নয়। প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে আগের বছরের চেয়ে খারাপ করেছে ব্যাংকটি।

এনবিএলের পতন শুরু মূলত ২০১২ সাল থেকে। ২০১০ সালে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করার পর শেয়ারসংখ্যা ও পরিশোধিত মূলধন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর এক বছর অবস্থান অনেকটাই ধরে রাখে ব্যাংকটি।

২০১১ সালে শেয়ারসংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৯টি। ওই বছর ব্যাংকটি শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৭ পয়সা হিসেবে মুনাফা করে ৬০৮ কোটি ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮৯ টাকা। তবে পরের বছর থেকে তা ব্যাপকভাবে কমতে থাকে।

২০১৪ সাল থেকে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ২০১৬ সালে এনবিএল শেয়ারপ্রতি আয় করে ২ টাকা ৮৪ পয়সা। পরের বছর তা কমে হয় ২ টাকা ২ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি আয় আরও কমে হয় ১ টাকা ৪৫ পয়সা, যা পরের বছর নেমে হয় ১ টাকা ৪১ পয়সা।

২০২০ সালে আয় আরও কমে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১৮ পয়সায় নামে যা ২০২১ সালে নামে শেয়ারপ্রতি ১২ পয়সা। অর্থাৎ ওই বছর মুনাফা হয় ৩৮ কোটি ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৮ টাকা।

মুনাফা তলানিতে নামার পর প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা এনবিএল থেকে কোনো লভ্যাংশ পাননি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ১৮ পয়সা লোকসান দেয়ার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকের অবস্থা আরও খারাপ হয়। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় ৩৬ পয়সা।

অর্থাৎ দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৮ পয়সা।
৩০ জুন শেষে এনবিএলের শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ১৫ টাকা ৪৯ পয়সা। গত ডিসেম্বরে তা ছিল ১৭ টাকা ২৯ পয়সা।

এনবিএলের আকাশ থেকে মাটিতে পতন


পাঁচ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে পাঁচ গুণ


২০১৬ সাল শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিতরণ করা ঋণের ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশই ফিরে আসেনি। এর মধ্যে করোনার দুই বছর ২০২০ আর ২০২১ সালেই খেলাপি বেড়েছে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ২২ লাখ টাকা।

২০১৯ সাল শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ৭৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

করোনা মহামারির সময় ঋণ পরিশোধে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়, ২০২০ সালের পুরো সময় ঋণের কিস্তি না দিলেও খেলাপি হবে না। পরের বছর সুবিধা কিছুটা কমিয়ে দেয়া হয়।

ব্যবস্থাপনা-অনিয়মের অভিযোগ

গত কয়েক মাসে এনবিএলের ঋণসহ নানা বিষয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে ব্যাপক। এবার ব্যাংকটির আর্থিক স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি উঠে এলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে।

ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। অনিয়ম থেকে ক্ষমা চেয়ে চিঠিও দেয়া হয় ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার মারা যাওয়ার দুই সপ্তাহ পর ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। এরপর কিছুদিন কোনো পর্ষদ সভা না হলেও প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

গত বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি দিয়ে ব্যাংকটিকে নতুন করে ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি ব্যাংকটির জন্য বড় অঙ্কের ঋণ ও একক গ্রাহকের ঋণসীমা নতুনভাবে নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে নতুন করে ঋণ দিতে হলে ব্যাংকটির আমানতের পাশাপাশি বিতরণ করা ঋণ আদায় বাড়ানোর কথা বলা হয়।

এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক পরিদর্শনে ব্যাংকে ঋণসহ নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঋণ বিতরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আবারও বড় অনিয়ম শুরু হয়।

চলতি বছরের ১২ মে ব্যাংকটি কোন কোন খাতে ঋণ দিতে পারবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে এসএমই ঋণ, কৃষিঋণ, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দেয়া ঋণ, জমা থাকা স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ, শতভাগ নগদ জমা দিয়ে ঋণপত্র (এলসি) ও অন্যান্য পরোক্ষ ঋণ (নন-ফান্ডেড) সুবিধা।
এসব বিষয়ে জানতে ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ

সাবেক অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নেয়ার পর বেহাল দশায় জর্জরিত কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা উত্তরণে উদ্যোগ নিয়েছেন।

এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুলাই এনবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি দিয়ে এনবিএলের সার্বিক আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়নের জন্য ২৪ জুলাই এক পর্যালোচনা সভায় যোগ দিতে বলা হয়। ওই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, এমডি ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে (সিএফও) উপস্থিত থাকতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২৪ জুলাই ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পারভীন হক সিকদার, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান নাইমুজ্জামান ভুঁইয়া, পরিচালক খলিলুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেন, এমডি মেহমুদ হোসেন এবং ২৫ জুলাই ব্যাংকটির পরিচালক রন হক সিকদার ও এমডি মেহমুদ হোসেন গভর্নরের সঙ্গে সভা করেন।

সভায় নিয়মের মধ্যে থেকেই ব্যাংক চালাতে হবে মর্মে কঠোর বার্তা দেন গভর্নর।

আরও বলা হয়, ব্যাংকটির খারাপ অবস্থা থেকে উত্তরণে তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা চুক্তি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুক্তিতে ব্যাংকটির সব পরিচালককে সই করতে হবে। এতে তিন বছরে কীভাবে উন্নয়ন করা যাবে, তা উল্লেখ থাকবে।

আরও পড়ুন:
ডিজিটাল লেনদেনের জন্য সম্মাননা পেল ইসলামী ব্যাংক
রূপালী ব্যাংকে ডিজিটাল নিরাপত্তা সিস্টেম চালু
সোনালী ইনভেস্টমেন্টের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Will give all support to capital market development new governor

পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব সহায়তা দেব: নতুন গভর্নর

পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব সহায়তা দেব: নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ চৌধুরী। গত ১২ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন বৃহস্পতিবার। ছবি: নিউজবাংলা
‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভালো কাজ করছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যেসব নীতি সহায়তা দেয়া প্রয়োজন, সেটা আমরা দিয়ে যাব। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজারের সংজ্ঞা নিয়ে গত ১০/১২ বছর ধরে যে সমস্যা চলছে সেটা এখন সমাধান হয়ে গেছে।‘

আবদুর রউফ তালুকদার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই পুঁজিবাজার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের যে আভাস পাওয়া গিয়েছিল, সেটি আরও স্পষ্ট হলো তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে।

গভর্নর মনে করেন দেশের পুঁজিবাজার যত দূর যাওয়ার কথা ছিল, সেটা পারেনি। আর এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন তিনি।

গত ১২ জুলাই দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন বৃহস্পতিবার। এ সময় নানা বিষয়ের পাশাপাশি তিনি কথা বলেন পুঁজিবাজার নিয়েও।

এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালে গত এমন একটি সার্কুলার জারি হয়, যা গত এক যুগ ধরে দাবি করে আসছিলেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের যে বিনিয়োগসীমা গণনা করা হয়, সেটির হিসাব করা হবে শেয়ারের ক্রয়মূল্যে। এতদিন তা শেয়ারের বাজারমূল্য অথবা ক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটির ভিত্তিতে এই বিনিয়োগসীমা হিসাব করা হতো।

এই নীতিতে এক্সপোজার লিমিট হিসাব করায় বাজারে বিক্রয়চাপ দেখা দিত। কোনো ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যে শেয়ার কিনলে সেটির দর বেড়ে গিয়ে সীমা অতিক্রম করে গেলেই তা বিক্রি করে দিতে হয়। এতে বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। আর ব্যাংক যেহেতু বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে তাই বিক্রির চাপটাও বেশি থাকে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর প্রাধান্য বেশি। ব্যাংকের বিক্রয় চাপ তারা সামাল দিতে পারে না।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব সহায়তা দেব: নতুন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আবদুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১৩ জুলাই বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম তাকে অভিনন্দন জানাতে যান

গত ৩০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে বৈঠক শেষে জানানো হয়, ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে আরেক দফা বৈঠক হবে। এরপর দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ফজলে কবির অবসরে যাওয়ার পর গভর্নর হয়ে আসেন আবদুর রউফ তালুকদার।

তিনি পদে আসার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে ১৯ বছর পর বদলি করা হয়, যাকে পুঁজিবাজার নিয়ে রক্ষণশীল নীতির জন্য দায়ী করা হয়।

এর মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার হিসাব গণনার পদ্ধতির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি পুঁজিবাজার নিয়ে সংস্থাটির নীতি পরিবর্তনের আভাস হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

গত ১৮ জুলাইয়ের চিঠির জবাব আগে গত মঙ্গলবার। আর দুই দিনের মধ্যে একটি কৌশলী অবস্থান নেয়া হয় এভাবে যে, শেয়ারের ক্রয়মূল্যকেই বাজারমূল্য বিবেচনা করা হবে। ফলে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আর রইল না।

গভর্নর বলেন, `পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভালো কাজ করছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যেসব নীতি সহায়তা দেয়া প্রয়োজন, সেটা আমরা দিয়ে যাব। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজারের সংজ্ঞা নিয়ে গত ১০/১২ বছর ধরে যে সমস্যা চলছে সেটা এখন সমাধান হয়ে গেছে।‘

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের মতো বন্ড মার্কেটকে চাঙা করার আগ্রহের কথাও বলেন গভর্নর রউফ তালুকদার।

তিনি বলেন, `পুঁজিবাজারের দুটো দিক আছে। একটা হলো ইক্যুইটি সাইড, আর একটা হলো ডেট সাইড। ইক্যুইটি সাইডকে আমরা পুঁজিবাজার বলি, এখানে আমরা সবাই কাজ করি। এটাই আমাদের বিনিয়োগের বড় জায়গা। কিন্তু যেটা হলো ডেট সাইড সেখানে বন্ড মার্কেটটা সেভাবে উন্নত হয়নি। আমি গভর্নর হওয়ার পরে বিএসইসি চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে দেখা করতে আসলে তাতে আমি বলেছি বন্ড মার্কেটটাকে কেন আপনারা শক্তিশালী করছেন না? আমি অর্থসচিব থাকার সময়েও তাকে এই প্রশ্ন করেছিলাম।

‘আমাদের দেশে বন্ড মার্কেট একবারেই অনুপস্থিত। কিন্তু এই বন্ড মার্কেটটা যদি কার্যকর হয়, বর্তমানে সরকারি বন্ডগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে নিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটা ফ্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ফেলেছে। ইতোমধ্যে এর সব প্রক্রিয়া শেষ। খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

‘তখন সরকারি বন্ডগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি হবে। শেয়ারের যেহেতু সেকেন্ডারি মার্কেট নেই, এই বন্ডের সেকেন্ডারি মার্কেটটাকে প্রাণবন্ত করতে হবে। এবং ভালো ভালো বন্ড নিয়ে আসতে হবে। বন্ডগুলো যদি সম্পদশালী হয় এবং গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে মানষের বন্ডের প্রতি আস্থা তৈরি হবে।’

গভর্নর মনে করেন বন্ড মার্কেট বড় হলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের সমস্যারও সমাধান হবে। তিনি মনে করেন, ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঋণ বিতরণ করে বলেই খেলাপি তৈরি হয়। দেশে বন্ড মার্কেট না থাকায় ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের সমস্যা দূর হবে। বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী ঋণ বন্ড মার্কেট থেকে তুলবে। আর ব্যাংকগুলো তখন কেবল স্বল্পমেয়াদি ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এটা যদি করতে পারে তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কমে আসবে।’

আরও পড়ুন:
অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা
এক্সপোজার লিমিট ইস্যুতে পুঁজিবাজারে নতুন আশা
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে করার কৌশলী মত মন্ত্রণালয়ের
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে চার সিদ্ধান্ত
পুঁজিবাজার ডিজিটালাইজেশনে কাজ হচ্ছে: পলক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC chairman wants good startups in the capital market

ভালো স্টার্টআপকে পুঁজিবাজারে চান বিএসইসি চেয়ারম্যান

ভালো স্টার্টআপকে পুঁজিবাজারে চান বিএসইসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
‘ভালো স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে স্বাগত জানানো হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিএসইসির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তবে এ জন্য কোনো আইন সংশোধন করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর নিকুঞ্জে বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আয়োজিত কনফারেন্সে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কনফারেন্সের বিষয় ছিল ‘ক্যাপিটাল মার্কেট অফ বাংলাদেশ: প্রসপেক্টস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর টেক স্টার্টআপস অ্যান্ড গ্রোথ স্টেজ কোম্পানিজ’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে আইনের কোনো সংশোধন করা হবে না, তবে তাদের জন্য অনেক ফাঁকফোকর রাখা হয়েছে।’

বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভালো স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে স্বাগত জানানো হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিএসইসির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে আইনের সংশোধন না করার কারণ হিসেবে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইন দুর্বল হলে দুর্বল কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পায়। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা জেনেশুনে দুর্বল স্টার্টআপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ করে দিতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভালো স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েভারও রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ব্যবসাকে সহজেই সম্প্রসারিত করতে পারেন।’

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, ‘দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী সবার স্বার্থ সংরক্ষণ করা।’
তিনি বলেন, ‘স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো কমতি নেই। কারণ স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এনএম জিয়াউল আলম। এ ছাড়াও অতিথি ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ
এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে: বাংলাদেশ ব্যাংক
৯ মাস পর জাগল পুঁজিবাজার
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের
অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC thanks Bangladesh Bank

বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ আব্দুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হওয়ার পর গত ১৩ জুলাই বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম তাকে শুভেচ্ছা জানান। ছবি: নিউজবাংলা
‘এটি কার্যকর হলে ব্যাংকের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া মার্কেটে আপার ট্রেন্ডে থাকলে সেল প্রেসার আসবে না। এতে পুঁজিবাজারের যে আপার ট্রেন্ড রয়েছে তা স্থায়ী হবে; যা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট হিসাবের ক্ষেত্রে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকেই ‘বাজারমূল্য’ হিসেবে বিবেচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে এক যুগের দাবি পূরণের পর নিউজবাংলাকে এই প্রতিক্রিয়া দেন বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পরে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি কার্যকরের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলে ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির জন্য সেটি নিম্নমুখী হবে না। ফলে এই প্রবণতা স্থায়ী হবে এবং পুঁজিবাজার নতুন উচ্চতায় যাবে।

একই মত প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন জানিয়েছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সমিতি মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিএমবিএ।

সংস্থাটির সভাপতি ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি বিএমবিএর পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। দীর্ঘ দিনের একটি চাওয়া পূরণ হলো।‘

২০২০ সালে বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর সোয়া এক বছর পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান হয়। এক পর্যায়ে এক দশকের সর্বোচ্চ সূচক আর ইতিহাসের সর্বোচ্চের কাছাকাছি লেনদেন হওয়ার পর তৈরি হয় নতুন আশা।

তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসার পর উল্টে যায় পাশার দান।

যে সময় ধারণা করা হচ্ছিল, পুঁজিবাজার আরও উপরে যাবে, সে সময় শুরু হয় দরপতন। টানা পতনের মধ্যে নভেম্বরে বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের পর এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞা পাল্টানোর বিষয়ে দুই পক্ষ দেয় দুই ধরনের বক্তব্য।

বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ
শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে জানান, এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞা পাল্টাবে। তখন বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় এই ধরনের কোনো কথা হয়নি।

এরপর বাজারে বড় পতনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় দুই পক্ষকে ডেকে আলোচনার কথা জানায়। তবে সেই আলোচনাতেও কোনো সুফল মেলেনি। ৩০ নভেম্বরের সেই বৈঠক শেষে জানানো হয়, ডিসেম্বর শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে বৈঠক শেষে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

তবে সেই বৈঠক আর হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্য একটি সার্কুলারে জানায়, ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও শেয়ারের বিনিয়োগসীমা একইভাবে নির্ধারণ হবে।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর পুঁজিবাজার নিয়ে মনোভাবের পরিবর্তনের আভাসও পাওয়া যায়। টানা ১৯ বছর একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়া হয় যাকে পুঁজিবাজার নিয়ে রক্ষণশীল নীতির জন্য দায়ী করা হয়।

এরপর গত ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে এক চিঠিকে এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞা পরিবর্তনের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেয়া হয়।

গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে একটি কৌশলী অবস্থান নেয়া হয়। এতে শেয়াররে বাজারমূল্যকেই ক্রয়মূল্য হিসেবে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। এতে করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংজ্ঞা পাল্টানোর আর দরকার পড়বে না। এই সুপারিশ মেনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার সার্কুলার জারি করে।

এর ফলে এখন কোনো ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যে শেয়ার কিনলে সেটির দর যতই বাড়ুক না কেন, অযাচিত বিক্রয় চাপ তৈরি হবে না। ব্যাংকগুলোকেও বিনিয়োগসীমা পার হয়ে যাওয়ার ভয়ে জরিমানার জন্য তটস্থ হতে হবে না।

বিএসইসি মুখপাত্র বলেন, ‘এটি কার্যকর হলে ব্যাংকের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া মার্কেটে আপার ট্রেন্ডে থাকলে সেল প্রেসার আসবে না। এতে করে পুঁজিবাজারের যে আপার ট্রেন্ড রয়েছে তা স্থায়ী হবে। যা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার গণনার ফলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘এটি কার্যকরের ফলে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারবে। ফলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে শেয়ার বিক্রি না করলে তারা যে নন-কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পড়ত তা আর হবে না। ঊর্ধ্বমুখী বাজারেও ব্যাংকগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হবে না। যা পুঁজিবাজারে জন্য অত্যন্ত ভালো হবে।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী অবশ্য বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক উদ্দীপনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এটার নিয়ে যে মানসিক অস্থিরতা ছিল তা দূর হলো। তার চেয়ে বেশি কিছু দেখি না। বিনিয়োগকারীদের তো টাকা দিয়েই শেয়ার কিনতে হবে, না-কি?’

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে করার কৌশলী মত মন্ত্রণালয়ের
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে চার সিদ্ধান্ত
পুঁজিবাজার ডিজিটালাইজেশনে কাজ হচ্ছে: পলক
ফ্লোর প্রাইসে বছরের দ্বিতীয় সেরা উত্থান
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Janata Capitals panel broker is City Brokerage

জনতা ক্যাপিটালের প্যানেল ব্রোকার হল সিটি ব্রোকারেজ

জনতা ক্যাপিটালের প্যানেল ব্রোকার হল সিটি ব্রোকারেজ
এর ফলে এখন থেকে জনতা ক্যাপিটালের বিনিয়োগকারী বা গ্রাহকরা সিটি ব্রোকারেজের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন।

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্রোকারহাউজ সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেড জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্যানেল ব্রোকার হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে জনতা ক্যাপিটালের বিনিয়োগকারী বা গ্রাহকরা সিটি ব্রোকারেজের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন।

সিটি ব্রোকারেজের নিজস্ব অ্যাপ ‘সিটি ইনফিনিটি’ ব্যবহার করে যে কোনো জায়গা থেকে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে।

রাজধানীর মতিঝিলে জনতা ক্যাপিটাল প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শহীদুল হক এফসিএমএ এবং সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আফফান ইউসুফ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জনতা ক্যাপিটালের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারা আক্তার, সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব আনোয়ারুল ইসলাম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম খোকন, সিটি ব্রোকারেজের এসএভিপি এবং হেড অব ট্রেডিং তারিকুল ইসলাম, সিটি ব্রোকারেজের এসএভিপি এবং হেড অব করপোরেট সাইফুল ইসলাম মাসুম এবং সিটি ব্রোকারেজের সিএফও আরাফাত শমসের আলী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে